নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

"সত্যিকার ঈমানদার ব্যক্তি হচ্ছে তারা, যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের ওপর ঈমান আনে, অতঃপর (আল্লাহ তায়ালার বিধানে) সামান্যতম সন্দেহও পোষণ করে না এবং জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে; এরাই হচ্ছে সত্যনিষ্ঠ।" {সূরা আল হুজুরাত, আয়াত ১৫}

মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী

"প্রত্যেক প্রাণীই মরণের স্বাদ ভোগ করবে ... এই পার্থিব জীবন কিছু বাহ্যিক ছলনার মাল সামানা ছাড়া আর কিছুই নয়।" {সূরা আল-ই-ইমরান, আয়াত ১৮৫} "সত্যিকার ঈমানদার ব্যক্তি হচ্ছে তারা, যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের ওপর ঈমান আনে, অতঃপর (আল্লাহ তায়ালার বিধানে) সামান্যতম সন্দেহও পোষণ করে না এবং জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে; এরাই হচ্ছে সত্যনিষ্ঠ।" {সূরা আল হুজুরাত, আয়াত ১৫}

মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী › বিস্তারিত পোস্টঃ

সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ- শেষ পর্ব

১৬ ই নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৫৫

প্রথম পর্ব | দ্বিতীয় পর্ব

মানুষ হ’ল প্রেমময় আল্লাহর ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ শ্রেষ্ঠ জ্ঞান সম্পন্ন প্রাণী। তাই মানুষ বার বার ভুল করলে বা অন্যায় করলেও আল্লাহ তাকে সংশোধন করতে চান, ভাল করতে চান। এজন্যে উত্তম ব্যবহারের প্রতীক হিসাবে মহানবী (ছাঃ)-কে নবুওয়াত দিয়ে তাদের কাছে প্রেরণ করেন। মহানবী (ছাঃ) তাঁর অসাধারণ মানবত্ব দ্বারা আল্লাহর অমীয় বাণী নিয়ে লোকদের মাঝে আল্লাহর প্রেমের বাণী, হেদায়াতের বাণী, ভীতির বাণীসহ পবিত্র সত্যময় ইসলামের বাণী প্রচার করতে থাকেন। আগের পর্বদু'টোর আয়াতগুলোতে আল্লাহর প্রসংশিত বাণী সম্বলিত পবিত্র কুরআনের সত্যতা এবং মহানবী (ছাঃ)-এর সত্যতার কথাও পুনঃ পুনঃ ঘোষিত হয়েছে। মিথ্যাকে দুর্বল হ’তে দুর্বলতর করে সত্যের জয়ধ্বনিকে মহাউন্নত করাই এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।



এখানে সত্য ও অসত্যের প্রতিযোগিতায় সত্যের জয়যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে এবং আল্লাহ ঘোষিত যে কোন বাক্যকে সকল সত্যের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর বাণী অমর ও অপরিবর্তনীয় এবং তাঁর প্রিয় রাসূলের রাণীও তদ্রূপ বলে স্বীকৃত হয়েছে। মহাজ্ঞানী আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় রাসূলকে পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের মিথ্যা বাণী মেনে নিতে নিষেধ করেছেন। এতদ্ব্যতীত প্রতারক ও মিথ্যুক মুনাফেকদের মিথ্যাচারিতার কথাও অদৃশ্যের জ্ঞাতা আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে জানিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর বিশ্ববাসীর প্রতি সত্যের আহবান জানাবার জন্য বিশ্বনবীর উপর পুনঃ পুনঃ প্রত্যাদেশ আসতে থাকে। এক পর্যায়ে সমগ্র বিশ্ববাসীর প্রতি ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যে মহাপ্রজ্ঞাময় আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যাদেশ করেন, ‘আর আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, কিন্তু তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত, বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হ’ল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ’ {আ‘রাফ ১৭৯}।



একই বিষয় অন্য জায়গায় আল্লাহ বলেন, ‘আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য যে, আমি জিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব’ {সিজদাহ ১৩}।



মানব সম্প্রদায়ের উপর ভীতি প্রদর্শন মূলক সর্বশেষ বাণী দ্বারা মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মহাক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে মানব ও জিন জাতিকে সত্যের অবমাননার জন্য জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার সংবাদ পরিবেশন করেন। উপরের আয়াত দু’টির প্রথমটিতে অভিযোগের সুরে বলেন, মানুষের মনুষ্য উপযোগী অন্তর আছে, বিবেক আছে, চোখ আছে, কান আছে, কিন্তু এগুলো তারা কাজে না লাগিয়ে চতুষ্পদ জন্তুর মত আচরণ করে। শেষোক্ত আয়াতে আল্লাহ তাঁর বাণীকে অবধারিত সত্য বলে ঘোষণা দিয়ে মানুষ ও জিন জাতির দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

পূর্বে উল্লেখ করেছি, আল্লাহর মহাসত্য বাণী ‘অমর ও অপরিবর্তিত’। নিম্নোক্ত আয়াতেও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আমার উক্তি অবধারিত সত্য’ {সাজদা ১৩}। সুতরাং সত্যকে অস্বীকার, অবিশ্বাস ও অবমাননার জন্যই মানব জাতিকে তাদের শেষ পরিণতির কথা সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বস্তুতঃ সমগ্র কুরআনে আল্লাহর আদেশ, নির্দেশ, ঘোষণা ইত্যাদির শতভাগই মহাসত্যের অন্তর্ভুক্ত। আর সকল সত্যের অধিকাংশই আল্লাহর ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতির মধ্যে গণ্য। এ ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতিকেও আল্লাহ অব্যর্থ সত্য বলে আয়াত অবতীর্ণ করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি ছবর করুন! আল্লাহর ওয়াদা সত্য। যারা বিশ্বাসী নয়, তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে’ {রূম ৬০}।



