নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মরুভূমির জলদস্যু

মরুভূমির জলদস্যু

মরুভূমির জলদস্যুর বাগানে নিমন্ত্রণ আপনাকে।

মরুভূমির জলদস্যু › বিস্তারিত পোস্টঃ

বৃষ্টি বিলাস - ০১

১৪ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:০৪



তখন কলেজে পড়ি, তেজগাঁও কলেজ। আমরা বলতাম গোয়াল ঘর। সেই হিসেবে আমাকে গোয়াল ঘরের প্রাণী বলা চলে।

তো একদিন গোয়াল ঘরে যাওয়ার জন্য বাসা (উত্তর বাড্ডা) থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এসে ৬ নাম্বার বাসে উঠলাম। কিছুদূর যাওয়ার পরে ভাড়া দিয়ে দিলাম ফার্মগেটের। গুলশানে আসার পরেই শুরু হলো বৃষ্টি। প্রথমে টিপ-টিপ, পরে ঝুম বৃষ্টি। যাকে বলে একেবারে কুত্তা-বিলাই বৃষ্টি, মানে It is raining cats and dogs

আমি বসেছিলাম বাসের জানালার ধারে। বাসের জানালার ধারের সকল যাত্রী জানালা বন্ধ করে দিয়েছে বৃষ্টির ছিটে থেকে বাঁচতে। শুধু আমি আমার ধারের জানালাটা কিছুটা খুলে রেখেছি। বৃষ্টির ছিটে এসে আমাকে অল্প অল্প ভিজিয়ে দিচ্ছে। বাসের মধ্যে বসে ইচ্ছে করে বৃষ্টিতে ভিজছি বলে অনেকেই অদ্ভূত কৌতূহলের দৃষ্টিতে দেখছে আমাকে। কন্টাকটার এসে জানালা বন্ধ করে দিতে চাইলে আমি মানা করে দিলাম।

আকাশে মেঘেদের জোট বাধা দেখে সহযেই বুঝা গেলো ওরা তখন সারা ঢাকা শহর ভেজাবে বলে মতলব করছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির জল জমে যাবে। শুরু হবে ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ। আমার বাসার সামনেও জল জমে যায়। ভারি বর্ষণ হলে বাড়ির ভিতরে ঘুটে রিজার্ভ টাংকিও তলিয়ে যায়। আজকে রিজার্ভ টাংকি তলানোর বৃষ্টি হবে বুঝা যাচ্ছে।

কিছুক্ষণ পরে কন্টাকটার এলো ভাড়া নিতে। আমি ফার্মগেট পর্যন্ত ভাড়া দিলাম। দেখতে দেখতে বেশ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। চারপাশ সাদা করে দিয়ে তুমুল বৃষ্টি নেমে আসে মৃত্তিকার টানে। কালো পিচের রাস্তা বৃষ্টির জলে ধুয়ে আরো বেশি চকচকে কালো হয়ে উঠে। মনে হচ্ছে যেনো আকাশ আজকে তার মনের সব দুঃখ এক দিনে ঝরিয়ে দিবে বৃষ্টির জলের সাথে।

দেখতে দেখতে খোলা জানালা দিয়ে আসা বৃষ্টির ছিটায় আমি অনেকটাই ভিজে গেছি। পথও চলে এসেছি অনেকটাই। বৃষ্টি কিছুটা কম এই দিকে। যখন আমার গন্তব্য ফার্মগেটের কাছে বাস পৌছলো তখন সেখানে বৃষ্টির পরিমান অনেকটাই কম। তবে আকাশ তার কালো মুখ গোমরা করে রেখেছে। বৃষ্টি আরো নামবে প্রবল বেগে। হয়তো সামনেই প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে, বাস এগিয়ে গেলেই দেখা মিলবে। আমি বাস থেকে না নেমে বসেই রইলাম। বাস সামনের দিকে চলতে শুরু করলো। কিছুক্ষণ পরে কন্টাকটার সামনে এলে তাকে গুলিস্থান পর্যন্ত ভাড়া দিলাম। ততোক্ষণে বৃষ্টি আবার তার প্রবল রূপ ফিরে পেয়েছে। বৃষ্টি দেখতে দেখতে পৌছে গেলাম গুলিস্থান।

তখন বৃষ্টি বেশ কমে এসেছে। কন্টাকটার জানালো ওরা মতিঝিল পর্যন্ত যাবে। আমিও আমার ভাড়া দিলা মতিঝিলের। মতিঝিল পৌছতে পৌছতে বৃষ্টি প্রায় বন্ধ হয়ে এসেছে। ৬ নাম্বাবার বাস থেকে নেমে আরেকটি বাসে উঠলাম যেটি মালিবাগ রেলগেট-রামপুরা হয়ে বাড্ডাতে আসবে। (পরিবহনের নামটা এখন মনে নেই।) বাড্ডাতে যখন নামলাম ততোক্ষণে বৃষ্টি নেই। যদিও আকাশের অবস্থা বেশ খারাপ। আমার বাসার সামনের রাস্তা জলে ডুবে আছে। আমি আধ ভেজা বেড়ালের মতো পা টিপে টিপে বৃষ্টির জল ভেঙ্গে বাসায় পৌছলাম।


এইটি আশ্রমে বসে বৃষ্টি বিলাসের ভিডিও।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩১

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: ছয় নম্বর বাসটা কিন্তু এখনও চলে। মালিবাগ থাকতে এ বাসে চড়ে মহাখালী ওয়্যারলেস আসতাম। বিশাল বাস, চলে আস্তে আস্তে। এখন জাদুঘরে রাখার দশা।

১৪ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৪৪

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- অনেকদিন চোখে পরেনা এই ৬ নাম্বার বাস।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.