নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

www.nafaji.com

বলুনঃ সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল। [১৭:৮১-পবিত্র কুরআন]

নাফাজি

পেশা: সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

নাফাজি › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসলাম, মানবধর্ম ও অন্যান্য ধর্ম

২০ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:০৭

আমাদের সমাজে কিছু ব্যক্তি বিশেষ আছেন যারা ক্রমাগত প্রচার করে বেড়ান যে তারা মানব ধর্মে বিশ্বাসী। সার্বজনীন মানবতায় বিশ্বাসী। সার্বজনীন মানবতার ধর্মটা কী ব্যাখ্যা করে বোঝাবেন? কে রচনা করেছে এটা? এই তথাকথিত মানব ধর্ম স্রষ্টা সম্পর্কে কি বলে? স্রষ্টার প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে কি বলে? কি বলে স্রষ্টার সৃষ্টজগত নিয়ে এবং স্রষ্টার সৃষ্টজগতের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে? কি বলে এই তথাকথিত মানবতার ধর্ম নীতি ও নৈতিকতা বিষয়ে, সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, শাসন ব্যবস্থা ও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে? উত্তর সোজা। কিছুই বলে না। বলবেই বা কি করে এটা তো কোথাও লিখিত নাই। সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের উদ্দেশ্যে তারা এই মানব ধর্মের কথা বলে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেন।



তারা আরো বলে বেড়ায় কোন একটা ধর্মকে সত্য বলে মেনে নিলে অন্যগুলোকে মিথ্যা বলে মেনে নিতে হয় তাই তারা প্রচার করে বেড়ায় সকল ধর্মই সত্য। অত্যন্ত হাস্যকর ও ফাঁপা যু্ক্তি। কি করে একেশ্বরবাদ (ইসলাম, ইয়াহুদী), দ্বিতত্ত্ববাদ (জোরাস্টার), বহু ঈশ্বরবাদ (সনাতন ধর্ম), নাস্তিক্যবাদ (জৈন ধর্ম) ও স্রষ্টা সম্পর্কে নীরবতা পালনকারী (বৌদ্ধ ধর্ম, কনফুসিয়ান ধর্ম) এই সবগুলো মতবাদই সত্য হতে পারে? তাহলে কি হতে পারে? যে কোন একটি মতবাদ সত্য। আর এটা বের করতে হবে যুক্তি দিয়ে। তারপর একে পালন করতে হবে, অনুসরণ করতে হবে ও ভালোবাসতে হবে। অন্ধ বিশ্বাস আর ফাঁপা বুলি মানুষকে সত্যের পথ দেখায় না।



আমি মুসলিম তাই আমি বিশ্বাস করি ইসলাম সত্য। চলুন একটু জানার চেষ্টা করি অন্যান্য ধর্ম ও আদর্শের ব্যাপারে ইসলাম কি বলে। এতটুকু তো আমরা সবাই কমবেশী জানি যে ইসলাম একটি একেশ্বরবাদী আদর্শ এবং এটা মানুষের ব্যক্তি জীবণ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবণ পর্যন্ত সমাধান দিয়েছে। পবিত্র কুরআন বলে, আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একেকজন রসূল রয়েছে। যখন তাদের কাছে তাদের রসূল ন্যায়দন্ডসহ উপস্থিত হল, তখন আর তাদের উপর জুলুম হয় না। [১০ নং সূরা ইউনুস : আয়াত নং ৪৭ পবিত্র কুরআন] পবিত্র কুরআনে আরো উল্লেখ আছে, আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে। [১৬ নং সূরা আন নাহল: আয়াত নং ৩৬ পবিত্র কুরআন] পবিত্র কুরআন আরো বলে, আমি আপনার পূর্বে অনেক রসূল প্রেরণ করেছি, তাদের কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করিনি। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রসূলের কাজ নয়। যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন ন্যায় সঙ্গত ফয়সালা হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। [৪০ নং সূরা গাফির: আয়াত নং ৭৮ পবিত্র কুরআন] এ থেকে বোঝা গেল যে কুরআন বলছে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পূর্বেও এই পৃথিবীতে আরো অসংখ্য নবী ও রাসূল পৃথিবীতে একেশ্বরবাদ প্রচার করেছিলেন, প্রচার করেছিলেন ইসলামের বাণী। নুহ (আঃ) , ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর দুই পুত্র ইসমাঈল (আঃ) এবং ইসহাক (আঃ) , মুসা (আঃ) ও তাঁর ভাই হারুন (আঃ), জন দ্যা ব্যাপ্টিস্টা বা ইয়াহিয়া (আঃ), নাজারাথের যীশু বা ঈসা (আঃ) ও মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রচারিত বাণী একই।



