নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বিশ্বজোড়া পাঠশালাতে সবাই ছাত্র-ছাত্রী, নিত্য নতুন শিখছি মোরা সদাই দিবা-রাত্রী!

নীল আকাশ

এই ব্লগের সমস্ত লেখা সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। আমার অনুমতি ছাড়া এই ব্লগের লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ করা যাবে না।

নীল আকাশ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মিলাদ পুরোপুরি বিদায়াত - একটা দলীল ভিত্তিক আলোচনা

১৭ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:৫৬



[সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম দীনের অনুসারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক হযরত মুহাম্মাদ ইব‌ন আব্দুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপর, যিনি আমাদেরকে কল্যাণকর সকল পথ বাতলে দিয়েছেন ও সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে সতর্ক করেছেন। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিবারবর্গ (আহলুল বাইয়াত) এবং উনার সাথীদের উপর, যারা তার আনীত দ্বীন ও আদর্শকে পরবর্তী উম্মতের নিকট যথাযথ ভাবে পৌঁছে দিয়েছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের অনুসরণ করবে তাদের সবার উপর।]

আল্লাহ তা’আলা তাঁর পবিত্র কুরআন শরীফে মানবজাতিকে একটি আদর্শ অনুসরণের ও অনেক বিধিবিধান পালনের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই তাঁর বিস্তারিত বিবরণ দেননি। এর ভার ন্যস্ত করেছেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর। তিনি নিজের কথা, কাজ ও আচার-আচরনের মাধ্যমে কুরআনের আদর্শ ও বিধান বাস্তবায়নের পন্থা ও নিয়ম কানুন বলে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআন শরীফকে কেন্দ্র করেই তিনি ইসলামের এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান পেশ করেছেন।
১। “আর তিনি মনগড়া কথাও বলেন না, এতো ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়” (সুত্রঃ সূরা আন-নজম, আয়াত ৩ ও ৪)
২। “তিনি যদি আমার নামে কিছু রচনা চালাতে চেষ্টা করতেন আমি অবশ্যই তাঁর ডানহাত ধরে ফেলতাম এবং কেটে নিতাম তাঁর জীবন ধমনী” (সূত্রঃ সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত ৪৪, ৪৫ এবং ৪৬)
৩। “রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা আল-হাশর, আয়াত ৭)

শুধুমাত্র রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রদর্শিত পথে যা যা অনুসরন করা হয় তাই ইবাদত। যদি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নতকে, তার প্রদর্শিত আদর্শকে বাদ দিয়ে নতুন কোন তরীকা কিংবা নতুন উদ্ভাবিত আকীদায় কাজ করা হয় তাকে বিদআত বলে। বিদআত মানে হল ধর্মের নামে নতুন কাজ, বেশী বুঝা, যা কিছুর প্রয়োজন নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আল্লাহ মনে করেননি নিজেরা সেটা আবিষ্কার করা (হতে পারে সেটা দেখতে ভালো কিংবা মন্দ) এবং সেটা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামে মিথ্যাচার করে চালিয়ে দেয়া। বিদআত শব্দের আভিধানিক অর্থ হল : اَلشَّيْءُ الْمُخْتَرَعُ عَلٰى غَيْرِ مِثَالٍ سَابِقٍ অর্থাৎ পূর্ববর্তী কোন নমুনা ছাড়াই নতুন আবিষ্কৃত বিষয়। (সূত্রঃ আন-নিহায়াহ, পৃঃ ৬৯, কাওয়ায়েদ মা’রিফাতিল বিদআ’হ, পৃঃ ১৭) আর শরীয়তের পরিভাষায়-
مَا أُحْدِثَ فِى دِيْنِ اللهِ وَلَيْسَ لَهُ أَصْلٌ عَامٌ وَلاَخَاصٌّ يَدُلُّ عَلَيْهِ. অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে নতুন করে যার প্রচলন করা হয়েছে এবং এর পক্ষে শরীয়তের কোন ব্যাপক ও সাধারণ কিংবা খাস ও সুনির্দিষ্ট দলীল নেই। (সূত্রঃ কাওয়ায়েদ মা’রিফাতিল বিদআ’হ, পৃঃ ২৪)
এ সংজ্ঞটিতে তিনটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে লক্ষনীয়ঃ
১) নতুনভাবে প্রচলন অর্থাৎ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবায়ে কিরামের যুগে এর কোন প্রচলন ছিল না এবং এর কোন নমুনাও ছিল না।
২) এ নব প্রচলিত বিষয়টিকে দ্বীনের মধ্যে সংযোজন করা এবং ধারণা করা যে, এটি দ্বীনের অংশ।
৩) নব প্রচলিত এ বিষয়টি শরীয়তের কোন ‘আম বা খাস দলীল ছাড়াই চালু ও উদ্ভাবন করা।
সংজ্ঞার এ তিনটি বিষয়ের একত্রিত রূপ হচ্ছে বিদআত, যা থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ শরীয়তে এসেছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞার এ বিষয়টি হাদীসে বারবার উচ্চারিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ
(وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُ(রাঃ)مُوْرِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ) رواه أبو داود والترمذى وقال حديث حسن صحيح.
‘‘তোমরা (দ্বীনের) নব প্রচলিত বিষয়সমূহ থেকে সতর্ক থাক। কেননা প্রত্যেক নতুন বিষয় বিদআ‘ত এবং প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা’’। [সূত্রঃ সূনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৯৯১ ও সূনানে আত-তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৭৬। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন।]
মহানবী রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এক খুতবায় বলেছেন:
إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الأُمُوْرِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ وَكُلُّ ضَلاَلَةٍ فِي النَّارِ. رواه مسلم والنسائى واللفظ للنسائى
“নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত প্রত্যেক বিষয় বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম”। (সহী মুসলিম, হাদীস নাম্বার ১৫৩৫ ও সুনান আন-নাসায়ী, হাদীস নং ১৫৬০, হাদীসের শব্দচয়ন নাসায়ী থেকে)

বিদআতের তিনটি মৌলিক নীতিমালা রয়েছে। সেগুলো হচ্ছেঃ
১) এমন আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সাওয়াবের আশা করা যা শরীয়ত সিদ্ধ নয়। কেননা শরীয়তের স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম হলো এমন আমল দ্বারা আল্লাহর নিকট সাওয়াবের আশা করতে হবে যা কুরআনে আল্লাহ নিজে কিংবা সহীহ হাদীসে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুমোদন করেছেন। তাহলেই কাজটি ইবাদাত বলে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে আমল অনুমোদন করেননি সে আমলের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করা হবে বিদআত।
২) দ্বীনের অনুমোদিত ব্যবস্থা ও পদ্ধতির বাইরে অন্য ব্যবস্থার অনুসরণ ও স্বীকৃতি প্রদান। ইসলামে একথা স্বতঃসিদ্ধ যে, শরীয়তের বেঁধে দেয়া পদ্ধতি ও বিধানের মধ্যে থাকা ওয়াজিব। যে ব্যক্তি ইসলামী শরীয়ত ব্যতীত অন্য বিধান ও পদ্ধতি অনুসরণ করল ও তার প্রতি আনুগত্যের স্বীকৃতি প্রদান করলো সে বিদআতে লিপ্ত হল।
৩) যে সকল কর্মকান্ড সরাসরি বিদআত না হলেও বিদআতের দিকে পরিচালিত করে এবং পরিশেষে মানুষকে বিদআতে লিপ্ত করে, সেগুলোর হুকুম বিদআতেরই অনুরূপ।
(সূত্রঃ বিদআত পরচিতির মূলনীতি, লেখকঃ মোহাম্মাদ মানজুরে ইলাইহি, ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রিয়াদ)

নিচের লেখায় আমরা দেখবো কেন এবং ঠিক কী কারনে মিলাদ কিয়াম সরাসরি শরীয়ত বিরোধী কর্মকান্ড।

মিলাদের নামে ভণ্ডামী এবং লোভঃ
উপমহাদেশের বিশেষ করে, আমাদের দেশের বিভিন্ন হুজুররা বিভিন্ন জায়গায় মিলাদ পড়ান এবং মিলাদের পক্ষে নির্লজ্জের মতো সাফাই গেয়ে বেড়ান। সাধারন মুসলিমদের পক্ষে শরিয়তের নিয়ম কানুন পুরোপুরি জানা কঠিন বিষয়, যেহেতু এইসব বিধি-বিধান আরবীতে লেখা থাকে। এরা এই সুযোগটাই নেয় এবং নিজেরা তো ইতিমধ্যেই অর্থের লোভে পরে পথভ্রষ্ট হয়েছে, কিন্তু সাথে তারা সাধারন মানুষজনকে পথভ্রষ্ট করার অপচেষ্টা চালায়। মিলাদের প্রতি তাদের এত অতি আগ্রহের একমাত্র কারণ হলো অর্থনৈতিক। আজ পর্যন্ত কোন হুজুর’কে বিনা পয়সায় মিলাদ পড়াতে দেখেছেন? অবশ্যই না। শয়তানের ঢোকায় পড়ে এরা নফসকে অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছে দুনিয়াবী কিছু টাকাপয়সার জন্য। এদের সর্ম্পকে পবিত্র কুরআন শরীফে সুস্পষ্টভাবে লেখা আছেঃ
“আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে আপন পেট পূর্ণ করে। শেষ বিচারের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদেরকে (পাপ-পঙ্কিলতা থেকে) পবিত্রও করবেন না; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারাই সুপথের বদলে কুপথ এবং ক্ষমার বদলে শাস্তি ক্রয় করেছে, (দোযখের) আগুনে তারা কতই না ধৈর্যশীল!” (সূত্রঃ সূরা বাকারা আয়াত ১৭৪ ও ১৭৫)

এইসব ভণ্ড হুজুররা সুকৌশলে বিয়ের পূর্বে, বিয়ে পড়ানোর পরে, নতুন বাড়ি/গাড়ি/ দোকান, কোম্পানি উদ্বোধন, বাড়ির কল্যাণ কামনা, কারো অসুস্থতা কামনা, মৃত্যুবার্ষিকী, চেহলাম, চল্লিশা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মউৎসব (ঈদে মিলাদুন্নবী যা সর্ম্পূণ হারাম), বিশেষ কোন দিবস পালন বা বিশেষ কোনো উপলক্ষে মিলাদ পালনের জন্য উৎসাহ দেয় এবং নিজেরা এইসব মিলাদ পরিচালনা করে। আচ্ছা এইসব মিলাদে তারা কী করে? বিভিন্ন না’ত এবং দরুদ আবৃত্তি করে দলবব্ধভাবে। অথচ মিলাদ একা কিংবা দলবদ্ধ কোনভাবেই করার শরীয়ত অনুমতি নেই।

মিলাদ সর্ম্পূণ বিদআত, কারণ প্রকৃতপক্ষে ইসলামে মিলাদের কোনো অস্তিত্বই নাই। ইসলামের সোনালী অধ্যায়ের তিন শতাব্দী তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগ, সাহাবীদের যুগ এবং তাবেঈনের যুগ পার হয়ে গেলেও ইতিহাসে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না যে, কোন একজন সাহাবী, তাবেঈ বা তাবে তাবেঈ মিলাদ উদযাপন করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাদের ভালোবাসা কি কম ছিল? না কি তারা ইসলাম বুঝতেন না? কখনই নয়। বরং তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসতেন। হাসিমুখে ইসলামের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও একমুহূর্তও দ্বিধা করতেন না। তারা ছিলেন তার সুন্নত-আদর্শ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং শরীয়ত বিধিবিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী।

মিলাদের যদি কোন উপকার থাকতো, সওয়াব পাওয়া যেত তবে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তাঁর উম্মতকে স্পষ্টভাবে তা পালন করার কথা বলে যেতেন। কারণ দুনিয়া-আখিরাতের এমন কোন কল্যাণকর দিক নেই যা তিনি তার উম্মতকে বলে দেননি কিংবা এমন কোন ক্ষতিকর দিক নেই যে ব্যাপারে তিনি সাবধান করেননি। বরং তিনি দ্বীনের ভিতর নতুন নতুন বিদআত তৈরি করার ব্যাপারে কঠিন ভাবে সতর্ক করে গেছেন।
তিনি বলেন: وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ
‘তোমরা (দ্বীনের) নব প্রচলিত বিষয়সমূহ থেকে সতর্ক থাক। কেননা প্রত্যেক নতুন বিষয় বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা’’। [সূত্রঃ সূনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৯৯১ ও সূনানে আত-তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৭৬। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন।]

তারা বলে মিলাদে দরুদ পড়লে দোষ কোথায়?
শরীয়ত বিধান হলো যে পদ্ধতিতে কোন ইবাদত খাইরুল কুরুনে আদায় করা হতো না, সেটিকে জরুরী মনে করে বা একমাত্র পদ্ধতি মনে করে, বা আবশ্যকীয় পদ্ধতি বানিয়ে উক্ত ইবাদত করা অবশ্যই বিদআতের শামিল। তাই দরূদ পড়া যদিও উত্তম ও সওয়াবের কাজ, কিন্তু এভাবে মাহফিল করে সম্মিলিতভাবে করার বিশেষ পদ্ধতি কোনকালেই খাইরুল কুরুনে ছিল না। তাই এটিকে আবশ্যকীয় বা জরুরী মনে করে করলে তা পরিস্কারভাবেই বিদআত হবে। এতে কোন সন্দেহই নেই।

