| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
উচ্ছন্নে যাওয়ার শুরু ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পদার্পনের সাথে সাথেই। গ্রামের স্কুলের ফার্স্টবয়, শহরের ভালো কোনো কলেজে ভর্তি হবে এটাই ছিল সবার প্রত্যাশা। কিন্তু সে আশায় জল ঢেলে ভর্তি হলাম বাড়ির পাশের নিজামপুর কলেজে। এই আশায় যে অন্তত খেয়ে পরে ক্লাস করা যাবে!
ফার্স্ট ইয়ার, ড্যাম কেয়ার! যে ক্লাসে স্যার থাকে তাতে ছাত্র যায়না, আর যেটাতে ছাত্র যায় তাতে স্যার আসেনা! তবে একটা ক্লাস কেউ মিস দিতোনা, সবাই হাজির হত, এমনকি দাঁড়িয়েও ক্লাস করতে হতো আর তা ছিল বাংলা মেডামের ক্লাস। শহুরে মডার্ন রূপবান ম্যাডাম ছিলেন বলেই হয়তো!
প্যান্টের পিছনের পকেটে একটা পাতলা খাতা রোল করে ঢুকিয়ে নিয়ে ক্যাম্পাসে যেয়েই শুরু হয়ে যেত আড্ডা। মাঝে চলতো পাশের স্কুল মাঠে ক্ৰিকেট অথবা খ্যাপ খেলা। ক্রিকেট তখন আবার দারুন জনপ্রিয়। সদ্য বাংলাদেশ বিশ্ব কাপ খেলে এসেছে। ছেলেপেলেরা হাঁটার সময়ও স্বাভাবিক হাঁটা ভুলে হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে হাঁটে! সারাদিন আড্ডা উড্ডা মেরে বিকেলের দিকে ফিরতাম এবং ফেরার সময় প্রায়শই খাতাটা আর খুঁজে পেতামনা!
দেখতে দেখতে ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল এসে গেলো। পরীক্ষা দিতেই হবে নতুবা সেকেন্ড ইয়ারে যাওয়া যাবেনা। কি করি, কি করি। এ দিকে হঠাৎ আবিষ্কার করলাম কয়েকটা সাবজেক্টের আমার সব বইই কেনা হয়নি! বিশেষতঃ জ্যামিতি। বাল্য বন্ধু আরিফের কাছে ধার চাইলাম কিন্তু পরীক্ষার আগে আগে কেউ কি তাতে রাজি হয়?
শেষে পরীক্ষার গ্যাপে গিয়ে লাইব্রেরি থেকে পাশ করলে টাকা দিবো এই শর্তে বাকিতে জ্যামিতি বই আর সমাধান কিনে সারারাত অংকের হিসেব মিলালাম। হিসেব এমনি মিললো যে তাতেই অংকে হাইয়েস্ট মার্ক্স্! আমাকে আর পায় কে? ভালো ছাত্রের একটা তকমা পেয়ে গেলাম। আড়ালে কিছু মেয়ে কেমনে কেমনে যেন তাকায়!
সেকেন্ড ইয়ারে আর ভুল করিনি। সময় মতোই বই কিনেছিলাম।
রাজনৈতিক হাউকাউ, হরতাল, শিক্ষকদের ধরমঘট না না কারনে কলেজে ক্লাশ হওয়া আল্মোস্ট বন্ধই ছিল বলা যায়। আগে ছাত্ররা ক্লাশে আসতোনা, আর এখন চাইলেও ক্লাশ হচ্ছিল না। কোচিং করাটা খুব জরুরি হয়ে পড়ল। বন্ধু আরিফকে বলতেই বলল-"নানা, এখন আমার কোচিং এ যাওয়ার মতো হাতে বাডতি সময় নেই। সামনে ক্রিকেট মৌসুম "। উনি আবার তখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চট্টগ্রাম শাখার ট্রায়ালে ব্যাপক ব্যাস্ত!
