| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইফতেখার ভূইয়া
গণতন্ত্র মুক্তি পাক, পরিবারতন্ত্র নিপাত যাক
কাকতালীয়ভাবে ২৪-এর নির্বাচনের দিন আমি বাংলাদেশে বেড়াতে আসি। যদিও পরিকল্পনামাফিক আমার আসার কথা ছিলো নির্বাচনের আগের দিন। নিউ ইয়র্ক থেকে সৌদীয়া এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে রিয়াদে এসে ট্রানজিটে আটকা পড়ি। বাংলাদেশে ঘন কুয়াশা থাকার কারনে আমাদের ফ্লাইটটি বাতিল হয়ে যায়। প্রায় ২৪ ঘন্টা এয়ারপোর্টে বসে থাকতে হয়েছে, তবুও বাংলাদেশে স্বজনদের দেখার প্রত্যাশায় সে কষ্ট তখন কষ্ট বলে মনে হয় নি।
বাংলাদেশে এসে ক'মাস পরেই যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লো, তার প্রথম থেকেই আমি সবকিছু সামনে থেকেই দেখেছি। আন্দোলনের টুকরো টুকরো ভিডিও ধারন করতে পেরেছিলাম। সব সময় আমার ভ্লগ ক্যামেরা নিয়ে বের হতে পারিনি। আমার পরিবারও আমাকে বের হতে দিতে চায়নি তদুপরি কিছু ভিডিও করতে পেরেছিলাম। তার কিছু এখানে শেয়ার করছি।
জুলাই ১৮, ২০২৪
ছোট্ট একটা ভিডিও, সকাল থেকেই কুড়িল বাস স্ট্যান্ডের আশে-পাশে অবস্থান করছিলাম। ছাত্র-জনতার হঠাৎ আগমন দেখে তাদের সাথে এগিয়ে যাওয়া হলো কিছু ভিডিও করার উদ্দেশ্যে।
জুলাই ১৯, ২০২৪
দিনটি ছিলো শুক্রবার। ইতোমধ্যেই নর্থ-সাউথ, এ.আই.ইউ.বি. ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ ক'জন ছাত্রদের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠেছিলো। ওরাই ফোন করলো আমাকে, ভাইয়া আমরা প্রগতি স্মরণী যাচ্ছি তুমিও চলে আসো। অগত্যা ক্যামেরা নিয়ে ভো-দৌড়। এক সময় দেখি মাথার উপর রেব-এর হেলিকপ্টার থেকে টিয়ারগ্যাস মারা হচ্ছে। ভারী মানুষ আমি, দৌড়াতে কষ্ট হচ্ছিলো। এখানে পালানোর চেষ্টা করছিলাম পরে।
আগস্ট ৩, ২০২৪
ক'দিন আগে থেকেই দেখছি রাত হলেই বসুন্ধরায় বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়ে ব্লক রেইড দিচ্ছে পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। স্ত্রী আর সন্তানকে শ্বশুর বাড়ীতে রেখে আসাটাই নিরাপদ মনে হয়েছিলো। ওদেরকে নানা বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে আমি ঢাকায় ফিরে এসে যোগ দিলাম সন্ধ্যার দিকে।
আগস্ট ৪, ২০২৪
পরদিন সকাল হতেই চলে গেলাম। ততক্ষণে ছাত্ররা রাস্তা দখল করে নিয়েছে। ওদের সাথে কথা-বার্তা বলে বোঝার চেষ্টা করছিলাম কি হতে পারে।
আগস্ট ৫, ২০২৪
সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিলো থেমে থেমে। বাসায় আমি একা। পরের ব্লকে থাকা আমেরিকা প্রবাসী এক ব্যারিষ্টার ভাইকে ফোন দিলাম। তিনি আর আমি এক সাথে বের হয়ে গেলাম। তারপর ভিডিওতেই দেখতে পাবেন সব। বাকিটা ইতিহাস।
©somewhere in net ltd.