নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লেখালেখি একটা নেশার মত। বিভিন্ন ঘাট পেরিয়ে কর্পোরেট জগতে থিতু হওয়ার পরও তাই লিখে যাই যা মনে আসে তাই। পদ্মার ওপাড়ের মানুষ হওয়ায় জন্মগতভাবেই স্মৃতিকাতর। এ আমার দুর্বলতা নয়, অহংকার

পদ্ম পুকুর

একজন শভেনিস্ট ও স্মৃতিকাতর মানুষ

পদ্ম পুকুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

এই শহরে পাখিরা বাঁচতে চায়

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৩:৩০



০১
অফিসে যাওয়ার যোগাড়যন্ত্র করছি, বারান্দা থেকে রুমির গলা শোনা যাচ্ছে- এই, যাঃ যাঃ, বারান্দা নোংরা করবি না....। আমি আগ্রহ বোধ করলাম; রুমি কার সাথে কথা বলছে? বারান্দায় উঁকি দিয়ে দেখি এলাহি কারবার! বারান্দাময় ঘাস-পাতা-লতা ছড়ানো এবং সেগুলো নিয়ে একজোড়া চড়ুই ব্যাপক আনন্দে উত্থাল-পাতাল করছে।

বুঝতে পারলাম এই চড়ুই দম্পতি ঘর বাঁধতে চলেছে আমার বারান্দায়। এটা আমার জন্য নতুন কিছু না। কোনো এক অদ্ভুত কারণে ঢাকা শহরে যে কয়টি বাসায় আমি ছিলাম, সবগুলোতেই পাখি এসে বাসা করেছিলো। এগুলোর মধ্যে চড়ুই, দোয়েল, বুলবুলি, এমনকি শালিকও ছিলো।

আমার আগের বাসাতে বারান্দায় আমি মাটির ব্যাংক টানিয়ে দিয়েছিলাম; নতুন নতুন দোয়েল দম্পতি ওটা ভাড়া নিতো মাসখানেকের জন্য। তারপর সংসার করে ডিম-বাচ্চা ফুটিয়ে ভাড়াটাড়া পরিশোধ করে চলে যেতো। কিছুদিন পর আবার নতুন একজোড়া আসতো। এরপর আবার আরেক জোড়া। হয়তো দোয়েল সমাজে রুমি আর আমার একটা গুড রেপুটেশন (!!) ছড়িয়ে পড়েছিলো যে এরা ভালো আছে; পাখিদের ডিস্টার্ব করেনা। ব্যাপারটা আমার ভালোই লাগতো। উপরন্তু বেডরুমের সাথের বারান্দা হওয়ায় ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে দোয়েলের গান বেশ গ্রাম গ্রাম একটা আবেশ ছড়িয়ে দিতো।

ইদানিং পাখির জন্য বানানো মাটির বাসা কিনতে পাওয়া যায় দোকানে। মাস দুয়েক আগে আমার নতুন এই বাসায় ওঠার পর একবার ভেবেছিলাম ওরকম কয়েকটা মাটির বাসা এনে বারান্দায় টানিয়ে দেবো। কিন্তু এই বাসার বারান্দাটা এতই সুন্দর যে সে চিন্তা অগত্যা বাদ দিতে হয়েছিলো; পাখিগুলো বারান্দা বড্ড নোংরা করে। সে চিন্তা আমি বাদ দিলেও পাখিরা নিশ্চয় বাদ দেয়নি। ফলে যথাসময়ে খুঁজে খুঁজে ঠিকই আমার বারান্দায় এসে উপস্থিত!

কিন্তু এখন এই চড়ুই বাসাটা বাঁধলো কোথায়? বারান্দায়তো কোনো খাঁদ-খাঁজ বা ছিদ্র কিছুই নেই। খুঁজতে খুঁজতে দেখি- করোনার কারণে এখন অফিস থেকে ফিরে প্যান্ট-শার্ট বারান্দায় হ্যাঙারে ঝুলিয়ে রাখি, একদিন বিরতি দিয়ে ওটা আবার পরি; সেই হ্যাঙারে ঝুলে থাকা আমার জিন্স প্যান্টের মধ্যে তৈরী হওয়া কিঞ্চিত খাঁজের ভেতরেই কুটো-লতা-পাতা-ঘাস দিয়ে বাসা বানানোর চেষ্টা করছে...!!!

আমার মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। আহারে, বেচারাদের বোধহয় ডিম পাড়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে কিন্তু এই পোড়া শহরে একটু বাসা বাঁধার যায়গাটুকুও মিলছে না। অগত্যা একদিনের জন্য ঝুলে থাকা প্যান্টের ভেতরেই বাসা তৈরীর কাজ শুরু করে দিয়েছে।

আমি দ্রুতই একটা হার্ড কাগজের বাক্স নিয়ে বারান্দায় গ্রিলের সাথে বেঁধে লতাপাতাগুলো ওখানে দিয়ে প্যান্টটা সরিয়ে নিলাম। একটু টেনশনে অবশ্য ছিলাম যে পাখিগুলো কি ওখানে যাবে? বাসা থেকে বের হওয়ার আগে একবার উঁকি দিয়ে দেখলাম বাক্সের ভেতর থেকে ফুরুৎ করে একটা চড়ুই বের হয়ে ডানা মেললো। আমিও মনে আনন্দ নিয়ে অফিসের দিকে চললাম।


