| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রিয়তমেষু,
আজ তোমায় একখানা চিঠি লিখতে বড়ই ইচ্ছে হচ্ছে, কিন্তু এ যেন তুমি না জানতে পার তাই আমার খোলা ডায়েরীতেই শুধু পোস্ট করছি।
এতক্ষণ ছাদের উপর মুঠোফোন কানে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদেই যাচ্ছিলাম।
তুমিতো জানই কত ছোটমানুষি ভরা আমার ভেতর, কাঁদতে কাঁদতে মনে হল নাহ আর কাদবনা। অবশ্য কাদার কোন ইচ্ছে ও ছিল না, কিন্তু কাঁদতে হল। একপর্যায় ছাদ থেকে নিচে চলে এলাম আর তোমার দেয়া গল্পের বইটা নিয়েই বসেছি।
কি অদ্ভুত মেয়েই না আমি তাইনা?যে কিছুক্ষণ আগে কেঁদে গঙ্গা, যমুনা ভাসাল, সে কিনা এসেই গল্পের বই নিয়ে বসলো!!![]()
কাঁদার কারণ নতুন কিছুনা, কিন্তু তাও আমি তোমায় জানাতে চাইনা। হয়ত একটু পর ফোন দিয়ে গলা শুনলেই আন্দাজ করে ফেলতে একটু ও দেরী হবে না তোমার, তবুও তুমি না জান সেই ভাল!
তুমি শুধু এইটুকু জান, প্রতিমুহূর্ত তোমাকে ভালবেসেছি। তোমায় জানাতে চাইনা আমাদের শেষ আশাটুকুর কি হল, তোমাকে জানাতে চাইনা শেষ রায়টি কি!
জীবন এ কত কিছুই ঘটে, হাসি-কান্নার কিন্তু কিছু আছে, যা তে অনেক কিছু বঝার পরও বাইশ বছর বয়সে বাচ্চাদের মত কেঁদে ফেলতে হয়।
আমি তোমায় কষ্ট দিতে চাইনা এই জানিয়ে যে, আমার মা তোমাকে জানার আগ্রহটুকু বোধ করছেন না! তোমারই এক বন্ধু আর আমার পরম শ্রদ্ধেয় বড়ভাই, যে মুখে না স্বীকার করলেও আমি জানি খুব একটা বিপাকে পড়ে আছে আমার মায়ের দরুন। তিনিই জানালেন, আমার মা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কিছুতেই মেনে নিবেন না!
তিনি নাকি আমাকে settle দেখতে চান, আমাকে বিদেশ নিয়ে যেতে চান!তা যে কোন উপায়ই হক, তা আমার অর্ধ পরাশুনা বাতিল করেই হক, জীবন এর কয়েকটা বছর নিষ্ক্রিয় করে হক, যেমনেই হক এখান থেকে দূরে নিয়ে যেতে চায়, তোমার কাছ থেকে দূর! তার নাকি পছন্দ করা কোন পাত্র আছে সম্ভবত অনেক দূর ঠিক ও করা আছে সব!!
প্রিয়তম, মা তো সন্তান এর সব সময়ই মঙ্গল চায়, সবচেয়ে ভালো চায় এগুলোই তো বোঝাও তুমি! না আমি নিজেও বুঝি কিন্তু এখন আর কিছুই বুঝতে পারছিনা আমি, কেমন ভাল চাইছেন! মনে শুধু প্রশ্ন জাগছে অফুরন্ত!
আমাকে এত তুচ্ছ ভাবছেন কেমনে? আমার ভালোলাগা-না লাগা, মত-অভিমত কিছুরই কি কোন দাম নেই! আমি কি ধার করা জীবন যাপন করছি? এ কি আমার জীবন এর কোন সিদ্ধান্ত নাকি আমার মা এর? বিয়ে কি আমাকে দেবেন? বিয়ে করে কি আমি থাকবো নাকি যিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি?
মায়ের প্রতি বেআদবি হয়ে যাচ্ছে কিনা সেটুকু ও বোঝার ক্ষমতাও হচ্ছেনা আমার এখন। তবে আমি কখন ও মায়ের ত্যাগ আর স্নেহ অস্বীকার করতে পারিনা, পারবনা! কিন্তু আজকে আমি খুবই আশ্চর্য বোধ করছি তার চিন্তাভাবনা আর রায় শুনে, আমার নাকি কয়দিন পর আর চেহারা সুন্দর থাকবে না। তাই বলে কি এখনই আমার ক্যারিয়ার, স্বপ্ন আর ভালোলাগা গুলোকে বাদ দিয়ে সুপাত্রের নিকট বিয়ে বসে পরবো? এমনটা করলে কি আমার অশেষ মঙ্গল সাধন হবে?
ভেবে পাই না আমি বহুবার এ নিয়ে ভাবার চেষ্টা করেও যার সাথে আমি হাসি-কাদি, আমার সখে-দুঃখের যে সাথি, যাকে দেখে সবাই বলে রাজপুত্র এ কি, কথায়-কাজে, হাসি আর মনুষত্বতে গুরুজন ও মুগ্ধ, সেই স্বপ্নের রাজপুত্রকে আমি এতওটুকু সম্মান দিতে পারছিনা, কতটা দুর্ভাগ্য আমার!
কি করা উচিৎ আমার, সব কিছু জানার আর বোঝার পর? আল্লাহ্ এর পরে তো মা-বাবা বড়, তো আমি আমার রাজপুত্রের সাথে ঘর বাধার স্বপ্ন ত্যগ করলাম। কিন্তু আমি তা’কেও আমার হৃদয়ের অনেক উঁচু স্থান এ সযত্নে রেখেছি তাই প্রতিজ্ঞা করলাম, কখন ও অন্য কারো হবো না।
মায়ের প্রতি সম্মান তাই তার কথামত আমি বিরত থাকলাম আর আমার এক ফোঁটা ভালোবাসার কসম, অন্য কাউকে ভাবতে পারি না।
পুনশ্চ, তোমায় এটুকু ব্যথাও দিতে চাই না। এ শুধুই আমার সীমাব্দধতা, তুমি কেন কষ্ট পাবে?
সারাজীবন শুধু জেনে যাও যা কিছু ভালো আর সুন্দর!!
এরপর ভাগ্যে কি আছে জানিনা, কি পরিণতি কে জানে! তবে নিজের বিবেক এর কাছে পরিস্কার আমি কখন অশ্রদ্ধা আর ভালোবাসার কমতি ছিলনা বাবা-মা এর তরে,কিংবা তোমার জন্য!
ইতি,
তোমার
পাগলীপরী![]()
©somewhere in net ltd.