| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিবর্তনবাদী
আপাততঃ আমি একজন কনফিউজড মানুষ। জীবনে বিবর্তনের অপেক্ষায় আছি, দেখি বিবর্তনের পরে কিসে পরিনত হই...
পূর্ববঙ্গ তথা আমাদের আজকের এই বাংলাদেশের বিবেক আমাদের প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর যাত্রা শুরু ১৯২১ সালে। ঢাবির এই ৮৭ বছরের ইতিহাস যেমন ঘটনাবহুল তেমনি এর প্রতিষ্ঠা পূর্ব ঘটনাবলীও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ভারতের শাসন ভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হাত থেকে বৃটিশ রাজের হাতে হস্তান্তর হয় ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের পর থেকে। এ বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল বৃটিশ ভারতের বাংলা থেকে। ভারতীয় জাতিগুলির মধ্যে বাঙালিরা ছিল সবথেকে সুচিহ্নিত জাতীয় স্বকীয়তার অধিকারী এবং তারা ভারতের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের সূত্রপাত ও বিকাশে উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম ছিল। বাঙালিরা চিরকাল পরাধীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছিল। বাংলার বিদেশী শাসন কখনই সুস্থির হয়নি। ফলে বৃটিশরা এক্ষেত্রে তাদের বিভেদনীতি প্রয়োগের কূটকৌশল গ্রহণ করে।
দুই বাংলায় বিভেদ সৃষ্টির উপকরণ বৃটিশদের হাতেই ছিল। এর প্রথমটি ছিল ধর্ম ও দ্বিতীয়টি ছিল পূর্ব বাংলার আর্থ-সামাজিক অনগ্রসরতা। পূর্ব বাংলার অধিকাংশ মানুষ মুসলমান, এবং পশ্চিম বঙ্গের অধিকাংশ মানুষ হিন্দু। অন্যদিকে বাংলার সব থেকে উৎপাদনক্ষম অংশ হওয়া স্বত্তেও পূর্ব বাংলা শিল্প-বানিজ্য, শিক্ষা, প্রভৃতিতে পশ্চিম বাংলা থেকে অনেক পিছিয়েছিল। কলকাতায় বিলাসবহুল জীবপন যাপন করা জমিদার সম্প্রদায়ের বেশির ভাগের জমিদারীই ছিল পূর্ব বাংলায়। পূর্ব বাংলার প্রধান শহর ঢাকা, পশ্চিম বঙ্গের কলকাতার তুলনায় কিছুই ছিল না। অথচ, ঢাকা শহর যখন মুঘল সম্রাজ্যের বাংলা সুবার রাজধানী কলকাতা তখন নিছক কতিপয় গ্রামের সমষ্টি।
বৃটিশদের সাথে বিশেষ সম্পর্কের সুবাদে ও ইংরেজী শিক্ষার বদৌলতে বাংলার হিন্দুরা সমাজজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। রাজধানী কলকাতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিন্দুদের প্রভাব পোক্ত হয়। এর অন্যতম কারন পশ্চিমবঙ্গ ছিল হিন্দু অধ্যুষিত অন্য দিকে পূর্ব বঙ্গ ছিল মুসলমান অধ্যুষিত। জনসংখ্যার দিক দিয়ে সমগ্র বাংলায় মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ট ছিল। সেই অনুপাতে পূর্ব বঙ্গের শিক্ষার অবস্থা ছিল বেহাল। গরীব পূর্ববাংলার জনগনের উচ্চ শিক্ষার জন্য যেতে হত কলকাতা। পূর্ববঙ্গের সকল কলেজের মঞ্জুরির ক্ষমতা ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে এবং পরীক্ষার উত্তরপত্র তারাই মূল্যায়ন করত। কলকাতা বিশ্ববিদালয়ের নম্বর প্রদানে প্রায়ই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠত।
এদিকে এ সময়ে বাংলা সাহিত্যে যে জোয়ার আসে, তার মূলে ছিলেন কলকাতা নিবাসী হিন্দু লেখক সাহিত্যিকরা। যদিও তারা তাদের লেখনিকে সমগ্র বাংলার মানুষের সমাজ জীবনের প্রতিফলন বলে প্রচার করতেন, কিন্তু তাতে শুধুমাত্র হিন্দুদের কথাই ফুটে উঠত। বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক একবার তাই বলেছিলেন, “তৎকালীন সাহিত্য গুলোতে যত গুলো চরিত্র আছে তাদের নাম পাশাপাশি রেখে পরিসংখ্যান করলেই দেখা যাবে রাম শাম যদু মধুদের সংখ্যা কত আর রহিম করিমের চরিত্রের সংখ্যা কত। অথচ, বাংলার সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ মুসলমান ছিলেন। অর্থাৎ, বাংলা সাহিত্যেও পূর্ববাংলা তার স্থান পায় নি।
এহেন পরিস্থিতিতে বৃটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা দেয়। তারা তাদের উদ্দেশ্য হিসেবে প্রচার করে “প্রশাসনিক সুবিধা ও পূর্ববঙ্গের আর্থসামাজিক উন্নয়ন”। পিছিয়ে পড়া পূর্ববঙ্গবাসীর কাছে এ ঘোষণা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। কারন, নতুন প্রদেশ হলে ঢাকা হবে তার রাজধানী ফলে শুধু মাত্র এই কারনে পূর্ব বঙ্গ আগের থেকে অনেক বেশি সুবিধা লাভ করবে। অন্যদিকে, কলকাতার এলিট সমাজের প্রায় সকলেই এর বিরুদ্ধে যায়। এই এলিটদের অধিকাংশই ছিলেন জমিদাররা যাদের জমিদারী ছিল পূর্ববঙ্গে। বঙ্গভঙ্গ হলে পূর্ব বঙ্গকে আর শোষণ করা সম্ভব হবে না এটা তাদের কাছে পরিস্কার ছিল।
তৎকালীন শিক্ষিত সমাজে পূর্ব বঙ্গের মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী কেউ ছিল না বললেই চলে। এখানকার কতিপয় নেতারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্দে নিজেদের দলকে সৈণ্যহীন পান। ফলে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয় এবং পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকা আবারো তার রাজধানীর গৌরব হারায়। ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, টাঙ্গাইলের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী, এ কে ফজলুল হক প্রমুখ ছিলেন পূর্ব বাংলার প্রধান নেতা। এরা একপর্যায়ে ভাইসরয়ের সাথে দেখা করেন, ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য। বলাবাহুল্য, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমান শিক্ষিত হবার সুযোগ পেত, সেই সাথে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোড়লদের প্রভাব থেকে পূর্ব বাংলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো মুক্তি পেত। ১৯১২ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফর করেন এবং ঢাকাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। ফলে এর পেছনে লেগে পড়ে সেই পশ্চিমবাংলার লবি। ড. রাশবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল লর্ড হার্ডিঞ্জের সাথে দেখা করে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধীতা করে স্মারকলিপি প্রদান করে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও রাজনীতিবিদ সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি অত্যন্ত সক্রিয় ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধীতা করেন। স্যার আশুতোষ মুখার্জির ব্যাপক প্রতিরোধের ফলে এক পর্যায়ে লর্ড হার্ডিঞ্জ তার সাথে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়। অবশেষে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পাঁচটি নতুন অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি করা হলে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় লড়াইয়ে ক্ষান্ত দেন। কিন্তু, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মঞ্জুরী ক্ষমতা প্রদান করতে দেননি। বিধায় ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের আগ পর্যন্ত পূর্ব বাংলার সব কলেজকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই থাকতে হয়েছিল।
এদিকে ১৯১৫ সালে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ মারা গেলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নবাব আলি চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার হাল ধরেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দ্যোগে ভাটা পড়ে। ১৯১৭ সালে লন্ডনে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে নওয়াব আলি চৌধুরী অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আহ্ববান জানান। অবশেষে, সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার যাত্রা শুরু করে।
পশ্চিম বঙ্গ লবি এরপরও ক্ষান্ত দেয় না। পূর্ব বঙের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ মুসলমান হওয়ায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ইসলামের ইতিহাস শিক্ষার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হয়। ফলে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলত "মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়" অথবা "মক্কা অব দি ইস্ট"। অথচ, প্রতিষ্ঠার প্রথমে দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু ছাত্ররাই ছিল সংখ্যা গরিষ্ট। তাছাড়া, অদ্ভুত হলেও সত্য হল এই যে এর আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ওরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজেস এর অধীনে পড়ানো হত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথম আলাদা বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগ খোলা হয়। কলকাতা কেন্দ্রিক এহেন অপমানকর প্রোপাগান্ডার বিরূদ্ধে লড়াইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ঢাল হয়ে দাড়ান, এর কিছু প্রতিতযশা হিন্দু শিক্ষক। আইনজ্ঞ অধ্যাপক নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, রসায়নবিদ জ্ঞান ঘোষ, বিখ্যাত ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার, পদার্থ বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু এবং আরো অনেক হিন্দু শিক্ষক সাম্প্রদায়িক চিন্তা ভাবনার উর্ধে থেকে আমাদের প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তার প্রথম দিকে কণ্টকাকির্ন পথ অতিক্রমে সাহায্য করেন। অধ্যাপক নরেশচন্দ্র মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের কাঠামো তৈরি করে দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্ব থেকেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ স্বায়ত্বশাসনের দিকে জোর দেন। এই সব শ্রেদ্ধেয় শিক্ষকরা ঢাকার হিন্দু সমাজের কাছ থেকেও বিরোধের সম্মুক্ষিণ হন। প্রথম দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ভাতা ছিল অনেক বেশি এবং তারা রমনা এলাকায় বঙ্গভঙ্গের সময় গড়ে উঠা বড় বড় সরকারী ভবনে থাকতেন। ঢাকার ঈর্ষান্বিত হিন্দু সমাজ এটা সহ্য করতে অপরাগ ছিলেন।
কলকাতা নিবাসী বুর্জোয়া হিন্দু সম্প্রাদায়ের গোড়ামী বদৌলতেই,এক পর্যায়ে বৃটিশদের কূটকৌশলের জয় হয় এবং মনস্তাত্বিকভাবেই দুই বাংলা পৃথক হয়ে পড়ে। প্রাদেশিক সিমান্ত রেখার আর কোন প্রয়োজন ছিল না। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পেছনে পশ্চিমবাংলার এলিটরা যে সব যুক্তি দেখিয়েছিলেন সেগুলো যে নিছক রাজনৈতিক ছিল তা পরিস্কার হয়ে উঠে ১৯৪৭ এর দেশবিভাগের সময়। আবুল হাশিম, শরৎচন্দ্র বসু প্রমুখ নেতারা ভারত-পাকিস্তানের সাথে না গিয়ে স্বাধীন বাংলা দেশের যে প্রস্তাব রেখেছিলেন তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি, পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের অসহযোগীতার কারনে। মূলত, ব্যাপারটা ছিল এই রকম, ১৯০৫ সালে পশ্চিমবাংলার হিন্দু মধ্যবিত্তের প্রতিযোগীতায় আসতে পারে এমন কোন মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় পূর্ব বাংলায় ছিল না। দুই বাংলা এক থাকলে বিনা প্রতিরোধে পূর্ব বাংলাকে শোষণ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ এ পরিস্থিতি ছিল উলটা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় গড়ে উঠেছিল একটা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী, যারা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবিত্ত শ্রেনীর নিকট গন্য হয়েছিল প্রতিপক্ষ স্বরুপ। এই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে দাড়াবার সাহসের অভাবে কলকাতার বাবুরা আলাদা থাকাকেই শ্রেয় মনে করলেন।
১৯০৫ এ যদি পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশ গঠিত হত তাতে ক্ষতি কি হত? ভারতে কত প্রদেশ রয়েছে, তাই বলে কি প্রদেশগুলো এক ভারতের অংশ নেই? সম্পূর্ণ বাংলাকেই যদি তারা এক চোখে দেখে থাকবেন, তবে কেন পশ্চিম বঙ্গের থেকে পূর্ব বাংলা এত পিছিয়ে ছিল? উত্তর একটাই, পশ্চিম আমাদের পূর্ব বাংলাকে শোষণ করেছে। সে পশ্চিমের অংশ যেমন মুঘল, বৃটিশ, পাকিস্তান তেমনি পশ্চিমবঙ্গ। এই পশ্চিমাদের অসহযোগীতায় আমরা পূর্ববাংলাবাসী যদিও পাকিস্তানের সাথে গিয়েছিলাম, তবুও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের মাঝে স্বাধীনতাবোধ, দেশমাতৃকার প্রতি প্রেম ও বাংলাভাষা কেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদের যে চেতনার জন্ম দেয় তারই বদৌলতে আমরা জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছি অসম্পূর্ন বঙ্গভঙ্গের সম্পূর্ণ রুপ , আমাদের বাংলাদেশ।
(বিদ্র: লেখাটিতে যে সব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে তার সব পাওয়া যাবে নিচের বইগুলোত –
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশি বছর – অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম
২. যদ্যপি আমার গুরু – আহমদ ছফা
৩. বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি – বদরুদ্দীন উমর)
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৫৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: আপনার মন্তব্যের সাথে একমত। তবে, কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করি। সবাই কলকাতার পথে লাইন দিয়েছিল এ কথাটা কতটা সঠিক। মুসলমান ছাত্রদের একটা অংশতো ছিলই, যা অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগের থেকে অনেক বেশি। আর হিন্দুদের সবাই যে কলকাতার পথে পাড়ি দিয়েছিল, এ কথা বলে যারা পূর্ববঙ্গে থেকে গিয়েছিলেন তাদের অবদানকে কি খাট করা হচ্ছে না।
২|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৮
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ভালো পোস্ট
ধন্যবাদ
৩|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৪২
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন: বিবর্তনবাদীকে পোস্টের জন্য এবং দিগন্তকে সুন্দর কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।
৪|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৫
তারার হাসি বলেছেন: nice post.
৫|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:০১
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
দিগন্তকে মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৬|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:০৩
পথহারা বলেছেন: ++++++++++++++
৭|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৩
এবি+ বলেছেন: আরে, আমার কমেন্ট টা মুছছেন কেন ??????
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৫৫
বিবর্তনবাদী বলেছেন: কি বললেন এটা??? আমি আপনার কোন কমেন্টস্ মুছি নাই। অনুগ্রহ করে আবার দিন।
৮|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৩৬
দিগন্ত বলেছেন: "মুসলমান ছাত্রদের একটা অংশতো ছিলই" -
আমি শুধু উচ্চবর্ণের হিন্দুদের কথাই বলেছি। যারা থেকে গিয়েছিল, তারা সংখ্যায় খুবই কম। ঠিক কতটা কম সেটা বুঝতে গেলে আপনি কিন্তু স্ট্যাটিস্টিক্স দেখলে ভুল করবেন। কোয়ালিটিতে কত ভাল ভাল লোক ওই সময়ে ঢাকা আর চট্টগ্রাম ছেড়েছেন তা আপনি এখন পশ্চিমবঙ্গে এলে বুঝতে পারবেন (অমর্ত্য সেন উদাহরণ)। এখনো আমাদের ভাল কোনো ব্যাচে অর্ধেকের বেশী পূর্ববঙ্গের বংশোদ্ভূতরা থাকে (আমার বাবা এসেছেন ১৯৭১এ)। পড়াশোনাও এরাই ডমিনেট করে। যারাই মনে করছে পশ্চিমবঙ্গে এসে কিছু করে খেতে পারবে তারাই চলে এসেছিল। সব মিলিয়ে এপারে পূববঙ্গীয় সংখ্যায় এক কোটির কাছাকাছি হবেই।
সবাই কোলকাতার আশেপাশে কোনোরকম মাথা গুঁজেছিল। কিন্তু এখন দু জেনারেশন পরে কেউ আর মাথা ঘামায় না। সবাই মোটামুটি করে খাচ্ছে।
আর, জমিদারী যে খুব একটা ভাল কিছুছিল না, সেটাও সবাই টের পেয়েছে। পুর্ববঙ্গীয়রাই এপারে কমিউনিজমের জনক - যা সরাসরি জমিদারী বিরোধী। আজকে পশ্চিমবঙ্গে কেউ ১ একরের বেশী কৃষিজমির মালিক হতে পারে না। ৬০ বছর আগে এই জমিদারদের কেউ ভাবেওনি তাদের পরের জেনারেশন এই নীতির পক্ষে লড়ে প্রাণ দেবে (নকশাল আন্দোলন)।
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:২৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: ধন্যবাদ।
৯|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩৮
মিরাজ বলেছেন: পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ বিবর্তনবাদী ।
ভালো লাগলো আপনার বিশ্লেষণ ।
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:১৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
১০|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:০১
সোনার বাংলা বলেছেন:
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
+
১১|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:৩৪
নিবেদীতা বলেছেন: ভালো পোস্ট
ধন্যবাদ
১২|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:১২
এবি+ বলেছেন: আমার কমেন্ট তাহলে কিভাবে মুছলো !?
