নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দূরে থাকুন; ভালো থাকুন।

ঋণাত্মক শূণ্য

নেগেটিভিটিতে বিশ্বাস করি না; তাই এমন নাম বেছে নিলাম, যা বাস্তব নয়!

ঋণাত্মক শূণ্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

জীবনে কিছু করা বলতে আসলে "প্রচুরস" টাকা কামানো বলে!

০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

স্কুলে যখন ছিলাম, তখন "প্রচুরস" শব্দটা আমরাই তৈরী করি। প্রচুর দিয়েও যখন যথেষ্ট বোঝানো যায় না, তখন "প্রচুরস" ব্যবহার করা হয়, প্রচুরের প্লুরাল আর কি।



আমার আব্বার বইয়ের দোকান ছিলো। দোকানটা এমন এলাকায়, যেখানে প্রায় ৪/৫টা এলাকা থেকে শহরে ঢুকতে গেলে অন্য যে কোন বইয়ের দোকানের আগে পড়ে। কিন্তু সে অনুযায়ী আমাদের বেঁচা বিক্রি ছিলো না। আব্বা সিদ্ধান্ত নিলেন স্কুলের নতুন বছর শুরুর আগে কিছু পোষ্টারিং করবেন।

আব্বার সাথে আমি আর বড় ভাই, সাথে আর একটা ছেলেকে নেওয়া হলো। ঐ ছেলেটা ভ্যান গাড়ি ঠেলে নিয়ে যায়, আমি ভ্যানের উপরে পোষ্টারে আঠা মেখে বড় ভাইকে দেই, আব্বার নির্দেশনায় বড় ভাই মই বেয়ে উঠে সেই পোষ্টার লাগান। বেঁচা বিক্রি বেড়ে যায় আমাদের। সাথে বাড়ে যন্ত্রণাও!

কিছু আত্মীয়স্বজন এগুলি নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন সে সময়ে। ড্যাম কেয়ার ভাবটা হয়ত আব্বার থেকেই পেয়েছিলাম আমরা। আমাদের তেমন লাগে নি। তবে আম্মাকে লুকিয়ে কাঁদতে দেখেছি।

আমার আব্বা তার পুরাটা জীবন প্রচন্ড স্ট্রাগল করে কাটিয়েছেন, আম্মার মনের শখ পুরণ করতে পারেন নি। আমি যখন আয় ইনকাম শুরু করি, আম্মাকে একটা চুরি আর চেন দিয়েছিলাম, সোনার, আম্মা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেটা মানুষকে দেখাতেন আর বলতেন আমার ছোট ছেলে দিয়েছে।

আমার বড় ভাই আব্বা-আম্মার দেনা সব শোধ করেছেন, কিন্তু আম্মাকে খুব সুদিন দেখানোর আগেই আম্মা মারা যান। আব্বা হয়ত তার স্ট্রাগলের পর এখন কিছুটা ভালো আছেন, একটা বড় বাড়ি হয়েছে, যেমনটা তিনি চেয়েছিলেন। তবে আমি আর বড় ভাই, দুজনেই বিদেশে থাকি বলে হয়ত তার পাওয়ার সবটুকু পূরণ হয়নি।

আমি "প্রচুরস" টাকা ইনকামের স্বপ্ন দেখি। ধরেন ইলনমাস্কের মত একজন লোক পারসোনাল এ্যাসিসটেন্ট রাখা যাবে এমন টাকা ইনকামের স্বপ্ন দেখি। কিন্তু ভাব ধরি, আমি যা কামাই, আমি তাতেই সন্তুষ্ট।

স্ত্রীর শখ পূরণ করা বাদে দিলে বাকিটা আমার ভালোই চলে। একটা গাড়ি আছে, যেটা আমাকে পয়েন্ট এ থেকে পয়েন্ট বি-তে নিয়ে যায়। কখনও কখনও খুব সমস্যা করে, ২০১০ মডেলের গাড়ি কি না। মাঝে মধ্যে একটা এসইউভি কিনতে ইচ্ছা করে, সন্তান গুলা একটু হাত-পা ছড়িয়ে বসবে, একটু উঁচু গাড়িতে চড়া হবে। আবার পরক্ষণেই হাসি, রিয়াদের রাস্তায় এখন নতুন সব এসইউভি মূলত মেয়েরাই চালায়! আমি কি আর মেয়ে নাকি?

আব্বার তেমন টাকা-কড়ির দরকার নাই, তবুও আমি তাকে মাসে মাসে কিছু দেই। আব্বা একবার এটা নিয়ে একটা সত্য কথা বলেছিলেন। যেটা অনেকেই খারাপ ভাবে নেয়, তবে আমি মনে করি তিনি বাস্তবতার চিত্রটিই তুলে ধরেছিলেন। সেবার আব্বাকে বলেছিলাম, তোমার যদি একলা থাকতে কষ্ট হয়, আমাকে বলো, আমি সব ছেড়ে দেশে চলে আসি। আব্বা বলেছিলেন, বিদেশে আছো, আমাকে কিছু টাকা দাও, আমি পিতা হিসাবে যেটুকু ভালোবাসি তার সাথে কিছু বাড়তি ভালোবাসা যোগ হয়। দেশে এসে তুমি যদি টাকা না দিতে পারো, তাহলে কি আর সেই বাড়তি ভালোবাসা থাকবে?

টাকার হিসাবে বাবার ভালোবাসা বাড়া কমা কথাটা অনেকেই মানতে পারেন না। কিন্তু আমি বুঝি কত গভীর সে কথা।

খুব ইচ্ছা করে, খুব খুব ইচ্ছা করে, "প্রচুরস" কামাতে ইচ্ছা করে। এতটাই "প্রচুরস" যেন......

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৬:১৫

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আবেগ দিয়ে যেমন বিবেক চলেনা ,
তেমনি বাস্তব জীবনে প্রচুরস কামালেও
চাহিদা মিটেনা ।

২| ০৩ রা জুন, ২০২৬ সকাল ৭:৪০

আলামিন১০৪ বলেছেন: কোন দেশে থাকেন আপনি?
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা গ্রুপ আছে, তো ছেলে পেলে সেই গ্রুপে এসে জিজ্ঞাসা করে- তার বাবা অসুস্থ্য এ অবস্থায সে ফুল ফান্ডিং এ আম্রিকাতে পিএইচডিতে যাবে কিনা। আপনার বাবার উত্তরটাই আমি দিই। বলি যে সেখানে গিয়ে ডলার পাঠান- সেবা করার লোকের অভাব হবে না। তা না হলে পরে আপনি নিজেই একসময় আফসোস করবেন। বাস্তবতা বড়উ কঠিন।

আপনার সংজ্ঞায় আইনস্টাইনের চেয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক সফলভ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.