নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্যকে সত্য বলে মানতে শিখেছি, তাই সত্যের কথা বলতে এসেছি।

মুসলিম বাঙ্গালি

মুসলিম বাঙ্গালি › বিস্তারিত পোস্টঃ

আবেগ VS ইসলাম বৃত্তে আটকা পড়া মুসলিম! পর্ব-২

০৯ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১২:৩০





বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম



লেখার শুরুতে একটা কথা খুবই বিনীতভাবে বলতে চাই আমি ইসলামের কোন আলেম নই, শায়খ নই অতি সাধারণ একজন মুসলিম। আমি আমার কিছু মত প্রকাশ করতে এই লেখাটা লিখছি।শুরুতেই একটা ছোট্ট গল্প বলি। তিনটা গরুর গল্প। দুইটা কাল, একটা সাদা। তারা তিনজন একসাথে থাকে বলে নেকড়ে আক্রমণ করতে সাহস পায়না। কিন্তু এর মাঝে কাল দুইজনের মনে একটা ধারণা চলে আসল। তারা ভাবল সাদা গরুর জন্য তাদেরকে দূর থেকে সহজেই identify করা যাচ্ছে। এতে তাদের বিপদের সম্ভাবনা বেশী। তাই তারা সাদা গরুটিকে তাদের দল থেকে বের করে দিল। তিনজনের দল ভেঙ্গে গেল। এতে একা পেয়ে নেকড়ে সাদা গরুটিকে খেয়ে ফেলল। তারপর বাকি দুইটারও একই পরিণতি হল। গল্পটা কেন বললাম সেটা লেখার শেষের দিকে বলব তাঁর আগে আসেন কিছু খোশগল্প করি………



১। টাইটানিক মুভিটা দেখেনি এরকম মানুষ মনে হয় খুব কম। এই মুভিটা মানুষ এখনো মনে রেখেছে তাঁর অন্যতম কারণ এর ইমোশনাল attraction. এখনো মানুষ জ্যাকের জন্য আফসোস করে। এখনো মানুষ my heart will go on এর ফ্লোটের মিউজিক মোবাইল রিংটোন দেয়। এই মুভির শেষের দিকে একটা দৃশ্য আছে। জান বাঁচাতে সবাই ছুটছে, ছোট বোটে উঠতে সবাই মারামারি শুরু করে দিল। সিদ্ধান্ত হল নারী আর শিশুরা আগে উঠবে। একজন তাঁর স্ত্রী আর দুই শিশুকে নৌকায় তুলে দিল কিন্তু বাবাকে ছেড়ে যেতে দুই সন্তান আর তাঁর স্ত্রী খুব কান্নাকাটি করছে। তারপরও ঐ মানুষটি জোর করে তাদের নৌকায় তুলে দিল। তাঁর পাশে নায়িকাকেও তুলে দিল নায়ক। জাহাজে নায়ক আর সেই বাবা পাশাপাশি বিমর্ষ মুখে দারিয়ে আছে আর নৌকায় নায়িকা আর ঐ ব্যক্তির পরিবার পাশাপাশি। নৌকা নামছে ক্যামেরা একবার জাহাজে একবার নৌকায় আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে my heart will go on. মন ভিজে উঠে তাইনা??? এই মুভির কথা বলার কারণ আমরা সবাই এধরনের মুভিগুলো ইমুশনের জায়গা থেকে দেখি। ইমুশনের জায়গা থেকে দেখি বলে চতুর কারিগরেরা মানুষের আদর্শকে ইমুশন দিয়ে কিনে নেয়। আবেগের কাছে আদর্শ বিক্রি করি বলে টাইটানিক ছবিতে জ্যাক আর রোজের নোংরা শারীরিক সম্পর্কের মত ব্যাপারগুলো আমাদের কারো মাথায় নেই। যে একটা দৃশ্য বললাম এরকম অনেকগুলো দৃশ্য দেখে চোখ মুছতে মুছতে আমি অনেককেই ছবি শেষে ঝর ঝর করে কাঁদতে দেখেছি। exactly এই বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব আজকের হিন্দি সিনেমা, সিরিয়াল, ক্রিকেট- ফুটবল, মূল্যবোধ নৈতিকতা বিধ্বংসী হাজারো ইস্যুতে। আবেগের কাছে আমরা অতি সুক্ষভাবে আদর্শ বিক্রি করি। আবেগি সেই মানুষগুলোর মুখেই তাই আদর্শশূন্য মগজপ্রসুত বুলি, “একটা ছেলে একটা মেয়ে লিভ টুগেদার করবে___ তো কি হইছে” “মুসলিমরা পূজায় শরীক হবে___ তো কি হইছে?” “বাড়ীর মাইয়ারা হাফ প্যান্ট পইরা বাইরে যাবে___ তো কি হইছে”। that’s the problem.



