| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পদ নেই তবুও
পদোন্নতি তছনছ প্রশাসন
প্রশাসনের ভারসাম্য
নষ্ট; জাতীয়
বাজেটে বাড়তি চাপ প্রচলিত আইনে মঞ্জুরিকৃত
পদের
বিপরীতে পদোন্নতি প্রদ
স্পষ্ট বিধান থাকলেও
তা মানা হচ্ছে না জনপ্রশ
এতে করে প্রশাসনের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। পদ
না থাকলেও পদের
অতিরিক্ত
পদোন্নতি প্রদান করায়
জনপ্রশাসন তছনছ
হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের আকার পিরামিড থাকার
কথা থাকলেও তা আর
থাকছে না। অতিরিক্ত
পদোন্নতি দেয়ার
ফলে পেটমোটা বেলুনের
আকার ধারণ করেছে বর্তমান
প্রশাসন। এতে ভারসাম্য
নষ্ট হয়ে পড়েছে। এর
ফলে এক দিকে চেইন অব
কমান্ড বাস্তবায়ন
থাকছে না। অন্য দিকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত
অতিরিক্ত কর্মকর্তাদের
পদায়ন
না করে ওএসডি করে রাখা
কাউকে কাউকে আগের
পদে রেখেই বেতনভাতা দেয়া হচ্ছে।
এর ফলে সরকারি ব্যয়ের
স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন
উঠেছে। কর্মকর্তাদের
পদোন্নতির সাথে তার
বেতনভাতাদিসহ অন্যান্য সুযোগ
সুবিধা বেড়ে যাওয়াতে জ
বাজেটে বাড়তি চাপ
পড়বে।
সরকারি কর্মচারীদের
যানবাহন ব্যয় ছাড়াই বর্তমানে বাজেটের ১৫
ভাগ অর্থ ব্যয় হয়
সরকারি কর্মচারীদের
বেতনভাতায়।
জনপ্রশাসনে সর্বশেষ
পদোন্নতির ঘটনা ঘটে গত ১৮ জুলাই। পদ
না থাকলেও এদিন
যুগ্মসচিব পদে ৩২৬
জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়
এ
ছাড়া লিয়েনে থাকা আরো ১৯ জন উপসচিবকে যুগ্মসচিব
করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
যুগ্মসচিবের অনুমোদিত
পদ ৩৬৮টি। এবারের
পদোন্নতির পর পদের
চেয়ে অতিরিক্ত কর্মকর্তার
সংখ্যা হবে ৫৯৫ জন।
আড়াইশ’
কর্মকর্তা আগে থেকেই
পদের অতিরিক্ত
রয়েছেন। বর্তমানে যুগ্মসচিবের
সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯১
জনে। শুধু যুগ্মসচিব নয়
একই প্রক্রিয়ায়
অতিরিক্ত পদোন্নতির
কারণে উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব
পর্যন্ত প্রতিটি পদেই
কর্মকর্তার সংখ্যা পদের
চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
আস্থাভাজন
সবাইকে খুশি রাখতে মেয় শেষ পর্যায়ে এসে সরকার
এ পদোন্নতি দিয়েছে।
কেউ কেউ বলছেন,
এটা নির্বাচনী পদোন্নত
নির্বাচন সামনে রেখে এ
পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এর পরও সব
যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও
বেশ কিছু
কর্মকর্তা পদোন্নতি থেক
হয়েছেন বলে অভিযোগ
উঠেছে। পঞ্চমবারের মতো এবারো অনেকেই
যুগ্মসচিব
পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চ
হয়েছেন। তাদের এক
কর্মকর্তা জানান, জোট
সরকারের আমলে জেলা প্রশাসকের
দায়িত্ব পালনই তার জন্য
কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন
ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চ
হওয়া ’৮৪ ব্যাচের বেশ কিছু
কর্মকর্তা এবারো বাদ
পড়েছেন।
পাশাপাশি এবার ’৮৫ ও
’৮৬ ব্যাচের বেশ কিছু
কর্মকর্তাও বাদ পড়েছেন। এবার
পদোন্নতি পাওয়া বেশির
ভাগ কর্মকর্তাই বিসিএস
১৯৮৬ ব্যাচের।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত দের মধ্যে ১৯৮৪ ব্যাচের
যোগ্য ১২৬ জনের
মধ্যে ৬০ জন, ১৯৮৫
ব্যাচের ২৮৭ জনের
মধ্যে ১২১ জন এবং ১৯৮৬
ব্যাচের ২০৪ জনের মধ্যে ১১৫ জন। বাকিদের
