নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মরুভূমির জলদস্যু

মরুভূমির জলদস্যু

মরুভূমির জলদস্যুর বাগানে নিমন্ত্রণ আপনাকে।

মরুভূমির জলদস্যু › বিস্তারিত পোস্টঃ

"বাসা" কবিতার ফুল ও গাছ গুলি

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:০৩

বাসা


ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে
আমার পোষা হরিণে বাছুরে যেমন ভাব
তেমনি ভাব ১শালবনে আর ২মহুয়ায়
ওদের পাতা ঝরছে গাছের তলায়,
উড়ে পড়ছে আমার জানলাতে।
৩তালগাছটা খাড়া দাঁড়িয়ে পুবের দিকে,
সকালবেলাকার বাঁকা রোদ্দুর
তারি চোরাই ছায়া ফেলে আমার দেয়ালে।

নদীর ধারে ধারে পায়ে-চলা পথ
রাঙা মাটির উপর দিয়ে,
৪কুড়চির ফুল ঝরে তার ধুলোয়;
৫বাতাবি-লেবু-ফুলের গন্ধ
ঘনিয়ে ধরে বাতাসকে;
৬জারুল ৭পলাশ ৮মাদারে চলেছে রেষারেষি;
৯শজনে ফুলের ঝুরি দুলছে হাওয়ায়;
১০চামেলি লতিয়ে গেছে বেড়ার গায়ে গায়ে
ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে।

নদীতে নেমেছে ছোটো একটি ঘাট
লাল পাথরে বাঁধানো।
তারি এক পাশে অনেক কালের ১১চাঁপাগাছ,
মোটা তার গুঁড়ি।
নদীর উপরে বেঁধেছি একটি সাঁকো,
তার দুই পাশে কাঁচের টবে
১২জুঁই ১৩বেল ১৪রজনীগন্ধা ১৫শ্বেতকরবী(বেল সম্ভবতো বেলী হবে)
গভীর জল মাঝে মাঝে,
নীচে দেখা যায় নুড়িগুলি।
সেইখানে ভাসে রাজহংস
আর ঢালুতটে চরে বেড়ায়
আমার পাটল রঙের গাই গোরুটি
আর মিশোল রঙের বাছুর
ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে।


ঘরের মেঝেতে ফিকে নীল রঙের জাজিম পাতা
খয়েরিরঙের-ফুল-কাটা।
দেয়াল বাসন্তী রঙের,
তাতে ঘন কালো রেখার পাড়।
একটুখানি বারান্দা পুবের দিকে,
সেইখানে বসি সূর্যোদয়ের আগেই।

একটি মানুষ পেয়েছি
তার গলায় সুর ওঠে ঝলক দিয়ে,
নটীর কঙ্কণে আলোর মতো।
পাশের কুটিরে সে থাকে,
তার চালে উঠেছে ১৬ঝুমকোলতা
আপন মনে সে গায় যখন
তখনি পাই শুনতে--
গাইতে বলি নে তাকে।
স্বামীটি তার লোক ভালো--
আমার লেখা ভালোবাসে, ঠাট্টা করলে
যথাস্থানে যথোচিত হাসতে জানে,
খুব সাধারণ কথা সহজেই পারে কইতে,
আবার হঠাৎ কোনো-একদিন আলাপ করে
--লোকে যাকে চোখ টিপে বলে কবিত্ব--
রাত্রি এগারোটার সময় ১শালবনে
ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে।


বাড়ির পিছন দিকটাতে
১৭শাক-সবজির খেত
বিঘে-দুয়েক জমিতে হয় ১৮ধান
আর আছে ১৯আম-২০কাঁঠালের বাগিচা
২১আসশেওড়ার-বেড়া-দেওয়া।

সকালবেলায় আমার প্রতিবেশিনী
গুন গুন গাইতে গাইতে মাখন তোলে দই থেকে,
তার স্বামী যায় দেখতে খেতের কাজ
লাল টাট্টু ঘোড়ায় চ'ড়ে।
নদীর ও পারে রাস্তা,
রাস্তা ছাড়িয়ে ঘন বন--
সে দিক থেকে শোনা যায় সাঁওতালের বাঁশি
আর শীতকালে সেখানে বেদেরা করে বাসা
ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে।


এই পর্যন্ত
এ বাসা আমার হয় নি বাঁধা, হবেও না।
ময়ূরাক্ষী নদী দেখিও নি কোনো দিন।
ওর নামটা শুনি নে কান দিয়ে,
নামটা দেখি চোখের উপরে--
মনে হয় যেন ঘননীল মায়ার ২২অঞ্জন
লাগে চোখের পাতায়।