০২
একটা নগর বা জনপদের অনুষঙ্গ শুধু মানুষ বা শিল্প-কলকারখানা, আকাশ ছোঁয়া ভবন বা দ্রুতগামী শকটরাজী নয়; বরং জনপদে আমাদের বেঁচে থাকার অংশীদার হয় নির্মল প্রকৃতি, জলাধার, সবুজ বৃক্ষরাজী, আমাদের আশেপাশেই থাকা প্রাণীজগত এবং অতি অবশ্যই এই পক্ষীকুল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে আমরা নিজেদের জীবন বাঁচাতে, না; বরং বলা ভালো নিজেদের জীবন বাঁচানোর বাহানায় এসবকিছুকে ধ্বংস করে ফেলছি নির্দ্বিধায়। বুঝতেও পারছি না যে এসব ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে আমরা আসলে নিজেদের ধ্বংসকেই তরাণ্বিত করছি মাত্র।

এই ধ্বংসের প্রক্রিয়ায় আমরা কি পরিমাণ নৃশংস-নির্মম হতে পারি, তা ডয়েচেভেলের একটা প্রতিবেদনে দেখা যায়। ডয়েচেভেলে বলছে- সম্প্রতি একটি খবর খুব আলোড়ন তুলেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেই খবরে জানা যায়, শিকারীরা পাখি ধরার পর চোখ অন্ধ করে দিচ্ছে। পাখি ধরার পর চোখ অন্ধ করে দেয়ার কারণ, পাখি আর উড়ে পালিয়ে যেতে পারবে না। দৃষ্টশক্তি না থাকলে পাখি ক্রেতাতের ঠোকর বা আঘাতও করতে পারে না এবং যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে, তাহলে ওই পাখি অবমুক্ত করতে পারে না। বাধ্য হয়ে পাখি অবমুক্ত না করেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে চলে যেতে হয়। পাখির প্রতি কী ভয়াবহ এই মির্মমতা! সাধারণত শামুকখোলসহ বড় আকারের পাখি শিকারে এই নির্মম পদ্ধতি ব্যবহার করে শিকারীরা।

বলা হয়ে থাকে একটি দেশের মানুষ কতটা পরিবেশবান্ধব, কতটা মানবিক, তা বোঝা যায় সেই দেশে কত পাখি আছে, পাখিরা কেমন আছে, তা দেখে। পাখি হলো প্রকৃতির অলঙ্কার। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী। পাখি প্রকৃতি ও মানুষের বন্ধু। পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে যে জনপদের মানুষের, তারা সত্যিই ভাগ্যবান।

কিন্তু প্রকৃতিগতভাবে মুফতে সে ভাগ্যে ভাগ্যবান হয়েও কেবল খাছলতের কারণে আমরা তা হারাচ্ছি বেকুবীর চুড়ান্ত পারাকাষ্ঠা দেখিয়ে। উইকিপিডিয়া বলছে- বাংলাদেশে ৮০৯ প্রজাতির পাখি আছে যার মধ্যে ৫১টি আবার বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভূক্ত। ২৯টি প্রজাতি ইতোমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে দেশ থেকে। আর ঢাকায়তো আছেই বোধ হয় ২৯ প্রজাতির পাখি!

শহরে পর্যাপ্ত খাবার না থাকাটাই ঢাকা থেকে পাখি কমার কারণ বলে আমার ধারণা ছিলো, কিন্তু আমার সে ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে প্রথম আলোর একটা প্রতিবেদন বলছে- ঢাকা শহরে কিছু পাখির জন্য বেশ ভালো খাবার আছে। কিন্তু বাসা বানানোর জায়গা নেই। থাকবে কিভাবে? যেনতেনভাবে মানুষের বাসা তৈরীই যে দেশে সবচে লাভজনক ব্যবসা, সেখানে পাখির বাসার খোঁজ কে রাখে! অগত্যা পাখি শিকার তাই আমাদের কাছে আনন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় আর পাখির গোশতো হয় উপাদেয় খাবার। ফলাফল- এখন আমাদের প্রতিবেশি পাখিগুলো আর দেখা যাচ্ছে না।

তবুও কিছু ব্যতিক্রম আছে। সম্প্রতি রাজশাহীর এক বাগানে পাখিদের আবাস না ভাংতে আদালত থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে কুষ্টিয়ার ইসা হক বা নীলফামারীর আলমগীরের মত বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংগঠন পাখিদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু অবিবেচক মানুষের তুলনায় বিবেচক মানুষের পরিমাণ কম হওয়ায় দিনে দিনে সারাদেশেই কমছে পাখি, আর ঢাকার কথাতো বলাই বাহুল্য।

অথচ ঢাকা শহরে এক সময় প্রচুর পাখি দেখা যেতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা একাডেমি এলাকায় ঘাস কাটার সময়ও এক সময় প্রচুর পাখি জড়ো হতে। এমনকি ৯০ এর মাঝামাঝি সময়েও আমি ফার্মগেটের ফুটওভারব্রিজের নিচে পাখির দল দেখেছি, ডিম-বাচ্চা দিয়ে সংসার পেতেছে। সে সময় পিজি এবং যাদুঘরের কার্নিসে থাকতো হাজার হাজার কবুতর । মাঝেমধ্যেই শাহবাগের আকাশ ঢেকে দিয়ে দল বেঁধে উড়তো। এখন কাক ছাড়া কোনো পাখিই খুব একটা দেখা যায় না। পাখিদের জন্য এই শহরে পর্যাপ্ত খাবার থাকলেও নিজেরাই মানুষের খাবারে পরিণত হওয়া এবং বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় এই পাখিরা এখন বাধ্য হচ্ছে শুকাতে দেয়া জিন্সের প্যান্টের মত অস্থায়ী আবাসে ঘর বাঁধতে।