পরবর্তী সূরা লোক্বমানে আল্লাহ বলেন, ‘হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারক শয়তান যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে’ {লোক্বমান ৩৩}।



উপরের আলোচনার ধারাবাহিকতায় সত্য ও মিথ্যার যে পার্থক্য সূচিত হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা খুবই কঠিন। কারণ সত্য হ’ল বাস্তব (দৃশ্য), আর মিথ্যা হ’ল অবাস্তব (অদৃশ্য)। বাস্তব ও অবাস্তবের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। সুতরাং সত্য ও মিথ্যার মধ্যেও কোন সম্পর্ক নেই। আবার সত্য ও মিথ্যার মধ্যে আপোষ হওয়ারও কোন সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণ দ্বারা কোন নতুনত্বের সম্ভাবনাও বাতিল বলে গণ্য। পার্থিব জগতে সত্য ও মিথ্যার যে মিশ্রণ অব্যাহত আছে, তা আল্লাহর সন্তুষ্টির বিষয় নয়, এটা শুধু মুনাফিক বা অবিশ্বাসীদের অভিজ্ঞতার ফলাফল মাত্র। আসলে ইহজগতে সত্য ও মিথ্যার ন্যায় বহু সমস্যা সংকুল বিষয় আছে, যেগুলোর একত্রীকরণ বা সংমিশ্রণ অবিশ্বাস, অকল্পনীয় ও অবর্ণনীয়। উদাহরণতঃ খাদ্যের ও অখাদ্যের মিশ্রণ, পানীয় ও অপানীয়র মিশ্রণ, আগুন ও পানির মিশ্রণ, পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণাঙ্গ (পঙ্গু)-র মিশ্রণ, প্রাচ্য ও প্রতিচ্যের মিশ্রণ, আকাশ ও পাতালের মিশ্রণ, সুগন্ধ ও দুর্গন্ধের মিশ্রণ যেমন অসম্ভব, ঠিক সত্য ও মিথ্যাকে মিশ্রিত করাও তদ্রূপ অসম্ভব, অকল্পনীয় ও অবর্ণনীয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বেও সত্যকে গোপন করো না’ {বাক্বারাহ ৪২}।



আলোচ্য সূরায় সত্যের অনুকূলে পুনরায় প্রত্যাদেশ হয়েছে যে, ‘বাস্তব সত্য সেটাই যা আপনার পালনকর্তা বলেন। কাজেই আপনি সন্দিহান হবেন না’ {বাক্বারাহ ১৪৭}।



সত্যের অনুকূলে পুনরায় বর্ণিত হয়েছে, ‘বলে দিন, অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের প্রাচুর্য আপনাকে বিস্মিত করে। অতএব হে বুদ্ধিমানগণ! আল্লাহকে ভয় কর যাতে তোমরা মুক্তি পাও’ {মায়েদাহ ১০০}।



সাধারণভাবে আজ আমরা সত্য ও মিথ্যা বলতে যা জানি বা বুঝি, তা মানুষের চিরাচরিত অভ্যাস মাত্র। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাঁর অসীম জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ, বিশ্বশ্রেষ্ঠ মহা সম্মানিত মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এবং কুরআনের নির্দেশিত পবিত্র ইসলাম ধর্ম সত্যের এক মহাপ্রতীক। তাছাড়া ‘সত্য’ দ্বীন ইসলামের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখানে মিথ্যা অনুপ্রবেশের কোন অবকাশ নেই, তবে কৃত্রিম কৌশল অবলম্বন করার সুযোগ রয়েছে- যা নিঃসন্দেহে ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী। এমতাবস্থায় ইসলামের শ্রেষ্ঠ সত্য ও তথ্যের উৎস কুরআনের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। এজন্যে করুণাময় ও দয়াশীল আল্লাহ তা‘আলার আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে আগামী সত্য দিনের উপর পবিত্রতা রক্ষার তাওফীক দান করুন।- আমীন!



~~~ সমাপ্ত ~~~



রচনাঃ

রফীক আহমাদ

শিক্ষক (অবঃ)

বিরামপুর, দিনাজপুর

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:০০

Abdullah Arif Muslim বলেছেন: জাজাকাল্লাহ। ভাইজান কোরআনকে এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করলেন। কিন্তু আমাদের দেশের বেক্কেলগুলোয় কয় কোরআন পড়া যাবে না। আফসোস লাগে ওদের জন্য।

১৮ ই নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৮

মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা ওদেরকে হিদায়াত দিন। আমীন।। আপনাকে ধন্যবাদ ভাই।

২| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৩৯

কি-বোর্ড বলেছেন: ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।

১৮ ই নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৮

মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ

৩| ১৮ ই নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৪

গুরুদেবজী বলেছেন: সুন্দর পোস্টের জণ্য আন্তরিক ধন্যবাদ এবং http://www.oneallah.org/bengali এর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি সালাম।

১৯ শে নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৫২

মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন: ওয়ালাইকুম আসসালাম। আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ ভাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.