| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অরিয়ন
সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলুন অথবা মানতে না পারলে দুরে ------।
মহাজোটের মন্ত্রী-এমপিরা নানাভাবে নাজেহাল ও হামলার শিকার হচ্ছেন। অন্যকোনো প্রতিপক্ষ নয়, অনেক সময় সাধারন জনগন অথবা নিজ দলের নেতা-কর্মীরাই মন্ত্রী-এমপিদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছেন। বিভিন্ন মহল আশঙ্কা করছে, ২০১৩ সালে এ ঘটনা বাড়তে পারে। সর্বশেষ গত শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় নৌপরিবহনমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে জুতা বৃষ্টির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে মহাজোটের অন্তত অর্ধডজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নানাভাবে নাজেহাল হয়েছেন। এদের বেশ কয়েকজন বিভিন্ন সময় নিজ এলাকাতেই অবাঞ্ছিত হন। এ ছাড়া সরকারদলীয় বহু এমপির লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এখন অনেকেই আবার এলাকায় যান পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে। নীন্মে যার কিছু তুলে ধরা হলো।
নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান : শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১২ সন্ধ্যা সাতটার দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে (মূল মসজিদের বাইরের পূর্বদিকের অংশে) একটি আন্তর্জাতিক ক্বেরাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অপ্রাসংগিক বক্তব্য রাখলে ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা মন্ত্রীর কথার ব্যাখ্যা দাবি করেন।মন্ত্রী কোনো রকম ব্যাখ্যা না দিয়ে ওই মুসল্লির প্রতি রাগান্বিত হয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিপক্ষে বক্তব্য অব্যাহত রাখলে উপস্থিত মুসল্লিদের অনেকে দাঁড়িয়ে যান এবং সেখানে চরম হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।মন্ত্রী এরই মধ্যে তার বক্তব্য অব্যাহত রাখেন। এই অবস্থায় মুসল্লিরা মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে মুহুর্মূহ জুতা নিক্ষেপ করতে থাকে। সেখানে উপস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজলসহ আয়োজকরা এতে হতভম্ব হয়ে যান।মন্ত্রীসহ অনেকের গায়ে জুতা গিয়ে পড়তে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে মন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোকজন মন্ত্রীকে দ্রুত মঞ্চ থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। এ সময় পিছন থেকে মুসল্লিরা ‘ধর, ধর’ আওয়াজ দিতে থাকে। দ্রুত মন্ত্রীকে গাড়িতে উঠিয়ে দেয়া হয়।এর এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ক্বেরাত প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ইরান, মিশর, মালয়েশিয়া, ব্রুনাইসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ক্বারীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছেন
এদিকে মহাজোট সরকারের চার বছরে শুধু এই নৌপরিবহনমন্ত্রীই নন, নাজেহাল হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি। বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর বাসা-বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অবাঞ্ছিত হয়ে মন্ত্রীদের অনেকেই আবার নিজ এলাকায় দীর্ঘদিন ঢুকতেও পারেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্ষমতায় থাকাকালীন দলের অনেক মন্ত্রীই নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক রাখেননি। নিজ দলীয় নেতা-কর্মীরাও তাদের সাক্ষাৎ পান না। ফলে অনেকেই নিজেদের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিচ্ছিন্ন হামলার শিকার হচ্ছেন। এর মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকেই। দলীয় সভায় অনেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন : ঠাকুরগাঁওয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের বাড়িতে জনতা হামলা চালায়। গত ১৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নকে বিভক্ত করে নতুন করে গেজেট সংশোধন করার প্রতিবাদে এ হামলা ও ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা রাস্তায় কাঠ ও টায়ার জ্বালিয়ে ২ ঘণ্টা বিক্ষোভও করে।
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ : সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হয়েও নিজ এলাকা নরসিংদীতে অবাঞ্ছিত হন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ। দলীয় লোকেরাই মন্ত্রীকে নিজ এলাকায় প্রবেশে বাধা দেয়। দীর্ঘ ১১ মাস এলাকা ছাড়া থাকার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিজ এলাকায় পুলিশি কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করেন তিনি। আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়র লোকমান হত্যার ঘটনাকে ঘিরে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন রাজিউদ্দিন আহম্মেদ রাজু।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন নিজ এলাকায় লাঞ্ছিত হন দলীয় লোকজনের হাতে। অপমান অপদস্থ হয়েছেন সংসদ ভবনে দলীয় এমপিদের কাছে। গত মাসে লালমনিরহাটে আওয়ামী লীগের পাটগ্রাম থানার ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নাজেহাল হন এই প্রতিমন্ত্রী। সম্মেলন চলাকালে দলীয় কর্মীরা চেয়ার ভাঙচুর করে। এ সময় ক্ষুব্ধ কর্মীরা প্রতিমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে চেয়ার, লাঠিসোঁটা ছুড়ে মারে। এ ছাড়া চলতি মাসেই আরও একটি সম্মেলনে অপদস্থ হন প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন।
