| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক
মানবসভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডার দীর্ঘকাল ধরে বহন করে এনেছে মুদ্রিত বই। কাগজে ছাপা অক্ষরের বই একসময় ছিল জ্ঞানের প্রধান বাহন, সংস্কৃতির ধারক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অপরিহার্য মাধ্যম। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে মানুষ কি এখনও ছাপার বই কিনে পড়বে? নাকি অনলাইন প্রকাশনার বিপুল সম্ভাবনার সামনে মুদ্রিত বই ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে?
অনলাইন জ্ঞানের বিস্তৃত সম্ভাবনা
ডিজিটাল প্রযুক্তি জ্ঞান প্রকাশের জগতে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। অনলাইনে প্রকাশিত একটি লেখা কেবল অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা বহুমাত্রিক তথ্যের এক জীবন্ত ভাণ্ডারে পরিণত হয়। একটি বিষয়ের ব্যাখ্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে প্রামাণ্য চিত্র, ব্যাখ্যামূলক ভিডিও, প্রাসঙ্গিক গবেষণার লিংক, পাদটিকা, ফুটনোট কিংবা রেফারেন্স গ্রন্থের সরাসরি সংযোগ। ফলে পাঠক একই সঙ্গে বহুস্তরীয় জ্ঞান লাভের সুযোগ পান।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আরেকটি বড় সুবিধা হলো লেখক ও পাঠকের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ। পাঠক তাদের মতামত, প্রশ্ন বা সমালোচনা জানাতে পারেন, এবং লেখক তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন। এর ফলে জ্ঞানচর্চা একমুখী না হয়ে সংলাপভিত্তিক হয়ে ওঠে।
তদুপরি অনলাইনে প্রকাশিত বই সহজেই ডাউনলোড করা যায়, প্রয়োজনে অংশবিশেষ কপি করা যায়, এমনকি পাঠকের সুবিধামতো ফন্ট বড় বা ছোট করে পড়া যায়। ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থার কারণে বই বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর্কাইভিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করাও সম্ভব।
পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ
মুদ্রিত বই তৈরির সঙ্গে জড়িত কাগজ উৎপাদন, মুদ্রণ এবং পরিবহন সবই প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ সৃষ্টি করে। বন উজাড়, জ্বালানি ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণের প্রশ্ন আজ বিশ্বজুড়ে আলোচিত। এই প্রেক্ষাপটে অনলাইন প্রকাশনা তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবুও ছাপা বইয়ের প্রাসঙ্গিকতা
তবে এই বাস্তবতার মাঝেও ছাপার বই পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়নি। বরং মানুষের মনন ও পাঠাভ্যাসের সঙ্গে এর একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
প্রথমত, ছাপা বই পড়ার অভিজ্ঞতা মনোসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। ডিজিটাল মাধ্যমে পড়ার সময় নানা ধরনের বিজ্ঞাপন, নোটিফিকেশন বা অন্য লিংকের প্রলোভন পাঠকের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে। কিন্তু কাগজের বই পাঠককে একাগ্রতার সঙ্গে বিষয়ের গভীরে প্রবেশের সুযোগ দেয়।
দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ছাপা বই এখনও গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল ফরম্যাট প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপ্রচলিত হয়ে যেতে পারে, কিন্তু শত শত বছর পুরোনো পাণ্ডুলিপি ও বই আজও পাঠযোগ্য অবস্থায় টিকে আছে।
তৃতীয়ত, বইয়ের সঙ্গে মানুষের আবেগগত সম্পর্কও অস্বীকার করা যায় না। একটি বই হাতে নিয়ে পড়ার স্পর্শ, পৃষ্ঠা উল্টানোর অনুভূতি, কিংবা নিজের সংগ্রহে বই সাজিয়ে রাখার আনন্দ এই অভিজ্ঞতাগুলো এখনও অনেক পাঠকের কাছে অমূল্য।
ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সহবস্থান
বাস্তবতা হলো ডিজিটাল প্রকাশনা ও মুদ্রিত বই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং তারা পরস্পর পরিপূরক। দ্রুত তথ্যপ্রাপ্তি, বিস্তৃত ব্যাখ্যা ও আন্তঃসংযোগের জন্য অনলাইন মাধ্যম অত্যন্ত কার্যকর। অন্যদিকে গভীর মননশীল পাঠ, দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য মুদ্রিত বই এখনও অপরিহার্য।
অতএব বলা যায়, প্রযুক্তির যুগে ছাপার বইয়ের গুরুত্ব হয়তো কমেছে, কিন্তু তার প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি। বরং ভবিষ্যতের জ্ঞানচর্চা সম্ভবত এমন এক ভারসাম্যের দিকে এগোবে, যেখানে ডিজিটাল ও মুদ্রিত উভয় মাধ্যমই নিজ নিজ শক্তি নিয়ে মানবসভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করবে।
বইমেলা বিশেষ করে দেশের বৃহত্তম ও জনপ্রিয় অমর একুশে বই মেলা হতে পারে মুদ্রিত ও ডিজিটাল জ্ঞানের মিলনমঞ্চ
বিশ্বের নানা দেশে বইমেলা জ্ঞানচর্চা ও প্রকাশনা শিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। আমাদের দেশেও অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবনে এক অনন্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর অসংখ্য পাঠক, লেখক ও প্রকাশকের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এই আয়োজন প্রমাণ করে যে মুদ্রিত বইয়ের প্রতি মানুষের আবেগ ও আগ্রহ এখনও গভীরভাবে বিদ্যমান।
তবে এই জনপ্রিয়তাকে কেবল মুদ্রিত বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে ডিজিটাল প্রকাশনার বিকাশের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। বরং বইমেলাকে এমন একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা সম্ভব, যেখানে মুদ্রিত ও ডিজিটাল উভয় ধরনের জ্ঞানপ্রকাশ সমানভাবে বিকশিত হবে।
প্রথমত, বইমেলায় প্রকাশকদের স্টলের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রকাশনা প্ল্যাটফর্মের জন্য বিশেষ বিভাগ রাখা যেতে পারে। সেখানে পাঠকরা একই বইয়ের মুদ্রিত সংস্করণের পাশাপাশি ই–বুক সংস্করণ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং কিউআর কোড বা অনলাইন লিংকের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ডাউনলোড করার সুযোগ পাবেন।
দ্বিতীয়ত, নতুন বই প্রকাশের সময় লেখকরা মুদ্রিত বইয়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ডিজিটাল সংস্করণও প্রকাশ করতে পারেন। এতে বইটি একদিকে যেমন বইমেলায় আগত পাঠকদের হাতে পৌঁছাবে, অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পাঠকরাও অনলাইনে সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারবেন।
তৃতীয়ত, বইমেলায় আলোচনা সভা, সেমিনার ও কর্মশালার মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা যেতে পারে। সেখানে মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল আর্কাইভ, অনলাইন লাইব্রেরি এবং ই–বুক বিপণনের নতুন পদ্ধতি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব।
চতুর্থত, বইমেলাকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আরও উন্মুক্ত করা যায়। মেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বই প্রকাশনা অনুষ্ঠান কিংবা লেখক–পাঠক সংলাপ অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এপার ওপারের কোটিরো বেশি বঙ্গভাষী পাঠকরাও এই সাংস্কৃতিক উৎসবের অংশ হতে পারবেন।
এইভাবে বইমেলা কেবল ছাপা বই বিক্রির একটি অনুষ্ঠান হয়ে না থেকে, জ্ঞান ও প্রকাশনার এক সমন্বিত উৎসবে পরিণত হতে পারে। যেখানে মুদ্রিত বই তার ঐতিহ্য ও গভীর পাঠের অভিজ্ঞতা নিয়ে টিকে থাকবে, আর ডিজিটাল প্রকাশনা জ্ঞানের দ্রুত বিস্তার ও বহুমাত্রিক উপস্থাপনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
অতএব বলা যায়, ভবিষ্যতের প্রকাশনা জগতে প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতার পথই অধিক কার্যকর। বইমেলার মতো বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন যদি এই সমন্বয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে, তবে মুদ্রিত ও ডিজিটাল উভয় ধারাই একসঙ্গে বিকশিত হয়ে জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ঠিকই বলেছেন , বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ বিশ্বসাহিত্যের বিশাল ভাণ্ডারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগেই
বড় হয়ে উঠছে,এটি সত্যিই চিন্তার বিষয়। অনেকেই আজ জ্ঞান অর্জনের নির্ভরযোগ্য উৎসের বদলে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমের অগভীর বা কখনও ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করছে। ফলে গভীর পাঠ, বিশ্লেষণী চিন্তা ও
সমৃদ্ধ সাহিত্যচর্চার সুযোগ ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে মনে হয়, হয়তো এক সময় মুদ্রিত বই পড়া একটি বিলাসী অভ্যাসে পরিণত হবে যা
ভাবতেই মন খারাপ লাগে। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য যে বই ও জ্ঞানচর্চার শক্তি কখনও হারিয়ে যায় না,
শুধু তার মাধ্যম বদলায়।
তাই বইমেলা এবং বইকেন্দ্রিক উদ্যোগগুলোর এখন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।
মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল বই, অডিওবুক এবং অনলাইন পাঠ উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে আবার
বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। যদি সৃজনশীলভাবে এই উদ্যোগগুলো নেওয়া যায়, তবে
নতুন প্রজন্মকে বই পড়ার আনন্দ, গভীর চিন্তা এবং সত্যিকারের জ্ঞানচর্চার পথে অনুপ্রাণিত করা অবশ্যই
সম্ভব।
কারণ শেষ পর্যন্ত, মাধ্যম বদলাতে পারে কিন্তু জ্ঞান, সাহিত্য এবং বইয়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণ কখনও
নিঃশেষ হয়ে যায় না।
সহমত পোষনের জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল ।
২|
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৬
রাজীব নুর বলেছেন: বইয়ের পাঠক একদম কমে গেছে। আসলেই অনেক কমে গেছে।
মানুষ ব্যস্ত ফেসবুক, ইউটিউব আর টিকটক নিয়ে।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:০৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ভাই এটাইতো বাস্তবতা ।
শুভেচ্ছা রইল
৩|
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২৪
