| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নাহিদ হাসান নাহিদ
নিজের সম্পর্কে নিজে কিছু না বলাই ভালো
আজকাল কেন জানি রবিঠাকুর এর ছোটওগল্প পড়তে ভাল লাগে।জীবনান্দের কবিতা পড়ে মন কেমন যেন করে। বেলকনিতে যখন জোছনার আলো গ্রিল এর ফাঁকদিয়ে মুখে এসে পরে,তার শরীর শির শির করে। মনে হয় কত একা সে।
রবি ভালবাসতে জানে না।তবু আজকাল রিক্সা,ভারসিটি বা পার্ক এ কোন ছেলে-মেয়েকে হাত ধরাধরি করে হেটে যেতে দেখলে তার ভাল লাগে,মনে হয় মানুষ গুলো কত সুখী।ভালবাসা আবার কি জিনিস?? তবে ভারসিটির সামনে রহিম চাচার টং এ চা খেতে রবির ভাল লাগে।আর বাবা-মার রেখে যাওয়া সেই বাঁধান ছবিটা দেখলেই চোখ এর কোন এ জল এসে জমা হয়।এভাবেই চলছিল জীবন। কিন্তু একদিন সবকিছু কিভাবে যেন থমকে গেল।সেদিন ছিল পহেলা বৈশাখ। বন্ধুদের অনুরোধ এ ভারসিটির অনুষ্ঠান এ "বনলতা সেন " আবৃতি করতে গিয়ে কাকে দেখে যেন সে ভাষা হারিয়ে ফেলল। জীবনান্দ কি একে দেখেই বনলতা সেন লিখেছিলেন??????
আজকাল আর রবিঠাকুর এর ছোটও গল্প ভাল লাগে না।রহিম চাচার টং এ
চা খেতে গিয়ে নিজের অজান্তেই রবির জিব পুড়ে যায়।ভারসিটি বা পার্ক এ কোন ছেলে-মেয়ে কে হাত ধরাধরি করে হেটে যেতে দেখলে মন হাহাকার করে।
অদ্ভুত ব্যাপার তো!!!!!যে বনলতা সেন কে দেখে মুখের ভাষা হারিয়ে গিয়েছিল তাকেই আজ নিজের ক্লাস এ দেখে রবির সেদিন স্টেজ এ ভুলে যাওয়া বাকি লাইন টা মনে পরল...
"............এতো দিন কোথায় ছিলেন ???পাখির নীরের মত চোখ
তুলে নাটোরের বনলতা সেন........."এভাবে এক সপ্তাহ কেটে গেল। মেয়েটির নাম রিনি, ওর সাথে রবির প্রতিদিন চোখাচখি হয়।
সেদিন ছিল ভরা জোছনা। রবি তার বাসার সেই পুরনো বেলকনিতে দাড়িয়ে।মনের সাথে প্রচণ্ড লড়াই করে ঠিক করেছে রিনি কে ফোন করবে সে। অনেক কষ্টে মোবাইলটা তুলে ১১টা নাম্বার ডায়াল করতে তার ঘাম ছুটে গেল।অপর পাশে রিং হচ্ছে.........
-হ্যালো...কে বলছেন???
- হ্যালো রিনি...আমি রবি বলছি,চিনতে পেরেছেন???
-কোন রবি???
-ঐ যে সেদিন স্টেজ এ কবিতা ভুলে গেলাম.........
-ও হ্যাঁ চিনতে পেরেছি ,কি বলবেন বলুন...
-হ্যাঁ বলব কিন্তু কোথা থেকে শুরু করব বুঝতে পারছি না...
-শুরু না করলে শেষ কিভাবে হবে বলুন???
-আজ জোছনাটা অনেক সুন্দর...
-এটা বলার জন্য নিশ্চয়ই ফোন করেন নি...
- আজ আপনাকে ক্লাস এ অনেক সুন্দর লাগছিল
-ধন্যবাদ
-তবে চুলগুলো খোলা থাকলে আরও ভাল লাগত
-ও...
- আপনার চোখের দিকে তাকালে মনে হয় আপনার মনে গভীর কোন দুঃখ
লুকিয়ে আছে।
-চোখের ভাষা পড়তে পারেন বুঝি????
-ঠিক তা না,তবে আপনার বেলায় ভিন্ন।
-বলুন তো আমি এখন কি চিন্তা করছি????
-আমি তো আপনার চোখ দেখতে পারছি না......তবে আজ
আপনি জোছনা দেখছেন।
-কি করে বুঝলেন??
- জোছনা মানুষের মনে এক অপার্থিব ভালবাসার জন্ম দেয়।
যারা একা তারা জোছনা ভালবাসে।
-কি করে বুঝলেন আমি একা???
-আপনার মা নেই...আপনার বন্ধুরা বলেছে।
-ও ...আর কিছু বলেনি ওরা ???
-আর তো কিছু বলেনি ।
-আপনি কেন জোছনা দেখেন????
-জোছনায় আমার ভাললাগা খুজে পাই।যখন নিজেকে শূন্য মনে হয় তখন জোছনা ভাল লাগে।
-ও...আর কি ভাললাগে আপনার???
-রবিঠাকুর এর ছোটও গল্প আর জীবনান্দের কবিতা ভাল লাগত।
-লাগত বলছেন যে???
-বলছি,কারন আপনাকে দেখার পর ওসব আর ভাল লাগছে না।চুপ করে আসেন যে...
-ভালবাসা সবার জন্য নয় রবি।
-জানি।
-আমি আপনার কথা বলছিনা...আমার কথা বলছি।
আমি আপনাকে ভালবাসতে পারবনা রবি।
-আমি তো আপনাকে ভালবাসতে বলিনি। যতদিন এ জোছানায় দাড়িয়ে এই
বিষণ্ণ চাঁদের আলো গায়ে মাখব ততদিন আমার মনে এক ভালোলাগার
অনুভূতি থেকে যাবে ...মনে পরবে এক নিঃসঙ্গ বনলতা সেনের কথা,যাকে প্রথম দেখে ভাললাগায় ভেসেছিলাম।হয়ত এটা নিয়েই বাকিটা জীবন কেটে যাবে।
-আপনি মনে হয় জানেন না...আমি অসুস্থ ।আমার আয়ু খুবই অল্প...আমাক
ভালবেসে আপনাকে শুধু কষ্টই পেতে হবে...
-আপনার বন্ধুরা আমাকে সব বলেছে...।আমার কাছে ভালবাসাটা শুধুই পার্থিব নয় রিনি...আর কষ্টের কথা বলছেন???হা হা হ.........
-হাসছেন যে???
-কষ্ট তো আমার কাছে নতুন নয়।জন্ম থেকেই ওর সাথে আমার ঝুদ্ধ...আর একবার না হয় ওর সাথে দেখা হবে...
-রবি আপনি কি একবার আমার বাড়ির সামনে আসতে পারবেন ???আমি এ
জোছনার আলোয় আপনার হাত দুটো একটু ছুঁয়ে দেখব...
""জোছনার আলোয় পিচের রাস্তাটা চিকচিক করছে। তার উপর রবি- রিনি হাত ধরাধরি করে হাঁটছে।চাঁদের আলোয় তারা দুজনে অপার্থিব কিছু একটা খুজে পেয়েছে।ভালবাসা?????????হবে হয় তো""
©somewhere in net ltd.