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৩০
বিবর্তনবাদী বলেছেন: আমি কি জানি? কর্তৃপক্ষকে জিগান। আর আবার কমেন্টটা করেন।
১৩|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৪২
নরাধম বলেছেন: শোকেসে পাঠালাম।
১৪|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৬
অচেনা বাঙালি বলেছেন:
যাহোক, আপনাকে কথা প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, এখানে পূর্ববঙ্গ থেকে আগত প্রায় সবাই মনে করেন এই স্বাধীন বাংলা হলেই বাঙালীদের সবথেকে ভাল হত। পূর্বকেও পাকিস্তানের সাথে যেতে হত না, পশ্চিমকেও হিন্দি শিখতে হত না।
দিগন্ত বাবুকে লম্বা পেন্নাম।
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েও স্বপ্ন দেখতাম খন্ডিত জার্মানি একীভূত হওয়ার মত একদিন খন্ডিত বাংলা এক হয়ে স্বাধীন বাংলা হবে। ৪৭এ অখন্ড স্বাধীনবাংলার প্রচেষ্টা ও স্বপ্ন ভংগ নিয়ে একটা লেখা দেওয়ার ইচ্ছা আছে।
অথচ প্রথম ২০/২৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু ছাত্ররাই ছিল সংখ্যা গরিষ্ট।
বিবর্তনবাদী, এই তথ্যের কোন সোর্স থাকলে দিলে বাধিত হতাম।
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশি বছর - অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। (বইটা গতকাল এক বন্ধু নিয়ে গেছে, তাই পৃষ্টা নম্বর দিতে পারলাম না, তবে দুই একদিনের মাঝেই দেবার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ।
১৫|
২০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:২১
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও শিক্ষক সাহিত্যিক অমলেন্দু বসু তার অবিস্মরণীয় প্রবন্ধে লিখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্বন্ধে যেমন অক্সফোর্ড অব দি ইস্ট নামক সংবাদপত্রী আখ্যা দেওয়া হয়েছিল তেমনি এর সংগে "মেক্কা অব দি ইস্ট" অর্থাৎ এটি প্রধানত মুসলমানদেরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ........... ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু শিক্ষক ও ছাত্রের সংখ্যা দীর্ঘকাল মুসলমানদের অনুপাতে বেশি ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অমুসলমান ছাত্রদের খেলাধুলা, বিদ্যাচর্চা, সামাজিক জীবনে কোন রকমেই সংকুচিত ছিল বলে আমি ১৯২৬-৪৮ সালের মধ্যে আমার ছাত্র জীবনে ও শিক্ষক জীবনে দেখি নি।
প্রবন্ধের এই অংশটুকু আপনি "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশি বছর" বইয়ের ২৯ পৃষ্ঠায় পাবেন। আরো কোন এক পৃষ্ঠায় এ ব্যাপারে লেখা আছে, এখন খুঁজে পাচ্ছি না।
২০/২৫ বছর সংখ্যাটি আমার উল্লেখ করা ঠিক হয়নি। লেখা উচিত ছিল প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘকাল। এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ঠিক করে দিলাম।
১৬|
২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৩০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
ঘটনা হিসাবে অনেক কিছুই হয়তো ঠিক আছে- কিন্তু যেভাবে সাজিয়েছেন এবং যে বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছেন তথা যে দৃষ্টিভঙ্গি এখানে প্রকাশ পেয়েছে- তা অত্যন্ত ন্যারো।
বঙ্গভঙ্গের ঘটনা, বঙ্গভঙ্গ রদের ঘটনা সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পরিস্কার হতে পারে আপনার সূত্র হিসাবে দেয়া বদরুদ্দীন উমরের বইটি পড়লে।
নিজেকে শুধু সংকীর্ণ দৃষ্টির মুসলমান হিসাবে না দেখে মানুষ হিসাবে ইতিহাসকে দেখেন- অনেক কিছুই পরিস্কার হবে।
যে কাজটি সে সময়ে নবাব সলিমুল্লাহ না পারলেও-
ব্যারিস্টার আব্দুর রসুল, মৌলবী লিয়াকত হোসেন, মৌলবী আবুল কাশেম, সিরাজগঞ্জের মৌলবী ইসমাইল সিরাজী, আবদুল হালিম গজনভি, বগুড়ার জমিদার আবদুল শোভান চৌধুরি, ঢাকা নবাব পরিবারের খাজা আতিকুল্লাহ, আবদুল গফুর সিদ্দিক, দীন মহম্মদ, দেদার বক্স, জালালউদ্দিন হাশেমি, মৌলানা আক্রাম খাঁ এর নেতারা সে আমলে এই স্বদেশী আন্দোলনে নামেন।
কেননা, তাঁদের - ব্রিটিশদের ভেদনীতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অবস্থান ছিল।
আর অন্যদিকে- নবাব সলিমুল্লাহকে স্বল্প সুদে বিশাল অংকের ঋণ দেয়ার মাধ্যমে হাত করার কথাও ইতিহাস ভুলেনি।
সেই ১৩১৩ বঙ্গাব্দে বৈশাখ মাসে সে কারণে মৌলভী আবদুল করিম লিখেছিলেন- "....... ইংরেজের ভেদনীতি আপাত মনোরম মাকাল ফল বই আর কিছুই নহে। উহার বাহ্য চাকচিক্যে মুগ্ধ হইয়া মুসলমাংণ যতই নাচিতেছেন, ততই যে তাঁহারা প্রতারিত হইতেছেন, তাহা আজও তাঁহারা বুঝিয়া উঠিতে পারেন নাই। ........"
আজ ১৪১৪ বঙ্গাব্দে এসেও ওনার কথার যৌক্তিকতা এতটুকু ফুরিয়ে যায়নি!!!!!!!
২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৪৫
বিবর্তনবাদী বলেছেন: এই নিন আমার বক্তব্য।
নিজেকে শুধু সংকীর্ণ দৃষ্টির মুসলমান হিসাবে না দেখে মানুষ হিসাবে ইতিহাসকে দেখেন- অনেক কিছুই পরিস্কার হবে।-------- অতি সুন্দর কথা। কিন্তু, কেউ যখন আমাকে মানুষ হিসেবে না দেহে সংকীর্ণ দৃষ্টির মুসলমান হিসেবে দেখবে, অন্তত তার সাথে লড়বার জন্যে আমাকে মুসলমান হিসেবেই লড়তে হবে। নাকি???
আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হয়েছে, আমি বলতে চাচ্ছি বৃটিশরা পূর্ববঙ্গের উন্নতির কথা মাথায় রেখে বঙ্গভঙ্গ করতে গিয়েছিল আর পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের জন্য তা সম্ভব হল না। আমি তো সেকথা বলতে চাই নি। নিচের প্যারাটি পড়েছেন কি?
ভারতের শাসন ভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হাত থেকে বৃটিশ রাজের হাতে হস্তান্তর হয় ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের পর থেকে। এ বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল বৃটিশ ভারতের বাংলা থেকে। ভারতীয় জাতিগুলির মধ্যে বাঙালিরা ছিল সবথেকে সুচিহ্নিত জাতীয় স্বকীয়তার অধিকারী এবং তারা ভারতের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের সূত্রপাত ও বিকাশে উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম ছিল। বাঙালিরা চিরকাল পরাধীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছিল। বাংলার বিদেশী শাসন কখনই সুস্থির হয়নি। ফলে বৃটিশরা এক্ষেত্রে তাদের বিভেদনীতি প্রয়োগের কূটকৌশল গ্রহণ করে।
১৭|
২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৫
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
বদরুদ্দীন উমরের "বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি" বই থেকে অংশ বিশেষ তুলে দিচ্ছিঃ
"......... সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কে বৃটিশ-বিরোধী ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের প্রধান ও নির্ধারক দিকে পরিণত করার যে প্রচেস্টা ইংরেজরা ১৮৭০ এর দশক থেকে বেশ পরিকল্পিতভাবে শুরু করে তাকে অধিকতর ফলপ্রসূ ও সুসংহত করার উদ্দেশ্যে তারা ভারতীয় হিন্দু-মুসলমানদেরকে সরাসরি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল গঠন করতে উতসাহিত করে। শুধু উতসাহিতই করে না, সাম্প্রদায়িক দল গঠনের নানা বাস্তব পরিস্তিতি সৃষ্টির জন্য নানা ধরণের উদ্যোগও তারা একের পর এক গ্রহণ করে। এই সব উদ্যোগের মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য হলো, ১৯০৫ সালে বাঙলাদেশকে বিভক্ত করে পশ্চিম বাঙলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে একদিকে এবং পূর্ব বাঙলা ও আসামকে নিয়ে অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে দু'টি স্বতন্ত্র প্রবেশ গঠন। বঙ্গবিভাগকে কেন্দ্র করে সারা বাঙলাদেশ এবং বাঙলাদেশের বাইরেও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তার ঘটে এবং ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় 'সারা ভারত মুসলীম লীগ' ও 'সারা ভারত হিন্দু মহাসভা' নামে মুসলমান ও হিন্দু উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নেতৃত্বাধীন দু'টি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল।
........ বাঙলাদেশ, বিহার ও উড়িষ্যার একটি প্রদেশ হিসাবে থাকার প্রশাসনিক দিক থেকে অনেক অসুবিধা ছিলো একথা সত্য। কাজেই সেই বিশাল প্রদেশকে ভেঙ্গে দিয়ে নোতুনভাবে গঠন করা কোনো দোষের ব্যাপার ছিলো না। বৃটিশ ভারতীয় সরকার প্রধানত এই কারণটিকেই বঙ্গভঙ্গের মূল যুক্তি হিসাবে হিসেবে উপস্থিত করেছিলো। কিন্তু প্রদেশ পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও সেটাই যে বঙ্গভঙ্গের মূল কারণ ছিলো না তা বৃটিশ সরকার ও বৃটিশ ভারতীয় সরকারের বিভিন্ন নীতি, সরকারী ভাষ্য এবং দলিলপত্র থেকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয়।
বঙ্গ বিভাগের আসল কারণ ছিলো রাজনৈতিক। ..........."
১৮|
২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৭
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
"...... বাঙালী হিন্দু মধ্যশ্রেণীর ক্রমবর্ধমান ক্ষমতাকে খর্ব করে এবং তার রাজনীতিকে বৃটিশ বিরোধীতা থেকে যথাসম্ভব মুসলমান বিরোধিতার দিকে ঠেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যে তাঁরা বঙ্গবিভাগের পরিকল্পনা করেছিলেন সে কথা গোপন করার কোনো প্রয়োজনীয়তা লর্ড কার্জন অথবা বৃটিশ ভারতীয় সরকার বোধ করেননি। সে কারণে ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা সফরের সময় তিনি এ বিষয়ে খুব পরিস্কারভাবে বলেন, "বাঙালীরা যারা নিজেদেরকে একটি জাতি হিসাবে চিন্তা করতে ভালোবাসে এবং যারা এমন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে যেখানে ইংরেজদেরকে বিতাড়িত করে একজন বাঙালী বাবু কলকাতার গভর্মেন্ট হাউজে অধিষ্ঠিত হবে, তারা অবশ্যই সেই ধরণের যেকোন ভাঙ্গনের বিরুদ্ধে তিক্ত মনোভাব পোষণ করে যা তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বাঁধাস্বরূপ। এখন তাদের চিতকারের কাছে নতি স্বীকার করার মট দুর্বল হয়ে পড়লে আমরা আর কখনো বাঙলাকে বিভক্ত অথবা ছোট করতে সক্ষম হবো না এবং তার দ্বারা আপনারা ভারতের পূর্বদিকে এমন একটা শক্তিকে জমাটবদ্ধ ও কঠিন করবেন যে শক্তি ইতোমধ্যেই অপ্রতিরোধ্য হয়েছে এবং যা ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলার নিশ্চিত উতস হিসেবে বিরাজ করবে"।
................."
১৯|
২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১২
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
পরে এ বিষয়ে আরো লিখবো, সম্ভব হলে নতুন পোস্ট দিবো।
আপাতত, আপনার বক্তব্যের/ উত্তরের প্রত্যাশায় থাকলাম।
২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৫৭
বিবর্তনবাদী বলেছেন: উপরের উত্তর পড়ুন এবং আপনার যা বলার বলুন। আরো কিছু কথা আছে, এখন খানিকটা ব্যস্ত থাকায় বলতে পারছি না। তবে শীঘ্রই সময় পেলে, মন্তব্যে বা নতুন পোস্টে বলতে চেষ্টা করব। --- ধন্যবাদ।
২০|
২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৬
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
বিবর্তনবাদী,
আপনি যে প্যারাটি কোট করলেন- সেটি আগেই দেখেছিলাম। আপনার এই পোস্টের দ্বিতীয় প্যারাটিই শুধু সঠিক ইতিহাসকে রিপ্রেজেন্ট করে। এবং সেটিকে সেন্টার করেই যদি আপনার পরের প্যারা গুলো আসতো তাহলে হয়তো আমার আলোচনার দরকার পরতো না। কিন্তু- দ্বিতীয় প্যারাটির পর থেকেই আপনি পুরো বঙ্গভঙ্গ থেকে ৪৭ সাল পর্যন্ত ইতিহাসকে হিন্দু-মুসলমানের কম্পারেটিভ আলোচনা হিসাবে এনেছেন- যা একজন সংকীর্ণ মুসলমানের দৃষ্টভঙ্গি হিসাবেই এসেছে!! কিন্তু- ইতিহাসটি এভাবে বিবৃত হলে বিভ্রান্ত ছাড়া আর কিছু সম্ভব বলে মনে হয় না।
ইংরেজদের ভেদনীতির কথাটি যদি বুঝতেন (যেটি ২য় প্যারাতে লিখেছেন)- তাহলে এই প্রশ্নটি করতেন না- "১৯০৫ এ যদি পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশ গঠিত হত তাতে ক্ষতি কি হত? ভারতে কত প্রদেশ রয়েছে, তাই বলে কি প্রদেশগুলো এক ভারতের অংশ নেই?......"
এবং প্রশ্নের উত্তরে যেটি বলেছেন- সেটিও বলতেন না।
যাহোক, পরে আরো বিস্তারিত বলা যাবে।
২১|
২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৭
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
বিভ্রান্ত ছাড়া===>>> বিভ্রান্তি ছড়ানো ছাড়া
২২|
২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৩
বিবর্তনবাদী বলেছেন: ১৯০৫ এ যদি পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশ গঠিত হত তাতে ক্ষতি কি হত? ভারতে কত প্রদেশ রয়েছে, তাই বলে কি প্রদেশগুলো এক ভারতের অংশ নেই?......" শুধু এ পর্যন্তই দেখলেন?
সম্পূর্ণ বাংলাকেই যদি তারা এক চোখে দেখে থাকবেন, তবে কেন পশ্চিম বঙ্গের থেকে পূর্ব বাংলা এত পিছিয়ে ছিল? - - - - - - এ প্রশ্নের উত্তর দিবেন কি?
পশ্চিমের দাদারা কি এটা বুঝে নাই যে, বঙ্গভঙ্গ হলে পূর্ব বাংলা উন্নত হবে, এবং বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা করলে সব সময়ের পিছিয়ে থাকা পূর্ব বঙ্গবাসীর কাছে তারা শত্রু হিসেবে গন্য হবে। প্রশাসনিক ভাবে একটা জাতি আলাদা নাকি এক তা কখনই জাতীয়তাবোধকে প্রভাবিত করে না। এটুকু কি তারা বুঝে নাই?
বাঙালি জাতীয়তাবোধের এতই ধারক যদি আপনার পশ্চিমবঙ্গবাসী হন, তবে কেন তারা ১৯৪৭ এ স্বাধীন বাংলার দাবি তুলে নাই? দুই একটা নাম তুলে হয়ত বলবেন উনারা পশ্চিম বঙ্গেরই তো ছিলেন, তাই না?
আপনি কোণ বঙ্গবাসীতা জানি না, তবে আপনার মন্তব্য শুধু মাত্র আপনার ক্ষেত্রেই খাটে ..................... বিভ্রান্ত ছাড়া------- বিভ্রান্তি ছড়ানো যায় না।
২৩|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৫৫
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
১। বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা শুধু কলকাতার বাবুরাই করেনি।
২। পূর্ববঙ্গের মুসলিম নেতারাও করেছেন। উপরে একটা লিস্ট দিয়েছি।
৩। পূর্ববঙ্গের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জেলা যেমন- ফরিদপুর, রাজবাড়ি, বরিশাল ... প্রভৃতি এলাকার মসজিদসমূহে বঙ্গভঙ্গ রদের জন্য বিশেষ মোনাজাত, এধরণের প্রোগ্রামও সে সময় হয়েছিলো।
৪। বাগেরহাট, সাতক্ষীরা বঙ্গভঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের অংশে পড়েছিলো। তাদের যে বঙ্গভঙ্গ রদের যে আন্দোলন- তাকে কি বলবেন??
৫। রাজশাহী অঞ্চলে যে বঙ্গভঙ্গ রদের আন্দোলন হয়েছিলো- সেখানকার বড় যুক্তি ছিলো- ঢাকা বা শিলং এর চেয়ে কলকাতার সাথে তাদের যোগাযোগ ভালো ছিলো,
৫। প্রথমবার যখন বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাবনা আসে- তখনকার প্রস্তাবনা ছিলো- পূর্ববঙ্গের জেলাসমূহকে আসামের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সে সময়ে এই পূর্ববঙ্গের লোকজনই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলো- তারা 'বাঙালী' থেকে 'আসামী' হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলো। পরবর্তিতে একই পরিকল্পনা ইংরেজরা বাস্তবায়ন করতে যায়- একটু পরিবর্তন করে- এই প্রদেশটির নাম দেয়- "পূর্ববঙ্গ ও আসাম"। এবং সামান্য চিন্তা করলেই দেখা যায়- এর পেছনে ইংরেজদের উদ্দেশ্যঃ তারা বলেছে- প্রশাসনিক স হযোগিতা হবে- বাঙলা-বিহার-উড়িষ্যা এত বড় প্রদেশকে ভাগ করতে পারলে। কিন্তু কার্যত করা হলো শুধু বঙ্গ ভাগ- কোনো প্রদেশের সংখ্যা কি বাড়ানো হয়েছে? আগেও দুটি প্রদেশ ছিলো (আসাম ও বাঙলা-বিহার-উড়িষ্যা)- এবারো তাই(পূর্ববঙ্গ-আসাম ও পশ্চিম বঙ্গ-বিহার-উড়িষ্যা)- এবং মূল জায়গাটি ছিলো- বঙ্গকে বিভাগ ও বঙ্গের শক্তিচ্ছেদ। শুধু অঙ্গচ্ছেদ নয়, এর মধ্য দিয়ে বঙ্গের মানসিক জগতেও আঘাত আনা হয়, মুসলমান ও হিন্দু দুটিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়। সেই ক্ষত ধীরে ধীরে বড় হয়- এবং শেষ ফলাফল- ১৯৪৭ এর দেশবিভাগ।
২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১০
বিবর্তনবাদী বলেছেন: আপনি আবারো সেই একই ভুল করছেন। ভাবটা এমন যে আমি মুসলমান হয়ে হিন্দুদের গালি দিচ্ছি। আমার লেখা পড়ে যদি তাই মনে হয়, তবে বলতে হবে আপনার লেখা বুঝতে সমস্যা আছে, অথবা আমার মনের ভাব প্রকাশের যোগ্যতা নেই। কোনটা সঠিক কে জানে।
যাইহোক, আলোচনার স্বার্থে আবারো বলি। আমি দোষারোপ করছি হিন্দুদের সেই গোষ্টিকে যারা পশ্চিমবঙ্গের হর্তাকর্তা ছিল। পূর্ববঙ্গকে পিছিয়ে রেখে যারা যুগযুগ ধরে সুবিধা নিয়েছেন।
পশ্চিমের দাদারা কি এটা বুঝে নাই যে, বঙ্গভঙ্গ হলে পূর্ব বাংলা উন্নত হবে, এবং বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা করলে সব সময়ের পিছিয়ে থাকা পূর্ব বঙ্গবাসীর কাছে তারা শত্রু হিসেবে গন্য হবে। প্রশাসনিক ভাবে একটা জাতি আলাদা নাকি এক তা কখনই জাতীয়তাবোধকে প্রভাবিত করে না। এটুকু কি তারা বুঝে নাই? তারাতো জ্ঞানী গুনি ছিলেন, তাই না? তবে তারা কেন এ ভুল করলেন? সেদিন যদি ঢাকা পূর্ববঙ্গ প্রদেশের রাজধানী থাকত, তবে একসময় পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ এককাতারে আসতে সক্ষম হত এবং বিভেদ দূর হত। হয়ত ১৯৪৭ এ আমরা ভারত-পাকিস্তানের পাশে স্বাধীন বাংলা দেখতে পারতাম।
প্রিয় নাস্তিকের ধর্মকথা, বঙ্গভঙ্গ হলে বাঙালি আসামী হয়ে যেত এর থেকে হাস্যকর কথা আর কি হতে পারে, বলুন?