দরুদ ও সালাম পাঠের নিয়ম হলো প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত ভাবে পৃথক পৃথক ভাবে দরুদ ও সালাম পাঠ করবে, সমাবেতভাবে না। আজকাল সমাজে মিলাদের নামে সম্মিলিতভাবে সমবেত কন্ঠে যে দরুদ ও সালাম পাঠ করা হয় তার সপক্ষে কুরআন ও হাদিসের কোন ভিত্তি নেই। অথচ এরা এটাই শুধুমাত্র ব্যবসায়িক স্বার্থে সবজায়গায় করে বেড়াচ্ছে মিলাদের অসীলায়।
টাকাপয়সার লোভ এদের কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে ভেবে দেখুন?
.
কুরআন তথা আল্লাহর কিতাব, মহানবীর সুন্নাত, সাহাবাদের আমল এবং সম্মানিত তিন যুগ তথা নবীযুগ, সাহাবী-যুগ ও তাবেঈ/তাবে-তাবেঈন যুগে এইধরনের কোনো আমলের অস্তিত্ব অনুপস্থিত। যদি ধরেও নিই, মিলাদ ও কিয়ামের উদ্দেশ্য স্রেফ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি কামনা, তাহলে এ কথা বলা বাহুল্য যে, যেই ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি কামনা করা হবে, কুরআন বা সুন্নাহে অবশ্যই তার পক্ষে দলীল থাকতে হবে। কুরআন-সুন্নাহ’র সুস্পষ্ট দলীল বিহীন, উপরন্তু সম্মানিত তিন যুগে নজিরবিহীন নব উদ্ভাবিত কোনো আমল কোনোভাবেই শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। এটা সরাসরি সহী হাদিস মোতাবেক বিদআত।

মিলাদ এবং কিয়ামের উৎপত্তি নিয়ে ভয়ংকর মিথ্যাচারঃ
মিলাদের উৎপত্তি নিয়ে আসল সত্য এরা জেনেশুনেই গোপণ করে রাখে। আসুন, মিলাদ নিয়ে আসল ঘটনা সবাই জানি। মিলাদ শব্দের অর্থ জন্ম বা জন্মকাল। যে কারো জন্মের সাথে সম্পৃক্ত করেই তা ব্যবহার করা যায়। যেমন, আমার মিলাদ তথা আমার জন্ম বা জন্মকাল। তবে প্রচলিত অর্থে সাধারণত এইশব্দকে নবীজী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মের সাথে সম্পৃক্ত করে ব্যবহার করা হয়। সহজ করে বললে সমাজে নবীজীর জন্ম ও জন্মকালকে বোঝাতেই মিলাদ শব্দটির ব্যবহার বহুল প্রচলিত। পরবর্তীতে রাসূলের জন্ম ও জন্মকালকে উপলক্ষ করে ঘটা করে কিছু লোকের সম্মিলনে নানান ভাষায় নানান সুরে নবীজীর শানে রচিত কাসিদা বা কবিতা পাঠ, দরুদ পাঠ ইত্যাদি কার্যকলাপকে কেউ কেউ ‘মিলাদ’ হিসেবে নাম দান করেন। যদিও শাব্দিক অর্থে তা মিলাদ নয়; কিন্তু সামাজিক আবহে দ্রুতই একটি ভয়ংকর ভুল ধারনা গড়ে উঠে।

মিলাদের নামে যা করা হয় সেটা প্রকৃতপক্ষে এসেছে ঈদে মিলাদুন্নবী থেকে। এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীতে সংকলিত অর্ধশতাধিক সনদভিত্তিক হাদীসের গ্রন্থ, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কর্ম, আচার-আচরণ, কথা, অনুমোদন, আকৃতি, প্রকৃতি ইত্যাদি সংকলিত রয়েছে, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীদের মতামত ও কর্ম সংকলিত হয়েছে, সে সকল গ্রন্থের একটিও সহীহ বা দুর্বল হাদীসে দেখা যায় না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় বা তাঁর মৃত্যুর পরে কোন সাহাবী সামাজিকভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর জন্ম উদযাপন, জন্ম আলোচনা বা জন্ম উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কোন দিনে বা অনির্দিষ্টভাবে বৎসরের কোন সময়ে কোন অনুষ্ঠান করেছেন। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই ছিলেন তাঁদের সকল আলোচনা, সকল চিন্তা চেতনার প্রাণ, সকল কর্মকান্ডের মূল। তাঁরা রাহমাতুল্লিল আলামীনের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) জীবনের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাঁর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা আলোচনা করে তাঁর ভালোবাসায় চোখের পানিতে বুক ভিজিয়েছেন। তাঁর আকৃতি, প্রকৃতি, পোষাক আশাকের কথা আলোচনা করে জীবন অতিবাহিত করেছেন। কিন্তু তাঁরা কখনো তাঁর জন্মদিন পালন করেননি। এমনকি তাঁর জন্মমুহুর্তের ঘটনাবলী আলোচনার জন্যও তাঁরা কখনো বসেন নি বা কোন দান-সাদকা, তিলাওয়াত ইত্যাদির মাধ্যমেও কখনো তাঁর জন্ম উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করেননি। তাঁদের পরে তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীদের অবস্থাও তাই ছিল। বস্ত্তত: কারো জন্ম বা মৃত্যুদিন পালন করার বিষয়টি আরবের মানুষের কাছে একেবারেই অজ্ঞাত ছিল। জন্মদিন পালন ‘‘আ‘জামী’’ বা অনারবীয় সংস্কৃতির অংশ। প্রথম যুগের মুসলিমগ তা জানতেন না। পারস্যের মাজুস (অগ্নি উপাসক) ও বাইযান্টাইন খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল জন্মদিন, মৃত্যুদিন ইত্যাদি পালন করা। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে পারস্য, সিরিয়া, মিসর ও এশিয়া মাইনরের যে সকল মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আসেন তাঁরা জীবনের সকল ক্ষেত্রে সাহাবীদের অনুসরণ অনুকরণ করতেন এবং তাঁদের জীবনাচারণে আরবীয় রীতিনীতিরই প্রাধান্য ছিল। হিজরী তৃতীয় শতাব্দী থেকে মুসলিম সাম্রাজ্যে অনারব পারসিয়ান ও তুর্কী মুসলিমদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে মুসলিম সাম্রাজ্যে বিভিন্ন নতুন নতুন সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতির প্রচলন ঘটে, তন্মধ্যে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী অন্যতম।

ঐতিহাসিকগণ বলেন, জন্মদিনের নামে যারা সর্বপ্রথম এই বিদআতকে রূপদান করে তারা হলো ফাতেমী রাজবংশ যারা নিজেদেরকে হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর বংশধর বলে দাবী করতো। (সূত্রঃ আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১১/২০২)। ফাতেমীর হচ্ছেন উবাইদ বংশের রাফেযী ইসমাঈলী শিয়াগণ। এরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ২ ঈদ ছাড়াও আরো বিভিন্ন দিন পালন করতেন, তন্মধ্যে অধিকাংশই ছিল জন্মদিন। তাঁরা অত্যন্ত আনন্দ, উৎসব ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৫টি জন্মদিন পালন করতেন:
১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন,
২) আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্মদিন,
৩) ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার জন্মদিন,
৪) হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্মদিন ও
৫) হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্মদিন।
এ ছাড়াও তারা তাদের জীবিত খলীফার জন্মদিন পালন করতেন এবং ‘‘মীলাদ’’ নামে ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মদিন (বড়দিন বা ক্রীসমাস), যা মিশরের খ্রিষ্টানদের মধ্যে প্রচলিত ছিল তা আনন্দপ্রকাশ, মিষ্টি ও উপহার বিতরণের মধ্য দিয়ে উদযাপন করতেন। (সূত্রঃ আল-মাকরীযী, আহমদ বিন আলী, আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল ইতিবার বি যিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - মিশর, কাইরো, মাকতাবাতুস সাকাফা আদ দীনীয়্যাহ, ৪৯০-৪৯৫ পৃষ্ঠা)। এই ফাতিমীদের মূল লক্ষ্য/উদ্দেশ্য ছিল, দ্বীন ইসলামের মাঝে পরিবর্তন সাধন করে তার মধ্যে এমন নতুন কিছু ঢুকানো যার অস্তিত্ব দ্বীনের মধ্যে কোনকালেই ছিল না। কারণ, ইসলামী শরীয়ত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত থেকে মানুষকে দূরে সরানোর সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হল, তাদেরকে বিদআতের মধ্যে ব্যতিব্যস্ত রাখা। ইতিহাসবিদদের মতে, এদের অবস্থান ইসলাম থেকে শুধু দূরেই নয় বরং এরা ইসলাম ও মুসলমানদের ঘোরতর দুশমন। যদিও এরা বাহ্যিকভাবে তা স্বীকার করে না। উবাইদিয়াদের শাসনামলে মিলাদ চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে তা ব্যাপকতা লাভ করতে লাগল। মুসলমানগণ জিহাদ ছেড়ে দিল এবং তারা রূহানী ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় এই বিদআতটি সাধারণ মানুষের মনে শিকড় গেড়ে বসল। এমনকি অনেক মহা মূর্খ মানুষের নিকট এটা আকীদা-বিশ্বাসের একটি অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায়ও তাঁর জন্মদিন পালন কিংবা জন্ম উপলক্ষে কখনো কোনো আয়োজন করা হয়নি। নবীজীর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরামের সুদীর্ঘ যুগ থেকেও এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ বা সাক্ষী পাওয়া যায় না। এমনকি সাহাবায়ে কেরামের পর যে তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈনের যুগেও এইধরণের কোনো উৎসব-আয়োজন ইত্যাদির নজির নেই।

প্রশ্ন জাগে, তাহলে মিলাদ আসলো কোত্থেকে? এর উত্তর হচ্ছে, মিলাদ মূলত হিজরী ৬ষ্ঠ শতাব্দীর পরবর্তী সময়ের উদ্ভাবন। এর আগ পর্যন্ত ‘মিলাদ’ বলতে কোনো উৎসব আয়োজন বা আমল হতে পারে এমন কল্পনাও কারো মাথায় আসেনি। সর্বপ্রথম হিজরী ৬ষ্ঠ শতাব্দীর পর সম্পূর্ণ আমোদ-প্রমোদের উদ্দেশ্যে বাদশা মুজাফফররুদ্দীন আবু সাঈদ কূকুবূরী বিন আরবাল এর উদ্বোধন করেন। (সূত্র: আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-১৩/১৫৯). সউদী আরবের সাবেক প্রধান মুফতি শাইখ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম আলুশ শাইখ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হিজরি ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে এই বিদআত তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিবস পালনের প্রথা সর্বপ্রথম চালু করেন আবু সাঈদ কূকুবূরী। [সূত্রঃ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়েল ৩/৫৯]

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৬০৪ হিজরী সনে ইরাকের মসূল শহরের বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফর উদ্দীন কূকুবূরী [মৃত-৬৩০ হিজরী] এবং আবুল খাত্তাব ওমর বিন দিহইয়া [মৃত্যু-৬৩৩ হিজরী] এর মাধ্যমে সর্বপ্রথম প্রচলিত পদ্ধতির মিলাদ মাহফিলের সূচনা হয়। বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিজে হাদীস আল্লামা ইবনে কাছীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেনঃ ﻛﺎﻥ ﻳﺼﺮﻑ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﻛﻞ ﺳﻨﺔ ﻋﻠﻲ ﺛﻼﺛﺔ ﺍﻟﻒ ﺩﻳﻨﺎﺭ
অর্থ: আরবলের বাদশা হযরত মালিক মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রতি বছর পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী উপলক্ষে তিন লক্ষ দিনার ব্যয় করতেন।” (সূত্রঃ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩ তম খন্ড ১৩৭ পৃষ্ঠা) সেইসময়ে শুধুমাত্র ১২ই রবিউল আওয়ালে তা পালন করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে তা যেকোন দুআ’র অনুষ্ঠানেই পালন করা শুরু হয়। উক্ত দরবারী আলেম আবুল খাত্তাব বিন ওমর বিন দিহইয়া সর্বপ্রথম মিলাদ মাহফিলের বৈধতা প্রদান করে “আততানবীর ফী মাওলিদিসসিরাজিম মুনীর” নামে একটি গ্রন্থ রচনা করে। ফলে বাদশা খুশি হয়ে উক্ত আলেম’কে হাজার দিনার বখশীশ দান করেন। (সূত্রঃ- আন নিয়ামাতুল কুবরা আলাল আলম পৃঃ ৭৬, ৯ম শতাব্দী আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতি রহমতুল্লাহি আলাইহি এর ফতওয়া সূত্র বর্ণিত) আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত “আল হাবীলিল ফতওয়া” নামক কিতাবে বর্ণনা করেন,“যিনি এই প্রকার মীলাদ মাহফিলের প্রবর্তন করেন, তিনি হলেন আরবালের বাদশাহ্ মালিক মুজাফফর আবূ সাইদ বিন জয়নুদ্দীন।”
আবুল খাত্তাব বিন ওমর বিন দিহইয়া সম্পর্কে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ লিখেন-
كثير الوقيعة في الأئمة وفي السلف من العلماء خبيث اللسان أحمق شديد الكبر قليل النظر في أمور الدين متهاونا
সে পূর্ববতী ইমাম ও আলেম উলামাদের সাথে বেয়াদবীমূলক আচরণ করতো। সে ছিল অশ্লীলভাষী, প্রচন্ড নির্বোধ, অহংকারী দ্বীন সম্পর্কে সংকীর্ণমনা ও অলস। (সূত্রঃ লিসানুল মিযান-১/৩৩৮)

