নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আবোলতাবোল

মুশফিক আব্দুল্লাহ

কিছুই বলার নেই।

মুশফিক আব্দুল্লাহ › বিস্তারিত পোস্টঃ

শুকনো ফুলের কথা

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:১৩

একলা একলা সেন্ট্রাল ফিল্ডের মাঝখানে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে ঈশান। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যাপ্রায়। বিষণ্ণ দৃষ্টিতে একবার সূর্যের দিকে তাকাল সে। লাল টুকটুকে হয়ে ডুবে যাচ্ছে। সেদিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল সে। হলে যাওয়া দরকার। ক্যাফেটেরিয়ার ঢালে ফুলগাছটা মারা যাচ্ছে। দুই একটা শুকনো ফুল এখনো ডালে আটকে আছে। অমর একুশে ভাস্কর্যটার পাশে এসে বুকটা হুহু করে ওঠে ঈশানের। গলার কাছে শক্ত অনুভূতিটা ঢোক গিলে দূর করার ব্যর্থ চেষ্টা করে। ডাক দিয়ে ওঠে, “এই রিকশা, খালি মামা!!”


দুই বছর আগের কথা


আজকে হলের শোডাউনে যাওয়া হয় নি। রাতে গেস্টরুমে আল্লাহই জানে শহীদ ভাই কি করে। হলে ঈশানদের ব্যাচের ইমিডিয়েট সিনিয়র ব্যাচের বড়ভাই শহীদ ভাই। মানুষটার মধ্যে পছন্দ করার মত কিছু আছে বলে মনে হয় না। অধিকাংশ সময় থাকে গম্ভীর হয়ে। অজানা কোন কারণে মনে হয় সবসময়ই তাঁর মেজাজ খারাপ থাকে। কখন যে ভালো মুডে থাকে আর কখন যে ক্ষিপ্ত থাকে খোদা জানেন। তাঁর সাথে কোথা বলতে গেলেও ভয় লাগে! যদি খারাপ মুডে থাকে, দিবে তো রাম ঝাড়ি!! গেস্টরুমে যেসব বড়ভাই ম্যানার শেখান তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝাড়ি আর ফাপর দেন শহীদ ভাই। যেদিন উনি কোন কারণে গেস্টরুমে থাকেন না সেদিন ঈশানদের ব্যাচের ছেলেরা হাফ ছেড়ে বাঁচে। সেদিনমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেল ঈশান। প্রথম বর্ষ। দেশের প্রথম সারির একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব ভালো একটা সাবজেক্টে চান্স পেয়ে এইচএসসিতে এ+ না পাওয়ার কষ্ট আর আত্মীয়স্বজনের কটূক্তির খুব ভালোভাবেই জবাব দিয়েছে ঈশান। স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে, বুদ্ধিজীবি আর জাতির বিবেক শিক্ষাগুরুদের সান্নিধ্যে অন্য মানুষ হয়ে উঠবে!! কিসের কি!!