আপনাকে ধন্যবাদ।
২৪|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১৫
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
কেন পূর্ববঙ্গ পশ্চিমবঙ্গ থেকে পিছিয়ে ছিলো???
দিগন্তের উত্তর দেখুন।
আর এটাও ঠিক না। পুরো পশ্চিমবঙ্গ কি এগিয়ে ছিলো?
কলকাতার তুলানায় কি পশ্চিমবঙ্গের অন্য জেলা সমূহ এগিয়ে ছিলো??
কলকাতার এগিয়ে থাকা মানে কি??
সেখানকার কোন শ্রেণী এগিয়ে ছিলো??
এমনকি সাধারণ হিন্দুরা কি এগিয়ে ছিলো???
জমিদার-নবাবরা আর উঠতি নব্য বুর্জোয়ারা ছাড়া বাকিদের অবস্থান পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গে বিশেষ কি পৃথক ছিলো???
পশ্চিমবঙ্গ পূর্ববঙ্গকে শোষণ করেছে, মানে কি???
সেসময়ে শাসক কারা?? শোষণ কারা করেছে???
আপনি ইংরেজদের বাদ দিয়ে- এভাবে আলোচনা করলে সিদ্ধান্ত কি আসে?
শোষণ করেছে- এবং শোষণের জন্যই এই ভারত উপমহাদেশে অবস্থান রেখেছে- ইংরেজরা।
তাদের শোষণকে পাকাপোক্ত করার জন্য বিভিন্ন সময় দুই বঙ্গের তথা পুরা ভারতেই তারা এদেশীয় অনুগত শ্রেণী তৈরি করে। জমিদার শ্রেণীর বড় অংশই তাদের বংশবদ ছিলো। এটা ঠিক যে, এসব জমিদারদের অনেকেই ছিলো হিন্দু (মুসলমান জমিদার, নবাবরাও প্রজা শোষণে কম যেতেন না!!)- এবং এটাও ঠিক যে- মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীটিও ছিলো প্রধানত হিন্দু, ফলে- হিন্দু এই অংশটি অন্যদের তুলনায় এগিয়ে যায়। কিন্তু শোষণ যন্ত্র কি তখনও তাদের হাতে পুরাটা ছিলো??
হুম, জমিদাররা প্রজা শোষণ করতো- কিন্তু জমিদারদের এই শোষণের মুখে কিন্তু হিন্দু প্রজারাও ছিলো, এবং তার বিরুদ্ধে কিন্তু সংগ্রামটিও দেখতে হবে- যেখানে হিন্দুদের লড়াইটিকে কোনোভাবে অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু মূল আপত্তির বিষয়টিই হলো এই যে,- আপনি যে ইতিহাসটি শুনিয়েছেন- সেটি ধর্মীয় দিক থেকে করাটিই অবৈজ্ঞানিক।
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৯
বিবর্তনবাদী বলেছেন: আমার পুরো পোস্ট পড়ে আপনার মনে হল আমি ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে ইতিহাস বিশ্লেষণ করছি। হায়রে!!!
আপনার নিজে লেখার দিকে নজর দিন। আপনি বলছেন জমিদারদের অনেকেই ছিল হিন্দু এবং মধ্যবিত্তদের অনেকেই ছিল হিন্দু। আপনি যখন তাদের উল্লেখ করে কথা বলবেন তখন হিন্দু শব্দটি আপনারো আসবে আমারো আসবে। আর একটি কথা, এ আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গের বা পূর্ববঙ্গের সাধারণ মানুষকে কেন আমরা টানব। সাধারণ মানুষের কথায় তো আর কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
আপনি বলছেন, "শোষণ যন্ত্র কি তখনও তাদের হাতে পুরাটা ছিলো??"
পুরোটা থাকতে হবে কেন, যতটুকু ছিল তাই বা কম কিসে। আর ইংরেজদের কথা বাদ দেবার প্রশ্ন আসবে কেন? ওরা শোষক ছিল এ নিয়ে নিশ্চয়ই আপনার বা আমার কারো কোন বিরোধ নেই।।
২৫|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:২৫
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
'বাঙালী' 'আসামী' হয়ে যেত- এই হাস্যকর(!) কথাটিই সে সময়ে এ বঙ্গের লোকেদের ইমোশন জুড়ে একটি বড় বিষয় ছিলো। আপনাকে, রাতে হয়তো- উদ্ধৃতি দিতে পারবো।
শুধু এটুকু বুঝুন- সেই ইমোশনকে কেন্দ্র করেই কিন্তু- ইংরেজরা তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনে- প্রদেশটির নাম করে- "পূর্ববঙ্গ ও আসাম"- প্রথমে শুধু বলেছিলো- পুর্ববঙ্গের জেলাসমূহ আসামের সাথে যুক্ত হবে। এবং তখন কিন্তু ঢাকাকে কেন্দ্র করার ঘোষণাটিও আসে নি। ১৯০৫ সালে তাই যখন বঙ্গভঙ্গ হলো- তখন এখানকার মুসলমান নেতাদের বিভিন্ন আর্টিকেলে দেখা যায়- তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন- আদৌ ঢাকাকে কতখানি গুরুত্ব দেয়া হবে- শিলং কে বাদ দিয়ে???
২৬|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৩৫
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আর বঙ্গভঙ্গ হলেই পূর্ব বাঙলা উন্নত হয়ে যাবে, এ ধারণাটিই হাস্যকর রকমের ভুল ও অন্ধত্ব!!!
ঢাকাকে রাজধানী করলে- হয়তো ঢাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হবে- কিছু কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে ঢাকাকে কেন্দ্র করে- ফলে ঢাকা কেন্দ্রিক উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কিছু সুবিধা হতে পারে- এটা সে সময়ের একটা অংশের চিন্তার জায়গা ছিলো- কিন্তু বেশিরভাগই একে উন্নতি বলে মনে করেননি।
আর, প্রভাবশালী মুসলমান নেতা নবাব সলিমুল্লাহকে হাত করার জন্য ইংরেজদের তাঁকে স্বল্প সুদে বিশাল অংকের ঋণ দেয়ার ঘটনাটিকে বাদ দিতে পারবেন না, দ্বিতীয়ত, কার্জন প্রতিবারেই ঢাকায় এসে বলেছে- বঙ্গভঙ্গ হলে এখানকার মুসলমানরা অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবে; এ ধরণের কথাই তো আপত্তিজনক- এই অঞ্চলের মুসলমানদের জন্যই শুধু ইংরেজদের এত টানকে সন্দেহজনক সেসময়ই সলিমুল্লাহ ছাড়া অন্যান্য মুসলমান নেতারা বলেছিলেন।
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৬
বিবর্তনবাদী বলেছেন: আপনি বলছেন, "বঙ্গভঙ্গ হলেই পূর্ব বাঙলা উন্নত হয়ে যাবে, এ ধারণাটিই হাস্যকর রকমের ভুল ও অন্ধত্ব!!!"
--- ১৯০৫ থেকে ১৯১১ সাল নাগাদ শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের কিছু হিসেব দিচ্ছি তাহলে...
১৯০৬ সালে পূর্ববাংলার কলেজ ছাত্রের সংখ্যা ছিল মাত্র ১,৬৯৮ জন এবং খরচ ১৫৪৩৫৮ টাকা। ১৯১১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫৬০ জন এবং খরচ ৩৮৩৬১৯ টাকা। ১৯০৫ থেকে ১৯১১ সালের মধ্যে নবগঠিত প্রদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহের ছাত্র সংখ্যা বেড়ে ৯৩৬৬৫৩ জনে দাঁড়ায়। ১৯০৯ সালের মধ্যে ৮১৯টি নতুন বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয় এবং ছাত্র বাড়ে ২৫৪৯৩ জনে। হয়ত অবাক হবেন, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় প্রদেশে প্রাইভেট স্কুল ছাড়া একটিও প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না, নতুন প্রদেশ গঠিত হবার পর এ অঞ্চলে জেলা ও লোকাল বোর্ড সমূহুম গ্রামাঞ্চলে বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে। বঙ্গভঙ্গের সময় মুসলমান শিক্ষক ও সাব-ইন্সপেক্টরের সংখ্যা ছিল প্রায় শুন্য অথচ ১৯১২ সালে মুসলিম সাব ইন্সপেক্টরের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪ এবং শিক্ষকের সংখ্যা ১৪৬৫৬ জন। আর এসব সম্ভব হয়ে উঠে ঢাকায় রাজধানী স্থাপনের ফলে।
আপনি বলছেন, "কার্জন প্রতিবারেই ঢাকায় এসে বলেছে- বঙ্গভঙ্গ হলে এখানকার মুসলমানরা অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবে; এ ধরণের কথাই তো আপত্তিজনক"।
একটু নিজ দেশের দিকে নজর দেই আসুন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যদি পার্বত্য অঞ্চলে গিয়ে ঘোষণা দেন, তিনি এমন কিছু করতে যাচ্ছেন যাতে ঐ অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া উপজাতিগুলো উন্নত জীবন যাপনের সুযোগ পাবে . . . . . . . . . . তবে আপনি এতে আপত্তি করবেন?
আপনি সেক্ষেত্রে কি বলবেন, পিছিয়ে পড়া উপজাতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এত মাথা ব্যাথা কেন????
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৬
বিবর্তনবাদী বলেছেন: তথ্য সূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশি বছর - অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
২৭|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:২০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
মৌলভী একিনউদ্দীন আহমদ, তাঁর "বঙ্গের অঙ্গচ্ছেদ" প্রবন্ধটিতে লিখেছেন-
"বড়লাট লর্ড কার্জন দ্বিতীয়বার ভারতবর্ষে আগমন করিয়া বাঙলাদেশকে দুইভাগে বিভক্ত করিবার প্রস্তাব কার্য্যে পরিণত করিতে বদ্ধ পরিকর হইয়াছেন। এতদিন ধরিয়া বঙ্গবাসী বুঝিতে পারিয়াছিলেন যে, আসামের চিফ কমিশনারের স্থানে লেফটেন্যান্ট গবর্ণর ভিবেন; আসামের সঙ্গে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও ময়মনসিংহ আসিয়া জুটিবে; এবং কলিকাতার জায়গায় শিলং রাজধানী হইবে। তখন মহামান্য হাইকোর্টের অস্তিত্ব সম্বন্ধে গুরুতর সন্দেহ আসিয়া এতদ্দেশবাসীর হৃদয় আন্দোলিত করিয়াছিল। তাহার ফলে প্রতিবাদের তরঙ্গে বাঙলার একপ্রান্ত হইতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত খরবেগে প্রবাহিত হইয়াছিল। বড়লাট স্বচক্ষে আন্দোলনের তরঙ্গ-খেলা ঢাকা ও ময়মনসিংহে দেখিয়াছিলেন। ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রমাবাসীরা 'আসামী' হইতে ঘোরতর আপত্তি করিয়াছিলেন, দেখিয়া লাট সাহেব তাঁহার নবগঠিত বঙ্গদেশের নাম 'পূর্ববাঙলা ও আসাম' রাখিয়াছেন।
আমরা সন্তানদিগকে যেমন অনেক সময় স্তোকবাক্য দিয়া ভুলাইতে চেস্টা করি, বড়লাট বাহাদুরও তেমন তাঁহার নূতন বাঙলার 'আসাম' নামের পরিবর্ত্তে 'পূর্ববাঙলা ও আসাম' নামকরণ করিয়া আমাদিগকে ভুলাইবার চেস্টা করিয়াছেন। ..........."
নবনুর, তৃতীয় বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যা। আশ্বিন ১৩১২। এ প্রকাশিত
২৮|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:০০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
কলকাতা নিবাসী বুর্জোয়া হিন্দু সম্প্রাদায়ের গোড়ামী বদৌলতেই,এক পর্যায়ে বৃটিশদের কূটকৌশলের জয় হয় এবং মনস্তাত্বিকভাবেই দুই বাংলা পৃথক হয়ে পড়ে। প্রাদেশিক সিমান্ত রেখার আর কোন প্রয়োজন ছিল না। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পেছনে পশ্চিমবাংলার এলিটরা যে সব যুক্তি দেখিয়েছিলেন সেগুলো যে নিছক রাজনৈতিক ছিল তা পরিস্কার হয়ে উঠে ১৯৪৭ এর দেশবিভাগের সময়।
----------------------->
এই আলোচনা বা এই ধরণের সিদ্ধান্ত টানাটাই একতরফা- এবং পক্ষপাতদুষ্ট।
৪৭ এর দেশবিভাগ সম্পর্কে বললে বলতে হবে- এর সূচনা ১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গ। এই বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে- ইংরেজরা বাঙলাকে দুর্বল করতে চেয়েছে- শেষ পর্যন্ত ১৯১১ এ বঙ্গভঙ্গ রদ হলেও ইংরেজরা একদিক থেকে সফল হয়- সেটা হলো, বাঙলাকে মনস্তাত্বিকভাবে দুইভাগ করা এবং ১৯০৬ সালে সাম্প্রদায়িক দুটি দল গঠিত হয়- মুসলিম লীগ ও হিন্দু সভা নামে। এই দুটি দলের ভূমিকা কোনভাবেই অগ্রাহ্য করা যাবে না- এদেশের সাম্পরদায়িক রাজনীতি বিস্তারে ও শেষ পর্যন্ত ৪৭ এর দেশবিভাগে। যে কংগ্রেস এক সময় অসাম্প্রদায়িকতার ঘোষণা দিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলো- তাও যে চুড়ান্ত সাম্প্রদায়িক রূপ নেয়- তারও পেছনে হিন্দু সভা ও ইংরেজদের ডিভাইড এণ্ড রুলের বলি হওয়া এসবের কম ভূমিকা নেই। এবং কংগ্রেসের সাম্প্রদায়িক হয়ে পড়াটা সাম্প্রদায়িক মুসলিম লীগকে আরও সাম্প্রদায়িক হতে ভূমিকা রেখেছে- সন্দেহ নেই।
এই কংগ্রেসই একসময় দাদাভাই নৌরোজী, বদরুদ্দীন তৈয়বজী, গোখেল, চিত্তরঞ্জন দাশ, আবদুল গাফফার খান, আবুল কালাম আজাদ, শরতচন্দ্র বসু, সুভাষচন্দ্র বসু, রফি আহমেদ কিয়োদাই প্রমুখের মতো ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করেছিলেন। অন্যদিকে কংগ্রেসের অসাম্প্রদায়িক বাহ্যিক চরিত্রের আড়ালে সমাবেশ ঘটেছিলো অনেক হিন্দু মহাসভা পন্থী লোকজনের এবং সে কারণেই বালগঙ্গাধর তিলক, লালা লাজপত রায়, গান্ধী, নেহরু, প্যাটেল এদের মত হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাবাদী ও ধর্মীয় পুনরুজ্জামানবাদী ব্যক্তিরা উচ্চতম নেতৃত্বের পদে অধিষ্ঠিত হতে পেরেছিলেন।
কিন্তু, একসময়- কংগ্রেসের সাম্প্রদায়িক রূপ বেরিয়ে আসে- এবং এর পরিণতিতে- তিরিশের দশকেই দেখা যায় যে, কংগ্রেস থেকে জাতীয়তাবাদী মুসলমান নামে পরিচিত ব্যক্তিরা বের হলো, এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথে পা বাড়ালো- এবং মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িকতা আরও বৃদ্ধি পেলো।
সাম্প্রদায়িকতার কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে- আবারো সেই ১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গের দিকে তাকাতে হয়। সে সময়- মুসলিম লীগের জন্মই হয়- বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন জানাতে- বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন বিরুধিতা করতে এবং এভাবে ইংরেজ পরিকল্পনাকে সফল করতে। এই সাম্প্রদায়িক দলটি মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরু করতে গিয়ে- প্রথমেই ইংরেজদের দালালি করার ফলাফল গিয়ে দাঁড়ালো- মুসলমানরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে- সেরকম বড় কোনো ভূমিকা নিতে পারেনি। অবশ্য মুসলমানদের অনুপস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসারের কারণে- স্বদেশী আন্দোলনে শুরুতে হিন্দুরা একচ্ছত্র অংশ নিতে গিয়ে - তাদেরও সাম্প্রদায়িক রূপটি সামনে চলে আসে- এবং বিভিন্ন সংগঠনে হিন্দু রীতিনীতি পালন যামন কালীর শপথ নেয়া ইত্যাদি- করা শুরু হয়- এটাও মুসলমানদের সে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বিশের দশকে এসে - বেশ কিছু মুসলিম যুব-তরুন স্বদেশী আন্দোলনে যুক্ত হয়- এবং এসময় এ সংগঠন গুলো ইউরোপের চিন্তা/চেতনার প্রভাবে ও মুসলমানদের অংশগ্রহণের ফলে- সাম্প্রদায়িক রীতিনীতি পরিহার করতেও সক্ষম হয়। যাহোক যা বলছিলাম- কংগ্রেসের ঘোষণা ছিলো- ভারতের হিন্দু-মুসলমান-শিখ প্রভৃতি বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষদের অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলা হিসাবে গড়ে ওঠার, এবং সে ধারাতেই সে চলছিলো, কিন্তু মুসলমানদের আলাদা প্লাটফর্ম হিসাবে মুসলিম লীগ হওয়াটি- কংগ্রেসকেও সাম্প্রদায়িক রূপ নেয়াতে ভূমিকা রাখে- যেমন ভূমিকা রাখে হিন্দু মহাসভা।
যদি ৪৭ কে দেখি- তবে, এই ইতিহাসকে দেখতেই হবে। যেমন দেখতে হবে- জিন্নাহর ৪০ এর লাহোর প্রস্তাব। সেখানে কিন্তু ভারতের পশ্চিমে ও পূর্ব-উত্তরে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রসমূহের কথা বলা হয়। এবং এটিতে কিন্তু প্রথমে এদেশের (পূর্ববঙ্গের) মুসলিম লীগ নেতারাও একমত ছিলেন- মানে ধর্মের ভিত্তিতে বাঙলা ভাগে তারা সম্মত ছিলেন। সে অনুযায়ি ১৯৪৬ এর নির্বাচনে তারা পূর্ববাঙলার মুসলমানদের সংগঠিতও করেন। এখানকার মুসলিম লীগ নেতাদের মোহমুক্তি ঘটে- যখন নির্বাচনে বিজয়ের পর ৪৬ এর এপ্রিলে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের বৈঠকে- জিন্নাহ একটি মাত্র পাকিস্তান রাষ্ট্রের কথা বলেন- তখন। এখনাকার মুসলিম লীগের নেতাদের আলাদা একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন ছিলো- কিন্তু যখন দেখলো সেটা আর সম্ভব নয়- তখনই কিন্তু আবুল হাশিম, সুহরাওয়ার্দী প্রমুখ নেতারা কিন্তু অখণ্ড ভারতের দাবি তুলেন (শেষ পর্যন্ত অবশ্য সুহরাওয়ার্দী বিশ্বাসঘাতকতা করেন)।
এনাদের দাবি- আন্দোলনের বিপরীতে কিন্তু খাজা নাজিমুদ্দিন, আকরাম খা এর মতো নেতাদের অখণ্ড বাঙলার বিরোধিতা উল্লেখযোগ্য। যেমনটি পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে- হিন্দু মহাসভার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সেখানেও কিন্তু হিন্দু মহাসভার বাইরে- শরতচন্দ্র বসু, দেবেন রায় প্রমুখের ভূমিকাটা ভুললে চলবে না।
এবং কেন্দ্রীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ভূমিকা ভুললেও চলবে না!!
