| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রেম কি আর পুরান হয়!!
দেখলেই আবার মনে হয়!!
গ্রামের বাড়ির সাথে সম্পর্কও টা অনেকটা এরকম হয়ে গিয়েছে। সেই কবে বাড়ি ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছি। ঢাকায় যারা আসে পড়ালেখার উদ্দেশ্যে বা জীবিকার উদ্দেশ্যে তাদের মধ্যে অতি নগণ্য সংখ্যক মানুষ ফিরে যায়। ইট-কাঠ-ধূলো দিয়ে গড়া এই যান্ত্রিক শহরে আমরা কিভাবে যেনো আবদ্ধ হয়ে আছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যন্ত্রের ভিতর দিয়ে ক্রমাগত চলে যাচ্ছি। এই শহরে আনন্দ করার মত, সময় কাটানোর মত, ঘুরার মত, খাওয়ার মত অনেক কিছুই আছে। তবে সেগুলো আমাদের দেহ-চোখ-মস্তিষ্ককে প্রশান্তি দিলেও আত্মাকে স্পর্শ করতে পারেনা। সবকিছুতেই কৃত্রিমতা মেশানো।
ছুটির উপলক্ষ্যগুলো খেয়াল করলেই সেটা খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করা যায়। বিশেষ করে ইদের ছুটির সময় মানুষের ঢল পরে প্রতিটি লঞ্চ-বাস টার্মিনাল, ট্রেইন স্টেশন থেকে এয়ারপোর্টও। সবাই আত্মার টানে ছুটে যায় শিকড়ের কাছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করতেও দ্বিধাবোধ করেনা। যখন ট্রেনে উঠি কামড়ার ভিতর এলাকার ভাষা-সংস্কৃতি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেখা মিলে। তখন ট্রেনের ঐ কামড়াটাকে মনে হয় আমার কিশোরগঞ্জ, আমার বাজিতপুর, আমার এলাকা, আমার বাড়ি। এলাকার কাছাকাছি আসার পর থেকেই জীবন থেকে অফিস, পড়াশুনা, জীবনের সব টেনশন নিমিষেই উড়ে যায়। আমার গ্রামের বাড়ির বাতাসে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা মিশে রয়েছে। যে মানুষগুলো আমাদের সাথে ইদ উৎযাপন করার জন্য বছরের ২টা সময় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে। যে মানুষগুলোর চোখ-মুখের দিকে তাকালেই উপলদ্ধি হয় শহরে আমরা মাটির মানুষ দেখি না, দেখি যন্ত্রের মুখ। বাড়িতে গেলে কোন কারণ ছাড়াই ভালো লাগে। কিন্তু ভালোবাসার অত্যাচারে নাভিঃশ্বাস উঠে যায়। আমরা একান্নবর্তি পরিবার। ইদ, বিয়ে , জন্মদিন যা-ই হোক না কেন আমাদের আনন্দের আসল উৎস থাকে সব ভাই-বোনদের মিলনমেলা। সারারাত আড্ডা, হাসাহাসি চলে। ইদের দিনে বিশেষ কিছু করা হয়না বললেই চলে। ইদের নামাযও গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে সারারাত সজাগ থেকে গল্প করার ফলশ্রুতিতে। বাকি সময় আসলে কিছু না করেই কিভাবে যেন ইদ কেটে যায়। কোন আত্মীয়ের বাড়িতে যেতেও ইচ্ছা করেনা, কোন মেহমান আসলে তাকে সময় দিতে কেনো জানি ভালো লাগেনা। আসল কথা হলো ঘর থেকেই বের হতে ইচ্ছা করেনা। তবে বর্ষাকালের (আষাঢ়-শ্রাবণ) ইদ একটু ভিন্ন রকম। হাওরাঞ্চলে বাড়ি হওয়ার সুবাদে সহজেই নৌকা ভ্রমণে যাওয়া যায়। সাধারণত ইদের পরদিন নৌকা নিয়ে বিশাল জলরাশির উপর ভেসে থাকার জন্য সব বয়সের এবং সব সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ছুটে যায়। সেক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে থাকে যে বয়সের মুরুব্বীরা সব কাজে বাধা দেন তাদের এই ভ্রমণে নেওয়া যাবেনা। নৌকা ভ্রমণ সেই সাথে হাওরাঞ্চল দেখা, আশেপাশের মানুষের বেঁচে থাকার যুদ্ধ, পানির সাথে যুদ্ধ করে যারা টিকে আছে এবং পরিবারের সবার সাথে সময় কাটানো।
আমি বিত্তশালী নই, হলেও ইদ উৎযাপন করার জন্য থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া যাবো না। আমার মা-চাচীদের হাতের রান্না, এলাকার ভাই-চাচা-দাদাদের হাসিমুখে কুশল বিনিময় আমাকে বেঁচে থাকার কারণ খুঁজে দেয়। ভালো মানুষ হবার অনুপ্রেরণা যোগায়। এই ইদে (২০১৭ সাল) নৌকা ভ্রমনে গিয়েছিলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে (প্রায় ২৫ জন)। অসম্ভব সুন্দর একটা দিন কেটেছে। বাংলাদেশ কত সুন্দর তা ঘর থেকে বের হলেই দেখা/বুঝা যায়। আমাদের এলাকার পাশে বলেই সহজে আমরা যেতে পেরেছি। দূরবর্তি এলাকা থেকেও এসেছে মানুষজন। কিন্তু এলাকাটি ট্যুরিস্ট এলাকা নয়। যার ফলে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। সেই সাথে আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাও নেই। তার থেকেও বড় বিষয় হলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেটির বড় অভাব। এই হাওরগুলোতে কোটি টাকার ব্যবসা হয়। হাওর দখল নিয়ে চলে ক্ষমতার লড়াই। অনেকসময় প্রশাসনের হস্তক্ষেপেও কিছু করা যায়না।
সেদিনের সেই আনন্দঘন দিনটিকে কিছু ছবির মাধ্যমে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। অভিজ্ঞতা সহকারে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

আকাশ আর জলরাশির বিশালতা
মেঘের খেলা

পানির বিশালতা 
মেঘের রঙ, আকাশের ঢং 
টিকে থাকা 
সন্ধ্যের আকাশ 
পদচিহ্ন 
আশ্রয়
আকাশে মেঘের আঁকিবুঁকি
©somewhere in net ltd.