মধ্যে ১৯৮২ ব্যাচের
একজন এবং বিশেষ
ব্যাচের দুইজন। এর
মধ্যে প্রশাসন
ক্যাডারের ২৮৬ জন এবং অন্যান্য ক্যাডারের
৪০ জন
কর্মকর্তা রয়েছেন।
অতিরিক্ত এ পদোন্নতির
ফলে সরকারের ব্যয়
বেড়ে যাবে বলে কর্মকর্ত আগের পদে বহাল
রেখে উপসচিবের কাজ
করে একজন
কর্মকর্তাকে যুগ্মসচিবে
অতিরিক্ত বেতনভাতা ও
সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। এর ফলে রাষ্ট্রের আর্থিক
ক্ষতি বেড়ে যাবে। এ
ছাড়া পদোন্নতিপ্রাপ্ত
অনেক
কর্মকর্তাকে ওএসডিতে ব
করতে হবে। এ প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা বল
পদ সৃষ্টি না করেই
পদোন্নতি দেয়ার বিধান
রীতিমতো রেওয়াজে পরি
হয়েছে। অথচ প্রচলিত
আইনে পদ সৃষ্টি করে তবেই
পদোন্নতির স্পষ্ট বিধান
রয়েছে। পদ না থাকলেও
বেতন ঠিকই পাবেন।
এটাকে আর্থিক
শৃঙ্খলাপরিপন্থী বলে তারা বলেছেন।
তারা জানান, বিভিন্ন
সময় একাধিক
নীতিমালা প্রণীত হলেও
নিয়োগ, বদলি, পদায়ন,
পদোন্নতির েেত্র এসব নীতিমালা মানা হচ্ছে ন
সবকিছুই হয় ক্ষমতাসীন
সরকারের নীতি-
নির্ধারকদে র ইচ্ছে মাফিক।
পাশাপাশি পদোন্নতির
যে বিধিমালাটি (২০০২
সালে সংশোধিত)
বর্তমানে রয়েছে, সেটাও
সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।
কর্মকর্তারা জানান, সব
যোগ্যতা থাকার পরও
এবারে পদোন্নতি বঞ্চিত
হয় প্রায় ৩৫৪ কর্মকর্তা।
এর মধ্যে কোনো কোনো ব্যাচে
কিছু
কর্মকর্তাকে এবারের
পদোন্নতির জন্য
বিবেচনায় নেয়া হলেও
পরে বাদ দেয়া হয়েছে। বাদ
পড়া কর্মকর্তারা জানান,
তারা আর সহজেই
পদোন্নতি পাবেন
কি না এ নিয়ে সন্দেহ
রয়েছে। পরবর্তী পদোন্নতির সময়
নিয়ম অনুযায়ী তাদের
‘বাদ’ (লেফট আউট)
হিসেবে বিবেচনা করা হ
বর্তমানে উপসচিবের পদ
আছে ৮৩০টি। মহাজোট সরকারের আমলে কয়েক
দফা পদোন্নতির ফলে এ
সংখ্যা এখন এক হাজার
৭০৯ জন। সর্বশেষ গত
মার্চে এ পদে ১৮২ জন
কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দ অতিরিক্ত সচিবের
১০৭টি পদের
বিপরীতে রয়েছেন ২৪০
জন। বর্তমানে সচিব
আছেন ৭০ জন।
ওদিকে ওপরের স্তরে পদের
চেয়ে কর্মকর্তার
সংখ্যা অতিরিক্ত হলেও
নিচের স্তরের সিনিয়র
সহকারী সচিব ও
সহকারী সচিব পর্যায়ে এখনো অনেক পদ
ফাঁকা।
বর্তমানে সিনিয়র
সহকারী সচিব পদে আছেন
এক হাজার ৪৩০ জন।
কিন্তু পদ আছে এক হাজার ৮০০। সহকারী সচিব
(মাঠপর্যায়ে সহকারী কম
আছেন ৯৩৪ জন। নিচের
স্তরে কর্মকর্তার
অভাবে সহকারী কমিশনা
(এসি ল্যান্ড) প্রায় অর্ধেক পদই এখন শূন্য। এ
পরিস্থিতিতে মাঠপর্যা
সৃষ্টি হয়েছে। যুগ্মসচিব
পদে পদোন্নতি দেয়ার পর
প্রশাসনে কর্মকর্তাদের
মধ্যে আলোচনা- সমালোচনা চলছে। অনেকেই বলেছেন, দলীয়
আস্থাভাজনদের
পদোন্নতি দিতে গিয়ে যো
অভিজ্ঞ ও দক্ষ
কর্মকর্তাদের বঞ্চিত
করা হয়েছে। পদোন্নতি যোগ্য এমন
প্রায় ৩৫৪ জন
কর্মকর্তা এবারে পদোন্ন
হয়েছেন। পদের
বিপরীতে অতিরিক্ত
কর্মকর্তাদের বেতনভাতা জোগান
দিতে গিয়ে জাতীয়
বাজেটে বাড়তি চাপ
সৃষ্টি হবে বলে কর্মকর্তা
ওদিকে কাকে রেখে কাকে পদায়ন
করা হবে এ নিয়ে হিমশিম
খেতে হবে জনপ্রশাসন
মন্ত্রণালয়কে।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ,
কে আস্থাভাজন ও
সরকারদলীয় মনোভাবসম্পন্ন তা গোপন
তালিকা করেই এ
পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।
অনেক যোগ্য
কর্মকর্তাকে বিরোধীদল
মনোভাবসম্পন্ন বলে এ তালিকা থেকে বাদ
দেয়া হয়েছে।
©somewhere in net ltd.