নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লেখালেখি আমার পেশা নয় আমার নেশা

নালু

নালু › বিস্তারিত পোস্টঃ

অনুগল্প: মেয়ে দেখা

০৭ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:০৭

অনুগল্প: মেয়ে দেখা

গল্পের শিরোনামে পাঠক আকর্ষিত হয়। যেই বিদ্যাটা আমাদের দেশের বেশিরভাগ অনলাইন পত্রিকাগুলো বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেছে। আমার সেদিকে হাটার কোন শখ বা ইচ্ছে আপাতদৃষ্টিতে নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবেনা। গল্প, উপন্যাস, কবিতা প্রতিটি আবিষ্কারে কারো না কারো জীবনের প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়।
গল্পের শিরোনামের দিকে দৃষ্টিপাত করি। নারী-পুরুষের সমতা অর্জনে পৃথিবী বহুকাল যাবত বিভিন্নরূপে চেষ্টা করে আসছে। তার কতটুকুই বা অর্জিত হয়েছে?? আমাদের মত উন্নয়নশীল দরিদ্র দেশগুলোয় নারীদের অবস্থান আজও প্রশ্নবিদ্ধ। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের অবস্থান অত্যন্ত শোচনীয় পর্যায়ে এবং প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হয় হাজারও বাধা-বিপত্তির। কিছু কিছু ব্যাপারে পরিবার থেকেই একজন মেয়েকে দাবিয়ে রাখা হয়। তার মনে-মগজে বেশ ভালো করেই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, কি করা যাবে আর কি করা যাবেনা এবং কিছু করতে হলে কিভাবে তা করতে হবে। পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া, হাটা-চলা, হাসা-কথা বলার ধরণ সবকিছুতেই অমোঘ নিয়ম এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে মেয়ে তুমি বাজে!!
সময়ের সাথে সাথে দেশের পরিবর্তন হচ্ছে। মেয়েরা এগিয়ে গিয়েছে অনেকদূর। সমাজ-সংস্কৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজে নারীদের অবস্থান উন্নত হচ্ছে এবং বিভিন্ন অধিকার আদায় হচ্ছে। আজকে আমরা সভ্যতার চরম শিখরে বাস করেও নারীদের একটা বিষয়ে আমাদের সবারই ঘোরতর আপত্তি এমনকি খোদ নারীদের মাঝেও এ আপত্তি দেখা যায়। সেটা হলো স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ নিজের জন্য কিছু করা। এটা পৃথিবীর অলিখিত নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে যে, নারীর জন্মই হয় পরের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার জন্য। একজন নারী জন্মের পর পরিবারের সেবায় আর বিয়ের পর বাকি জীবন সংসারের সেবায় নিয়োজিত থাকে। ভাবতে বড় অদ্ভুত লাগে যাকে জীবনসঙ্গী করে বাকি জীবন সেবা করে যাবে সেক্ষেত্রেও তাঁর পছন্দের গুরুত্ব অতি নগন্য। জীবনসঙ্গী নির্বাচনের বেলায় হোক সেটা পরিবারের পছন্দে বা নিজের (প্রেম) পছন্দে সবসময়ই নারী নির্বিকার। প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার অধিকারটুকুও মনে হয় তাঁদের নেই এবং এই বোধটা তাদের মনে গেঁথে গিয়েছে। তাই অনেক নারীকেই অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় কখন একজন পুরুষ এসে তাকে প্রেমের সম্মোধন করবে তারপর তাঁরা (নারী) তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন। আর যদি পরিবারের পছন্দে বিয়ে করতে হয় তাহলে নারীকে সেখানে অনেকটা দোকানের তৈজসপত্রের মতোই ব্যবহার করা হয়। একজন দোকানদার যেমন তার দোকানের তৈজসপত্রের পশরা সাজিয়ে বসে এবং খদ্দের বা খরিদদার এলে পণ্য আকৃষ্টের জন্য তাকে বিভিন্ন মোড়কে পণ্যের গুণাগুণ বর্ণনা করে থাকে। বিয়ের পাত্রী বা মেয়ে দেখার বিষয়টাও আমার কাছে সেরকমই লাগে। সেক্ষেত্রে দোকানদারের ভূমিকায় থাকে ঘটক নামক অদ্ভুত এক চরিত্র। আমার কথার সাথে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করতে পারেন কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি এখনো অনেক মেয়ে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিয়ের বয়সী একজন পুরুষের (যাদের নিজস্ব পছন্দ নেই) অন্যতম কাজ হয়ে দাঁড়ায় বিভিন্ন বাসায় গিয়ে মেয়ে দেখে পছন্দ বা অপছন্দ করা। যা অনেকটা শপিং মলে ঢুকে এসির বাতাস খেয়ে আসার মতো। মেয়ে মানুষ কি দেখার বস্তু?? তারা কি পছন্দ বা অপছন্দ করার বস্তু?? মেয়ে মানুষ কি দোকানের আলমারিতে সাজানো তৈজসপত্র??
বিয়ের জন্য মেয়ে দেখার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো আজও অনেক প্রাধান্য পায় গ্রাম বা শহর উভয় জায়গায় সেগুলো হলো- কথা বলার ধরণ, গলার স্বর মিষ্টি না তিতা, কতটুকু ধার্মিক, চুল কতটুকু লম্বা, গায়েরচামড়া কতটুকু সাদা, উচ্চতা কতটুকু, ফিগার দেখতে কেমন, হাটার ধরণ কেমন ইত্যাদি। ক্ষেত্রবিষেশে তাঁদেরকে এই রূপ এবং গুণগুলোর পরীক্ষাও দিতে হয় তা ও আবার ১০ জন একেবারেই অপরিচিত
বয়জোষ্ঠ্য লোকের সামনে। কেউ কেউ তো জিজ্ঞাসাও করে বসে পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে কি না!!? যে ব্যাক্তি বিয়ে করতে আসেন তার থেকে তার আশেপাশের মরুব্বীরাই মেয়েকে বেশী নেড়েচেড়ে দেখেন। কারণ আমরা তো নিয়মই গড়ে তুলেছি যে, মেয়েদের এভাবেই দেখতে হয়। কথায় আছে না, "সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।" তাই বুঝি রমণীর এতো পরীক্ষা!!
পুনশ্চ: মেয়েদের অবস্থান শুধু অন্দরমহলে নয়,তাঁদের অবস্থান সর্বস্তরে। তাঁদের জন্ম শুধু পুরুষের সেবা বা মনোরঞ্জন এর জন্য নয়। আসুন জীবনসঙ্গী নির্বাচন করি কোন পণ্য নয়।

তানভীর জনি
গবেষক, নাগরিক টিভি।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:৩৪

বিজন রয় বলেছেন: ব্লগে স্বাগতম।

শুভকামনা রইল।

২| ০৭ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:৫৮

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: ভাল একটি বিষয় তুলে ধরেছেন।
আমাদের সমাজে মেয়ে দেখার নিয়মটা আমার কাছেও খুব খারাপ লাগে।
এইটা আমাদেরকেই পরিবর্তন করতে হবে। তবে দেরি হবে আরকি।

০৭ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:২৫

নালু বলেছেন: ধন্যবাদ। শুরুটা দেরি হলেই শেষটা দেরি হবে।

৩| ১০ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:৩১

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: ভাল একটি বিষয়

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.