![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আবদুর রহমান মাসুম হানাফি
মুজাফফর বিন মুহসিন
বলেছেন, মাথা ঢেকে টয়লেটে যাওয়ার হাদীস নাকি
জাল!
তিনি আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করে
সেটাকে জাল হাদীস বলে ফতোয়া দিয়ে দিলেন,
“পেশাব –পায়খানায় যাওয়ার সময় মাথায় টুপি দেয়া বা মাথা
ঢেকে যাওয়ার প্রথা সমাজে লক্ষ্য করা যায়, শরীয়তে
এর কোন ভিত্তি নেই। এ মর্মে যে হাদীস রয়েছে,
তা জাল”।
জাল হাদীসের কবলে রাসুলুল্লাহ (সা) এর সালাত/৩৭
জবাবঃ
চলুন, প্রথমেই দেখে নেই, ইমাম নববী (রাহ) এ
হাদীসটি সম্পর্কে কী বলেছেন,
তিনি বলেছেন,
ﻭﺭﻭﻯ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﺑﺈﺳﻨﺎﺩﻩ ﺣﺪﻳﺜﺎ ﻣﺮﺳﻼ ، } ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﺨﻼﺀ ﻟﺒﺲ ﺣﺬﺍﺀﻩ ﻭﻏﻄﻰ ﺭﺃﺳﻪ { ”
ﻭﺭﻭﻯ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﺃﻳﻀﺎ ﻋﻦ [ ﺹ : 110 ] ﻋﺎﺋﺸﺔ ” } ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﺨﻼﺀ ﻏﻄﻰ ﺭﺃﺳﻪ ﻭﺇﺫﺍ ﺃﺗﻰ
ﺃﻫﻠﻪ ﻏﻄﻰ ﺭﺃﺳﻪ { ” ﻟﻜﻨﻪ ﺿﻌﻴﻒ ، ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ : ﻭﺭﻭﻱ ﻓﻲ
ﺗﻐﻄﻴﺔ ﺍﻟﺮﺃﺱ ﻋﻨﺪ ﺩﺧﻮﻝ ﺍﻟﺨﻼﺀ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺑﻜﺮ ﺍﻟﺼﺪﻳﻖ ﺭﺿﻲ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻭﻫﻮ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻨﻪ ، ﻗﻠﺖ : ﻭﻗﺪ ﺍﺗﻔﻖ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﻋﻠﻰ ﺃﻥ
ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺍﻟﻤﺮﺳﻞ ﻭﺍﻟﻀﻌﻴﻒ ﻭﺍﻟﻤﻮﻗﻮﻑ ﻳﺘﺴﺎﻣﺢ ﺑﻪ ﻓﻲ ﻓﻀﺎﺋﻞ
ﺍﻷﻋﻤﺎﻝ ﻭﻳﻌﻤﻞ ﺑﻤﻘﺘﻀﺎﻩ ﻭﻫﺬﺍ ﻣﻨﻬﺎ .
তিনি বলেছেন,
ইমাম বাইহাকী (রাহ) একটি মুরসাল হাদীস বর্ণনা করেছেন,
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন টয়লেটে প্রবেশ
করতেন, তখন তিনি জুতা পরিধান করতেন এবং মাথা ঢেকে
দিতেন। এবং ইমাম বাইহাকী হযরত আয়েশা (রা) থেকে
আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন টয়লেটে যেতেন, মাথা ঢেকে
যেতেন –। ইমাম বাইহাকী বলেন, আবু বকর (রা)
থেকে বর্ণিত টয়লেটে যাওয়ার কালে মাথা ঢেকে
যাওয়ার হাদীসটি সহীহ।
এ পর্যন্ত আলোচনা করে ইমাম নববী (রাহ) বলেন,
আমার কথা হলো, সকল উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে
একমত যে মুরসাল হাদীস, যয়ীফ হাদীস এবং মওকুফ
হাদীস ফাযায়েলে আ’মালের ক্ষেত্রে গ্রহনযোগ্য।
আর এ বিষয়টি তারই অন্তর্ভুক্ত।
রেফারেন্সঃ
আল মাজমু’ লিন নববী
তাহারাত অধ্যায়।
এখানে যা প্রকাশ পেল-
১/ আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসটি যয়ীফ বা দুর্বল।
তিনি কিন্তু হাদীসটি জাল বলেন নি।
২/ মুরসাল হাদীস, দুর্বল হাদীস এবং মওকুফ হাদীস
ফাযায়েলে আমলের ক্ষেত্রে গ্রহনযোগ্য।
৩/ আবু বকর (রা) থেকে বর্ণিত এ মর্মের হাদীসটি
সহীহ।
তাহলে মুজাফফর বিন মুহসিন বললেন, হাদীসটি জাল!!!