মফস্বলে বড় হওয়ায় হলে থাকাটা ওর জন্য একমাত্র অপশন ছিল। সেদিনের কথা স্পষ্ট মনে আছে ঈশানের। সন্ধ্যার দিকে মেস থেকে নিজের লেপ তোষক বালিশ কাপড়চোপড় নিয়ে ট্যাক্সিতে করে হলের গেটে আসে ঈশান। গেটে ওদের ব্যাচের অনেকেই দাঁড়িয়ে ছিল। রেজিস্টার খাতায় নাম এন্ট্রি করে একজন একজন করে হলের বাগানের ভেতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে মাঝামাঝি একটি বড় রুমের দিকে যাচ্ছে। বুঝলো ওটাকেই বলে গনরুম। পত্রিকায় পড়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গনরুমের কথা। ভয়াবহ রকম পরিবেশ। ঢুকেই দেখে ৫০ ৬০ জন ছেলে গাদাগাদি করে তোষক ফেলেছে থাকার জন্য। এমন অবস্থা যে ওর তোষক ফেলার আর জায়গাই নেই। অসহায়ের মতন দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ ঈশান।
-তোষক ফেলা লাগবে না। রাতে যেখানে জায়গা পাবা সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ো।
আওয়াজ লক্ষ্য করে বামে তাকায় ঈশান। রোগা পটকা একটা ছেলে হাতে সিগারেট নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। হাত বাড়িয়ে দিল ছেলেটা।
-আমি মামুন, ফিজিক্স।
-আমি ঈশান, ফার্মেসী।
-বাসা কোথায় তোমার? স্কুল কলেজ ছিল কোনটা?
অবাক হয়ে ঈশান লক্ষ্য করে কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কিছু নতুন বন্ধু হয়ে গেছে ওর। তেমন একটা খারাপ লাগছে না আর। কোনভাবে ট্রলিব্যাগটা এক কোনায় রেখে মামুনদের সাথে বসে সে। রাত ৮ টার মত বাজে। জার্নি করে আসার কারণে ক্লান্ত দেহটি একটু এলিয়ে দিয়েছে মাত্র মামুনের বিছানায়। ওর আর তোষক পাতা হয় নি। জায়গাই নেই, তোষক পাতবে কথা থেকে? গনরুমের আবার একটা গালভরা নামও আছে। এটাকে নাকি সবাই সংসদ বলে ডাকে।
হঠাৎ ৮ জন ছেলে একসাথে ঢুকল সংসদে।
-নতুন ব্যাচের সবাই একসাথে হও।
হাবভাবে বুঝা গেল সিনিয়র মনে হয়।
-হল লাইফে তোমাদের স্বাগতম। আমরা তোমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়র। তোমাদের বেসিক কিছু ম্যানার শিখতে হবে। আজকে রাত ১০ টায় গেস্টরুমে সবাই থাকবা। হলে যারা থাকে তাদের জন্য গেস্টরুম বাধ্যতামূলক। থাকতেই হবে। যারা থাকবে না, তারা হলে থাকতে পারবে না। ক্লিয়ার? সবাই বুঝতে পারছো?
-জ্বি ভাই
সমস্বরে বলে ওঠে নতুন ব্যাচের ছেলেরা।
রাত দশটায় নিয়মকানুনের বিশাল এক লিস্ট বলে দেন ইকবাল ভাই, শহীদ ভাই কাওসার ভাইরা। আর সেই সাথে বলে দেন আজকে প্রথমদিন নিয়মকানুন বলে দেয়া হল, কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার পানিশমেন্ট হবে। পানিশমেন্টটা কি সেটা না জানলেও ঈশান অনুমান করেছে সেটা নিশ্চয়ই ভালো কিছু না। ততক্ষণে এটুকু জানা হয়ে গেছে সবার যে এই ভাইয়ারা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের সাথে জড়িত।
প্রতিদিন রাত দশটায় গেস্টরুমে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক, টিভি রুমে সবার পেছনে বসতে হবে, ভুলেও রিমোটে হাত দেয়া যাবে না। পেপার রুমে কোন সিনিয়র পাশে দাঁড়ালে পেপার ছেড়ে দিতে হবে। ১ দিনের মধ্যে নিজের ব্যাচের সবার সাথে পরিচিত হতে হবে, এরপর যাদের না চিনবে তারা সবাই সিনিয়র, তাই সালাম দিতে হবে দেখলেই। ডাইনিঙে আর ক্যান্টিনে বসার জায়গাও নির্দিষ্ট। নন পলিটিক্যাল কোন রুমে ভুলেও যাওয়া যাবে না। নন পলিটিক্যাল কেউ রুমে ডাকলে সাথে সাথে ইমিডিয়েট সিনিয়রদের জানাতে হবে। প্রতিদিন বিকেলে ব্যাচের সবাই একসাথে মিলে ক্যাম্পাসে শোডাউন দিতে হবে ক্যাম্পাস চেনার জন্য। পলিটিক্যাল ব্লকে সবার আগে ইমিডিয়েট সিনিয়র ব্যাচ, তারপর অল্টারনেট সিনিয়র ব্যাচ এভাবে হলের মোস্ট সিনিয়র ব্যাচের পলিটিক্যাল ভাইদের কে কোন রুমে থাকে, কোন ডিপার্টমেন্ট, বাড়ি কোথায় এসব মুখস্ত থাকতে হবে। এনাদের যেকোন জায়গায় দেখলে উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিতে হবে। যেকোন ঝামেলায় অবশ্যই সাথে সাথে ইমিডিয়েট সিনিয়রকে জানাতে হবে। পলিটিক্যাল ব্লকের যেকোন রুমে ডাকলে যত দ্রুত সম্ভব দেখা করতে হবে। লুঙ্গি বা ট্রাউজার পড়ে হলের বাইরেতো দূরের কথা, সংসদ টু ওয়াশরুম ছাড়া এগুলো পড়ে ঘোরা যাবে না। আরও কত কী!!!!
সবশেষে শহীদ ভাই বললেন, “তোমরা আমাদের হলের ছোটভাই, তোমাদের দায় দায়িত্ব সব আমাদের। তোমাদের দেখভাল থেকে শুরু করে শাসন করা, আদর করা সবই আমরা করব। কোন বিপদ আসলে এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি যে আমাদের আগে তোমাদের গায়ে আঘাত লাগবে না। আশা করি এই হলের ঐতিহ্য অনুযায়ী সুন্দরভাবে চলবা।”
তখনও বুঝতে পারে নি সামনে কি অপেক্ষা করছে। পরেরদিন থেকেই একজন একজন করে ভুলক্রমে নিয়মের ব্যতয় ঘটানো ছেলেদের কঠোর ভাষার ঝাড়ি। প্রতিদিন শোডাউনে আর গেস্টরুমে সবার বাধ্যতামূলক থাকতেই হত। না থাকলে যে পরিমাণ ঝাড়ি আর ফাপর খেতে হত, এরপর আর কেউ সাহস করতো না। অবশ্য ১৫ ২০ দিনের মধ্যেই এই কঠোরতা একটু শিথিল হয়। ততদিনে ঈশানের মনে ধারণা হয়েছে সে অবশ্যই ভুল করে কোনভাবে দোযখে চলে এসেছে। ২০ দিন পরেই অবশ্য সিনিয়ররা একটু একটু ফ্রি হতে থাকেন, ওরাও একটু হাফ ছেড়ে বাচতে থাকে। ঈশান অবাক হয়ে দেখতো, গেস্টরুমে রুদ্রমেজাজে থাকা ভাইটি কিভাবে যেন মিনিট দশেক পরেই সংসদে গিয়ে হাসি ঠাট্টা করছেন তাদের সাথে।

