![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাটির মানুষ ভিজলে কাদা হয় না কেন প্রশ্ন জাগে, মানুষ গড়া অন্যকিছুয় আমার শুধু এমন লাগে।
অনুরোধ কিংবা অভিযোগ-অনুযোগ কিছুই করবো না,
শুধু চাইবো কেউ এতটুকু জানুক- আমি এলোমেলো হয়ে গেছি।
ভ্রূকুটি করে কেউ তাকাক কি নাইতাকাক-
শুধু চাইবো কেউ এটুকু জানুক- আমি ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছি।
কারো বিরক্তি বা অস্বস্তির কারণ জাগাবো না,
শুধু চাইবো কেউ টের পাক সাইক্লোনের তাণ্ডবে তছ নছ হয়ে গেছি আমি।
শুধু চাইবো কেউ আমার মৃত দেহটাকে খুঁজে বের করুক।
দাবী করুক আমাকে।
আমি দাঁড়িপাল্লার বাটখারা হয়ে কারো অন্যপাশে ছিলাম,
এইপাশে চলে আসলে ভারসাম্য হারিয়ে সবকিছুর পতন হোতো-
কেউ যেন এটুকু বুঝতে পারে।
কাউকে বলবো না আমার সাথে সাথে আসতে হবে,
শুধু এটুকু জানুক কেউ আমার ঝুঁকির জীবনে প্রতিদিনের রকেট রিক্সার মত
অপরিহার্য হয়ে গিয়েছিল। সরকারও তো দয়া করে ছয় মাস।
আমি কি দোষ করেছি?
কারো পাশ থেকে হাত ধরে বলতে চাইবো না,
আমার চশমাটা পুরনো হয়ে গেছে। নতুন একটা কিনে দাও না?
শুধু চাইবো কেউ আড়াল থেকে ভেতরের পাতার
শর্ট সাইজের বার্তার মত খবর রাখুক-
আমার ক'টা চশমা ভেঙেছে এখন পর্যন্ত।
আমার মানিব্যাগের বয়স কত হয়েছে-
কেউ যেন তার কার্বন টেস্টের রিপোর্ট রাখে-
অতি সংগোপনে!
আমি কি হাতে প্লে-কার্ড নিয়ে কারো বাসার সামনের রাস্তায়
অনশনে বসেছি নাকি যে আমাকে ভালবাসতেই হবে?
আমি তো শুধু বলেছিলাম- আমার রক্তের গ্রুপ আম জনতার, এবি পজেটিভ।
এইচআইভি পজেটিভ তো আর বলিনি।
আমি মিছিল মিটিং তো করছি না যে কেউ এসে আমার
শূন্য মেসের নিচতলা থেকে আমাকে না পেয়েই ফিরে যাবে?
আমি তো শুধু চেয়েছি কেউ চোখ রাঙিয়ে এটুকু বলুক-
একা একা কিসব রান্না করে খাও যে দুদিন যেতে না যেতেই অসুখ বিসুখে পড়ো?
আমি তো জাতিসঙ্ঘে গিয়ে মিনতি করিনি যে তোমার কান্না উপলক্ষে
"বিশ্ব কান্না দিবস" নামে কোনো তারিখ স্বীকৃতি দিক?
আমি স্রেফ মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলাম-
আমার বাথরুমের ওয়াশিং পাউডারের খরচ বেড়ে গেছে,
শার্টের হাতায় এতো কাজলের দাগ হাজার ধুয়েও উঠছে না!
আমি তো ঠিক করেই রেখেছিলাম প্রতিমাসের বেতন থেকে
দুটো ধব ধবে শাদা শার্ট কেনা হবে কেবল তোমার কাজল বিতরণের জন্য।
এর জন্য চোখেই কাজল দেয়া থামিয়ে দিতে হবে?
আমি তো কাউকে বলিনি আমাকে পাঞ্জাবি কিনে দাও?
তাহলে কোত্থেকে কেউ এসে ফিটফাট আমাকে টেনে চেঞ্জিং রুমের অভাবে
এটিএম বুথেই ঢুকিয়ে দেবে পাঞ্জাবি পরার জন্য- আর বাহিরে দাঁড়িয়ে পাহারা দেবে
কেউ যেন ভেতরে না আসে!
চারুলতা,
আমি তো হারানো বিজ্ঞপ্তির মত মাইকিং করিনি
"আমার শার্টের হাতা থেকে চারুলতা বোস নামের একটি মেয়ের
চোখের কাজল হারানো গিয়েছে!"
শুধু একটু সাহস করেই না বলেছিলাম, "কারো কাঁচা রঙা লিপস্টিকের
লাল ছোপ ছোপ দাগ না হয় শার্টের বুকেও থাকতো!
ব্ল্যাক এণ্ড হোয়াইট আর কতদিন চলবে!"
কারো লজ্জায় ডুকরে কেঁদে ওঠা দেখে বোকার মত তার
উথাল পাথাল চুলে আঙুল বোলাতে হবে-
কে জানতো!
আমি তো শুধু চেয়েছিলাম কেউ ফিক করে হেসে দিক,
আর রৌদ্রোজ্জ্বল সকালের মত সহাস্যে বোলুক-
"ইতর, অভদ্র! মুখে কিছু আটকায় না!"
চারুলতা কাব্য- পাঁচ
বন্দরটিলা, চট্টগ্রাম।
১৭/১১/২০১৪ইং
©somewhere in net ltd.