| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আন্তর্জাতিক ঘটনা নিয়ে আমার এতো চিন্তা কোন কালেই ছিল না। আমেরিকান বা ইসরায়েল আগ্রাসনের পক্ষে আমি কোন দিন ছিলাম না। এখনও নেই। তবে সত্যি এই পৃথিবীটা এই রকমই। জোর যার মুল্লুক তার। তোমার ক্ষমতা আছে, যা ইচ্ছে তাই করতে পারো। তোমার ক্ষমতা নেই, চুপ করে সহ্য করো। এই কারণে এসব দেখেও না দেখার ভান করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। সত্যিই নেই।
কিন্তু গত জানুয়ারিতে যখন ইরানে প্রোটেস্ট শুরু হল, খামেনি রেজিম ইন্টারেট বন্ধ করে, কী রকম ভাবে তার নিজের দেশের মানুষকে হত্যা করতে লাগল তখন মনের ভেতরে সেই একটা অস্থির ভাব এসে জড় হয়েছিল আমার। জুলাইয়ে যখন এমনটা নিজের দেশে শুরু হয়েছিল তখন এমন অস্থিরতা মনের ভেতরে ছিল। ইরানীদের জন্য অনুভূতিটা এতোটা তীব্র না হলেও অশান্তি ছিল খুব। কিছুতেই যেন শান্তি পাচ্ছিলাম না। আমি কয়েকটা দিন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমি তখন খুব করে চেয়েছিলাম ট্রাম্প যেন হামলা করে ইরানে। সত্যিই চেয়েছিলাম। তারপর খামেনি রেজিম কিভাবে সাধারণ ইরানীদের উপর হামলা করেছে তার ভিডিও যেটুকু সামনে এসেছে সেগুলো দেখলে খামেনির শুয়োরের বাচ্চার উপর ক্ষোভ আসা স্বাভাবিক। সেই হামলা এল অবশেষে। আর হাসির ব্যাপার দেখেন, এতো দিন খামেনি আমেরিকাকে হুমকি দিয়ে এসেছে, এই করবো, সেই করবো, আর বাস্তবে দেখা গেল একেবারে প্রথমদিনই পটল তুলল।
আপনি যদি ইরানীদের ৫০০ বছরের ইতিহাস দেখেন তবে দেখবেন মিডিলইস্ট দেশগুলোর ভেতরে সব থেকে রিচ কালচারের ছিল এই ইরানের। শিল্প সংস্কৃতি সব কিছুর দিক দিয়ে তারা ছিল এগিয়ে। কিন্তু যখন খোমিনি ক্ষমতা দখল করলো সেই সব কালচার ধ্বংশ করে কেবল এক কালচার কনভার্ট করলো। সবাইকে এক কালচার মানতে বাধ্য করা হল। সবার আগে বন্দী করা হল মেয়েদের। অন্য জাতিগোষ্ঠীদের কোন ঠাসা করেছে। ভিন্ন মতাধর্মিদের খুন করেছে জেলে বন্দী করেছে। খামেনির চাপিয়ে নীতি যেই মানতে চায় নি তার উপরেই নেমে এসেছে নির্যাতন মৃত্যু। এর থেকে বড় ভুক্তভোগি হয়েছে মেয়েরা। খামেনি মরার পর একটা ভিডিও দেখতে পেলাম, যেখানে একজন মেয়ে তার জানালা থেকে ভিডিও করে দেখাচ্ছে যে মিশাইল হিট করেছে খামেনির প্রাসাদে এবং তার কন্ঠে যে উচ্ছাস প্রকাশ পাচ্ছিল সেটা বলে বোঝানোর মত না। এই করম হাজার হাজার ভিডিও আপনি ইন্টানেটে দেখতে পাবেন এই কদিনে। সবাই খামেনির মৃত্যুতে আনন্দ করছে। এরা কিন্তু সবাই ইরানী। কেউ দেশের ভেতরে আবার কেউ বাইরে। আমি জানি না যে ইরানের ভাগ্য আসলেই পরিবর্তন হবে কিনা তবে খামেনি শুয়েরের বাচ্চা কুকুরের মত মরেছে এটাই সব থেকে বড় ব্যাপার। এই জল্লাদ কেবল একটা মরে নি বউ মেয়ে মেয়ে জামাি নাতনি সব মরেছে! গত জানুয়ারিতে মাত্র দুইদিনের ভেতরে খামেনি রেজিম ৩৬ হাজার বিক্ষোভকারীদের হত্যা করেছে। আপনি ব্যাপারটা একবার কল্পনা করে দেখেন। প্রতিটা বাড়িবাড়ি গিয়ে তারা বিক্ষোভকারীদের খুজে হত্যা করেছে। এবার পাশা উল্টেছে। এবার অত্যাচারিদের উপর হামলা হচ্ছে! এদের জন্য বিন্দু মাত্র সহানুভূতি নেই। খামেনি রেজিম এবং এর সমর্থনকারী প্রত্যেকটার উপর যেন বোম এসে পড়ে। রাস্তায় যেন কুকুররের মত মরে এরা। ৪৭ বছর ধরে এরা অত্যাচার করে এসেছে, নয়তো অত্যাচারের সমর্থন করেছে, এদের কপালে এটাই যেন থাকে।