মুসলিম লীগ যখন- ধর্মের ভিত্তিতে মুসলমাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের জন্য অনড় থাকে- তখন সেই যুক্তিতেই, কংগ্রেস এই অবস্থান নেয় যে, ধর্মের ভিত্তিতে ভারতকে ভাগ করতে হলে- সেই ভিত্তিতে বাঙলা ও পাঞ্জাবকেও বিভক্ত করতে হবে।
প্রথম দিকে- সুহরাওয়ার্দী যখন অখণ্ড ভারতের দাবি তুলে সংবাদসম্মেলন করছেন- তখন তিনিও এই বিষয়টি পরিস্কার করতে পারেন নি। তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছে- অখণ্ড বাঙলা, পাকিস্তানের সাথে ইউনিয়ন করবে কিনা- বা ফেডারেশনে যুক্ত হবে কিনা- এই প্রশ্ন তিনি ক্লিয়ার করতে পারেন নি- যেটা ক্লিয়ার করেছিলেন হাশিম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ তাদের স্ব স্ব অবস্থানে স্থির থাকে।
শেষ চেস্টা হিসাবে- শরত বসু- জিন্নাহকে অনুরোধ করেন- যেন বাঙলার প্রাদেশিক পরিষদের বৈঠকে - মুসলিম লীগের নেতারা অখণ্ড বাঙলার পক্ষে ভোট দেন ও কোন্ অংশের(ভারত ও পাকিস্তানের) সাথে যেতে চায় এ প্রশ্নে তারা কোনো অংশের পক্ষে ভোট না দিয়ে স্বাধীন থাকার কথা যেন বলে। কিন্তু জিন্নাহর পরামর্শে মুসলিম লীগের সদস্যরা অখণ্ড বাঙলার পক্ষে ভোট দেন ও পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হওয়ার কথা বলেন। অন্যদিকে কংগ্রেসের সদস্যরা আলাদা আলাদা বঙ্গের পক্ষেই ভোট দেন।
সাম্প্রদায়িক নেহরুরা যেমন অখণ্ড বাঙলার বিরোধিতা করেছেন এই যুক্তিতে যে- মুসলিম পাকিস্তানের সাথে কোনো হিন্দু অংশকে যুক্ত করার চক্রান্ত রুখা হবে; এবং জিন্নাহর শেষ পর্যন্ত অবস্থান- নেহরূদের কথার সত্যতা যেন প্রমান করে। আর, এর মধ্যে পড়ে- শরতচন্দ্র বসু- আবুল হাশিমদের সমস্ত উদ্যোগ ব্যর্থ হয়- .........
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৭
বিবর্তনবাদী বলেছেন: নেহরু-জিন্নাহর কথা বলে লাভ কি?? ওরা তো বাইরের লোক। ওরা তো আর বাঙালি ছিল না।
প্রশ্ন হচ্ছে, যেই গোষ্টি কঠিন আন্দোলন করে বঙ্গভঙ্গরদ করাল, তারা বা তাদের উত্তরসূরিরা কি ১৯৪৭ এ তেমন শক্ত অবস্থান নিতে পারল না। তাদের চেতনা জাতীয়তাবোধ কোথায় গিয়েছিল ১৯৪৭ এ??
২৯|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৪২
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
এবার আপনার বিভিন্ন লাইন পর্যালোচনা করে দেখি-
আপনি বলেছেন-
"......আমি দোষারোপ করছি হিন্দুদের সেই গোষ্টিকে যারা পশ্চিমবঙ্গের হর্তাকর্তা ছিল। পূর্ববঙ্গকে পিছিয়ে রেখে যারা যুগযুগ ধরে সুবিধা নিয়েছেন। ......
---------------------> এটা ঠিক যে, হিন্দু উঠতি বুর্জোয়া শ্রেণি- ইংরেজদের সাথে সুসম্পর্ক ও ইংরেজী শিক্ষার কারণে, মুসলমানদের চেয়ে অনেক এগিয়েছিলো, এবং তাদের অনেকেই নিজ স্বার্থেই হয়তো বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিলো; কিন্তু তাদের এই বিরোধিতাকে কি মূল স্রোত হিসাবে দেখানো ঠিক? তারা নিজেদের স্বার্থে বঙ্গভঙ্গের বিরুধিতা করছে বলেই কি আমরা বঙ্গভঙ্গকে সঠিক হিসাবে ধরে নিবো বা নবাব সলিমুল্লাহ সহ সব ইংরেজদের দালালদের ভূমিকাকে সঠিক বলে ধরে নিতে হব? তাদের অংশগ্রহণের কারণেই কি বাঙলার অপরাপর বাঙালীর এর বিরোধিতা করাকে কি বেঠিক বলবো- বা উপরে যাদের দেখালাম তাদের বিরোধিতা করাকি বেঠিক???
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৯
বিবর্তনবাদী বলেছেন: তবে বঙ্গভঙ্গ রদের আন্দোলনকারীদের মূল স্রোত বলতে আপনি কি অপামরজনসাধারণ কে বুঝাচ্ছেন??? যদি তাই বলেন তবে বড় হাসি পায়।
বঙ্গভঙ্গকে তো আমি সঠিক বলছি না। কিন্তু প্রশ্ন হল, ঐ সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মনস্তাত্ত্বিক ভাবে দুই বঙ্গের মাঝে বিভেদ রচনায় ইংরেজের যে কূটচাল ছিল তা বুঝতে পশ্চিমা বাবুরা ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায়িত্বতো তাদেরই নিতে হবে। কারন, শিক্ষিত বাঙালি বলতে তারাই তো ছিল সংখ্যাগরিষ্ট। আমাদের এই অংশের কতজনই বা ছিল তখন।
৩০|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৪৯
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আপনি আপনার পোস্ট শেষ করেছেন "আমাদের বাংলাদেশ"কে "অসম্পূর্ন বঙ্গভঙ্গের সম্পূর্ণ রুপ" বলে।
--------------->
আমাদের বাংলাদেশের চেতনার সাথে কোনো ভাবেই বঙ্গভঙ্গের সময় এখানকার দালাল মুসলমান অংশের চেতনার মিল থাকতে পারে না। এটা প্রথমেই বুঝতে হবে।
বরং, পাকিস্তান বিরুধী লড়াই-সংগ্রাম ও বাংলাদেশের জন্ম- বঙ্গভঙ্গের অসারতা ও অযৌক্তিকতাই প্রমান করে।
৩১|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:০২
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আপনি বলেছেন,
"....এই পশ্চিমাদের অসহযোগীতায় আমরা পূর্ববাংলাবাসী যদিও পাকিস্তানের সাথে গিয়েছিলাম......."
------------->
পশ্চিমাদের অসহযোগিতায় আমরা পাকিস্তানের সাথে গিয়েছিলাম- এটিই প্রকাণ্ড ভুল। সবার আগে মনে রাখতে হবে- আমাদের মাথায় পাকিস্তানের ভুত চাপিয়েছিলোই মুসলিম লীগ। দ্বিতীয়ত- ইংরেজ গেম প্ল্যানই ছিলো- এখানে এমন একটি বিভাজন আরোপ করা ও সেই প্ল্যান সফল করতে এখানে পরিকল্পিত ভাবে দাঙ্গা লাগিয়ে দেয়- তৃতীয়ত- মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস বুর্জোয়া ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধি হিসাবে (যথক্রমে- হিন্দু ও মুসলিম) নিজেদের স্বার্থটিই দেখেছে ও মাউন্টব্যাটনের সাথে গাটছাড়া বেঁধেছিলো, চতুর্থত- এ অঞ্চলে- ব্যপক আকারে কোন রাজনৈতিক আন্দোলন সংগঠিত করার মত কোনো রাজনৈতিক দল না থাকা- আবুল হাশিম, শরত বসুরা চেস্টা চালিয়েছেন, কিন্তু নিজ দল থেকেই তারা উভয়েই নানারকম প্রতিকূলতা ও বিশ্বাসঘাতকতার সম্মুখীন হন- এবং তাদের ভূমিকা ব্যপকতায় রূপ নিতে ব্যর্থ হয়।
এসব না বুঝে পশ্চিমকে দোষারোপ করা - অবশ্যই কম্যুনাল চিন্তার ফসল।
৩২|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:২৬
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আপনি বলেছেন-
"কলকাতা নিবাসী বুর্জোয়া হিন্দু সম্প্রাদায়ের গোড়ামী বদৌলতেই,এক পর্যায়ে বৃটিশদের কূটকৌশলের জয় হয় এবং মনস্তাত্বিকভাবেই দুই বাংলা পৃথক হয়ে পড়ে। প্রাদেশিক সিমান্ত রেখার আর কোন প্রয়োজন ছিল না। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পেছনে পশ্চিমবাংলার এলিটরা যে সব যুক্তি দেখিয়েছিলেন সেগুলো যে নিছক রাজনৈতিক ছিল তা পরিস্কার হয়ে উঠে ১৯৪৭ এর দেশবিভাগের সময়। আবুল হাশিম, শরৎচন্দ্র বসু প্রমুখ নেতারা ভারত-পাকিস্তানের সাথে না গিয়ে স্বাধীন বাংলা দেশের যে প্রস্তাব রেখেছিলেন তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি, পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের অসহযোগীতার কারনে। মূলত, ব্যাপারটা ছিল এই রকম, ১৯০৫ সালে পশ্চিমবাংলার হিন্দু মধ্যবিত্তের প্রতিযোগীতায় আসতে পারে এমন কোন মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় পূর্ব বাংলায় ছিল না। দুই বাংলা এক থাকলে বিনা প্রতিরোধে পূর্ব বাংলাকে শোষণ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ এ পরিস্থিতি ছিল উলটা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় গড়ে উঠেছিল একটা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী, যারা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবিত্ত শ্রেনীর নিকট গন্য হয়েছিল প্রতিপক্ষ স্বরুপ। এই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে দাড়াবার সাহসের অভাবে কলকাতার বাবুরা আলাদা থাকাকেই শ্রেয় মনে করলেন। ......"
--------------------->
এই পুরো প্যারাটাই কম্যুনাল!!!!
এবং অসত্য বিশ্লেষণ।
মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ- ইংরেজী শিক্ষায় অনীহা ও ইংরেজদের সাথে দূরত্ব, এবং ফলে- ম্যাজিস্ট্রেসি প্রভৃতি চাকুরি-বাকুরিতে হিন্দুরা এগিয়ে আসে, .......
যেটি আপনি দেখবেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরও দীর্ঘদিন- এখানকার মুসলমানদের চেয়ে হিন্দুদের সংখ্যা বেশি ছিলো, কেননা- মুসলমানরা তখনও শিক্ষার প্রতি হিন্দুদের মত আগ্রহী হয়ে উঠেনি।
যাহোক, যেটি বলছিলাম- ১৯০৫ থেকে শুরু হওয়া বঙ্গভঙ্গ রদের আন্দোলনকে "কলকাতা নিবাসী বুর্জোয়া হিন্দু সম্প্রাদায়ের গোড়ামী" হিসাবে দেখালে- সেসময়ের ব্রিটিশ বিরুধী স্বদেশী আন্দোলন- যার ধারাবাহিকতায় ক্ষুধিরাম-প্রফুল্ল চাকীদের হাত ধরে যে বিপ্লববাদী ধারাটার সূত্রপাত ঘটে পুরোটাকেই অস্বীকার করা হয়, যেমন করে অস্বীকার করা হয়- পূর্ববাঙলারও দেশপ্রেমিক মুসলমান নেতাদের সংগ্রমাটিও।
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২০
বিবর্তনবাদী বলেছেন: মুসলমানেরা হিন্দুদের মত ইংরেজী শিক্ষায় আগ্রহী ছিল না, এ কথা ঠিক। সেই সাথে অন্য আর একটি ব্যাপার আপনাকে মাথায় রাখতেই হবে। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ট পূর্ববাংলায় স্কুল কলেজের সংখ্যা হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ট পশ্চিমবঙ্গের থেকে অনেক কম ছিল। গরিব পূর্ববঙ্গবাসির উচ্চ শিক্ষার্থে যেতে হত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
শিক্ষিত বাঙালি মুসলমানদের সংখ্যাকে কম হবার কারন শুধু মাত্র ইংরেজী শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ বলা এবং স্কুল কলেজের সংখ্যা তথা শিক্ষা ক্ষেত্রে অনুন্নত থাকার ব্যাপারটা অগ্রাহ্য করা. . . . . সম্পূর্ণ একতরফা চিন্তাভাবনার ফলাফল।
৩৩|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৪৫
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: "কিন্তু জিন্নাহর পরামর্শে মুসলিম লীগের সদস্যরা অখণ্ড বাঙলার পক্ষে ভোট দেন ও পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হওয়ার কথা বলেন। অন্যদিকে কংগ্রেসের সদস্যরা আলাদা আলাদা বঙ্গের পক্ষেই ভোট দেন।"
@নাস্তিকের ধর্মকথা, তার মানে কি বাংলার মুসলিম লীগ সদস্যরা অখন্ড বাংলা অথবা পাকিস্তানের অংশ -- যেকোনটাতেই খুশী ছিলেন? কংগ্রেস সদস্যরা অখন্ড বাংলার পক্ষে ভোট দিলে বাংলা অখন্ড থাকত?
এই জায়গাটা ক্লিয়ার না ...
আপনি পুরো ইতিহাসকে গুছিয়ে আবার পোস্ট দেন ... ভাল লাগছে পড়তে
৩৪|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:০৮
অচেনা বাঙালি বলেছেন: জ্বিনের মত আমার দাবি এইটা নিয়ে আলাদা পোস্ট দেন নাস্তিক।
৩৫|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:২৯
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
৯ জুন- শরত বসু জিন্নাহকে পত্র মারফত বলেন,
"..... বাংলা তার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু এখনও তাকে রক্ষা করা যায়। তাকে রক্ষা করা চলে যদি বঙ্গীয় আইন পরিষদের মুসলমান সদস্যদের অনুগ্রহ করে আপনি নিম্নরূপ নির্দেশ প্রদান করেনঃ
১। আইন সভার সদস্যদের অনুষ্ঠিতব্য সভায় যেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে যে, পরবর্তীকালে যদি উভয় অংশ একত্রিত থাকবেন বলে স্থির করেন তাহলে সমগ্র প্রদেশ কোন সংবিধান সভায় যোগ দিবে সেখানে তাঁরা যেন হিন্দুস্থান ও পাকিস্তান কোন সংবিধান সভার পক্ষে ভোট না দেন এবং বিধান সভায় অথবা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অথবা অন্যভাবে পরিস্কার করে তাঁরা বলেন যে তাঁরা দৃড়ভাবে বাংলার নিজস্ব বিধান সভার পক্ষে।
২। উভয় অংশের আইন সভার সদস্যদের পৃথক বৈঠকে প্রদেশকে বিভক্ত করা হবে কিনা সে বিষয়ে ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকায় বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে ভোট প্রদান করা;
................"