ঘটনা এখানেই শেষ না। এইসব মিলাদপন্থী মানুষ মিলাদ পালনের নামে এই ভয়ংকর বিদআতের সাথে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে জুড়ে দিয়েছে কিয়ামের প্রথাটিকে, মানে মিলাদের মাঝে হূট করে দাঁড়িয়ে দরুদ পাঠ। এর আবিষ্কারও হয়েছে মিলাদেরও প্রায় ১০০ বছর পরে। অর্থাৎ ৭৫১ হিজরির দিকে। খাজা তকিউদ্দিন ছিলেন একজন ভাব কবি ও মাজযুব ব্যক্তি। নবীজীর শানে তিনি কিছু কাসিদা (কবিতা) রচনা করেন। বরাবরের ন্যায় একদিন তিনি কাসিদা পাঠ করছিলেন এবং ভাবাবেগে হঠাৎ তিনি দাঁড়িয়ে কাসিদা পাঠ করতে লাগলেন। ভক্তরাও তাঁর দেখাদেখি দাঁড়িয়ে গেল। ঘটনা এখানেই শেষ। তিনি আর কখনো এমনটি করেননি। এখানে একটা বিষয় লক্ষনীয় যে, খাজা তকিউদ্দিন কবিতা পাঠ করতে করতে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। বলা বাহুল্য, এটি কোনো মিলাদের অনুষ্ঠান ছিল না এবং ঘটনা এখানেই শেষ। জীবদ্দশায় তিনি আর কখনো এমনটি করেন নি। খাজা তাকিউদ্দিনের এই অনিচ্ছাকৃত দাঁড়িয়ে পড়াটাকেই মিলাদ জন্মের প্রায় একশত বছর পর এসে এইসব মিলাদপন্থীরা মিলাদের সঙ্গে জুড়ে দেয়। ফলে কিয়ামযুক্ত মিলাদ বিদআত হওয়ার বিষয়টি আরো সুস্পষ্ট হয়ে উঠে।

মিলাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'কে হাজির নাজির মনে করে কিয়াম করা তো রীতিমতো শিরক। হাজির নাজির মনে না করলেও এর কোন শরীয়ত ভিত্তি নেই। প্রচলিত মিলাদ, কিয়াম নাজায়েজ ও বিদআতের অন্তর্ভুক্ত বলেই সকল হক্কানী ওলামায়ে কীরাম একবাক্যে ঘোষনা দিয়ে থাকেন। কারন হচ্ছেঃ
হযরত আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “সাহাবাদের নিকট রাসূল (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা প্রিয় কেউ ছিল না। তদুপরি হৃদয়ে এত মহব্বত পোষণ করা সত্বেও যখন তাঁরা প্রিয় রাসূল (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম)’কে দেখতেন তখন সাহাবারা দন্ডায়মান হতেন না। কেননা, তাঁরা একথা ভালোভাবেই জানতেন যে, রাসূল (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম)’কে দেখে আমরা ‘দন্ডায়মান’ হই এটি তিনি পছন্দ করতেন না।" (সূত্রঃ মিশকাত শরীফ, হাদিস নাম্বার ৪৬৯৮ , সহী তিরমিজী শরীফ হাদিস নাম্বার ২৭৫৪, সহী আহমাদ হাদিস নাম্বার ১২৩৭০, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাদিস নাম্বার ২৫৫৮৩)

আবূ মিজলায (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত মু'আবিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বাইরে বের হলে তাকে দেখে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর ও ইবনু সাফওয়ান দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি বললেন, তোমরা দু’জনেই বসো। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’কে বলতে শুনেছিঃ এতে যে লোক আনন্দিত হয় যে, মানুষ তার জন্য মূর্তির মতো দাড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান নির্দিষ্ট করে নেয়। (সূত্রঃ সূনান আত-তিরমিজী হাদিস নাম্বার ২৭৫৫, মিশকাত শরীফ হাদিস নাম্বার ৪৬৯৯, সূণানে আবু দাউদ হাদিস নাম্বার ৫২২৯)

মিলাদকে সত্যিকারের ইবাদত মনে করা মারাত্মক গুনাহের সমতূল্য
মিলাদ কিয়ামের মত নব্য বিদআত আবিস্কার করা এইকথা প্রমান করে যে, আল্লাহ তা’আলা দ্বীনকে উম্মতের জন্য পরিপূর্ণ করেননি। তাই দ্বীনের পরিপূরক হিসেবে এখনও নতুন কিছু আবিস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াও বুঝা যায় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিজের উম্মতের জন্য কল্যাণকর সকল বিষয়ের প্রচার করে যাননি। যেইকারণে পরবর্তীতে আল্লাহর এবং তার রাশূলের অনুমোদন ব্যতিরেকে শরীয়তে নতুন কিছু আবিষ্কারের প্রয়োজন হয় যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। এটা চুড়ান্ত পর্যায়ের ভুল, আল্লাহর ভুল ধরা মারাত্মক গুনাহের কাজ। এটা আল্লাহর দুশমন ইয়াহুদী-খ্রিষ্টান কর্তৃক তাদের ধর্মে নব প্রথা সংযোজনের সাথে সামঞ্জস্য স্বরূপ এবং আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপর একধরণের মারাত্মক অভিযোগ! অথচ আল্লাহ তা’আলা তাঁর দ্বীনকে পরিপূর্ণ ও বান্দাদের জন্য সকল নিয়ামত সস্পূর্ণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআন শরীফে সুস্পষ্টভাষায় ঘোষনা করেছেনঃ
اَلْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكَمْ نعْمَتِيْ وَ رَضِيْتُ لَكُم الإِسْلامَ دِيْنًا
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম ও আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম”
। (সূত্রঃ সূরা মায়দাহ, আয়াত নাম্বার ৩)

কুরআন ও সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা এবং খোলাফায়ে রাশেদীন ও তাবেয়ীদের প্রদর্শিত পথে চলার ভিতরেই রয়েছে একমাত্র মুসলমানদের জন্য ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ ও মুক্তি। কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লালাহু আলাহসি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়ে গেছেনঃ
“তোমাদের জন্য আবশ্যক আমার ও আমার পরবর্তী হেদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরা যেভাবে দাঁত দিয়ে কোন জিনিস দৃঢ়ভাবে কামড়ে ধরা হয়। আর শরীয়তে নিত্য নতুন জিনিস আবিস্কার করা হতে বেঁচে থাকো। কেননা সকল নবসৃষ্ট বস্তুই বিদআত। আর প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহী।“ (সূত্রঃ সূনানে আবু দাউদ, অধ্যায় ৩৫/সুন্নাহ, হাদিস নাম্বার ৪৬০৭)

বর্তমানে ধর্মকে ব্যবসা বানিয়ে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে এইসব হুজুররা টাকাপয়সা নিয়ে মিলাদ, ফাতিহা, ওয়াজ, নসিহত, মৃতের জন্য জানাযার দোয়া সহ ধর্মীয় বিভিন অনুষ্ঠানের আয়োজনে তাগাদা দেয়, যার কোন শরীয়ত ভিত্তি নেই। ইসলামকে পুঁজি করে আগুনখোর এই ধর্মজীবিরাই কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে সবাইকে দূরে সরিয়ে রেখে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করছে। যারা আল্লাহর আয়াতকে বিকিকিনির পণ্য বানায় তারা ধর্ম ব্যবসায়ী, যারা সত্য প্রচারের জন্য পারিশ্রমিক নেবার উসিলা বানায় তারাই স্রষ্টার দৃষ্টিতে পথভ্রষ্ট।

সম্মানিত পাঠকবৃন্দ-
১। খুলাফায়ে রাশিদীনের প্রথম খলিফা হচ্ছেন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু, যাকে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম নিজের বন্ধু হিসেবে ঘোষনা করে গেছেন।
মিলাদ যদি মহানবীর সম্মানের জন্য করা হয়, কেন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার বন্ধুর জন্য এই আয়োজন করেনি?

২। খুলাফায়ে রাশিদীনের দ্বিতীয় খলিফা হচ্ছেন হযরত উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম নিজেই বলে গেছেন শয়তান পর্যন্ত হযরত উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু’কে ভয় পেতেন। যিনি ইসলামী খিলাফতে শরীয়ত আইনের সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন করে গেছেন।
মিলাদ যদি মহানবীর সম্মানের জন্য করা হয়, কেন হযরত উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়োজন করেননি?

৩। খুলাফায়ে রাশিদীনের তৃতীয় খলিফা হচ্ছেন হযরত উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু। উনার উপাধি ছিল ‘জুন্নুরাইন’ যার অর্থ ‘দুই আলোর অধিকারী’, উনি মহানবীর দুইজন কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন।
মিলাদ যদি মহানবীর সম্মানের জন্য করা হয়, তাহলে কেন হযরত উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের শ্বশুরের জন্য এই আয়োজন করেননি?

৪। খুলাফায়ে রাশিদীনের চর্তুথ খলিফা হচ্ছেন হযরত আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম তাকে আপণ সন্তানের মতো করে নিজের ঘরে লালন পালন করেছেন এবং নিজের সবচেয়ে আদরের কন্যা হযরত ফাতিমা জাহরা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে বিবাহ দিয়েছেন। বলা হয়ে থাকে মহানবী যদি জ্ঞানের নগরী হন তাহলে হযরত আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটাতে প্রবেশের দরজা।
মিলাদ যদি মহানবীর সম্মানের জন্য করা হয়, তাহলে কেন হযরত আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু পিতৃতূল্য শ্বশুরের জন্য এটার আয়োজন করেননি?

এটা সর্বসম্মতিক্রমে একনিষ্ঠভাবে প্রমানিত যে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ২৩ বছর, খুলাফায়ে রাশেদীনের আনুমানিক ৩০ বৎসর, এরপর প্রায় ২২০ হিজরী পর্যন্ত তাবেঈন, তাবে তাবেঈনের যুগ, এরপর প্রায় ৪০০ হিজরী পর্যন্ত ইমাম ও মুজতাহিদীনের যুগ, এরপর প্রায় ৬০৩ হিজরী পর্যন্ত ইসলামের স্বর্নযুগেও প্রচলিত মিলাদ কিয়াম এর কোন অস্তিত্ব ছিল না। সর্বপ্রথম ৬০৪ হিজরী মোতাবেক ১২১৩ খৃষ্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মিলাদের প্রচলন হয়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআন শরীফ শুরুই করেছেন ইকরা অর্থাৎ পড়ো দিয়ে। তিনি আমাদের জ্ঞান অর্জন করার জন্য সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। এই পার্থিব জগতের বহু বিষয়ই তো শিখলেন, বুঝলেন। অথচ অনন্তর যে জীবন আমাদের কাটাতে হবে তার জন্য প্রায় কিছুই শিখছেন না। আপনার কি মনে হয় নবীর সুন্নাহ এবং হাদীস প্রকৃতভাবে না মানলে পরকালের জীবন সুখের কাটবে? ইসলামের শত্রুরা অনেকদিন ধরেই এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে যেন মুসলিমরা নবীর সুন্নাহ এবং হাদিস এর থেকে মুখ ঘুরিয়ে বিদআত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে থাকে। তা না হলে ইসলামে ব্যাপক ক্ষতি করা কখনই সম্ভব না। ভেবে দেখুন নিজের অজান্তেই এই ভয়ংকর কাজে শরীক হয়ে যাচ্ছেন নাতো?