০৩
বাবা-মায়ের চাকুরির সুবাদে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে দেশের বিভিন্ন শহরে। এর পাশাপাশি শীত-গরমে, স্কুলের বার্ষিক ছুটিতে গ্রামে দাদাবাড়িতে থাকার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। আনন্দময় শৈশব-কৈশোরের সাথি ছিলো নিবিড় সবুজ গাছপালা, টলটলে পানির নদী-খলবিল আর বিচিত্র সব পাখির কলকাকলী। বিভিন্ন যায়গায় দেখা এসব পাখিদের কথা আমার মনে পড়ে। শীতের কুয়াশাভেজা সকালে লাউয়ের মাচায় দোয়েলের শীষ, বসন্তে কোকিলের গান, লজ্জাবতি শ্যামা, দিনে দুপুরে ভাতশালিক আর ধুসর পেচার নাছোড় ঝগড়া, চৈত্রের লম্বা দুপুরে আমের ডালে হলুদ পাখির ক্লান্ত চাহনি আর কাঠঠোকরার একঘেয়ে কাঠঠোকানি, ডুমুরের পাতা সেলাই করে বাসা বানানো টুনটুনি, টিয়া, মাছরাঙা, নাগরিক পাখি চড়ুই.. .. .. কত কি!

আমার মনে পড়ে আব্বার অফিসে বাস করা নাম না জানা এক দঙ্গল কালো রঙের পাখি; যেগুলো আকৃতিতে চড়ুইয়ের চেয়ে একটু বড় এবং পেটের দিকটা সাদা ছিলো। নাটোরে থাকাকালীন বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে কলোনীর মাঠে দল বেঁধে হুদহুদ পাখি আসতো, আমরা সেগুলো দেখতে যেতাম। মেটে রঙের উপর সাদা ছোপ দেয়া ঝুঁটিওয়ালা এই পাখিগুলো তাদের লম্বা এবং শক্ত ঠোট দিয়ে মাটি খুঁচে খুঁচে কিছু একটা খেতো।

আমার আরও মনে পড়ে চুয়াডাঙ্গায় আমাদের বাংলোর পাশের আমগাছটায় নিয়মিত আসা হাড়িচাচা পাখির কথা, যেটাকে আমরা স্থানীয়ভাবে কুটুমপাখি বলতাম। সম্ভবত ওটাকে লেজঝোলাও বলে। অথবা বাসার সামনের জামরুলগাছের নির্দিষ্ট ডালে বসে প্রতিদিন রাতে কিছুটা খাওয়া বিভিন্ন ফল ফেলে যাওয়া না দেখা পাখিটা... আমরা সকালে যেতাম যেন সবার আগে সে ফলটা আমি নিতে পারি।

ঝিকরগাছাতে বর্ষার সময়ে গাঢ় নীলরঙের একটা পাখি দেখতাম, যেটার আবার রঙ বদলাতো। দাদাবাড়িতে গেলে দেখতাম মাটির রাস্তার দুইপাশে গর্তের মধ্যে এক ধরনের পাখি থাকতো, নাম জানিনা। চলতি পথে তৈরী হওয়া ধুলোয় এই পাখিগুলো স্নান করতো আমাদের দু’হাত দুরত্বেই।

পরিচিত পাখিদের ঘোরাফেরা আর ডাকাডাকিতো ছিলোই সাথে ছিলো বিচিত্র সব স্মৃতি। একবার কাঠাল পাড়তে এক গাছে উঠেছিলাম, কপাল গুণে ওই গাছে সদ্য বাচ্চা হওয়া শালিকের বাসা ছিলো। ব্যস! এলাকার পাখিদের দায়িত্বে থাকা ফিঙেরাজা দল বেঁধে আমাদের দুজনের উপর মুহর্মূহু আক্রমণের মাধ্যমে গাছ থেকে নামতে বাধ্য করলো......

সেসব পাখিও নেই, ফিঙের রাজত্বও নেই এখন। এখন বরং পাখিদের ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা। সারা দেশেই আমার-আপনার মত মানুষের লোভে-ক্ষোভে পাখিরা সব দেশছাড়া-পৃথিবীছাড়া হয়ে যাচ্ছে চিরদিনের মত। পাখির ভাষা বুঝতে পারার মত যন্ত্র যদি আবিস্কৃত হতো, হয়তো আমি শুনতে পেতাম ওই চড়ুই দম্পতি আর্তনাদ করে বলছে- আমাদের একটু থাকতে দিন, আমরা আপনার বারান্দা নোংরা করবো না, আপনার কোনো ক্ষতি করবো না। আমরা শুধু বাঁচতে চাই আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য, আমাদের একটু বাঁচতে দিন প্লিজ...