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: ছাপার বই বনাম পিডিএফ - বিতর্কে আমার কিছু চিন্তা যুক্ত করছি।
শ্রদ্ধেয় ব্লগার, খেয়াল করে দেখবেন, আপনি লেখক শব্দটি ব্যবহার করছেন। লেখক পরিচয়টি আদতে একটা বিস্তীর্ণ পরিসরের গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে। সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্লগে সমসাময়িক ইস্যুর ওপর নিয়মিত ৩০০ - ৪০০ শব্দে মতামত দিয়ে যিনি হাজার দশেক ফলোয়ার জুটিয়ে নিয়েছেন, তিনিও যেমন লেখক, তেমনি যারা জার্নালে ভারী গবেষণা প্রবন্ধ লিখছেন, তারাও লেখক, যারা পত্রপত্রিকায় কলাম লিখছেন, তারাও লেখক, তেমনি যিনি ১০০০ - ১৫০০ পৃষ্ঠার একটি উপন্যাস লিখছেন, তিনিও লেখক। অনলাইনে সবচে বেশী বেকায়দায় পড়ি সম্ভবত আমরা যারা কথাসাহিত্যের চর্চা করি। উপন্যাস বাদ দিয়ে যদি সিরিয়াস গল্পও বিবেচনা করি, কমলকুমার মজুমদার, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, কিংবা দেবেশ রায়ের গল্প - ছাপার পৃষ্ঠায় দাগিয়ে অনেক সময় নিয়ে একটু একটু করে প্রখর মনোযোগ সহকারে পড়েও অনেক সময় অর্থ উদ্ধার করতে গিয়ে আমাদের গলদঘর্ম হতে হয়। সেখানে যদি ইলিয়াসের খোয়াবনামা উপন্যাসটি অনলাইনে পড়া লাগতো, তবে মনে হয় না এই উপন্যাস আমার কখনো পড়া শেষ হত। মনোযোগ ধরে রাখতে পারতাম না।
বলতে চাইছি, বিশুদ্ধ কথাসাহিত্যের চর্চা আমরা যারা করি, আমার ব্যক্তিগত অভিমত, আমাদের জন্য আসলে ঠিক অনলাইন/ পিডিএফ/ সফটকপির জগতটা না।
আমি এও বিশ্বাস করি, যে ক্লাসিক লিটারেচার সৃষ্টির স্বপ্ন নিয়ে কথাসাহিত্যের চর্চা শুরু করেছিলাম, সেটাও সফটকপিতে সম্ভব নয়।
আমাদের প্রকাশকেরা কখনোই প্রকাশনার ডিটেলস আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেন না। লেখার সফট কপি ছড়িয়ে গেলে সেটার করাপ্টেড ভার্শন বের করা আরও সহজ হবে বলে মনে হয়। বাংলাদেশ অতটা প্রযুক্তিগতভাবে অ্যাডভান্সড নয়, আর হলেও সেটা নেগেটিভ ভাবেই। আই মিন, লেখকের উপকারে আসবে না ই বুক। যদি আসে, সেটা প্রকাশকের। আমার দুজন প্রকাশক তাদের প্রকাশনায় আমার প্রকাশিত সমস্ত বই আমার অনুমতি না নিয়েই ই বুক করে ফেলেছেন। সেগুলোর যে হার্ড কপি তাদের প্রকাশনায় আছে, সেগুল বিক্রি শেষ হলে আমি চেষ্টা করতাম আরও ভাল প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তা পুনঃ প্রকাশের। কিন্তু আমার অনুমতি ছাড়াই ই- বুক বের করে ফেলায় সেটা আর সম্ভব হবে না। ছাপার বইই নিয়ম মেনে প্রকাশ করা হয় না এদেশে, ই - বুকে লেখকদের সাড়ে সর্বনাশ।
শেষ কথা হল, মানুষের যে পার্সোনাল প্লেজার রিডিং এর অভ্যাস, ঘরের এক কোনে একটা কোজি অ্যাটমস্ফেয়ারে একটা বই নিয়ে বসে বসে পড়া - এই অভ্যাসের বয়স খুব বেশী দিন নয়। ইংল্যান্ডে প্রথম প্রিন্টিং প্রেস আসে ১৪৭৬ সালে। গনহারে বই ছাপা হওয়া, মানুষের বাসায় বাসায় বই থাকা, পড়া এগুলোর বয়স হয়তো ৪০০ বছর, সর্বোচ্চ, যেখানে মানুষের ইতিহাস লাখো বছরের। লাখো বছরের ইতিহাসে মাত্র ৪০০ বছর আগে যে বিনোদন ও তথ্যের আকর (তথা ছাপার হরফে বই) ছিল না, সেটা আর ৪০০ বছর পরে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যেতে পারে, আমার মতো ছাপার বইয়ের ভক্তেরা যতই কান্নাকাটি করুক না কেন। আগে যেমন মহাকাব্য লেখা হত, এখন হয় না, ঠিক সেভাবেই হয়তো আজ হতে ৫০ বা ১০০ বছর পর মানুষ আর উপন্যাসও পড়বে না।
কিন্তু উপন্যাস লিখে একটা জীবন কাটিয়ে দেবো বলে আমরা যারা পন করেছি, জানি না আমাদের জন্য সামনের দিনগুলোতে কি অপেক্ষা করছে।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:১২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার মন্তব্যটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। লেখালেখি ও পাঠের অভিজ্ঞতা নিয়ে আপনার আন্তরিক ভাবনার প্রতি
আমার সত্যিই শ্রদ্ধা আছে। বিশেষ করে লেখক শব্দটির বিস্তৃত পরিসর নিয়ে যে কথা বলেছেন, সেটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ
এবং অনেক ক্ষেত্রেই সত্যও বটে।
তবে বিনয়ের সঙ্গেই কিছু বিবেচনাযোগ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আপনি যে উপসংহারটিতে
পৌঁছেছেন বিশুদ্ধ কথাসাহিত্যের চর্চাকারীদের জন্য অনলাইন বা পিডিএফের জগতটি উপযোগী নয় আমার
মনে হয় বিষয়টি এতটা সরলভাবে নির্ধারণ করা যায় না।
কমলকুমার মজুমদার, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বা দেবেশ রায়ের মতো গভীর ও জটিল কথাসাহিত্য পাঠ করতে
মনোযোগ, ধৈর্য এবং পুনঃপাঠের প্রয়োজনএ কথা নিঃসন্দেহে সত্য। কিন্তু সেই মনোযোগের অভাবের কারণ মাধ্যম
(কাগজ না স্ক্রিন) এই সিদ্ধান্তটি সম্ভবত একটু তাড়াহুড়ো হয়ে গেছে। কারণ পাঠের গভীরতা শেষ পর্যন্ত পাঠকের
মানসিক প্রস্তুতি ও অভ্যাসের উপরই বেশি নির্ভর করে, মাধ্যমের উপর নয়।
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর বহু গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য, গবেষণা এবং চিন্তাধারাই এখন ডিজিটাল মাধ্যমে পড়া, সংরক্ষণ
ও আলোচিত হচ্ছে। এমনকি অনেক গুরুগম্ভীর সাহিত্য পাঠকও আজকাল পিডিএফ বা ই–রিডারে মনোযোগ দিয়েই
পড়েন। ফলে কেবল মাধ্যমের কারণে বিশুদ্ধ সাহিত্য পাঠ অসম্ভব এ কথা বলা হয়তো একটু কঠোর বা সীমিত ধারণা
হয়ে দাঁড়ায়।
আরও বিনয়ের সাথে বলি সম্ভবত এখানে অনলাইনের সীমাবদ্ধতার চেয়ে আমাদের পাঠাভ্যাসের পরিবর্তনটাই বড়
বিষয়। যদি মনোযোগের অভ্যাস গড়ে ওঠে, তবে ইলিয়াসের খোয়াবনামা যেমন কাগজে পড়া যায়, তেমনি স্ক্রিনেও
পড়া সম্ভব।তাই আপনার অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার না করেই বলছি সম্ভবত অনলাইন জগৎ কথাসাহিত্যের জন্য নয়,
এই সিদ্ধান্তটি একটু পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। কারণ বাস্তবতা হয়তো এর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।
আরো একট বিষয় সাহিত্যের মূল্য বা ক্লাসিক হওয়ার সম্ভাবনা কখনোই তার বাহন বা মাধ্যমের উপর নির্ভর করে
না। বরং নির্ভর করে তার শিল্পগুণ, চিন্তার গভীরতা এবং মানবজীবনের সার্বজনীন সত্যকে ধারণ করার ক্ষমতার
উপর। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, সাহিত্য বিভিন্ন মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়েছে ;হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে
ছাপাখানা, ছাপাখানা থেকে ডিজিটাল। কিন্তু কোনো যুগেই মাধ্যমের পরিবর্তন সাহিত্যের মহত্ত্বকে খর্ব করতে
পারেনি।
দ্বিতীয়ত, অনলাইন বা সফটকপি মাধ্যমকে অবজ্ঞা করা আসলে একধরনের রক্ষণশীল মানসিকতা, যা সাহিত্যের
স্বাভাবিক বিবর্তনকে অস্বীকার করে। আজকের বিশ্বে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস এবং গবেষণা প্রথমে
ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে পরে মুদ্রিত রূপ পেয়েছে। অর্থাৎ ডিজিটাল মাধ্যম সাহিত্যচর্চার শত্রু নয়, বরং
তার বিস্তার ও পাঠকের নাগাল বাড়ানোর একটি শক্তিশালী উপায়।
তৃতীয়ত, ক্লাসিক সাহিত্য সফটকপিতে সম্ভব নয়, এই দাবি কেবলমাত্র ব্যক্তিগত ধারণা নয়, বরং বাস্তবতার
পরিপন্থী একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত। সাহিত্যের ক্লাসিক হয়ে ওঠা নির্ধারণ করে সময়, পাঠকসমাজ এবং সমালোচনা
মূলক মূল্যায়ন, কোনো লেখক নিজে আগেভাগে তার জন্য আলাদা মাধ্যম নির্ধারণ করে দিতে পারেন না।
বলা যায়, সাহিত্যের ইতিহাস আমাদের শেখায় মহৎ সাহিত্য মাধ্যমকে বড় করে না; বরং মহৎ সাহিত্যই মাধ্যমকে
অর্থবহ করে তোলে। তাই সফটকপি বা অনলাইনকে ছোট করে দেখানো মূলত সাহিত্যকে নয়, বরং সময়ের
পরিবর্তনকে বুঝতে না পারার একটি সীমাবদ্ধতারই প্রকাশ।
আজকের বিশ্বে এমন বহু সাহিত্যকর্ম ও গবেষণা আছে যেগুলো প্রথমে অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত
হয়েছে, পরে মুদ্রিত বই বা প্রথাগত প্রকাশনায় এসেছে। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ দেওয়া হলো।
উপন্যাস
১. The Martian by Andy Weir প্রথমে লেখক নিজের ব্লগে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেন।পাঠকের আগ্রহ বাড়ার
পর এটি ই–বুক হিসেবে প্রকাশিত হয় (২০১১)।পরে বড় প্রকাশনা সংস্থা বইটি প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশ করে (২০১৪) সুত্র : Click This Link)
পরবর্তীতে এটি থেকে একই নামে বিখ্যাত চলচ্চিত্রও তৈরি হয়।
২. Worm by John C. McCrae ২০১১–২০১৩ সালে ওয়েবসাইটে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।কয়েক লক্ষ
পাঠক অর্জন করে এবং পরে এটি ই–বুক ও প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।আধুনিক ওয়েব-সিরিয়াল
সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সুত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/Worm_(web_serial)
৩. Keisha the Sket by Jade LB.২০০৫–২০০৭ সালে এক কিশোরী লেখক ইন্টারনেটে কিস্তিতে প্রকাশ করেন।
পরে এটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং ২০২১ সালে বই হিসেবে প্রকাশিত হয়।২০২২ সালে এটি British Book
Awards-এ পুরস্কারও পায়। সুত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/Keisha_the_Sket
৪. The Plant (novel) by Stephen King ২০০০ সালে লেখক নিজেই এটি ইন্টারনেটে ই–বুক সিরিজ হিসেবে প্রকাশ করেন। এটি ছিল অনলাইন প্রকাশনার একটি বিখ্যাত পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। সুত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/The_Plant_(novel)
অনলাইন থেকে বই হওয়া গ্রাফিক/কমিক সাহিত্য
Hooky by Míriam Bonastre Tur প্রথমে Webtoon প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে প্রকাশিত হয়।পরে ২০২১ সালে
এটি গ্রাফিক নভেল হিসেবে মুদ্রিত বই আকারে প্রকাশিত হয়। সুত্র : Click This Link
৬. Fifty Shades of Grey(novel) by E. L. James:প্রথমে fan fiction হিসেবে FanFiction.net-এ প্রকাশিত হয়েছিল।পরে সম্পাদনা করে উপন্যাস হিসেবে প্রকাশিত হয়।বিশ্বজুড়ে ১০ কোটির বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।সুত্র সুত্র:https://en.wikipedia.org/wiki/Fifty_Shades_of_Grey