সুতরাং মহানবীর সহী হাদিস মোতাবেক নব্য আবিষ্কৃত এই মিলাদ-কিয়াম অনুষ্ঠানটি নিঃসন্দেহে চরমতম বিদআত ও সর্ম্পূণভাবে নাজায়েজ। এইসব বিদআত থেকে তওবা করে ফিরে আসার সময় এখনো সবার জন্য শেষ হয়ে যায়নি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট হয়ে গেলে কী করতে হবে সেটাও বলে দিয়েছেনঃ
“হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর ও আনুগত্য করো রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর”। (সূত্রঃ সূরা আন নিসা, আয়াত ৫৯)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে সিরাতুল মুস্তাকীমের পথে চলার তৌফীক দান করুন, আমীন।

সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত @ নীল আকাশ, মে ২০২১

মন্তব্য ৫৮ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (৫৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ১২:৪৯

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: মাশাআল্লাহ সুন্দর পোস্ট দিয়েছেন । আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান করুন

১৭ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩০

নীল আকাশ বলেছেন: আমীন।
ধন্যবাদ আপু।

২| ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ১:২৮

লাইলী আরজুমান খানম লায়লা বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। আমাদের দেশে ঘটা করেই মিলাদ পড়া হয়। মিলাদ কি কোরআন এবং হাদিস সম্মত কিনা তা আমরা জানতে চেষ্টা করি না। আপনার পোস্টের মাধ্যমে অনেক বিষয়গুলো পরিষ্কার ধারনা পেলাম। পোস্টটি প্রিয়তে নিয়ে গেলাম

১৭ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪০

নীল আকাশ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। এই লেখার মূল উদ্দেশ্যে আসলে সেটাই। সবাই যেন জানতে পারে উপলব্ধি করতে পারে ধর্মের নামে এরা কীভাবে ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। আমি পুরো লেখা সরাসরি কুরআন শরীফ এবং সহী হাদিসের উপর নির্ভর করে। আশা করছি সবার ভুল ধারনা ভেঙ্গে দিতে পেরেছি।
শুভ কামনা নিরন্তর।

৩| ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ১:৪৬

নতুন বলেছেন: ইদে মিলাদুন্নবী পুরাই ব্যবসার জন্য সৃস্টি করেছে পীর, মাজার পুজারীরা।

রাজারবাগীরা ইদে মিলাদুন্নবী অনুস্ঠানে পীরের দরবারে খরচ করাটা ফরজ বলে প্রচার করে। কিছু পীরের দরবারে ক্রেডিট কাডে প‌্যামেন্ট নেয়। তারা হারাম সুদী পদ্বতি ব্যবহার করে টাকা সংগ্রহের জন্য।

দেশের ভন্ডামীর মুখোশ খুলতে ধর্মীয় অনুস্ঠানে টাকা পয়সার আমদানি কমিয়ে দিন তখন দেখতে পারবেন কয়টা মাজার,দরগা,পীরের দরবারে খাদেমা বসে থাকে।

মসজীদে নামাজে এলাকার মানুষ আজান দিতে পারে, উপস্থিত মুসুল্লীর মাঝে জ্ঞানী.বয়স্ক মানুষ নামাজে ইমামতি করতে পারে, মৃত্যের আত্নীয় জানাজা নামাজ পড়াতে পারে, আকিকা করতে পারে, কুরবানী করতে পারে। ধর্ম বিক্রি করে খাবার জন্য হুজুর প্রজাতী সৃস্টির কোন দরকার নাই।

১৭ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৫

নীল আকাশ বলেছেন: বিরাট ব্যবসা। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ফাও ফাও অনেক টাকাপয়সা বানানো যায়। লোকজন ধর্মের ভয়ে মুখও খুলবে না। এটা তো বছরে মাত্র একবার। আর মিলাদ সারাবছর ধরে। যত পাবলিককে বোকা বানানো যাবে তত বেশি ইনকাম।
সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৪| ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ১:৫০

সাইফুল ইসলাম৭১ বলেছেন: আপনাদের মুসলমান হওয়ার আগে মানুষ হওয়া অতীব জরুরী। ধর্মের নামে দলাদলী সৃষ্টি করতে লজ্জ্বা হয় না? নবীর জন্ম একটি পবিত্র দিন, এটা পালন করলে সমস্যা কোথায়?

১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ২:১৮

নীল আকাশ বলেছেন: আপনি কী সাহাবীদের চেয়ে বেশি বুঝেন?
আমি সঠিক মুসলিম তবে আপনাদের মতো ধান্দাবাজ, সুবিধাবাদী মুসলিম না।
মিলাদুন্নবীতে প্রতি বছর কত টাকা ইনকাম হয়?

১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ২:৩২

নীল আকাশ বলেছেন: নবী জন্ম কোনদিন আপনি জানেন কীভাবে?
জন্মদিন কবে সেটা সূত্র সহ এখানে উল্লেখ করুন। সনদ দিবেন, কোন বই কোন পৃষ্ঠা কার লেখা উল্লেখ করবেন।
দেখি এই নিয়ে কত দূর যেতে পারেন আপনি!

৫| ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ১:৫১

সাইফুল ইসলাম৭১ বলেছেন: সামুতে পোস্ট দেওয়ার অনুমতি ইসলামে নাই , এটা বিদাত।

১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ২:২৭

নীল আকাশ বলেছেন: নিজে আগে বিদআত কী ভালোভাবে জেনে মিলাদ বন্ধ করুন, মিলাদুন্নবী বন্ধ করুন।
খুব গাত্রদাহ হচ্ছে ভন্ড মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে দেখে?
আমি সামুতে পোস্ট দিয়ে সওয়াব কামাই না।

৬| ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ২:১২

রাজীব নুর বলেছেন: খুব খেটেখুটে একটা অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে পোষ্ট দিয়েছেন।
সময়ের অপচয় করলেন।

১৭ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৭

নীল আকাশ বলেছেন: যাক অন্ততপক্ষে একটা পোস্ট রিলেটড মন্তব্য করলেন! মডারেটর অন্ততঃ অহী পাঠাবে না!

৭| ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ২:২৬

সাইফুল ইসলাম৭১ বলেছেন: লেখকের মন্তব্যের ভাষা তার চরিত্রের পরিচয় বহন করে। নোংরা মানুষ।

১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ২:২৮

নীল আকাশ বলেছেন: কাদের পক্ষে সাফাই গাইতে এসেছেন? আপনাদের নিয়ে হাদিসেই স্পষ্টভাষায় বলা আছে।
আগে ইসলাম জানুন। আমাকে জ্ঞান দেয়ার আগে নিজে ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করুন।

৮| ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ২:৫৬

ইসিয়াক বলেছেন: কেউ মারা গেলে তৃতীয় বা চতুর্থ দিনে যে দোয়া সহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মসজিদে বা বাসায়। এই আয়োজন করা কি ঠিক? একটু যদি বিস্তারিত বলতেন।

আরও একটা কথা চল্লিশ দিন যাকে চল্লিশা বলে উহা পালন করা কি ঠিক? যদিও দোয়ার অনুষ্ঠানে বা চল্লিশায় অনেক দরিদ্র মানুষের একটু ভালো খাবার খাওয়ার সুযোগ হয়। সেজন্য এই অনুষ্ঠানগুলোর ঠিক/ ভুল সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলাম।

১৭ ই মে, ২০২১ বিকাল ৩:১১

নীল আকাশ বলেছেন: ১।
কেউ মারা গেলে তৃতীয় বা চতুর্থ দিনে যে দোয়া সহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মসজিদে বা বাসায়। এই আয়োজন করা কি ঠিক? একটু যদি বিস্তারিত বলতেন। এইসব অনুষ্ঠান ইসলামের দৃষ্টিতে সহী নয়।

২।
আরও একটা কথা চল্লিশ দিন যাকে চল্লিশা বলে উহা পালন করা কি ঠিক? যদিও দোয়ার অনুষ্ঠানে বা চল্লিশায় অনেক দরিদ্র মানুষের একটু ভালো খাবার খাওয়ার সুযোগ হয়। সেজন্য এই অনুষ্ঠানগুলোর ঠিক/ ভুল সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলাম।
এটাও সহী না। এইসব অনুষ্ঠান মিলাদের মতোই চালু করা হয়েছে। চল্লিশা অন্যকোন দেশে নেই। গরীব মানুষজন'কে সারা বছর উত্তম নিয়তে খাওয়ানো যায়। এর জন্য সুনির্দিষ্ট কোন দিনক্ষণ লাগে না।

যা যা সাহাবীরা করে যান নাই সেইগুলি অবশ্যই পরিতাজ্য। ইসপামক নিয়ে আমাদের কারো জ্ঞানই তাদের চেয়ে বেশি না।
ধন্যবাদ।

৯| ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ২:৫৯

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: রাজীব নূরের মন্তব্যগুলো ডিলিট করে দেবেন, অপ্রয়োজনীয় মানুষ, অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য

১৭ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৯

নীল আকাশ বলেছেন: যা যা বলেছেন তা সবই সত্য।
তবে আমি আমার পোস্টে কারো মন্তব্য ডিলিট করি না। সবাই দেখুক!

১০| ১৭ ই মে, ২০২১ বিকাল ৩:৩৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



কোন ব্যাপারেই আপনার ধারণা পরিস্কার নয়, হোক সেটা ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি বা টেকনোলোজী।

১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১১:০৯

নীল আকাশ বলেছেন: বেশ কিছুদিন ধরেই আপনি আয়নায় নিজেকে দেখে সবার পোস্টে মন্তব্য করে বেড়াচ্ছেন। দরকার নেই।
এত কষ্ট করে টাইপ না করে জোরে জোরে নিজেকে বলুন। আখেরে এটাই কাজে দেবে.....................

১১| ১৭ ই মে, ২০২১ বিকাল ৪:১৯

নিঃশব্দ অভিযাত্রী বলেছেন: সুন্দর পোস্ট। তবে অনেকেরই গায়ে আগুন ধরে যাবে।

১৯ শে মে, ২০২১ রাত ৯:০৩

নীল আকাশ বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর সহিহ হাদিস দ্বারা এটা সাব্যস্ত হয়নি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এটা করেছেন, তার কোনো প্রমাণ নেই। তার পরবর্তী সময়ে সাহাবিরা করেছেন এরও কোনো প্রমাণ নেই। এর পরবতী সময়ে তাবেয়িরা করেছেন, এমনও প্রমাণ নেই। আইমাতুল ইসতেহাদ ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ), ইমাম মালেক (রহিমাহুল্লাহ), ইমাম হাম্বলি (রহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম শাফেয়িসহ (রহিমাহুল্লাহ) যাঁরা মাশহুর ও প্রসিদ্ধ ওলামায়ে কেরাম ছিলেন, তাঁরাও এটা করেছেন বলে কোনো প্রমাণ নেই।
এটা বানোয়াট এবং পুরোপুরি মিথ্যাচার।

১২| ১৭ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৯

নেওয়াজ আলি বলেছেন: মধ্যপাচ্যের কোন মুসলিম রাষ্ট্রে এইটার প্রচলন নাই কিন্তু ভারত উপমহাদেশে কেনো আসলো

১৯ শে মে, ২০২১ রাত ৮:৫১

নীল আকাশ বলেছেন: মধ্যপ্রাচ্যের হুজুরদের টাকাপয়সার কোন অভাব নেই। এখানকার হুজুরদের অভাব আছে। তাই তারা এইসব বাতিল নাজায়েজ শিয়াদের আবিষ্কার মিলাদুন্নবী এবং মিলাদ উপমহাদেশে আমদানী করেছে। এটা ফাতেমী/শিয়াদের আবিষ্কার।

১৩| ১৭ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫৬

মনিরা সুলতানা বলেছেন: আমি ও মধ্যপ্রাচ্যে এসব দেখি নাই । শবে বরাত মিলাদ।

১৯ শে মে, ২০২১ রাত ৮:৫৭

নীল আকাশ বলেছেন: বাংলাদেশে প্রচলিত মিলাদকে পদ্ধতিগত দিক থেকে আমরা দু’ভাগে ভাগ করতে পারি।
১. কিয়াম বিহীন মিলাদ: যে মিলাদের আনুষ্ঠানিকতা বসা অবস্থায় সম্পন্ন করা হয়।
২. কিয়াম যুক্ত মিলাদ: মিলাদের আনুষ্ঠানিকতার এক পর্যায়ে সকলে দাাঁড়িয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর সম্মানে এটা করেন। বেরলভী ও ভান্ডারী সহ প্রমুখ উগ্রবাদীদের ধারণা হলো ‘মিলাদ মাহফিলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) রূহানীভাবে এমনকি কেউ বলে থাকেন স্বশরীরে হাযির হন। তাই কখনো এমনটাও দেখা যায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) বসার জন্য একটি শূন্য চেয়ারও রাখা হয়।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর হাযির হওয়ার এ ধারণা সম্পূর্ণরূপে ভ্রান্ত ও কুফরী। হানাফী মাযহাবের কিতাব ‘ফাতওয়ায়ে বাযযাবিয়াতে উল্লেখ আছে, ‘যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মৃত ব্যক্তিদের রূহ হাযির হয় সে ব্যক্তি কুফরী করল।’ (মিলাদে মুহাম্মদী, পুঃ ২৫-২৯)
অনুরূপভাবে ‘তুহফাতুল কুযাত’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ‘যারা ধারণা করে যে, মিলাদের মজলিসগুলোতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর রূহ মুবারক হাযির হয় তাদের এ ধারণা স্পষ্ট শিরক। রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) স্বীয় জীবদ্দশায় তাঁর সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ানোর ব্যাপারে কঠোর ধমকি প্রদান করেছেন (উপরে লেখায় আমি সেই হাদিস সূত্র সহ দিয়েছি)।’

১৪| ১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১১:০০

রাকু হাসান বলেছেন:

দারুণ বিষয়ে লিখেছেন।বিশ্লেষণ চমৎকার।মিলাদ মানি না। করিও না।ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টের জন্য।

১৯ শে মে, ২০২১ রাত ৮:৫৯

নীল আকাশ বলেছেন: ইমাম মালেক (রহঃ) তাঁর শিষ্য ইমাম শাফেঈকে বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবার রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে যেসব বিষয় ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত ছিল না, তা বর্তমানকালেও ‘দ্বীন’ হিসাবে গৃহীত হবে না। যে ব্যক্তি দ্বীনের নামে ইসলামে নতুন কিছু চালু করলো, অতঃপর তাকে ভাল কাজ বা ‘বিদআতে হাসানা’ বলে আখ্যায়িত করল, সে ধারণা করে নিল যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) স্বীয় রিসালাতের দায়িত্ব পালনে খিয়ানত করেছেন। (নাউযুবিল্লাহ) (আল-ইনসাফ, পৃঃ ৩২)

১৫| ১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১১:৩৩

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: যাক অন্ততপক্ষে একটা পোস্ট রিলেটড মন্তব্য করলেন! মডারেটর অন্ততঃ অহী পাঠাবে না!

