| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কাকটা বসে আছে । কবির দেখা নেই ।
কোন এক কবিতা সম্মেলনে কবি একবার বলেছিলেন '' এই শহরে রঙ্গিন পাখিগুলো চড়া দামে বিক্রি হলেও থাকে খাঁচার ভেতরে। আর কাকগুলো ময়লা খাবার খেয়ে বেঁচে থাকলেও উড়ে স্বাধীন চিত্তে।"
সেই থেকে কাকটা প্রতিদিন ভাবে তাকে নিয়ে হয়তো কবি কোন এক কবিতা লিখবে ।কিন্তু কবি কখনোই তাকে নিয়ে কবিতা লিখে না । কাকটা কার্নিশে আজকেও বসে আছে ।
কবি ঘরে শুয়ে ছিলেন।মনটা অশান্ত হয়ে আছে। রাইটারস ব্লক যাচ্ছে অনেকদিন ধরে। তিন মাসের ঘর ভাড়া বাকী, ধার হয়েছে অনেক ।হিসেব মিলছে না কিছুতেই ।
আকাশটা মেঘলা হতে শুরু করেছে ।কাকটার মন বলছে এখনই কবি ঘর থেকে বের হবেন আর বারান্দায় বসে একটা কবিতা লিখে ফেলবেন ।কিন্তু কবিকে যে দেখা যাচ্ছে না ।
মাথার উপর ঘুরছে সিলিং ফ্যান তবুও কবির কপালে ঘাম।এই দেশে সব কিছু বিক্রি হয় কিন্তু কবিতা বিক্রি হয় না ।আধুনিক সমাজ মনে হয় চায় না কবিরা কবিতা লেখুক ।সব কিছুর হিসেব এইখানে টাকার অংকে করতে হয় ।কবির মনে পড়ে তার চিত্রশিল্পী বন্ধু একটা পেইন্টিং বিক্রি করতে কতখানি মরিয়া হয়ে গিয়েছিল । সেই দিন মনে হচ্ছিলো চিত্রকলা যেন এখনো বেঁচে আছে মানুষের বাড়ীর শো পিস হয়ে ।কবি অবাক হলেন। কিসব আবোল তাবোল ভাবছেন ।তার মত একজন কবির এই ধরনের চিন্তা করাই উচিত না । কবি আপন মনে লজ্জা পেলেন।
কাক টার এখন খুব মন খারাপ হচ্ছে । আজকেও কবি কবিতা লিখল না ।নাহ , আর কার্নিশে থাকতে ভাল লাগছে না । উড়ে গেল কাকটা । উড়ে গিয়ে বসলো একটা বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের তারে। বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। হটাৎ বিকট একটা শব্দ হয়ে বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা গেল।
অবশেষে কবি বেরিয়ে এলেন। দেখলেন বিদ্যুতের তারে একটা কাক করুন ভাবে ঝুলে আছে ।
কবির বড্ড কবিতা লিখতে ইচ্ছে হল । লিখতে শুরু করলেন।
'' ঝুলন্ত কাকটার মত
আমিও মৃত কবি হয়ে যাই
একদম নিস্পাপ নিথর
অর্থহীন কবিতার মাঝে ''
©somewhere in net ltd.