সংযোজন: ওই হার্ড কাগজের বাক্সের পাশাপাশি দোকান থেকে মাটির বাসা এনে ঝুলিয়ে দিয়েছি বারান্দায়। আপনিও দিতে পারেন এক দুইটা।

ছবিসূত্র
২০১৫ সালের মার্চে উত্তরা থেকে কাজল পাখিটির (Brown Shrike) ছবি তুলেছেন আতিক রহমান এবং একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে প্যাঁচার ছানার ছবিটি ক্যামেরায় ধরেছেন ফটোগ্রাফার ইজহার হোসেন। ছবি দুটো নেয়া হয়েছে ‘আমার ঢাকা’ নামের ফেসবুক পেইজ থেকে।
আর তৃতীয় ছবিটি নেয়া হয়েছে http://hairybirders.blogspot.com সাইট থেকে

ফিচারটি তৈরীতে সহায়তা নেয়া হয়েছে-
১. পাখির শত্রু-মিত্র, ডয়েচেভেলে অনলাইন, প্রকাশ ২২ জানুয়ারি ২০১৯
২. বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পাখি, http://www.roddure.com, প্রকাশ ২ এপ্রিল ২০১২
৩. নীরব ঢাকায় পাখির কাকলি, দৈনিক প্রথম আলো, প্রকাশ ১ জুন ২০২০
৪. উইকিপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়া
৫. পাখি, শরীফ খান

মন্তব্য ৩৯ টি রেটিং +১৪/-০

মন্তব্য (৩৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৩৩

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
আমার বাসায় বান্দার ভিতর সানসেটের মত আছে এতে বিভিন্ন বাস্ক রাখা তাতেই ডিম সংসার সাজায় চড়ুই নতুন নতুন অতিথি আসে , বড় হয় চলে যায়।

আপনার পাখি প্রেম দেখে ভাল লাগলো।

সবাই মানবিক হই, পাখিদের বাঁচায় সহয়োগিতা করি।

++++++

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৩৫

পদ্ম পুকুর বলেছেন: ধন্যবাদ মাইদুল ভাই। মানবিকতাই পৃথিবীকে সতেজ করতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি। আপনার মত আমার বাসায় সানশেড থাকলে অসংখ্য ঘর নিশ্চয় করে দেবো। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

২| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৪৭

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে যেমন অনেক কিছু যোগ হচছে আমাদের মাঝে তেমনি আমাদের লোভ-লালসার শিকার হয়ে হয়ে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচছে পাখি সহ অনেক প্রাকৃতিক অনুষংগ।

এ পৃথিবীতে সবারই আছে বাঁচার অধিকার তা সে মানুস কিংবা পাখি।এ বোধ যদি আমাদের মাঝে থাকত তাহলে পৃথিবীটা আরো অনেক সুন্দর হত।

তারপরেও কিছু ভাল মানুষের মায়া-ভালবাসার জন্য পৃথিবী আজও এতটা সুন্দর ।তার মাঝে আপনি একজন। ধন্যবাদ আপনাকে আপনার চমতকার একটা সুন্দর মন ও মানষিকতার জন্য।

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:২৬

পদ্ম পুকুর বলেছেন: মানুষের লোভের বলী হয়ে একেক করে সবই হারিয়ে যাচ্ছে। এ পৃথিবীতে সবারই বাঁচার অধিকার আছে, এই বোধ জাগ্রত থাকলে পৃথিবী আরও সুন্দর, আরও বাসযোগ্য হতো কোনো সন্দেহ নেই।

আমি স্মৃতিকাতর মানুষ, হারানো বিষয়গুলো ভুলতে পারিনা। এজন্যই এসব কান্দনকাব্য লিখি, বিশেষ কিছু লাভ হবেনা জেনেও।

মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ স্যার, ভালো থাকবেন।

৩| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫০

ঢুকিচেপা বলেছেন: পাখি শিকার আইন করার কারণে অনেকে আর শিকার করতে পারে না। এটা খুব ভালো হয়েছে।

চাকরীর পাশাপাশি পাখির সঙ্গে মাটির ব্যাংক ভাড়া দেয়া ব্যবসার উন্নতি কামনা করছি।
করোনাকালে ভাড়া অর্ধেক হওয়ার কথা, আপনি বোধহয় তা করেননি তাই প্যান্টের পকেটে বাসা বাঁধার চেষ্টা করেছিল।


১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৩৬

পদ্ম পুকুর বলেছেন: বৃহত্তর অর্থে পাখিশিকার নিরোধী আইন কার্যকর হয়েছে কিনা বলা মুশকিল, তবে ঢাকার রাস্তার মোড়ে মোড়ে আগে গাড়ি থামলেই যেমন অতিথি পাখি উচু করে ধরে অসভ্য বর্বরের মত 'হাঁস' বলে চিৎকার করতো, সেটা বন্ধ হয়েছে। সবকিছুর জন্যই সরকার-জনগণের যুথবদ্ধ সদুদ্যোগ প্রয়োজন। সেটারই খুব অভাব এখানে।

করোনাকালে স্যালারি ১৫% কর্তিত হয়েছে, পাখিকে সাবলেট দিয়ে সেটা মেটানোর চেষ্টা করছি আরকি :-B

সায়ানের এই গানটা শুনিনি। তবে আমি সায়ানের গান, বিশেষ করে তার সাহস এবং সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলা খুব পছন্দ করি। তাকে জড়িয়ে আমার একটা লেখা আছে, দেখতে পারেন।