বহু এমপি হামলার শিকার : বিভিন্ন এলাকার এমপিরা স্থানীয় টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এসব কাজ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন এমপির ভাই, ভাতিজা বা কাছের লোকজন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে সংসদ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের দাপট ও প্রভাবের কারণেও ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা সুযোগ পেলেই বিক্ষোভ, অসন্তোষ সংগঠিত করছেন। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের থেকে দূরে থাকা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে এমপিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
মনিরুল ইসলাম মনি: বর্তমান সরকারের মেয়াদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রথম ২০১০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আক্রমণের শিকার হন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের এমপি মনিরুল ইসলাম মনি।
আফাজউদ্দিন আহম্মেদ : একই বছর ২০১০ সালের ১৪ নভেম্বর নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের এমপি আফাজউদ্দিন আহম্মেদ। তার বাড়িতে বোমা হামলায় তিনজন নিহত হন।
কবরী সরোয়ার : নারায়ণগঞ্জের এমপি কবরী সরোয়ার বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হন। এর মধ্যে গত বছরের ৪ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের পাগলা মুন্সিখোলা এলাকায় তার গাড়িবহরে হামলা চালান আওয়ামী লীগেরই স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ : এ ছাড়া লাঞ্ছিত হন সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির রংপুরের গঙ্গাচরার এমপি, এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ।
ননী গোপাল মণ্ডল : খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডলকে অতিথি না করায় তার হাতে দাকোপ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়ন্তী রানী সরদার লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী সংসদ সদস্যকে লাঞ্ছিত করেন।
নজরুল ইসলাম বাবু : এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর গাড়ি ক্ষতবিক্ষত করে দলীয় ক্যাডাররা।
সানজিদা খানম : ঢাকার এমপি সানজিদা খানমের ওপর হামলা চালান নিজ দলের অন্য পক্ষের নেতা-কর্মীরা।
গিয়াস উদ্দিনে : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের এমপি গিয়াস উদ্দিনের ওপর হামলা করে নির্বাচনী এলাকার লোকজন। এর আগেও বিভিন্ন সময় লাঞ্ছিত হন তিনি। এ সময় তিনি তার লাইসেন্স করা পিস্তল উঁচিয়ে জনগণের উদ্দেশে গুলিও করেন।
হুইপ আবদুল ওহাব : যশোরে হামলার শিকার হন সংসদের হুইপ আবদুল ওহাব। তারসহ কয়েকটি গাড়িতে আগুনও লাগিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা।
ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী : নড়াইলে দলীয় কর্মীদের হাতে নাজেহাল হন এমপি ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী।
এই ঘটনাকে অনেকে উদ্বেগজনক মনে করছেন।বিভিন্ন মহল আশঙ্কা করছে, ২০১৩ সালে এ ঘটনা বাড়তে পারে। দেখ যাক সামনে তাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন ও বিভিন্ন সংবাদ পত্র।
০২ রা জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১৩
অরিয়ন বলেছেন: আমরা ডিজি-টাল হতে যাচ্ছি।
২|
০১ লা জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:১১
নিষ্কর্মা বলেছেন:
তাদেরকে তাদের কৃত অপরাধের সাজা সচেতন মানুষ দিবেই। এ নিয়ে ভাব্বার কিছু নেই। আজেবাজে কাজ করবে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে এর চেয়ে উত্তম প্রতিদান আর কি পেতে পারে তারা??
৩|
০১ লা জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:১৬
অরিয়ন বলেছেন: তাদেরকে কৃত অপরাধের সাজা সচেতন মানুষ দিবেই।
সহমত।
৪|
০১ লা জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৭
মানব১১ বলেছেন: এসব ঘটনা জনসচেনতা ও সৎ সাহসের বহিপ্রকাশ বলে মনে করি। সামনে তাদেরকে আরো চড়ম মুল্য দিতে হবে মনে হয়। মানূষ এখন এতো বোকা না যতটা ক্ষমতাসীনরা মনে করে।
০২ রা জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৩৯
অরিয়ন বলেছেন: মানূষ এখন এতো বোকা না যতটা ক্ষমতাসীনরা মনে করে।
১০০% একমত।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:০৩
বড় ভাইয়া বলেছেন: দেশে কি শুরু হইল, কি হবে কিছুই বুঝতে পারতাছিনা। আমরা যে কোথায় যাচ্ছি!!!!!!!!
View this link