২। সবচেয়ে ভয়ংকর সমস্যা হল আদর্শ বিকিয়ে দেওয়ার এই সস্তা আবেগ যখন দ্বীন ইসলামে ঢুঁকে পড়ে। কয়েকটা উদাহরণ দিই। আমি সহ অনেক মুসলিম যুবকের কথা জানি যাদের দ্বীনের পথে প্রথম অনুপ্রেরণা জাকির নায়েক। কিন্তু জাকির নায়েকে প্রতি সমর্থন রাখা একটা বড় অংশই আবেগি। তাদের কাছে “জাকির নায়েক কি বলে” এটার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ “এই মানুষটা এত কিছু মনে রাখে ক্যামনে!!”! “জাকির নায়েকের কথা থেকে কিছু শিখি” এটার চেয়ে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ “জাকির নায়েকের কিছু কথা, যুক্তি কোট করে আসর মাতানো”!! সিরিয়াসলি! একেবারে চোখের সামনে এই ধরনের মানুষগুলোকে দেখেছি ইসলামের সাথে যাদের কোন সম্পর্ক নেই কিন্তু আসর মাতাতে এরা ইসলামকে ভাড়া করে। আমি নিজেই অনেক আড্ডায় দেখেছি জান্নাত-জাহান্নাম, কেয়ামতের আলামত, ইমাম মাহাদি, পুলসিরাত, হুর এই বিষয়গুলো নিয়ে মুখরোচক গল্প করছে বন্ধুরা। সবাই একেবারে সিরিয়াস। কিন্তু সেই মুহূর্তে নামাজের টাইম হইলে “দোস্ত প্যান্ট ঠিক নাই।“ এগুলো যেন বিনোদন। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছা করে ছেলেগুলাকে চিৎকার করে বলি এগুলো মুসলিমদের বিশ্বাস, এগুলো আমাদের ঈমান। এগুলো ঠাকুরমার ঝুলি নয়, রূপকথার গল্প নয়, এগুলো সস্তা আবেগে ভেসে যাওয়া নয়। এগুলো ইসলাম। মুসলিমদের আদর্শ___আবেগ নয়!



৩। আমি যখন ছোট তখন লাদেন বোমা বলে একটা জিনিস খুব জনপ্রিয় ছিল। একটা ছোট্ট খেলনা যার ভেতর বারুদ থাকে, উপর থেকে নিচে ফেললে বারুদের আওয়াজ হয়। ক্যালেন্ডারে লাদেনের ছবি থাকতো, তালেবানদের জিহাদের দৃশ্য থাকতো। মানুষ খুব আগ্রহ আর রোমাঞ্চ নিয়ে এসব কিনত। তাদের কাঁধের এ কে ৪৭ দেখে আমার মত ছোট ছোট বাচ্চারা শিহরিত হত। লোকমুখে লাদেনের রুপকথা শুনতাম। তারা নাকি এই করে, তাদেরকে দুনিয়ার কেউ খুঁজে পাবেনা, তারা মাটির অনেক নিচে গর্তের ভেতর থাকে ব্লা ব্লা ব্লা। এখন আমার বয়স ২১। অনেক বড় হয়েছি তাইনা?? এখন ছোটবেলার সেই রূপকথার লাদেন, তালেবান, আল কায়দা, জিহাদ এসব নিয়ে জানলাম। আর ছোটবেলার সেই আবেগের কথা মনে করে হাসি পায়। এই জিহাদিরা ঠিক কি ভুল সেটা আল্লাহ আলাম কিন্তু আমরা জানি এটা একটা আদর্শ, এটা একটা যুদ্ধ হক্ব আর বাতিলের। হাতে এ কে ৪৭ নিয়ে দাড়িওয়ালা এই সেই মানুষগুলো হলিউড ছবির সুপার হিরো নয়। গায়ে দশ বিশটা গুলি লাগলেও এরা বেঁচে যায়না, ঘণ্টা ধরে গুলি চালালেও বাংলা ছবিতে নায়কের বন্ধুকের গুলি শেষ হয়না কিন্তু এদের গুলি শেষ হয়। এদের শরীর থেকে লাল রক্ত ফিনকি দিয়ে বের হয়। এরা মরে, এরা মারে। এটাই তাদের আদর্শ। আদর্শ হক্ব আর বাতিলের। মজার বিষয় হচ্ছে এদেশে আপনি ১০ জন ম্যাঙ্গ পিপলের কাছে মতামত চান তারা বলবে “লাদেন?? ব্যাটা একটা বস!” আদর্শের বিষয়টা এদের জানা নেই। এদের আবেগ আছে! সেই আবেগ এখনো লাদেন বোমায় আটকে আছে, ক্যালেন্ডারে লাদেনের ছবি দেখতে দেখতে এরা এই মানুষটাকে ভালবাসতে শিখেছে। টিভিতে টুইন টাওয়ার ধ্বংস হওয়া দেখে এরা লাদেনের বীরত্ব বুঝেছে। এদের কাছে হক্ব বাতিল কেন, কীভাবে এসবের কোন উত্তর নেই, আগ্রহ নেই। আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলা যে কেউ এদের কাছে “ ব্যাটা একটা বস!!”। আমেরিকাকে এরা মনে প্রানে ঘৃণা করে কিন্তু আমেরিকার গ্রিন কার্ড এদের স্বপ্নের সিঁড়ি। অদ্ভুত! যারা হক্ব আর বাতিল চেনে তাদের কাছে ইসলামের “জিহাদ” যেখানে একটা “আদর্শ” ঠিক একই রক্ত মাংসের মানুষের অন্য একটা অংশের কাছে এটা স্রেফ একটা ফ্যান্টাসি, বিনোদন____ লাদেন বোমার বারুদের একটু আওয়াজের বিনোদন! আবেগ আর আদর্শ এভাবেই পৃথক! আমরা কেউ বুঝি, কেউ বুঝিনা, কেউ বুঝতেও চাইনা!!



