| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কীটনাশকঃ একজন ফুল মিয়ার আত্মহনন
অণুকাব্য
কতদিন ধরে দানা নাহি ঘরে
কেহ নাহি খোঁজ লয়,
এত গুলো মুখ বুক ভরা দুখ
ক্ষুৎপিপাসায় রয়।
মাঠে ধান হয়, দাম কমে রয়,
চালান বুঝিরে যায়,
সার ঘরে বাকি, ভয়ে ভয়ে থাকি
কবে যেন টাকা চায়!
এরই মাঝে রোজা চলে এল সোজা
আমার ফকীরি ঘরে,
পড়শিরা যত রকমারি কত
ইফতারি রোজ করে।
পেঁয়াজু বেগুনী খেজুর বিরানী
কত রকমের পদ
সুঘ্রাণ ছুটে ঘরে এসে জোটে
নিত্য নতুন আপদ।
নাহি কানাকড়ি, ছুটে পড়িমড়ি
ঘুরেছি এদ্বার ওদ্বার;
হাজার খানেক যদি কোন নেক
বান্দা দিতরে ধার!
প্রতিদিন মোর যেন ঘনঘোর
অভাবের অমানিশা
শধু হাহাকার বাড়িছে আমার
পাইনা রে কোন দিশা।
ছেলেপেলেগুলি সারা গায়ে ধূলি
ঈদ আসিতেছে বলে
নতুন জামার করে আবদার;
হৃদয়ে আগুন জ্বলে।
চাপা দুখ বুকে থাকি হাসিমুখে
কেহ নাহি দেখে ব্যাথা;
বাঁচিবার আশা যেন দুরাশা
হতাশা গ্লানিতে গাঁথা।
কেন যে বিধাতা ধন-মান দাতা
গরীব করিল মোরে
ভাবি বারেবারে শাপ করি তারে
দুঃখ যাতনা ঘোরে।
আর পারিনা রে, তুলে নাও মোরে
দয়াময় রহমান।
গরীব গুরাবা রাখিবে যদিবা
অন্ন করিতে দান !
ভাতের কষ্ট করে আড়ষ্ট
পরিবার পরিজনে;
পেটপুরে খায় তবু নাহি চায়
ধনীরা গরীবজনে।
অভিমান ভরে ঢকঢক করে
গরল গিলিয়া তাই
বিধাতার কানে বলে দিনু; জানে
বাঁচিবার সাধ নাই !
চলুন অন্যের জন্য খরচের হাত প্রসারিত করি, নিজের প্রয়োজনে একটু লাগাম লাগাই, ফুল মিয়াদের বাঁচাই...
©somewhere in net ltd.