৭. Mother of Learning by Domagoj Kurmaic;প্রথমে এটি ওয়েব সিরিয়াল হিসেবে অনলাইনে প্রকাশিত হয়।পরে সম্পাদিত হয়ে মুদ্রিত উপন্যাস সিরিজ হিসেবে প্রকাশিত হয়।
ফ্যান্টাসি সাহিত্যে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়।
এই উদাহরণগুলো দেখায় যে আধুনিক যুগে সাহিত্য ব্লগ, ওয়েবসাইট, ওয়েবসিরিয়াল, ফ্যানফিকশন সাইট,
ইত্যাদি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জন্ম নিতে পারে।পরে সেগুলো প্রিন্ট বই, বেস্টসেলার, এমনকি চলচ্চিত্রেও রূপ
নিতে পারে।অর্থাৎ বাস্তব উদাহরণই প্রমাণ করে যে মাধ্যম (ডিজিটাল বা প্রিন্ট) সাহিত্যকে ক্লাসিক বা
গুরুত্বপূর্ণ করে না; সাহিত্যিক শক্তিই তা নির্ধারণ করে।
এত গেল আন্তর্জাতিক পর্যায় , এবার ফিরে দেখা যাক নীজ দেশের প্রতি ।
১. অভিজিৎ রায় এর অবিশ্বাসের দর্শন, প্রথমে লেখকের ব্লগ মুক্তমনা ব্লগ-এ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রবন্ধ
হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।পরে সেগুলো সংকলিত হয়ে বই আকারে প্রকাশিত হয়। বাংলা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবন্ধ
সাহিত্যে এটি একটি আলোচিত কাজ।
২. অভিজিৎ রায় এর আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী; বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদ নিয়ে লেখা অনেক
অংশ প্রথমে ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।পরে বই আকারে প্রকাশ পায় এবং বিস্তৃত পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে।
৩. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর ব্লগ বিভাগ; এখানে প্রকাশিত অনেক গল্প, প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথা পরে
লেখকের ব্যক্তিগত বইয়ে স্থান পেয়েছে।অর্থাৎ প্রথম প্রকাশ ডিজিটাল, পরে মুদ্রিত রূপ।
৪. আমাদের এই সামহোয়্যার ইন ব্লগ; ২০০০ এর দশকের অন্যতম প্রভাবশালী বাংলা ব্লগ প্ল্যাটফর্ম।এখানকার অনেক ব্লগার পরে তাঁদের লেখা গল্প, প্রবন্ধ বা স্মৃতিকথা বই হিসেবে প্রকাশ করেছেন।
উদাহরণ হিসাবে এখানে কয়েক জনের সাহিত্য কর্মগাথা তুলে দিলাম ।
একি খেলা আপন সনে - ২১ (শেষ-পর্ব) ধারাবাহিক গল্প হতে উপন্যাসে রূপান্তর : লেখিকা কঙ্কাবতি রাজকন্যা ( তিনি আর কেও নন সামু ব্লগের অন্যতম সেরা ব্লগার , সাহিত্যিক , কবি , প্রবন্ধিক , রম্য ও ছবিব্লক উপস্থাপন কারী শায়মা এর একটি প্রকাশ্য নিক )
আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (শেষ পর্ব), রচনায় প্রখ্যাত ব্লগার আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম
কানাডা প্রবাসী সামু ব্লগার লোকসানা লেইস লিখিত : ১) আকাশের চিঠি ২) আলোর যাত্রা ৩)চন্দ্রিমায় নীল জল উপন্যাস ত্রয়ী ।
https://m.somewhereinblog.net/mobile/blog/Somudrojol/30386322
মাস তিনেক আগে আমন্ত্রিত অতিথী হিসাবে তিনি লন্ডনের ত্রয়োদশ বইমেলা এবং সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে গেছেন ।
আরো যারা প্রতিতযশা লেখক লেখিকা আছেন তাদের মাঝে ব্লগার খায়রুল আহসান , কানাডা প্রবাসী ব্লগার সোহানী ও মোস্তফা কামাল পলাশ অন্যতম যাদের লেখা প্রথমেই ব্লগে প্রকাশের পর ছাপার অক্ষরে বাধাইকৃত পুস্তকে প্রকাশ হয়েছে ।
এর মধ্য আবু হেনা ভাই আর আমাদের মাঝে নাই ( আল্লাহ উনাকে বেহেস্ত নসিব করুন)।
এই সুযোগে তার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে তার স্মরণে বিদ্রোহী ভৃগুর লেখা কবিতাখানি দিলাম তুলে
আমাদের হেনা ভাই
কালও ছিলেন, আজ আর নেই
ভাবতেই ব্যাথায় মন ভেঙ্গে যায়!
কোথায় হারালেন? কোন অজানায়?
চলে তো যেতেই হয়।
আগে বা পরে সবাই-ই চলে যাই,
হারানোর ব্যাথা হায়, বুঝি বলে বোঝানোর নয়!
দিনান্তে শুধু শুন্যতাটুকু-প্রবল দীর্ঘশ্বাস হয়ে রয় ।
প্রকৃতির চিরন্তনী বদলের সাধ্য নেই কোন
সকলেই করি অসহায় সমপর্ণ
নির্বাক চেয়ে করি, অসহায় ক্রন্দন
হায়! কে বদলায় নিয়তির অমোঘ বিধান!
আজো পেলাম না খুঁজে পায়নিতো কেউ
চলে যায় সবাই! কোথায়? দেখেনি সে ঢেউ!
পরের যে কাল তাইতো পরকাল
আজ নিয়ে ব্যস্ত সবে; পায়নি তার তল!
যেখানেই থাকুন ভায়া থাকুন ভালো
সবার স্মৃতিতে র’বেন হয়ে- আলো
শুভকামনা জানাই সকলেই স্রস্টায়
চিরসূখে থাকুন সদা এই কামনায়।।
সৃষ্টি যত অমর: রয়ে যায় মহাকালে
স্রষ্টা চলে যায় সৃষ্টি রয়ে যায় কালের আ’লে;
কে বলে তুমি নাই? এই তো আছো সবার স্মৃতির কো
লে
তুমি রবে অমর, অব্যয় তোমার-ই সৃস্টির আঁচলে।
আমাদের হেনা ভাই
কালও ছিলেন, আজ আর নেই
ভাবতেই ব্যাথায় মন ভেঙ্গে যায়!
কোথায় হারালেন? কোন অজানায়?
চলে তো যেতেই হয়।
আগে বা পরে সবাই-ই চলে যাই,
হারানোর ব্যাথা হায়, বুঝি বলে বোঝানোর নয়!
দিনান্তে শুধু শুন্যতাটুকু-প্রবল দীর্ঘশ্বাস হয়ে রয় ।
প্রকৃতির চিরন্তনী বদলের সাধ্য নেই কোন
সকলেই করি অসহায় সমপর্ণ
নির্বাক চেয়ে করি, অসহায় ক্রন্দন
হায়! কে বদলায় নিয়তির অমোঘ বিধান!
আজো পেলাম না খুঁজে পায়নিতো কেউ
চলে যায় সবাই! কোথায়? দেখেনি সে ঢেউ!
পরের যে কাল তাইতো পরকাল
আজ নিয়ে ব্যস্ত সবে; পায়নি তার তল!
যেখানেই থাকুন ভায়া থাকুন ভালো
সবার স্মৃতিতে র’বেন হয়ে- আলো
শুভকামনা জানাই সকলেই স্রস্টায়
চিরসূখে থাকুন সদা এই কামনায়।।
সৃষ্টি যত অমর: রয়ে যায় মহাকালে
স্রষ্টা চলে যায় সৃষ্টি রয়ে যায় কালের আ’লে;
কে বলে তুমি নাই? এই তো আছো সবার স্মৃতির কোলে
তুমি রবে অমর, অব্যয় তোমার-ই সৃস্টির আঁচলে।
উল্লেখ্য প্রথমে সামুতে লিখেই পরে তা বই আকারে প্রকাশকারীর তালিকায় রয়েছেন আরো অনেকেই । তাদের সকলের নাম খুঁজে খুঁজে তুলে দিলে এ মন্তব্যের পরিসর বিশাল আকার ধারণ করবে । তবে আপনি এ ব্লগে আমার থেকেও জেষ্ঠ ব্লগার তাই আপনি আমার থেকে তাদের পরিচয় জানেন অনেক বেশী করে ।
৫. অনলাইন সাহিত্য পোর্টাল (যেমন) বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সাহিত্য বিভাগ, কালের কণ্ঠ বা
অন্যান্য পত্রিকার অনলাইন সাহিত্য পাতা। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রথম প্রকাশিত বহু গল্প ও প্রবন্ধ পরে
লেখকের গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বাংলা সাহিত্যেও এখন ধীরে ধীরে একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে । অনেক লেখা প্রথমে ব্লগ, অনলাইন ম্যাগাজিন
বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়। পরে সেগুলো সংকলিত হয়ে বই হিসেবে প্রকাশিত হয়।
অতএব, বাংলা সাহিত্যেও উদাহরণ পাওয়া যায় যে ডিজিটাল মাধ্যম সাহিত্যচর্চার পরিপন্থী নয়; বরং অনেক
ক্ষেত্রে এটি নতুন লেখক ও পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করছে।
অলোচনার এ পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সত্য মনে রাখা দরকার। বাংলা সাহিত্যের তথাকথিত
ক্লাসিক রচনাগুলোর বেশিরভাগই প্রথমে বই হিসেবে নয়, পত্রিকা বা সাময়িকপত্রে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত
হয়েছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর বহু গল্প ও প্রবন্ধ প্রথমে প্রকাশিত হয়েছিল ভারতী
পত্রিকা ও বঙ্গদর্শন-এর মতো সাময়িকপত্রে। একইভাবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর অনেক উপন্যাসও প্রথমে
ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল বঙ্গদর্শন-এ। অর্থাৎ সেই সময়ের নতুন মাধ্যম ছিল পত্রিকা যা অনেক
রক্ষণশীল পাঠকের কাছে একসময় গম্ভীর সাহিত্যচর্চার উপযুক্ত স্থান বলে বিবেচিত হত না। কিন্তু ইতিহাস
দেখিয়েছে, মাধ্যম নয়, রচনার শিল্পমানই শেষ পর্যন্ত সাহিত্যকে স্থায়িত্ব দেয়। আজকের দিনে পত্রিকার সেই
ভূমিকাই অনেক ক্ষেত্রে পালন করছে ব্লগ, ওয়েবম্যাগাজিন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। সুতরাং ডিজিটাল মাধ্যমে
প্রকাশিত সাহিত্যকে আগেভাগেই ক্লাসিক হতে অক্ষম বলে ঘোষণা করা আসলে সাহিত্যিক ইতিহাসের এই
মৌলিক বাস্তবতাকেই অস্বীকার করা।
যাহোক আপনার অভিজ্ঞতার বর্ণনা এবং উদ্বেগ দুটোই নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, এবং লেখক হিসেবে এমন
পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া যে হতাশাজনক হতে পারে, সে বিষয়ে দ্বিমত করার অবকাশ নেই। বিশেষ করে
প্রকাশকের পক্ষ থেকে অনুমতি ছাড়া ই-বুক প্রকাশ করা বা প্রকাশনার স্বচ্ছতার অভাব এসব বিষয় সত্যিই
আলোচনার দাবি রাখে।
তবে খুব বিনয়ের সঙ্গে একটি ছোট পর্যবেক্ষণ যোগ করতে চাই। প্রযুক্তি বা মাধ্যমের পরিবর্তনকে সব সময়ই
লেখকের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে দেখা হয়তো পুরো বাস্তবতাকে ধারণ করে না। ইতিহাসে দেখা যায়, প্রতিটি নতুন
মাধ্যম মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন প্রথমে আশঙ্কার জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত সৃষ্টিশীলতার জন্য নতুন
পরিসরই তৈরি করেছে। ই-বুকও হয়তো সেই ধারারই একটি অংশ হতে পারে, যদি লেখক–প্রকাশক সম্পর্কটি
ন্যায্য ও স্বচ্ছ হয়।
আরেকটি ছোট কথা পাঠাভ্যাসের বয়স হয়তো কয়েক শতক, কিন্তু মানুষের গল্প শোনার ও বলার আকাঙ্ক্ষা তো
অনেক বেশি প্রাচীন। মহাকাব্য লিখিত আকারে কমে গেলেও গল্প তো হারিয়ে যায়নি; বরং রূপ বদলে টিকে আছে।
একটি উদাহরণ এখানে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করছি যে বাংলা সাহিত্যে এখন পর্যন্ত দুটি মহাকাব্য বিখ্যাত হয়ে আছে ,
একটি হল মীর মোশারফ হোসেন লিখিত বিষাদসিন্ধু ( যা মুলত কারবালার বিষাদময় কাহিনী নিয়ে রচিত ) ,
দ্বিতীয়টি মহাকবি কায়কোবাদ রচিত মহাশ্মসান ( যা ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার
ওপর ভিত্তি করে রচিত) , অনেকেই বিশেষ করে আমার প্রিয় বাংলা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড.শফিউল্লাহ
১৯৭৪ সনে কথা প্রসঙ্গে বলেছেন যে কবি মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত মেঘনাদ বধ কাব্য গ্রন্থটিকে আধা ( Half )
মহাকাব্যের পর্যায়ে ফেলা যায় । তবে কথা হল এইসব মহাকাব্যের নায়ক নায়িকা সকলেই উচ্চ পর্যায়ের রাজা
বাদশা সেনাপতি পর্যায়ের । তাই বলে কি অতি সাধারণ থেকে কাওকে নিয়ে মহাকাব্য রচনা করা যায়না?
