নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কল্পনায় বাস্তবের প্রতিচ্ছবি

সাগর দেখেছি কিন্তু সাগর হতে পারিনি

সমুদ্রকন্যা

ডাঃ সৈয়দা রহিমা আক্তার রুমি

সমুদ্রকন্যা › বিস্তারিত পোস্টঃ

লজ্জাবতী লতা...

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:০৩

লোকাল বাসে বরাবর যে ব্যাপারটা আমার বিরক্ত লাগে তা হল মহিলা আসনে বসাটা। এই ব্যাপারটা নিয়ে হরহামেশাই আমার হেল্পারের সাথে ঝামেলা হয়। আমার কথা হচ্ছে পুরো বাসে এতগুলো খালি আসন থাকতে আমি কেন চারজনের সিটে পাঁচজনের সাথে গাদাগাদি করে বসব? আর তাদের কথা হচ্ছে আমি একা একজন মহিলা মানুষ বাসে জার্নি করছি, আমার পাশে কোন পুরুষ বসবে? প্রতিবারই আমাকে নির্লজ্জের মত বলতে হয় যে আমার পাশে যেই বসুক আমার কোন সমস্যা নেই বরং যে বসতে চায়না সমস্যা তারই। আমাকে রীতিমত হুমকির সুরেই শুনতে হয় যদি কেউ না বসে তবে আমাকে দুইটা সিটের ভাড়া দিতে হবে। আচ্ছা বাবা দিলাম নাহয়! যদিও আজ পর্যন্ত আমার পাশের সিট খালি অবস্থায় বাস ছাড়েনি আর আমাকেও বাড়তি ভাড়ার টাকা গুনতে হয়নি। বরং আমার মত যারা একা জার্নি করে তারা আমার পাশে বসার সুযোগ পায়। আমি মহিলা আসনের বিরোধিতা করছিনা। আসলে আমাদের সমাজব্যবস্থা এমনই। আমি প্রায়ই দেখি পুরো বাসে যত মানুষ যাওয়া আসা করে তার প্রায় অর্ধেক মানুষ বাসের সামনের অংশে মহিলা আসন ও চালকের আশেপাশে বসে। গ্রামের মহিলারা বসার আসন নিয়ে খুব একটা বাক-বিতন্ডায় যায়না। তাদের একটাই চিন্তার বিষয় হেল্পার যাত্রার ভাড়া বাড়তি নিচ্ছে নাতো। বেশিরভাগ সময় আমি দেখি গ্রামের মহিলাদের সাথে নুন্যতম একজন পুরুষ সহযাত্রী থাকবেই যে বাসে উঠেই একটা নরমাল সিটে নবাবের ভঙ্গিতে বসে থাকে আর তার মহিলা সহযাত্রীদের বাচ্চাসহ ঠেসে বাসের ঐ সামনের অংশে বসানো হয়। বাচ্চাগুলো মায়ের বোরকা বা হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকে কারণ এরা বসলে এদের সিটের ভাড়া দিতে হবে। গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের চিত্র এটি। তারমানে অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের চিত্রও ভিন্ন নয়। গ্রামের নারীরা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে এই অবস্থার সাথে। ঘরের মাঝে রান্নাঘরে উত্তপ্ত চুলার পাশে যার সারাদিন কেটে যায় বাসের মধ্যে উত্তপ্ত ইঞ্জিনের পাশে বা উপরে কয়েক ঘন্টার জার্নি তার গায়ে লাগেনা। তাদের প্রত্যাশাও খুব অল্পতেই সীমাবদ্ধ। কেউ তাদের কথা মন দিয়ে শুনলেই তারা খুশি হয়ে যায়। বেশিরভাগ মহিলাই ফ্রীতে ঔষধ নিতে আসে। তাদের কোন ঔষধ কিনে খেতে বললে তারা অথৈ সাগরে পড়ে যায়। কারণ স্বামীর হাত থেকে যে অল্প কিছু টাকা তারা পায় তা দিয়েই সংসারের যাবতীয় খরচ তাদের কুলিয়ে উঠতে হয়। এর মাঝে নিজের জন্যে ঔষধ কেনাতো রীতিমত বিলাসিতার ব্যাপার। যখন বলি তার স্বামী কি ঔষধ কিনে দেবেনা তখন চুপ হয়ে যায়। গ্রামের এই নারীরা আমার কাছে লজ্জাবতী লতার মত। আগে গ্রামে গেলে লজ্জাবতীর ঝোপ দেখলেই মাড়িয়ে দিতাম। লজ্জাবতীর কুঁকড়ে যাওয়া দেখে খুব আনন্দ পেতাম। কিন্তু এখন আর পথে-ঘাটে লজাবতীর ঝোপ দেখলে মাড়িয়ে দিইনা। মনে হয় থাক না এরা এদের মত। বরাবরই তো আমরা আমাদের আশেপাশের লজ্জাবতীদের মাড়িয়ে এলাম। সারাজীবন তো তারা কুঁকড়েই থাকল। বাতাসে উড়ে যাচ্ছে বাস আমার গন্তব্যে। রাস্তার পাশে বাতাসে দুলছে লজ্জাবতী লতাগুলো। দেখতে ভালই লাগছে। ভাল থাকুক আমার লজ্জাবতীরা।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:০৬

শায়মা বলেছেন: লজ্জাবতী লতা নামটা দেখে ঢুকেছিলাম। ভেবেছিলাম কোনো লাজুকলতা টাইপ বালিকার গল্প । পুরোটা পড়ে বুঝলাম এই লতা সেই লতা না।


যাইহোক ভালো থেকো অনেক অনেক!!!

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:১৩

সমুদ্রকন্যা বলেছেন: গল্পটা লাজুকলতা ললনাদেরই কিন্তু যে লিখেছে সে তা না :)
ধন্যবাদ...

২| ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:১৬

নিলু বলেছেন: যাই হউক , লিখে যান

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:০৬

সমুদ্রকন্যা বলেছেন: হুমমম...

৩| ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:৫৩

লাইলী আরজুমান খানম লায়লা বলেছেন: লেখাটা মন ছুঁয়ে গেল

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:০৬

সমুদ্রকন্যা বলেছেন: ।অনুপ্রাণিত হলাম :)

৪| ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:৫৮

তুষার কাব্য বলেছেন: চমত্কার লেখা...

৫| ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:২৬

সমুদ্রকন্যা বলেছেন: ধন্যবাদ :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.