-ঈশান সামনে আয়।
দুরুদুরু বুকে এগিয়ে যায় ঈশান।
-বিকালে কই ছিলি?
-ভাই, সেন্ট্রাল ফিল্ডে।
মিনমিন করে জবাব দেয় ঈশান।
-শোডাউনে ছিলি না কেন? কাকে বলে গেছিলি?
-সরি ভাই বলতে ভুলে গেছিলাম।
একদম নিচু স্বরে জবাব দেয় ঈশান। সাথে সাথে সবাই যেন মেশিনগান ছোটান মুখ দিয়ে। এক একটা ঝাড়ি আর ফাপর যেন গুলি, সেগুলো ঈশানের কাঁচুমাচু হয়ে থাকা শরীর যেন রক্তাক্ত করে দিচ্ছে। গেস্টরুম শেষে বের হয়ে সংসদের দিকে যাচ্ছে ঈশান এমন সময় মার্কেটিং এর রাতুল এসে বলল শহীদ ভাই তোকে রুমে ডাকছে। তেতো হয়ে গেল ঈশানের মুখ। এইরকম একটা গেস্টরুমের পর আবার রুমেও ডাকল?
-আসসালামুআলাইকুম ভাই। আমি ঈশান, ফার্স্ট ইয়ার।
শহীদ ভাইয়ের দরজায় হাল্কা টোকা দিয়ে বলে ঈশান। উনার রুমে একটা রামদা দেখেছিল ঈশান। এরপর থেকে উনার রুমে যেতে দারুণ ভয় পায় ঈশান।
-আয়, ভেতরে আয়।
এরপর ছোট্ট ক্যাম্পাস লাইফে তখন পর্যন্ত তার পাওয়া সবচেয়ে বড় বিস্ময় অপেক্ষা করছিল। শহীদ ভাই নরম সুরে তাকে স্বান্তনা দিচ্ছেন!!!! তাও এতক্ষণ ধরে!! কিভাবে সম্ভব? তাহলে কি কোন জাদুর কাঠিতে শহীদ ভাই চেঞ্জ হয়ে গেল নাকি?? ভুলটা অবশ্য পরেরদিনই ভেঙ্গে যায় শহীদ ভাইয়ের কড়া ধমক খেয়ে। ওর অপরাধ ছিল মনের ভুলে ও ট্রাউজার পড়েই হলের ভেতরের দোকানে চা খেতে গিয়েছিল।

মাস তিনেক পর ওরা রুম পায়। দুইজনের রুমে ছয়জন থাকতে হবে। আশ্চর্য হয়ে ঈশান খেয়াল করে, সংসদ ছেড়ে যেতে ওর কেমন যেন খারাপ লাগছে। এতদিন নিয়মিত রুটিন ছিল ক্লাস থেকে এসে ব্যাগটা ট্রলিব্যাগের উপর রেখেই সবার সাথে হয় কার্ড নাহয় দাবা বা সবার সাথে একসাথে আড্ডা দেয়া। আর রাতে তিনটা চারটায় এসে ঘুমানোর জায়গা না পেয়ে কনকনে শীতে সবার লেপ টেনে সরিয়ে ঘুম ভেঙ্গে দেয়া, তারপর তারা ওয়াশরুমে গেলেই ওদের জায়গায় ঘুমিয়ে পড়া। বেচারারা এসে দেখত তাদের জায়গা দখল হয়ে গেছে, কি আর করা, কোনভাবে কাত হয়ে ঘুমাতে হত। অবিরাম আড্ডা আর হাসিঠাট্টা ছেড়ে রুমে উঠতে যেমন খুশি লাগছিল আবার কষ্টও হচ্ছিল। এজন্যই মনে হয় ভাইয়ারা বলতেন সংসদলাইফে যত বন্ধু বানাবা, হল লাইফে তত ভালো থাকবা।

