নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জল বেদিয়া

Nothing goes unpaid

মোনশেদ শুভ্র

Life is beautiful

মোনশেদ শুভ্র › বিস্তারিত পোস্টঃ

মিসুরাতা বন্দর,থমথমে লিবিয়া !!!

০৫ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ১০:০৬







কিংবদন্তি হিসেবে গাদ্দাফির নাম বেশ ছোটবেলাতেই শুনেছিলাম।দেশ লিবিয়া।রাজধানি ত্রিপলী।মুদ্রা দিনার। অনেক বাংলাদেশী শ্রমকের ঘামে সিক্ত হচ্ছে এর মরুভূমি।

এর বেশি কিছু জানা ছিল না।

জাহাজ ভিড়ল মিসুরাতা বন্দরে।গাদ্দাফি কিছুদিন আগেই গাদ্দার হিসেবে স্বজাতির হাতে নির্মম ভাবে নিহত হয়েছে।যুদ্ধাবস্থা এখনও কাটে নি। নিরাপত্তার কারনে কাপ্তান ব্যতিত আর কারও বন্দরের বাইরে যাওয়ার ছারপত্র মিলেনি।দেশর কাপ্তান হওয়ায় তাকে বলে কয়ে ইমিগ্রেসন অফিসে নিয়ে গেলাম।তার বিশেষ অনুরোধে আমরা দুইজন ও ছারপত্র পেয়ে গালাম।ইমিগ্রেসন অফিসের আল-জাজিরা টেলিভিশনে তখন বাংলাদেশে ভবন ধ্বসে নিহতের ঘটনা দেখাচ্ছিল।মনটা খারাপ হয়ে গেল।

বন্দরের সদর দরজায় দেখি সারি সারি পিকাপ ভেন গাড়ি।প্রত্যেক্টা গাড়িতে স্টেনগান ,রাইফেল তাক করা।দেখা একটু ভয় ভয় লাগল।

টেক্সি দাঁড়িয়ে আছে কয়েকাট। বাংলা হিন্দি ইংলিশ কোন ভাষাতেই কাজ হচ্ছে না।শালারা আরবি ছাড়া একটা কথাও বলে না।

হঠাৎ একটা বলে উঠল- সিকসটি দিনার।ভাবলাম ও বুঝি কিছু ইংলিশ জানে।হাতুরি মেরেও আর একটা ইংলিশ বের করতে পারলাম না।পরিস্কার বাংলায় কতগুলু গালি দিয়ে হাটতে থাকলাম সোজা রাস্তা ধরে। এত কষ্টকরে পাস আনলাম আর দেশটা না দেখে চলে যাব হতেই পারে না।

অবশেষে আমার দেশের ক্লাস ওয়ানে পড়ুয়া বাচ্চার সমান ইংলিশ জানে এরকম একটা টেক্সিওয়ালা পেলাম । মনে হয় জ্বিনের বাচ্চা।উচ্চতা প্রায় সাতফুট।পায়ের তলা পর্যন্ত লম্বা পাঞ্জাবি পরা।যোব্বা বলে মনে হয় একে।

মার্সিডিঞ্জ বেঞ্জ,লিমুজিন,লেন্ডক্রুজার,পাজেরো ইত্যাদির ছরাছরি!আমদের টেক্সিটাও মার্সিডিঞ্জ বেঞ্জ!ড্রাইভারকে দেখে মনে হল একটা চাকা কেনার সামর্থ ও অর নাই। এজেন্টের কাছে পরে শুনলাম এগুলা কিছুদিন আগের যুদ্বের সময় লুটপাট করা মাল!!! ডলার আর দিনার প্রায় সমান মানের হওয়ায় গাড়ি সবাই এই গুলাই কিনে! মাটির নিচে(বালুর নিচে হপে মনেহয়!) তেল থাকলে যা হয় আরকি!!