আর মনে হয়
আমার মন বসবে না আর কোথাও,
সব কিছু থেকে ছুটি নিয়ে
চলে যেতে চায় উদাস প্রাণ
ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে।
=========================

এবার দেখে নেয়া যাক ছবি গুলি


১। শালবনে




২। মহুয়া




৩। তালগাছ




৪। কুড়চির ফুল




৫। বাতাবি-লেবু-ফুল




৬। জারুল




৭। পলাশ




৮। মাদার




৯। শজনে ফুল




১০। চামেলি




১১। চাঁপাগাছ




১২। জুঁই




১৩। বেলী




১৪। রজনীগন্ধা




১৫। শ্বেতকরবী




১৬ঝুমকোলতা




১। শালবনে



১৭শাক-সবজির খেত




১৮। ধান



১৯। আম




২০। কাঁঠাল




২১। আসশেওড়া




২২। অঞ্জন




ছবিসূত্র :
২ - কালের কন্ঠ
৫, ১৩ ও ১৯ - ছবিতে লেখা আছে
৯ - সচলায়তন
১২ - সমকাল
১৪ - banglafeeds.info
১৫ - bn.atomiyme.com
২০ - Sk Kabirul Hashan
২১ - উইকিপিডিয়া

বাকি ছবিগুলি আমার তোলা।

মন্তব্য ২২ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (২২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৩৫

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: কিছু অজানা ফুলের নাম জানা হলো/দেখা হলো
ধন্যবাদ

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:৪৫

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও জানাই মন্তব্যের জন্য।

২| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৫৫

ইন্দ্রনীলা বলেছেন: ভেবেছিলাম বাসাটা আপনার।

ঠিকানা চেয়ে নেবো আর সাথে ফুলদেরকেও দেখা শোনা জানা হবে।

কি যে সুন্দর একটা বাসা!

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:৪৬

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: না, ওটি আমার বাড়ি নয়। তবে ইচ্ছে আছে। এমন একটি বাড়ি করার। দাম জেনে এসেছি। আড়াই থেকে তিন লাখ খরচ করলে এমন চমৎকার একটি বাড়ি করা যায়।

৩| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৩৬

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: ওয়াও দারুণ।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:৪৬

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: ধন্যবাদ

৪| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৪২

জুল ভার্ন বলেছেন: কী অসাধারন সুন্দর লেখা, তারউপর বাড়তি পাওনা-বিভিন্ন রকমের গাছ-ফুলের ছবি!

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:৪৯

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: লেখা কই!!
ঐটি রবি বাবুর কবিতা। আমি শুধু গাছ আর ফুল গুলিকে মার্ক করে ছবি দিয়েছি।

৫| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:৪৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: কথার সঙ্গে ছবির মিলিয়ে চমৎকারভাবে পোস্টটি ফুটিয়ে তুলেছেন।++
আরশেওলাকে আমাদের এদিকে আসষট্টি গাছ বলে জানি।অথবা চলতি কথায় নামের অপভ্রংশ হতে পারে। অঞ্জন ফুলের সঙ্গে রঙ্গন ফুলের কি কোনো সাদৃশ্য আছে?

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:২৫

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য চমৎকার আলোচনা ও পোস্টে +এর জন্য।



আসশেওড়াকে আমাদের এদিকে বলে মটকিলা। এটির ডাল দিয়ে ওয়ানটাইম দাঁতের মাজন তৈরি করা হয়। কখনো সুযোগ হলে ব্যবহার করে দেখতে পারেন। চমৎকার কাজ করে।

অঞ্জন ফুলের সঙ্গে রঙ্গন ফুলের কোনো মিল নেই। ছবিটি খুব কাছ থেকে তোলা বলে এমনটা মনে হতে পারে। বরং এর সাথে কিছুটা মিল আছে কামরাঙ্গা ফুলের সাথে।

আবারও অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।

৬| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৯:১৩

আমারে স্যার ডাকবা বলেছেন: প্রথমবার পড়ে ভাবতেছি এ কেমন কবিতা! ১ শালবন ২ মহুয়া ৩ তালগাছ!!! :|| #:-S
পরে নিচে দেখলাম ছবিও দিয়েছেন :)

ভালো লাগলো। +

১৯ নাম্বার ছবিটা আমের না, ঐটা আম গাছ =p~

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৪৯

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যে চমৎকার আলোচনা ও পোস্টে +এর জন্য।


আসলে রবি বাবুর এই কবিতাটি এর আগের পোস্টে ছিলো। সেখানে কবিতায় থাকা গাছ আর ফুলের নামগুলি জানতে চেয়েছিলাম।
অনেকেই কবিতার এই গাছ আর ফুলের ছবি দেখতে চেয়েছিলেন বলে এখানে সেগুলি তুলে দেয়া হয়েছে।