আস্তে আস্তে মাস ছয়েকের মধ্যে সব ভাইয়ের সাথেই মোটামুটি ফ্রি একটা সম্পর্ক হয়ে যায় সবার। কিন্তু শহীদ ভাই এখানেও ব্যতিক্রম। আজও তাকে দেখলে প্রথম দিনের মতই ভয় ভয় লাগে। শুনেছে ফার্স্ট ইয়ারে থেকেই নাকি উনার পরিচিত সবাই বলে ভয়ডর বলতে নাকি কিছু নেই শহীদ ভাইয়ের। ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে হলের মারামারিতে উনি নাকি একজন সিনিয়রের সাথে অন্য হলের ছেলেদের মাঝখানে ঢুকে মারামারি করছিলেন জিআই পাইপ নিয়ে। মাথা ফেটে যে রক্ত বেয়ে পড়ছে, হাতে যে রামদার হাল্কা ছোঁয়াতে কেটে গিয়ে রক্ত পড়ছে, ভ্রুক্ষেপই ছিল না উনার। এটা উনাকে নিয়ে শোনা পাঁচ ছয়টা কাহিনীর মধ্যে একটা। সত্যি কিনা জানে না ঈশান। কখনও ভাইকে জিজ্ঞেস করারও দুঃসাহস হয় নি।

বছর কেটে যায়। ধীরে ধীরে ঈশানও সিনিয়র হয়। রাজনীতি করে না বলে আস্তে আস্তে পলিটিক্যাল সিনিয়রদের সাথে যোগাযোগও কমতে থাকে। ঈশান খুব পড়ুয়া ছেলে ছিল। তাই বলে তাকে আবার কেউ আতেলও বলত না। ব্যাচের মধ্যে কিছুটা বিটলা বলেই জানতো সবাই ওকে। চেহারা দেখে খুব ভদ্র মনে হলেও ওর হলের বন্ধুদের মতে ওর মাথার মধ্যে সারাক্ষণ নাকি গিজগিজ করে শয়তানের বুদ্ধি।
ডিপার্টমেন্টেও সমান জনপ্রিয় ছিল ঈশান। রেজাল্টও খুব একটা খারাপ ছিল না, বরং ভালই বলা যায়। সারাদিন মুন্নী চত্বর থেকে ট্রান্সপোর্ট সুপারিতলা, মুরাদ চত্বর টারজান পয়েন্ট আর বটতলায় টইটই করে ঘোরা আর আড্ডাবাজিতে কোনদিকে সময় কেটে যেত খোঁজই পেত না। মামুন নিলয় নিখিল সুমন নাবিলা ফারিয়া ওরা সহ আরও প্রায় সাত আটজন বন্ধুর সার্কেলটা এইসব করেই সারাদিন কাটিয়ে দিত। রাতে বটতলায় খাবার পরের ম্যারাথন আড্ডাতো আছেই। তবে প্রতিদিন রাত ১ টা ২ টায় হলে ফিরেও কিছুক্ষণ হলেও পড়াশোনা করত ঈশান। তারপর ঘুম। আবার পরদিন ক্লাসের ১৫ মিনিট আগে ঘুম থেকে উঠে কোনভাবে ক্লাস শুরুর ১ মিনিট আগে গিয়ে ডিপার্টমেন্টে আসতো সে। এই দেড় বছর পরেও কেন যেন শহীদ ভাইকে ভয়ও পায় আবার অপছন্দও করে ঈশান। কেন যেন তার মনে হত শহীদ ভাই তাকে দেখলেই খালি ধমকান। বিরক্ত লাগলেও কিছু করার ছিল না।
এই রেগুলার রুটিনেই প্রায় তিন চার মাস চলে যায়। তারপর হঠাৎই ছন্দপতন। ইদানীং কেন যেন তার আড্ডা দিতে আর ভালো লাগে না, খাওয়া দাওয়াও ঠিকমত করে না। এটেনড্যান্স শীটে অনুপস্থিতির চিহ্ন বাড়তে থাকে। চুপচাপ খালি রুমে শুয়ে থাকে। বন্ধুবান্ধব সবাই অস্থির, কি হল এই প্রানবন্ত ছেলেটার??
হঠাৎ শহীদ ভাই একদিন হলের গেটে ঈশানকে দেখে ডাক দেন। অস্বস্তি নিয়ে ঈশান এগিয়ে যায় ভাইয়ের দিকে।
-ওই কিরে কি হইছে তোর? ইদানীং দেখি খালি রানিক্ষেতের মুরগির মত ঝিমাস? গাজাটাজা ধরছিস নাকি?? শুনলাম নাকি ক্লাসও করস না ঠিকমত??
-না ভাই, আমি ওইসব খাই না।
-তাইলে ঝিমাস কেন? সত্যি কইরা বল। যদি কোনদিন শুনছি তোরে গাঁজা খাইতে, মাইরা হাত পা ভাইঙ্গা হল থেকে বাইর কইরা দিমু। কালকে থেকে যদি আর ক্লাস মিস দিছস, হলে আসিস না আর।
ধমকে উঠেন শহীদ ভাই। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, ওই সময়ই তার এই ঝিম মারার পেছনে দায়ী ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছিল বটতলার দিকে। লজ্জ্বায় মরে যেতে ইচ্ছে হল ঈশানের। নাবিলা না জানি কি ভাববে। মনে মনে শহীদ ভাইকে পিটিয়ে কয়েকবার লাশ বানালেও মুখে বলল,
-জ্বি ভাই, ক্লাস মিস দিব না।