৪।কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন রায় ঘোষণার পর শাহবাগ আন্দোলন নামে একটা আন্দোলন শুরু হয় যেটা বর্তমানে এদেশের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই আন্দোলনের শুরুর দিনেই আমি শাহবাগে ছিলাম তখন হাতে গোণা কিছু বাম ছাত্র সংগঠনের ছেলে মেয়ে ঢোল তবলা মাইক নিয়ে বসেছে মাত্র! সেই হাতে গোণা কয়েকজনের জন্য দেশের সব টিভি চ্যানেলের ছুটে আসা, লাইভ টেলিকাস্ট দেখেই আমি বলছিলাম সামথিং রং! ধীরে ধীরে খুবই সুক্ষভাবে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে গড়ে উঠল শাহবাগ চত্বর।কেউ রাজাকারের ফাঁসি চাইতে, কেউ বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে, কেউ টিভি চ্যানেলে নিজের চেহারা মুবারাক দেখাতে ছোটে আসা শুরু করল শাহবাগে। শুরু হল বইমেলা, মাঝে ছিল বসন্ত উৎসব, সরস্বতী পূজা, ভালবাসা দিবস। সবকিছু সামনে রেখে তরুণ তরুণীদের কেন্দবিন্দু হয়ে গেল শাহবাগ। পকেটের টাকা খরচ করে যে বাবা মায়েরা ছেলে মেয়েকে ঢাকা শহরে পড়ালেখা করতে পাঠায় অভিভাবকশূন্য সেই ছেলে মেয়েরা “শাহবাগ আন্দোলনের” সংগ্রামী অজুহাতে পেয়ে গেল সাহবাগ, স্বীকৃত পতিতালয় সোহরাওয়ারদি উদ্যান আর এর আশেপাশে রাত কাটানোর সুযোগ! ‘তুই রাজাকার, তুই রাজাকার” হয়ে গেল একটা কমন জোকস। আবেগে আবেগে মাখামাখি! বিশ্বাস করতে এতটুকু কষ্ট হয়না এখানে কোথাও আদর্শের ছিটেফোঁটাও নেই। আছে আবেগ। ও লাফাচ্ছে আমিও লাফাব। কেন?? জানিনা! “তুই রাজাকার___ তুই রাজাকার”। কোলের শিশুকে নিয়ে শাহবাগের রাস্তায় পিকনিক পিকনিক ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়ানো হিন্দি সিরিয়াল দেখা এই মায়েরা কি বোঝে দেশ, যুদ্ধাপরাধ, ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই দিয়ে?? যাদের ফাঁসি চাই বলছে এরা তাদের চিনেই না। এই নামগুলো শাহবাগে এসে আর পত্রিকা, টিভিতে দেখে চিনেছে। মাইকে স্লোগান দেওয়া পিচ্ছি মেয়েটা সে কি বোঝে এসবের?? পড়ার টেবিলে ছবি এঁকে যে মজা সে পায় সেই মজাই সে পাচ্ছে এই উৎসব উৎসব পরিবেশে হৈ হুল্লোড় করে। মুসলিমদের এই আবেগ রাসুল (সাঃ) কে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করা কুলাঙ্গার ব্লগারগুলোকেও তাদের কাছে বানিয়ে দিল হিরো। নেচে গেয়ে হৈ হুল্লোড় করে বেড়ানো ছেলে মেয়েগুলোর হাতে যখন বামদের লাল পতাকা ধরিয়ে দেওয়া হল “তুই রাজাকার তুই রাজাকার” স্লোগানে এরা ভুলেই গেল হাতে কি!!! রাজীব নামের এক ব্লগারের মৃত্যুতে রাসুল (সাঃ) এর অপমান ভুলে আদর্শ বিকিয়ে দেওয়া আবেগে এই কুলাঙ্গার আমাদের মুসলিমদের কাছে হয়ে গেল “ শহীদ”। দুঃখ দুঃখ দুঃখ! এই দুঃখ কোথায় রাখি! যুদ্ধাপরাধের সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ডের বিচারে শাহবাগে দেখা গেল কয়জন গলা জড়াজড়ি করে কাঁদছে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় জন্মের পর থেকে যে মানুষটাকে এরা চিনেই না টিভি, পত্রিকায় আর কিছু সুশীলের চমক কথায় এরা কি পরিমাণ ঘৃণা পোষণ করছে তাঁর প্রতি। আবেগে চোখের পানি আসে। আমি এসবকে আদর্শ বলিনা____ বলি আবেগের কাছে বিক্রিত মনুষ্যত্ব! বিরিয়ানির কাছে এদের মগজ বিক্রি হয়। একটু মিডিয়া কাভারেজে এদের আবেগ বিক্রি হয়, তাগুতের কাছে এদের আদর্শ বিক্রি হয়। এরা গলা ফাটায়, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা চাই” “ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ চাই”। এরা মুসলিম! সরিষা দানা পরিমাণ ঈমান নিয়ে এরাও জান্নাতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে! আহা আবেগ! আহা আহা! ৪। এবার কাল আর সাদা গরুর কাছে ফিরে যাই। গত কিছুদিন ধরে ইসলামের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র