| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কালো পায়রা
বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র, নানানভাবে নতুন জিনিষ শিখেছি দিবারাত্র
'"অটলবিহারী বাজপেয়ী যখন প্রধানমন্ত্রী, তখন বেশ কয়েক বছর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি কৃষ্ণা বোস।
সাবেক এই প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান অবশ্য মনে করেন, বাজপেয়ীর আমলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বেশ কিছু 'ঘটনা' হয়তো ঘটেছে - কিন্তু তিনি দু'দেশের সম্পর্কে কখনও তিক্ততা আনতে দেননি।
মিস বোস বিবিসিকে বলছিলেন, "আমি মনে করি বাজপেয়ী এটা উপলব্ধি করেছিলেন ভারত তার দুদিকে দুটো শত্রু রাষ্ট্র নিয়ে কিছুতেই শান্তিতে থাকতে পারবে না। পশ্চিমে পাকিস্তানের পর পূর্বে বাংলাদেশও যদি ভারতের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব দেখায় সেটা কিছুতেই ভাল হতে পারে না। সে কারণেই তিনি বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ রকম নরম ছিলেন।"
বস্তুত রৌমারী-পদুয়া সীমান্তে ভারতের ১৬ জন বিএসএফ জওয়ান নিহত হওয়ার পরও ভারত যে কোনও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়নি, এটাকেও অনেকে বাজপেয়ীর সেই 'সংযমে'র প্রমাণ বলেই মনে করেন।"
কথাগুলো আমার নয়, বিবিসির। এটা এমন সময় আসলো, যখন অটল বিহারী বাজপেয়ী মারা গেছেন। তিনি ভারতের একজন বিরাট মাপের নেতা ছিলেন। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে একের পর এক কোয়ালিশন সরকার আর ছোট দলের প্রধানমন্ত্রীদের আমলে ভারত যখন ধুঁকছিলো, তখন তিনি প্রাথমিক বাঁধা মাড়িয়ে ভারতে ফের শক্তিশালী সরকার প্রতিষ্ঠার ধারা শুরু করেন, যা আজো চলমান।
বাজপেয়ীর আমলে ভারত পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা করে। পাকিস্তানের সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধেও দেশটি লিপ্ত হয়। বিবিসির ভাষ্যে সেই বাজপেয়ীর অন্যতম একটি সাফল্য হচ্ছে ২০০১ সালের পদুয়া-রৌমারীর যুদ্ধে বড় মাপের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েও বাংলাদেশের সাথে লাগতে না যাওয়া। এরই সূত্রে বিবিসি ভাষ্যে প্রতীয়মান হয়, চিরায়তভাবে ভারতের মূল আশংকা আসলে একটি সম্ভাব্য বৈরী বাংলাদেশ এবং ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে সম্ভাব্য মৈত্রী। আর তা ঠেকাতে বাজপেয়ী কিল খেয়ে কিল হজম করেছেন, যাকে তাঁর একটি সফলতা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে!

©somewhere in net ltd.