ঘটনা আর কিছুই না। ঈশানের অদ্ভুত একটা রোগ হয়েছে। হাত পা কাঁপারোগ। তাও সবসময় না। শুধু যখন নাবিলাকে নিজের মনের কথা বলতে চায় তখনই কেন যেন এই রোগ এটাক করে। সাথে একটু একটু গলা শুকিয়ে যাওয়া আর ঢোক গেলাও আছে। এই দেড়বছর একসাথে চলতে চলতে কখন যে পা পিছলে ধপাস করে নাবিলার প্রেমে পড়ে গেছে আল্লাহ মালুম। যখন টের পেল তখন আর কিছুই করার নেই। বন্ধুত্বের সম্পর্কে ভালবাসার কথা বললে বন্ধুত্বটাও যদি পাছে হারাতে হয়!! সেই ভয়ে ঈশান বেচারা কিছু বলতেও পারে না কাউকে। থাক না, বন্ধু থাকলে তো অন্তত কথা বলতে পারছে প্রতিদিন, যখন তখন ফোন দিয়ে তো জিজ্ঞেস করতে পারছে যে নেক্সট পরীক্ষা কবে, এসাইনমেন্ট কী, খেতে যাবে কখন। এটুকুই বা কম কিসে!! প্রত্যাখ্যাত হলে যদি এটুকুও চলে যায়!! কাউকে কিছু না বলতে পেরে তাই ঈশানের ঝিম মেরে যাওয়া।

বিকেলে শহীদ মিনারের সামনে হঠাৎ ঈশানকে ডাক দেয় নাবিলা। ও বটতলায় যাবার সময় শহীদ ভাইয়ের শেষ কথাগুলো শুনেছে।
-তুই কি সত্যি আজেবাজে জিনিস খাওয়া শুরু করছিস?? এজন্যই এরকম সবাইকে এড়িয়ে চলতেছিস??
-মানে কি!!!!
নাবিলার প্রশ্নে আকাশ থেকে পড়ে ঈশান।
-নাহলে তোর ওই ভাই তোকে গাঁজা খাওয়া নিয়ে ধমক দিতেছিল কি জন্য??
ঈশানের ইচ্ছে করে শহীদ ভাইয়ের নাক বরাবর যদি অনবরত ঘুষি দিয়ে মুখের কাটিং চেঞ্জ করে দিতে। বেটা কি ঝামেলাটা পাকাইলো!! ঈশানকে চুপ থাকতে দেখে নাবিলা আবার বলে
-জীবনে কোনদিন যদি এসব শুনি, সেদিন থেকে তুই আমার বন্ধু না।
বলে গটগট করে হেঁটে অডিটোরিয়ামের দিকে চলে যায় নাবিলা। নিখিল আর সুমনাকে নিয়ে মুভি আজ ওর মুভি দেখার কথা। কোন একটা ক্লাব যেন করছে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, মুভিগুলো সবগুলোই ভালো ভালো। রাগে ক্ষোভে মাথা কাজ করে না ঈশানের। রুমে গিয়ে দমাদম দেয়ালে কয়েকটা ঘুষি মারে যেন ওটাই শহীদ ভাইয়ের নাক।

