| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমার ভেতরে যে একটা আজন্ম বাউল ছিলনা
তা তো না,
ছিল বৈকি।
তবে তা ছিল
রোজ ক্লিন শেভ করা চকচকে গালের মুখোশে
লুকায়িত এক
একুশ শতকীয় বোষ্টম।
আমার একতারাটা ছিল
একেবারে রুক্ষ অস্থির গহীনে
সভ্যতার জিম্মিতে,
যে বেজে উঠার কল্পনাও করেনি কোনদিন
আমার ছন্দময় ছন্নছাড়া কথাগুলো ছিল
একবোরেই এ সময়ের কঠোর গদ্যের সাথে
সমসত্ত্ব মিশ্রণে অলক্ষিত।
আর আমার সন্নাস ছিল
গৃহী বলয়ের শ্যাওলাপড়া দেয়ালের
অনুগত বড়।
আমি এখানের সভ্যতার মত করেই
বাউল ছিলাম,
বাউলের মত করে সভ্যতাকে
আকার দু:সাহস করতে যাইনি কোনদিন।
অথচ এক শ্যামলা কোন এক বিকেলে
একটা মায়ার নখরে টুং করে
বাজিয়ে দিলে আমার
অস্থির একতারা।
আমার শ্যাওলা পড়া দেয়ালবদ্ধ
অনুগত গৃহীকে
টেনে বার করলে পথের ধুলোয়
কেবল তোমাকে গান শোনানোর জন্য।
আমার কঠোর গদ্যে মিশ্রিত চরণগুলো
তুমি আলাদা করে ঝরিয়ে দিলে
বুকের উঠানে।
চাতকী বোষ্টমীর মত
আমাকে পথ চেনালে গৃহের বিপরীতে।
সময়ের খা খা রোদ থেকে আমাকে টেনে নিয়ে
বসালে
তোমার ছায়ার আদরে।
আমাকে শোনাতে বললে
প্রেম ও প্রার্থনার বাউল কথন,
যা আমি সময় ও সভ্যতার ভয়ে
উচ্চারনও করতে চাইনি কোনদিন।
যখন আমি উচ্চারন করলাম
তখন আমি বিশ্বাস করলাম
আমি মধ্যযুগীয়
ব্রতচারি বাউল।
আমার সভ্যতা তখন খসে পড়তে ধরলো
একে একে।
আমার গাল জুড়ে গজিয়ে উঠল
বর্বর দাড়ি
আর কন্ঠস্বরে কাতর প্রেম।
প্রেম ও প্রার্থনায় মুখরিত তখন
বোষ্টম প্রাণ।
গান শেষে তাকালাম তোমাতে।
তুমি বিদ্যুত স্পৃষ্ঠের মত সরিয়ে নিলে
তোমার দৃষ্টি।
অতপর ধুলিপথে হাটা দিলে দিগন্তের দিকে।
আমি আর ডাকিনি তোমায়।
আমি একতারাটা হাতে নিয়ে উর্দ্ধাকাশে তাকিয়ে
এক পলক হেসেছি।
তোমার ছায়াটা সরে গেছে,
সময়ের কাঠফাটা রোদে
আজো দাড়িয়ে আছি
একা
একতারা হাতে।
©somewhere in net ltd.