মডারেটর আপনার নিয়মে চলবে না। সে চলবে তাঁর নিজস্ব নিয়মে। আপনি নিরপেক্ষ না, কিন্তুম মডারেটর নিরপেক্ষ। কাজেই চিন্তা নাই।

১৬| ১৮ ই মে, ২০২১ সকাল ১০:০৬

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: মিলাদ-মাহফিল, গোলটুপি-লম্বাটুপি, বুকে হাতবাধা- নাভীতে হাতবাধা ইত্যাদী ইত্যাদী নিয়ে মারামারী খুনাখুনী করতে থাকেন আর অন্যদিকে অপশক্তিরা ফিলিস্থিনের মতো মুসলিমকে মেরে মাটিতে মিশিয়ে দিক। এগুলো বাদদিয়ে মুসলিম ঐক্য নিয়ে কিছু লিখুন।

১৮ ই মে, ২০২১ সকাল ১০:৪০

নীল আকাশ বলেছেন: একদম ঠিক কথা বলেছেন। এইসব বিভিন্ন পন্থা মতোবাদ তৈরি করা হয়েছে ইসলামীর মূল আর্দশ থেকে মানুষ জনকে বিচ্যুত করার জন্য। এইসব নাজায়েজ কাজ করার মানুষজনের ঈমান দূর্বল হয়ে গেছে।
সারা বিশ্বে মুসলিম ঐক্য তৈরি করতে হলে আগে সবাইকে একই বিশ্বাস চিন্তা চেতনায় আসতে হবে, যেটা আমাদের নবী রাসুল্লুল্লাহ সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম রেখে গেছেন। ভ্রান্ত পথে থাকলে আল্লাহর সাহায্য কখনই আসবে না।

১৭| ১৮ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:১৪

রানার ব্লগ বলেছেন: পবিত্র ক্বোরআন মজীদের সূরা আহযাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-
إِنَّ اللهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
তরজমা: নিশ্চয় আল্লাহ্ ও তাঁর ফিরেশতাগণ অদৃশ্যের সংবাদদাতা (নবীর) উপর দরূদ প্রেরণ করেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ ও যথোপযুক্ত সালাম প্রদান করো। [সূরা আহযাব, আয়াত-৫৬] উক্ত আয়াতে কারিমায় আল্লাহ্ তা‘আলা ‘সাল্লিমু’ আমরের ছিগাহ্ উল্লেখ করার পর ‘তাসলিমা’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন, যা আরবী ব্যাকরণ মতে ‘মাফউলে মাতলাক্ব’ হিসেবে তাকিদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। যা দ্বারা অধিক পরিমাণ ও সম্মানজনকভাবে সালাম প্রদানকে বুঝানো হয়েছে। অধিকন্তু ‘তাসলিমা’ শব্দের শেষ অক্ষরে দুই যবর (তানবীন) ব্যবহার করা হয়েছে যা তাফসীরের পরিভাষায় তা’জিম তথা সম্মানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

নবী করীমের সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত বিভিন্ন হাদীস শরীফে তাঁরা নবীজির সম্মানে দাঁড়িয়েছেন মর্মে অনেক হাদীসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। কিয়ামের মধ্যে যেহেতু নবীজিকে সালাম প্রদান করা হয়, সেহেতু ওই সময়ে দাঁড়ানো ইসলামী শিষ্টাচারের মধ্যে গণ্য।

রাসূলে করীমের সম্মানে দাঁড়ানো
সুন্নাতে সাহাবা
عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْلِسُ مَعَنَا فِى الْمَسْجِدِ يُحَدِّثُنَاـ فَاِذَا قَامَ قُمْنَا قِيَامًا حَتّى نَرَاهُ قَدْ دَخَلَ بَعْضَ بُيُوْتِ اَزْوَاجِهِ
[مشكاة المصابيح ـ صفحة ـ ৪০৩/৪০৪] অর্থাৎ হযরত আবু হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বর্ণনা করেন, রসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র স্বভাব এমন ছিলো যে, তিনি মসজিদে এসে আমাদের সাথে বসে কথোপকথন করতেন। অতঃপর তিনি যখন দাঁড়াতেন আমরাও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে যেতাম যতক্ষণ না তাঁকে নিশ্চিতরূপে কোন স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করতে দেখতাম।
[বায়হাক্বী শরীফ, শোয়াবুল ঈমান, খন্ড-১১, পৃ. ২৭১, মিশকাতুল মাসাবিহ, পৃ. ৪০৩/৪/৪] শুধু নবী নয় উম্মতের সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্যও দাঁড়ানো শরীয়তে মোস্তাহাব। যেমন হাদীস শরীফে এসেছে-
عَنْ اَبِىْ سَعِيْدٍ نِ الْخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ بَنُوْ قُرَيْظَةَ عَلى حُكْمِ سَعْدٍ هُوَ ابْنُ مُعَاذٍ بَعَثَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهَ وَسَلَّمَ وَكَانَ قَرِيْبًا مِنْهُ فَجَآءَ عَلَى حِمَارٍ فَلَمَّا دَنَا قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُوْمُوْا اِلَى سَيِّدِكُمْ ـ [متفق عليه ـ مشكاة المصابيح ـ صفحه ৪০৩] অর্থাৎ মদীনার ইহুদী গোত্র বনু কুরাইযা যখন তাদের বিচারের জন্য সা‘আদ ইবনে মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুকে বিচারকরূপে মেনে নিল, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ডেকে আনার জন্য লোক পাঠালেন, তিনি নিকটেই ছিলেন, অতপর তিনি যখন একটা গাধায় চড়ে রসূলে পাকের (ওই স্থানে) নামাযের স্থানের নিকটে আসলেন, রসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মদীনার আনসারী সাহাবীদেরকে বললেন, তোমরা তোমাদের বিচারকদের সম্মানার্থে দাঁড়াও।
[বুখারী শরীফ, ৪র্থ খন্ড, পৃ. ৬৭, ও মুসলিম শরীফ এবং মেশকাত শরীফ, ৪০৩ পৃ.] উক্ত হাদীস প্রমান করে সম্মানিত ব্যক্তির আগমনে দাঁড়ানো শরিয়ত সম্মত।

প্রথম হাদিসে দাঁড়ানো অপছন্দের কথা থাকলেও দ্বিতীয় হাদীসে বলা হয়েছে সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম রাসূলে পাকের সম্মানে ততক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়াতেন যতক্ষণ না তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে আপন কোন স্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করতেন।
যেহেতু রাসূলে পাক নিজের জন্য দাঁড়ানোকে পছন্দ করতেন সেহেতু তাঁর জন্য দাঁড়ানো বৈধ; যেমন হাদীস শরীফে এসেছে-
عَنْ مُعَاوِيَةَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ سَرَّهُ اَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا ـ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
[روَاهُ الترمذى وابو داؤد ومشكاة المصابيح صفحه ـ ৪০৩] অর্থাৎ হযরত মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাকে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি অন্যান্য ব্যক্তিবর্গকে তার জন্য দন্ডায়মান হয়ে থাকতে পুলক অনুভব করে সে যেন নিজের ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়। [তিরমিযী শরীফ, আবু দাঊদ শরীফ, মিশকাত শরীফ, পৃ. ৪০৩] সিহাহ্ সিত্তার অন্যতম কিতাব সুনানে আবু দাঊদ শরীফের ৭০৮নং পৃষ্ঠার ৬নং হাশিয়ার মধ্যে কিয়াম সম্পর্কিত সকল হাদীস পর্যালোচনা পূর্বক এ মর্মে মত প্রকাশ করা হয় যে,
وَفِيْهِ كَلاَمٌ كَثِيْرٌ وَالصَّحِيْحُ اَنَّ اِحْتِرَامَ اَهْلُ الْفَضْلِ مِنْ اَهْلِ الْعِلْمِ وَالصَّلاَحِ وَالشَّرَفِ بِالْقِيَامِ جَائِزٌ وَفِىْ مَطَالِبِ الْمُؤْمِنِيْنَ ـ لاَ يَكْرَهُ قِيَامُ الْجَالِسِ لِمَنْ دَخَلَ تَعْظِيْمًا وَالْقِيَامُ لَيْسَ مَكْرُوْهًا لِعَيْنِه وَاِنَّمَا الْمَكْرُوْهُ مُحَبَّةُ الْقِيَامِ مِنَ الَّذِىْ يُقَامُ لَه وَمَا جَاءَ مِنْ كَرَاهِيّتِه صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِيَامُ الصَّحَابَةِ لَه فَهُوَ مِنْ جِهَةِ الْاِتِّحَادِ الْمَوْجِبِ لِرَفْعِ التَّكْلِيْفِ لاَ لِلنَّهْىِ ـ [ابو داؤد صفحه ৭০৮ـ رقم الهامش ـ ৬] অর্থাৎ এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের অনেক মতামত বিদ্যমান, তবে বিশুদ্ধ মত হলো এ যে, নিশ্চয়ই নেক্কার পরহেযগার, জ্ঞানী-গুণী ও সম্মানিত ওলামায়ে কেরামদেরকে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করা জায়েয এবং মাতালেবুল মু’মেনিন নামক কিতাবে রয়েছে যে, আগন্তুক ব্যক্তির সম্মানে কিয়াম করা মাকরূহ হবে না। প্রকৃতপক্ষে কিয়াম করাটা মাকরূহ নয়। বরং মাকরূহ হলো, যাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য দাঁড়ানো হচ্ছে তাঁর পক্ষ থেকে দাঁড়ানোটা পছন্দ করা এবং রসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য সাহাবায়ে কেরামের দাঁড়ানোকে অপছন্দ করতেন মর্মে যে বর্ণনা এসেছে তা হলো সাহাবায়ে কেরামের কষ্ট বিদুরিত করার জন্য; নিষেধাজ্ঞার জন্য নয়। [আবূ দাঊদ শরীফ, পৃ.-৭০৮, হাশিয়া নং-৬] উক্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে বুঝা যায় যে, কারো সম্মানে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকাটা ইসলাম সমর্থিত নয়, তবে সালাম প্রদানের জন্য দাঁড়ানোতে কোন অসুবিধা নেই বরং সুন্নাত বা সাওয়াবের কাজ।

১৮ ই মে, ২০২১ বিকাল ৩:০৫

নীল আকাশ বলেছেন: অনেক বড় প্রশ্ন মন্তব্য করেছেন। একটা ছোট প্রশ্ন করি-
মিলাদে যে এরা দাঁড়ায়, কখন দাঁড়ায়?
এরা তো বিশ্বাস করে সালামের প্রতিউত্তর দিতে উনি হাজির হন।
তো এরা উনার আসার আগে দাঁড়ায় না পরে দাড়ায়?
উনি আসার আগে দাঁড়িয়ে বসে গেলে তো চরম বেয়াদপী। আবার উনি এসে দেখলেন যে এরা না দাঁড়িয়ে বসে আছে সেটাও বেয়াদপী। এরা কীভাবে জানবে উনি কখন আসবে? গায়েব জানে এরা?

১৮ ই মে, ২০২১ বিকাল ৩:০৭

নীল আকাশ বলেছেন: কিয়াম তো পরে এসেছে। আগে বলুন মিলাদ করা কি ইসলামে অনুমতি আছে?