আর অত্যাচার, মিথ্যাচার চলছে তা নতুন করে কিছু বলতে চাইনা। ইসলামের এই চরম সংকটে মুসলিমদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যে কোন মুল্যে। আমাদের কেউ হয়ত সাদা কেউ কাল। কিন্তু নিজেদেরকে পৃথক করে অত্যাচারিত হওয়া ছাড়া কিছু করার নেই। নেকড়েরা কিন্তু সুযোগ বুঝে আছে। But______ no কম্প্রোমাইজ! এতক্ষণ যে আবেগের ফেরিওয়ালাদের কীর্তন গাইলাম আমরা মুসলিমরা সেই দলের হতে পারিনা। যে আবেগ আছে বলেই আমরা মানুষ। মনুষ্যত্বের বোধটুকু আছে বলে আমরা আশরাফুল মাখলুকাত। এই আবেগের সাথে প্রবৃত্তির সুন্দর সম্পর্ক। আবেগ প্রায়ই প্রবৃত্তি পূজার দিকে টেনে নেয়। ভাল করে খেয়াল করলে দেখবেন ইসলাম এই আবেগ আর প্রবৃত্তির মাঝে একটা ব্যারিকেড হিসেবে কাজ করে। যারা ইসলাম বোঝে, দ্বীন ইসলামকে যারা একটা জীবনব্যবস্থা হিসেবে মেনে নিয়েছে তারা তাদের মত আচরণ করতে পারেনা যারা দ্বীন ইসলাম থেকে নিজেদের বোধকে বিচ্ছিন্ন করেছে। যারা দ্বীন ইসলাম থেকে সরে এসেছে। যারা ইসলামের ছায়ায় থাকবে তাদের থাকবে আল ওয়ালা ওয়াল বারা, তাকওয়া, ধৈর্য, সহনশীলতা আর থাকবে সবকিছু for the sake of ALLAH. আমি কি মনে করি সেটার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইসলাম কি মনে করে! কয়দিন আগে ট্র্যাডিশন আর আদর্শ নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম। আবারো বলছি ইসলাম কারো সস্তা আবেগ নয়, ট্র্যাডিশন নয়____ এটা আদর্শ। যতক্ষণ এটাকে কেউ আদর্শ হিসেবে নিতে পারেনি ততক্ষণ এর প্রতি সৎ থাকা যায়না। যে কোন মুল্যে নিজের জাত ঠিকিয়ে রাখার একটা জিত হতে পারে আবেগ, নিজ খানদানের প্রতি অন্ধ আনুগত্য কিন্তু সেটা আদর্শ নয়। আমার গ্রামের বাড়ী এদেশের একটি এলাকায় যেখানে সারা বাংলাদেশ উল্টে গেলেও জামাত শিবির ক্ষমতায় থাকবে। আমার ছোট চাচা কট্টর জামাত সমর্থক। মাওলানা সাইদি, নেজামি, গোলাম আযম বলতে পাগল। কিন্তু উনি নামাজ পড়ছেন এরকম স্মৃতি আমার মেমোরিতে নেই বললেই চলে। ইসলামের সাথে তাঁর নুন্যতম সম্পর্কও নেই। আমার এই চাচার মত একটা বিরাট অংশের মানুষের কাছে জামাত-শিবির একটা আবেগের নাম। একটা দলের নাম যাদের জন্য পাঁচ বছর পর পর আঙুলের খোঁচা মেরে দিয়ে আসাটাকে এরা ইসলামের সেবা মনে করে, ইসলামের সমর্থন মনে করে। তাদের এই অন্ধ আবেগ কেউ পরিবর্তন করতে চায়না। চাইলে যে ভোট কমে যাবে। আবেগকে ধরে রাখা প্রয়োজন বলে দেশের অন্য কোথাও কেউ তাদের নেতাকে চাঁদে না দেখলেও এই অঞ্চলের সব মানুষ দেখে ফেলেছে। দলপ্রীতি তৈরি করার আগে জানা উচিত সেই দলের loyalty কোনদিকে। আবেগ আর ট্র্যাডিশন ভেঙ্গে আদর্শে উন্নীত হতে না পারলে আবেগকে যারা ইসলাম বলে চালাতে চায় তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আমরা কথা বলব। কয়দিন আগে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এই আবেগকে সংবরণ করে জনগণের জানমালের ক্ষতি করে এমন আন্দোলন নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবার একটা অনুরোধ ছিল।ঘরে বসে বসে তাদের “জিহাদ” কে নিয়ে বলছি বলে তিরস্কার ছাড়া কোন বুঝদারের মন্তব্য পেলাম না। রাসুল (সাঃ) এর সময়ের বিভিন্ন যুদ্ধের সাথে তুলনা করে জ্বালাময়ী কথাবার্তায় মানুষের কিছু সিম্প্যাথি পাওয়া যায় কিন্তু বিষয়টা গভীরভাবে চিন্তার অবকাশ রাখে। যে যুবকরা প্রান দিচ্ছে সেটার আলটিম্যাট goal কি! আমি মনে প্রানে চাই আল্লাহ এই তরুণ প্রাণগুলোকে কবুল করে নিন যদিও আমি কারো মনের খবর জানিনা। কিন্তু রোজ হাশরের মাঠে যখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জন্য প্রাণ দিয়েছিল?? তারা কি বলবে?? রাস্তায় গাড়ী ভাংতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছি? দলের নেতাদের বাঁচাতে রাস্তায় গিয়ে প্রাণ দিয়েছি?? আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক, সবজান্তা।