৪| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৭

জুন বলেছেন: আমি খেয়াল করেছি ইদানীং পাখিরা গাছের চেয়েও বাসা বাড়িকে বাসা বানানোর জন্য নিরাপদ মনে করছে । এর দুটো কারন এক গাছের অভাব আর দ্বিতীয় মশা মারার ঔষধ ও তা স্প্রে করার মেশিনের আওয়াজ । গাছ ঝোপঝাড় লক্ষ্য করে সন্ধ্যা হলেই যেই শব্দ আর ধুয়া ছুড়ে মারা তাতে আমিইতো আট তালা থেকে লাফ দিয়ে পরার অবস্থা ।
আপনার পাখি প্রেম অনেক ভালোলাগলো ।
+

আপনি আমার লেখায় ইদানীং আর যান না পদ্মপুকুর, তারপরো আমি আসি :(

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০৪

পদ্ম পুকুর বলেছেন: আপনি আমার লেখায় ইদানীং আর যান না পদ্মপুকুর, তারপরো আমি আসি
আমি খুবই লজ্জিত এবং দুঃখিত আপা, যে আমাকে এই কথাটা শুনতে হলো। ঘরে বাইরে অস্বাভাবিক ব্যস্ততা আমাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ফেলেছে।

আপনার পর্যবেক্ষণটা ভালো লাগলো। আমি অবশ্য এভাবে চিন্তা করার ফুসরত পাইনি। আর আমি পাখিপ্রেমিক কি না জানিনা। তবে ক্লাস সেভেন/এইটে থাকতে জীবনে প্রথম এবং শেষবারের মত পাখিশিকারের উদ্দেশ্যে এয়ারগান ধরেছিলাম। দুরে ডালে বসা একটা পাখিকে তাক করে ট্রিগার চাপতেই অবাক হয়ে দেখলাম পাখিটা আস্তে করে মাথা ঝুঁকিয়ে নিচে পড়ে গেলো.....

আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। আর কোনোদিনও আমি ওই পথে হাটিনি। পাখি বা প্রাণী শিকারে আদৌও আনন্দ আছে বলে আমার মনে হয় না। এটাকে পাখিপ্রেম বলতে পারেন।

৫| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:০৩

মনিরা সুলতানা বলেছেন: আমি অবশ্য ঢাকায় এসে পাখিদের যত্ন আত্তি এখন ও শুরু করি নাই, তবে উনারা বিনা দাওয়াতেই আমার কিচেন হুড এর পাইপে বাসা বেঁধেছেন, যেখানে যেভাবে পারছেন আর কি।
সুন্দর লেখা।

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০৭

পদ্ম পুকুর বলেছেন: কিচেন হুটের পাইপে কি শীতকালীন বাসা করলো? গরমেতো কষ্ট পাবে... B-)
আপনার দুবাইপর্ব কি শেষ? এখন ঢাকাতেই থাকছেন?

৬| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৪৮

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: আমার বাসায় কখনো পাখিরা বাসা বাধে নি। তবে একটা মেহেগুনি ও আম গাছে এক সময় প্রচুর চড়াই রাত যাপন করতো।

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:১২

পদ্ম পুকুর বলেছেন: আসলেই আপনি ধরে ছবি তুলে ব্লগে দিয়ে দেবেন, এই ভয়েইতো আপনার বাসায় আসেনা.... :P
তবে পাখিদের মধ্যে কিছূ একটা অ্যাসোসিয়েশন আছে, অনেক সময় নির্দিষ্ট একটা গাছে অসংখ্য পাখিকে থাকতে দেখা যায়, অথচ এর আশেপাশে হয়তো আরো গাছ আছে।

৭| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:১৮

মনিরা সুলতানা বলেছেন: আর বইলেন না, আমার তো এখন অন্য করতেই ভয় লাগে :( ক্যাচক্যাচ শুরু করে দেয়।
জি আমার দুবাই পর্ব গত বছর ই শেষ করেছি। ঢাকার অফিসে ই বসেন উনি এখন।

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪৩

পদ্ম পুকুর বলেছেন:


প্যাঁচা কয় প্যাঁচানি
খাসা তোর চ্যাঁচানি !
শুনে শুনে আন্‌মন
নাচে মোর প্রাণমন !....

সুকুমার যখন প্যাঁচার চ্যাঁচানি পছন্দ করেছেন, তখন চড়ুই আর বাদ থাকবে ক্যান, ক্যাচক্যাচ তো করবেই।

৮| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:১৩

নেওয়াজ আলি বলেছেন: ঘরের ভেন্টিলেটরে বাসা করে কিন্তু খুব ময়লা করে তাড়াতেও পারি না মায়া লাগে আবার ময়লা করা সহ্য হয় না

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০৭

পদ্ম পুকুর বলেছেন: আমারও একই অবস্থা। মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ।

৯| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:৫০

রাকু হাসান বলেছেন:

ভাল লাগলো পাখি প্রেম। সুন্দর পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। একদিন শহরের কাছে একটি বিচ্ছিন্ন গ্রামে হাঁটছিলাম। সন্ধ্যা নেমে নামার সময় হাজারো পাখির কিচিরমিচির শব্দ খুব ভাল লাগছিলো ,কিন্তু একটু পরই হতাশ হতে হয়েছে ..সেখানেই কয়েকটি প্রকল্প গড়ে উঠছে...ছেড়ে দিতে হবে তাদের আশ্রয়।এভাবেই চলছে........
জুন বলেছেন: আমি খেয়াল করেছি ইদানীং পাখিরা গাছের চেয়েও বাসা বাড়িকে বাসা বানানোর জন্য নিরাপদ মনে করছে ।
এটা আমিও লক্ষ্য করছি। টিকে থাকার লড়াই। স্বয়ং গ্রামেও পাখি আগের মত নেই।সেই পাখির কলকাকলি আগের মত নেই। মুগ্ধ হওয়া কিচিরমিচির মিস করি।

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:৫৯

পদ্ম পুকুর বলেছেন: গ্রামেও পাখি নেই আমাদের বদ-খাছলতের কারণে। বাচ্চাকাচ্চারা ভুল করে পাখিটাখি ধরে, কিন্তু বুড়ো হাবড়ারা যখন পাখি ধরে পিকনিক করে, তখন আর পাখি থাকে কি করে!!!

ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যর জন্য।

১০| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:০৮

রাজীব নুর বলেছেন: বাংলাদেশের মানুষ যেমন ভালো নাই। তেমনি পাখিরাও ভালো নেই।
এই দেশে কেউ ভালো নাই। পাখিদের মধ্যে চড়ুই পাখির জন্য আমার সবচেয়ে বেশি মায়া লাগে।
ছোটবেলা আমাদের বাসায় সানসেটে চড়ুইপাখি বাসা বেধেছিলো। আমি নিয়মিত খাবার দিতাম।

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:০২

পদ্ম পুকুর বলেছেন: কথাটা হয়তো উল্টো হতে পারে, পাখিরা ভালো নেই বলেই মানুষ ভালো থাকতে পারছে না...

১১| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১:৫৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: পদ্ম পুকুর,





সুন্দর একটি লেখা। লাইকড।

আমরা আকাশটাকে যখন সীমাবদ্ধ করে ফেলি তখন সেই আকাশে পাখিরা ডানা মেলবে কোথায় ? শেষ সীমানায় যাওয়ার পরে আরো দুরে উড়ে যাবার শক্তি পাখিরা পাবে কই .....

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:০২

পদ্ম পুকুর বলেছেন: মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ। আপনি ভালো আছেন? বেশ অনেকদিন পর দেখলাম আপনাকে।

১২| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ২:৩৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: তারপর সংসার করে ডিম-বাচ্চা ফুটিয়ে ভাড়াটাড়া পরিশোধ করে চলে যেতো।
................................................................................................................
এই ভাড়াটা কি ভাবে পরিশোধ হতো তা যদি একটু বুঝায়ে বলতেন ।

পাখির প্রতি মায়া আমার ছোট বেলা থেকে, কখনো কোন পাখি মারি নাই, এবং যারা বক বা
সারস পাখি ইত্যাদি মেরে মজা করে খায় , তাও আমার কষ্ট লাগে । তারপরও জানি পৃথিবীটা
অনেক নিষ্ঠুর, বিশ্বাস করতে হয় যে, "কিলিং ফর লিভিং"

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৩:০৭

পদ্ম পুকুর বলেছেন: ঢাকা শহরের মত নিরস এলাকায় ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে কানের তিনহাত দুরত্বে দোয়েলের শিষ শুনতে পারাটা কতটাকার বিনিময়ে আপনি পাবেন বলেন তো? ভাড়াটা আমি ওইভাবে নিয়েছি... :D

১৩| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ ভোর ৬:০৪

সোহানী বলেছেন: পাখীর প্রতি আপনাদের ভালোবাসা দেখে আমি অভিভূত। এরকম সবাই যদি কিছুদিনের জন্য ওদেরকে ভাড়া দিতো তাহলে এতো পাখি হারিয়ে যেত না।

ওও আমাদের জুন আপুও এই একই কাজ করে।

রিপোর্টে পড়েছিলাম দেশের সব চড়ুই হারিয়ে যাচ্ছে মোবাইল টাওয়ারের কারনে। আগে চড়ুই কাকা শালিক চারপাশে দেখতাম। আর এখন খুব কমই ওদের দেখা মিলে।

অবশ্য এসব বলে কি করবো, আঠারো কোটি মানুষের দেশে মানুষরই যেখানে ঠাই নেই সেখানে পাখীদের জন্য তো বিলাশিতা।

ডয়েচ ভ্যালের রিপোর্টটা পড়ে মন খারাপ হলো। আমরা কত নিষ্ঠুর!!!

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৩:১১

পদ্ম পুকুর বলেছেন: অবশ্য এসব বলে কি করবো, আঠারো কোটি মানুষের দেশে মানুষরই যেখানে ঠাই নেই সেখানে পাখীদের জন্য তো বিলাশিতা। এইডাই হলো মূলকথা.....

যে উপকার করতে কষ্ট এবং খরচ কোনোটাই হচ্ছেনা, সেটা করলে যদি পক্ষীসমাজের উপকার হয়, করতে দোষ কি? তাছাড়া জুন আপার পাখিপ্রেম দেখেও উদ্বুদ্ধ হলাম আর কি...

