| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মানুষের জীবন খুব কষ্টের। এই জীবনে কেউ সুখী হয় আবার কেউ নয়! বই পড়ার চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি শিক্ষণীয়! একটা বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞিত বিভীষিকাময় ঘটনা, যা অহৃষ্ট হয়ে মনে দাগ কেটে থাকে,তেমনি একটি ঘটনা তুলে ধরছি!
গত আগষ্ট মাসে গিয়েছিলাম সিলেটের কুলাউড়া এলাকার কোন এক প্রত্যন্ত অঞ্চল মোগলাবাজার জুড়ি চা বাগান এলাকায়! সে এলাকার মানুষ গুলো একটু ভিন্ন যেনন অস্থায়ী এবং ভাষা মাদ্রাজি! ঐ এলাকায় গিয়ে হৃদয়ে অনুভব করেছি এক বিভীষিকাময় কষ্টের অনুভূতি! অনেক পরিবারের সাথে কথা বলেছি! তাদের একটি স্বচ্ছল পরিবারের জীবনেতিবৃত্ত তুলে ধরছি!
ঐ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৩ জন। এই পরিবারটি এসেছে ভারতের কাশ্মীর থেকে, শুধু মাত্র জীবিকার জন্য। ঐ পরিবারের কর্তার নাম হোসেন, উনার স্ত্রীর নাম কামিলী এবং তাদের একটি পুত্রসন্তান হোসাইন। কামিলী চা বাগানে কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণ করে আর হোসেন ঘর বাড়ি দেখাশুনা করে। হোসাইন এর বয়স ৫ বছর, সে বিদ্যালয়ে যেতে চায়, কিন্তু আর্থিকভাবে যেতে পারে না। সে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাঠ কুড়ায়। কামিলী সকাল ৮ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত চা বাগানে চা পাতা তুলে, তার দৈনিক মজুরী ৬৯ টাকা! এই টাকা দিয়ে পুরো পরিবার একদিন ভরণপোষণ করে,এই জীবন যে কি পরিমাণ দুর্বিনয়, দুর্বিষহ না দেখলে কেউ বুঝবে না! তাদের স্বপ্ন তাদের ছেলেকে শিক্ষিত করবে, ছেলেকে প্রথম দিন বিদ্যালয়ে পাঠায়, ছেলে এসে বলে বাবা বই, খাতা, কলম কিনতে হবে পকেটে হাত দিয়ে দেখে ২ টাকা আছে! তখন যে কি ধরনের নির্ভাবিত কষ্টের সৃষ্টি হয় তা যে খুব বেদনাময়! তাদের স্বপ্ন অপূর্ণ হয়েই থাকে। পৃথিবী আজ প্রীতিহীন,মমতাহীন, মনুষ্যত্বহীন। এই পৃথিবী আজ অদ্ভুত ধরনের আধারে নিমজ্জিত।
সব চ্যানেল, পত্রিকা, বই কত সুন্দর ভাবে চা বাগানের কাহিনী কত না বিচিত্র রঙ্গমঞ্চে তুলে ধরে! কত সুন্দর মেয়ে রা চা বাগানে চা তুলে! সবাই তো এটাই দেখে কিন্তু কখনো কি কেউ জানতে চেয়েছে তারা কি ধরনের জীবনযাপন করছে? কেউ না!
কিন্তু তাদের জীবনের পর্যাস এর বিভিন্ন মুহূর্ত কেউ তুলে ধরে না!
কি করবে তারা?
আচ্ছা যাই হোক! আমি তো একটি স্বচ্ছল পরিবার সম্মুখে তুলে ধরেছি। তাহলে অসচ্ছল পরিবার গুলোর কি অবস্থা? এটা কি কারো জানতে ইচ্ছে করে না!
কেউ যদি উৎসুক থাকে সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চা বাগান গুলোতে ঘুরে আসবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে।
পিয়াল বড়ুয়া।
২|
১৮ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:০৫
প্রডিজিয়াস বলেছেন: ঠিক বলেছেন! কিন্তু তারা যা অস্থায়ী! একমাত্র চা বাগানের মালিকরা পারে এটা ঠিক করতে!
৩|
১৯ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ২:৪৮
আমিনুর রহমান বলেছেন:
শুধু চা বাগান নয় আসলে দেশে সব সেক্টরের শ্রমিকরাই নির্যাতিত।
৪|
১৯ শে অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১১:২১
প্রডিজিয়াস বলেছেন: সে কি আর বলতে! কিছুই করতে পারবেন না! সময়কে কাজে লাগাতে হবে!
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৫
চাঁদগাজী বলেছেন:
চা বাগানের সব শ্রমিকের ও তাদের শিশুদের ভার সরকারে নেয়া উচিত।