১৯ শে মে, ২০২১ রাত ১০:২৯

নীল আকাশ বলেছেন: আপনার কিয়াম বা দাঁড়ানো নিয়ে কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন। আমি তখন এটা কিছু কিছু বলিনি। কিয়াম নিয়ে আপনি যা যা বলেছেন তার উত্তর হলো, 'কিয়াম’ কয়েক প্রকারের হয়।
(ক) কারো তা’যীমের উদ্দেশ্যে কিয়াম করা, যেমন রাজা-বাদশাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা হয়। এমন কিয়াম বৈধ নয়। যেহেতু প্রিয় রাসুল রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) বলেন, “ যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, লক তার জন্য দণ্ডায়মান হক সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে করে নেয়।” (মুনসাদে আহমাদ)

(খ) আগন্তকের সন্মানার্থে উঠে দাঁড়ানো। তাকে আগে বেড়ে আনার জন্য নয়, তাকে ধরে বসাবার জন্য নয়, তার সাথে মুসাফাহা মুআনাক্বা করার জন্য নয়। সে প্রবেশ করলে অথবা প্রস্থান করলে তার তা’যীমের উদ্দেশ্যে খাড়া হওয়া অতঃপর বসে যাওয়া। এই শ্রেণীর ‘কিয়াম’ও হারাম না হলে মাকরূহ তো বটেই। যেহেতু আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘তাঁদের (সাহাবাদের) নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা অন্য কেউই প্রিয়তম ছিল না। তা সত্বেও তাঁরা যখন দেখতেন, তখন তার জন্য উঠে দাঁড়াতেন না। যেহেতু তাঁরা জানতেন যে, তিনি তা অপছন্দ করেন । (তিরমিজি)
(গ) আগন্তককে আগে বেড়ে আনার জন্য, তাকে ধরে বসাবার জন্য, তার সাথে মুসাফাহা মুআনাক্বা করার জন্য উঠে দাঁড়ানো সুন্নত। কারনঃ
১) রাসুল (সঃ) এর কন্যা তার নিকট এলে তিনি তার প্রতি উঠে গিয়ে তার হাত ধরতেন ( মুসাফাহাহ করতেন), তাকে চুমু দিতেন এবং নিজের আসনে তাকে বসাতেন। (আবু দাউদ ৫২১৭, তিরমিজি ৩৮৭২ নং)
২) (খন্দকের যুদ্ধ শেষে) সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আহত ছিলেন। ইয়াহুদিদের ব্যপারে বিচার করার উদেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) তাকে আমন্ত্রণ করেন। তাই তিনি এক গর্দভের পৃষ্ঠে আরোহণ করে যখন তার নিকট পৌঁছলেন তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) আনসারকে লক্ষ করে বললেন, “ তোমরা তোমাদের সর্দারের প্রতি উঠ এবং ওঁকে নামাও।” সুতরাং (কিছু) সাহাবা উঠে গিয় তাকে গাধার পিঠ থেকে নামালেন। (আহমাদ, আবু দাউদ প্রমুখ, সিলসিলাহ সহীহাহ ৬৭ নং)

আরেক প্রকার কিয়াম আছে, যা মিলাদের সমর্থনে মিলাদের মাঝে করে থাকে। মিলাদের আনুষ্ঠানিকতার এক পর্যায়ে সকলে দাাঁড়িয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর সম্মানে এটা করেন। মাজার পূজারী, বেরলভী ও ভান্ডারী সহ প্রমুখ উগ্রবাদীদের ধারণা হলো ‘মিলাদ মাহফিলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) রূহানীভাবে এমনকি কেউ বলে থাকেন স্বশরীরে হাযির হন। তাই কখনো এমনটাও দেখা যায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) বসার জন্য একটি শূন্য চেয়ারও রাখা হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর হাযির হওয়ার এ ধারণা সম্পূর্ণরূপে ভ্রান্ত ও কুফরী। হানাফী মাযহাবের কিতাব ‘ফাতওয়ায়ে বাযযাবিয়াতে উল্লেখ আছে, ‘যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মৃত ব্যক্তিদের রূহ হাযির হয় সে ব্যক্তি কুফরী করল।’ (মিলাদে মুহাম্মদী, পুঃ ২৫-২৯)
অনুরূপভাবে ‘তুহফাতুল কুযাত’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ‘যারা ধারণা করে যে, মিলাদের মজলিসগুলোতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর রূহ মুবারক হাযির হয় তাদের এ ধারণা স্পষ্ট শিরক। রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) স্বীয় জীবদ্দশায় তাঁর সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ানোর ব্যাপারে কঠোর ধমকি প্রদান করেছেন (উপরে লেখায় আমি সেই হাদিস সূত্র সহ দিয়েছি)।’

আশা করছি কিয়ামের ব্যাপারে আপনার প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পেরেছি।

১৮| ১৮ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:২৪

রবিন.হুড বলেছেন: ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম হচ্ছে সর্বকালের সমগ্র মানবজাতির ধর্ম। আসুন আমরা সবাই ইসলামের ছায়াতলে এক হই। সকল মুসলিম ভাই, ঐক্য ছাড়া গতি নাই। ইসলামকে তিয়াত্তর কাতারে বিভক্ত না করে এক কাতারে সমাবেত হয়ে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলি। বিদআত থেকে মুক্ত থাকতে কোরআন সুন্নার আলোকে জীবন গড়ি। কোরআন হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। আসুন নিজে কোরআন পড়ি এবং অন্যকে কোরআন পড়তে উৎসাহিত করি।

১৯| ১৮ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:৩৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: রসুল (সা) ও তাঁর সাহাবীদের অনুসরণই আমাদের সঠিক পথে রাখবে। ওনাদের দেয়া এবাদত পদ্ধতিই আমাদের অনুসরণ করা উচিত।

১৮ ই মে, ২০২১ বিকাল ৩:০৯

নীল আকাশ বলেছেন: ভাই, সাহাবীদের অনুসরন করতে এদের এতো সমস্যা কোথায় এটা বুঝি না?
এরা নিজেরদের একেকজন বিশাল ইলমের জ্ঞানী মনে করে, নিজেদের সাহাবীদের চেয়েও বেশি রাসুল ভক্ত মনে করে।

২০| ১৮ ই মে, ২০২১ বিকাল ৩:৪৪

রানার ব্লগ বলেছেন: ইসলামের অনুমতি কে দিচ্ছে ? কারা দিচ্ছে এটা আগে বলুন !!??

১৮ ই মে, ২০২১ বিকাল ৩:৫৫

নীল আকাশ বলেছেন: ভাল প্রশ্ন। ইসলামে বৈধতা দেয় কুরআন, হাদিস এবং এর দ্বারা দেয়া ফতোয়া। হাদিস সহী হতে হবে। সনদ সহ।

২১| ১৮ ই মে, ২০২১ বিকাল ৪:০৪

রানার ব্লগ বলেছেন: যদি কুরানের কথা বলেন সেখানে মিলাদ বা এই জাতীয় কিছুই নাই। যদি হাদিসের কথা বলেন আমি কিছু হাদিস উল্লেখ করেছি, তবে সরাসরি মিলাদ বলে কিছুই নাই। এখন এটা হারাম না মাকরুহ না হালাল তা ভাবার বিষয় তবে ধর্মীয় মতে নবীর সানে দুরুদ পড়া নিশ্চই অন্যায় না। মিলাদ যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে চলে আসছে। এখন এটা কে ব্যাবহার করে কেউ যদি নিজের মতলব পুরা করতে চায় এটা অন্যায় হবে।


***আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন আমি মিলাদ পড়ি না।

১৮ ই মে, ২০২১ বিকাল ৪:১৭

নীল আকাশ বলেছেন: আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন আমি মিলাদ পড়ি না। আলহামদুল্লিল্লাহ।
আর কিছু দরকার নেই আমার।

১৮ ই মে, ২০২১ বিকাল ৪:১৯

নীল আকাশ বলেছেন: দুরুদ পড়া নিশ্চই অন্যায় না। কিন্তু এরা দল বেধে আয়োজন করে দিন সময় ঠিক করে দরুদ পড়ে উচ্চস্বরে। এটা ইসলামে বৈধ না। আমি শুধু এটাই বলেছি। ধন্যবাদ

২২| ১৮ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৪

অগ্নিঝরা আগন্তুক বলেছেন: দল বেধে একসাথে গ্রুপে দরুদ পড়া, দোয়া করাতে খারাপ কিছু দেখছিনা আমি. এখানে শরিয়াত বিরুদ্ধ কোন কাজ যদি না হয়, তবে ক্ষতি কি?? সেটা উচ্চসরে পড়ুক আর নিচুসরে! চুল্কানি একটু বেশি বলেই মুসলমানদের ভেতর ঐক্য নেই. মানুষের বুদ্ধিমত্তা বিবেক বলেও তো কিছু থাকে, ওটা কাজে লাগান.

২৩| ১৯ শে মে, ২০২১ সকাল ৯:৪৯

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আপনার পোষ্ট মন্তব্য প্রতিমন্তব্য মন দিয়ে পড়লাম।

আপনি উত্তেজিত এবং নিজের মতেই দৃঢ়! বলেই মনে হল আপনার মন্তব্যের উত্তর সমূহে পাঠে।
জ্ঞানাজর্ন আর সত্য সন্ধানে দুটোই হানিকর।

ইসলামের মৌলিক শিক্ষা আদব ও বিনয়। বিপক্ষ মত পড়লেই বা শুনলেই উত্তেজিত প্রত্যুত্তর কি ঠিক?

রানার ব্লগের ১৭ নং কমেন্ট কিন্তু পবিত্র কোরআন থেকে উদ্ধৃত শক্ত রেফারেন্স সহ। যাতে সরাসরি মিলাদের আদেশ রয়েছে।
তার উত্তর আপনি এড়িয়ে গেলেন!!!! কেন?
খন্ডন করুন।
সূরা আহযাবের ৫৬ আয়াত কি সত্য? সত্য হলে আপনার পোষ্ট পুরোটাই মিথ্যা। অপ্রয়োজনীয়, ইসলামে ফেসাদ সৃষ্টিকারী।
আর বাকী কোন প্রমাণতো দরকারই পড়ে না। নয় কি?

পবিত্র কোরআনে যে কাজের আদেশ আছে তাকে আপনি বিদআত বলছেন কিভাবে??
আশা করি বুঝিয়ে বলবেন।

১৯ শে মে, ২০২১ রাত ৯:২২

নীল আকাশ বলেছেন: আপনি সব সময় আমাকে উত্তেজিত হয়ে গেছি বলে দাবী করেন। লেখালিখির সময়ে আমি কখনই উত্তেজিত হইনা।
দলীল ভিত্তিক আলোচনার সময়ে দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন কেন?

আপনি যেই পুস্তক এনে হাজির করেছেন সেটা বাতিল ফিরকার অনুসারীর লেখা। শিয়া সুন্নীর বির্তক আমি এখানে আনতে চাচ্ছিনা।
শত শত নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থ বাদ দিয়ে আপনি আজগুবী পুস্তক (তাও আবার ৯০০ হিজরীর) এনে হাজির করেছেন।
আপনাকে আমি প্রকাশ্যে একটা চ্যালেঞ্জ করেছি। আমাকে মিলাদের সপক্ষে একটা মাত্র সহী হাদিস এনে দেখান।
আমি আপনার দাবী মেনে নেবো।

১৯ শে মে, ২০২১ রাত ৯:৩২

নীল আকাশ বলেছেন: রানার ব্লগের ১৭ নং কমেন্ট কিন্তু পবিত্র কোরআন থেকে উদ্ধৃত শক্ত রেফারেন্স সহ। যাতে সরাসরি মিলাদের আদেশ রয়েছে। নিচেই এটা দেয়া হলোঃ
পবিত্র ক্বোরআন মজীদের সূরা আহযাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-
إِنَّ اللهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
তরজমা: নিশ্চয় আল্লাহ্ ও তাঁর ফিরেশতাগণ অদৃশ্যের সংবাদদাতা (নবীর) উপর দরূদ প্রেরণ করেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ ও যথোপযুক্ত সালাম প্রদান করো। [সূরা আহযাব, আয়াত-৫৬] উক্ত আয়াতে কারিমায় আল্লাহ্ তা‘আলা ‘সাল্লিমু’ আমরের ছিগাহ্ উল্লেখ করার পর ‘তাসলিমা’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন, যা আরবী ব্যাকরণ মতে ‘মাফউলে মাতলাক্ব’ হিসেবে তাকিদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। যা দ্বারা অধিক পরিমাণ ও সম্মানজনকভাবে সালাম প্রদানকে বুঝানো হয়েছে। অধিকন্তু ‘তাসলিমা’ শব্দের শেষ অক্ষরে দুই যবর (তানবীন) ব্যবহার করা হয়েছে যা তাফসীরের পরিভাষায় তা’জিম তথা সম্মানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অর্থ বিকৃত করা মিলাদ সমর্থনকারীদের চিরাচরিত স্বভাব।
এখানে "মিলাদ" শব্দ কোথায় উল্লেখ করা আছে বলুন?
দরুদ পড়া তো সবার জন্য সুন্নাত। সালাম দেয়াও সুন্নাত/প্রতি উত্তর ওয়াজীব।
এর সাথে মিলাদের বা মিলাদুন্নবীর কী সর্ম্পক?
"যাতে সরাসরি মিলাদের আদেশ রয়েছে"
কোথায় সে আদেশ, উল্লেখ করুন?

