নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভেসে আসি সমুদ্রের ঢেউয়ে,বালুচর চুষে নেয় আমারে।

অধীতি

আপনারেই চিনার তরে,পরিচয় দেই কি করে??

অধীতি › বিস্তারিত পোস্টঃ

আপেল নিয়ে যত গল্প পর্ব - ০১

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:১১

আপেল, আমাদের পরিচিত ফল সমুহের ভেতরে অন্যতম। দেখতে সুন্দর, খেতে মিষ্টি এই ফলটির আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। আপেল এক অদ্ভুত ফল। বাসায় মেহমানকে আপ্যায়ন থেকে শুরু করে রোগী দেখতে যাওয়া, সন্ধ্যার পরে নাশতার বদলে কিংবা হুটহাট ক্ষুধা নিবারণের জন্য আমরা আপেলের ব্যবহার করে থাকি। এর বাইরেও আপেল-এর রয়েছে বিখ্যাত সব গল্প। তাই আজকে আপেল নিয়ে জানবো অদ্ভুত সব গল্প, আবিষ্কারের ইতিহাস, পুষ্টিগুণ সহ নানান দিক। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

আপেল কোন ধরনের ফল?

আমরা যারা আপেল ভালোবাসি তারা আপেলকে ফল মনে করি। কিন্তু উদ্ভিদবিজ্ঞান তা মনে করে না। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ভাষায় আপেল কোনো প্রকৃত ফল না। আপেল হলো পোম জাতীয় ফল যেটাকে অপ্রকৃত ফল বলে। এর কারণ হলো প্রকৃত ফল ফুলের ডিম্বাশয় থেকে তৈরি হয়, যেমন : আম, লিচু ইত্যাদি কিন্তু আপেলের যেই অংশ টুকো আমরা ফেলে দেই সেই অংশটুকুই মূলত ফুলের ডিম্বাশয় থেকে তৈরি হয়, তাই উদ্ভিদবিজ্ঞানে ফেলে দেওয়া সেই অংশকেই ফল বলে আর যেই অংশ আমরা খাই সেটাকে বলে এ্যাকসেসরি টিস্যু তাই আপেল হলো পোম বা এ্যাকসেসরি জাতীয় ফল।

সাধারণ তথ্য

আপেল গাছ সাধারণ ৪ থেকে সাড়ে ৪.৫ মিটার লম্বা হয় এবং বুনো প্রজাতিগুলো প্রায় নয় মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। আপেল ফল হেমন্তকালে পাকে এবং ৫ থেকে ৮ সে.মি. পর্যন্ত ব্যাস হয়ে থাকে। প্রায় ৭,৫০০ প্রজাতির আপেল পাওয়া যায়। আপেলের রয়েছে দারুণ পুষ্টিগুণ। আপেলে ৮০% হলো : পানি, এর আঁশ আমাদের হজমে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হওয়ায় আমরা বারোমাস আপেল খেতে পারি।

ইতিহাস

বিবর্তনের ধারায় মানুষ যখন চাষাবাদ শিখে, অনুমান করা হয়, শুরুর দিকে চাষযোগ্য কৃষি হিসেবে আপেলও স্থান পেয়েছিল। শান তিয়ান পর্বতমালাকে আপেলের উৎসভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত দেশসমূহ কিরগিজিস্তান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান এবং চীনের শিং জিয়ান প্রদেশ জুড়ে বিস্তৃত। ৩২৮ খ্রি.পূ. আলেকজান্ডার দি গ্রেট কাজাকিস্তানে এক ধরনে খাটো আকৃতির ফল খুঁজে পান এবং মেসিডোনিয়াতে নিয়ে যান; সেখান থেকেই ইউরোপে আপেলের যাত্রা শুরু।

নর্স পৌরাণিক কাহিনিতে আপেল

ইদুন এবং অমরত্বের আপেল।

নর্স পূরাণে দেবী ইডুন ছিল বসন্ত ও পুনর্জন্মের দেবী এবং তার স্বামী ব্রাগি ছিল সংগীত ও কবিতার দেবতা। তারা অ্যাসগার্ড নামক প্রসাদে থাকত। ইডুনের কাছে ছিল এক জাদুর সোনার আপেল, এবং সেই আপেল দেবতাদের সেবন করালে দেবতারা কখনো বৃদ্ধ হতো না এবং চিরযৌবন লাভ করতো। আর একজন দেবতা ছিল লোকি, যে নিজের রূপ পরিবর্তন করতে পারতো এবং দেবতাদের মাঝে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতো এবং অনেক ধূর্ত কিসিমের ছিল। তো, একদিন দেবতা লোকি থিয়াসিস নামক এক দৈত্যের পাল্লায় পড়লে মুক্তিপণ হিসেকে দেবী ইডুন ও তার আপেলকে এনে দেওয়ার চুক্তিতে ছাড়া পায়। তারপরে সে এ্যাসগার্ডে এসে দেবী ইডুনকে ছলনায় ফেলে বনভূমিতে নিয়ে যায়, তখন দৈত্য থিয়াসিস ঈগলে রূপ ধারণ করে এসে দেবী ইডুনকে আপেল সহ অপহরণ করে।