ফাকা রাস্তা।যতদূর চোখ যায় খালি বালি আর বালি।একটা দুইটা খেজুর গাছ।

প্রায় বিশকিলো চলে এসেছি গাড়ি চলছে তো চলছেই।ড্রাইভার সমানে আরবিতে বকে যাচ্ছে।গতিবেগ ১৩০।খাইছে !!!মনে হয় কিডন্যপ হয়া গেলাম।হাত পা আস্তে আস্তে শক্ত হওয়া শুরু করল! জ্বিনের বাচ্চার চেহারায় তাকিয়ে কলিজা শুকায়া গেল!!।শক্ত হয়ে বসে রইলাম।একসময় গাড়ি এসে থামল ‘জেইন সেন্টার’ নামক একটা যায়গায়। মাগ্রিবের আযান হচ্ছে। মোটামোটি কিছু দোকান পাট দেখা যাচ্ছে।বিশাল এক শিয়া মসজিদ।আমার সাথের দুইজন টেক্সি থেকে নেমেই শুকরিয়া নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে ঢুকল।

এক ডলার সমান এক দশমিক তিন দিনার।প্রায় সবগুলো নোটে গাদ্দাফির ছবিতে কাটাকুটি করা।বুঝলাম এখানে গাদ্দাফির নাম মুখেও আনা যাবে না। সমানে দোকান পাটের দেয়ালে গুলির দাগ,বোমার আঘাতের চিহ্ন।(ছবি)।আবহাওয়া থমথমে।

আমরা কয়েকটা লিবিয়ান দেয়াল লেখার নিজেদের স্টাইলে অনুবাদ করলাম---



গাদ্দাফি তুই গাদ্দার

এই মুহূর্তে লিবিয়া ছাড়।।

গাদ্দাফির চামড়া

তুলে নেব আমরা!!!

গাদ্দাফির পক্ষের একটা –

কে বলে রে গাদ্দাফি নাই

গাদ্দাফি আছে লিবিয়ায়!!!

যে দোকানেই যাই আমাদের কথাবার্তা শুনে অবজ্ঞার সুরে বলে-বাংলা? বুঝলাম এখানে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিকের আনাগুনা। চান্দি গেল গরম হয়া! মুখে হাসি ধরে রেখ,বললাম –অই বোকাচুদা এত কথা কস কেন? ওরা আরবিতে কি যেন বলে বুঝি না!

এর পরের যে দোকানেই যাই জিজ্ঞেস করি –অই বোকাচুদা,অই.........(অ-লেখ্য), এইটার দাম কত ,অইটার দাম কত!!মুখে হাসি।।

কিছু কেনা কাটা করে ফিরে এলাম জেলখানায়(জাহাজে)!

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১২:০০

বটের ফল বলেছেন: ভালোই। তবে গালি দেওয়াটা আমি সমর্থন করিনা সেটা আপনি যে ভাষাতেই দেননা কেন, আর যাকে বলছেন সে সেটা বুঝুক আর না বুঝুক। নিজেকেই প্রকাশ করা হয় এর মাধ্যমে , তাই নয় কি??

ভালো থাকবেন।

০৬ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ২:৪২

মোনশেদ শুভ্র বলেছেন: দেশের বাইরে গেলে শুধু বাংলাদেশী হওয়ার কারনে যে ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় তা শুধু ভুক্তভোগি ই জানে!
আমি ভাই মহাত্মা গান্ধী না।রাগে আমার হাত পায়ে খিচুনি শুরু হয়ে যায়।
মারামারি করলে জেলে যাওয়া লাগবে ।তাই গালাগালি করা ছাড়া আর কোন উপায় নাই!
তবে আপনার কথা সত্যি।
এতটা মানুষ হলে হয়ত ডংগায় থাকতাম!!
আপনি বটের ফল হলেও কথা বলেছেন বট বৃক্ষের মত! হা হা...
ভাল থাকবেন সবসময়।

২| ০৬ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ২:১৪

তোমোদাচি বলেছেন: লিবিয়ার গল্প ভাল লাগল

০৬ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ২:৪৭

মোনশেদ শুভ্র বলেছেন: ধন্যবাদ বন্ধু!
তবে লিবিয়া আমায় অনেক যন্ত্রনা দিয়েছে!! X(

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.