| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
"মানবতার দ্বারে একটি বিনিদ্র রাত্রি"-"অন্য আমি"
একটি কংক্রিটের নগরী আর আমি, সাথে ছিলও একটি রাত জাগা নিয়ন বাতির ল্যাম্প পোস্ট আর কিছু কার্বন ছড়ানো তীব্র গতির যান, কিছু নির্ঘুম অচেনা মানুষ। বিধাতার এই বিশাল দুনিয়াই যাদের মাথা গোজার এতটুকু জায়গা নেই, তাদের পাশে নিজেকে একটু দাড় করিয়ে, খুজে পেতে চেয়েছিলাম মানবতার সেই স্বপ্ন দ্রষ্টাদের। যাদের মানবতার মহান বানী আর উদারতার সর্বচ্চো সীমাটা কোথায় এসে থেমেছে, তার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্বচক্ষে নয়ন বন্ধি করার জন্য। হীমশীতল বাতাস কতটা উষ্ণতার পরশ দিচ্ছে এই রাত জাগা অচেনা পরিশ্রান্ত জীবন পথের যাত্রীদের, তা হয়তো দিনের আলোতে হাজারো মানুষের মাঝে উপলদ্ধি কর সম্ভবপর নই; তাই গভীর রাত্রিই শুধু মাত্র এদের জীবনের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে আলোর ভুমিকা পালন করে। আসলে দিনের আলো আর এদের ভাগে জোটে না তাই আর কি ! দিনের আলোর ভাগ এদের দেওয়ার জন্য হয়তো বিধাতা নিজেও একটু বেশীই কৃপণতা দেখানোর চেষ্টা করেন,বিধাতাকে দোষ দিয়ে আর কি লাভ ! দিনে যতটুকু আলো এ বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তা তো ভদ্র মহোদয়দের দেওয়ার জন্যই যথেষ্ট হয়ে ওঠে না; আর যথেষ্ট কিভাবে হয় মহোদয়গণের আবার আলোক সঞ্চয়ের একটা ব্যপার আছে না ! আলোর ভাগ কোথা থেকে দেবেন বিধাতা এই ফুটপাতের কোমল বিছানায় রাত্রি পারি দেওয়া যাত্রীদের ! আর যদি ভদ্র মহোদয়গণ এই কংক্রিটের নগরী না গড়তেন তাহলে কি, এ যাত্রীগণ এত কোমল সান করা চকচকে বা আরামদায়ক বিছানার উপর পলিথিন বিছিয়ে, এই বাংলার ধূলিকণা আর ভদ্র সমাজের ফেলে দেওয়া নোংরার মাঝে ক্ষুধার্ত রাত্রি কাটানোর সুযোগ পেতেন কিভাবে ? আসলেই অযথায় ভদ্র সমাজের মানুষদের দিকে ভুল বাক্য প্রয়োগ করেছি ! আসলের তারা তো আর কম করছেন না ! যখন কুয়াশার সাথে তীব্র শীত এসে হাজির হয় তখনতো বাক্সের মধ্যে শীতবস্ত্র খুজতে যেয়ে দু এক খান জীর্ণ শীতবস্ত্র খুজে পেলে তা তো এই যাত্রীদের জন্যই তারা উৎসর্গ করেন পরম মমতাই, আর উৎসব পার্বণে তো এদের মাঝে খাদ্য আর কাপড় বিলি করার জন্য তারা লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করার প্রতিযোগিতা করেন। তার এর চেয়ে আর বেশী কি করতে পারেন বলেন তো, এনাদেরও তো একটা জীবন আছে না কি ! আর দেশে পরিচালকগণদের দৃষ্টি কেনই বা শুধু শুধু আকর্ষণ করতে চাইছেন বলেন, তাদের কত শত হাজারো মাথা ব্যথা আছে ভাবেন তো, এ কাজ সে কাজ, এ চিন্তা ও চিন্তা; সারাদিন পরিশ্রম করে এসে কি দু দণ্ড বিশ্রাম না নিয়ে আপনাদের পাশে এসে সারা রাত জেগে ঘুমপাড়ানি গল্প শোনাবে না কি মশাই ? দেশটাকে আগে বাড়াতে হবে না ? আর যদি আপনাদের নিয়েই ভাবে তাহলে আর এই নিয়ন আলোর নিচে চটের বস্তা শরীরে চেপে ঘুমানো চলবে না, তখন আলোহীন রাত্রি কাটাতে হবে ! মশাই, রাতে আলো পাচ্ছেন তো তাই এতো দুর্নাম, যেদিন বাড্ডার ফুটপাতে ঘুমিয়ে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনি কমলাপুরে, সেদিনই আপনাদের বোধোদয় ঘটবে আর তখন স্যলুট ঠুকে এই দেশ পরিচালকদেরকেই বাহবা দিবেন ! বস্ত্র, খাবার আর মাথা গোঁজার ঠাই খোজার কথা ভুলে যান আসুন একটু পরিশ্রম করে আরও কতটুকু আলো পৃথিবীতে ঢোকানো যায় তার ব্যবস্থা করি, নইলে বছর শেষে এই জীর্ণ বস্ত্র আর গোস্তের কথাও ভুলে যেতে হবে জীবনের অর্থ ভুলে যাবার মত।
বিঃ দ্রঃ আমি কাউকে ছোট করার জন্য কোনো বক্তব্য দিতে চাই নি, শুধু বোঝতে চেয়েছি এই রুপকের মাঝেই হয়তো খুজে পাওয়া যেতে পারে; আপনার আমার করনীয় বিষয়গুলি। মানুষের মুখে এক ফালি চাঁদের হাসি ফোটানো হয়তো খুব বেশী কষ্টের কাজ নাও হতে পারে। আপনি আমি সবাই মিলে যদি এ মানুষগুলির পাশে দাড়ায় হয়তো এরাও একদিন আপনার আমার মত একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারবে। আসুন বিজয়ের এই রক্তিম আলোকে সঙ্গী করে, সাহায্যের হাতকে পসরিত করে এদের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের বাংলাকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করি। এ কামনায় -"অন্য আমি"
©somewhere in net ltd.