যাইহোক আরও দুচারজন মক্কেলকে নিয়ে ভাবছি কই ভরতি হওয়া যায়। সব বিষয়েরি তিন চারজন শিক্ষক। বাছাই করা দায়। হঠাৎ শুনলাম প্রথম কিছু ক্লাশ ট্রায়াল হিসেবে ফ্রি। আর পায় কে?! একেকদিন একেক স্যারের শিষ্য হওয়া শুরু করলাম। টাকার কথা হলে বলতাম, ট্রায়ালে আছেন স্যার, সিলেক্টেড হলেই বলব!ওদিকে আমি মনে মনে খুজছিলাম বাংলা ম্যাডামের কোনো কোচিং আছে কিনা!
এভাবে আর কত। শেষে নিমোক্ত নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে সিলেক্ট করেই ফেল্লামঃ
১. যার ক্লাশে ছাত্রি সব থেকে বেশি, একজন বলে-'ছাত্রিদের ব্যাচে হলেই সব থেকে বেশি পাওয়া যেত'
২. বেতন কম
৩. ফাকি বেশি মারা যাবে
৪. ক্লাশ টিচার
এদিকে আমরা যখন কোচিং স্যার খুজে বেড়াতে ব্যাস্ত, তখন বানিজ্যের আমাদেরি আরেক স্কুল ফ্রেন্ড ব্যাস্ত নিজেরি কোচিং সেন্টার খোলা নিয়ে! তার হাতে নাকি নাইন টেনের প্রচুর স্টুডেন্ট। বেশিরভাগি ছাত্রি। সে এক এলাহি কাজ কারবার, অইটা আবার আরেক বিশাল এবং মজার কাহিনি।
যেকোনো কোচিং এ ভরতি হওয়ার একটাই যোগ্যতা থাকা উচিৎ আর তা হল বেতন দেয়ার ক্ষমতা বা ইচ্ছা। তো আমার বন্ধু তার কোচিং এ ছাত্র ভর্তি করছিল এইসব শর্তের বিনিময়েঃ
১. মিনিমাম ক্লাশ নাইন
২. প্রত্যেক ছাত্রকে এটলিস্ট একজন ছাত্রি আন্তেই হবে, দুজন আনলে নিজের ফি মাপ
৩. ছাত্রিদের ফি অইচ্ছিক বা শিথিলযোগ্য
৪. নো কম্বাইন্ড ব্যাচ
৫. ছাত্রকে ওর চেয়ে মেধাবী হওয়া চলবেনা এবং
৬. অগ্রিম বেতন
পরে অবশ্য আমার পরামর্শক্রমে কম্বাইন্ড ক্লাশ দিতে বাধ্য হয়েছিল কারন মেয়েরা আলাদা পড়ে বলে ছাত্ররা বিদায় নিচ্ছিল। খালি নিজেরটা দেখলেতো হবেনা তাইনা!
যাইহোক, ভাল-মন্দ মিলিয়ে সময়টা ভালই কাটছিল। এর মধ্যে হঠাত মাথায় একটা দুস্ট বুদ্ধি এলো। সহায়তায় এগিয়ে এলো সকল দুস্টামির আরেক বাল্য সাথি আর তা হল ফাও দাওয়াত খাওয়া। বিয়ে, জন্মদিন, মেজবান চেহলাম কোন কিছুই বাদ যাচ্ছিল না। বন্ধুদের চোউদ্দগুস্টির মধ্যে কোন দাওয়াতের খোজ পেলেই সদলবলে অনাকাংখিত শুভাকাংখি হিসেবে হাজির হতাম আর এমন আচরন করতাম যেন জম্নের তরের আত্ত্বিয়! হলুদের রাতে উদ্দাম নাচা, বিয়ের দিন গেট ধরা, লেডিস গেস্টদের আপ্যায়ন সব এমনভাবে করতাম যে মুরুব্বীরা পরযন্ত সমিহ করত। আর কনে বিদায়ের সময় কনেকে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না, আহ! বলায় বাহুল্য, বরাবরের মত নিজেদের খুব আপন মনে করে গীফট দেয়ার কথা প্রয়োজন মনে করতাম না। তবে ইন দি এন্ড, হোস্ট কিন্তু মজাই পেত।
মনে পড়ে একবার এক বিয়ের দাওয়াতে বন্ধু নিলয় হলুদের রাতে বিশাল এক কান্ড ঘটিয়েছিল। বরাবরের মত আমরা সবাই অনাহুত অতিথি হিসেবে সদলবলে হাজির। বন্ধু নিলয়ের এক মেয়েকে ভীষণ মনে ধরেছে। বারবার তার চোখাচোখি হবার চেস্টা করছে, পাশে পাশে ঘুর ঘুর। পরে জানা গেল অইটাই কনে!