২৪| ১৯ শে মে, ২০২১ সকাল ৯:৫২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আপনার ভাবনাকে সাহায্য করতে ইসলামে বিখ্যাত ইমাম ও মুজতাহিদদের মতামতে চোখ বুলীয়ে নিতে পারেন

ঈদে মিলাদুননবী নিয়ে ইমাম মুজতাহিদগনের অভিমত
১. প্রসিদ্ধ তাবেঈ হযরত হাসান বসরী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ) বলেন
ﻗﺎﻝ ﺣﺴﻦ ﺍﻟﺒﺼﺮﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﯽ ﻋﻨﻪ ﻭﺩﺩﺕ ﻟﻮ ﮐﺎﻥ ﻟﯽ ﻣﺜﻞ ﺟﺒﻞ ﺍﺣﺪ ﺫﮬﺒﺎ ﻓﺎﻧﻔﻘﺘﻪ ﻋﻠﯽ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﻣﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﯿﻪ ﻭﺳﻠﻢ
অর্থাৎ- যদি আমার উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকত তাহলে আমি তা রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঈদ-ই-মিলাদুন্না
বী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাহফিলে খরচ করতাম।
[আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-১১]
২. হযরত জুনাইদ বাগদাদী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ) বলেন
যে ব্যক্তি ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ উপস্থিত হয়ে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেছে, সে ঈমানের সফলতা লাভ করেছে।
[আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-১১]
৩. হযরত মারুফ কারখী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ) বলেন
যে ব্যক্তি ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপলক্ষে পানাহারের আয়োজন করে মুসলিমদের ভাইদের একত্রিত করে, আলোকসজ্জা করে, নতুন পোষাক পরিধান করে এবং খুশবো, আতোর, গোলাপ ও লোবান প্রয়োগে নিজেকে সুগন্ধিযুক্ত করে; রোজ কিয়ামতে প্রতম শ্রেণীর নবীদের সাথে তার হাশর হবে এবং ইল্লীঈনের সর্বোচ্চ স্থানে সে অবস্থান করবে।
[আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-১১]
৪. শাফেঈ মাযহাবের প্রবর্তক ইমাম শাফেঈ (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ) বলেন
যদি কোন ব্যক্তি ঈদ-ই-মিলাদুন্না
বী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপলক্ষে মুসলিম ভাইদেরকে খাবার তৈরী করে মজলিসে আপ্যায়ন করে ও ইবাদাত সম্পন্ন করে, রোজ কিয়ামতে সিদ্দীকিন, শাহাদা ও সালেহীনদের সাথে তার হাশর হবে এবং জান্নাতুন নাঈমে সে অবস্থান করবে।
[আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-১৩]
৫. ৯ম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ) বলেন
তিনি তার স্ব-রচিত “আল উয়াছায়েল ফী শরহিশ শামাইল” গ্রন্থে উল্লেখ আরও করেন, “যে গৃহে বা মসজিদে কিংবা মহল্লায় মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তখন অবশ্যই সে গৃহ বা মসজিদ বা মহল্লা অসংখ্য ফেরেশতা দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে এবং উক্ত স্থান সমূহে যারা অবস্থান করে তাদের জন্য তারা সালাত পাঠ করে। (অর্থাৎ তাদের গুণাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে) এবং আল্লাহ তায়ালা তাদের সবাইকে সাধারণভাবে রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা ভূষিত করেন। অতঃপর নূরের মালা পরিহিত ফেরেশতাকুল বিশেষতঃ হযরত জিব্রাঈল, মীকাঈল, ঈস্রাফীল ও আজরাঈল আলাইহিস সালাম মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে মাহফিল আয়োজনকারীর গুণাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকেন”।
তিনি আরো বলেন, “যে মুসলমানের গৃহে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদ পাঠ করা হয়, সে গৃহ ও গৃহে বসবাসকারী ব্যক্তি দুর্ভিক্ষ, মহামারী, অগ্নি, পানি, পরনিন্দা, কুদৃষ্টি ও চুরি ইত্যাদির আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকবে। সে ঘরে যার মৃত্যু হবে সে মৃত ব্যক্তি কবরে মুনকার নকীরের প্রশ্নের উত্তর অতি সহজে দিতে পারবে। যে ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদ কে সম্মান করতে চায়, তার জন্য ইহাই যথেষ্ট। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তির নিকট নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদের কোন মর্যাদা নেই, তার অন্তর এত নিকৃষ্ট হয়ে পড়বে যে, তার সামনে হুযুরপুর নূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিশ্বজোড়া প্রশংসাগীতি উচ্চারিত হলেও তার অন্তরে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য বিন্দুমাত্র মুহাব্বতের উদ্রেক হবে না”।
[আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং- ১৩ ও ১৪]
৬. বুখারী শরীফের ব্যাখাকার বিশ্ববিখ্যাত মোহাদ্দিস আল্লামা কুস্তোলানী রহমাতুল্লাহে আলাইহি (মৃত্যুঃ ৯২৩ হিজরী) বলেন-
“যে ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শুভাগমনের মোবারক মাসের রাতসমূহকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করে, আল্লাহ তার উপরে রহমত বর্ষণ করেন। আর উক্ত রাত্রকে ঈদ হিসেবে উদযাপন করবে এ জন্য যে, যাদের অন্তরে (নবী বিদ্বেষী) রোগ রয়েছে। তাদের ঐ রোগ যেন আরো শক্ত আকার ধারণ করে এবং যন্ত্রণায় অন্তর জ্বলে পুড়ে যায়”।
[শরহে জুরকানী আলাল মাওয়াহেব, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা নং- ২৬২
৭. হযরত সাররী সাক্বত্বী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ) বলেন
“যে ব্যক্তি মিলাদ শারীফ পাঠ বা মিলাদুন্নাবী (সাঃ) উদযাপন করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করল, সে যেন তার জন্য জান্নাতে রওজা বা বাগান নির্দিষ্ট করল। কেননা সে তা হুজুর পাক (দঃ) এর মহব্বতের জন্যই করেছে।”
[আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং- ১৩]
৮. ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বপ্রথম মোহাদ্দিস হযরত শায়খ আবদুল হক মোহাদ্দেসে দেহলভী রহমাতুল্লাহে আলাইহি বলেন-
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রাত্রকে ঈদ হিসেবে পালন করে, তার উপর আল্লাহ তায়ালা রহমত নাযিল করেন। আর যার মনে হিংসা এবং [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দুশমনির] রোগ রয়েছে, তার ঐ (নবী বিদ্বেষী) রোগ আরও শক্ত আকার ধারণ করে”।
[মা সাবাতা বিসসুন্নাহ (উর্দু) পৃষ্ঠা নং-৮৬]
এখন যারা মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করাকে শিরক, হারাম ও বিদয়াত ইত্যাদি ফতোয়া দিয়ে থাকেন তাদেরকে উপরোক্ত মুহাদ্দীসের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য নসিহত করা গেল। তাদের থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের ঈমানকে পরিশুদ্ধ করুন।

১৯ শে মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪২

নীল আকাশ বলেছেন: প্রথমেই অসংখ্য ধন্যবাদ দলীল ভিত্তিক আলোচনা করার জন্য। আপনার মন্তব্য ভালো করে পড়লাম।

আপনি প্রথম সাতটা পয়েন্ট উল্লেখ করেছে সুনির্দিষ্ট একটা গ্রন্থ থেকে "আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম"।
এটা লিখেছেন আল্লামা শিহাব উদ্দিন আহমদ ইবনে হাজার আল হায়তামী আশশাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আলাইহি (যার জন্ম ৮৯৯ হিজরী, ইনতিকাল ৯৭৪ হিজরী)।

তার বইতে আরো উল্লেখ আছেঃ (যেটা আপআন্র মতো আরো অনেকেই মিলাদের সপক্ষে দেয়)
(১) সর্বশ্রেষ্ট সাহবী ও ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম বলেন-
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে এক দিরহাম খরচ করবে সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে”।
দলীল- √ আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-৭
(২) দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম বলেন-
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সম্মান করলো, সে অবশ্যই ইসলামকে জীবিত করলো”।
দলিল - √আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-৭
(৩) তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান বিন আফফান আলাইহিস সালাম বলেন –
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ করার জন্য এক দিরহাম খরচ করল- সে যেন বদর ও হুনাইন জিহাদে শরীক হলো”।
দলিল - √আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-৮
(৪) চতুর্থ খলিফা হযরত আলি কাররামাল্লাহু ওয়জহাহু আলাইহিস সালাম বলেন-
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাকে সম্মান করবে হবে সে ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে”।
দলীল- √আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-৮

এখানে খেয়াল করুনঃ উনি সাহাবীদের নামে সাথে "রাদিয়াল্লাহু আনহু" না বলে বলেছেন "আলাহিস সালাম"।
অথচ উনি সাহাবীদের "রাদিয়াল্লাহু আনহু" না বলে "আলাহিস সালাম বলেছেন"। আল্লাহ নবীদের জন্য আমরা যেটা ঊচ্চারন উল্লেখ করেছেন সেটা উনি সাহাবীদের সাথে করেছেন, সাবাস! এখানে থেকেই বুঝা যাচ্ছে উনার চিন্তাধারা কোনদিকে?
এছাড়াও উনি হযরত আলী ইবন আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু'কে "কাররামাল্লাহু ওয়জহাহু" বলে সম্মোধন করেছেন।
একজন সাহাবীকে এই নামে ডাকা যায় কিনা সেটা চিন্তা করে দেখবেন?
আমি শিয়া সুন্নী এই বিষয় তুলে আরো বির্তক উস্কে দিতে চাচ্ছি না। এই লেখক কোন তরীকার সেটা বুঝার জন্য উনার পুরো বই পড়ার কোন দরকার নেই।

এইসব চিন্তাধারার একজন লেখক মিলাদ নিয়ে কী বলেছেন আর লিখেছেন সেটা আদৌ কী আমলে নেয়ার মতো?
ইয়াজীদের সৈন্য বাহিনী অনেক মুসলিম ইলম জানা লোক ছিন, শুনেছি কিছু হাফিজও ছিল। তাতে কী হয়েছে।
আহলুল বায়াতের রক্ত ঝরাতে এরা কী কোন দ্বিধা করেছে? এরা যদি কোন কিছু লিখে যেত সেটা গ্রহন করা যেত?

আরো আছে, উনি চারজন খুলাফায়ে রাশিদীনের নাম উল্লেখ করেছেন মীলাদুন্নবীর ব্যাপারে। কী আশ্চর্য্য? একমাত্র উনার বইতেই
এটা পাওয়া গেছে। এই যে হাজার হাজার সাহাবী / তাবঈ / তাবে-তাবেঈন তারা কেউ শুনলো না?
আর উনি ৮৯৯ হিজরীতে জন্ম গ্রহন করে সেটা শুনে ফেলেছেন?
সাবাস, কোন মেশিন মনে হয় উনি আবিষ্কার করেছিলেন, যেই কারণে শুধু উনি শুনতে পেরেছিলেন।

১৯ শে মে, ২০২১ রাত ৮:৩৬

নীল আকাশ বলেছেন: এইবার আসি মিলাদ এবং মিলাদুন্নবীর সূত্রপাত নিয়েঃ
আমি মিলাদের সূত্রপাত উল্লেখ করেছি বিশ্ব বিখ্যাত মুসলিম ইতিহাস গ্রন্থ "আল বিদায়া আল নিহায়া" থেকে। যেটা লিখেছেন কালজয়ী মুহাদ্দিস মুফাসসির যুগশ্রেষ্ঠ মনিষী আল্লামা হাফিয ইবনু কাসীর রহিমাহুল্লাহ। মুসলিম ইতিহাস জগতে বহুল পঠিত সর্ববাদী সম্মত নির্ভরযোগ্য এক অনন্য সংযোজন ও অবিস্মরনীয় কীর্তি। আজ পর্যন্ত এটার লেখার মান নিয়ে সন্দেহ সংশয়ের কোন অবকাশ মাত্র নেই। এর অনবদ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বকে সকল যুগের বিদগ্ধ মনীষীরা অকপটে ও একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশে, সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমনকি ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষায়তনের গ্রন্থাগারেও সর্বত্রই এটি বহুল পঠিত, সুপরিচিত, সমাদৃত।
আর আপনি যে বইয়ের কথা বলেছেন সেটা লেখা হয়েছে শুধুমাত্র মিলাদ জায়েজ করা জন্য একগাদা মিথ্যাচার এবং সাহাবীদের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে।

আপনি কি আমাকে আল্লামা হাফিয ইবনু কাসীর রহিমাহুল্লাহ লেখার সত্যতা বাদ দিয়ে এই লেখকের লেখা গ্রহন করতে বলেছেন? দুঃখিত সেটা সম্ভব না। ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করা যে কোন মুসলিম মাত্রই জানেন ইবন কাসীরের লেখার মান নিয়ে।

এইসব মিলাদ পালনের জন্য দেশে কারা বেশি তোরজোর করে বেড়ায়? দেওয়ানবাগী, রাজারবাগী সহ সমস্ত ভণ্ড মাজার পুজারী এবং মুরিদের টাকাপয়সা লুটপাটকারীরা! এদের সাথে যোগ দিয়ে যদি মিলাদ সমর্থন করেন, করতে পারেন। জবাব শেষ বিচার দিন আপ্নাকেই দিতে হবে।

১৯ শে মে, ২০২১ রাত ৮:৪৯

নীল আকাশ বলেছেন: “তোমাদের জন্য আবশ্যক আমার ও আমার পরবর্তী হেদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরা যেভাবে দাঁত দিয়ে কোন জিনিস দৃঢ়ভাবে কামড়ে ধরা হয়। আর শরীয়তে নিত্য নতুন জিনিস আবিস্কার করা হতে বেঁচে থাকো। কেননা সকল নবসৃষ্ট বস্তুই বিদআত। আর প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহী।“ (সূত্রঃ সূনানে আবু দাউদ, অধ্যায় ৩৫/সুন্নাহ, হাদিস নাম্বার ৪৬০৭)

মিলাদের বিষয়ে আমি মহানবী রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম এর সহী হাদিস মোতাবেক শুধুমাত্র খোলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে অনুসরন করতে চাই। আপনি আমাকে এই চারজন সাহাবীর যে কোন একজনও মিলাদ পালন করেছে সেটা ছয়টা সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য হাদিস গ্রন্থ (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ) থেকে একটা মাত্র হাদিসে আছে সেটা প্রমান হিসেবে দেখান। আমি মিলাদের ব্যাপারে আপ্নাদের সব দাবী মেনে নেবো।

ধন্যবাদ।

২৫| ১৯ শে মে, ২০২১ রাত ৯:১২

নীল আকাশ বলেছেন: সর্বসম্মতভাবে ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকাল দিবস। এতে কারো দ্বিমত নেই ও কোন সন্দেহ নেই। এ দিনে মুসলিম উম্মাহ ও সাহাবায়ে কীরামগণ আল্লাহর রাসুল (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকালের শোকে পাথর হয়ে হয়ে গিয়েছিলেন। অথচ এইসব ভন্ড মাজার পূজারীরা ইচ্ছে করেই এই শোক দিবসে ঈদ তথা আনন্দ-উৎসব পালন করে, যেটা চরম বেঈমানি ও নবীর শানে বেয়াদবি ভিন্ন অন্য কিছু হতে পারে না।