অনেকেই হয়তো বললেন এই রকম ভাবে একটা স্বাধীনদের উপর অন্য দেশের হামলা আমি কিভাবে সমর্থন করছি! আমার মতে, প্রত্যেকটা স্বৈরশাসক অত্যাচারির ভাগ্য ঠিক একই রকম পরিনতি হওয়া উচিৎ। ইরানের কাছে এটাই হচ্ছে লাস্ট অপশন। হাজার হাজার ইরানীরা এটা চেয়েছে। এটা ছাড়া খামেনির মত স্বৈরশাসককে উপড়ে ফেলা সম্ভব ছিল না। আর স্বৈরশাসক আর অত্যাচারি শাসকদের উপড়ে ফেলার জন্য যে কোন উপায়ে আমার সমর্থন রয়েছে।
ট্রাম্পকে আবারও ধন্যবাদ দেই। মানুষ যত খারাপই হোক সেই কোন না কোন, জীবনে সে কোন না কোন ভাল কাজ ঠিকই করে। শেখ হাসিনাকে আমরা যতই অপছন্দ করি না কেন সে অনেক ভাল করেছে, এই কথা অস্বীকার করতে পারবে না কেউ। আমেরিকান প্রেসিডেন্টরা জীবনে অনেক খারাপ কাজ করেছে, ট্রাম্পও জীবনে অনেক খারাপ কাজ করেছে। ট্রাম্প যদি জীবনে একটা ভাল করে থাকে তা হচ্ছে এই পা্র্সিয়াল হিটলারকে খুন করে।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২১
অপু তানভীর বলেছেন: এটাই সত্য কথা। কোন স্বৈরশাসকের শেষ সময় ভাল হয় না, তা সে যেই হোক না কেন! এই পরিনতি সব স্বৈরশাসকের কপালেই লেখা রয়েছে।
২|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৪৬
ডার্ক ম্যান বলেছেন: ট্রাম্প কেন বার্মার জল্লাদ হত্যা করতে পারে না?
ট্রাম্পের বড় সাফল্য ২০২০ সালের শুরুতে কাসেম সোলাইমানীকে এলিমিনেট করা। এরপর থেকে ইরানের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক দুর্বল হতে শুরু করে।
হিজাব না করার জন্য কাউকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের মোল্লারা ক্ষমতায় আসলে ডাবল খামেনী হয়ে উঠবে
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২
অপু তানভীর বলেছেন: চাইলের পারে!
বাংলাদেশের মোল্লাদের এই জন্যই পছন্দের দেশ ইরান আফগানিস্তান পাকিস্তান!
৩|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫৩
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: পোস্টের নিচে এই ডিজে গান টা এড করে দিলে ভালো হাইতো।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২৩
অপু তানভীর বলেছেন: গানটা এড করে দিলে ভাল করতাম। আমি গানটা শুনেছি ইনস্টাগ্রাম থেকে। আপনি ইউটিউব লিংক দিয়ে ভাল করেছেন।
৪|
০৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: খামেনি রেজিম কে শেষ করতে যদি আমেরিকা-ইসরায়েল পাচ লাখ সাধারণ মানুষ মারে তখনো কি support করবেন ? ![]()
০৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:১৩
অপু তানভীর বলেছেন: খামেনি রেজিম সাপোর্টার যদি সত্যিই আমার কোন আপত্তি নেই। যে মনে জল্লাদ খামেনি ভাল সে মরুক বাচুক কী যায় আসে!
আর খামেনি বিরোধীরা এমনিই মরবে যদি রেজিম টিকে যায়!
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৪
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: কোন স্বৈরশাসকের শেষ সময়টা ভালো হয় না। এক সময়ের সমৃদ্ধশালী ইরানকে এই খামোনি সরকার রীতিমত ধ্বংস করে দিয়েছে। ইরান নিজ দেশের চেয়ে সবচেয়ে বেশী হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে সিরিয়ায়, বাশার-আল-আসাদকে ক্ষমতায় রাখার জন্য বছরের পর বছর ধরে নিষ্ঠুরভাবে আন্দোলন দমন করেছে, কয়েক লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে সিরিয়ায়।
ইরানের উত্থান সমগ্র সুন্নী মুসলিমদের জন্য ভয়ঙ্কর হবে আর সাধারণ মানুষের জন্য তো আরও ভয়ঙ্কর; যে কারণে মুসলিম দেশগুলোও আজ ইরানের পাশে নেই।