এ প্রঙ্গঙ্গে উল্লেখ্য একজন সাধারণ নগর নটি আম্রপালীকে নিয়ে আমি এই সামুতেই নগরবধু আম্রপালী
লেখাটির সংক্ষেপিত আংশ প্রথমে ১৯১৭ ব্লগে প্রকাশ করি । তারপর এর কিছুটা পাঠক প্রিয়তা দেখে
পরে ২০২২ সালে আরো সম্প্রসারিত আকারে লিখে বাধাই করা পুস্তক আকারে প্রকাশ করেছি । পুস্তকটিতে
থাকা বিষয়বস্তুরসংক্ষেপিত একটি রূপ এই ডিজিটাল প্লাটফরম সামুতেই প্রথম প্রকাশ করি । লিংকে গিয়ে
দেখতে পারেন ।
কথা হল, আমি জানি গুণেমানে তা মহাকাব্যের ধারে কাছেও না , আমি শুধু দেখাতে চেয়েছি রূপক হিসাবে
কেবল শুধু কী রাজা বাদশা সেনাপতিরাই মহাকাব্যের নায়ক নায়িকা হতে পারে? অতি সাধারণ নীচু হেয় মানুষকে
নিয়ে কেন মহাকাব্য রচিত হতে পারেনা ?। যাহোক ,মোদ্দা কথা হল প্রথমেই ডিজিটাল প্লাট ফর্মে আত্ম প্রকাশ ,
তারপরে ছাপা অক্ষরে বইএ প্রকাশ । আপনি বিজ্ঞ মানুষ আশা করি আমার কথাটি বুঝতে পেরেছেন ।
যাহোক হয়তো উপন্যাসও সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হবে না বরং সময়ের সঙ্গে তার প্রকাশভঙ্গি বদলাতে পারে।তাই
জীবনভর উপন্যাসিক হয়ে থাকতে হলে আর লিখতে হলে বাস্তবতার সাথে হয়ত সমন্বয় সাধন করেই যেতে
হবে । তবে কামনা করি যে কোন পরিস্থিতিতেই যেন আপনার উপন্যাস লেখার গতি আরো প্রবল থেকে
প্রবলতর হয় ।
আপনার উদ্বেগের জায়গাটি তাই অস্বীকার না করেই মনে হয়, আলোচনাটি হয়তো বই বনাম ই–বুক নয়,
বরং লেখকের অধিকার ও প্রকাশনার নৈতিকতা এই জায়গাটিতে কেন্দ্রীভূত হলে আমাদের সবার জন্যই
বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।
আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ এ ধরনের কথোপকথনই হয়তো ভবিষ্যতের প্রকাশনা
সংস্কৃতিকে একটু বেশি ন্যায়সংগত করে তুলতে সাহায্য করবে।
শুভেচ্ছা রইল
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
উপরে নগরবধু আম্রপালী লিংটি কাজ করছেনা বিধায় এখানে তুলে দেয়া হলো
নগরবধু আম্রপালী মহাকাব্য
৪|
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯
সুলাইমান হোসেন বলেছেন: মনোযোগ দিয়ে চমৎকার লেখাটা পাঠ করলাম,
আসলে ছাপার বই এখন তেমন পড়া হয়না,তারপরও ছাপার বইয়ের অপরিসীম। ছাপার বই পাঠকের হৃদয়ে দ্রুত পৌছায়,এবং বেশি মনে থাকে,চোখের জন্যও ভালো।কিন্তু বর্তমানে ভর্চুয়াল, অনলাইন,মাল্টিমিডিয়াতেই মানুষ বেশি সময় ব্যায় করে।এজন্য ছাপার বই পড়ার সময় এখন অনেক কমে গিয়েছে।
বর্তমান শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়ার পেছনেও এই ডিজিটাল নেটওয়ার্ক,ই-বুক,ফেসবুক,টিউটিউব অনেকটা দায়ী,এগুলো মানুষের মনকে একমুখী রাখেনা,বিভিনমূখী করে ফেলে।যেকারনে মূল সাবজেক্ট অধরাই থেকে যায়।শিক্ষার্থী এবং পাঠকেরা কম্পিউটার মোবাইলের স্কিন থেকে চোখ সরিয়ে ছাপা বইয়ে দিকে যদি অধিক চোখ রাখে,তাহলে বেশি লাভ হবে বলে আমি মনে করি।কিন্তু এমনটা আমি নিজেও পারব বলে মনে হয়না ![]()
০৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার মন্তব্যটি আন্তরিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছেএটা খুবই স্পষ্ট। বিশেষ করে ছাপার বইয়ের
প্রতি যে টান এবং স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকার কথা বলেছেন, তা অনেক পাঠকেরই অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে
যায়। কাগজের বই হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে পড়ার মধ্যে যে এক ধরনের মনোসংযোগ ও অন্তরঙ্গতা তৈরি হয়,
সেটি সত্যিই আলাদা।
তবে একই সঙ্গে এটাও সত্য যে সময়ের সঙ্গে পাঠের মাধ্যম বদলাচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যম মানুষের মনোযোগকে
অনেক দিকে টেনে নেয় এই পর্যবেক্ষণটিও যথার্থ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম বা দ্রুত তথ্য
প্রবাহের জগতে গভীর পাঠের অভ্যাস কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ছে,এ নিয়ে উদ্বেগও অমূলক নয়। কিন্তু অন্য দিক
থেকে দেখলে, এই ডিজিটাল মাধ্যমই আবার অনেক মানুষের কাছে বই, জ্ঞান ও আলোচনার নতুন দরজাও
খুলে দিয়েছে।
আসলে বিষয়টি হয়তো ছাপা বই বনাম ডিজিটাল এই দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মূল প্রশ্ন হলো মনোযোগী পাঠের
অভ্যাস কীভাবে বজায় রাখা যায়। কেউ কাগজের বইয়ে সেটা খুঁজে পান, কেউ ই-বুক বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও
খুঁজে নিতে পারেন। আপনার মন্তব্যের শেষ অংশ যেখানে আপনি স্বীকার করেছেন যে নিজেও এই টানাপোড়েনের
বাইরে নন সেটা মন্তব্যটিকে আরও মানবিক ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। কারণ বাস্তবে আমরা অনেকেই একই
দ্বিধার মধ্যে বাস করি, ছাপার বইয়ের টান অনুভব করি, আবার ডিজিটাল জগতের আকর্ষণ থেকেও পুরোপুরি
মুক্ত হতে পারি না।
সম্ভবত সমাধানটা ভারসাম্যের মধ্যেই ডিজিটাল সুবিধা গ্রহণ করা, কিন্তু একই সঙ্গে ছাপার বইয়ের গভীর
পাঠের আনন্দটুকুও সচেতনভাবে ধরে রাখার চেষ্টা করা।
শুভেচ্ছা রইল
৫|
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৩
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
১। বর্তমান প্রজন্ম কেনো বই পড়ছে না? বর্তমান প্রজন্ম বই না পড়ার কারণ কি?
০৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
অতি মুল্যবান প্রশ্নটির জন্য ধন্যবাদ । এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য একটি বড় সর পরিমানগত ও গুণগত
জরীপধর্মী গবেষনা প্রয়োজন । যাহোক সেটি না হয় পরে দেখা যাবে , এখন এই বিষয়টি নিয়ে আপনার মত
বিচক্ষন ও সমাজ সচেতন বিজ্ঞ মানুষের সাথে কিছু প্রাসঙ্গিক আলোচনা শেয়ার করে নেয়া যাক ।
বর্তমান প্রজন্ম বই কম পড়ছে এই কথাটি প্রায়ই শোনা যায়, তবে বিষয়টি কেবল বই না পড়া হিসেবে দেখলে
পুরো বাস্তবতা ধরা পড়ে না। আসলে পড়ার অভ্যাস ও মাধ্যম দুটিই বদলে যাচ্ছে। তাই প্রশ্নটি কিছুটা পুনর্বিবেচনা
করা প্রয়োজন। বর্তমান প্রজন্ম কি সত্যিই পড়ছে না, নাকি তারা ভিন্ন মাধ্যম ও ভিন্ন ধরনের পাঠের দিকে ঝুঁকছে?
