| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
"আজ বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে ১৮ দলের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা প্রত্যেক গ্রাম, উপজেলাকে ‘ফটিকছড়ির মতো সাহসী’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা বলেন, ‘ফটিকছড়ির সংগ্রামী বন্ধুদের সংগ্রামী সালাম জানাই। আগামী দিনে এই সরকারের পতন ইতিহাসে তাঁদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।"
গত ১১ এপ্রিল সকালে দক্ষিণ ফটিকছড়ির আজাদী বাজার থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। মিছিলে ৮০০ মোটরসাইকেল, কার, জিপ, মাইক্রোবাস, পিকআপ, মিনি ট্রাকসহ মোট ৮২৫টি গাড়ি ছিল। মিছিলটি ধর্মপুর, নানুপুর, লেলাং, রাঙামাটিয়া, ফটিকছড়ি সদর, বিবিরহাট ও পাইন্দং এলাকা অতিক্রম করে ভুজপুর যায়।
মিছিলটি আবার উপজেলা সদরে যাওয়ার পথে ভুজপুর ন্যাশনাল স্কুলের সামনের সড়কে বড় বড় গাছের গুঁড়ি ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। এ সময় দুই শতাধিক দুর্বৃত্ত মিছিলে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, দা, কিরিচ, রড, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা শুরু করে। হরতালবিরোধী মিছিলের পেছন থেকে এবং সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড়ে ওত পেতে থাকা আরও কয়েক শ সন্ত্রাসী ঝটিকা আক্রমণ শুরু করে।
ভুজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জামায়াতের নেতা শফিউল আলম নূরী নিজের নাম উল্লেখ করে স্থানীয় কাজিরহাট মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা করেন, ‘মাদ্রাসার বড় হুজুরকে আওয়ামী লীগের গুন্ডারা মেরে ফেলেছে। সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আজাদকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে এবং মসজিদ ভেঙে দিয়েছে। আপনারা এদের সশস্ত্রভাবে প্রতিহত করুন।’ তাঁর আহ্বানে আশপাশের আরও ১০/১২টি মসজিদ থেকেও একই ঘোষণা প্রচার করা হয়। এ ঘোষণার পর বিভিন্ন গ্রাম থেকে নারী-পুরুষ এসে মিছিলে বেপরোয়া আক্রমণ শুরু করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই হামলায় তিনজন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। ছয়জন ঘটনার পর থেকে এখনো হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় আছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জন চিরতরে পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন। এ ঘটনায় ২৩০টি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ আছে আরও ১৬০টি মোটরসাইকেল। তিনটি কার, একটি মাইক্রোবাস, তিনটি জিপ, আটটি ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলোর আনুমানিক দাম ১০ কোটি টাকা। দুর্বৃত্তরা ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের গাড়িটিও পুড়িয়ে দেয়।
©somewhere in net ltd.