| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গান নিয়ে
(১) সোনার মেয়েগো ...
তখন কত বযস আমার ?ক্লাস ফাইভ বা সিক্সে পড়ি....একেক অলস দুপুরে ..দূর থেকে ভেসে আসতো গান ....তুমি আজ কত দূরে .....গানটা গাইতো “ধুধু পাগলা “ কেন তার নাম “ধুধু” ছিল সেটা জানতামনা । কখনো কখনো বেশ রাতে ভেসে আসতো ধুধু পাগলার গান । একটা গাছের নীচে বসে সে খোলা গলায় এই একটা গানই গাইতো..। তাকে কেউ খেতে দেখেনা, ঘুমাতে দেখেনা । কে যেন বলেছিল ধুধু পাগলা খুব শিক্ষিত ...কিন্তু প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সে পাগল হয়ে যায়। কিন্তু ঐ সময় এ বিষয়ে সত্য মিথ্যা যাচাই করার সাহস, বয়স, পদ্ধতি কোনোটা ই আমার ছিলনা।
একদিন গানের আওয়াজ পাচ্ছি , কিন্তু কোথা থেকে গানটা আসছে বুঝতে পারছিনা । খুঁজতে বেরিয়ে পড়ি। যখন একটা গাছের নীচে তাকে আবিস্কার করি তখন সে গান থামিয়ে দিয়েছে।সাদা ধবধবে উষ্কখুস্কো মাথার চুল , ছেড়া ধুলোমাখা পান্জাবী আর লুঙ্গি । কিন্তু কি বলিষ্ঠ শরীর! মাথা নীচু করে কিছু ছেঁড়া কাগজ নাড়াচাড়া করছে । খেলার সাথিদের একজন বলে –
দেখ দেখ ধুধু পাগলা কাঁদছে। কাঁদছিলনা সে । তবু সেই অজানা মেয়েটার প্রতি ক্রোধ তীব্র হয়ে ওঠে । কেউ কি পারেনা মেয়েটাকে খুঁজে দিতে?...
ধুধু পাগলা বিশেষ করে যখন গানের ঐ অংশটা গাইতো...“ সোনার মেয়ে গো ...তুমি ও কি আজ বসি বাতায়ন পাশে প্রহর গনিছ আমার চিঠির আশে...অজ্ঞাত কারণে মনে হত ঐ “সোনার মেয়ে” নিশ্চয় আমি ।
“তুমি আজ কতদূরে ..আমার কাছে ঐটা ধুধু পাগলার গান ই ছিল । পরে আরো বড় হয়ে জানতে পারি সেটা জগন্ময়ের গান।
(২) কোনদিন আসিবেন কয়া যাও কয়া যাও...........
এক্কেবারে ছোটো ...পড়াশুনা শুরু হযনি । প্রায় নানাবাড়ী যাওয়া হয় । একবার নানাবাড়ী থেকে খালাবাড়ী যাচ্ছি। । ছোটোমামা , ফজলুভাই, আমি, আমার ছোটোভাই.....হন্টন শুরু হল । কোনোপ্রকার যানবাহন ছাড়াই যাচ্ছি..মনটা একটু খারাপ...অর্ধ কিলোমিটার না যেতেই নদী পড়লো ...বেশ মজা এবার পানিতে একটু ঝাপাঝাপি করা যাবে ..কিন্তু না মামা আর ফজলুভাই আমাদের কাঁধে তুলে নিলেন । নদীতে হাঁটু পানি। আরো অনেকদুর যেতে হবে
ছোটোছোটো পায়ে আর কত হাটা যায়?
কতদূর আর কতদুর.....
আমরা দুভাইবোন মামার কান ঝালাপলা করে দিচ্ছি...