প্রথমত, প্রযুক্তিগত পরিবেশের পরিবর্তন একটি বড় কারণ। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও
প্ল্যাটফর্ম এবং দ্রুত তথ্যপ্রবাহ মানুষের মনোযোগের ধরন বদলে দিয়েছে। আগে একটি বই পড়তে যে দীর্ঘ
সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখা প্রয়োজন হতো, এখনকার ডিজিটাল পরিবেশে মানুষ ছোট ছোট তথ্যখণ্ডে
অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। ফলে গভীর পাঠের পরিবর্তে দ্রুত স্ক্রল করা বা সংক্ষিপ্ত কনটেন্ট গ্রহণ করার প্রবণতা
বাড়ছে।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অনেক ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম এমনভাবে গড়ে
ওঠে যে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে। বই পড়া তখন আনন্দ বা জ্ঞানচর্চার বিষয় না হয়ে
কেবল পরীক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত হয়। ফলে পাঠের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ তৈরি হওয়ার সুযোগ
কমে যায়।
তৃতীয়ত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনও উল্লেখযোগ্য। পরিবার ও সমাজে আগে বই পড়ার
একটি আলাদা সাংস্কৃতিক মর্যাদা ছিল। ঘরে বইয়ের তাক, লাইব্রেরি সংস্কৃতি, সাহিত্য আড্ডা এসব অনেক
জায়গায় কমে গেছে। তার জায়গায় বিনোদনের সহজলভ্য ডিজিটাল মাধ্যম জায়গা করে নিয়েছে।
তবে এটাও সত্য যে বর্তমান প্রজন্ম সম্পূর্ণভাবে জ্ঞানবিমুখ নয়। তারা অনলাইন আর্টিকেল, ব্লগ, ই-বুক,
গবেষণা উপকরণ, এমনকি অডিওবুক বা পডকাস্টের মাধ্যমেও জ্ঞান গ্রহণ করছে। অর্থাৎ পাঠের ধরন
বদলেছে, কিন্তু জ্ঞান অনুসন্ধানের প্রবণতা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
সুতরাং, সমস্যাটিকে কেবল বর্তমান প্রজন্ম বই পড়ে না বলে সরলীকরণ করলে বিষয়টির গভীরতা ধরা
পড়ে না। বরং প্রয়োজন হলো এমন একটি পাঠসংস্কৃতি তৈরি করা, যেখানে ছাপা বই, ডিজিটাল পাঠ এবং
সমালোচনামূলক চিন্তা এই তিনটি বিষয়ই সমন্বিতভাবে বিকশিত হতে পারে। তখন হয়তো দেখা যাবে,
নতুন প্রজন্মের পাঠাভ্যাস ভিন্ন হলেও জ্ঞানের প্রতি তাদের আকর্ষণ এখনও জীবন্ত।
শুভেচ্ছা রইল
৬|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৪০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: আপনার এই লেখাটিতে বই ও প্রযুক্তির যুগল গুরুত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
ডিজিটাল মাধ্যমের দ্রুততা ও তথ্যভাণ্ডার যেমন আধুনিক পাঠকের চাহিদা পূরণ করে, তেমনি মুদ্রিত বইয়ের স্থায়িত্ব ও আবেগ পাঠক-সমাজে আজও অপরিহার্য।
বইমেলা, বিশেষ করে অমর একুশে গ্রন্থমেলার কথা উল্লেখ করে আপনি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, লেখাটি বর্তমান সময়ে জ্ঞানের চর্চায় ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তা ও বইয়ের প্রতি মানুষের গভীর সংযোগের একটি বাস্তব ও প্রাসঙ্গিক চিত্র প্রকাশ করেছে।
লেখাটিতে বইমেলাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার বেশ কিছু কার্যকর ও যুগোপযোগী প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে মুদ্রিত ও ডিজিটাল সংস্করণের সমন্বয়, পাঠকদের জন্য তাৎক্ষণিক ই-বুক সংগ্রহের সুযোগ, প্রকাশনা শিল্প নিয়ে আলোচনা সভা এবং বইমেলার অনুষ্ঠানসমূহ অনলাইনে সম্প্রচারের কথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বইমেলা শুধু দেশের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্ঞান-উৎসবে পরিণত হবে। আপনার ভাবনা বইমেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক।
অনেক ধন্যবাদ।
০৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার মন্তব্যটি অত্যন্ত মনোযোগী ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন। বিশেষ করে বই ও প্রযুক্তির পারস্পরিক সম্পর্ককে আপনি
যেভাবে উপলব্ধি করেছেন, তা আলোচনাটিকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। সত্যিই, বর্তমান সময়ের জ্ঞানচর্চা
এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে মুদ্রিত বইয়ের গভীরতা ও স্থায়িত্ব এবং ডিজিটাল মাধ্যমের দ্রুততা
ও বিস্তৃতি এই দুইয়ের সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর পথ হয়ে উঠতে পারে।
আপনি যথার্থভাবেই অমর একুশে গ্রন্থমেলার প্রসঙ্গটি সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার প্রেক্ষাপটে দেখেছেন।
বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার স্থান নয়; এটি ভাষা, সংস্কৃতি ও বৌদ্ধিক চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা।
তাই এর সঙ্গে প্রযুক্তিকে যুক্ত করার প্রস্তাবগুলো যেমন মুদ্রিত ও ডিজিটাল সংস্করণের সমন্বয়, অনলাইনে
অনুষ্ঠান সম্প্রচার বা তাৎক্ষণিক ই-বুক সংগ্রহের সুযোগ।আসলে বইমেলার পরিসরকে আরও প্রসারিত
করার সম্ভাবনা তৈরি করে।
একই সঙ্গে আপনার মন্তব্যটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও সামনে আনে,যে বইমেলা কেবল একটি স্থানীয় বা
ভৌগোলিক আয়োজন নয়, বরং তা বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য একটি সাংস্কৃতিক ও জ্ঞান
ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে এই ভাবনাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আপনার বিশ্লেষণ আমার লেখাটির মূল বক্তব্যকে আরও সুস্পষ্ট ও সমৃদ্ধ করেছে।
বই ও প্রযুক্তির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং সহাবস্থান ও সমন্বয়ের যে ধারণাটি আপনিও তুলে ধরেছেন
তা ভবিষ্যতের পাঠসংস্কৃতি গঠনের জন্য নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।
শুভেচ্ছা রইল
৭|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫
শায়মা বলেছেন: এখন এই বর্তমানে অনেকেই আমরা মনে করি ছাপার বইয়ের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। মোবাইল, ইবুক এসবই এখন চলছে এবং চলবে। তবুও এখনও আমার মনে হয় ছাপার বইয়ের মূল্যও আমাদের কাছে কমেনি। বই হাতে নিয়ে পড়লে যে আনন্দ ও মনোযোগ সম্ভব তা ডিজিটাল বুকে পাওয়া যায় না।
বইমেলা আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চার এক অমূল্য ট্রাডিশন। আমার ধারণা, ছাপার বই কখনই হারিয়ে যাবে না। ইবুক ও ছাপার বই বেঁচে থাকবে একে অপরের হাত ধরে.......নতুন ও পুরাতন মিলেমিশে....
০৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৫১
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
শায়মাপু, তোমার মন্তব্যে যে অনুভূতি ও চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে, তা আমাদের সময়ের পাঠসংস্কৃতির একটি
গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকে সামনে আনে। সত্যিই, আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে প্রযুক্তি দ্রুত আমাদের
পাঠের অভ্যাস ও জ্ঞানগ্রহণের পদ্ধতিকে বদলে দিচ্ছে। মোবাইল ফোন, ই-বুক বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের
মাধ্যমে এখন খুব সহজেই বিপুল পরিমাণ তথ্য ও বইয়ের নাগাল পাওয়া যায়। ফলে অনেকের কাছেই মনে
হতে পারে যে ছাপার বইয়ের যুগ যেন ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে।
তবে তোমার পর্যবেক্ষণের মতোই বাস্তবতা হলো ছাপার বইয়ের প্রতি মানুষের টান এখনও অটুট। বই হাতে
নিয়ে ধীরে ধীরে পাতা উল্টে পড়ার যে স্বতন্ত্র আনন্দ, মনোযোগ ও অন্তরঙ্গতা, তা ডিজিটাল পর্দায় অনেক
সময় পুরোপুরি পাওয়া যায় না। কাগজের বইয়ের গন্ধ, বইয়ের সঙ্গে পাঠকের এক ধরনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক
তৈরি হওয়া এসবই ছাপার বইকে আজও বিশেষ মর্যাদা দেয়। তাই প্রযুক্তির বিকাশ সত্ত্বেও মুদ্রিত বইয়ের
গুরুত্ব পুরোপুরি কমে যায়নি।
তুমি খুব সুন্দরভাবে বইমেলার প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেছ। বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার একটি আয়োজন নয়;
এটি ভাষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। বিশেষ করে আমাদের প্রেক্ষাপটে বইমেলা
একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে নতুন বইয়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন চিন্তা, নতুন লেখক ও
নতুন পাঠক তৈরি হয়। এই জায়গাটিই প্রমাণ করে যে বই এখনও সমাজের বুদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের
একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো তোমার শেষের ভাবনাটি ই-বুক ও ছাপার বই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়,
বরং সহযাত্রী। নতুন প্রযুক্তি আমাদের পাঠের পরিসর বাড়াবে, আর ছাপার বই তার গভীরতা ও ঐতিহ্য
ধরে রাখবে। এই সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের পাঠসংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ নতুন ও
পুরাতনের এই সহাবস্থানই হয়তো আগামী দিনের জ্ঞানচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক করে তুলবে।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল
৮|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩২
রাজীব নুর বলেছেন: এখন আমি বই পড়তে পারি না।
দশো মিনিট বই পড়লেই ঘুম এসে যায়। তাছাড়া চোখেও সমস্যা। ছোট লেখা পড়তে পারি না। ঝাপসা লাগে। চওশ্মা আছে কিন্তু দরকারের সময় খুজে পাই না।
০৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার মন্তব্যটি খুবই আন্তরিক এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। সত্যিই, শারীরিক অসুবিধা যেমন চোখের
সমস্যা বা দ্রুত ক্লান্তি পাঠের অভ্যাসে প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও আপনার কথার ভেতরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ
প্রশ্ন যেন নীরবে উঠে আসে , আমরা আসলে কেন একটি বই পড়তে চাই?
কখনো আমরা কোনো বই পড়ি কৌতূহল থেকে বইটি আমাদের নতুন কিছু জানাবে বা কোনো বিষয়কে নতুনভাবে
বুঝতে সাহায্য করবে এই প্রত্যাশায়। কখনো আবার একটি বই হাতে নিই কারণ লেখক পরিচিত, অথবা বন্ধু
বান্ধবের অনুরোধে অন্তত কিছুটা পড়ে মতামত দেওয়ার ইচ্ছা থাকে। আবার অনেক সময় এমনও হয়, বইটি
পুরো পড়ার উদ্দেশ্য নয়; কেবল কয়েকটি পাতা উল্টে দেখে নেওয়া এর ভাষা, ভাবনা বা বিষয়বস্তুর স্বাদ
নেওয়াই যথেষ্ট মনে হয়।
তাই বই পড়ার ক্ষেত্রে একটাই নির্দিষ্ট মানদণ্ড সবসময় কাজ করে না। কেউ গভীর মনোযোগ দিয়ে শুরু থেকে
শেষ পর্যন্ত পড়ে, কেউ বেছে বেছে অংশ পড়ে, আবার কেউ কেবল সামান্য সময় নিয়ে বইটির সঙ্গে পরিচিত হয়।
যেমন চাঁদ গাজীর মত অনেকেই শুধু লেখার শিরোনাম আর লেখার পরিমান দেখেই ভিতরে না গিয়ে মন্তব্য
একখান জেরে দেন অবুজের মতন করে তার পুরানো বহুল চর্চিত কথক কথামালা ব্যাবহার করে ।
যাহোক, আপনার ক্ষেত্রে যদি চোখের সমস্যা বা ক্লান্তির কারণে দীর্ঘ সময় পড়া সম্ভব না হয়, তবুও হয়তো
ধীরে ধীরে কয়েক পাতা করে পড়া, বড় অক্ষরের সংস্করণ খোঁজা, কিংবা প্রয়োজন মতো একটু কষ্ট করে খুঁজে
নিয়ে হলেও ( সুরভী ভাবী বা আপনার মেয়ের সাহায্য নিয়ে ) চশমা ব্যবহার করার মাধ্যমে বইয়ের সঙ্গে
আপনার সেই আগের চেনা পরিচয়টুকু বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে।
সবশেষে, বই পড়া কেবল একটি অভ্যাস নয় এটি অনেক সময় একটি সম্পর্কও। সেই সম্পর্ক কখনো গভীর
পাঠে, কখনো কৌতূহলী উল্টেপাল্টে দেখা, আবার কখনো কেবল কয়েকটি লাইনের মধ্যেও তৈরি হতে পারে।
তাই বইয়ের কাছে যাওয়ার পথটি প্রত্যেক পাঠকের জন্য আলাদা হতে পারে এটাই হয়তো পাঠের সৌন্দর্য।
শুভেচ্ছা রইল
৯|
০৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: @ রাজীব নুরঃ বাল্যকালে আদর্শ লিপি -র অক্ষরগুলো দেখে মনে হতো সারা পাতা জুড়ে এত বড় বড় হরফে লেখা কেন এই বই? তারও তিনদশক পর মনে হলো আদর্শ লিপি -ই ভাল ছিল। ও রকম বড় বড় হরফে যদি সব বই লেখা হতো।
এখন এলো ই-বুকের জামানা। ম্যাগ্নিফাই করে পড়া যায়। কিন্তু স্ক্রিন সহ্য করা কঠিন হয়ে যায়।
চোখের দৃষ্টি যেন ঝাপসা হয়ে আসছে।
বাল্যকালে দেখে অবাক হতাম সবাই কেন চশমা গলায় ঝুলিয়ে রাখে!
একেবারেই বুঝতাম না। এখন বুঝি।
০৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:২২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার মন্তব্যটির প্রতি রাজিব সুরের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলো @ রাজীব নুর। তাবে এই সুযোগে আমার নীজের
কিছু কথাও না হয় বলে গেলাম এখানে ।
আপনার মন্তব্যটা পড়ে বেশ হাসিও পেল, আবার নিজের অবস্থার সঙ্গেও মিল খুঁজে পেলাম! সত্যিই, ছোটবেলায়
আদর্শ লিপি-র সেই বড় বড় অক্ষর দেখে মনে হতো এত বড় করে লিখার কী দরকার ছিল! তখন তো মনে হতো
আমরা বেশ বড় হয়ে গেছি, ছোটদের বই পড়ার বয়স পেরিয়ে গেছি। অথচ সময়ের কী অদ্ভুত পরিহাস কয়েক
দশক পর এসে মনে হয়, আহা! সেই বড় বড় হরফই যদি সব বইয়ে থাকত, তাহলে পড়াটাও কত আরামেই হতো!
