| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি-গানটি সকলের ই পরিচিত। গানটি গাওয়ার সময় প্রত্যেক বাঙালী অনুভব করে তার বাঙ্গালিত্ত। গত শুক্রবার কিছু লোক (প্রধানত জামায়াত শিবির) শহিদ মিনার ভাংচুর করেছে। মূলত ইসলাম কে অবমাননার জন্য সমাবেশের ডাক দেওয়া হলেও পরে শহীদ মিনার ভাংচুর, এসব নিয়েও আজ লিখব। আমাদের দেশে একদল লোক যেমন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে অন্যদল রাজনীতি করে দেশের মানুষের জাতীয়তা বোধ নিয়ে। সমস্যা এটা না, ইসলাম রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছে, কারন এটি পূর্ণাঙ্ঘ জীবন বিধান, এর মধ্যে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি সবই আছে। সমস্যা হলো ইসলাম যেভাবে রাজনীতি করতে বলেছে তা না করে এর ভুল ব্যাখ্যা করা। আবু বকর রাঃ এর একটি কতাহ আমার এই মূহুর্তে মনে পড়তেছে, " আমি যতদিন আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রদর্শিত পথে থাকব ততদিন তোমরা আমায় সমর্থন করবে, অন্যথায় আমার ভুল ধরিয়ে দেব"। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন জনগণের উদ্দেশ্যে। দেশের অন্য দলটি রাজনীতি করে বাঙ্গালীর জাতীয়তা বোধ নিয়ে। এটাও সমস্যা না। ১৯৬৯ কিংবা ১৯৭১ এ বাঙ্গালীর জাতীয়তা বোধ ই তাদেরকে দেশ স্বাধীন করতে উদ্বোধ্য করেছিল। সমস্যা হচ্ছে যখন এই জাতীয়তা বোধ কে কুপথে ব্যবহার করা হয়। এখন তো অবস্থা টা এমন যে কেউ যদি রাজাকার হয়ে থাকে এবং পরে আওয়ামলীগে যোগ দেয় তা হলে তাকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে। শাহাবাগের আন্দোলন শুরুতে যে জনসমর্থন পেয়েছিল, দিন দিন তা তার সমর্থন হারাচ্ছে। বস্তুত যারা মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের অবশ্যি উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। সে যে দলেরই হোক। এখানে একটা কথা পরিস্কার হওয়া দরকার যে , যুদ্ধাপরাধি আর মানবতাবিরোধি অপরাধ এক নয়। যদিও এখন মানবতাবিরোধি অপরাধের বিচার হচ্ছে, তবু এদেশের সব পত্রপত্রিকা আর টিভি চ্যানেল এমনকি শাহাবাগের আন্দোলন ও হচ্ছে "যুদ্ধাপরাধ" কথাটা উচ্চারন করে। শাহাবাগের আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সমস্য এখানে শুধুমাত্র জামায়াত পন্থী দের বিচারের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু আওয়ামলীগের ভিতরকার রাজাকারদের বিচারের কথা এখানে অনুপস্থিত। শাহাবাগের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে, তাদের একজন ছিল, ব্লগার রাজীব। ও থাবা বাবা নামে ইসলাম অবমাননা কর যেসব লিখা লিখেছে তার বিচার হওয়া উচিত। দেশের সবাই মুসলিম না, এ দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, আস্তিক, নাস্তিক সবাই আছে। যে কোন ধর্ম নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে রাজীব যা লিখেছে তাতে কোন যুক্তিসঙ্ঘত কথা নেই, সবই অযৌক্তিক গালাগালি যা অশ্রাব্য। কিছু পত্রিকা রাজীবের কিছু লিখা প্রকাশ করেছে, একদল লোক বলছে এটা শাহাবাগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। কথা হচ্ছে, কেউ বলতেছেনা রাজীব তাহলে কি লিখেছে, ও যদি ভাল লিখা লিখে তাহলে দেশবাসী জানুক ও ভালো। সরকার উলটো ওর ব্লগ পোস্ট গুলো ব্লক করে দিয়েছে। ও ছিল নাস্তিক। এটা ওর ব্যক্তিগত বিষয় তবে কিছু লোক ওর জানাজা দিল (ইসলাম ধর্মের রীতিতে), ওকে শহীদ বলা হল। এই জানাজা নিয়ে খোদ নাস্তিকদের মধ্যেও অসন্তোষ আছে। কোন ধর্মের অবমাননা ই সহ্য করা যায়না। এর বিচার হওয়া উচিত। আবারো বলি, ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করা যায়, তা হতে হবে ঘটন মূলক, অহেতুক গালাগালি নয়। গত শুক্রবার এর বিরুদ্ধের ইসলাম ই ঐক্যজোটের একাংশ সমাবেশ ডেকেছিল। এতে যে জামায়াতের সমর্থন থাকবে তা সবাই জানে। সারাদেশে গনজাগরন মঞ্চ ভাঙ্গাসহ শহীদ মিনার ভাঙ্গা হল। গনজাগরন মঞ্চ বিতর্কিত বিষয়, তবে শহীদ মিনার ভাঙ্গা কখনো সমর্থন যোগ্য নয়। কয়েকটি স্থানে হয়তোবা গনজাগরন মঞ্চ তৈরী করা হয়েছে শহীদ মিনারের পাশে। সেখানে মঞ্চ ভাঙ্গার সময় শহীদ মিনার এ আঘাত লাগতে পারে, তবে যে সব স্থানে শহীদ মিনারই টার্গেট ছিল, ঐ সব লোকদের ধিক্কার জানাই। ইসলাম বলেছে দেশকে ভালোবাসার জন্য। দেশকে ভালোবাসা মানে দেশের ভাষা, দেশের মানুষ কে ভালোবাসা। মুহাম্মদ সাঃ মক্কা ছেড়ে মদিনা যাওয়ার সময় মক্কার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, হে আমার সদেশ, তোমার(কুরাইশরা) লোকেরা যদি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র না করত আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যেতাম না। প্রকৃত পক্ষে বলতে চাই, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ রাজনৈতিক দলগুলোর অন্ধ সমর্থক। যে যেই দলের সমর্থক সে দল যত বড় অন্যায় করুক না কেন , তা তারা সমর্থন করে। একটা কথা পরিষ্কার হওয়া দরকার বঙ্গবন্ধুকে, ততকালীন আওয়ামলীগকে সমর্থন করা মানে, বর্তমান আওয়ামলিগকে সমর্থিন করা নয়। তদ্রুপ জিয়াউর রহমান আর বর্তমান বিএনপি এক কথা নয়। ইসলাম মানে জামায়াত নয়।
©somewhere in net ltd.