নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাধারণ একজন মানুষ। বলার মতো বিশেষ কিছু নেই। মনের ভাবনাগুলো তুলে ধরতে চাই। ভালো লাগে কবিতা, লিখা-লিখি আর ছবি তোলা, এইতো! https://prokashoni.net

ইফতেখার ভূইয়া

গণতন্ত্র মুক্তি পাক, পরিবারতন্ত্র নিপাত যাক

ইফতেখার ভূইয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

বায়োস ব্যাকআপ ও কিছু ধারনা

২৯ শে নভেম্বর, ২০২৫ রাত ১০:০১

প্রতিটি কম্পিউটার বৈশিষ্ট্যগতভাবে ইউনিক হলেও সেগুলোর মূল গঠনতন্ত্র অনেকটাই একই রকম। যেমন কম্পিউটারটিতে মাদারবোর্ড, প্রসেসর, মেমরি, স্টোরেজ ডিভাইস ও বেসিক ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস থাকবে। এসব ডিভাইসের মধ্যে একটি কম্পিউটার এর মাদারবোর্ড সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ কারন ওটার উপর নির্ভর করেই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যোজন বা বিয়োজন করা হয়ে থাকে।


একটা উদাহরণ দিচ্ছি বোঝার জন্য। ধরুন আপনার কম্পিউটারের মাদারবোর্ডটি বেশ পুরোনো যেটায় এম.২ স্লট নেই। তাই চাইলেও সরাসরি আপনি কোন এম.২ নির্ভর ডিভাইস যোগ করতে পারবেন না। খুব সম্ভবত আপনাকে স্যাটা স্টোরেজ অথবা আরো পুরোনো হলে আই.ডি.ই নির্ভর স্টোরেজ ডিভাইস ব্যবহার করতেই হবে। আবার মাদারবোর্ড কেনার আগে আপনাকে ভাবতে হবে আপনি কোন প্রসেসরটি মাথায় রেখে কম্পিউটার তৈরী করতে চাচ্ছেন, সেটার উপর নির্ভর করে আপনাকে মাদারবোর্ড ক্রয় করতে হবে। পুরো বিষয়টি মূলত একটি আরেকটি যন্ত্রাংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তার উপর নির্ভরশীল। কম্পিউটারের বেশীরভাগ যন্ত্রাংশই মূলত স্থাপন ও তথ্য আদান প্রদানের জন্য মাদারবোর্ড এর উপর নির্ভরশীল। খুব সম্ভবত এ জন্যই একে মাদারবোর্ড বলা হয়ে থাকে।

কম্পিউটারের প্রায় প্রতিটি যন্ত্রাংশে (গ্রাফিক্স কার্ড, সাউন্ড কার্ড ইত্যাদি) খুব অল্প পরিমানে হলেও তাদের নিজস্ব মেমরি থাকে। ঐ মেমরিতে মূলত একটি ডিভাইসের কি কি বৈশিষ্ট্য রয়েছে ও ডিভাইসটি কি ভাবে পরিচালিত হবে তা উল্লেখ থাকে একটি ছোট সফটওয়্যারে যা মূলত ফার্মওয়্যার নামে পরিচিত।

মাদারবোর্ড-ও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রতিটি মাদারবোর্ডে এ ধরনের ফার্মওয়্যার থাকে যা মূলত "বায়োস" নামে পরিচিত। একটি কম্পিউটার অন করার সাথে সাথে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার পরেই যে বিষয়টি ঘটে তা হলো, মাদারবোর্ডরে বায়োসে অবস্থিত তথ্য পড়া। যা মূলত কম্পিউটারটিতে স্থাপিত সার্বিক যন্ত্রাংশ (অন্যান্য) সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারনা দেয়। আর এই ধারনা পাওয়ার জন্য বায়োস বিভিন্ন যন্ত্রাংশে (গ্রাফিক্স কার্ড, সাউন্ড কার্ড ইত্যাদি) অবস্থিত ফার্মওয়্যারের সাথে যোগাযোগ করে কম্পিউটারটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরী করে পরের ধাপে অপারেটিং সিস্টেমকে দায়িত্ব হ্যান্ডওভার করে। সেখান থেকেই উইন্ডোজ, ম্যাক কিংবা লিনাক্সের মতো অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারটিকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে।

মাদারবোর্ডে অবস্থিত বায়োস মূলত হার্ডওয়্যারটি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পণ্য তৈরীর সময়ই স্থাপন করে দেয়। পরবর্তীতে আপগ্রেডের প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারী ম্যানুফ্যাকচারের ওয়েব সাইট থেকে নতুন ভার্সন ডাউনলোড করে নিতে পারেন। তবে কখনো কখনো ব্যবহারকারী চাইলে বায়োসের তথ্য মডিফাই করে পুন:প্রতিস্থাপন করতে পারেন। এ ধরনের কাজ দক্ষ ব্যক্তি দিয়ে করানো উচিত। তা না হলে মাদারবোর্ডটি স্থায়ীভাবে অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। সুর্নিদিষ্ট কিছু কাজের জন্য সম্প্রতি আমি আমার ডেল ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের বায়োস মডিফিকেশন করেছি এবং দুটো ডিভাইসই বর্তমানে চালু রয়েছে।

বায়োস মডিফিকেশনের আগে, বর্তমানে বায়োসে থাকা তথ্যকে উদ্ধার করার প্রয়োজন পড়বে। যা "বায়োস এক্সট্র্যাকশন" নামেও পরিচিত। এটা করা হয় মূলত বায়োস স্টাডি করার জন্য। এরপর প্রয়েজনীর মডিফিকেশন করে তা পুনরার বায়োসে স্থাপন করা হয়। সব কম্পিউটারে না হলেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাদারবোর্ডে জন্য "ইউনিভার্সাল বায়োস ব্যাকআপ টুলকিট" সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা যেতে পারে। মনে রাখা জরুরী যে শুধু এক্সট্র্যাক্ট করলেই হবে না সেটা স্টাডি করার জন্য প্রয়োজন পড়বে "ইউইএফআই" টুল যা রম -এ অবস্থিত বাইনারি তথ্য উদ্ধার করে তা পাঠযোগ্য করে তোলে।

আগামী কোন লিখায় বায়োস সম্পর্কিত আরো কোন টুল নিয়ে লিখার আশা রাখছি। ধন্যবাদ।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে নভেম্বর, ২০২৫ রাত ১০:৩৮

নতুন নকিব বলেছেন:



চমৎকার তথ্যবহুল একটি লেখা!
বায়োস, ফার্মওয়্যার এবং মাদারবোর্ডের কার্যপ্রণালী সহজ কথায় গভীরভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বিশেষ করে বায়োস এক্সট্র্যাকশন, মডিফিকেশন এবং প্রয়োজনীয় টুলস সম্পর্কে যে পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহী যে কেউ এই লেখাটি পড়ে উপকৃত হবে। আগামীর পর্বগুলোর অপেক্ষায় রইলাম।

শুভকামনা জানবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.