ই-বুকের যুগে অবশ্য প্রযুক্তি একটু সান্ত্বনা দিয়েছে ম্যাগ্নিফাই করে অক্ষর বড় করা যায়। কিন্তু আবার সেই
স্ক্রিনের ঝলকানি চোখকে বেশিক্ষণ সহ্যও করতে চায় না। ফলে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে কাগজের ছোট
অক্ষরেও কষ্ট, আর স্ক্রিনের আলোতেও শান্তি নেই!
আর চশমার কথাটা তো একেবারে মনের কথা বলেছেন। ছোটবেলায় দেখতাম অনেকেই চশমা গলায় ঝুলিয়ে রাখে
মনে হতো, এটা আবার কেমন অভ্যাস! তখন বুঝতাম না। এখন বুঝি, এটা কোনো শখ নয়, বরং সময়ের সঙ্গে
অর্জিত এক ধরনের অভিজ্ঞতার অলংকার!
সব মিলিয়ে মনে হয় জীবনের একটা মজার চক্র আছে। ছোটবেলায় যেটা দেখে অবাক হতাম, বড় হয়ে দেখি
আমরাও ঠিক সেই জায়গাতেই এসে দাঁড়িয়েছি!
শুভেচ্ছা রইল
১০|
০৯ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
এসে দেখার জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
১১|
১০ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫৮
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
একটু দেরীতে হলেও পোস্টটা পড়া হলো।
চমৎকার কিছু আইডিয়া দিয়েছেন।
আমি মনে করি, প্রতিটি প্রিন্টেড বইয়ের ডিজিটাল ভার্সন থাকলে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাঙ্গালী পাঠকরা উপকৃত হতেন। প্রকাশকদের এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়াটা জরুরী।
একজন ভালো লেখকের পাঠক তৈরী হতে কয়েক যুগ লেগে যেতে পারে। ডিজিটাল দুনিয়ায় সেই পাঠক তৈরি করা যতটা সহজ, মুদ্রিত বইয়ের ততো সহজে পারা যায় না।
ডিজিটাল বইয়ের খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ তুলনামূলক ভাবে সহজ।
আর, আধুনিক পিডিএফ পাঠ রেস্ট্রিকশন করে দিলে একটি ডিজিটাল বই কয়বার খোলা যাবে, কিংবা শেয়ার করা যাবে কি না - এসবও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আন্তর্জাতিক অনলাইন বই পাঠাগারগুলো এই ধারা ফলো করছে বলেই এখনো লাভের সম্মুখীন হচ্ছে।
আরেকটি ব্যাপার যোগ করতে চাই। আমাজনের মতো অনেক ওয়েবসাইট থেকে ইচ্ছা করলে ১টি বই প্রিন্ট করে নেওয়া যায় যদি ডিজিটাল ভার্সন সংরক্ষিত থাকে। এটাকে 'প্রিন্ট অন ডিমান্ড' বলা হয়। এভাবে প্রিন্ট করা আমাদের দেশের প্রকাশকরা এখনো শুরু করেন নাই। ব্যাপারটা ভেবে দেখার মতো বলে মনে হয়।
১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আইডিয়া চমৎকার অনুভুত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
আপনার মন্তব্যে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। সত্যিই, প্রতিটি
প্রিন্টেড বইয়ের ডিজিটাল ভার্সন থাকলে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে থাকা বাঙালি পাঠকরা সহজে সেই সাহিত্য
উপভোগ করতে পারতেন। এটি শুধু পাঠকের সুবিধা নয়, বরং লেখক ও প্রকাশক উভয়ের জন্যই একটি
নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। প্রকাশকদের এখনই ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
একজন ভালো লেখকের পাঠকসংখ্যা তৈরি করতে কয়েক যুগ লেগে যায়, কিন্তু ডিজিটাল দুনিয়ায় সেই কাজকে
অনেক দ্রুত এবং কার্যকরভাবে করা সম্ভব। ডিজিটাল বইয়ের খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণও তুলনামূলকভাবে সহজ।
আধুনিক পিডিএফ বা ইবুক ফরম্যাটে রেস্ট্রিকশন ও কপিরাইট কন্ট্রোল দিয়ে নির্দিষ্ট বই কতবার পড়া বা
শেয়ার করা যাবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক অনলাইন লাইব্রেরি ও ই-বুক প্ল্যাটফর্মগুলো এই
নিয়ম অনুসরণ করে লাভবান হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘প্রিন্ট অন ডিমান্ড’ (Print on Demand)। আমাজনের মতো ওয়েবসাইট
থেকে ডিজিটাল বই সংরক্ষিত থাকলে যে কেউ ইচ্ছা অনুযায়ী একটি কপি প্রিন্ট করতে পারে।এটি আমাদের
দেশের প্রকাশকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দিক খুলতে পারে, যা এখনও যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি।
ডিজিটাল রূপান্তর,পিডিএফ কন্ট্রোল ও প্রিন্ট অন ডিমান্ড এই তিনটি উদ্যোগ আমাদের সাহিত্যকে বিস্তৃত
পাঠকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। প্রকাশকদের এই সুযোগকে অবশ্যই
কাজে লাগানো উচিত।
শুভেচ্ছা রইল
১২|
১৪ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:১২
হুমায়রা হারুন বলেছেন: @ আলী ভাই, তাহলে আশা করি আপনার লেখা বইটি এবার Amazon থেকে পাওয়া যাবে।
আরো বলেছিলেন, আপনার শ'খানেক অপ্রকাশিত লেখা আছে। মানে ড্রাফট্ মোডে আছে । সেগুলো প্রকাশিত করা যায় না কি? সামনের পাতায় না রাখলেন। আপনার সাইটে যেয়ে তো পড়তে পারবো। আর কমেন্ট না চাইলে তা বন্ধ করে রাখলেন। কিন্তু তারপরও আমরা তো পড়ার সুযোগ পেলাম।
'আমাদের প্রযুক্তি' ফোরামে আমার কিছু কমেন্ট ছিল, যেগুলো খুব informative ছিল। আমি ভেবেছি ফোরাম-টা আজীবন থাকবে। তাই ব্যস্ততার জন্য কয়েক বছর আসিনি। এখন ফোরাম উধাও । আমার সখের লেখাগুলোও উধাও।
PC তে লেখালেখি, কাজ সবকিছু save করে রাখি। কিন্ত PC থেকে যখন অন্য কোথাও অবস্থান করি তখন bulk কাজগুলো সব একত্রিত করে, সাথে গল্প লেখার ফাইল একত্র করে স্থানান্তর হওয়া যায় না।
তাই এবার ভাবলাম কিছু কিছু করে গল্প blogspot এ রাখি। বিশেষ করে আমার লেখায় আপনার মূল্যবান মন্তব্যগুলো ওখানে রেখে দিই। সেরকম
আপনার অপ্রকাশিত লেখাগুলো প্রকাশিত হোক তাই চাই, যেন আমরা পড়তে পারি। ব্লগ-স্পটে, না হয় অন্য কোন প্ল্যাটফর্মে রাখেন । যেন আমরা পাঠকরা আপনার লেখা থেকে বঞ্চিত না হই।
আমি আমার সামুর কিছু লেখা এবং আমার অন্যান্য সব লেখা blogspot -এ নিয়ে আসছি। সময় পেলে দেখবেন প্লিজ। লিঙ্ক
ব্লগস্পট -হুমায়রা
১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৫৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ । আমার অপ্রকাসিত লেখাগুলি ড্রাফট হতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আপনার আগ্রহ
দেখে খুশী হলাম । তবে কথা হল আমার নীজেরই একটি ছোট প্রকাশনী আছে , সেখার মাধ্যমেই লেখাগুলি পুস্তক
আকারে দেয়ার প্লান আছে । এখন ব্যস্ত আছি অন্য একটি বিষয়ের প্রকাশনা নিয়ে ।
আপনার ব্লগে গিয়ে আপনার প্রোফাইল এবং কয়েকটি লেখা বিশেষ করে চিঠি ও রূপজীবিনী পড়ে এলাম।
সত্যি বলতে কী, লেখাগুলোর মধ্যে যে সংবেদনশীলতা, মানবিক অনুভব আর ভাষার মৃদু আবেগময় প্রবাহ
আছে, তা পাঠককে থামিয়ে পড়তে বাধ্য করে। মনে হয়েছে, এগুলো কেবল গল্প নয় জীবনের ছোট ছোট
অনুভূতির সূক্ষ্ম রূপায়ণ।
আপনার যে অভিজ্ঞতার কথা বললেন একটি ফোরামে বছরের পর বছর জমে থাকা তথ্যসমৃদ্ধ মন্তব্য ও লেখা
হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়া এটা সত্যিই কষ্টদায়ক। অনলাইনের জগতে এমনটা প্রায়ই ঘটে; আমরা ভেবে নিই
কোনো প্ল্যাটফর্ম চিরকাল থাকবে, কিন্তু একদিন দেখি স্মৃতিগুলোই উধাও হয়ে গেছে। তাই আপনার এই উদ্যোগ
নিজের লেখা ধীরে ধীরে blogspot-এ সংরক্ষণ করা খুবই বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত বলে মনে হলো। এতে লেখাগুলো
যেমন নিরাপদ থাকবে, তেমনি নতুন পাঠকের কাছেও পৌঁছানোর সুযোগ পাবে।
আর একটি বিষয় বিশেষভাবে স্পর্শ করেছে আপনি আপনার লেখায় পাওয়া পাঠকের মন্তব্যগুলোও সংরক্ষণ
করতে চাইছেন। আসলে লেখক ও পাঠকের এই সংলাপই তো একটি লেখাকে জীবন্ত করে রাখে।
লিঙ্কটিমতে সময় করে অবশ্যই আবারো দেখবো। আপনার লেখালেখির ধারাটা যেন এভাবেই চলতে থাকেএই
কামনা রইলো। আর আপনার মতোই আমিও চাই, অপ্রকাশিত লেখাগুলোও কোনো না কোনো প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ
পাক, যেন পাঠকরা সেই সৃষ্টির স্বাদ নিতে পারে। লেখালেখির এই যাত্রা দীর্ঘ হোক, সমৃদ্ধ হোক।
শুভ কামনা রইল
১৩|
১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৫
রোকসানা লেইস বলেছেন: সুন্দর লেখা বই নিয়ে । আমরা যারা দু চারটা বইয়ের মালিক তাদের কাছে বই একটি স্বপ্নের মতন। জীবনের কত সময় ব্যয় করে ভাবনা লিখে যাই।
প্রথম বই প্রকাশের স্মৃতি তো একটি অসম্ভব সুন্দর ভালোলাগার অংশ হয়ে আছে জীবনে। আমিও একটি ছাপা হওয়া বইয়ের মালিক। শুধু পত্রিকার পাতায় ছাপা নয় আস্ত একটা বই প্রকাশ হওয়ার অনুভুতি পাওয়াটা বিশাল একটা ব্যাপার।
তবে আমার প্রথম বই যখন প্রকাশ হয়েছিল তখনও ডিজিটাল কোন বিষয়ের সাথে আমাদের জীবন জড়ানো ছিল না। বইয়ের প্রতি মানুষের অনেক আগ্রহ ছিল তখনও।
বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে এখনও। তবে বাংলাদেশে সংখ্যা খুব দ্রুত কমছে।
আমার বই যদি শুধু আমার পরিচিতজনরাই কিনেন বা আমি জোড় করিয়ে কিনাই এর মধ্যে কোন আনন্দ নেই।
বাংলাদেশে ব্যাপারটা হয়ে গেছে এখন তেমনি।
বই প্রকাশের সৌন্দর্য কমে গেছে নিজেরা প্রকাশককে টাকা দিয়ে বই প্রকাশ করার মাধ্যমে। লেখকের মানও কমেছে অনেক।
