নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শেরপা

দেখতে চাই ধরনী

মুনতাসির

আমি পাহাড়ে চড়ি,সাগরে ডুবি, পৃথিবী আমার প্রেম

মুনতাসির › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসলামপন্থী মানে কি?

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০৯

সংবাদের শিরোনামে প্রায়ই দেখি— ইসলামপন্থী দল, ইসলামপন্থী রাজনীতি, ইসলামপন্থীদের কর্মসূচি। শব্দটা পড়লেই একটা প্রশ্ন জাগে: এরা কারা? ইসলামপন্থী মানে আসলে কী? এনারাই কি ইসলাম মানেন? তাহলে বাকিরা কি ইসলামবিরোধী?

আরও একটা অদ্ভুত অনুভূতিও কাজ করে—শব্দটার সঙ্গে যেন “স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি” জাতীয় একটা নৈতিক আভা জুড়ে দেওয়া থাকে। যেন যারা ইসলামপন্থী, তারাই সত্যিকার অর্থে ন্যায়ের পক্ষে, আর বাকিরা আপনা-আপনিই বিপক্ষে।

কিন্তু সত্যিই কি বিষয়টা এত সরল?

“ইসলামপন্থী” শব্দটা মূলত কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক একটি টার্ম। এটি সাধারণত এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়, যারা রাষ্ট্র, আইন, সমাজ বা ক্ষমতার কাঠামোকে ইসলামের একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যার আলোকে পরিচালিত করতে চান। অর্থাৎ, ইসলাম এখানে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা থেকে সরে এসে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়।

এখানেই প্রথম বিভ্রান্তিটা তৈরি হয়। কারণ ইসলাম তো শুধু রাজনীতির বিষয় নয়—এটা বিশ্বাস, নৈতিকতা, ইবাদত, সংস্কৃতি, পারিবারিক জীবন, এমনকি ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধির সঙ্গেও যুক্ত। যিনি নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন, সততার সঙ্গে জীবনযাপন করেন—তিনি কি ইসলাম মানেন না? অবশ্যই মানেন। কিন্তু তিনি যদি রাজনীতিতে ইসলামের ব্যানার ব্যবহার না করেন, তাহলে কি তিনি ইসলামপন্থী নন? হ্যাঁ, সংবাদপত্রের ভাষায় তিনি “ইসলামপন্থী” নাও হতে পারেন—কিন্তু তাই বলে ইসলামবিমুখও নন।

এখানেই শব্দটার সমস্যাজনক দিকটা ধরা পড়ে। ইসলামপন্থী বনাম ইসলামবিরোধী—এই দ্বিবিভক্তি বাস্তবের চেয়ে ভাষার তৈরি করা এক ধরনের সহজ ছক। এটি এমন একটি ধারণা তৈরি করে, যেখানে ইসলাম যেন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একচেটিয়া সম্পত্তি, আর বাকি সবাই সন্দেহজনক।

আরও একটা বিষয় লক্ষণীয়—এই শব্দটি প্রায়ই মূল্যবোধের বদলে অবস্থান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন “স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি” বললে ধরে নেওয়া হয়, যারা এই ট্যাগের বাইরে, তারা বুঝি স্বাধীনতার বিপক্ষে। বাস্তবে কিন্তু স্বাধীনতা নিয়ে যেমন বহু রকম বোঝাপড়া আছে, তেমনি ইসলামকে নিয়েও আছে বহু রকম ব্যাখ্যা, অনুশীলন ও জীবনদর্শন।

তাই প্রশ্নটা হয়তো হওয়া উচিত— ইসলামপন্থী মানে কি ইসলামকে ভালোবাসা? নাকি ইসলামকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা? নাকি ইসলামের একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা?

সব ইসলামপন্থী একই রকম নন, আবার সব ইসলাম মানা মানুষও ইসলামপন্থী নন। এই পার্থক্যটা না বুঝে শব্দটা ব্যবহার করলে সংবাদ ভাষা ধীরে ধীরে বিশ্লেষণের জায়গা ছেড়ে স্লোগানে পরিণত হয়।

সুতরাং, আসলে কি তাই? না—বিষয়টা এতটা সোজা নয়। আর শব্দের এই সরলীকরণই হয়তো আমাদের সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত করে।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:১৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইসলাম বলতে মূলত ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে বোঝানো হয়।

২| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫১

রাজীব নুর বলেছেন: আমি প্রাচীনপন্থী মানুষ।

৩| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আল্লা তায়ালা সৃস্ট মানব হিসাবে সকলেরই মানবতাপন্থি হওয়া কাম্য ।
জাগতিক বিষয়ে সুন্দরভাবে নৈতিকতার ভিতরে মানবের জীবন যাপনের
জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়ে মানবতাপন্থি আর পরকালের মুক্তির জন্য
নীজ নীজ ধর্মগ্রন্থ যথা মুসলমানদের জন্য কোরান ও সুন্না অনুসরণে
ধর্মপন্থী হওয়া কাম্য।আর এ দুয়ের মধ্যে সুসমন্বয় করে চলারাই
সর্বোত্তমপন্থী ।




আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.