কোথায় পেলেন? আলবানীর কিতাবে? তিনি বলেছেন
হাদিসটি জাল? না তো! তিনি হাদীসটি উল্লেখ করে
বলেছেন, হাদীসটি যয়ীফ। জাল বলেন নি।
দেখুন,
4192 – ( ﻛﺎﻥ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﺨﻼﺀ ﻏﻄﻰ ﺭﺃﺳﻪ ، ﻭﺇﺫﺍ ﺃﺗﻰ ﺃﻫﻠﻪ
ﻏﻄﻰ ﺭﺃﺳﻪ ) .
ﺿﻌﻴﻒ
তিনি তো হাদীসটি দুর্বল বললেন, তাহলে মুজাফফর
সাহেব জাল পেলেন কোথায়? প্রকাশ্য নির্লজ্জ মিথ্যাচার
হয়ে গেলনা!
এবার অন্য কথা।
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত হাদিসটি দুর্বল হলেও ভিন্ন
সনদে আসার কারণে তা হাসান এর পর্যায়ে উন্নীত
হয়েছে।
ভিন্ন সনদগুলো দেখে নেই।
১/ ﺭﻭﻯ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﻓﻲ ﺳﻨﻨﻪ ( 464 ) ﻭﺃﺑﻮ ﻧﻌﻴﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﻠﻴﺔ
( 2/182 ) ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﻗَﺎﻟَﺖْ : ” ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
ﺇِﺫَﺍ ﺩَﺧَﻞَ ﺍﻟْﺨَﻼَﺀَ ﻏَﻄَّﻰ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺃَﺗَﻰ ﺃَﻫْﻠَﻪُ ﻏَﻄَّﻰ ﺭَﺃْﺳَﻪُ “.
২/ ﻭﺭﻭﻯ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ( 465 ) ﻋَﻦْ ﺣَﺒِﻴﺐِ ﺑْﻦِ ﺻَﺎﻟِﺢٍ ﻗَﺎﻝَ : ( ﻛَﺎﻥَ
ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇِﺫَﺍ ﺩَﺧَﻞَ ﺍﻟْﺨَﻼَﺀَ ﻟَﺒِﺲَ ﺣِﺬَﺍﺀَﻩُ
ﻭَﻏَﻄَّﻰ ﺭَﺃْﺳَﻪُ
সুতরাং টয়লেটে মাথা ঢেকে যাওয়ার হাদীস ভিন্ন সনদে
আসায় সেটা হাসান এর পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। যা
সহীহ এর অন্তর্ভুক্ত।
আরেকটি সহীহ হাদীস উল্লেখ করছি-
ﻋﻦ ﻋُﺮْﻭَﺓ ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ : ” ﺃَﻥَّ ﺃَﺑَﺎ ﺑَﻜْﺮٍ ﺍﻟﺼِّﺪِّﻳﻖَ ، ﻗَﺎﻝَ ، ﻭَﻫُﻮَ
ﻳَﺨْﻄُﺐُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ : ” ﻳَﺎ ﻣَﻌْﺸَﺮَ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ ، ﺍﺳْﺘَﺤْﻴُﻮﺍ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠﻪِ ،
ﻓَﻮَﺍﻟَّﺬِﻱ ﻧَﻔْﺴِﻲ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﺇﻧِّﻲ ﻷﻇﻞ ﺣِﻴﻦ ﺃَﺫْﻫَﺐُ ﺇﻟَﻰ ﺍﻟْﻐَﺎﺋِﻂِ ﻓِﻲ
ﺍﻟْﻔَﻀَﺎﺀِ ، ﻣُﻐَﻄّﻴًﺎ ﺭَﺃْﺳِﻲ ﺍﺳْﺘِﺤْﻴَﺎﺀً ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻲ ”
উরওয়াহ (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু
বকর (রা) মানুষদের উদ্দেশ্যে খুতবাহ দান কালে
বলেন,হে মুসলমানগণ, আল্লাহর ব্যাপারে লজ্জাশীল হও।
যার হাতে আমার প্রাণ, সে সত্ত্বার কসম, আমি যখন হাজত
পূরণে টয়লেটে যাই, তখন আমার প্রতিপালকের ব্যাপারে
লজ্জাশীল হয়ে অবশ্যই আমার মাথা ঢেকে যাই।
রেফারেন্সঃ
১/ কিতাবুয যুহদ লি ইবনিল মুবারক-১/১০৭
২/মুসান্নাফ ইবন আবী শাইবাহ- ১/১০৫
হাদীসটি সহীহ।
দেখুন, আল ইলাল-১/১৮৬
ইমাম বাইহাকী ও আবু বকর (রা) এর হাদীসটি সহীহ
বলেছেন,
দেখুন, আস সুনান- ১/৯৬
তো, আবু বকর (রা) যেখানে মুসলমানদেরকে
টয়লেটে যাবার সময় লজ্জাশীল হতে নির্দেশ প্রদান
করলেন, সেখানে মুজাফফর সাহেব মুসলমানদেরকে
নির্লজ্জ ও বেহায়া হবার আহবান করলেন!!
কেমন হলো ব্যাপারটি?
এ কোন খেলা চলছে আমাদের সমাজে? এ কেমন
মিথ্যাচার? এ কেমন ধোঁকাবাজি?
©somewhere in net ltd.