৩৬|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৩
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
হায় হায় আমার আগের কমেন্ট কোথায় গেলো??
সেখানে মাউন্টব্যাটেনের রুলটি দিয়েছিলাম!!!!!!!!
৩৭|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৪
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আগের কমেন্ট আবার দিচ্ছিঃ
...............
৩৮|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:০১
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
জ্বিনের বাদশা,
ঘটনাটি হলো-
২ জুন দিল্লীতে ভাইসরয়ের বাসভবনে ভারতীয় নেতাদের এক সম্মেলন আহবান করেন। 'মাউন্টব্যাটেন রোয়েদাদ' নামে খ্যাত এই সম্মেলনে কংগ্রেসের নেহরু-প্যাটেল-কৃপালিনী, মুসলিম লীগের জিন্নাহ-লিয়াকত আলী খান- আবদুর রব নিশতার, শিখ সম্প্রদায়ের বলদেব সিং প্রতিনিধিত্ব করেন এবং এখানে বৃটিশ সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনাটি গৃহীত হয়- যে পরিকল্পনায় অখণ্ড বাংলার প্রস্তাব নাকচ করে- ভারত-বাঙলা ও পাঞ্জাবকে বিভক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়। ৩ রা জুন মাউন্টব্যাটেন অল ইণ্ডিয়া রেডিওর মাধ্যমে তাঁর পরিকল্পনাটি বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করেন এবং নেহরু-জিন্নাহ-বলদেব সমর্থন জানান।
৩ জুন বড়লাট ভারতের ভবিষ্যত শাসনতন্ত্র গঠন সম্পর্কে যে ঘোষণা দেন তাতে বাঙলা ও পাঞ্জাব সম্পর্কে যে ব্যবস্থার কথা বলা হয় তা মোটামুটি এ রকম-
"বাংলা ও পাঞ্জাবের আইন পরিষদকে (ইউরোপীয় সদস্যদের বাদ দিয়ে) দুইভাগে ভাগ হয়ে অধিবেশন করবে- এক অংশে ঠাকবে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলির প্রতিনিধিগণ, অন্য অংশে থাকবে প্রদেশের অবশিষ্ট অংশের প্রতিনিধিবৃন্দ। .....
প্রদেশ বিভক্ত কি-না সে সম্বন্ধে মতামত দেয়ার ক্ষমতা উভয় প্রদেশের ব্যবস্থা পরিষদের মিলিত প্রতিনিধিদের দেয়া হবে। বিভক্ত ব্যবস্থা পরিষদের কোনো একটি অংশ সাধারণের ভোটাধিক্যে প্রদেশ বিভাগের অনুকূলে মত প্রকাশ করলেই প্রদেশ বিভক্ত হবে....।
পরিণামে প্রদেশ যদি অবিভক্ত রাখার সিদ্ধান্তই গৃহীত হয়, তবে ঐ অবিভক্ত প্রদেশ কোন্ গণপরিষদের অন্তর্ভুক্ত হবে তা - ইউরোপীয় সদস্যগণ বাদে আইন সভার সমুদয় সদস্যকে নিয়ে পূর্ণ অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমেই স্থির করা হবে,.....।"
৩৯|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:০৭
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
২৯ জুন বিধান সভার অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়- যেখানে পূর্ব ও পশ্চিম বাঙলার কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ভুক্ত সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের সদস্যরা জিন্নাহর নির্দেশ অনুযায়ি- বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে ও পাকিস্তানের পক্ষে ভোট প্রদান করেন। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের সদস্যরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ও ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের পক্ষে ভোট প্রদান করেন। কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা উভয় অংশেই ভোট দিলেন বঙ্গভঙ্গের পক্ষে।
এবার কি কিছুটা পরিস্কার হয়েছে?? @ জ্বিনের বাদশা
৪০|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:১৭
অচেনা বাঙালি বলেছেন: মুসলমান সদস্যরা ভোট দিয়েছিল এইটার পক্ষে যে অখন্ড বাংলা পাকিস্তানের সাথে যোগ দিবে।
৪১|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৮
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
হুম@অচেনা বাঙালি
তবে সে তো একদম শেষ মুহুর্তের চেস্টা- শরত বসুর। কিন্তু- বাঙলার ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিলো আরো আগে।
সুহরাওয়ার্দীর বিশ্বাসঘাতকতার কথাটা একটু বলে নেই - এখানে-
৯ জুন সারা ভারত মুসলিম লীগ কাউন্সিল আহবান করা হয়- বৃটিশ সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিবেচনার উদ্দেশ্যে। এই কাউন্সিলে মিলিত হওয়ার কয়েকদিন আগে- বাঙলার প্রতিনিধিরা সুহরাওয়ার্দীর বাসায় মিলিত হয়ে- সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেন (আবুল হাশিমের উদ্যোগ ও প্রভাবে)- দিল্লীর কাউন্সিলে মাউন্টবয়াটেনর প্রস্তাবের বিরুধিতা করা হবে। এর পর সুহরাওয়ার্দী মাউন্টব্যাটেন ও জিন্নাহর সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে বিমানযোগে দিল্লীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, অন্যরা ট্রেন যোগে রওয়ানা হন। মাউন্টব্যাটেন সুহরাওয়ার্দীকে গোপনে তাঁর সাথে দেখা করতে খবর দেন।
আবুল হাশিম সকল সদস্য কলকাতা ত্যাগ করার পর- বিমানযোগে দিল্লী রওয়ানা হন। দিল্লীর অধিবেশন চলার আগে ও চলাকালে কি ঘটেছিলো, তার বিবরণ হাশিমের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে আমরা পাইঃ
"..... পালাম বিমান বন্দরে নোয়াখালীর আব্দুল জব্বার খদ্দর আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং সংবাদ দিলেন যে, দিল্লীতে সুহরাওয়ার্দী যেখানে ছিলেন সেখানে তিনি একটি সভা আহবান করে বাঙলার প্রতিনিধিদেরকে জিন্নাহর প্রস্তাব সমর্থন করার জন্য প্ররোচিত করেছেন। যখন খদ্দরের নিকট থেকে এ কথা শুনলাম তখন আমার চোখের সামনে পলাশীর ট্রাজেডী ভেসে উঠলো। ......
আমাদের পূর্ব চুক্তি অনুযায়ি পাঞ্জাব এবং সিন্ধু প্রদেশ, এমনকি জিন্নাহর প্রদেশ বম্বে, বাঙলাকে সমর্থন দানে রাজী হয়েছিলো। ইম্পিরিয়াল হোটেলের (কাউন্সিল স্থল- না. ধ.) প্রবেশ পথে ভারতের বিভিন্ন সংখ্যালঘু প্রদেশের কয়েক হাজার মুসলিম যুবক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিলো। তাঁরা আমাকে দেখতে পেয়ে চিতকার করে বলে উঠলো, 'ওরা সবাই আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, এখন আপনিই আমাদের ভরসা।' আমি তাদের বিলাপ শুনলাম, কিন্তু আমার কিছুই করার উপায় ছিলো না।
..............
জিন্নাহ তাঁর প্রস্তাব উত্থাপন করলেন। মওলানা হসরাত মোহানী এবং আমি প্রস্তাবের উপর বক্তব্য রাখার চেস্টা করলাম কিন্তু জিন্নাহ আমাডের মঞ্চে আহবান করলেন না। এরপর সভা আমাদের বক্তব্য শুনতে চাইলো। জিন্নাহ বললেন, "আমি যদি আবুল হাশিমকে বক্তৃতা দিতে অনুমতি প্রদান করি তাহলে তিনি যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবেন তার প্রভাব খর্ব করতে আমাকে প্রথম শ্রেণির দশজন বক্তাকে দাঁড় করাতে হবে.......। আপনাদের মাউন্টব্যাটেনের রোয়েদাদ হয় সম্পূর্ণ মেনে নিতে হবে, নয়তো সম্পূর্ণভাবে নাকচ করতে হবে। বলুন, হাঁ কি না?"
হাত উঠিয়ে ভোট নেয়া হলো। সুহরাওয়ারদী ভোট গণনা করলেন এবং বিজয়ীর সুরে বললেন, 'কায়েদে আজম, কেবলমাত্র এগার জন আমাদের বিরুদ্ধে ভোট প্রদান করেছেন।' প্রস্তাব পাশ হয়ে গেল এবং পরে সুহরাওয়ার্দী এক প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে বললেন, "ঢাকা এখন পাকিস্তানে'।
.................।"
৪২|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:১৩
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন: @নাস্তিকের ধর্মকথা, যদি কিছু মিস না করে থাকি, তাহলে কি ব্যাপারটা এরকম যে,
মুসলিম সদস্যরা ভোট দিয়েছে, ১) অখন্ড বাংলা ২) পুরাটাই পাকিস্তানের সাথে যাবে
হিন্দু সদস্যরা ভোট দিয়েছে, ১) বংগ ভংগ ২) হিন্দুপ্রধান অংশ ভারতের সাথে, তারমানে বাকিটা পাকিস্তানের সাথে।
তাহলে তো দেখা যাচ্ছে হিন্দুরা যেটা চেয়েছে সেটাই হয়েছে শেষপর্যন্ত।
আরেকটা ব্যাপার, যদি ধরে নেই, মুসলমানরা অখন্ড আর স্বাধীন বাংলার জন্য ভোট দিত, তাহলে কি হত? এরকম গ্যারান্টিকি ছিল যে, হিন্দুরা সেটা মেনে নেবে এবং পুরা বাংলা নিয়ে ভারতে যোগ দিতে চাবেনা?
৪৩|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:২৫
অচেনা বাঙালি বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা,
হ্যা, সোহরাওয়ারদীর ভুমিকা নিয়া বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ আছে। আবুল হাশিমের আত্মজীবনী পড়েছিলাম। যাইহোক আপনাকে আবারো অনুরোধ করব অখন্ড স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন ও স্বপ্ন ভংগ নিয়ে আলাদা পোস্ট দেয়ার জন্য। কারণ এখানে বিক্ষিপ্ত ভাবে আলোচনা হচ্ছে । যদিও এই বিষয়টা নিয়ে আমার ইচ্ছা ছিল পোস্ট দেয়ার কিন্তু সোর্সটা এখন আমার হাতে নাই।
৪৪|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৫
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
মাহমুদউল্লাহ,
ভোটের ব্যাপারে যা বলেছেন- সেটা ঠিক আছে।
সেখান থেকে সিদ্ধান্তটা এমন টানা যেতে পারে-
১। হিন্দু সদস্যরা চেয়েছে- পশ্চিমাংশ ভারতের অংশ হোক।
২। মুসলিম সদস্যরাও চেয়েছে- তাদের অধ্যুসিত পূর্বাংশ পাকিস্তানের অংশ হোক- তবে- কজার ব্যাপার হলো- তারা সাথে পশ্চিমাংশকেও টানতে চেয়েছিলো!!!
অখণ্ড স্বাধীন বাংলার ব্যাপারে শুধু মুসলিম সদস্যরা যদি ভোট দিত- তাহলেও নিয়মানুসারে- বঙ্গভঙ্গ হতো, কেননা- যেকোন একটি অংশ বিভক্ত বাংলা চাইলেই বাংলা ভাগ হওয়ার কথা ছিলো।
আপনি যে গয়ারান্টির প্রশ্ন তুলেছেন শেষ লাইনটিতে, সেই একই প্রশ্ন তুলেছিলো- খাজা নাজিমুদ্দিনরা, তুলে হাশিমের বিরুধিতা করেছিলো, উল্টা দিকে আবুল হাশিমরা যখন অখণ্ড বাংলার দাবি তুলতে থাকেন- তখন গান্ধী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক হিন্দু নেতারা এই প্রশ্ন তুলতে থাকেন- অখণ্ড বাংলা কি পাকিস্তান ফেডারেশনে যুক্ত হবে কি না, .. ইত্যাদি। এর উত্তরে হাশিম ও শরত বসুরা বলেন- স্বাধীন বাঙলার ক্ষমতার উতস এখানকার মানুষই হবে, এবং কোন কোন দেশের সাথে তার সম্পর্ক কেমন হবে- তা স্বাধীন বাঙলাই সিদ্ধান্ত নিবে।
৪৫|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৮
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
সরি,
কজার ব্যাপার==>> মজার ব্যাপার
গয়ারান্টির===>>> গ্যারান্টির
৪৬|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৫২
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন: ধন্যবাদ নাস্তিকের ধর্মকথা, মনে হচ্ছে, নেতারা তখন পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস আর আস্থাহীনতার মধ্যে ছিলেন, ফলে বেশিরভাগই নিরাপদ পথটাই বেছে নিয়েছেন হয়তো।
৪৭|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩২
বিবর্তনবাদী বলেছেন: প্রিয় নাস্তিকের ধর্মকথা,
সমগ্র পোস্টে আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু, প্রশ্ন থাকে আপনি শুধু বঙ্গভঙ্গ নিয়েই কথা বলছেন কেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টার পেছনে পশ্চিমবঙ্গের বাবুদের বিরোধীতার অংশটুকু সম্পূর্ণ রূপে এড়িয়ে যাচ্ছেন কি কারনে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টা বাধা দেবার জন্যে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বাঙ্গালি বাবুরা চেষ্টাই করেননি। আমার পোস্টের মূল লক্ষ্য মূলত তারাই। আপনি এমন ভাবে মন্তব্য করছেন, যেন এই পোস্ট দেওয়া হয়েছে বঙ্গভঙ্গ নিয়ে।
আপনার মনে রাখা উচিত, এই পোস্টের মূলবক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টার পেছনের প্রতিবন্ধতা গুলো, বঙ্গভঙ্গ নয়। বঙ্গভঙ্গের কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাকালিন ইতিহাসে অবশ্যই আসবে। আশা রাখি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টাকালীন প্রতিবন্ধকতা ও এক্ষেত্রে পশ্চিমাবাবুদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলবেন।
৪৮|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৪৪
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাসকেন্দ্রিক বিষয়াদি নিয়ে আমি কথা বলিনি তার কারণ সম্ভবত দুটিঃ
১। এ সম্পর্কে আমি খুব ভালো জানি না- আরেকটু ঘেটে কিছু কথা হয়তো সামনে বলতে পারি।
২। আমার কাছে- 'বঙ্গভঙ্গ' অনেক বেশি সিগনিফিকেন্ট। এই ঘটনাটি আমাদের ইতিহাসের গতিপথকেই পাল্টে দিয়েছে, এবং এরকম বেদনাময় অংশকে আমরা বেশিরভাগই ভুলে গেছি- ও ভুল ধারণা নিয়ে আমরা ঘুরি। সেজন্য বঙ্গভঙ্গ আমার কাছে অনেক গুন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ঐ আবুল হাশিমের আত্মজীবনীতে কাউন্সিলে প্রবেশের সময়কার ঘটনাটি যতবার পড়ি- চোখে পানি চলে আসে- ঋত্বিক কুমার ঘটকের 'কোমল গান্ধার' দেখতে পারেন- বুঝবেন- কতটা অমানবিক কাজ করে গেছে- মুসলিমলীগ ও কংগ্রেসের সাম্প্রদায়িক নেতারা!!!
