| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নাঈমুল করীম নাঈম নাঈমুল
লিখতে ভালবাসি, তার চেয়ে পড়তে
বিশ্বব্যাংকের বিদায়ী কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টাইনকে বাংলাদেশের চাকরি ছেড়ে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
মন্ত্রী বলেন, “অ্যালেন গোল্ডস্টাইন দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে তার এ জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। তাই আমি তাকে পরামর্শ দেবো, বিশ্বব্যাংকের চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে এসে রাজনীতি করুন।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের আয়োজিত ক্রয় সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মুহিত বলেন, “আমি আবারও বলছি, আমরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত চাই। তারা বলেছেন আমাদের সঙ্গে থাকবেন। তবে সেটি কবে, তা নিয়ে আমরা হতাশ।”
পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংক থাকবে কি না, সরকার তা চূড়ান্তভাবে আলোচনা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা জানুয়ারি না হলেও একটি বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত চাইছি।”
মন্ত্রী বলেন, “বিকল্প অর্থায়ন পেতে দু’একজন আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। চীন আগ্রহ দেখাচ্ছে। মালয়েশিয়া আগ্রহ দেখাচ্ছে।”
বিশ্বব্যাংককে ছাড়া সেতুর অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্য দাতারা থাকবেন কি না তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মালয়েশিয়ার প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, “মালয়েশিয়া আগে যে প্রস্তাবটি দিয়েছিলো তা অসম্পূর্ণ। সম্প্রতি তারা আবার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। আমি সেটি এখনও দেখিনি, তবে শিগগিরই দেখবো।”
সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে বলি দিলেই পদ্মা সেতু হবে এমন বক্তব্যের কড়া জবাব দেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “তারা পদ্মার ব্যাপারে তেমন কিছু জানেন না। না জেনে এমন কথা বলছেন। আমিও খুব বেশি জানি না। তাই না জেনে এমন কথা বলা উচিত নয়।”
মুহিত বলেন, “আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, পদ্মাসেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি। হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। তবুও বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে আবুল হোসেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান।”
তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাংক থাকতেই তাদের নির্মাণ প্রকৌশলের বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে। ৫টি কোম্পানি এর অনুমোদন পেয়েছে। তাই যে কোনো মুহূর্তে তাদের কাছ থেকে প্রস্তাব চাইতে পারি।”
এর আগে সকালে নরডিক সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মুহিত বলেন, “তারা আমাদের উন্নয়নে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। সুশাসন ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে। সুশাসনের দিকটায় আমরা পিছিয়ে আছি। তবে ডিজিটালাইজেশনে এগিয়ে গেলে দুর্নীতি কমবে বলে প্রতিনিধিদল মনে করে।”
দেশের আদালত, পুলিশ, ভূমি ও বিচার বিভাগে দুর্নীতি বেশি হয় বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
এছাড়াও ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিউনেশিয়া থেকে আড়াই লাখ টন টিএসপি ও ৫০ হাজার টন ডিএপি সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় বলে জানান মন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৫০ হাজার টন গম আমদানির প্রস্তাব আনা হয়েছিলো। তবে তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। আমাদের কোনো খাদ্য সংকট নেই। ১০ লাখ ৮০ হাজার টন চাল ও ২ লাখ টন গম মজুদ আছে।
সূত্র: বাংলানিউজ
©somewhere in net ltd.