নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলোর প্রতিবিম্বে বিষন্ন অন্ধকার

প্রতিবিম্ব প্রতিচ্ছায়া

প্রতিবিম্ব প্রতিচ্ছায়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

আবারও প্রেম আসছে

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩৮

আমি আবারো প্রেমে পড়লাম।

ব্যাপারটা ছিলো আচমকা ও অভাবিত। এটা ছিলো অভূতপূর্ব ও অনন্য। ভাবতেই পারিনি এটা ঘটবে। তবুও ঘটে গেলো।

এটা ছিলো হেমন্তের একটা সন্ধ্যায়। পৃথিবী ছিলো নরোম ও কোমল। একটু ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছিলো।

আমরা ছিলাম সাতজন। তাগড়া জোয়ান। তবুও আমরা হার মেনেছি তাঁর কাছে। এবং তার প্রেমে পড়ে গেলাম।


একটা করপোরেট অফিসে আমরা নতুন রিক্রুট হয়েছি। আমাদের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এইচআরএম ভবন থেকে রাস্তার ওপারে হেড অফিসে ওনার গাইডে হেড অব ডিপার্টমেন্ট এর সাথে আমাদের মিটিং। আমরা ছিলাম ১৩ তলায়।

হ্যাঁ। তাগড়া জোয়ান হিসেবে একজন নারীর প্রতি আমাদের তাচ্ছিল্য ছিলো ঠিকই। কর্পোরেট জগতে নারীকে একটা শো-পিস হিসেবেই দেখা হয়। যাদের খুব আকর্ষণীয় ও যৌন আবেদনময়ী হতে হয়। যাতে কর্পোরেট অফিসে সুশিক্ষিত ও লাভজনক ভ্রমরদের টেনে আনা যায়। এটাও তো শোনা যায়, তারা বসের কিংবা ক্লায়েন্টদের শয্যা অলঙ্কিত করে। হয়ত এটা সত্য নয়। পুরুষদের ঈর্ষাবোধের অপপ্রচার। তবুও বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেকে ব্যবহার করে সুবিধা লাভের প্রবণতার পর্যবেক্ষণ এটা সত্যের মতো গেঁথে গিয়েছে।

তিনি পড়েছেন শাড়ি, ম্যাচিং করা ব্লাউজ- হয়ত অদর্শিত অন্তর্বাসও। খুব ভালো লাগছিলো। ভাজে ভাজে স্বপ্নকাতর শিহরণ।

কল্পনায় ভেসে যাচ্ছিলাম। হয়ত তিনি আমাদের চেয়ে আগে জন্মেছেন। তবুও অদৃশ্য পৃথিবীর স্বপ্নে ভেসে যেতে দেরী হলো না আমাদের।

লিফট নামছিলো তখন। নিচে নেমে ফিরে আসতে অনেকটা সময় লাগবে। আমাদের খাওয়া হয়নি তখনো। তাঁরও হয়নি। এইচআর এ রিপোর্ট করেই খেতে যাবো আমরা। পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে খুব। এটা হচ্ছে ক্লান্তি ও অপেক্ষার একঘেয়েমীতে।

ম্যাডাম বললেন আমরা সিঁড়িতে নামবো। তের তলা। বিস্মিত হলাম। তিনি একজন মেয়ে এবং এতটা বঙ্কিম চড়াই-উৎরাই হেঁটে যাবেন!? আমরা ছেলে। এবং আমাদের কুচ-পরোয়া নেহি।

তিনি ছিলেন আমাদের সামনে। এবং সামনেই থাকলেন। আমরা তাঁর পিছু পিঁছু দৌড়ালাম। ক্লান্তিতে এবং একই রকমভাবে ঘুরতে ঘুরতে মাথা ঘুরাচ্ছিলো। সাত তলা নামার আগেই তিনি নেমে গেলেন। এবং রাস্তার ওপারে গিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলেন। আর আমরা কোনমতে হাঁচড়ে পাঁচড়ে বাকী পথটুকু ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে নামলাম।

এটা ছিলো আমাদের জন্য পৌরুষীয় আঘাত। এবং আমরা বিস্মিত, অভিভূত ও মুগ্ধ হলাম।

এবং তিনি একটা মনস্তাত্বিক গেম খেললেন আমাদের সাথে। বুঝিয়ে দিলেন তার মূল্য। হেলাফেলার কোন উপায়ই রাখলেন না তিনি।

আমরা ভাবলাম তিনি অন্যগ্রহের একজন। এবং আমরা প্রত্যেকেই প্রেমে পড়লাম। এভাবে তিনি আমাদের জয় করে নিলেন।




মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০১

আরণ্যক রাখাল বলেছেন: লে হালুয়া| এরকম এক্সপার্ট মেয়ের সাথেই তো প্রেম করে মজা পাবেন| লেগে থাকুন বস! অবশ্য যদি লেগে থাকার মত হয়! সাতজন আবার একসাথে লেগে গেলেও ফ্যাসাদ :)

২| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৬

প্রতিবিম্ব প্রতিচ্ছায়া বলেছেন: হা হা হা। ভালো বলেছেন। এটা তো প্লেটোনিক লাভ হয়ে গেছে। ওনার কাছে মনস্তাত্ত্বিকভাবেই আমরা হেরে গেছি। আমরা লেগে থাকতে পারি। কিন্তু ওনি লেগে থাকবেন না কখনোই। :`>

৩| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:২৬

নাইমুল ইসলাম বলেছেন: আচ্ছা এইটা কি আপনার লেখা ছোটগল্প নাকি বাস্তব ঘটনা?
পড়ে মজা পেলাম! :)

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:২৯

প্রতিবিম্ব প্রতিচ্ছায়া বলেছেন: কঠিন বাস্তব

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.