তারপরেও- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আপনার দাঁড় করানো ইতিহাসটি পড়ে মনে হয়েছে-
এখানে আপনার উপস্থাপনের ঢং টি ঠিক হয়নি। মানে ঢালাও ভাবে পশ্চিমাবাবুদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলার আগে- কারণটি অনুসন্ধান করা উচিত ছিলো। আপনার উপস্থাপনের ঢংটিতে মনে হয়- এর পেছনে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের এখানকার মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষই মূল কারণ। কিন্তু আপনি নিজেই বলেছেন- স্যার আশুতোষ মুখার্জির ব্যাপক প্রতিরোধের ফলে এক পর্যায়ে লর্ড হার্ডিঞ্জ তার সাথে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়। অবশেষে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পাঁচটি নতুন অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি করা হলে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় লড়াইয়ে ক্ষান্ত দেন। এরকমেরই হয়তো একেকজনের বিভিন্নরকমের ভেস্টাল ইন্টারেস্টের জায়গা ছিলো। এবং সেই ইনটারেস্টের জায়গা থেকে বিরুধিতা কারী লোকজন কিন্তু ঐ কলকাতা কেন্দ্রিক। এবং মনে হয়েছে এটি দিয়েই জাতির একটি অংশের চরিত্র বিচার করতে বসা ঠিক নয়।
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:১৭
বিবর্তনবাদী বলেছেন: আমি তো শুধু স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ঘটনার একটি অংশ উল্লেখ করলাম, তাও পুরোপুরি করি নি। স্যার আশুতোষ যখন দেখলেন তার পক্ষে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন রোধ করা সম্ভব নয়, তখন তিনি বলেছিলেন, "ওরা তো ঢাকাতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবেই, তো আমি কেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুবিধা নিয়ে না নেই"। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রমেশচন্দ্র মজুমদার তার লেখায়, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বিরোধীতার ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন। শুধু কি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় আরো অনেকে।যেহেতু, আপনি এ ব্যাপারটা খুব ভাল জানেন না বলছেন, তাই আপনাকে বলছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশি বছর বইটি পড়তে পারেন। হয়তো এবারের বই মেলায় পাবেন অথবা আজিজ সুপারে।
বঙ্গভঙ্গ নিয়ে আমি এই মূহুর্তে মাথা ঘামাতে আগ্রহি নই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসটা নিয়েই লিখলাম। যাই হোক, বাস্তব হল প্রত্যেকের নিজস্ব চিন্তা চেতনা ঠিক করে দেয়, সে কি করে অন্যের লেখার ঢং নির্ধারণ করবে। আপনি নির্ধারন করবেন আপনার দৃষ্টি দিয়ে, আমি আমার দৃষ্টি দিয়ে। আপনার দৃষ্টিকে আমি সম্মান করি, এবং আশা রাখি আপনিও করবেন অপরপক্ষেরটা।
আমার দৃষ্টিটা কেমন তাও আপনাকে জানাতে দ্বিধা নেই। আগেই বলেছি আমাকে কেউ যদি মুসলমান হিসেবে আক্রমন করে, তবে আমাকে মুসলমান হিসেবেই লড়তে হবে। যদি আক্রমন করে বাঙালি হিসেবে, তবে তো বাঙালি হিসেবেই লড়ব। আর যদি এলিয়েন এসে মানুষ হিসেবে আক্রমন করে, তবে আমি লড়ব মানুষ হিসেবে। আক্রমন যেদিক থেকে, যুদ্ধও সেদিকে।
সুন্দর আলোচনার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনি বঙ্গভঙ্গ নিয়ে অনেক জানেন দেখছি, বিধায় এ বিষয় একটি পোস্ট বা সিরিজ পেলে খুশি হব। যদি আমাকে কিছু রেফারেন্স জানাতে পারেন, তবে আরো খুশি হই। সময় পেলে পড়ব আশা রাখি।
এই পোস্টে আলোচনা অনেক হল। আর কোন মন্তব্য গ্রহন করছি না। আপনার তথ্যপূর্ন পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম।
সবাইকে ধন্যবাদ।
৪৯|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:১৯
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
সরি, বিবর্তনবাদী- আপনাকে বিরক্ত (আমার অবশ্য ধারণা আপনি হন না!!) করার জন্য, এবং আমার ভাষার রূড়তার জন্য।
এবং আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, আলোচনা করার সুযোগ দেবার জন্য।
আমি শুধু দুটি পয়েন্ট লিখেছিলাম- এবং হয়তো এরকম আরও ২/৩ টি লেখতাম, কিন্তু কমেন্ট গ্রহণ বন্ধ করার পর পরের গুলো লিখি নি।
দুটি পয়েন্ট এখন দিচ্ছি। এবং কাল রাতে যদি বাকি গুলো দেয়ার অনুমতি দেন- তবে, আজ একটু বিরতি নেব- অন্ধকারে টাইপ করতে একটু কষ্টই হচ্ছে (ঘরের বাতি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে- বাচ্চাটা নাকি ঘুমাচ্ছিলো না- এই অভিযোগ তুলে)!!
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:২৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: আমি আর বন্ধ করব না কমেন্ট দেওয়া। আপনি সময় মত দিয়েন মন্তব্য। ধন্যবাদ।
বাচ্চাটার নাম কি?
৫০|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:২৩
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
১। তবে বঙ্গভঙ্গ রদের আন্দোলনকারীদের মূল স্রোত বলতে আপনি কি অপামরজনসাধারণ কে বুঝাচ্ছেন??? যদি তাই বলেন তবে বড় হাসি পায়।
-------------------->
আমার প্রশ্নটি ছিলো এমন- তাদের অনেকেই নিজ স্বার্থেই হয়তো বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিলো; কিন্তু তাদের এই বিরোধিতাকে কি মূল স্রোত হিসাবে দেখানো ঠিক?
আমার বক্তব্যটি হলো অনেকটা এরকম- যেসব উচ্চবর্ণ হিন্দু নিজ স্বার্থে বঙ্গভঙ্গ রদের আন্দোলনে এসেছিলো তারা মোটেই মূল স্রোত ছিলো না। পূর্ববঙ্গের জেলাওয়ারি মুসলমানদের ও সাধারণ হিন্দুদের এ আন্দোলনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে অনেক নমুনা দেখানো যেতে পারে। মুসলিম নামের একটি লিস্ট তো উপরে দিয়েছি। দরকার হলে- আরও বিস্তারিত লেখবো সামনে। বঙ্গভঙ্গকে উপলক্ষ করে দেশে দানা বাঁধা গণবিক্ষোভ থেকেই কিন্তু অনুশীলন সমিতি এ সময়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ঢাকা, ফরিদপুর, জলপাইগুড়ি, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, রংপুর, কটকে সমিতির শাখা বিস্তৃত হয়েছিলো। অনুশীলন সমিতির পাশাপাশি ঢাকার মুক্তিসংঘ, ফরিদপুরের ব্রতী সমিতি, ময়মনসিংহের সাধনা সমিতি, - এছাড়া সুহৃদ সমিতি, স্বদেশি মণ্ডলী, সন্তান সম্প্রদায়, বন্দেমাতরম সম্প্রদায় প্রভৃতি একাধিক গুপ্ত সমিতি, পরবর্তিতে সশস্ত্র আন্দোলনের যুগান্তর দল- এসবের ইতিহাসকে আপনি বাদ দিতে পারেন না। এসব সংগঠন ও সমিতিতে যুক্ত হওয়া সাধারণ লোকদের অংশগ্রহণকেও অস্বীকার করতে পারেন না- চিত্তরঞ্জন দাস, পুলিনবিহারী দাস, বারীন্দ্রনাথ ঘোষ, ভুপেন্দ্রনাথ হেমচন্দ্র দাস, কানুনগো, দেবব্রত বসু, অবিনাশচন্দ্র, অরবিন্দ ঘোষ প্রমুখকে নিশ্চয় উচ্চবর্ণ হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষাকারী বাবু বলবেন না? এবং মনে রাখবেন- এনারাই কিন্তু ইংরেজকে বিপদে ফেলেছে সবচেয়ে বেশি এবং এই ধারাকেই ভয় সবচাইতে বেশি ইংরেজদের। প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুধিরামের আত্মত্যাগ তো ইতিহাস। চাকী আত্মহত্যা করেন ও ক্ষুধিরামকে ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ফাঁসী দেয়া হয়। আর, বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ আন্দোলনে বিরাটভাবে অংশগ্রহণ করে ছাত্র ও যুবরা। ১৯০৫ সালের ১০ অক্টোবর ছাত্রদের দমনে জারি করা হয় কার্লাইল সার্কুলার। ৪ নভেম্বর বাঙলায় জন্ম নেয় 'অ্যান্টি কার্লাইল সার্কুলার সোসাইটি, সার্কুলারের কবলে পড়ে যেসব ছাত্র স্কুল-কলেজ থেকে বহিস্কৃত হয়েছিলো তাদের পড়াশুনা চালানোর জন্য এই সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করলো প্রথম জাতীয় বিদ্যালয়, রংপুরে- যা একই সাথে বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। এই ছাত্র-যুবাদের কি বলবেন সেই স্বার্থবাদী অংশের প্রতিনিধি??? আমাদের ইতিহাস শুধু হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লীগের ইতিহাস নয়- এটা আপনাকে বুঝতে হবে।
২। আপনি বলেছেন-
"বঙ্গভঙ্গকে তো আমি সঠিক বলছি না। কিন্তু প্রশ্ন হল, ঐ সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মনস্তাত্ত্বিক ভাবে দুই বঙ্গের মাঝে বিভেদ রচনায় ইংরেজের যে কূটচাল ছিল তা বুঝতে পশ্চিমা বাবুরা ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায়িত্বতো তাদেরই নিতে হবে। কারন, শিক্ষিত বাঙালি বলতে তারাই তো ছিল সংখ্যাগরিষ্ট। আমাদের এই অংশের কতজনই বা ছিল তখন। "
---------------->
বঙ্গভঙ্গকে সঠিক না বললে এবং একে ইংরেজদের দুই বঙ্গের বিভেদ রচনায় কুটচাল মনে করলে- কর্তব্য কি? বঙ্গভঙ্গকে প্রতিরোধ করা নয় কি? ফলে- যারা এই প্রতিরোধ আন্দোলনে না এসে- ইংরেজদের সাথে গাটছাড়া বাধলো ও বঙ্গভঙ্গের জন্য আন্দোলনে নামলো - তাদেরই তো ইংরেজদের কুটচাল সফল হওয়ার দায়দায়িত্ব নেয়া দরকার বলে মনে হয়। এবং শিক্ষিত অংশ এই কুটচাল বুঝতে পেরেছে বলেই তো তারা এই প্রতিরোধ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে- এবং তাদের বড় অংশই নিস্বার্থ ভাবে - জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়েই এ আন্দোলনে এসেছিলেন।
৫১|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:২০
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: @নাস্তিকের ধর্মকথা, আবার কনফার্ম করে নিই
১. বাংলার মুসলীম অংশের নেতারা অখন্ড বঙ্গ চেয়েছে, এবং এরপর তাদের প্রথম চয়েস কি ছিল? স্বাধীন বাংলা না পাকিস্তানের সাথে যাওয়া।
আমার কথা হলো, বাংলার হিন্দু নেতারাও যদি অখন্ড বঙ্গ চাইতেন, তাহলে তো সেই পয়েন্টেই বঙ্গভঙ্গ আর হতোনা ... ঠিক? তারপর কি ইস্যু বা এজেন্ডাটা এমন হয়ে যেতনা যে, বাংলা কি স্বাধীন থাকবে নাকি ভারত বা পাকিস্তানের একটা অংশ হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া? ...
মানে আমি বলতে চাচ্ছি, সিনারিওটা কি এমন
ছিলনা যে প্রথমে জানতে চাওয়া হলো অখন্ড বঙ্গ চাও কি চাওনা, তারপর যখন "না"র জয় হলো, তখন দুই অংশকে (হিন্দু /মুসলিম) বলা হলো কোন অংশের সাথে যেতে চাও?
নাকি দুইটা অপশনের ভোট একসাথে নেয়া হয়েছে? তাহলে তো অর্থ এমন দাঁড়াচ্ছে, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে আমাদের বঙ্গের কেউই স্বাধীন বঙ্গ চায়নি। (!!!!!!!)
বাংলার সব নেতা যদি অখন্ড বাংলা চাইত তখনকি সরাসরিই বাংলাকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ভারত পাকিস্তান থেকে আলাদা এনটিটি দেয়া হতো? যদি তা না হয়, তাহলে, বাংলা স্বাধীন হবে কি হবেনা, সেই সিদ্ধান্তের জন্য ভোট কারা দিত, পুরো ভারতবর্ষের সব নেতারা, নাকি শুধু বাংলার নেতারা?
৫২|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:২৭
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
জ্বিনের বাদশা,
মাউন্টব্যাটেন এর জারি করা রুলটিতে বলা হয়েছিলো (উপরে দ্রষ্টব্য)-
বাঙলা ও পাঞ্জাবের ক্ষেত্রে, প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যরা বিভক্ত বা অবিভক্ত থাকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে ক্ষমতা প্রাপ্ত হবে। প্রদেশের মুসলিম ও হিন্দু প্রধান জেলাগুলোর প্রতিনিধি আলাদা বসে ভোট দিবে। কোন অংশের ভোটে যদি বিভক্ত থাকার পক্ষে জয়ী হয়- তবে ঐ প্রদেশ বিভক্ত হবে। আর, উভয় অংশই যদি- অবিভক্ত থাকতে চায়- তবে- সমস্ত সদস্যদের নিয়ে পূর্ণ অধিবেশন বসবে- এবং সেখানে ভোটে সিদ্ধান্ত হবে- অবিভক্ত প্রদেশটি কার সাথে যুক্ত হবে- ভারত না পাকিস্তান।
এখানে কোথাও বলা হয় নি- উভয় অংশ অবিভক্ত থাকতে চাইলে এবং তারা স্বাধীন হতে চাইলে- তখন কি করা হবে। ফলে- সেরকমটি ঘটলে কি হতো এখন বলা কঠিন।
শরত বসু তার শেষ চেস্টাটি চালিয়েছিলেন- সমস্ত প্রতিনিধি অবিভক্ত থাকতে চাক, এবং তারা স্বাধিন বাঙলার পক্ষে ভোট দেক- তারপর, সকলে মিলে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে- বা আরো অন্যান্য ফর্মে স্বাধীন ও অখণ্ড বাঙলার দাবিতে অবিচল থাকুক। উপরের জিন্নাহকে লেখা চিঠি দ্রষ্টব্য।
এখন- মুসলিম লীগ সদস্যরা(জিন্নাহর পরামর্শ মোতাবেক)- অবিভক্ত বাঙলার কথা বলে ঠিকই, কিন্তু সেটা পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হবে- এমন ভোট দেয়। কংগ্রেসকে এক্ষেত্রে বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ভোট দিতে হয়, কেননা তারাও যদি অবিভক্ত বাঙলার পক্ষে ভোট দিত- ফলে, পূর্ণ অধিবেশনে মুসলিম লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অবিভক্ত বাঙলা পাকিস্তানেরই অংশ হতো (কংগ্রেসের নেতারা এই অযুহাত দেখিয়েই শরত বসুর শেষ চেস্টাকে আমলে নেয়নি; কিন্তু এর মাধ্যমে তাদেরও পাপ কমে যায়নি- বাঙলার ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে আরো আগে- সেখানে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সমান দায়!!)।
৫৩|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৩৪
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
বিবর্তনবাদী,
আপনাকে ধন্যবাদ।
নাম এখনও রাখা হয়নি।
আপনি একটা প্রপোস করলে খুশি হবো (প্রপোজাল গৃহীত হওয়ার ব্যাপারে গ্যারান্টি ছাড়াই)- অবশ্যই- নিখাদ বাঙলা নাম হবে- নামের মাধ্যমে বাচ্চার মুসলিম হওয়া আমার ভালো লাগে না!!!
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১৭
বিবর্তনবাদী বলেছেন: ছেলে নাকি মেয়ে।
৫৪|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:২৫
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা, আমার প্রশ্নটা সেখানেই।
বাংলা যখন বিভক্ত হয়েই গেছে তখন তো মুসলিম লীগ সদস্যরা (পূর্ব বঙ্গ) পাকিস্তানের সাথে থাকার জন্যই ভোট দেবে। যেমন কংগ্রেস সদস্যরা (পশ্চিমবঙ্গ) ভারতের সাথে থাকার জন্য দিয়েছে।
যদি ভোট দুইটা একই সাথে নেয়া হয়, তাইলে বলা যায় যে মুসলীম লীগ আর কংগ্রেস দুদলেই সমান দায়ী, কারণ মুসলিম লীগ বলছে বাংলা অবিভক্ত থাকবে, কিন্তু পাকিস্তানের সাথে যাবে; অন্যদিকে কংগ্রেস সদস্যরা বলছে বাংলা বিভক্ত হবে এবং একাংশ ভারত, অন্যঅংশ পাকির সাথে যাবে।
কিন্তু প্রথমে যদি বঙ্গভঙ্গ হবে কি হবেনা সেই ভোট হয়, তাইলে কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যরা "অবিভক্ত বাংলা পাকিস্তানের সাথে যাবে" এই ভোট দিছে বলা যায়না।
তখন কিন্তু আরো সরাসরিই বলা উচিত যে, মুসলীম লীগ ভোর দিয়েছিল অবিভক্ত বাংলার পক্ষে, কিন্তু কংগ্রেস ভোট দিয়েছে বিভক্ত বাংলার পক্ষে। ফলে বাংলাকে অবিভক্ত রাখা সম্ভব হয়নাই। তখন পূর্ব বাংলার প্রতিনিধি মুসলিম লীগ পাকিস্তান, আর পশ্চিম বাংলার প্রতিনিধি কংগ্রেস ভারতের সাথে মিশে যাওয়ার জন্য ভোট দিয়েছে।
তা নাহলে কিন্তু অন্যায় উক্তি হয়ে যায়। কারণ, প্রথমেই বাংলা যদি বিভক্তই হয়ে যায়, তখন কিন্তু মুসলিম লীগের পাকিস্তানের সাথে যাবার পক্ষে ভোট দেয়া ছাড়া আর উপায় নাই। কাজেই এইটা কখনই ইন্ডিকেট করেনা মুসলিম লীগ পুরো অবিভক্ত বাংলাকে নিয়ে পাকিস্তানের সাথে মিশতে চেয়েছিল।
যদি বাংলা বিভক্ত থাকবে না এক থাকবে এই ভোট আর কোন অংশের সাথে মিশবে এই ভোট আলাদা আলাদা নেয়া হয়, তাহলে আমার ধারনা, বাংলার পশ্চিম অংশের আর পূর্বের অংশের যথাক্রমে হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের মাঝে পারস্পরিক বিশ্বাস ছিলনা। বিশেষতঃ পশ্চিম অংশ পূর্ব অংশকে বিশ্বাস করতে পারেনি। যেজন্য তারা ভেবেছে অবিভক্ত বাংলার পক্ষে ভোট দিলে, মুসলিমরা সেটাকে পাকিস্তানের সাথে মিলিয়ে দেবে।
একটা প্রশ্ন, এই দুই ভোটের মাঝে সময়ের পার্থক্য কিরকম ছিল?
৫৫|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩৭
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
একই সাথে- শুধু আলাদা কক্ষে দুই ভাগে অধিবেশনে বসে- ভোটাভুটি হয়েছিলো। @জ্বিনের বাদশা
ছেলে@বিবর্তনবাদী
৫৬|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪১
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন: আমার পরের পয়েন্টগুলোঃ (সরি গতকাল থেকে নেটের কানেকশন পাচ্ছিলাম না)----------
৩। আপনি বলেছেন,
"
--- ১৯০৫ থেকে ১৯১১ সাল নাগাদ শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের কিছু হিসেব দিচ্ছি তাহলে...
..............................................
..............................................
