নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অপরিকল্পিতভাবে যেমন সুন্দর বাগান তৈরী সম্ভব নয়,তেমনি অপরিকল্পিত শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে একটা সুন্দর জাতি তৈরী সম্ভব নয়।আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়- কর্মমুখী,নৈতিকতা সমৃদ্ধ ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চাই,বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতির বোঝা তৈরী হয়, সম্পদ নয়।

সামিউল ইসলাম বাবু

যেটুকু পাও ছোট্ট সময়/কাজ করে যাও রবের তরে/ক্ষনিক সময় বিস্রাম নিও/ঘুমিও না তুমি অলসতা ভরে//

সামিউল ইসলাম বাবু › বিস্তারিত পোস্টঃ

অসুস্থ প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত সবাই

০৩ রা জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪

একটা জাতীর ব্রেণ হলো বুদ্ধিজীবি আর মাথা হলো রাজনীতিবীদ। এই ব্রেণ আর মাথা যদি পচে যায় তবে সেই জাতি থেকে ভালো কিছু পাওয়া সম্ভব নয়। বরং সেই জাতীর ধ্বংস অনিবার্য। স্বাধীনতার ৫৫বছর পার হয়েগেলো আজও আমরা স্বাধীনতার পক্ষে বিপক্ষে নিয়ে ব্যস্ত। আজও আমরা চেতনা নিয়ে বসে আছি।
>অথচ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা পৃথিবীর সবচেয়ে নিম্নমানের শিক্ষা পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম। এখানে হাজার হাজার বেকার তৈরী হয়।
>বিদেশে কর্মী পাঠাবো, এরমতো এলোমেলো কোন আর কোন দেশ নেই। সরকার থেকে এজেন্সি সবাই ঠকানোর পথ খুজতে থাকে।
>রাজনীতিবীদের মধ্যে দলপ্রেম আছে দেশপ্রেম নেই।
>প্রযুক্তিতে আমরা কোথায় সবাই একবার চিন্তা করুন।
>খাদ্যে ভেজাল সবচেয়ে বেশি। শিশু খাদ্যের অবস্থাতো আরও ভয়াবহ।
>চিকিৎসাঃ আমরা সবাই শেষ হয়ে যাবো কিন্তু চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করবোনা। কারণ রাজনীতিবীদ ও আমলারা বিদেশে চিকিৎসা নেয়। দেশের চিকিৎসা ভালো হবে কি করে?


দেশের অবস্থা নিয়ে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় নেই। চারদিকে সবাই ব্যস্ত—কেউ ব্যবসা নিয়ে, কেউ চাকরি নিয়ে, কেউ রাজনীতি নিয়ে। কিন্তু জাতির স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ এবং টিকে থাকার প্রশ্নগুলো যেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে হারিয়ে গেছে। আমরা যেন এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে সমস্যার কারণ খোঁজার চেয়ে সমস্যাকে পুঁজি করে ব্যবসা করাই বেশি লাভজনক।

বাংলাদেশে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের বাজার হাজার হাজার কোটি টাকার। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট খাচ্ছেন। প্রশ্ন হলো, একটি দেশে এত মানুষের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কেন? আমরা কি কখনো জাতীয়ভাবে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি? খাদ্যে ভেজাল, অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, পরিবেশ দূষণ কিংবা অনিরাপদ জীবনযাত্রা—এসবের কোনটি কতটুকু দায়ী, তা নিয়ে কি পর্যাপ্ত গবেষণা হয়েছে?

দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমরা রোগের কারণ দূর করার চেয়ে রোগের বাজার তৈরিতে বেশি সফল হয়েছি। মানুষ অসুস্থ হচ্ছে, ওষুধ বিক্রি হচ্ছে, হাসপাতাল বাড়ছে—কিন্তু রোগ কমছে না। ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধীরে ধীরে চিকিৎসাকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, প্রতিরোধকেন্দ্রিক নয়। অথচ উন্নত দেশগুলো বহু আগেই বুঝেছে, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা করার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা অনেক বেশি কার্যকর এবং সাশ্রয়ী।

আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো, দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি ও রাজনৈতিক শক্তির বড় একটি অংশ প্রায়ই এমন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকে, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক জীবনমানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গবেষণা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশের মতো মৌলিক প্রশ্নগুলো অনেক সময় রাজনৈতিক শোরগোলের আড়ালে হারিয়ে যায়।

আমরা প্রায়ই উন্নয়নের কথা বলি। কিন্তু উন্নয়ন কি শুধু সেতু, রাস্তা আর উঁচু ভবনের নাম? একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হয়, যখন তার মানুষ সুস্থ থাকে, গবেষণা শক্তিশালী হয়, খাদ্য নিরাপদ হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই পরিকল্পনা তৈরি হয়। যদি কোটি কোটি টাকা শুধু প্রতিরোধযোগ্য রোগের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়, তাহলে সেটি উন্নয়নের সাফল্য নয়; বরং কোথাও না কোথাও আমাদের ব্যর্থতার ইঙ্গিত।

আজ প্রয়োজন নতুনভাবে ভাবার। প্রয়োজন গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো, জনস্বাস্থ্যকে জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করা এবং রোগের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি করা। শুধু ওষুধ বিক্রি বাড়লেই জাতি সুস্থ হয় না; বরং সুস্থ জাতি গড়ে ওঠে তখনই, যখন অসুস্থ হওয়ার কারণগুলো কমতে থাকে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—আমরা কি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ সমাজ রেখে যেতে চাই, নাকি এমন একটি জনপদ রেখে যেতে চাই যেখানে মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ওষুধের ওপর নির্ভরশীল থাকবে?

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে একমত ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.