নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নোয়াখালী ওয়েব

আপনার কমিউনিটি, আপনার সংবাদ

নোয়াখালী ওয়েব

Noakhaliweb.com.bd

নোয়াখালী ওয়েব › বিস্তারিত পোস্টঃ

বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ এক বছর পিছিয়ে যাবার আশংকা, আট লক্ষাধিক লোক স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত

০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৭

নোয়াখালী প্রতিনিধি: স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও প্রস্তাবিত জমি বরাদ্দ না হওয়ায় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ আরো একবছর পিছিয়ে যাবার আশংকা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় লোকাবল থাকলেও উপজেলার ৮ লক্ষাধিক মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত থাকতে হবে। তাই মামলা দিয়ে ভূমি বরাদ্দ আটকে দেয়া ব্যক্তিদের সাথে জেলা প্রশাসনের সরসরি বৈঠক এবং ইতোপূর্বে গৃহীত সমঝোতা সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

জানা যায়, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বর্তমান সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা নামক স্থানে ৫একর ভূমির ওপর বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হয়। বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ ইউনিয়ন নিয়ে সোনাইমুড়ীকে আলাদা উপজেলা ঘোষণার পর বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চৌমুহনীতে স্থানান্তরিত হয়। ২০০৬ সাল থেকে বেগমগঞ্জে ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসকসহ লোকবলও স্থানান্তরিত হয় এখানে।

পরবর্তীতে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য করিমপুর মৌজার (একোয়ারভুক্ত) ৬ একর ৫৪ শতাংশ ভূমি বরাদ্দের জন্য ভূমি মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। তন্মধ্যে বেগমগঞ্জ মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র, ১০ শয্যা হাসপাতাল, স্কুল হেলথ্ ক্লিনিক রয়েছে প্রায় দেড় একর জুড়ে। জেলা ভূমি রাজস্ব বিভাগ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ৫ একর জমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বুঝিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। পরবর্তীতে করিমপুর মসজিদের ওয়াকফকৃত সম্পত্তিসহ প্রস্তাবিত ভূমিতে অবস্থানকারী ২৯জন ব্যক্তির মধ্যে ১৩ জন উচ্চ আদালতে ৫টি রীট মামলা করে ভূমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া আটকে দেয়। এনিয়ে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বেগমগঞ্জের সহকারি কমিশনার (ভূমি), যৌথবাহিনীর কর্মকর্তারা মামলা দায়েরকারী ব্যক্তিদের সাথে একাধিকবার বৈঠক করে মামলা তুলে নেয়ার অনুরোধ করে। একপর্যায়ে প্রস্তাবিত ভূমিতে অবস্থানকারী ব্যক্তিদেরকে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও মামলা তুলে নেয়া হয়নি।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে চলতি এইচএনপিএসপি কার্যক্রমের সংশোধিত পিআইপি এর আওতায় ৩য় পর্যায়ে কক্সবাজারের পেকুয়া, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, নোয়াখালীর চৌমুহনীতে বেগমগঞ্জ, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি এবং দীঘিনালায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের সিদ্ধন্ত গ্রহণ করে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়কে দরপত্রের মাধ্যমে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করে। স্ব স্ব জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছিল এ ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্ল্লেক্স স্থাপনের জন্য ৫ একর জমি নির্বাচন পূর্বক নির্বাচিত জমির স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করতে। অন্য ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্ল্লেক্সের জমির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও একমাত্র বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য সুস্পষ্ট উল্লেখিত "চৌমুহনী সাইটের" জমির তফসিল অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। ফলে চলতি অর্থবছরে অন্য ৪টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজের দাপ্তরিক পক্রিয়া শেষ হলেও বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ চলতি অর্থবছরে শুরু হবে কিনা এনিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানায়, ২৯ আগষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে একপত্রে জেলা প্রশাসককে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য "চৌমুহনী সাইটের" জমির তফসিল নির্বাচনপূর্বক অনুমোদনের প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে প্রেরণের জন্য আবারো অনুরোধ করে। কিন্তু জমি নিয়ে মামলা থাকায় এ প্রস্তাব এখনো পাঠানো সম্ভব হয়নি।

এনিয়ে আদালতে মামলাদায়েরকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, নোয়াখালী জেলা শহর স্থাপনের জন্য ১৯৪২ সালে তাদের পূর্ব পুরষের কাছ থেকে তখন সরকার এ ভূমি অধিগ্রহণ করেছিলো। পরবর্তীতে দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে বিভিন্ন সরকার এ জমি ফেরত দেয়ার কথা বলে আসলেও ফেরত দেয়নি। হাসপাতালের বৃহত্তর স্বার্থে তারা জমি ছাড়তে রাজি তবে জেলা প্রশাসনের সাথে সমঝোতা অনুযায়ী আইনগত দিক বিবেচনায় এনে তাদের পুনর্বাসন করা হলে মামলা তুলে নিতে কোন আপত্তি নেই। তবে যাদের স্থাপনা আছে তাদেরকে যেনো অগ্রাধিকার দেয়া হয়।

এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ আহসান উল্যা খান জানান, যত দ্রুত সম্ভব ভূমি হস্তান্তর করা উচিৎ। কারণ ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ৩১ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-১

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৬

ক! বলেছেন: এই সব বালের ফ্লাডিং বনদ কর

২| ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৬

পরোপকারী বলেছেন: প্রথমত ধন্যবাদ এই গুরুত্বপ‌ূর্ন ব্যাপারটি ব্লগে তুলে ধরার জন্য।
ডাঃ আহসান উল্লাহ খান কর্মসময়ের কতক্ষন থাকেন তার অফিসে? উনার বেশীর ভাগ সময়তো কাটে চৌমুহনীর পাবলিক হলে অবস্থিত প্রাইভেট চেম্বারে। তা নিয়ে একটু লিখেন না প্লিজ।
ধন্যবাদ।

৩| ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:০০

নোয়াখালী ওয়েব বলেছেন: ক! আপনি একটা খেচ্ছর।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.