আর এসব সম্ভব হয়ে উঠে ঢাকায় রাজধানী স্থাপনের ফলে।"
-------------------------->
দেখুন, আপনি যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন, সেটি ঠিক আছে; কিন্তু এর মাধ্যমে যে চিত্রটি দেখানোর চেস্টা করেছেন- বা যে সিদ্ধান্তটি টেনেছেন- সেটিতে একটু ভুল বুঝার আশংকা থেকে যায়। এটা ঠিক যে, বঙ্গভঙ্গের কারণে ব্রিটিশ-রাজ এখানে শিক্ষাক্ষেত্রে কিছুটা গতি আনার চেস্টা করেছিলো; কিন্তু মুসলমানদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়ার পেছনে- একেই বড় করার কোন উপায় নেই। কেননা, শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়েছে আরো আগেই। একটা পরিসংখ্যান দিলে হয়তো পরিস্কার হবে। ১৮৭১ সালে বাংলা ও আসামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল স্তরে মোট হিন্দু ছাত্রের সংখ্যা ছিল ১,৪৯,৯১৭- যেখানে মুসলমান ছাত্রের সংখ্যা মাত্র ২৮,০৯৬। কলেজ স্তরে এ অনুপাত ছিলো আরো কম- হিন্দু ১,১৯৯ জন এবং মুসলমান মাত্র ৫২ জন। অথচ- মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৪.৫২ শতাংশই ছিল মুসলমান। ১৮৮২ সালে মাত্র দশ/এগারো বছরের মধ্যেই আশাতীত উন্নতি দেখা যায় মুসলিম ছাত্রসংখ্যায়। ১৮৭১ সালে বাংলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুসলমান ছাত্রের সংখ্যা ছিলো যেখানে ২৮,১৪৮- সেখানে ১৮৮২ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২,৬১,১৮০ (প্রাথমিক স্কুল ধরে)। এই ধারা পরবর্তিতেও বজায় থাকে। কারণ হলো- স্যার সৈয়দ আহমেদ (আলিগড় আন্দোলনের জনক) এর মত আমাদের এখানেও কয়েকজন মুসলমান শিক্ষানুরাগীর আবির্ভাব হয়েছিল- যাঁরা মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রচারের জন্য উদ্যোগী হন। তাঁদের মধ্যে নবাব আমীর আলির ন্যাশনাল মহমেডান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৫৬), নবাব আবদুল লতিফের মহামেডান লিটারেরি সোসাইটি (১৮৬৩) এবং সৈয়দ আমির আলির সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মহামেডান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৭৭) এর নাম উল্লেখযোগ্য। আপনার আলোচনায় কিন্তু এনাদের অবদানটি খর্ব হয়ে যায়!!
৫৭|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪৩
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
৪। আপনি বলেছেন,-
"মুসলমানেরা হিন্দুদের মত ইংরেজী শিক্ষায় আগ্রহী ছিল না, এ কথা ঠিক। সেই সাথে অন্য আর একটি ব্যাপার আপনাকে মাথায় রাখতেই হবে। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ট পূর্ববাংলায় স্কুল কলেজের সংখ্যা হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ট পশ্চিমবঙ্গের থেকে অনেক কম ছিল। গরিব পূর্ববঙ্গবাসির উচ্চ শিক্ষার্থে যেতে হত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
শিক্ষিত বাঙালি মুসলমানদের সংখ্যাকে কম হবার কারন শুধু মাত্র ইংরেজী শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ বলা এবং স্কুল কলেজের সংখ্যা তথা শিক্ষা ক্ষেত্রে অনুন্নত থাকার ব্যাপারটা অগ্রাহ্য করা. . . . . সম্পূর্ণ একতরফা চিন্তাভাবনার ফলাফল।"
---------------------------------->
এটা ঠিক- কলকাতার তুলনায় ঢাকায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও মান অনেক কম ছিলো, কিন্তু সেটাকে যদি মুসলমানদের শিক্ষায় পিছিয়ে থাকার কারণ হিসাবে উপস্থাপন করেন- সেটিতেও ফাকি থেকে যায়। কেননা কয়েকটি বিষয় আপনার মনে রাখা দরকার-
১। পূর্ববঙ্গে যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিলো- সেখানেও মুসলমানদের সংখ্যা খুব কম ছিলো। এমনকি হাজি মুহম্মদ মহসিনের টাকায় তৈরি হুগলি কলেজেও হিন্দু শিক্ষার্থীর তুলনায় মুসলমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো এক শতাংশেরও কম।
২। সম্ভ্রান্ত মুসলমানেরা শিক্ষা বিস্তারের ব্যাপারে তেমন কোন ভূমিকা রাখেন নি- যেমন ভূমিকা হিন্দুদের মধ্যে দেখা যায়। পূর্ববঙ্গের অধিকাংশ স্কুল-কলেজ দেখবেন হিন্দুদের প্রতিষ্ঠা করা, আপনি এখনও দেখবেন- পুরাতন ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর নাম হিন্দুদের নামে- ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে শুরু করে- রাজেন্দ্র, হরগঙ্গা, মদনমোহন, দেবেন্দ্র, ব্রজলাল প্রভৃতি কলেজের নাম দেখেই বুঝতে পারবেন- হিন্দু উদ্যোগ কেমন ছিলো। পক্ষান্তরে মুসলমান অভিজাতরা মূলত উর্দু শিক্ষাকেই আভিজাত্যের লক্ষণ মনে করতেন- এবং বাংলার প্রতি এক ধরণের বিতৃষ্ণা ছিলো, ইংরেজির প্রতি তো ছিলোই- আর হিন্দু শিক্ষকের অধীনে শিক্ষালাভকেও তারা ভালো চোখে দেখতেন না।
৩। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলকাতার বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে সরকারের উদ্যোগ এসে হয়তো পরে যুক্ত হয়েছে- কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ও প্রতিষ্ঠায় হিন্দু ব্যক্তি উদ্যোগ অনস্বীকার্য।
৪। কলকাতা শুধু বাঙলার রাজধানি ছিলো- তাই নয়, এটা কিন্তু সমগ্র ভারতেরও রাজধানি ছিলো- ১৯১১ পর্যন্ত। ফলে- রাজধানি অর্থাত ভারতের কেন্দ্রভূমির সাথে অন্য সব অঞ্চলের পার্থক্য তো থাকাই স্বাভাবিক- এই অর্থনৈতিক কাঠামোতে। বাঙলার কেন্দ্র হিসাবে তো হিন্দু-মুসলমান উভয়েরই আকর্ষণও ছিলো কিন্তু এই কলকাতা। ফলে দেখবেন- যখন বেগম রোকেয়া মুসলমান নারী জাগরণের জন্য সাখাওয়াত মেমোরিয়াল করছেন- সেটি তিনি রংপুর বা ঢাকায় করছেন না- করছেন কলকাতায়। এবং এ চিত্রটিই ছিলো সাধারণ। এখনও যেমন- বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার লোকজনের অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক সবকিছুর সেন্টার এই রাজধানি ঢাকা!
৫৮|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪৫
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
৫। আপনি এই প্রশ্নটি অসংখ্য বার করেছেন-
"বঙ্গভঙ্গ রদের আন্দোলনে এত জাতীয়তাবাদের কথা বললো যে পশ্চিমবঙ্গের উচ্চবর্ণ হিন্দু (আপনার ভাষায় পশ্চিমবঙ্গের দাদারা)- তারা ১৯৪৭ এ কি করলো- বা তাদের উত্তরসুরিরা বাঙলা বিভাগকে ঠেকাতে পারলো না কেন?"
আপনার প্রশ্নের মধ্যেই এর উত্তর নিহিত। যখন- জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের উত্তরসুরি শুধু একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় অংশকে দেখানো হয়- তখন সেই জাতীয়তাবোধ পূর্নাঙ্গতা পায় না। এ কাজটিই হয়েছে- বঙ্গভঙ্গ রদের আন্দোলনে। বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের আন্দোলনে জাতীয়তাবোধ পাওয়া যাবে- আর মুসলমাদের মধ্যে ইংরেজদের দালালিই প্রধান। ফলে- যখন একটি ধর্মীয় অংশই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে যুক্ত হয় ও অপর ধর্মীয় অংশটি তার বিরোধিতা করে- তখন সেটিতে জাতীয়তাবোধের তুলনায় সাম্প্রদায়িকতা বিস্তার করার সম্ভাবনাই বেশি- কি আন্দোলন-কারির মধ্যে কি আন্দোলন-বিরোধিতাকারির মধ্যে! ফলে- এই জাতীয়তাবাদিতা শেষ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িকতায় টার্ণ নিয়েছে- এবং চুড়ান্ত সাম্প্রদায়িক ফলাফলে এর সমাপ্তি ঘটেছে- ধর্মের ভিত্তিতে দেশবিভাগ!
ইংরেজরা যেটি চেয়েছিলো- সেটিতে তারা সফল- বঙ্গভঙ্গ ১৯১১ তে রদ করতে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা বাঙলাকে মনস্তাত্বিকভাবে দুইভাগ করে দিয়ে গেলেন এই বঙ্গভঙ্গের মধ্য দিয়ে!!
এখন, বলতে পারি- প্রথমত ১৯০৩ সাল পর্যন্তও বঙ্গকে ভাগ করার ব্যাপারে যেমন উভয় বঙ্গ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, একই প্রতিক্রিয়া যদি- ১৯০৫ এও দেখাতো, মানে ১৯০৫ এও যদি হিন্দু-মুসলিম একত্রে এর বিরোধিতা করতো, (এবং এর মধ্য দিয়ে যে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটতো)- তবে '৪৭ এর পরিণতি কি একইরকম হতো? আমার মনে হয় না। ফলে, প্রধান দায় যারা এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ না করে- আন্দোলনের বিরোধিতা করলো (সুবিধাবাদিতার দৃষ্টান্ত তৈরি করে)- তাদেরই।
দ্বিতীয়ত, যারা এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিলো- তাদেরও ব্যর্থতার অনেক দিক আছে, এই মানুষগুলো সাইকোলজিকলি বিষয়টি ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। কেননা- ইংরেজদের চক্রান্তের বিষয়টি তাদের নিকট অন্তত পরিস্কার থাকারই কথা। ফলে- রবীন্দ্রনাথ যে সাবধানী বানী উচ্চারণ করেছিলেন- "হিন্দু ও মুসলমানের সম্বন্ধের মধ্যে কোনো পাপই ছিলো না, ইংরেজই মুসলমানকে আমাদের বিরুদ্ধে করিয়াছে,... শনি তো ছিদ্র না পাইলে প্রবেশ করিতে পারে না, অতএব শনির চেয়ে ছিদ্র সম্বন্ধেই সাবধান হইতে হইবে। ...... পরে যে বিচ্ছেদসাধন করে তাতে অনিষ্টমাত্র ঘটে, কিন্তু নিজেই যে বিচ্ছেদ ঘটাই তাতে পাপ হয়"।- আন্দোলনকারিদের সেই ছিদ্র সম্পর্কে- সেই পাপ সম্পর্কে সাবধান কচিতই থাকতে দেখা গেছে। কেননা- যখন ধর্ম একটি বড় ইস্যু- বিভেদ তৈরিতে- তখন, আন্দোলন কারীদের কর্মসূচি যদি আরো ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে হয়- তাহলে কি সেই আন্দোলন সফল হওয়ার সম্ভাবনাটাই কমে যায় না কি? কেননা, এগিয়ে থাকা অংশ বা সঠিক অবস্থানে থাকা অংশেরই দায়িত্ব অনেক বেশি! আর তাই শেষ পর্যন্ত সরকার হিন্দু ও মুসলিমকে সম্বোধন করে- বেঙ্গলিজ ও মহমেডানস বলে!!
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:০৭
বিবর্তনবাদী বলেছেন: বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের আন্দোলনে জাতীয়তাবোধ পাওয়া যাবে- আর মুসলমাদের মধ্যে ইংরেজদের দালালিই প্রধান।
-- -- -- এ দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে আপনি যখন বিতর্কে নামবেন তখন আপনার কাছ থেকে নিরপেক্ষ বিশ্লষন আশা করা বৃথা। যদিও, ব্যক্তিগতভাবে কোন মানুষ নিরপেক্ষ বলে আমি মনে করি না।
৫৯|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪৭
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
৬। আপনি বলেছেন,-
"একটু নিজ দেশের দিকে নজর দেই আসুন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যদি পার্বত্য অঞ্চলে গিয়ে ঘোষণা দেন, তিনি এমন কিছু করতে যাচ্ছেন যাতে ঐ অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া উপজাতিগুলো উন্নত জীবন যাপনের সুযোগ পাবে . . . . . . . . . . তবে আপনি এতে আপত্তি করবেন?
আপনি সেক্ষেত্রে কি বলবেন, পিছিয়ে পড়া উপজাতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এত মাথা ব্যাথা কেন???? "
--------------------------------->
পিছিয়ে পড়া অংশকে এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া সরকারের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য- এতে কোন দ্বিমত নেই, কিন্তু এই কর্তব্যের কর্মসমূহ যখন আরেকটি অংশের সাথে বিদ্বেষ তৈরির উদ্দেশ্যে বা অংশদুটিকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে বা শত্রুভাবাপন্ন করতে পালিত হয়- তখন তা প্রকাণ্ড অন্যায় বলেই মনে করি।
৬০|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:১২
বিবর্তনবাদী বলেছেন: @ নাস্তিকের ধর্মকথা---
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টার প্রেক্ষাপট ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে ছিল এই পোস্ট। ফলে, স্বাভাবিক ভাবেই এসেছে বঙ্গভঙ্গ। আপনি আলোচনাকে বঙ্গভঙ্গের মধ্যেই সীমিত রাখলেন, কারন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নিয়ে আপনি খুব ভাল জানেন না।
বঙ্গভঙ্গ নিয়ে আপনার পড়াশুনা যথেষ্ট। আমি এ বিষয়ে আপনার মত পড়াশুনা করে উঠতে পারি নি। তাই, বঙ্গভঙ্গ নিয়ে প্রদত্ব্ব আপনার তথ্য সূত্র গুলোর ব্যাপারে আলোচনায় করতে পারছি না। এ বিষয় নিয়ে কিছু পড়াশুনা করে তবে আবার আপনার সাথে বসবার ইচ্ছা আছে।
৬১|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:৩১
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আরেকটি বিষয়ে কথা বলার ইচ্ছা ছিলো।
সেটা জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের উক্তিটি নিয়ে।
অবশ্য ওনার মত জ্ঞানী ব্যক্তির মতের/দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কিছু বলা মনে সহজ নয়!!!!!!
আজ না, কাল সকালে করবো।
৬২|
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৪৫
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আপনার পুরো প্যারাটিই তুলে দিচ্ছিঃ
"এদিকে এ সময়ে বাংলা সাহিত্যে যে জোয়ার আসে, তার মূলে ছিলেন কলকাতা নিবাসী হিন্দু লেখক সাহিত্যিকরা। যদিও তারা তাদের লেখনিকে সমগ্র বাংলার মানুষের সমাজ জীবনের প্রতিফলন বলে প্রচার করতেন, কিন্তু তাতে শুধুমাত্র হিন্দুদের কথাই ফুটে উঠত। বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক একবার তাই বলেছিলেন, “তৎকালীন সাহিত্য গুলোতে যত গুলো চরিত্র আছে তাদের নাম পাশাপাশি রেখে পরিসংখ্যান করলেই দেখা যাবে রাম শাম যদু মধুদের সংখ্যা কত আর রহিম করিমের চরিত্রের সংখ্যা কত। অথচ, বাংলার সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ মুসলমান ছিলেন। অর্থাৎ, বাংলা সাহিত্যেও পূর্ববাংলা তার স্থান পায় নি। "
------------------------------------->
------------------------------------->
১। এটা ঠিক যে, বাংলা সাহিত্যে তথা ভাষায় এসময় হিন্দুদের অবদানটিই প্রধান। দুই বঙ্গেই হিন্দুরাই মূলত বাংলায় সাহিত্য চর্চা করেছেন। মুসলমানেরা এদিক থেকে বাংলার চেয়ে উর্দুকে বেশি প্রাধান্য দিতেন- এবং তারা এমনিতেও তুলনামূলক ভাবে সংস্কৃতির চর্চা কম করতেন।
২। হিন্দু লেখকদের লেখায় স্বাভাবিকভাবেই হিন্দু নামের ক্যারেক্টার বেশি আসবে- যেমন করে মুসলিম লেখকদের লেখায় মুসলমান নামের ক্যারেক্টার বেশি আসে। আপনি নজরুল-রোকেয়া থেকে সকল মুসলমান লেখকের উপন্যাস পড়লে দেখবেন- তাদের লেখায় কয়টা রাম-শাম আসছে, আর কয়টা রহিম-জব্বার এসেছে!!
৩। হিন্দু নামের ক্যারেক্টার আসলেই যে- সেই সাহিত্যে পূর্ববাংলা অনুপস্থিত থেকে যায়- এটা কি ঠিক?? সাহিত্যে যখন- হিন্দু কৃষক- হিন্দু জেলেদের কথা তুলে ধরা হয়- তাদের জীবন তুলে ধরা হয়- গ্রাম বাংলা তুলে ধরা হয়- সেটার সাথে কি মুসলমান কৃষক-মুসলমান জেলের জীবনের কি খুব বেশি পার্থক্য হয়??
৪। কোন ধর্মের লোকেরা এই ভাষার চর্চা করলো সেটি দিয়ে ভাষার বিচার করা চড়ান্ত রকম সাম্প্রদায়িক। মুসলিম লীগ ভাবাপন্ন অধ্যাপক- আবদুর রাজ্জাক- যে কাজটি করেছেন বা যে প্রশ্নটি তুলেছেন- সেই একই প্রশ্ন তুলেছিলেন- পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকরা- উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে চাপিয়ে দেয়ার সময়- তারা এসব কথা বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো- বাংলা ভাষা হিন্দুর ভাষা- এটি আমরা অগ্রাহ্য করেই ৫২ তৈরি করেছিলাম।
এবং একই ধরণের ধারণা পোষণ করতেন- সেই বৃটিশ ভারতের সম্ভ্রান্ত মুসলমানরা!!- বাংলা হলো হিন্দুর ভাষা!!!!!!!!!!!
