| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইদ অনেক আগে শেষ হলেও টিভি চ্যানেলগুলোর ইদ আমেজ অনেকদিন পর্যন্ত লেগে থাকে। প্রায় প্রতিটি টিভি চ্যানেলের স্ক্রীনে ইদ মোবারক লগো থাকে দীর্ঘদিন। তাই সেই সুবাদের ইদের প্রোগ্রামও চালু থাকে। ইদের তিনদিন পর রাতে ইদের প্রোগ্রাম “কমেডি আওয়ার” নামে এটিএন বাংলায় একটি কমেডি শো দেখছিলাম। আমরা মূলত কমেডি দেখতে চাই বা কৌতুক বলতে ও শুনতে চাই হাসার জন্য মজা পাবার জন্য এবং উপভোগ করার জন্য। আমরা অসংখ্য ধরণের মানসিক বা শারিরীক চাপ থেকে মুক্তির জন্য বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের উপর কিছুটা নির্ভর করে থাকি। কিন্তু একবার ভাবুন একটি কমেডি শো যদি আপনার উপর আরো চাপ স্মৃষ্টি করে বা আপনাকে হাসির বদলে মন-মেজাজ গরম করে দেয় তাহলে, কেমন অনুভূতি হবে? আপনার একটু বেশি রাগ থাকলে হয়ত রিমোট ছুঁড়ে টিভির স্ক্রিন ভেঙে ফেলবেন। পরবর্তিতে নিজের ক্ষতি নিজেকেই পোষাতে হবে।
এখানে শুধু আমি একটি বিশেষ প্রোগ্রামের কথাই বললাম, কারণ আমি খুব একটা টিভি দেখি না এবং যাকে টিভির দর্শক বলা যায় না। তবে কমেডি নির্ভর টিভি সিরিজ সেটা ইংলিশ-হিন্দী-বাংলা যা-ই হোক, খুব আগ্রহ ভরে দেখি। অন্যকে হাসানো বিরাট কঠিন কাজ আবার সবাই সবকিছু দেখে হাসবেনা এটাও স্বাভাবিক। আর সেই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করার জন্য একেকজন একেক ধরণের পন্থা অবলম্বন করেন। কেউ শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে, কেউ মুখের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে, কেউ হিউমার ব্যবহার করে, কেউ বা ভাষা বা শব্দ ব্যবহার করে। সবার দ্বারা এই কাজটি করা সম্ভবপর হয়না।
আমার কাছে দু’টি বিষয় ধরা দিয়েছে এক নম্বর হতে পারে আমাদের সাধারণ দর্শকদের (টিভি দর্শক) রুচি অনেক উপরের লেভেলে চলে গিয়েছে যার ফলে ভাঁড়ামোমার্কা প্রোগ্রাম দেখলে বমি আসে এবং রাগে-দুঃখে টিভি ভাঙতে ইচ্ছা করে। আরেকটি বিষয় হতে পারে টিভি চ্যানেলগুলো প্রোগ্রাম তৈরী করে শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন সংস্থার কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে। যেখানে কোয়ালিটি বিবেচনা করার প্রশ্নই আসেনা।
কমেডি আওয়ার নামক ভয়ংকর প্রোগ্রাম থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে অন্য চ্যানেলের আশ্রয় নিতে বাধ্য হলাম। গেলাম আরো কয়েকটি বাংলা চ্যানেলে যেখানে খবর এবং বিজ্ঞাপনের যন্ত্রণায় থামার অবকাশ পেলাম না। অবশেষে থামলাম বিদেশী একটি চ্যানেলে যেখানে নারীদের রেস্লিং দেখাচ্ছে। ভাবলাম এইবার মনের শান্তি না হোক কিছুটা চোখের শান্তি নেওয়া যাবে। তবে সেখানেও মিনিটখানেক থাকতে পারিনি কারণ সেখানে রয়েছে হিন্দি ডাবিং যা দেখে ফিল হচ্ছিল রেসলারের কন্ঠে কোন এক রোমান্টিক নায়কের ভয়েসের মত। তাই আবারও অনবরত চ্যানেল পরিবর্তন করতে লাগলাম। সেই সাথে শুরু হয়ে গেলো টক শো নামক বেদনাদায়ক অনুষ্ঠান।
অবশেষে উপলদ্ধি হলো টিভি আমাদের বিনোদন মাধ্যম হিসেবে নয় বরং উল্টো মানষিক চাপ বৃদ্ধি হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। যদিও আমাদের দেশের প্রবীণ সমাজের একটা বিরাট অংশ দিনের একটা বিশাল সময় টিভি দেখেই কাটান। আসলে আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো কি দেখাতে চায় আর আমরা কি দেখতে চাই তার মধ্যে বিশাল ফারাক রয়ে গিয়েছে।এই বয়সে তাঁদের সময় কাটানোটা যে কি পরিমাণ মানষিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তার কিছুটা আন্দাজ করতে পারি।
©somewhere in net ltd.