দেবী ইডুন হারিয়ে যাবার ফলে, দেবতারা বৃদ্ধ হতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে লোকিকে বাধ্য করে ইডুনকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। তখন লোকি নিজেকে বাজপাখির রূপে পরিবর্তন করে থিয়াসিস এর আস্তানায় যায় এবং ইডুনকে বাদামে রূপান্তরিত করে নিয়ে আসার পথে থিয়াসিস ঈগলের রূপ ধরে তাকে তাড়া করে কিন্তু এ্যাসগার্ড এর প্রাচীরের আগুনে থিয়াসিসের ডানা পুড়ে যায় এবং দেবতারা তাকে হত্যা করে। আর এভাবেই দেবী ইডুনকে ও আপেল ফিরে পেয়ে দেবতারা আবার চিরযৌবন লাভ করে।

বীর ভলসুং এর জন্ম

হুনিশদের রাজা রেরির কোনো সন্তান হচ্ছিল না, ফলে তারা দেবী ওডিনের কাছে প্রার্থনা করে। ওডিন তাদের প্রার্থনা কবুল করে ও তার কাছে থাকা একটি জাদুর আপেল তার পরিচারিকাকে দিয়ে পাঠায়। পরিচারিকা একটি কাকের বেশ ধরে সেই আপেল নিয়ে রাজার উঠানে ফেলে, এবং রানি সেই আপেল সেবন করলে তার গর্ভে বিখ্যাত বীর ভলসুং এর জন্ম হয়।

গ্রিক পূরাণে আপেল

আটলান্টা এবং হিপোমেনেস

শিশু থাকতেই আটলান্টাকে তার পিতা বনে ফেলে আসে যাতে সে মারা যায়। কারণ আটলান্টার পিতা পুত্র সন্তান চেয়েছিল। বনে পড়ে থাকা অবস্থায় তাকে এক মা ভালুক আশ্রয় দেয় এবং এভাবেই আটলান্টা বড়ো হয়ে উঠে। একদিন, একদল শিকারির সঙ্গে দেখা হলে, তারা তাকে শিকারে দক্ষ করে তুলে এবং সে ভাল্লুকের মতো দক্ষ শিকারিতে পরিণত হয়। সে ছিল দেবী আর্টিমিসের ভক্ত। দেবী আর্টিমিসছিল শিকারের দেবী। আটলান্টা আর্টিমিসকে তার কুমারীত্ব উৎসর্গ করেছিল। ফলে সে তখন থেকে বিবাহকে ঘৃণা করতো।

একদিন ক্লেডন অঞ্চলের রাজা দেবী আর্টেমিসকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হলে, দেবী তার রাজ্য ধ্বংস করার জন্য ভয়ংকর এক দানব শূকরকে পাঠায়। সেই দানব শূকরকে হত্যা করার জন্য ঐসময়ের বীরেরা একত্রিত হয়ে যুদ্ধ করে, এবং তাদের মধ্যে একমাত্র নারী যোদ্ধা ছিল আটলান্টা। আটলান্টাই সর্বপ্রথম শূকরটিকে তীর বিদ্ধ করেছিল এবং যখন শূকরটি মারা যায়, শেষ ব্যক্তি হিসেবে মেলিয়াগার নামক এক যোদ্ধা আঘাত করেছিল এবং পুরস্কার হিসেবে আটলান্টাকে শূকরের মাথা ও চামড়া উপহার দিয়েছিল। কিন্তু এটা আটলান্টার চাচারা মানতে না পেরে কুটচক্র করলে মেলিয়াগার তাদের হত্যা করে।

ক্যালডিয়ান শূকর হত্যার পরে আটলান্টার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লে তার বাবা তাকে বিয়ে করার চাপ দেয়, ফলে আটলান্টা তাকে শর্ত দেয় যে, যে ব্যক্তি তাকে দৌড় প্রতিযোগিতায় হারাতে পারবে তাকে সে বিয়ে করবে। কারণ আটলান্টা ছিল তখনকার দ্রুতগামী ব্যক্তি। দৌড় প্রতিযোগিতার সময়ে যদি প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারাতে পারতো তাহলে তাদেরকে ধনুকের আঘাতে মেরে ফেলত। এমনি সময়ে একদিন হিপোমেনাস নামে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে, কিন্তু তার আগে সে দেবী আফ্রোদিতির কৃপায় তিনটি সোনার আপেল পায় এবং সেগুলো পথের ধারে ফেলে রেখে প্রতিযোগিতা শুরু করে। সোনার আপেল দেখে আটলান্টা কুড়াতে গেলে হিপোমেনাস জিতে যায় এবং তারা বিয়ে করে।

