নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অতৃপ্ত সাতকাহন

অতৃপ্ত সাতকাহন › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমাদের বিবেকবোধ আর সমসাময়িক কিছু বাস্তবতা......

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:১৪







সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ব্যাপার সেপার আমাকে খুবই চিন্তিত করে তুলছে। জানিনা আমার ভাবনার জগতের এহেন উপলব্ধি আদৌতে কতটুকু যৌক্তিক। তবুও বলতে খুবই ইচ্ছে করছে তাই বলছি।



সেদিন টিভি নিউজ এ দেখলাম একদল সাংবাদিক জটলা পাকিয়ে হবে কোন একটা ক্লেশ এর ছবি তুলছে, কিবা ভিডিও ফুটেজ নিচ্ছে। স্বভাবতই সাংবাদিকের কাজ যা তাই তারা করছে। এতে আমার কোন কথা বলার কিন্তু নেই। সাংবাদিকের কাজ তো মিডিয়া কাভারেজ দেওয়া ,সুতরাং সেই দায়িত্ব তো তাদের পালন করতেই হবে। তবে যে জায়গাটায় আমার উদ্বেগ এর কারন তা হল, আমি দেখলাম ৪-৫ টা ছেলে মিলে একটা ছেলেকে বাঁশের লাঠি কাঠের টুকরো এমন সরঞ্জাম দিয়ে অনবরত মেরেই যাচ্ছে। আর সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ তুলছে অন্তত কম করে হলেও ৮-১০ জন বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিক কর্মী। ব্যাপারটা দেখেই চোখের পলকেই আমার নৈতিক বিবেকবোধ আমাকে নাড়া দিয়ে উঠলো। আমি ভাবলাম, যে ৪-৫ তা ছেলে মিলে একটা ছেলেকে এমন নির্মম ভাবে একের পর এক আঘাতে মৃত্যু মুখে নিয়ে যাচ্ছিলো। সেইখানে সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে ৮-১০ জন সাংবাদিকের পক্ষে কি এটা সম্ভবপর ছিলনা ঐ ৪-৫ তা ছেলেকে প্রতিহত করা?? মানুষ হিসেবে মানবিকতার ঊর্ধ্বে তো আমারা কেউই নই। আমাদের মানবিকতা কি শুধু আমাদের দৈনন্দিন পেশাগত দায়িত্বের মাঝেই সীমাবদ্ধ? যেই সাংবাদিকদের আমারা দেশ ও জাতির বন্ধু ভাবি। আজকে তাদের বিবেক আর মানুষিকতা যে কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা আমার এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের পক্ষে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। এমন ভিডিও ফুটেজ দেখে আমার মনে হচ্ছিলো ঠিক যেন তারা কোন সরাসরি সম্প্রচারিত ক্রিকেট খেলার ছবি তুলছিল বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে।



বলি, কারো সাক্ষাৎ মৃত্যু সন্মুখে দেখেও যদি মানুষ হিসেবে আমাদের বিবেকবোধ এতটুকু জেগে না উঠে তবে কি আর মানুষ হলাম আমরা।পেশাগত দায়িত্বই কি সব? তার বাইরে কি কোন দায়িত্ব, বিবেক আর কর্তব্যবোধ নেই আমাদের? সমাজ আর সামাজিকতা যেই নামেই হউক না কেনো, সমাজের এমন একটি অন্যায় পরিস্থিতিতে কি আমার আর আপনার করার মতো কিছুই থাকে না? এমনও তো না যে দুষ্কৃতিকারীদের চেয়ে সাংবাদিকরা সংখ্যায় কম ছিল, আমি জানিনা হয়তো তখন সেই পরিস্থিতিতে তারা সেটা চাইলেও করতে পারতেন কিনা। তবে আমার কেন যেন মনে হচ্ছিলো তারা একটু চেষ্টা করলেই পেশাগত দায়িত্বের ঊর্ধ্বে গিয়ে একটু অসীম মানবিকতার স্বাক্ষর সেদিন রাখতে পারতো। সেটা করলে সেদিন কিইবা আর হতো। হয়তো আরেকটা এমন ক্লেশ এর ঘটনা টিভি নিউজ এর সংবাদ শিরোনাম হতোনা।পত্রিকার পাতা জুড়ে হয়তো আরেকটা এমন নির্মম নৃশংস সংঘর্ষের খবর ছাপা হতোনা। যেটা হতে পারতো সেটা হল হয়তো আরেটা জীবন বেঁচে যেতে পারতো এমন অনাহূত দুর্ঘটনা থেকে।



যাই হউক সাংবাদিকদের প্রতি আমার কোন আক্রোশ নেই।আমি যা বললাম তা নিতান্তই আমার মানবিকতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বললাম। জানিনা আমার এই চিন্তা এই ঘটনার ক্ষেত্রে কতটুকু যৌক্তিক। তবে আমার মনে হয়, বিবেকবোধে আমাদের সবাইকেই জাগ্রত হতে হবে। না হয় এই ঘুনে ধরা সমাজ আর এহেন রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে মুক্তির সহজ কোন সমাধান পৃথিবীর শ্রেষ্ট কোন আইন বিশেষজ্ঞও দিতে পারবেন না।।





........................ অতৃপ্ত সাতকাহন

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.