৫। আপনি আরো আগে যদি যান- চর্যাপদে দেখবেন- একটা মুসলিম চরিত্র পাবেন না- পুরো মধ্যযুগের সাহিত্য- সেই বৈষ্ণব পদাবলী বলেন- কীর্তন বলেন- সবই পাবেন- রাধা-কৃষ্ণের লীলার বন্দনা- তাই বলে কি এসবকে আপনি ফেলে দিবেন?? আর এসব কথা বলে- বাংলাকে হিন্দুর ভাষা বলা কি হাস্যকর না?? মুসলমানরা আসার আগে তো - তারা এখানকার ভাষায়-সাহিত্যে অবস্থান পাবেই না- এটাইতো স্বাভাবিক।
৬। ভাষা তথা সাহিত্যের আধুনিক যুগে পদার্পন কালেও আমরা হিন্দুদের এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইংরেজদের যে ভূমিকা পাই- তার কানাকড়িও মুসলমানদের কাছ থেকে পাই না। ভাষাকে যারা গড়ে তুললো- প্রাণ দিলো- গতি দিলো- সবাই হিন্দু, হুম এটা আমাদের ভাষার জন্য দুর্ভাগ্যজনক- কিন্তু তার দায় তো মুসলমানদেরই। তারাই কিন্তু বাংলা থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলো!!!
অথচ- এক নজরুলই ভাষাকে যে গতি দিয়েছিলেন- ভাষায় যত শব্দ যুক্ত করেছেন- সব মুসলিম সাহিত্যিক মিলে তা করতে পারেন নি। এর কারণ- মুসলমানদের বাংলা ভাষার বিরূপ মনোভাব ও সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি অনীহা।
৭। আপনার পুরো প্যারাটি বঙ্গভঙ্গের আলোচনা বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের আলোচনায় কোন উদ্দেশ্যে এনেছেন????????????
৬৩|
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা আপনি বলছেন: আপনার পুরো প্যারাটি বঙ্গভঙ্গের আলোচনা বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের আলোচনায় কোন উদ্দেশ্যে এনেছেন????????????
আসবে না কেন?? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পে পূর্ববঙ্গকে এগিয়ে নেওয়া। যেকোন মানুষের জীবনে মূল্যবোধের উন্নয়নে সাহিত্যের ভূমিকা অপরিহার্য এবং সে সাহিত্যে অবশ্যই মানুষের নিজের জীবন প্রতিফলিত হতে হবে। তৎকালীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানের অবস্থান নগন্য ছিল কারন লেখকদের বেশির ভাগই ছিলেন পশ্চিমবঙ্গীয় হিন্দু অন্যদিকে বাংলায় মুসলমান ছিল সংখ্যাগরিষ্ট। সংখাগরিষ্ট এবং পিছিয়ে পড়া মুসলমানকে এগিয়ে নেবার একটা উপায় ছিল পূর্ববঙ্গকে আলাদা প্রদেশ করা (যেটা আপনি নিজের পোস্ট স্বীকার করেছেন, যদিও ইংরেজদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ছিল)। কিন্তু বঙ্গভঙ্গ রদ হয়ে যাওয়ার ফলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টিত হয়। বিধায় আমি যে প্যারাটি দিয়েছি, সেটা না দিলে আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকে।
নাস্তিকের ধর্মকথা আপনি বলছেন: হিন্দু নামের ক্যারেক্টার আসলেই যে- সেই সাহিত্যে পূর্ববাংলা অনুপস্থিত থেকে যায়- এটা কি ঠিক?? সাহিত্যে যখন- হিন্দু কৃষক- হিন্দু জেলেদের কথা তুলে ধরা হয়- তাদের জীবন তুলে ধরা হয়- গ্রাম বাংলা তুলে ধরা হয়- সেটার সাথে কি মুসলমান কৃষক-মুসলমান জেলের জীবনের কি খুব বেশি পার্থক্য হয়??
আপনি যে গ্রামবাংলার জীবনের কথা বলছেন অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যদিও ব্যাপারটা ঠিক আছে, কিন্তু সে সাহিত্যে মুসলমান জনসাধারণের সমাজজীবন প্রতিফলিত হয় না। একটা উদাহরণ দেই, যেমন সমাজে নারীর অবস্থান। সেই সময়ের সাহিত্য-উপন্যাসে আমরা মুসলমান নারীর উপর ধর্মীয় কুসংস্কারের ফলে যে অবিচার হচ্ছিল তার কোথায় পাই। আমরা সাহিত্যের বেশির ভাগ অংশ জুড়েই হিন্দু বিধবা নারীর দুঃখময় জীবনের কাহিনীই খুজে পাই। মুসলমান সমাজ জীবন খুজতে আমাদের ধরতে হয় মুসলমান লেখকদের বই। কাজী ইমদাদুল হকের “আবদুল্লাহতে” খুজে পাই মুসলিম সমাজের নানা দিক।
একারনেই কলকাতায় অবস্থানরত মুসলমান ছাত্র শিক্ষদের গঠন করতে হয়েছিল, “বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতি”। এই সমিতির সর্বসময়ের কর্মী ছিলেন কমুনিস্ট নেতা কমরেড মুজাফফর আহমদ এবং কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সেই সাথে ছিলেন শিক্ষিত মুসলমান তরুণ সমাজ। কবি নজরুল বা কমরেড মুজাফফর আহমদ কেউই সাম্প্রদায়িক ছিলেন না তবুও তারা বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমাজের সেনানী ছিলেন কারন বাংলাসাহিত্যে মুসলমানের অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। আর আহমদ ছফার কাছে এব্যাপারটা পরিস্কার করবার জন্যেই অধ্যাপক রাজ্জাক একটা উদাহরন দিয়ে ব্যাপারটা তুলে ধরেছিলেন।
নাস্তিকের ধর্মকথা আপনি বলছেন,
ভাষা তথা সাহিত্যের আধুনিক যুগে পদার্পন কালেও আমরা হিন্দুদের এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইংরেজদের যে ভূমিকা পাই- তার কানাকড়িও মুসলমানদের কাছ থেকে পাই না। ভাষাকে যারা গড়ে তুললো- প্রাণ দিলো- গতি দিলো- সবাই হিন্দু, হুম এটা আমাদের ভাষার জন্য দুর্ভাগ্যজনক- কিন্তু তার দায় তো মুসলমানদেরই। তারাই কিন্তু বাংলা থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলো!!!
মুসলমানের অবদান থাকবে কি করে? শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা মুসলমানের কাছ থেকে কি করে আশা করা যায় তারা সাহিত্যে অবদান রাখবে? নিরক্ষর জনগনের কাছ থেকে কি আর সাহিত্য আশা করা যায়। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার, পশ্চিমবঙ্গীয় উচ্চবর্ণের হিন্দুরা আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে যখনই নিজ পায়ে দাড়াতে গেলাম, তখনই আমাদের পিঠে কুড়াল মারতে পিছ পা হলেন না। সমাজে উন্নতি বলতে তাদের কাছে ছিল শুধু তাদের অংশেরই উন্নতি।
এজন্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এককালের ছাত্র ও অধ্যাপক (পরে কলকাতা ও আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ) অমলেন্দু বসু বলেছেন, “যাঁরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ‘মেক্কা অব দি ইষ্ট’ আখ্যায় শ্লেষোক্তি প্রয়োগ করতেন তাঁদের শ্লেষ যেমন স্থুল ছিল তেমনি এই শ্লেষ প্রয়োগে এ কথার প্রমান হয় যে তখনকার দিনে শিক্ষিত জীবনে সুপ্রতিষ্টিত হিন্দু সমাজে সাম্প্রদায়িক ভেদজ্ঞান এবং স্বকপোলকল্পিত আত্ম-গরিমা এতো অধিক ছিল যে তাঁরা ভাবতেন যে সমাজের এক অংশের শ্রীবৃদ্ধি হলেই (অর্থাৎ তারা নিজেরা যে অংশের অন্তর্গত সে অংশের শ্রীবৃদ্ধি হলেই) সমগ্র সমাজের উন্নতি হবে”।
আমাদের এখানকার তথা পূর্ববঙ্গের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ আমরা পাই বঙ্গভঙ্গের সময় থেকে অথবা তার একটু আগে থেকে। এ সময়ের শিক্ষিতদের বায়োডাটা ঘাটলে দেখা যাবে তারা কেউ তার সময়ের প্রথম দ্বিতীয় বা তৃতীয় গ্রাজুয়েট। প্রথম মুসলিম মহিলা গ্রাজুয়েট ইত্যাদি। এরপরই আস্তে আস্তে বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আপনি একটা পরিসংখ্যান করুন ১৯০০ সালে বাঙালি কবি সাহিত্যিকদের মাঝে হিন্দু মুসলমান অনুপাত কেমন আর ১৯৫০ সালে বাঙালি কবি সাহিত্যিকদের মাঝে হিন্দু মুসলমানদের অনুপাত কেমন।
নিশ্চিত ভাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখতে পাবেন। আর এটা সম্ভব হয়েছিল কারন আমরা পূর্ববঙ্গবাসী, পশ্চিমবঙ্গবাসী হতে নিজেদের স্বার্থ আলাদা করে চিনতে শিখেছিলাম। কারন আমাদের দুই অংশের স্বার্থ সত্যিই আলাদা। যেমন আজ আমাদের স্বার্থ নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্রকে গড়ে তুলে, বাংলাকে বিশ্বে তার গৌরবোজ্জল অবস্থানে বসানো। আর ওদের স্বার্থ হাস্যকর ভারতীয় জাতীয়তাবাদ কেন্দ্রিক।
৬৪|
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩৫
বিবর্তনবাদী বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা আপনি বলছেন: মুসলিম লীগ ভাবাপন্ন অধ্যাপক- আবদুর রাজ্জাক- যে কাজটি করেছেন বা যে প্রশ্নটি তুলেছেন- সেই একই প্রশ্ন তুলেছিলেন- পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকরা- উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে চাপিয়ে দেয়ার সময়- তারা এসব কথা বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো- বাংলা ভাষা হিন্দুর ভাষা- এটি আমরা অগ্রাহ্য করেই ৫২ তৈরি করেছিলাম।
এবং একই ধরণের ধারণা পোষণ করতেন- সেই বৃটিশ ভারতের সম্ভ্রান্ত মুসলমানরা!!- বাংলা হলো হিন্দুর ভাষা!!!!!!!!!!!
অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সম্পর্কে যেভাবে আপনি মন্তব্য তুলে ধরলেন সেটা বড়ই আপত্তিকর আমি অধ্যাপক রাজ্জাকের যে মন্তব্যটি তুলে ধরেছি, তাতে বিন্দুমাত্রও প্রকাশ হয় না তিনি বলতে চেয়েছেন বাংলাহিন্দুর ভাষা। তিনি বলতে চেয়েছেন, বাংলা সাহিত্যের পূর্বের যে রূপ তাতে মুসলমানের সমাজ জীবন খুবই কম প্রতিফলিত হয়। যা মূলত বেশি প্রতিফলিত হওয়া উচিত। কারন এ জনপদে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ট ফলে বাংলা ভাষায় মুসলমানদের তাদের যথার্থ অবদান রাখা উচিত।
বিদ্র: আমাদের ১৯৬৬ এর ছয় দফা প্রস্তাবে যে কয়জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকের অবদান আছে অধ্যাপক রাজ্জাক তাদের অন্যতম। একসময়, আউয়ুব সরকার তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরি হতে অব্যহতি দেয়। অভিযোগ সাজায়, “পাঠদানে অমোনযোগীতা”, কিন্তু আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি স্বপদে বহাল হন। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী শাসকগোস্টি অধ্যাপক রাজ্জাকের অনুপস্থিতিতে তাকে ১৪ বৎসরের কারাদন্ড দেয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় অধ্যাপক পদ চালু করবার পর প্রথম তিনজন অধ্যাপককে জাতীয় অধ্যাপক পদে ভূষিত করেন। তারা হলেন কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুর রাজ্জাক ও জয়নুল আবেদীন।
৬৫|
০৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:২৪
নাদান বলেছেন: এইভাবে একজন বন্ধুকে হারাবো ভাবিনি। অনুরোধ করছি একবারে ছেড়ে চলে না যাবার জন্য।
৬৬|
২৩ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২১
আবূসামীহা বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ এ লিখাটির জন্য। দেরীতে হলেও পড়লাম।
আপনি যে সাহস করে লিখেছেন এটিই এখন এক বিরাট ব্যাপার। কারন এ ব্যাপারে কথা বললেই এখন সাম্প্রদায়হিক আখ্যা পেতে হয় যেমন কয়েকজন সে চেষ্টা করেছেনও।
২৩ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৭
বিবর্তনবাদী বলেছেন: ধন্যবাদ। অনেকদিন পরে পুরোনো পোস্ট কেউ পড়লে ভাল লাগে
৬৭|
১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৪৯
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: আলোচনাগুলো মিস করেছি। খেয়াল থাকলো....যে কোন সময়ে কাজে লাগাবো।
৬৮|
২২ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:০৫
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন: +। চমৎকার পোষ্টের জন্য বিবর্তনবাদী ভাইকে ধন্যবাদ। সরাসরি প্রিয়তে নিলাম।
৬৯|
২৩ শে মে, ২০০৯ রাত ১২:৫১
কেল্টূ দা বলেছেন: হুমম পড়ুম্নে আপাতত কমেন রাইখা গেলাম
৭০|
২৩ শে মে, ২০০৯ রাত ১:০২
আকাশ অম্বর বলেছেন:
হুম......আপনাকে ধন্যবাদ ভ্রাতা। সাথে সাথে নাস্তিকের ধর্মকথা আর দিগন্তকেও।
গুরুত্বসহকারে পড়িয়া লইবো।
৭১|
২৩ শে মে, ২০০৯ রাত ১:১৬
ধীবর বলেছেন: এতো সুন্দর ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, ও সভ্য তর্ক বিতর্ক, এই ব্লগে আগে দেখিনি। যদিও নাস্তিকতার ধর্ম কথা ভাইয়ের সাথে অনেক কিছুতেই সহমত নই, তবুও সুন্দরভাবে জবাব দেবার জন্য আন্তরিক শ্রদ্ধাবোধ জানাচ্ছি।
আমাদের ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত অনেক বিষয়কেই কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে উৎসাহিত করা হয়। এ জন্য দায়ি আমাদের বুদ্ধিজীবিরা। যাদের নামের সাথে জ্ঞানের পার্থক্যটা সুস্পস্ট। তাই নিজেদের দৈন্যতা লুকাতে এরা ইতিহাসকে জ্ঞানেচ্ছুক মানুষদের কাছ থেকে আড়ালে রাখতেই বেশি উৎসাহ বোধ করে। বিবর্তনবাদি ভাইকে, এমনই একটি ইস্যু সামনে তুলে এনে, মুলত সেই নাম সর্বস্ব বুদ্ধিজীবিদের ঘা মেরেছেন। যার প্রয়োজন ছিল। তাই শুধু ধন্যবাদ নয়, অশেষ কৃতজ্ঞতাও প্রাপ্য তার।
কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরও ঢা বি বিরোধিতা, সত্যি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
৭২|
২৬ শে অক্টোবর, ২০১২ দুপুর ১:০৪
সাইফুল আল খান বলেছেন: যদিও অনেক লেট এ লেখাটা পড়লাম তারপরও লেখককে ধন্যবাদ এমন সুন্দর লেখার জন্য।লেখায় ++++
৭৩|
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৮:৪১
ইরফান আহমেদ বর্ষণ বলেছেন: অনেক কিছু জানতে পারলাম ...... ++++++++++
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩২
দিগন্ত বলেছেন: আপনার লেখা খুব সুন্দর হয়েছে। কিন্তু আমি কয়েকটা বিষয়ে একমত হচ্ছি না। সেটা হল -
"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় গড়ে উঠেছিল একটা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী, যারা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবিত্ত শ্রেনীর নিকট গন্য হয়েছিল প্রতিপক্ষ স্বরুপ। এই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে দাড়াবার সাহসের অভাবে কলকাতার বাবুরা আলাদা থাকাকেই শ্রেয় মনে করলেন। " -
আপনি নিজেই আগে বলেছেন প্রথম ২০-২৫ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত হিন্দুরাই পড়ত, আমার ধারণা সে সময়ের অধিকাংশ স্নাতককে এখন পশ্চিমবঙ্গেই দেখা যাবে। তারা কি ভাবে কলকাতার বাবুদের প্রতিপক্ষ হল? তারা তো উলটে ১৯৪৭ এর আগে থেকেই লাইন দিয়েছিল কোলকাতায় পাড়ি জমাবার জন্য। আমার ধারণা গণতন্ত্রের ভয়ে পশ্চিমবঙ্গ স্বাধীন বাংলা চায়নি। কারণ স্বাধীন বাংলা হলে মুসলিম লিগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত এবং সেটা উচ্চবর্ণের হিন্দুরা চায় নি।
যাহোক, আপনাকে কথা প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, এখানে পূর্ববঙ্গ থেকে আগত প্রায় সবাই মনে করেন এই স্বাধীন বাংলা হলেই বাঙালীদের সবথেকে ভাল হত। পূর্বকেও পাকিস্তানের সাথে যেতে হত না, পশ্চিমকেও হিন্দি শিখতে হত না।
"পশ্চিম আমাদের পূর্ব বাংলাকে শোষণ করেছে। " - এটা আপনি নিজেই পশ্চিমের মধ্যে কোলকাতা-কেন্দ্রিকতা কে তুলে ধরেছেন। আমি আপনার সাথে একমত নই এ বিষয়ে কারণ আপনি কোলকাতার বাইরে পশ্চিমের আর কোনো রেফারেন্স দিতে পারেন ন শোষণের। আমার মত হল কোলকাতা সারা বাংলাকে শোষণ করেছে। আর এই শোষণের প্যাটার্ন তো তৃতীয় বিশ্বে সর্বত্র একই। রাজধানী শহর তো গ্রামকে শোষণ করেই বেঁচে থাকে। অগণতান্ত্রিক একটা সমাজে এটা হবারই ছিল - জোর যার মুলুক তার।