ফজলু ভাই গান ধরলেন হয়তো কোনো উপায় না দেখে ।..ও কি ও বন্ধু কাজল ভোমোরা রে .....থেকে শুরু ..গাড়িয়ালভাই... ও মু ই না শোনো .....বথুয়া হলপল করে .......। কখনো হলুদ সরিষা ক্ষেতের পাশ দিয়ে, পেরিয়ে আসছি..আমগাছের ছায়ায় ঢাকা জনশূন্য নীরব হাট...বাতাসে কাশের দুলুনি...উদাস ঈদগা...একাকি সেতু.....একটার পর একটা ভাওয়াইয়া গান । প্রতিটা গানের প্রেক্ষাপট , মূলকথা ও ক্ষুদে শ্রোতাদের বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন ফজলু ভাই । আমরা তার সুরটা ই ধরছিলাম ..আহা ওনার মত গাইতে পারতাম যদি! সারাজীবনে দ্বিতীয়বার ঐভাবে আর গান শোনা হয়নি । ফজলুভাই এখন বুড়োহয়ে গেছে ।পাকা হুজুর। বছরে তিনবার চিল্লায় যান। মামার অবস্থা আরো খারাপ। চোখ, কান , মাথা ও ।
তবু দেখা হলেই ফজলু ভাইকে বলি ..ধরেননা একটু ..কোনদিন আসিবেন তুমি ..কয়া যাও কয়া যাও ..রে
দাড়িতে হাত বোলাতে বোলাতে ফজলু ভাই বলেন..ভাইরে এখন কি আর সে ই দিন আছে?
(৩) তুমি অনেক যত্ন করে ----
একটা গ্রুপে ছিলাম। নাম মনে পড়ছেনা এমন একজন। গান গাইতেন ভালো। তার আর কোনো ক্যারিশমা ছিলনা। ঘোরতর গ্রামের ছেলে বলে নিজেই একটু গুটিয়ে থাকতেন হয়তো। বল্লাম একদিন, ভাইয়া আপনি মান্নাদের গান পারেন? উনি উত্তর না দিয়ে হারমোনিয়ামে তুলতে শুরু করলেন.....সবুজ পাতাকে ছিড়ে ফেলেছ ..ফুলেতে আগুন তুমি ইইই.....মাথা ফাঁকা হয়ে গেলো। আরে মান্নাদের চাইতে ও ভালো.গাইছেন মনে হচ্ছে। একটা লাল ছোটো রেকর্ডার ছিল । কালচারাল ট্রেনিংএর রিসোর্স পারসনদের লেকচার রেকর্ড করতাম । ওনাকে ভাল করে চিনতামনা তবু বলে ফেল্লাম লাল রেকর্ডার থাকার অহংকারে -
---ভাইয়া আপনার গান রেকর্ড করবো আমি .. । ক্ষনস্থায়ী আবেগ বা অন্য যে কারণে হোক ওনার গান আর রেকর্ড করা হয়নি ।
কিছুদিন পরে এক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি তে আমার সে কথা মনে পড়ে যায়। দৌড়ে রেকর্ডার নিয়ে আসি ।
কিন্তু না । রাজী নন আর।
ভীষন অভিমান করেছেন তিনি ।
..না না ..আমার গান কেন রেকর্ড করবা কেন তুমি ? আমি কি কোনো শিল্পী?
সবার অনেক অনুরোধে ও কাজ হলনা। আর জোর করতে পারলামনা । প্রয়াত সন্জীব দা জানিয়েছিলেন পরে..তুমি গান রেকর্ড করবা বলে ও অনেকগুলো গান তুলেছিল ।
মান্নাদের এ ই গানটা কেন জানি আমার গলায় বসে গেছে ।মেয়ে বলে তুমি কি মান্নাদে র একটা গান ই পারো?
কাউকে যত্ন করে দু:খ দেয়ার প্রশ্ন ই আসেনা । অবহেলায় তো নয় ই ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:১৮
ডরোথী সুমী বলেছেন: আপনার ঘটনাগুলি মধুর সেই সাথে গানগুলিও। ভাল থাকুন।