একটা বই যদি অচেনা পাঠকের কাছে না পৌঁছায় তাহলে সে বই প্রকাশের মূল্য কি। লেখকের আগ্রহে বই প্রকাশ হয় । প্রকাশকের তেমন দায় দায়িত্ব থাকে না। পাঠকের কাছে বই পৌঁছানোর।
পাঠকরাও এখন পড়তে চান এবং বেশির ভাগ পড়া ফ্রিতে করে নিতে চান। ফ্রিতে পড়ার অনেক সুযোগ । তবে কি পড়ছেন কতটা ভালো লেখা পাচ্ছেন সে সম্পর্কে যাদের ধারনা আছে তারা অবশ্যই প্রিয় লেখকের লেখা বই কিনে পড়বেন।
এক দুই ডলার থেকে একশর বেশি ডলারে এখনও বই বিক্রি হয় এবং পাঠক বই কিনে পড়েন।
ডিজিটাল মাধ্যমে বই পড়া অনেক সহজ। এবং ভালো বই কিনে পড়া যায়। চলতে ফিরতে হাতে একটা ডিভাইস থাকলে তার মধ্যে পড়া যায় সময় পেলেই।
বছর কুড়ি আগে বিদেশের লাইব্রেরিতে মাধুকরি বইটা এনেছিলাম। এত বড় সাইজের বই সাথে রাখা সম্ভব ছিল না। যখন ঘন্টা খানেক ধরে বাসে চলতাম সে সময় পড়তে পারতাম। কিন্তু বইয়ের ভিতর মন পরে থাকলেও সময়টা কাজে লাগাতে পারতাম না। ডাউস আকারের জন্য।
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ‘পদ্মা মেঘনা যমুনাও একটা ডাউস বই সাথে নিয়ে ঘুরতাম। এ ছাড়া খোয়াবনামা এবং আরো বই অবসর সময়ে বাসে, ট্রেনে চলার সময়ে পড়ে শেষ করেছি। সুযোগ ছিলনা বলে বিশাল বই সাথে নিয়ে ঘুরতে হতো। সেই সময বিদেশিদের দেখতাম কিনডলে বই পড়ছে।
ডিজিটাল বিষয়টা সহজ। তবে বাংলা বই খুব একটা পাওয়া যায় না। আমার বই নামে একটা ওয়েব আছে গত কয়েক বছর ধরে দেখছি। সব বই তারা সেখানে দিয়ে রেখেছে। লেখক জানেন কি না জানি না। লেখকের রয়ালিটি সব সময় মারা যায় বাংলাদেশে।
ডিজিটাল বিষয়টা ছড়িয়ে পরলে ভালোই হবে । প্রযুক্তির সাথে বদল অবশ্যম্ভাবী।
১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার অভিজ্ঞতাভিত্তিক মন্তব্যটি পড়তে গিয়ে মনে হলো এ যেন একজন লেখকের দীর্ঘ পথচলার অন্তরঙ্গ
স্মৃতিচারণ। প্রথম বই প্রকাশের যে অনুভূতির কথা বললেন, সেটি সত্যিই অনন্য; নিজের ভাবনা, অনুভূতি আর
সময়ের বিনিয়োগ একদিন মলাটবন্দি হয়ে হাতে ধরা এ এক অন্যরকম প্রাপ্তি। সেই আনন্দ কেবল লেখকরাই
গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন।
আপনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেছেন,বই প্রকাশের প্রক্রিয়া, পাঠকের আচরণ এবং
প্রযুক্তির প্রভাব সবকিছুই সময়ের সাথে বদলে যাচ্ছে। একসময় পাঠকের হাতে হাতে বই ঘুরত, লাইব্রেরি ছিল
জ্ঞানের প্রধান ভান্ডার; আর আজ ডিজিটাল মাধ্যম সেই জায়গার অনেকটা দখল করে নিয়েছে। আপনার বাস
ট্রেনের দীর্ঘ যাত্রায় বড় বড় বই সঙ্গে নিয়ে পড়ার স্মৃতির কথা শুনে বোঝা যায়, বইয়ের প্রতি আপনার টান কতটা
আন্তরিক ছিল। এখন সেই কাজটাই ছোট্ট একটি ডিভাইসে সহজে করা যায়, এটাও প্রযুক্তির এক ইতিবাচক দিক।
তবে আপনার যে উদ্বেগ অচেনা পাঠকের কাছে বই না পৌঁছানো, লেখকের যথাযথ সম্মান ও রয়্যালিটির প্রশ্ন সেটি
সত্যিই ভাবনার বিষয়। একটি বইয়ের প্রকৃত মূল্য তখনই তৈরি হয়, যখন তা লেখকের ব্যক্তিগত পরিসর ছাড়িয়ে
পাঠকের বিস্তৃত জগতে পৌঁছে যায়।
সম্ভবত ভবিষ্যতের পথটি হবে মুদ্রিত বইয়ের আবেগ আর ডিজিটাল মাধ্যমের সুবিধা ্দএ টোর একটি সুন্দর
সমন্বয়। প্রযুক্তি বদলাবে, পাঠের মাধ্যমও বদলাবে, কিন্তু ভালো লেখার প্রতি মানুষের আকর্ষণ শেষ পর্যন্ত টিকে
থাকবে এই বিশ্বাসটুকুই আমাদের লেখক ও পাঠক উভয়ের জন্য আশার জায়গা।
শুভেচ্ছা রইল
১৪|
১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০২
জিকোব্লগ বলেছেন:
একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলি। লক্ষ্য করেছি, অনেক সময় আপনি সোনাগাজীর মত মূর্খের
সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, আপনার মতো প্রতিভাবান ও
জ্ঞানসমৃদ্ধ একজন মানুষের সময় ও মনোযোগ আরও গঠনমূলক আলোচনায় ব্যয় হলে তা ব্লগের
জন্য বেশি ইতিবাচক হবে। এইজন্যে কেন সোনাগাজীর মতো একজন মূর্খের সঙ্গে এমন তর্কে লিপ্ত
হন—এটা আমার কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না। মনে হয়, আপনি পিএইচডি করে থাকলেও এবং
অনেক আর্টিকেল প্রকাশ করলেও হয়তো খুব সাধারণ একটি কথার গুরুত্ব ঠিকভাবে উপলব্ধি
করেননি—‘মূর্খের সঙ্গে তর্কে জড়ানো ঠিক নয়।’ বিষয়টি যদি মাথায় থাকত, তাহলে সম্ভবত অন্য
অনেক সম্মানিত ব্লগারের মতো আপনিও সোনাগাজীকে উপেক্ষা করতেন।
ব্লগে অনেক সম্মানিত ব্লগার আছেন, যারা সোনাগাজীর মতো একজন মূর্খের পোস্টে মন্তব্যের চেয়ে
সাধারণত নীরব থাকা বা উপেক্ষা করাকেই বেশি কার্যকর মনে করেন।
অবশ্যই কীভাবে ব্লগিং করবেন, সেটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। তবু আপনার মতো
একজন প্রতিভাবান মানুষ, যিনি স্বনামে ব্লগিং করছেন, তিনি যেন সব সময় সম্মানজনক
অবস্থান বজায় রেখে গঠনমূলক আলোচনায় নেতৃত্ব দেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সেই ভাবনা
থেকেই কথাগুলো বলা।
১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মুল্যবান পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ ।
উহাকে যতটুকু মুর্খ বলে জানতাম
দিন কয়েকের ভিতরেই জেনে গেছি
সে আসলেই একটি অসাধারণ!!!
আমার বোধদয় হয়ে গেছে
অনেক আগেই ।
তার পোষ্টে বেশী কিছু বলা উলোবণে
মুক্তা ছড়ানোর মতোই ।
শুভেচ্ছা রইল
১৫|
১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: আমার ব্লগ-স্পট এর লিঙ্ক দেখে আসার জন্য ধন্যবাদ আলী ভাই।
১৮ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:১৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আমি মাঝে মধ্যেই আপনার ব্লগপোস্টে ঢু মারব ইনসাল্লাহ ।
শুভেচ্ছা রইল
১৬|
১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১৯
হুমায়রা হারুন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আলী ভাই। ওখানে আমি চারটা ভাগ করেছিঃ
১.একটিতে আমার পোস্ট সমূহ
২. পোস্টের মন্তব্য সমূহ, প্রিয় ব্লগারদের সহকারে
৩.সাহিত্য পর্যালোচনা ( আপনার পর্যালোচনাগুলো দিয়ে শুরু করেছি)
৪.ট্রান্সক্রিপ্ট
অপেক্ষায় আছি আপনার অপ্রকাশিত লেখা অনলাইনে দেখার জন্য
১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৩৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আমি সময় হাতে নিয়ে সবগুলি দেখব ইনশাআল্লাহ ।
লেখা প্রকাশ হলে জানান দিব ।
শুভেচ্ছা রইল
১৭|
১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৪০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: আমি আমার ম্যাগাজিনের লেখকদের জন্য ২২ টি ই-বুক করেছিলাম । ইচ্ছে ছিল যে তাদের লেখাগুলো এক জায়গায় রাখব।
তারা ব্লগ করবার ইচ্ছা করতেন, আবার করতেন না। আমি তাদের লেখা সেইভ করে রাখার জন্য ই-বুক করেছি। আপনার লেখা পেলে আমি আপনার নামে পেইজ বানিয়ে ব্লগের পাতায় ঢুকিয়ে দিতাম। এভাবে অনলাইনে থাকতো লেখাগুলো।
এটা একটা ক্লিকের ব্যাপার মাত্র। সময়ের অভাব থাকলে আমাকে দিতে পারেন অনুমতি।
ম্যাগাজিনের লিঙ্ক পাতার শেষের দিকে -প্রকাশিত ই -বুক দেখতে পাবেন।
২২ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৩২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ লিংকটি এখানে তুলে দিয়ে যাওয়ার জন্য । লিংক ফলো করে দেখে আসলাম কিছু কবিতা পাঠ করে
আসলাম । কবিতার কথায় পরে আসব একদিন অন্য সময় । এ খন যে বিষযটি আমার নজর কেরেছে তা হলো
গত ৫ বছর আগে কানাডার টরেন্টো হতে প্রকাশিত নব আলোকে বাংলা’র উত্তরাধিকার। অঙ্গীকার। দূরদৃষ্টির
প্রতি । সুচীপত্র ফলো করে দেখলাম বেশ উচ্চমানের অসংখ কবিতার সমাহার রয়েছে সেখানে । ধীরে ধিরে
তার সবগুলিই পাঠ করব । মনে হল টরেন্টোতে রয়েছে বেশ সহৃদয় গুণী কবিকুলের সমাবেশ , রয়েছে বাংলা
সাহিত্য চর্চার এক উর্বর ভুমি । সেখানে রয়েছেন এ ব্লগের আরো বেশ কিছু গুণী ব্লগার।
আমার কথা হলো আমি ব্যক্তিগত ভাবে যেখানেই প্রবাসে বাংলা কমিউনিটির সাথে সাক্ষাতে কিংবা ভার্চুয়ালি
কথা বলার সৃযোগ পাই সেখানে সকলকেই ( ছাত্র ও তাদের অভিভাবকদের)বলি তারা নীজে কিংবা তার ছেলে
মেয়েদেরকে স্কুলের শেষ বর্ষে সেকেন্ড বা অপসনাল লেঙ্গুয়েজ নেয়ার সুযোগ থাকলে তারা যেন বাংলাকে
তাদের দ্বিতীয় বা অপসনাল লাংগুয়েজ হিসাবে নেয় । তাতে করে নীজে যেমন নীজের মাতৃভাষা বাংলা শিখতে
পারবে তেমনি তাদেরকে উচ্চ ক্রেডিট/স্টার পেতে সহায়তা করবে খুব সহজে , তাদের সিভিতে পারনাল
স্টেটমেন্ট বেশ শক্ত হবে ।
তাই নব আলোকে বাংলা এর সুত্র ধরে বলি নীচের কথাগুলি । বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন নব আলোকে
বাংলার সকল কর্নধারদের সাথে আলোচনা করে ।
আমি জানি কানাডায় স্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিভাষিক, শিক্ষার্থীদের অন্তত ১টি ফ্রেঞ্চ কোর্স (সাধারণত গ্রেড ৯-এ)