দেবী এরিসের সোনার আপেল।

রাজা পিলিউস ও জলদেবী থেটিসের বিয়েতে সব দেব-দেবী নিমন্ত্রণ পেলেও কলহের দেবী এরিসকে নিমন্ত্রণ করা হয়নি। বিয়ের অনুষ্ঠানে ধনসম্পদের দেবী হিরা, জ্ঞানের দেবী এথিনা এবং প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি এদের সামনে হঠাৎ দেবী এরিস সোনার আপেল নিয়ে উপস্থিত হন এবং বলেন, যে সব থেকে বেশি সুন্দর সেই হবে এই আপেলের দাবিদার। কিন্তু তিনজন দেবীই আপেল নিজের বলে দাবি করলে দেবতা জিউসের উপর বিচারের ভার দেওয়া হয়। জিউস বলে পৃথিবীতে গিয়ে কোনো মানুষকে জিজ্ঞেস করতে।

তারা পৃথিবীতে এসে এরিস নামক এক যুবককে মেষ চড়াতে দেখে এবং তাকে বলে, দেবীদের ভেতরে যে বেশি সুন্দর, সে যেন আপেলটি সেই দেবীকে দেয়। দেবী হেরা বলে আপেলটি তাকে দিলে সে তাকে ইউরোপ আর এশিয়ার রাজত্ব দেবে। দেবী এথিনা বলে পৃথিবীর সব জ্ঞান দেবে; এবং আফ্রোদিতি বলে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ রমণীকে বিয়ে করতে পারবে। তারপরে এরিস দেবী আফ্রোদিতিকে আপেল দেয়। পরবর্তীতে আফ্রোদিতি তার কথা রাখে এবং প্যারিসের দ্বারা হেলেনকে অপহরণের মাধ্যমে ট্রয়ের যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

হেস্পেরাইডসের সোনার আপেল

হারকিউলিস একদিন তার পত্নী মেগারা ও তার তিন সন্তানকে উন্মত্ত হয়ে হত্যা করে। ফলে রাজা ইউরিস্থিউস তাকে বারোটি কঠিন কাজ দেয় যা হারকিউলিসের বারো শ্রম নামে পরিচিত। এর মধ্যে এগারোতম শ্রমটি ছিল সব থেকে কঠিন। তাকে বলা হয় হেস্পাইরিডসের সোনার আপেল তুলে আনতে। কিন্তু হারকিউলিস ঠিকানা জানতো না। ঘুরতে ঘুরতে একদিন তার পরিচয় হয় অ্যাটলাস নামক এক দৈত্যের সঙ্গে, যে পৃথিবীটা কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। অ্যাটলাস ঠিকানা জানতো; তো, অ্যাটলাস আপেল এনে দিতে রাজি হয়, কিন্তু শর্ত হলো ফিরে আসার আগ পর্যন্ত হারকিউলিসকে পৃথিবীর ভার বহন করতে হবে।

একটু পরে আপেল নিয়ে ফিরে আসলে হারকিউলিস তাকে বলে পৃথিবীর ভার নিতে, কিন্তু অ্যাটলাস বলে সে পারবে না, বরং সে নিজেই রাজার কাছে আপেলটি নিয়ে যাবে। হারকিউলিস তখন ফন্দি এঁটে বলে যে, ঠিক আছে সমস্যা নাই, তুমি শুধু অল্প একটু সময় নেও, আমি ততক্ষণে কাপড়ের পুঁটুলি জোগাড় করি। বোকা অ্যাটলাস এভাবেই ধোঁকা খায় এবং হারকিউলিস আপেল নিয়ে ফিরে আসে।

ডিওনিসাসের প্রেম

ডিওনিসাস ছিল মদের দেবতা, এছাড়াও সে উদ্ভিদের দেবতাও ছিল। সে দেবী আফ্রোদিতির প্রেমে পড়েছিল, কিন্তু আফ্রোদিতিকে কী উপহার দেওয়ার মাধ্যমে সে প্রস্তাব দেবে তা ভাবতে ভাবতে সে আপেল গাছ সৃষ্টি করে এবং সব থেকে লাল আপেলটি আফ্রোদিতিকে দেয় এবং তাদের ভেতরে মধুর সম্পকের্র বিস্তার ঘটে।

ছবি: পিন্টরেস্ট

চলবে …

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.