ইসলাম বলে সকল সম্প্রদায়ের কাছে নবী ও রাসূল পাঠানো হয়েছে এবং যখন কোন সম্প্রদায় নবীদের শিক্ষাকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে তখন তাদের কাছে পুনরায় নবী ও রাসূল পাঠানো হয়েছে। যেমন, ইয়াহুদী সম্প্রদায়। আর এই ধারাবাহিকতায় মুহাম্মাদ (সাঃ) কে পাঠানো হয় শেষ নবী ও রাসূল হিসেবে সকল সম্প্রদায়ের জন্য। তার কাছে পাঠানো হয় শেষ ঐশী বিধান পবিত্র কুরআন। যেই বিধান অবিকৃত আছে। এটাই এর সত্যতার মাপকাঠি। আরবী ভাষায় লিখিত সকল কুরআনের কপি একই রূপ। কেউ কোন আয়াত বা অনুচ্ছেদ সংযোজন করেনি কেউ তা থেকে বাদও দিতে পারেনি। আজ প্রায় ১৪০০ বছরের বেশী সময় ধরে তা আছে অবিকৃত। তুরস্কের তোপকাপি যাদুঘরে সংরক্ষিত পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে প্রাচীন কপি আর আমার বাসার কপি একই। এখন পূর্ববর্তী ঐশী বাণী গুলো বিকৃত হয়েছে কিনা সেটা জানার জন্য একটু কষ্ট করে ইতিহাস পড়তে হবে। কিভাবে খ্রীস্টীয় ত্রিতত্ত্ববাদ একেশ্বরবাদী খ্রীস্টানদের (আরিয়ান) নির্মূল করেছে তার ইতিহাস? কেন বাইবেলের নতুন নিয়মের প্রায় অর্ধেক অংশই সাধু পলের লেখা? কেন বিজ্ঞজনেরা সাধু পলকেই বর্তমানে প্রচলিত ত্রিতত্ত্ববাদীয় খ্রীস্ট ধর্মের জনক বলে আখ্যা দেয়? কেন ক্যাথলিক বাইবেলে ৭৩ টা বই আর কেনই বা প্রোটেস্ট্যান্টরা ৭ টা বই ছুড়ে ফেলে দিয়ে ৬৬ টা বই এর অনুসরণ করে? কেনই বা বাইবেলের কিং জেমস ভার্সন আর রিভাইসড স্ট্যান্ডার্ড ভার্সনে এত ভিন্নতা? কেন ইয়াহুদীরা মাসীহকে আজো খুঁজে পায় না? কেনইবা একেশ্বরবাদী সনাতন ধর্মে এত দেব দেবীর উৎপত্তি হলো? পবিত্র কুরআন বলে, হে মুসলমানগণ, তোমরা কি আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? তাদের মধ্যে একদল ছিল, যারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত; অতঃপর বুঝে-শুনে তা পরিবর্তন করে দিত এবং তারা তা অবগত ছিল। [২ নং সূরা বাকারা: আয়াত নং ৭৫ পবিত্র কুরআন] পবিত্র কুরআন কুরআন আরো বলে, অতএব তাদের জন্যে আফসোস! যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ-যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে। [২ নং সূরা বাকারা: আয়াত নং ৭৯ পবিত্র কুরআন]



প্রিয় পাঠক ঈসা (আঃ) পর এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পূর্বে পারস্যে এক নতুন ধর্মের আবির্ভাব ঘটে যা মনিবাদ নামে পরিচিত। এর প্রবর্তক মনি। সে নিয়ে আসে ভালো মন্দ দুই ঈশ্বরের ধারণা। সে জোরাস্টার, ইয়াহুদী, খ্রীস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের সমন্বয় সাধন করার চেষ্টা করে এবং নিজেকে শেষ নবী দাবী করে। খুব দ্রুত সে জনপ্রিয়তা লাভ করে আবার তার চেয়েও দ্রুত গতিতে তার মতবাদ বিলুপ্ত হয়ে যায়। তার দাবীকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে আরবের বুকে আবির্ভাব ঘটে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর যিনি প্রচার করেন বিশুদ্ধ একেশ্বরবাদ। তিনিও নিজেকে শেষ নবী ও রাসূল বলে দাবী করেন, পূর্ববর্তী নবী যারা একেশ্বরবাদ প্রচার করেছিলেন তাদের সত্যতার সমর্থন দান করেন এবং পবিত্র কুরআন কে শেষ ঐশী গ্রন্থ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর এই আদর্শ পুরো আরব ও পারস্যের অন্যসব আদর্শকে ছাপিয়ে সবার উপরে উঠে আসে, ইতিহাসের গতি পরিবর্তিত করে, জন্ম দেয় মুসলিম সভ্যতা, পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মত উঠে আসে আরবরা এবং এই আদর্শ প্রায় ১৪০০ বছরের বেশী সময় ধরে ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে পৃথিবীর সর্বত্র। প্রিয় পাঠক মুহাম্মাদ (সাঃ) এর এই দাবীকে কিন্তু অন্য কোন আদর্শ মিথ্যা প্রমাণিত করতে পারেনি। আজ অবধি পৃথিবীর বুকে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পরে এমন কোন আদর্শ জন্ম নেয়নি যার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রচারিত আদর্শকে অতিক্রম করতে পেরেছে। আর এটাই মুহাম্মাদ (সাঃ) এর শেষ নবী ও রাসূল হবার দাবী আর পবিত্র কুরআনের শেষ ঐশী গ্রন্থ হবার দাবীর পক্ষে যথেষ্ট। ইসলামের সত্যতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:১৬

ুব গস বলেছেন: ভালো লাগলো তবে লিখার মতো আরো অনেক কিছু আছে

২০ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:২৩

নাফাজি বলেছেন: ধন্যবাদ। অবশ্যই লেখার মত আরো অনেক কিছু আছে। এক পোস্টে এর চেয়ে বেশী লিখলে মানুষ উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। আর যদি পোস্টের বিষয়ের কথা বলেন তাহলে আপনাকে জানিয়ে রাখি ইতিহাস, রাজনীতি, ধর্ম, আদর্শ এবং ইনফরমেশন টেকনোলজী আমার প্রিয় বিষয়।

২| ২০ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:৫৬

রাকি২০১১ বলেছেন: অনেক ভাল লাগলো।
সকল মুসলমান ভাই/বোন যদি বুঝত যে তারা কে? কি তাদের পরিচয়? তাদের গন্তব্যস্থল কোথায়-- যর সবগুলোর উত্তরই আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিয়েছেন।


২০ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:৫৮

নাফাজি বলেছেন: ধন্যবাদ। আল্লাহ্ যেন আমাদের সবাইকে সত্য ও সঠিক পথে চলার সামর্থ্য দান করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.