ইসলামে সকল হুকুম আহকাম, আচার-অনুষ্ঠান সুনির্ধারিত ও কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু মহানবীর এর জন্ম দিবস বা মিলাদ পালনের কথা কোথাও নেই। এমনকি নবিপ্রেমের নজিরবিহীর দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহুমদের কেউ এ ধরনের কাজ করেছেন বলে কোন প্রমাণ নেই। যারা বলে
সাহাবীর মিলাদ করেছেন তাদের জন্য জ্বলন্ত একটা প্রমাণ দিলাম নিচেঃ

নবি করিম (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর জন্মদিন পালনের প্রস্তাব সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহুম কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। যেমন হিজরি ক্যালেন্ডার প্রবর্তিত হওয়ার সময় হযরত উমর রাজিয়াল্লাহু আনহু সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে বৈঠকে বসলেন। কোন এক স্মরণীয় ঘটনার দিন থেকে একটি নতুন বর্ষগণনা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কেউ কেউ প্রস্তাব করলেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর জন্ম তারিখ থেকে সন গণনা শুরু করা যেতে পারে। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাথে সাথেই এই প্রস্তাব বাতিল করে দিয়ে বললেনঃ জন্মদিন পালনের পদ্ধতি খৃস্টানদের। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর এই সিদ্ধান্তের সাথে সকল সাহাবায়ে কেরাম একমত পোষণ করলেন। এবং রাসুলে করিম (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর হিজরত থেকে ইসলামি সন গণনা আরম্ভ করলেন।

আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান দান করুন, আমীন।

২৬| ১৯ শে মে, ২০২১ রাত ৯:৩৩

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ১ম মন্তব্যে
রাদিআল্লাহু আনহু আর আলাইহসি সালাম সম্মাননা প্রকাশ মাত্র। এই পয়েন্টের কারণে কোন সত্য বাতিল হতে পারে না।
হযরত আলী ইবন আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু'কে "কাররামাল্লাহু ওয়জহাহু" বলে সম্মোধন করাকি কোন অপরাধ? সম্মানসূচক বিশেষনে যে যত বেশি সম্মান করে তার প্রকাশ তত গভীর হয়। নয়কি?

<<এইসব চিন্তাধারার একজন লেখক মিলাদ নিয়ে কী বলেছেন আর লিখেছেন সেটা আদৌ কী আমলে নেয়ার মতো?

এইভাবে প্রিজাজমেন্ট করে ফেললেতো আর আলোচনার কিছু থাকে না। এবং সবাইকে হেয় করে সম্বোধন করা কিন্তু অহংকারেরই প্রকাশ বৈ নয়! আর এমন উপস্থাপনায় বলাই যায় -আপনিই তো তাহলে ফতোয়া স্থির করেই ফেলছেন!!! সেক্ষেত্রে আলোচনার সুয়োগ থাকে না।


২য় মন্তব্যে:

আপনি সম্ভবত খুবই উত্তজিত! আপনার লেখার মাঝেই তা ফুঠে উঠছে।
আপনার কাছে অতীব গুরুত্বের সাথে গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া। ভাল। কিন্তু এটা কি কোন ঐশি গ্রন্থ? হাদীস গ্রন্থ? না। বরং
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া মুফাসসির ও ইতিহাসবিদ আবুল ফিদা হাফিজ ইবনে কাসির আদ দামেশ্কী (রহ.) কর্তৃক আরবি ভাষায় রচিত একটি ইতিহাস গ্রন্থ। যেখানে দ্বিতীয় অংশে রয়েছে রাসুল (সা.) এর ওফাতের পর থেকে ৭৬৮ হিজরি সাল পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য খলিফা, রাজা-বাদশাহদের উত্থান-পতনের ঘটনা, মনীষীদের বর্ণনা, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ বর্ণনা করা হয়েছে এ গ্রন্থে।
সো এটা একমাত্র গ্রহণযোগ্য কোন গ্রন্থ নয়। অবশ্যই মূল্যবান তথ্যসূত্র।

হুম আমি অবশ্যই সচেতস আমার হিসাব আমিই দেব। আপনি নিশ্চিন্ত থাকেন।

৩য় মন্তব্যেে আপনি একটা হাদীস উল্লেখ করেছেন ।

কিন্তু প্রথম মন্তব্যে আমি যে কোরআনের আয়াত উল্লেখ করেছি তার কোন জবাব দেননি।

আর দয়া করে খুব শান্ত মাথায় বোঝার চেষ্টা করুন- যেখানে কোরআনের সরাসরি আয়াত বা আদেশ থাকে সেখানে হাদীস খোঁজা বাতুলতা বই নয়। কোরআনের আয়াত অষ্পষ্ট হলে বা ইশারা মূলক হলে বা বিস্তারিত বোঝা না গেলে তখন হাদীসের প্রয়োজন হয়।

আশা করি বোঝাতে পেরেছি।

১৯ শে মে, ২০২১ রাত ১০:৪০

নীল আকাশ বলেছেন: কুরআন শরীফের সেই আয়াতের পূর্ন বিবরন নিচে দেয়া হলোঃ
(সূরা আযহাব, আয়াত নাম্বার ৫৬)
নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফিরিশতাগণও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে। হে বিশ্বাসীগণ! তোমরাও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা কর এবং তাকে উত্তমরূপে অভিবাদন কর। (দরূদ ও সালাম পেশ কর।) [1]

[1] এই আয়াতে নবী (সাঃ)-এর ঐ সম্মান ও মর্যাদার কথা বর্ণনা করা হয়েছে, যা আসমানে উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ফিরিশতাগণের নিকট বিদ্যমান। তা এই যে আল্লাহ তাআলা ফিরিশতাগণের নিকট নবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম)-এর সুনাম ও প্রশংসা করেন এবং তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফিরিশতাগণও নবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর উচ্চমর্যাদার জন্য দু’আ করেন। তার সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা বিশ্ববাসীদেরকেও আদেশ করেছেন, যেন তারাও নবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করে। যাতে নবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর প্রশংসায় ঊর্ধ্ব ও নিম্ন দুই বিশ্ব একত্রিত হয়ে যায়। হাদীসে বর্ণনা হয়েছে যে, সাহাবায়ে কিরামগণ আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সালামের নিয়ম তো আমাদের জানা আছে (অর্থাৎ তাশাহহুদে ‘আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিয়্যু’ পড়ি) কিন্তু আমরা দরূদ কিভাবে পড়ব? এর উত্তরে তিনি দরূদে ইবরাহিমী -- যা নামাযে পাঠ করা হয় তা বর্ণনা করলেন। (বুখারীঃ তাফসীর সূরা আযহাব)

এখানে দরূদের বড় গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। নামাযে তা পাঠ করা ওয়াজেব না সুন্নত? অধিকাংশ উলামাগণ বলেছেন সুন্নত এবং ইমাম শাফেয়ী ও আরো অনেকে তা ওয়াজেব বলেছেন। তবে একাধিক হাদীসে তার ওয়াজেব হওয়ারই সমর্থন পাওয়া যায়। অনুরূপ হাদীস দ্বারা এটাও বোঝা যায় যে, যেমন শেষ তাশাহহুদে দরূদ পড়া ওয়াজেব তেমনই প্রথম তাশাহহুদেও দরূদ পাঠ করা ওয়াজেব।

নিম্নে তার কতিপয় দলীল দেওয়া হলঃ-

প্রথম প্রমাণ এই যে, মুসনাদে আহমাদে সহীহ সানাদে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি নবী (সাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সালামের নিয়ম তো আমাদের জানা আছে (অর্থাৎ তাশাহহুদে ‘আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিয়্যু’ পড়ি) কিন্তু আমরা নামাযে দরূদ কিভাবে পড়ব? এর উত্তরে তিনি দরূদে ইবরাহিমী শিক্ষা দিলেন (আল ফাতহুর রাববানী ৪/২০-২১)

মুসনাদে আহমাদ ছাড়াও উক্ত হাদীস সহীহ ইবনে হিববান, সুনানে কুবরা বায়হাকী, মুস্তাদরাক হাকেম এবং ইবনে খুযায়মাতে বর্ণিত হয়েছে। এতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, যেমন তাশাহহুদে সালাম পড়া হয় অনুরূপ উক্ত প্রশ্নও নামাযের ভিতরে দরূদ পাঠ সম্পর্কে ছিল, উত্তরে নবী (সাঃ) দরূদে ইবরাহিমী পড়ার আদেশ দিয়েছিলেন। যাতে বোঝা যাচ্ছে যে, সালামের সাথে দরূদও পড়া দরকার এবং তা পড়ার স্থান হল তাশাহহুদ। আর হাদীসে তা সাধারণভাবে বর্ণনা হয়েছে। প্রথম বা দ্বিতীয় তাশাহহুদের সাথে নির্দিষ্ট করা হয়নি। যার ফলে বলা যায় যে, প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় তাশাহহুদেই সালাম ও দরূদ পড়তে হবে।

যে বর্ণনাগুলিতে প্রথম তাশাহহুদ দরূদ ছাড়া উল্লেখ হয়েছে সেগুলিকে সূরা আহযাবের আয়াত ‘صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا’ অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের ধরা হবে। কিন্তু উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর অর্থাৎ পঞ্চম হিজরীর পর যখন নবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) সাহাবায়ে কিরামগণের প্রশ্নের উত্তরে দরূদের শব্দও বর্ণনা করে দিলেন, তখন নামাযে সালামের সাথে দরূদ পড়াও জরুরী হয়ে গেল, চাহে তা প্রথম তাশাহহুদ হোক বা দ্বিতীয়।

আরো একটি প্রমাণ হল, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন যে, ‘‘নবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) কখনো কখনো রাত্রে নয় রাকআত নামায পড়তেন, আট রাকআতে যখন তাশাহহুদে বসতেন, তখন তাতে তাঁর প্রভুর নিকট দু’আ করতেন এবং তাঁর পয়গম্বরের উপর দরূদ পড়তেন তারপর সালাম না ফিরে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং নয় রাকআত পূর্ণ করে পুনরায় তাশাহহুদে বসতেন, তাঁর প্রভুর নিকট দু’আ করতেন এবং তাঁর পয়গম্বরের উপর দরূদ পড়তেন এবং পুনরায় দু’আ করতেন, তারপর সালাম ফিরতেন। (বায়হাকী ২/৭০৪, নাসাঈ ১/২০২, বিস্তারিত দেখুনঃ আল্লামা আলবানীর সিফাতু সালাতিন্নাবী ১৪৫ পৃষ্ঠা) উক্ত বর্ণনায় পরিষ্কার উল্লেখ আছে যে, নবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) তাঁর রাত্রের নামাযে প্রথম ও শেষ উভয় তাশাহহুদে দরূদ পড়েছেন। এটা যদিও নফল নামাযের কথা ছিল; তবুও নবী (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) এর উক্ত আমল দ্বারা উল্লিখিত ব্যাপক দলীলসমূহের সমর্থন হয়। যার ফলে তা শুধু নফল নামাযের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক নয়।

সূত্রঃ Click This Link

এখানে কী কোথাও মিলাদের উল্লেখ আছে? পুরো তাফসীরে তুলে দিলাম। একবারের জন্যও এখানে মিলাদ শব্দ দেয়া আছে?

২৭| ২২ শে মে, ২০২১ রাত ২:১৭

সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: িছু দিন আগে থেকে জানছি নামাজের পরে নাকি মোনাজাত করার দরকার নেই বা এখন করা হয় না।
এভাবে কোনটা কি কত মতবাদ এসে যাচ্ছে।

২৬ শে মে, ২০২১ সকাল ১০:৩০

নীল আকাশ বলেছেন: ইসলামে এতদিন পরে নতুন কোন মতবাদ আসা এবং সেটা গ্রহন করা উচিত না। কারন মহানবী সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম আমাদের সব কিছু দেখিয়ে এবং বুঝিয়ে দিয়ে গেছে। সাহাবিদের মাধ্যমে সবকিছু জানা যায়। এর বাইরে যেতে উনি সরাসরি মানা করে গেছেন। যারা যায় তারা উনার কথা অমান্য করেই যায়। এদের কাছ থেকে আমদের দূরে থাকা উচিত, এরা পথভ্রষ্ট এবং এদের হুজুরগুলি হচ্ছে জ্ঞান পাপী।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সীরাতুল মুস্তাকীমের পথে চলার তৌফিক দান করুন, আমীন।

২৮| ২৬ শে মে, ২০২১ বিকাল ৫:০৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আপনার গল্প লিখা কতোদূর? নতুন কি কোনো গল্প পোস্ট দিচ্ছেন। ছোটবেলায় মিলাদে দৌড়ে যেতাম জিলাপি মিষ্টি লাড্ডুর কারণে। এখন মিলাদে এসব খাবার দেয় কিনা সঠিক জানিনা। আমি এ বিষয়য়ে লিখবো ভাবছি। উৎসর্গ আপনাকে করে দিবো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.