নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্য জানানো ও জানা সকলের দায়িত্ব

সত্য প্রিয় বাঙালী

সত্য প্রিয় বাঙালী › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফেসবুক!!

১৪ ই মার্চ, ২০১৩ সকাল ৭:২৬

ফেসবুক! কার কার একাউন্ট নেই? কিছু দিন আগে এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এই তোর একাউন্ট আছে? সে বলল আছে তো, সে তার ইমেইল অ্যড্রেস দিয়ে বলল, এটি লিখে সার্চ দিবি। আমি তো অবাক, কিরে ব্যাংক একাউন্ট খুলতে ই-মেইল অড্রেস লাগে নাকি? সে বলল ও, আমি তো ভেবেছিলাম ফেসবুক একাউন্ট। হায়রে কপাল! এদেশের যুবক এখন একাউন্ট বলতে ফেসবুক একাউন্ট বুঝে। বাংলাদেশে মোট ফেসবুক ব্যবহারকারির সংখ্যা প্রায় দুই দশমিক আশি মিলিয়ন (আটাশ লক্ষ) লোক। ব্যবহারকারির মধ্যে ১৮-২৪ বছরের যুবক যুবতীরাই বেশি প্রায় এক দশমিক সাঁইত্রিশ মিলিয়ন। প্রায় ৪৩৮৬০০ জন ২০১২ সালের শেষ ৬ মাসে নতুন করে ফেসবুকে একাউন্ট খুলেছে। সোসাইলবেকারস নামের একটি সংঘটনের এক গবেষনায় আরো বের হয়েছে, বাংলাদেশ ফেসবুক ব্যবহারকারিদের সংখ্যার দিক দিয়ে ৪৯ তম স্থানে আছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সংখ্যার দিক দিয়ে ১ম স্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র, ২য় ব্রাজিল, ৩ য় ভারত। ২০০১ সালে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ ছিল, গত বছর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৫৫ লক্ষ। যাই হোক ফেসবুক কী এদেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে যুবক যুবতিদের জন্য কতটুকু উপকারী? তাই এখন প্রশ্ন। ফেসবুক এখন একটি সংবাদ মাধ্যমও বটে। দেশের বিভিন্ন অনলাইন পত্র-পত্রিকা ফেসবুকে শুধুমাত্র লাইক বাটনে ক্লিক করে পড়া যাছে। এটি একটি বিজ্ঞাপন মাধ্যম হিসেবেও জনপ্রিয়। ফেসবুকে ঢুকলেই দেখা যায় বিক্রয় ডট কম কিংবা অন্য কোন কোম্পানির বিজ্ঞাপন। ফেসবুকের ইনস্ট্যান্ট মেসেজ মোবাইলের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাচ্ছে। মিডিও কলিং তো আছেই। আর এন্টারটেইনমেন্ট এর প্রধান মাধ্যম তো এখন ফেসবুক ই। মজার সব কমেন্ট কিংবা ছবি যে কেউ আপলড কিংবা ডাউনলোড করছে। কিছুদিন আগে একটা কমেন্ট দেখলাম এরকম, একজন লিকছে,"ভাষার জন্য জীবন দিছি - এখন IELTS ও দেয়া লাগবে?" এরকম অনেক কমেন্টের মুক্ত জায়গা ফেসবুক। ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুদের খোজখবর নেয়া যায় সহজেই, হুমায়ুন আহমেদ তার আত্মজীবনিমূলক বই রঙ পেন্সিলে ফেসবুক সম্পর্কে কিছু লিখেছে, "আমার এক শিশু শিল্পীর নাম রুদ্র, এখন সে শিশু শিল্পী থেকে বালক শিল্পী হয়েছে। বয়স বেড় ১১ হয়েছে। একদিন সে আমাকে টেলিফোন করে বলল,"স্যার আংকেল (শিশু শিল্পীরা আমাকে অন্যদের মতো স্যার ডাকেনা, স্যার আংকেল ডাকে) আপনি কি ফেসবুকে আছেন? থতমত খেয়ে আমি কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললাম, তুমি কি আছ? রুদ্র উতসাহের সঙ্গে বলল, হ্যা, আপনি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেই আপনাকে ফ্রেন্ড বানাবো। রুদ্রকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়নি, কারন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর প্রথম শর্ত ফেসবুকে একাউন্ট থাকা, তা আমার নেই। তবে সুখের ব্যাপার আমার নামে সাতটি একাউন্ট আছে। এই একাউন্ট গুলো আমার হয়ে সামাজিক সৌহার্দ্য বিষয়ক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সৌহার্দ বিষয়ক কর্মকান্ড হলো, মিথ্যা হুমায়ুন আহমেদ তরুনী মেয়েদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করছেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে বৃষ্টিস্নান এবং জোতস্নাস্নানের আমন্ত্রন জানাচ্ছেন। এক ব্যক্তি সেই হুমায়ূন আহমেদ কে স্যার সম্বোধন করায় তিনি রাগ করে লিখেছেন, আমার মনের বয়স বাড়েনি, আমি চির তরুণ, তুমি আমাকে ভাইয়া ডাকবে। কেমন?" বস্তুত ফেসবুকের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে মিথ্যাচার। এখানে কেউ ছেলে হয়েও মেয়ের নামে একাউন্ট খুলতেছে (ফেসবুক নাম-প্যাক আইডি), আবার উল্টাটাও ঘটছে। ভাল সাইট গুলোর পাশাপাশি অনেক খারাপ সাইট ফেসবুকে সচল। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, টিন এজারদের একটি বিশাল গ্রুপ ফেসবুকে যথেষ্ট সময় ব্যয় করতেছে, যা তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে দিচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে কতঘন্টা একজন টিন এজার ফেসবুক ব্যবহার তার একটা জরিপ হওয়া দরকার। সংশ্লিষ্ট মহলের এই বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। এতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া যায়, যেমন নির্দিষ্ট সময় (রাতকে) ফেসবুক সাইট ব্লক করে দেয়া। যাই হোক কি পদক্ষেপ নিবে তা সংশ্লিষ্ট মহলের চিন্তা করা উচিত।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.