ধন্যবাদ আপা, জীবন ও জীবিকার গল্পগুলো চেখে দেখতে অর্ডার করেছি, এখনও সার্ভ করতে পারেনি রকমারী। জানিয়েছে- পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রকাশক ও বিক্রয়কারীদের কাছ থেকে যথাযথ সাহায্য না পাওয়া গেলে সার্ভ করতে বিলম্ব হতে পারে। তারা আশা করে, এ সময় গল্পখাদকগণ ধৈর্য্য ধরবেন.... অগত্যা পেটে পাথর বেঁধে আছি।

১৪| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:০১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: পদ্মপুকুর,
হ্যা ---পাখির বাসাবানাবার জায়গা নিয়ে আপনি ঠিকই লক্ষ্য করেছেন ব্যাপারটা । থাকার জায়গা মানে বাসা বানাবার জায়গা না থাকলে পাখি থাকবে কেমন করে । মোটিভেশন থিওরীগুলোতো তাই বলে । বেসিক নিডগুলো, যেমন খাবার, পূরণগুলো করেই কোনো প্রাণী নিরাপত্তার চাহিদাগুলো যেমন নিরাপদে থাকার ব্যাপারগুলো নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। পাখির ক্ষেত্রেও নিশ্চই ব্যাপারটা সত্যি। কনটেম্পোরারি আর্বানাইজেশনের থিওরীগুলো একটা শহর বা নেইবারহুড বানাবার সময় তাতে একটা গ্রিন জোন বানাবার কথা বলে।যেখানে একটা নির্দিষ্ট পরিমান জায়গায় গাছ গাছালি থাকবে । সেটা ইকোলজি ঠিকঠাক রাখার জন্য খুবই দরকারি । আমাদের ঢাকার যে অবস্থা তাতে অর্বানাইজেশনের মৌলিক নিয়ম কানুনগুলো মনে হয় আর ফলো করা সম্ভব হচ্ছে না অনেক আগে থেকেই ।এর একটা সরাসরি ফল হচ্ছে পাখি কমে যাওয়া । এর লং লংটার্ম নেগেটিভ ইফেক্ট আরো অন্য জায়গাতেও পড়তে পারে । আপনি আপনার নিজের এক্সপেরিয়ান্সের কথা বলেছেন সেটা শুনতেও কারো কাছে ফানিও লাগতে পারে আসলে এটা কিন্তু মানুষের থাকার উপযোগী একটা শহরের জন্য খুবই জরুরি একটা বিষয় । যাক আপনার আশংকামূলক লেখার পরেও মুনিরা সুলতানার মন্তব্যে খানিক আশাবাদী হলাম । বায়ান্ন রোলধারীর বাসার পিঠেটিঠের গন্ধে মনে হয় ঢাকার পাখিরা তার বাসার আশেপাশে আপাতত বাসা বানাবার জায়গা পেয়ে যাবে । আপনার লেখা পড়ে আপনার পাশাপাশি তাকেও ধন্যবাদ জানানোটা জরুরি মনে হচ্ছে ।

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৩:১৬

পদ্ম পুকুর বলেছেন: আপনার মন্তব্যের উত্তর দিবো না। আপনার উপর আমার ব্যাপক রাগ। ইউসিবির লোগো বিষয়ক একটা লেখায় আপনার আনুপূর্বিক মন্তব্য পরম্পরায় আপনার লেখার সাথে পরিচিত হয়েছিলাম। ইবনে ফিরনাসকে নিয়ে আপনার লেখা, ছেলের শিক্ষকের কাছে আমেরিকান প্রেসিডেন্টের লেখা চিঠি নিয়ে আপনার লেখাসহ আরও কয়েকটা লেখা আমার প্রিয়পোস্টে যুক্ত হয়ে আছে। শুধু আমার নয়, আরও অনেকের কাছেই এই লেখাগুলো প্রিয় নিশ্চয়।

সে দাবীতে ব্লগে আপনার নিয়মিত উপস্থিতি ও মিথস্ক্রিয়া জরুরী। আপনি সেটা মানছেন না। এজন্য আপনার মন্তব্যর উত্তর দেয়া হবে না। X(

১৫| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১:১৪

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আমাদের দেশে পাখিদের উপর যে পরিমাণ নির্মম অত্যাচার হচ্ছে তা ভাষায় লিখে বোঝানো সম্ভব না। লিংকে আমার একটি লেখা পোস্ট আছে পড়ে দেখতে পারেন। পাখিদের প্রতি উদারতার জন্য আপনার প্রতি অনেক অনেক সম্মান ও শুভ কামনা রইলো।

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:২৫

পদ্ম পুকুর বলেছেন: আপনার ক্রোচড পড়ে আমার এই লেখাটাকে এখন নিতান্তই হাস্যকর মনে হচ্ছে। অবশ্য পাখিদের প্রতি ভালোবাসার যায়গাটাতে আপনি আমি হয়তো একই যায়গায় আছি, কিন্তু পাখিদের কষ্ট ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে ওই গল্পটা পারফেক্ট হয়েছে। অসাধারণ।

১৬| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:৩২

তারেক ফাহিম বলেছেন: পাখির প্রতি মায়া সবসময় কাজ করে।

তবে এলার্জির সমস্যার কারনে পোষা প্রানীদের ধরতে পারি না।

চড়ুই হারাচ্ছে দিনে দিনে একটি পোস্ট দিলাম।

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৪৫

পদ্ম পুকুর বলেছেন: আপনার মত আমারও পাখিদের প্রতি মায়া কাজ করে। আপনার এই পোস্ট সেই ২০১৯ সালেই দেখেছিলাম বলে দেখছি।

১৭| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:২৮

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: কথাটা হয়তো উল্টো হতে পারে, পাখিরা ভালো নেই বলেই মানুষ ভালো থাকতে পারছে না...