প্রাণ দিয়ে দেব বলে প্রাণ দিয়ে দেওয়া যায় কিন্তু সেই রহমতের প্রাণ দিয়ে দেওয়ার জবাবদিহি করতে হতে পারে। প্রাণ দেওয়ার ফিকাহ বুঝে প্রাণ দেওয়া উচিত। দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা বুঝে প্রাণ দেওয়া উচিত। কাউকে বাতিল করে দিচ্ছি না, কাউকে ছোট করছিনা কিন্তু আমাদের একটা নির্দিষ্ট goal থাকা উচিত। একটা destination থাকা উচিত। একটা লক্ষ থাকা উচিত। যে লক্ষের শেষ চূড়ায় থাকবে খিলাফার পতাকা__ জাতীয়তাবাদের রঙিন কাপড় নয়। যে লক্ষের loyalty থাকবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রতি__ কোন কুফর শক্তির প্রতি নয়, কুফরের কোন দেখানো পথে নয়। যে ছেলেগুলো মারা গেল কত উত্তম হত যদি তারা এক আল্লাহ্র খিলাফার জন্য প্রাণ দিত। কত নিষ্পাপ হত সেই রক্ত। কত গর্বিত হত সেই মৃত্যু। তাহলে এখন কি?? আমি জানিনা! এই মৃত্যুকে প্রশ্নবিধ্য করার অনেক কিছু আছে সেদিকে যেতেও চাইনা। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাদের কবুল করে নেন। তবে আমি বিশ্বাস করি যে নেতাদের বাঁচাতে আজ এতোগুলো মানুষ রাস্তায়, এতগুলো তাজা প্রাণের রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাজপথ তাঁর ছিটেফোঁটা যদি হত তাহলে এদেশে রাসুল (সাঃ) কে গালমন্দ করার সাহস কেউ পেতনা। এদেশে কেউ হিজাব পরতে বাধা দিতে পারত না। আমরা ভুল করছি যখন আবেগ যেদিকে নিয়ে যায় সেদিকে যাচ্ছি। ইসলামের জন্য আবেগ থাকা আর আবেগ দিয়ে ইসলামকে জাহির করা এক কথা নয়। আপনাদের নেতাদের জন্য আপানদের আবেগ থাকতেই পারে, ভালবাসা থাকবেই কিন্তু সে আবেগ রাস্তায় নেমে ভাংচুর করতে দিলে দয়া করে সেখানে ইসলামের বিজয় খুঁজবেন না। দয়া করে সেখানে আল্লাহ্র রাসুল (সাঃ) এর আদর্শ টেনে আনবেন না___ প্লিজ। এক শিবির ভ্রাতাকে বলতে দেখলাম, “রাসুল (সাঃ) এর সময় হরতাল ছিল না। হরতালের মত কিছু থাকলে রাসুল (সাঃ) ও সেটা করতেন”। আহা আবেগ!! আবেগ আমাদের কত সাহসী বানিয়ে দেয়। আল্লাহ্র রাসুল (সাঃ) কি করতেন সেটাও আমরা ১৪০০ বছর পর থেকে অতীতে গিয়ে বলে দেই!!! আরেক ভাই তাদের নেতার বিরুদ্ধে অন্যায়কে “বাইয়াতে রিযওান” এর সাথে মিলিয়ে সেই বাইয়াত রক্ষা করার জন্য তাদের এই আত্মাহুতি বলে জানালেন। অবাক হতে হয়। রাসুল (সাঃ) এর দিনের পর দিন অপমানে এদের মাথাব্যথা মানব্বন্ধনে আটকে থাকে আর এক নেতার জন্য দেশব্যাপী ইসলামের আদর্শের সাথে বিপরীত কার্যকলাপে এরা বইয়াতে রিযওান, উহুদের যুদ্ধ টেনে এনে নিজেদের কাজের ইসলামাইজেশন খুঁজে। আপনাদের প্রতি অনুরোধ শাহবাগিদের আবেগ কিনে যেমন তাদের পথভ্রষ্ট করা হচ্ছে আপনারাও সেই আবেগের বশে যা খুশি তা করতে যাবেন না। মুসলিম জাতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম দুনিয়াতে আসতে থাকবে এবং প্রত্যেকে তাঁর উপর আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালা থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে থাকবে, কিন্তু মুসলিম জাতি ভরসা ও নির্ভর করবে একমাত্র আল্লাহ্র উপর। ধৈর্য ধরবে। পরিকল্পনা নিয়ে কুফর শক্তির মোকাবেলা করবে__ আবেগ দিয়ে নয়। রাসুল (সাঃ) এর মৃত্যুর পর মুসলিমরা ধৈর্যহারা হয়ে পড়ল। ওমর (রাঃ) উন্মুক্ত তরবারি নিয়ে ছুটাছুটি শুরু করল যেন সবকিছু শেষ করে দেবে। আবু বকর বেরিয়ে এলেন আর ওমরকে বসতে বললেন। ওমর বসতে অস্বীকার করলেন। তখন আবু বকর বললেন, “অতঃপর আপনাদের মধ্যে যারা মুহম্মদের ইবাদাত করতেন, তিনি তো ইন্তিকাল করেছেন। আর যারা আপনাদের মধ্যে আল্লাহ্র ইবাদাত করতেন জেনে রাখুন__ আল্লাহ চিরঞ্জীব, কখনো মরবেন না। এরপর আবু বকর (রাঃ) মুসলিমদের লক্ষ করে কুরানের এই আয়াতটি তেলওাত করেন,



