নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?

৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?
============================================
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যে নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, আমন্ত্রণ এলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ কোথায়?
যদি কোনো এক পর্যায়ে বাংলাদেশ এই ধরনের সামরিক জোটের সদস্য হয় এবং জোটের কোনো সদস্য দেশের ওপর সামরিক হামলা হয়, তখন বাংলাদেশের ভূমিকা কী হবে? পাকিস্তানের ওপর হামলা হলে কি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে সেখানে যেতে হবে? বাংলাদেশের সৈন্য কি অন্য একটি দেশের ভূখণ্ড রক্ষার জন্য জীবন দেবে?
এই প্রশ্নগুলো আবেগ দিয়ে নয়, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় জাতীয় স্বার্থের জায়গা থেকে ভাবতে হবে।
১৯৭১ সালে কি এজন্যই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল?
আমরা কি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চেয়েছিলাম অন্যের যুদ্ধ করার জন্য, নাকি চেয়েছিলাম এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে নিজের জনগণের নিরাপত্তা, খাদ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই হবে রাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার?
আজ বাংলাদেশের বাস্তবতা কী?
দেশে গ্যাসের সংকট আছে। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ব্যবস্থাও নিতে হয়েছে।
অন্যদিকে কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য সার ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বড় ধরনের সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকও ২০২৬ সালে বাংলাদেশকে খাদ্যনিরাপত্তা এবং সার ও জ্বালানির সরবরাহ-সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় ১.১ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে।
এই বাস্তবতায় আমাদের প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত।
আমাদের কৃষকের সার আছে তো?
আমাদের কলকারখানায় গ্যাস আছে তো?
আমাদের মানুষের ঘরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ আছে তো?
আমাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত তো?
আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালী তো?
আমাদের সীমান্ত ও ভূখণ্ড নিরাপদ তো?
যদি এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো সন্তোষজনক না হয়, তাহলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে সর্বপ্রথম গুরুত্ব পাওয়া উচিত নিজের দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী আমাদের গর্ব। তাদের প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণকে রক্ষা করা। কোনো বিদেশি সংঘাতে আমাদের সৈন্যদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে, জনগণের স্বার্থ এবং সংসদীয় ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে নিতে হবে।
বাংলাদেশ কোনো দেশের শত্রু হতে চায় না। বাংলাদেশ কারও বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চায় না। বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়।
আমাদের প্রয়োজন এমন পররাষ্ট্রনীতি, যেখানে সৌদি আরবের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকবে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে, তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা থাকবে, ভারতের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক থাকবে, চীন-যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সব শক্তির সঙ্গে জাতীয় স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক থাকবে কিন্তু বাংলাদেশ কোনো শক্তির প্রক্সি যুদ্ধে পরিণত হবে না।
বন্ধুত্ব হোক সবার সঙ্গে, বাণিজ্য হোক সবার সঙ্গে, সহযোগিতা হোক সবার সঙ্গে কিন্তু বাংলাদেশের সেনা ও বাংলাদেশের অর্থনীতি যেন অন্যের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের বোঝা না বহন করে।
আমরা ভুলে যেতে পারি না একটি দেশের প্রকৃত শক্তি শুধু তার অস্ত্রের সংখ্যায় নয়; তার অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, জনগণের জীবনমান এবং নিজের ভূখণ্ড রক্ষার সক্ষমতার মধ্যেই তার আসল শক্তি।

তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ।
দেশের ঘরে যখন জ্বালানি ও খাদ্যের নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন, কৃষক যখন সারের নিশ্চয়তা চায়, শিল্প যখন গ্যাস চায়, মানুষ যখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চায় তখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হওয়া উচিত বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবনমান রক্ষার যুদ্ধ।
১৯৭১-এর স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থেই হতে হবে।
অন্যের যুদ্ধ নয়,
আগে বাংলাদেশকে শক্তিশালী করুন।
অন্যের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেওয়ার আগে
বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
অন্যের ভূখণ্ড রক্ষার আগে
বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি রক্ষার সক্ষমতা বাড়ান।
এটাই হোক স্বাধীন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি।
“সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে অন্ধ সামরিক জোট নয়; সর্বাগ্রে বাংলাদেশ, সর্বাগ্রে বাংলাদেশের জনগণ।”

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: যেহেতু বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতিদের সাথে তুরস্কের খুব খাতির। ৭১ এর মানবতা বিরোধী অপরাধের কারণে জামায়াতি নেতাদের মৃত্যুদণ্ড দিলে তুরস্কের খুব গায়ে লেগে যায়।

তাই তুরস্কের বড় ও প্রভাবশালী কুর্দী রাজনৈতিক দলের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ হবে।

ওরা যদি জামায়াতের সাথে মাখা মাখি বন্ধ করে তবে আমরাও কুর্দিদেরকে approach করবো না। এভাবেই তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের একটা ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে করতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.