তা ঠিকই বলেছেন।
আমাদের পাশের বাসায় ছাদে, পুরো ছাদ জুড়ে গ্রিল লাগিয়ে তারা পাখিদের বন্ধী করে রেখেছে। আমি পাখিদের কান্না শুনি।

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:৩৩

পদ্ম পুকুর বলেছেন: রাজীব ভাই, আমরা স্বীকার করি বা না করি, আমাদের পরিবেশের সাথে যুক্ত প্রত্যেকটি অস্তিত্বই মানুষের কল্যাণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাজ করে চলে। মানুষ যখনই এগুলোর উপরে হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছে, তখনই মানুষের জীবনে স্বাভাবিকতার সাথে নতুন কোনো আপদ এসে যুক্ত হয়েছে। এ কারণেই বলেছি পাখিরা ভালো নেই বলেই আমরা ভালো নেই।

আবার আসার জন্য ধন্যবাদ।

১৮| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:৪৭

সামিয়া বলেছেন: অসাধারণ অভিজ্ঞতা ও অনুভুতির প্রকাশ পুরো লেখায়। বেশ ভাললাগলো, ভালো থাকুক শহরের পাখিরা, পথ শিশুরা, বৃদ্ধরা, একটু ভালো থাকার আশায় সংগ্রামী জীবন ও জীবিকার চেষ্টায় গার্মেন্টস কর্মীরা ও সকল অসহায়রা, সকলে ভালো থাকুক।

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:৫২

পদ্ম পুকুর বলেছেন: সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার ছবিতোলা কেমন চলছে?

১৯| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: পদ্মপুকুর,
হাহাহা ----এতো বড় মন্তব্য করেও আমার কমেন্টসের উত্তর না দেয়াতো খারাপ ! থাঙ্কস ।
আমার সীমাহীন সীমাবদ্ধতাতা প্রকট করে দিলেন আপনার কমেন্টসে।ইদানিং নানান কারণেই ব্লগে নিয়মিত হওয়াটা হয়ে উঠে না। নিয়মিত হতে চেষ্টা করি না যে সেটা কিন্তু না।লেখাজোখা নিয়ে আমার আগ্রহে কি জোয়ারের পরিবর্তে একটা ভাটা পড়েছে কি না সেটাও আসলে বুঝতে পারছি না। যাক ব্লগে আমার উপস্থিতি রমরমা না হলেও কমকম হলেও থাকবে। আমার গল্পের বই দুটা কষ্ট করে জোগাড় করে একটি পড়বেন (কেনার ক্যাটাগরিতে রাখার মতো উৎকৃষ্ট মনে না করলে অসুবিধে নেই আগেই জানিয়ে রাখলাম)। আমার বই দুটো সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানার অনেক আগ্রহ আমার আছে । ভালো থাকুন ।

২০| ২০ শে জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৩:১০

মিরোরডডল বলেছেন:



পদ্মের পাখি প্রীতি জেনে আমি মুগ্ধ !
৩ নং ছবিটা খুব সুন্দর আর ন্যাচারাল । আমিতো এটা চড়ুই পাখিই মনে করেছিলাম ।
জুনাপুর এক পোষ্টে আমার পাখি স্টোরি লিখেছিলাম । সেটাই এখানে তুলে দিলাম পদ্মের জন্য ।

আমার বাসায় প্রতিদিন ২৪/২৫ টা শুভ্র সুন্দর কাকাতুয়া আসতো । ঝাক ঝাক করে ।আমি তাদের খাবার দিতাম । প্রতিদিন রুটিন করে তারা চলে আসতো । একসময় এটা দেখতে বন্ধুরাও আসতো । সবাই লাইক করতো । একটা ছিল যেটা অন্যগুলোর চেয়ে একটু আলাদা রং, একটু উইক । ওটাকে মার্ক করে রেখেছিলাম বলেই বুঝতাম যে এরা সেইম গ্রুপটাই প্রতিদিন আসছে । ব্যালকনির সামনে অনেক বড় বড় গাছ ছিল । ওখানে বসতো । আমাকে দেখলেই বুঝতো খাবার দেবো সাথে সাথে বারান্দায় চলে আসতো । আমি অবাক হয়ে ভাবতাম কি করে চেনে অথবা বোঝে । একই সময় আসতো বিকেলের দিকে ।

একদিন কি হয়েছে । অনেক সকাল বেলায় , অফিস যাব রেডি হচ্ছি দেখি ঠুক ঠুক করে জানালার গ্লাসের মধ্যে একটা পাখি নক করছে । প্রথমত এটা অসময়, এই সময় কখনই আসেনা আর দল ছাড়া একটা একা বিচ্ছিন্ন । কি আর করা তাকে খাবার দিয়েই অফিস গেলাম । সেই বাসা ছেঁড়ে যখন চলে এসেছি খারাপ লেগেছিল । এখনো মিস করি ওদেরকে । ভীষণ সুন্দর !








২১| ২১ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:২৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আপনার পাখি প্রেমের কথা জেনে ভালো লাগলো। তবে কি জানি আমার বার্ড ফ্লুর ভয়ে ঘরের ভেতরে ওদের প্রবেশ পছন্দ হয়না।মনে হয় ওরা বাইরেই সুন্দর। শুধু সকাল সন্ধ্যায় নয়, সারাদিনই ওদের কলকাকলি চলতে থাকুক। তবে বাইরে প্রকৃতির কোলে।
পোস্টে লাইক।
অনেকদিন আপনাকে দেখেছি না, কেমন আছেন ভাই?

শুভেচ্ছা জানবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.