” আর মুহাম্মাদ কেবল একজন রাসুল। তাঁর পূর্বেও নিশ্চয় অনেক রাসুল বিগত হয়েছে। যদি সে মারা যায় অথবা তাঁকে হত্যা করা হয়, তবে তোমরা কি তোমাদের পেছনে ফিরে যাবে?? আর যে ব্যক্তি পেছনে ফিরে যায়, সে কখনো আল্লাহ্র কোন ক্ষতি করতে পারেনা। আর আল্লাহ অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেবেন।” [সূরা আলে ইমরানঃ ১৪৪]



এই আয়াত শুনে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, “আল্লাহ্র কসম! আবু বকর (রাঃ) এর পাঠ করার পূর্বে লোকেরা যেন জানত না যে, আল্লাহ তায়ালা এরুপ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন”সুবহানাল্লাহ! আবেগ তাদের এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছিল যে তারা এই বিষয়ে আল্লাহ্র আয়াতের কথাও ভুলে গিয়েছিল। মুসলিমদের সে আবেগে বাধ দেওয়ার জন্য তখন হজরত আবু বকর (রাঃ) এর মত মানুষেরা ছিল। কিন্তু আজ তাদের কেউ নেই। আজ আমরা আবেগের আতিশয্যে রক্তের বন্যা বুঝি কিন্তু সেই রক্তের কোন অর্থ খুঁজি না। তাই আমার ভাইদের প্রতি অনুরোধ , এই ভাইদের যারা প্রাণ দিতে রাস্তায় নামাচ্ছেন তাদের প্রতি অনুরোধ শান্ত হন, ধৈর্য ধরুন। এভাবে হয়না। ছেড়ে দিন কুফরদের দেখানো পথ। এক খিলাফা, আল্লাহ্র আইনের আন্দোলন যদি না হয় তাহলে অন্য কোন আন্দোলনের জন্য অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দেবেন না আল্লাহ্র দোহাই। এই হাদিসটা ভালো করে খেয়াল করে দেখবেন। খুব খেয়াল করে……



আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেনঃ



যে ব্যাক্তি আমীরের (শাসকের) আনুগত্য তুলে নেয় এবং জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়- অতঃপর মৃত্যুবরণ করে, সে অবশ্যই জাহেলী মৃত্যুবরণ করলো। আর যে ব্যাক্তি স্বার্থপরতার পতাকার নিচে যুদ্ধ করে চাই সে গোষ্ঠীপ্রীতির খাতিরে হোক, বা স্বজনপ্রীতির আহ্বানে কিংবা স্বজনপ্রীতির সহযোগিতায় হোক (মোটকথা দীনের জন্য নয় বরং নিজের খানদানের জন্য) এ অবস্থায় তার নিহত হওয়াটা জাহেলী অবস্থায় নিহত হওয়ার শামিল। আর আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যাক্তি আমার উম্মাতের উপর আক্রমণ করে, তাদের নেককার ও বদকার সবাইকে নির্বিচারে হত্যা করে, এমনকি তাদের ঈমানদারদেরও রেহাই দেয় না এবং তাদের প্রতি প্রদত্ত (নিরাপত্তার) চুক্তিও পূরণ করে না- আমার সাথে এই ব্যাক্তির কোন সম্পর্ক নেই এবং এই ব্যাক্তির সাথেও আমার কোন সম্পর্ক নেই। [সহীহ মুসলিমঃ ৪৬৩৫]



এই হাদিসটি নিয়ে আসার কারণ এখানে যাদের কথা বলা হয়েছে তারা দ্বীন ইসলামের চেয়ে নিজেদের বুঝকে উত্তম মনে করে, দ্বীন ইসলামের চেয়ে নিজেদের জন্য যুদ্ধ করে, নিজেদের জাত ঠিকিয়ে রাখার জন্য এরা ইসলামের ক্ষতি করে।



শেষকথাঃ আবারো বলছি এই নোট কোন শায়খের ফতওয়া নয়। কেউ যদি মনে করে এটা জামাত শিবিরের সমালোচনা করার জন্য লেখা তাহলে এতবড় লেখাটার উদ্দেশ্য বৃথা যাবে আর আমি মনে কষ্ট পাব। আমি শুধু বোঝাতে চেয়েছি তারা যে যুক্তিতে অহিংস আচরণ করছে সেটা সঠিক যুক্তি নয়। এটা আবেগ। আবেগ থেকে তারা যুক্তি বের করছে। ইসলাম আবেগ দিয়ে চলেনা, যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে চলেনা___ ইসলাম চলে যেভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) বলেছেন সেভাবে। আল্লাহ আমাদের বোঝার তৌফিক দান করুন। আবেগের আতিশয্যে নয়, ট্র্যাডিশনের অন্ধ আনুগত্যে নয় আমার মুসলিম ভাইয়েরা এক খিলাফার পতাকাতলে একতাবদ্ধ হোক। ইসলামের জন্য জীবন দিয়ে দিচ্ছি এটা ভাবার আগে ইসলাম নিয়ে বাঁচতে শিখি। দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিখি। শেষ করার আগে শায়খ মউদুদির কিছু কথা দিয়ে শেষ করছি………



“এ বিধান [ইসলাম] ভীরু কাপুরূষের জন্য অবতীর্ণ হয়নি; নফসের দাস ও দুনিয়ার গোলামদের জন্য নাজ়িল হয়নি; বাতাসের বেগে উড়ে চলা খড়-কুটো, পানির স্রোতে ভেসে চলা কীট-পতঙ্গ এবং প্রতি রঙ্গে রঙ্গীন হওয়া রঙ্গীনদের জন্য একে অবতীর্ণ করা হয়নি। এ এমন দুঃসাহসী নর-শার্দুলদের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে যারা বাতাসের গতি বদলে দেবার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করে; যারা নদীর তরঙ্গের সাথে লড়তে এবং তার স্রোতধারা ঘুরিয়ে দেবার মতো সৎসাহস রাখে। যারা খোদার রঙকে দুনিয়ার সব রঙের চাইতে বেশী ভালবাসে এবং সে রঙেই যারা গোটা দুনিয়াকে রাঙিয়ে তুলবার দৃঢ় আগ্রহ পোষণ করে। যে ব্যক্তি মুসলমান তাকে নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার জন্য পয়দা করা হয়নি। তার সৃষ্টির উদ্দেশ্যই হলো জীবন নদীকে তার ঈমান ও প্রত্যয় নির্দেশিত সোজা ও সরল পথে চালিত করা। যদি সেই সোজা পথ থেকে নদী তার স্রোত ফিরিয়ে নেয়, আর সেই পরিবর্তিত স্রোতধারায়ই কেউ ভেসে চলতে সম্মত হয়, তো এমন ব্যক্তির ইসলামের দাবী একেবারেই মিথ্যা। বস্তুত যে ব্যক্তি সাচ্চা মুসলমান, সে এই ভ্রান্তমূখী স্রোতের সাথে লড়াই করবে, তার গতি ঘুরিয়ে দেবার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করবে – সাফল্য ও ব্যর্থতার কোন পরোয়াই সে করবেনা। এ লড়াইয়ের যে কোন সম্ভাব্য ক্ষতিই সে বরণ করে নেবে। এমনকি নদীর স্রোতের সাথে লড়াই করতে করতে তার বাহু যদি ভেঙ্গেও যায়, কিংবা শক্তি শিথিল হয়ে পড়ে এবং পানির তরঙ্গাঘাত তাকে আধমরা করে কোন তীরের দিকে ছুঁড়ে ফেলেও দেয়, তবুও তার আত্মা কখনো পরাজয় বরণ করবেনা। তার হৃদয়ে এই বাহ্যিক ব্যর্থতার জন্য এক মুহুর্তের তরেও কোন অনুতাপ জাগবেনা, কিংবা নদীর স্রোতে ভেসে চলা কাফির ও মুনাফিকদের সাফল্যের জন্য ঈর্ষার ভাবধারা প্রশ্রয় পাবেনা।”