নিতে হয়এরপর ফ্রেঞ্চ চালিয়ে যাওয়া ঐচ্ছিক সুতরাং প্রযুক্তিগতভাবে: ১টি ফ্রেঞ্চ ক্রেডিট আবশ্যক, তবে অপসনাল
হিসাবে অন্যান্য ভাষা নিতে পারে ।
টরন্টোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী মানুষ রয়েছে, যদিও বেশিরভাগ পাবলিক হাই স্কুলে নিয়মিত
পাঠ্যসূচির ভাষা হিসেবে বাংলা সাধারণত অফার করা হয় না , তবে শিক্ষার্থীরা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলা
শিখতে এবং ক্রেডিট অর্জন করতে পারে।বাংলার জন্য প্রধান বিকল্পগুলো হলো:
ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজেস প্রোগ্রাম (স্কুল শেষে / সপ্তাহান্তে)
অনেক স্কুল বোর্ড (যেমন Toronto District School Board) কিছু স্থানে বাংলা ক্লাস অফার করে,
এগুলো সাধারণত স্কুল শেষে বা সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠের মূল ফোকাস থাকে পড়া, লেখা এবং কথা বলা।এগুলো সব সময় নিয়মিত দিনের ক্রেডিট হিসেবে
গণ্য নাও হতে পারে, তবে কখনও কখনও হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে বাংলা ক্রেডিট কোর্স হিসেবে নেওয়া যায় যথা নাইট স্কুল,সামার স্কুল বিশেষায়িত ভাষা কেন্দ্র,
এগুলোর প্রাপ্যতা বছর ভেদে পরিবর্তিত হয়।
হেরিটেজ / ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ ক্রেডিট অন্টারিও শিক্ষার্থীদের অপ্রচলিত ভাষায় ক্রেডিট অর্জনের
সুযোগ দেয় পূর্ববর্তী জ্ঞানের মূল্যায়নের মাধ্যমে,বিশেষ ভাষা প্রোগ্রামের মাধ্যমে এটি কখনও কখনও
ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজেস ক্রেডিট নামে পরিচিত।
প্রাইভেট বা কমিউনিটি স্কুল হিসাবে কিছু বাংলা কমিউনিটি সংগঠন গঠনমূলক বাংলা শিক্ষা, ক্রেডিট স্বীকৃতির
প্রস্তুতি (কিছু ক্ষেত্রে) প্রদান করে । তবে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হল টরেন্টোতে জানামতে বাংলা ভাষা সাংস্কৃতিক
ও শিক্ষাগতভাবে সমর্থিত তবে নিয়মিত স্কুল সময়সূচিতে এটি ফ্রেঞ্চ বা স্প্যানিশের মতো ব্যাপকভাবে উপলব্ধ নয়।
কিন্তু নব আলোকে বাংলা এর মত কমিউনিটি উদ্যোগে একজন বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষার্থী টরন্টোতে বাংলা
শিখতে পারে এবং কখনও কখনও এর জন্য স্কুল ক্রেডিটও পেতে পারে। তবে সাধারণত এর জন্য বিশেষ
প্রোগ্রামে যোগদান করতে হয় অথবা আলাদা ব্যবস্থা করতে হয়।
শুভেচ্ছার রইল
১৮|
২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪
হুমায়রা হারুন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আলী ভাই।
আপনি বলছিলেনঃ মনে হল টরেন্টোতে রয়েছে বেশ সহৃদয় গুণী কবিকুলের সমাবেশ , রয়েছে বাংলা সাহিত্য চর্চার এক উর্বর ভুমি । সেখানে রয়েছেন এ ব্লগের আরো বেশ কিছু গুণী ব্লগার।
ব্যাপারটা তা নয়। এই সাইটের Domain সাবস্ক্রাইব করা হয়েছে টরোন্ট থেকে। তাই ডোমেইনের স্থান অনুসারে প্রকাশনার স্থান টরন্টো উল্লেখিত হয়েছে, যেহেতু এটি একটি ই-ম্যাগাজিন। লেখকরা সবাই সামু'র লেখক। তখন সবাই লেখা লিখে যার যার পাতায় দিতেন। আমি ঘুরে ঘুরে লেখা পছন্দ করতাম। লেখকের কাছে ছাপানোর অনুমতি নিতাম । ম্যাগাজিন বানাতাম। শুধুই শখের বশে। তাছাড়া ভাল লেখা এক জায়গায় রাখার লোভও সামলাতে পারতাম না।
এই ম্যাগাজিনের ৫% লেখক বাইরের। কিন্তু বাকী সবাই সামু'র।
২. টরোন্টতে বাংলা ভাষা শিখানোর স্কুল আছে আগে থেকে। গত বছর শুনেছিলাম আরেকটা স্কুল খুলবে। বাংলা স্কুল নিয়ে এর বেশী কিছু জানিও না। আমি রিয়্যাল- ওয়ার্ল্ডের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করি না। ভাল লাগে না। আমার সব কিছুই ভার্চুয়াল। যার ফলে এখানকার বাঙ্গালী সমাজের কথা ঠিক জানি না।
৩. ই -ম্যাগাজিন তৈরীর চিন্তা এসেছিল ২০০৫-এ। তখন 'অনিন্দ্যলোক' তৈরি করতাম। ২০০৬-২০০৭ এ 'ভিন্নমত'। তারপর ২০০৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত 'কার্তিকের কুয়াশা' এবং 'নব আলোকে বাংলা'।
যখন দেখতাম, বাংলা অক্ষর গুগলে চাপলে, গুগল তার ডাটা -বেইজ থেকে, সেই বাংলা অক্ষর দিয়ে একটা অশ্রাব্য শব্দ তৈরি করে দেখায়, তখন বুঝতাম তার ডাটা -বেইজে এসব অশ্রাব্য শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দের মজুদ নাই। অর্থাৎ ভাষার কি অসম্ভব রকমের দৈন্যতা চলছিল তখন। ২০০৪/২০০৫ এর দিকের কথা বলছি।
তখন মনে হলো ই-ম্যাগাজিন বানাই। গুগল সার্চ ইঞ্জিনে বাংলায় কিছু ভাল শব্দমালা যোগ হোক । সেই থেকে কাজ শুরু। তারপর ২০০৬ কি ২০০৭ থেকে আন্তুর্জালে বাংলা ব্লগ শুরু হয়ে যায়। এখন তো অনেক ভালো অবস্থানে এসেছে বাংলা ভাষা। শুধু আফসোস যে শিক্ষিতের সংখ্যা সে হারে বাড়ে নি।
২৫ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৩৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানানোর জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
১৯|
৩০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৩০
আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,
প্রথমেই বলে নিই, পোস্টটির অনেক মন্তব্য এবং বিশেষ করে তাদের প্রতিমন্তব্যে যে জ্ঞান চর্চিত হয়েছে সে কারনেই পোস্টটিকে প্রিয়তে নিয়ে রাখলুম।
ডিজিটাল প্রকাশনা (পিডিএফ) আর মুদ্রিত বই, কোনটি বেশি সমাদৃত আর কেনই বা সমাদৃত তা পাঠকদের মন্তব্যেই রয়েছে। তাই ঐদিকে আর না যাই!
তবে যে যাই-ই বলুক, ছাপার বইয়ের তুলনা হয়না। আমি ছাপার বই পড়তে যে তৃপ্তি আর একাগ্রতার দেখা পাই তা পিডিএফ এর বইতে পাইনা। ভূরি ভূরি পিডিএফ বই ডাউনলোড করা আছে কিন্তু পড়তে জুৎ পাইনে। ঠিক যেমন, হাত দিয়ে মরিচ পোড়া আর পান্তা ভাত খেতে যে মজা , কাঁটাচামচ দিয়ে খেলে সে মজাটা আর থাকেনা!
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৫৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বেশ অনেকদিন পর ব্লগে সক্রিয় হতে দেখে খুব ভাল লাগছে ।
এই অতি সাধারণমানের একটি পোস্ট এর উপর মন্তব্য আর প্রতিমন্তব্যের জন্য প্রিয়তে নেয়ার জন্য মন্তব্য দান কারী
পাঠকসহ আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা ।
তবে যে যাই-ই বলুক, ছাপার বইয়ের তুলনা হয়না। আমি ছাপার বই পড়তে যে তৃপ্তি আর একাগ্রতার দেখা পাই
তা পিডিএফ এর বইতে পাইনা। ভূরি ভূরি পিডিএফ বই ডাউনলোড করা আছে কিন্তু পড়তে জুৎ পাইনে। ঠিক যেমন,
হাত দিয়ে মরিচ পোড়া আর পান্তা ভাত খেতে যে মজা , কাঁটাচামচ দিয়ে খেলে সে মজাটা আর থাকেনা!
আপনার এই অনুভূতিটি কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের প্রকাশ নয়; বরং পাঠ-সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত এক প্রাচীন ও
মানবিক অভিজ্ঞতার প্রতিধ্বনি। সত্যিই, ছাপার বইয়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটা অনেকটা স্পর্শনির্ভর এক অন্তরঙ্গতার
যেখানে কাগজের গন্ধ, পৃষ্ঠার উল্টানো শব্দ, আর চোখের সামনে অক্ষরের স্থির উপস্থিতি মিলেমিশে এক ধরনের
মনোনিবেশ ও তৃপ্তির পরিবেশ তৈরি করে। এই অভিজ্ঞতা কেবল তথ্য গ্রহণের নয়, বরং এক প্রকার ধ্যানমগ্ন পাঠের,
যা ডিজিটাল স্ক্রিনের ক্ষণস্থায়ী আলোর ঝলকে প্রায়ই অধরা থেকে যায়।
পিডিএফ বা ই-বুক নিঃসন্দেহে জ্ঞানপ্রাপ্তির সহজলভ্যতা বাড়িয়েছে, কিন্তু তার সাথে সাথে পাঠের গভীরতা ও আত্মিক
সংযোগ অনেক সময় শিথিল হয়ে পড়ে। স্ক্রিনে পড়ার সময় আমাদের মন অনিবার্যভাবে বিভ্রান্তির দিকে ধাবিত হয়, নোটিফিকেশন, চোখের ক্লান্তি, কিংবা দ্রুত স্ক্রল করার অভ্যাস মনোযোগকে ভেঙে দেয়। ফলে, পাঠ আর সাধনার
মতো থাকে না, হয়ে দাঁড়ায় কেবল তথ্যের উপরিভাগ স্পর্শ করা।
আপনার দেওয়া উপমাটি হাতে মরিচ পোড়া আর পান্তা ভাত খাওয়ার সঙ্গে কাঁটাচামচের তুলনা এখানেই
অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল স্বাদের নয়, বরং অভিজ্ঞতার সারল্য ও স্বাভাবিকতার প্রতীক। ঠিক তেমনি, ছাপার
বই আমাদের পাঠকে এক ধরনের প্রাকৃতিক ছন্দে বেঁধে রাখে, যেখানে মন ধীরে ধীরে নিমগ্ন হয়, চিন্তা প্রসারিত হয়,
আর জ্ঞানের সঙ্গে এক গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অতএব, প্রযুক্তির অগ্রগতিকে অস্বীকার না করেও বলা যায় ,ছাপার বইয়ের যে আত্মিক আবেদন ও মনঃসংযোগ সৃষ্টির
ক্ষমতা, তা এখনো অনন্য ও অতুলনীয়। এটি কেবল পড়ার মাধ্যম নয়; বরং এক নীরব সাধনা, যেখানে পাঠক ও
পাঠ্যের মধ্যে এক গভীর সংলাপ স্থাপিত হয়।
সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ
শুভেচ্ছা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২৭
নতুন বলেছেন: বর্তমানের প্রজন্ম বিশ্বসাহিত্যের জ্ঞান ছাড়াই বড় হচ্ছে। বেশিরভাগই সোসাল মিডিয়ার ভুল তথ্য জেনে বড় হচ্ছে।
প্রিন্টেট বই ভবিষ্যতে একটা বিলাশি অভ্যাস হিসেবে দেখা যাবে সম্ভবত।
বই মেলাকে সময়ের সাথে তালমালিয়ে ডিজিটাল বই এবং বই পড়ে জ্ঞানচর্চায় মানুষকে উদ্ভধ্য করতে চেস্টা চালিয়ে যেতে হবে।