দেখতে দেখতে ইন্টার পরীক্ষা এসে গেলো। ইন্টার পরিক্ষায় ভালোই করলাম। আর সবশেষে আবারো প্রমান করতে পারলাম নিজেরি প্রদত্ত একটা চিরন্তণ সত্যবাণী - 'চট্টগ্রাম কলেজ, ঢাকা কলেজ বা আরো যা ভালো ভালো নামি কলেজ, তারা ভালো করে ভালো কলেজ বলে নয়, দেশের সব ভালোরা সেখানে পড়তে আসে বলে।'
পাঠক চাইলে চলবে....
(দয়া করে বানানের ভুল নিজ ভুলে ক্ষমা করে দিবেন)
২|
০২ রা অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৪:০৮
ভুয়া মফিজ বলেছেন: সাত বছরে এটা নিয়ে মাত্র দুইটা পোষ্ট! বেশী কম হয়ে গেল না!!
আপনার পোষ্টে ছবি নীচে না দিয়ে শুরুতে দিলে কিন্তু ভালো হবে। সেটাই দুরস্ত। যাই হোক, এটাই যদি আপনার স্টাইল হয় তাহলে অবশ্য কোন কথা নাই।
আপনার আগের পোষ্টে দেখলাম বেশীরভাগ মন্তব্যের উত্তর দেন নাই। এটাতো ঠিক না ভাই। নতুন পোষ্ট দেয়ার চেয়ে বেশী জরুরী হলো আগের পোষ্টের মন্তব্যের প্রতিমন্তব্য করা। মন্তব্যে উত্তর না দেয়াটা কেউ পছন্দ করে না।
আশাকরি, এখন থেকে আপনার পোষ্ট নিয়মিত পাবো। স্মৃতিচারন ভালো লাগলো। পাঠক চাচ্ছে.......চলুক। ![]()
০২ রা অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৩
মুকতোিবহংগো বলেছেন: প্রিয় ভুয়া ভাই, আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। কাজের চাপে এবং টাইম গেপের কারণে উত্তর দিতে দেরি হয়। ছবি এড করার পরেও কেন নিচে দেখায় বুঝছি না!
৩|
০২ রা অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৭:৪০
রাজীব নুর বলেছেন: বড্ড অগোছালো।
৪|
০২ রা অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৪
মুকতোিবহংগো বলেছেন: কি অগোছালো? লেখা না জীবন?!
৫|
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:১০
রোকনুজ্জামান খান বলেছেন: যাদের মেধা আছে তারা সব জায়গা থেকেই ভালো ফলাফল করবে। ভালো কলেজ হলেই যে ভালো করবে এটা ভুল। কিন্তু জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয় গুলো কিন্তু সবারই প্রথম প্রছন্দ।,,, লেখা চালিয়ে যান ভাইয়া।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৪৪
মাহের ইসলাম বলেছেন: ভাই, কেমনে যেন লাগলো? বুঝতে পারছি না।
শুভ কামনা রইল।