বিনীত



অবুঝ বালক

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৯

পাপাই বলেছেন: বাহ্!!! দারুন পোস্ট।

২| ০৯ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:০২

শৌখিন ছেলে বলেছেন: কে বলেছে আপ্নারে এগুলা এখানে লিখতে?অপাত্রে ঢালছেন!১৮+ লেইখা দেখেন,হিটের বন্যা বইয়া যাইব।যাই হোক,খুব দারুন পোস্ট।শুধু মন্তব্যের জন্যই লগিন করলাম।জাযাকাল্লাহ

৩| ০৯ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:০২

ইসলাম রফিকুল বলেছেন: অবুঝ বালককে বলছি, আপনার লেখার হাত ভালো । তবে আপনি যেভাবে ব্লগার রাজীব সহ অন্যদেরকে কুলাঙ্গার-নাস্তিক বলে গালিগালাজ করেছেন সেটা কি ইসলাম সম্মত ? আর সেটা কোন তথ্যের ভিত্তিতে করেছেন ?

৪| ০৯ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:৪২

সেরিব্রাল ক্যাকটাস বলেছেন: রাস্ট্রধর্ম আইন বাতিল করতে হবে

৫| ০৯ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:৪৪

কিছু নেই বলেছেন: খুব ভালো লেখা ভাই।প্রিয়তে নিলাম।
তবে আমার জানামতে ব্লগার রাজিবের লেখালেখির বিষয়ে দ্বিমত আছে।(যতটুকু জানসি আর কি, বিভিন্ন লেখা থেকে)।আশা করি সদুত্তর পাব।
ধন্যবাদ।

৬| ০৯ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:২৭

রওনক বলেছেন: ঠিক বলেছেন "এক খিলাফাত"।
যেকারনে নবীজী সা. বলেছেন "মুলমানরা ৭৩ দলে ভাগ হবে, যার ১ টি ছারা সবাই জাহান্নামি।"
সেই দল হচ্ছে তারা যারা "এক খিলাফাত"-এ বিশ্বাস করে আর অন্যদেরকেও আলাদা করে দেখেনা। খরচ করে আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য, তা অর্থ হোক, শ্রম হোক, সময় হোব বা তার নিজের জীবন।

৭| ০৯ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:৩৫

রওনক বলেছেন: ইসলাম রফিকুল বলেছেন: অবুঝ বালককে বলছি, আপনার লেখার হাত ভালো । তবে আপনি যেভাবে ব্লগার রাজীব সহ অন্যদেরকে কুলাঙ্গার-নাস্তিক বলে গালিগালাজ করেছেন সেটা কি ইসলাম সম্মত ? আর সেটা কোন তথ্যের ভিত্তিতে করেছেন ?
জনাব ইসলাম রফিকুল ভাই, আমরা কাওকে নিজে থেকে নাস্তিক বলতে পারি না। তাই বলে কেউ যদি ইসলাম বিরোধী কোন বক্তব্য প্রচার করে তখন তাকে আর মুসলমান বলার কোন উপায় থাকে কি? যেমন ৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধিনতার বিরোধিতা করেছিলো বলে রাজাকারদের আমরা ৪২ বছর পরে এখনও ফাসিই চাই। এই ৪২ বছর তাদের মনে যাই থাকুক বাংলাদেশের সাথেই তারা ছিলো। যারা ইসলামের কথা দেখলেই গালি দেয়, তারাও কি ইসলামের সাথে আছে?

৮| ০৯ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:১৬

এম.ডি জামান বলেছেন: ইসলাম কারো সস্তা আবেগ নয়, ট্র্যাডিশন নয়____ এটা আদর্শ। যতক্ষণ এটাকে কেউ আদর্শ হিসেবে নিতে পারেনি ততক্ষণ এর প্রতি সৎ থাকা যায়না।

অনেক সুন্দর লেখা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.