কিছুদিন পর তিনতলায় রুম পায় ঈশান। সুমন হয় ওর রুমমেট। ততদিনে এককান দুকান করে বন্ধুবান্ধব সবাই জেনে গেছে ঈশানের রোগটা আসলে কি। শুধু নাবিলা ছাড়া। এক সপ্তাহের মধ্যে রুমের দেয়াল ভরে যায় ঈশানের আঁকা নাবিলার স্কেচে। কখনও প্রানখুলে হাসছে, কখনোবা কপালে এসে পড়া অবাধ্য চুলগুলো সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে আবার কখনও বিষণ্ণ দৃষ্টিতে হয়তো দূরে তাকিয়ে আছে। সুমন এসব পাগলামি দেখে খুব রাগ করে।
- এতই যখন পছন্দ করিস, বলে দিলেই তো পারিস।
- হুম, বলব তো!!
নিচু স্বরে জবাব দেয় ঈশান। কিন্তু বলি বলি করেও বলা আর হয় না। ওদিকে নাবিলাকেও নাকি কোন সিনিয়র ভাই প্রপোজ করেছেন। ঈশানের ইচ্ছা করে ছুটে গিয়ে ওই ভাইয়ের টুঁটি চেপে ধরতে। আশার কথা নাবিলা হ্যাঁ-না কিছুই বলে নি।
স্বরস্বতী পুজার সময় ছেলেদের হলে মেয়েরা ঢুকতে পারে, ছেলেদের হলগুলোতে পূজার প্রসাদ তৈরি বা ফল কেটে তৈরি করা এসব মেয়েরাই করে।
পূজার আগেরদিন বিকেলে ট্রান্সপোর্ট চত্বরে সুমনকে দেখা যায় নিলয় আর নিখিলের সাথে কি যেন গোপন শলা পরামর্শ করতে। নাবিলা এসে বসে তাদের পাশে।
-কিরে, কি করিস তোরা??
ব্যাগটা পাশে রেখে চায়ের অর্ডার দিয়ে বসতে বসতে নাবিলা প্রশ্ন করে।
-সুমনের রুমে ফ্রিজ এনেছে। সেইটা নিয়ে কথা বলছিলাম।
ঝটপট জবাব দিয়ে দেয় নিখিল। সুমন আর নিলয় অবাক হয়ে তাকায় নিখিলের দিকে।
-যাহ! গুলপট্টি মারিস না।
-আরে না, সত্যি!! ছোট ফ্রিজগুলো। এখন থেকে গরমে খুব ভালো হবে। টিভি তো আগেই ছিল। পিসির সাথে টিভিকার্ড দিয়ে। আমার তো ইচ্ছা করতেছে সুমনের রুমমেট হয়ে যাই। :P
কথার ফাঁকে নাবিলার চোখ এড়িয়ে নিখিলের চোখ টিপ মারাটা নজর এড়ায় নি সুমনের।
-কালকে আমাদের হলে পূজা আছে, যাবি?? মেয়েরা এই এক দিনই ছেলেদের হলে ঢুকতে পারে। সুমনের রুমটাও দেখলি!
-সিরিয়াসলি?? তাহলে যাব। ফ্রিজে কিন্তু স্প্রাইট রাখবি। কোক খেতে ভালো লাগে না! আর যদি এইটা গুলপট্টি হয়, তাহলে কিন্তু বুইঝো চান্দু!!!
চোখ রাঙ্গিয়ে নিখিলকে বলে নাবিলা।
-আরে ধুর, তোর সাথে চাপা মাইরা আমার লাভ আছে?? টাকা পয়সা পাবো??
হাসতে হাসতে জবাব দেয় নিখিল।
পরদিন সব কিছু অনুমিতভাবেই ঘটে।
সকাল ১১ টায় ঈশান কাথা মুড়ি দিয়ে ফুল স্পিডে ফ্যান ছেড়ে ঘুমাচ্ছে, এসময় নাবিলা নিখিল আর সুমন আসে।
-দোস্ত, তুই রুমে বস, আমরা আসতেছি ওয়াশরুম থেকে।
-আরে আরে! আমি একলা তোদের রুমে থাকব নাকি!!
-ঈশান আছে তো ভিতরে। ২ টা মিনিট বস।
ওয়াশরুমের দিকে তাড়াহুড়া করে চলে যায় সুমন আর নিখিল। রুমে পা দেয় নাবিলা। জানালা বন্ধ, আলো আসছে না। অন্ধকারটা একটু চোখ সয়ে যেতে রুমের মেঝেতে নজর পড়ে নাবিলার। ওর মনে হল এত সিগারেটের প্যাকেট একসাথে ও সিগারেটের দোকানেও দেখে নি। হঠাৎ দেয়ালে নজর যেতেই স্তম্ভিত হয়ে পড়ে নাবিলা। এ কী!!! পুরো দেয়ালজুড়ে ওর স্কেচ!! একটু এগিয়ে ভালভাবে দেখতে যায় সে। প্রতিটা স্কেচে এক কোনে ছোট্ট করে লেখা “ভালবাসি!!! – ঈশান”


সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিল ঈশান। সমুদ্রের পাড়ে নিস্তব্ধ রাত। শুধু ঢেউয়ের গর্জন ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না। ঈশান আর নাবিলা চুপ করে হাঁটছে সৈকত ধরে। ইচ্ছে করে হাতে হাতে বাড়ি লাগাল ঈশান। হেসে নাবিলা তার হাত ধরে। আহ! কী রোমান্টিক!! কিন্তু একি!! নাবিলা এত বড় হয়ে যাচ্ছে কেন?? হঠাৎ দৈত্যাকৃতি নাবিলা গর্জন করে বলল, তুই আমার হাত ধরলি না কেন?? বলেই দিল এক রাম থাপ্পড়।
ধরমরিয়ে উঠে বসে ঈশান। নাহ স্বপ্নই দেখছিল। আধ সেকেন্ডও তার এই স্বস্তি থাকে না।
“ঠাস”!!!! এবার অন্য গালে। সামনে নাবিলা দাঁড়িয়ে!!!! চোখ কচলে আবার তাকায় ঈশান। একী!!! এতো নাবিলাই!! হঠাৎ বাইরে ঢোলের শব্দে মনে পড়ে যায় আজ সরস্বতী পূজা।
-বলা যেত না একবার???
নাবিলার কঠিন সুরে চমক ভাঙ্গে ঈশানের। একে তো মাত্র ঘুম থেকে উঠলো তার উপর এই ঘটনা, ঈশান ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে শুধু তাকিয়েই থাকে। নাবিলা ঝড়ের বেগে চলে যায় নিজের হলে।

পরদিন শুক্রবার। ক্লাস নেই। ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে সকাল থেকে। নাবিলা শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল বাইরে অঝোর ধারার দিকে। মেসেজ টোনের শব্দে মোবাইলটা হাতে নেয় নাবিলা। ঈশানের মেসেজ!
“একটু নিচে আসবি?”
সাথে সাথে ফোন দেয় ঈশানকে। নাম্বার বন্ধ। উফফফ, একে নিয়ে তো মহা যন্ত্রনা!! দৌড়ে হলের বারান্দায় যায় নাবিলা। ঈশানের মত না?? হ্যাঁ, ঈশানই তো!! পেছনে হাত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এক দৌড়ে হলের সামনে আসে নাবিলা। গাধাটা ফুল এনেছিল। সেগুলো মাটিতে পড়ে আছে। আর ঈশান তার মোবাইল ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে শুকানোর চেষ্টা করছে।
-কি হইছে তোর? সমস্যা কী??
-ইয়ে মানে, তোকে মেসেজ পাঠানোর পর পরই মোবাইলটা পানিতে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে, আর চালু হচ্ছে না।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে নাবিলা। মনে মনে বুঝে গেছে একে দিয়ে মুখ দিয়ে বের করা যাবে না কথাগুলো।
–ফুল আনছিস কি জন্য??
-এমনি, তোর জন্য।
-হুম নিলাম, আর কিছু??
কথা হারিয়ে ফেলে ঈশান। বিধাতা হয়তো উপর থেকে এই নাটক দেখতে দেখতে হাসছিলেন। আচমকা ঈশানের কলার চেপে ধরে নাবিলা।
-“বল!!! ভালবাসি বল!!!”
থতমত খেয়ে ঈশান বলে “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভালবাসি!”
-এভাবে কেউ প্রপোজ করে?? কিছু শিখলি না এতদিনে??
-না, তুই শিখাবি এজন্য কিছু শিখি নাই।
-এহ! তেনার কথা ফুটছে এতক্ষণে। তোর প্রথম শিক্ষা, আর আমাকে তুই বলবি না।
-তাহলে কি বলব??
-তুমি বলবি!! উফ!! এইসব কি শিখানোর জিনিস নাকি!! ধুর!! তুই থাক। আমি গেলাম।
গেলাম বললেও ফিরে যাওয়ার কোন লক্ষন দেখায় না নাবিলা। ভিজতে থাকে ওখানে দাঁড়িয়েই।

গল্প সবসময় নিজের খেয়ালখুশি মত বানানো যায়। অতঃপর সবাইকে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাসও করা যায়। বাস্তবেও কি তা সম্ভব হয়??

কিছুদিন পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই হলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় তুচ্ছ কোন একটা বিষয় নিয়ে। অবশ্য বেশিরভাগ সংঘর্ষই হয় তুচ্ছ ঘটনা নিয়েই। ঈশান নাবিলার সামনে যতই সেদিন তোতলামো করুক, এতটা কাপুরুষ ছিল না যে হলের মারামারিতে বাথরুমে লুকিয়ে থাকবে। শহীদ ভাইয়ের নেতৃত্বে অমর একুশের ওদিকটাতে রড পাইপ নিয়ে দৌড়ে যায় ওরা প্রতিপক্ষের হামলা ঠেকাতে। হলের মারামারিগুলোতে শুধু পলিটিক্যালরাই না, সাধারণ ছাত্ররাও যায় নিজের হলের পক্ষে সংঘর্ষে। চারদিকে শুধু উন্মত্ততা। হঠাৎ সুমনকে রডের আঘাতে লুটিয়ে পড়তে দেখে ঢাল বেয়ে দৌড়ে সেদিকে যেতে থাকে ঈশান। ধ্রিম!! ধ্রিম!!! দুটো কান ফাটানো শব্দে থমকে দাঁড়ায় সে। ও ঠিক বুঝে উঠতে পাড়ে না শহীদ ভাই অমন দৌড়ে তার সামনে এসে দাড়ালেন কেন। কিন্তু ভাই পড়ে যেতে তার একটু সামনে দাঁড়ানো পিস্তল হাতে ছেলেটাকে পালিয়ে যেতে দেখে বুঝতে আর বাকি থাকে না যে ভাই ওই ছেলেকে ঈশানের দিকে পিস্তল তুলতে দেখে ওর সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। চিৎকার দিয়ে শহীদ ভাইয়ের কাছে যায় ঈশান। শহীদ ভাইয়ের মুখ থেকে ফিসফিস করে বের হয়, ‘বলছিলাম তো, আমাদের আগে তোদের কিছু হবে না।’ চোখ ফেটে কান্না আসে ঈশানের। ‘আমার বাবারে বলিস পারলে যেন মাফ করে দেয়।’

