![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আজীবন মাটির মানুষ হয়ে থাকতে চাই।হিংসা, অহংকার,ভন্ডামী এই তিন শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে জিততে চাই
মানুষের কোলাহল,গাড়ীর এলোমেলো সারি,ব্যাগ কাঁধে শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি হাঁটা,কয়েক সেন্টিমিটার পরপর কোচিং সেন্টার জানিয়ে দেয় জায়গাটা চকবাজার।সেই চকবাজারেরই ফুটপাথ ধরে হাটছিলাম।হঠাৎ ছোটবেলার বন্ধু ইমরান,মামুন,মুন্নার সাথে দেখা।সতেরো বছর আগে যাদের সাথে আমার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল তাদের তিনজনকে একসাথে পেয়ে সৌভাগ্যবান মনে হল।সবাই মিলে একটা রেম্তোরায় ঢুকলাম চা পান করব বলে।মধ্যবিত্তরা মদের বোতলে কিংবা বিয়ারের গ্লাসে চুমুক দিতে পারে না, তাদের একমাত্র বিলাসী নেশা চায়ের কাপে চুমুক দেয়া।মনে পড়ল, যাদের সাথে চা পান করতে বসেছি তাদের সাথেই জীবনের প্রথম পরীক্ষায় বসেছিলাম।
সেই পরীক্ষায় আমি মাত্র চার নাম্বার পেয়েছিলাম।এত কম নাম্বার দেখে অনেকেই সেদিন আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন।আমি নিজেও যে বিস্মিত হয়নি তা নয়।প্রতিটি প্রশ্ন লেখার পরেও পঞ্চাশ নাম্বারের পরীক্ষায় এত কম নাম্বার নিঃসন্দেহে চিন্তার বিষয়।খুব আগ্রহ, আত্মবিশ্বাস আর উত্তেজনা নিয়ে খাতা চেক করতে গিয়ে আমি তো হতভম্ব।আসলে আমি প্রতিটি প্রশ্ন লিখেছিলাম বটে তবে কোন উত্তর লিখতে পারিনি।কারণ তখনও আমি জানতাম না প্রশ্ন আর উত্তর কি।তাইতো প্রতিষ্ঠানের নাম, পরীক্ষার সময় এমনকি নাম্বার বন্টনসহ পুরো প্রশ্নপত্রের প্রত্যেকটা দাড়ি কমা পর্যন্ত হুবহু লিখে এসেছিলাম উত্তরপত্রে।ফটোকপি মেশিন কে আবিস্কার করেছিলেন জানি না তবে তিনি যদি আবিস্কার নাও করতেন হয়ত
আমার কাছ থেকে ধারণা নিয়েই একসময় ফটোকপি মেশিন আবিস্কার হত।ইতিহাসের পাতায় লিখা থাকতো একজন বাঙালির নাম।
হুবহু প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে আসার পরেও চার নাম্বার কেমনে পেয়েছিলাম তাও আশ্চর্যের বিষয়।আগেই বলে রাখি,সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কোনমতেই আমার পরিচিত নন এবং আমার চৌদ্দগোষ্ঠীতেও কোন শিক্ষক নেই।যে সময়ে এক নাম্বার বাড়িয়ে দেওয়াকে এক ফিট জমি দান করে দেওয়া মনে করা হত সেখানে কোন উত্তর না লিখেও চার নাম্বার দেওয়ার মত হাতেম-তাঈ শিক্ষক কল্পনাও করা যায় না।পরে এই চার নাম্বারের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে আবিস্কার করলাম, প্রশ্নপত্রের শেষ প্রশ্নটি ছিল
৬/দেখে দেখে সুন্দর করে লিখ ৫
(ক) আমাদের দেশ বাংলাদেশ
(খ) বাংলা আমাদের মাতৃভাষা
এই দুইটি লাইন থেকেই চার নাম্বার অর্জন করছিলাম।সতেরো বছর পরেও লাইনদ্বয় মস্তিস্কে গেঁথে আছে,যেভাবে গেঁথে আছে শৈশবের স্মৃতিময় দিনগুলি।কী অদ্ভূত বৈপরীত্য, শৈশবে কোন কিছু মনে রাখতে পারতাম না আর এখন শৈশবের সবকিছুই মনে আছে।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:০৩
মৃত্তিকামানব বলেছেন: একেবারে প্রথম শ্রেণীর ঘটনা।
২| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৫৪
পদ্মপুকুর বলেছেন: যদি ৬ নম্বর কোশ্চেনটা ১ নম্বরে থাকতো, তাহলে যুক্তিবিদ্যার ফাঁপরে ফেলে আপনাকে ৫০ নম্বরই দেয়ার একটা সম্ভাবনা ছিলো...
ছোটো লেখা, কিন্তু আমার কাছে ভাল্লাগলো।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:০৬
মৃত্তিকামানব বলেছেন: হা হা হা।
ধন্যবাদ
৩| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:১১
মোড়ল সাহেব বলেছেন: খুবই আনন্দ পেলাম। মজার বিষয়
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:০৫
মৃত্তিকামানব বলেছেন: ধন্যবাদ
৪| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:১১
মোড়ল সাহেব বলেছেন: সবারই জীবনে এরকম বোকামি কমবেশি আছে। যার নেই সে মেয়েলি মার্কা ছাত্র
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:০৯
মৃত্তিকামানব বলেছেন: হ্যাঁ, সবারই কম বেশী অভিজ্ঞতা আছে।
৫| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:১৯
মনিরা সুলতানা বলেছেন: শৈশব আসলে পুরোটাই এমন সব মিঠেল অনুভবের ডিব্বা।
লেখায় ভালোলাগা।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:০৭
মৃত্তিকামানব বলেছেন: ছোটবেলায় আমরা বলতাম বড় হতে চাই,আর বড় হয়ে আমরা বলি ছোট হতে চাই।
৬| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:২৩
নেওয়াজ আলি বলেছেন: যেই দি গেছে সেইদিন কি ফিরিয়ে আনা যায়
০৫ ই জানুয়ারি, ২০২১ ভোর ৫:০৬
মৃত্তিকামানব বলেছেন: স্মৃতিকে পুঁজি করে কেবল বেঁচে থাকা
৭| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫২
রাজীব নুর বলেছেন: শৈশব ফিরে আসে না। আফসোস।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০২১ ভোর ৫:০৫
মৃত্তিকামানব বলেছেন: আফসোস করা ছাড়া আর উপায় নেই
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৩৩
তারেক ফাহিম বলেছেন: কোন শ্রেণীর ঘটনা?
০৩ বন্ধুর চেয়ে বর্তমানে আপনার অবস্থান কেমন?