| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কবলে বাংলাদেশ।
--------------------------------------------
সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং: বাংলাদেশের মানুষের মনে পরিকল্পিত হস্তক্ষেপ
সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোনো সাধারণ ধারণা নয়; এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও মানসিক যুদ্ধ। এর লক্ষ্য হলো একটি জনগোষ্ঠীর চিন্তা, বিশ্বাস, ইতিহাসবোধ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনা। বন্দুক বা ট্যাংক দিয়ে নয় এই যুদ্ধ চলে শব্দ দিয়ে, গুজব দিয়ে, ইতিহাস বিকৃতি দিয়ে এবং ধারাবাহিক অপপ্রচারের মাধ্যমে।
বাংলাদেশে এই সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং ভারতকে এক সুতোয় বেঁধে “ভিলেন” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে এমন একটি ধারণা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যেন দেশের সব সমস্যার মূল এরা। অথচ ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বাস্তব রাজনীতির ন্যূনতম বিশ্লেষণ করলে এই বয়ান টেকে না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো যদি শেখ মুজিব বা শেখ হাসিনা সত্যিই ভারতের সঙ্গে কোনো গোপন, দেশের স্বার্থবিরোধী বা “মন্দ” চুক্তি করে থাকেন, তাহলে বর্তমান সরকার বাহাদুর সেই চুক্তিগুলো বাতিল করছে না কেন? ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে থাকা কোনো চুক্তি বাতিল করা কি অসম্ভব? বাস্তবতা হলো, তথাকথিত “মন্দ চুক্তি”র গল্পগুলো মূলত রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হওয়া চুক্তিগুলো কূটনৈতিক সমঝোতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই হয়। পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রই জেনে-বুঝে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনে না।
এই সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এটি মানুষকে যুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে আবেগনির্ভর করে তোলে। ইতিহাসকে টুকরো টুকরো করে দেখানো হয়, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট আড়াল করা হয়, আর সাম্প্রদায়িক ও জাতীয়তাবাদী উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে জনগণকে বিভক্ত করা হয়। এর ফলেই আজ সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ কোনো দেশ বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়; আসল চ্যালেঞ্জ হলো এই পরিকল্পিত মানসিক দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হওয়া। তথ্যভিত্তিক চিন্তা, ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ পাঠ এবং প্রশ্ন করার সাহসই পারে এই সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং ভেঙে দিতে। অন্যথায় আমরা বারবার একই প্রপাগান্ডার ফাঁদে পড়ব আর লাভবান হবে কেবল ক্ষমতা ও সুবিধাভোগীরা, ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষ।
--- সালাউদ্দিন রাব্বী
সভাপতি, সংখ্যালঘু বাঁচাও আন্দোলন 
©somewhere in net ltd.