পরদিন শহীদ ভাইয়ের কৃষক বাবার বুকফাটা কান্না দেখে তার বারবার একটা কথাই মনে হচ্ছিল। গুলিটা ওর গায়ে কেন লাগলো না। খুব দ্রুত পরের ঘটনাগুলো ঘটে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর একটা রাস্তার নাম শহীদুল ইসলাম সরণি নাম দেয়া হয়। কয়েকজন ছাত্র বহিষ্কার হয়। জেলে যায়। শহীদ ভাইয়ের বাবা মা কে ১ লাখ টাকার একটা চেক ধরিয়ে দেয়া হয়। সেটা আবার পরদিন ছবিসহ প্রতিটা পেপারে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কতই না সংবেদনশীল শহীদের পরিবারকে সাহায্য করতে। তারও কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে আসে সেসব ছাত্ররা। কিভাবে যেন পরীক্ষাও দিতে থাকে তারা। কেন যে কেউ কিছুই বলে না। অদৃশ্য কোন ইশারায় সবাই ভুলে গেছে। খালি ভোলে না ঈশান। মাঝে মাঝেই এখনো সে অমর একুশেতে বা সেন্ট্রাল ফিল্ডে গিয়ে বসে থাকে। শুকিয়ে যাওয়া কিছু ফুলের দিকে তাকিয়ে থাকে। নতুন ব্যাচ আসে। পুরান ব্যাচ যায়। শহীদুল ইসলাম সরণি এখন শুধু একটা রাস্তার নাম।

প্রতি বছর বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এভাবে একজন দুইজন শহীদুল হারিয়ে যায়। জীবনের রাজনীতিতে এরা ব্যর্থ হয়ে সবার স্মৃতি থেকেও কিভাবে যেন মুছে যায়। তা না হলে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে এত ছাত্র সহিংসতায় মারা গেল, তাদের কথা কেউ বলে না কেন?? তাদের কথা, তাদের পরিবারের কথা, সেই স্বপ্নগুলোর কথা... কেউ কখনও কোন আলোচনায় তোলে না!! বিচারের দাবি না হয় বাদই দিলাম। মনেই তো রাখে না কেউ!!! বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় ফুল হয়ে পা রাখলেও এরা প্রস্ফুটিত হতে পারে না। শুকিয়েই ঝরে যায়...

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৪৭

জোহরা উম্মে হাসান বলেছেন: খুব ভালো লাগলো আর সেই সাথে বাড়লো শঙ্কাও ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় ফুল হয়ে পা রাখলেও এরা প্রস্ফুটিত হতে পারে না। শুকিয়েই ঝরে যায়...
মন গভীর বেদনায় ভরে গেল , ভরে যায় হরদম !



৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ভোর ৪:০৮

মুশফিক আব্দুল্লাহ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। বছর তিনেক আগে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে জুবায়ের নামের একজন ছাত্র প্রতিপক্ষের হামলায় মারা যান। কিন্তু অভিযুক্তদের আজও কিছু হয় নি। ক্যাম্পাসে একটি 'জুবায়ের সরণি' আছে। জুবায়েরের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেয়া হয়েছে, কিন্তু আসামিরা ঠিকই কিভাবে কিভাবে যেন পরীক্ষা দিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে বের হয়ে গেছে। কারও আদৌ কোন শাস্তি হয় নি। এখনো মামলা চলছে। সবসময় এমনই হয়।

ভালো থাকবেন।

২| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৩৯

কলমের কালি শেষ বলেছেন: লেখাটি পড়ে ভালও লাগলো আবার অনেক খারাপও লাগলো । :| :(

একটি সুন্দর স্মৃতিচারনমূলক লেখা উপহার দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ । :)

০১ লা অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১২:৪১

মুশফিক আব্দুল্লাহ বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। :) :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.