কবিতায় ১৯ ও ২০ নাম্বারে আছে আম ও কাঠাল বাগিচার কথা। তাই ১৯ নাম্বারে আমের ছবি না দিয়ে আম বাগানের ছবি দিয়েছি।

আবারও অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।

৭| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৪৫

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: এগুলি জোগাড় করলেন কিভাবে!!! :)

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৫১

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: অর্ধেক ছবিতো সামুতেই আগে পোস্ট করা ছিলো।
বাকিগুলির প্রায় সবই আমার কাছে ছবি তোলা আছে। তবে সেগুলি আবার আপলোডের ঝামেলায় না গিয়ে নেট থেকে মেরে দিয়েছি।

৮| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:৫২

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর পোষ্ট।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৪৮

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: শুকরিয়া

৯| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ২:১৬

নেওয়াজ আলি বলেছেন: অনন্য প্রকাশ

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৪৯

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: শুকরিয়া

১০| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:১০

রাফখাতা- অপু তানভীর বলেছেন: আমার দাদাবাড়ি অর্থ্যাৎ বিক্রমপুরে সবার এমন বাড়ি। আমাদের নিজেদেরও ঠিক এমন বাড়ি রয়েছে টিন আর কাঠ দিয়ে তৈরি। তবে টিনের দোতালা বাড়ি গুলো আরও বেশি সুন্দর দেখতে । আমার সব চেয়ে পছন্দ হচ্ছে এই বাড়ির ভেতরে একটা কেবিন বলে ঘর থাকে । ছোট আর মেঝে থেকে একটু উচু করে । বাড়ি গেলেই এই কেবিনে ঘুমানো হয় ! যদিও দাদী মারা যাওয়ার পরে আর যাওয়াই হয় নি ।

খচরটা এখন আর আড়াই তিন লাখে হবে না । আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন আমার বড় চাচা উপরের ছবির মত একটা বাড়ি বানিয়েছিলেন । তখন শুনেছিলাম প্রায় চার লাখ টাকার কাছাকাছি খরচ হয়েছিলো । এখন তাহলে বুঝুন অবস্থা । কাঠের দাম কত বেড়ে তার কোন হিসাব নেই । অবশ্য চাচার সেটা দোতালা বাড়ি ছিল । আর মেঝে কাঠের । মেঝে যদি মাটি কিংবা সিমেন্ট পাঁকা করেন আর দেওয়াল এই রকম নরমাল ঢেউটিন দেন তাহলে হয়তো কম খরচ হবে ।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৫৩

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে সন্তুর মন্তব্য ও নিজের অভিজ্ঞতা জানানোর জন্য।

বাড়ির দামের বিষয়টা তার সাইজ আর কারুকাজের উপরে নির্ভর করে।
নিজের মতো করে তৈরি করতে গেলে মেলা টাকা খরচ হবেই।
আমি মুন্সিগঞ্জে বাড়ির হাটে দেখেছি, দম করেছি। তাছাড়া তৈরি করে এমন একটা স্থানেও মালিকের সাথে কথা বলেছি। ওদের তৈরি করাটা নিয়ে এলে মোটামুটি সস্তাতেই হয়। কারুকাজ আর সৌন্দর্যে কিছুটা ঘাটতি থেকে যায় অবশ্য।

১১| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৫৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ব্যতিক্রমধর্মী চমৎকার পোস্ট।

এটা রবীন্দ্রনাথের কবিতা, এক জায়গায় লিখে দেয়া উচিত। লেখা আছে কিনা, চোখে পড়ে নি।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:২০

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: আপনিই প্রথম ধরতে পারলেন এটি রবীন্দ্রনাথোর কবিতা!!!

আসলে এই পোষ্টটিকে একটি সম্পূরক পোষ্ট বলা যেতে পারে। এই পোস্টের ঠিক আগের পোস্টে "বাসা" কবিতাটি পোস্ট করেছিলাম। সেখানে লিখেছিলাম -
"উপরের কবিতাটিতে অনেকগুলি গাছ-গাছালি আর ফুলের নাম আছে। আপনি কয়টি চিনতে পারেন দেখে।
বি.দ্র. : কবিতাখানি লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর পুনশ্চ কবিতা গ্রন্থে।"


সেই পোস্ট ওমেরা বলেছেন: এর পরে কবিতার অনুসারে সবগুলো ফুলের ছবি দিবেন তখন দেখে আমি বলব কোনটা কোনটা চিনি।
তাই পরের এই পোস্টি দেয়া হয়েছে। প্রথম পোস্টের বিষয়টি উল্লেখ না করাটা বোকামি হয়েছে।
ধন্যবাদ আপনাকে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.