| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জনগণের প্রয়োজন বনাম রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার।
জনগণের আজ সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কী? নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পর্যাপ্ত গ্যাস, সহনীয় দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও নিরাপদ জীবন। মানুষ বিলাসিতা চায় না; মানুষ চায় রাষ্ট্র তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো নিশ্চিত করুক।
কিন্তু যখন জনগণ বিদ্যুতের সংকটে ভোগে, তখন প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার কোথায়? যখন শিল্পকারখানা গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত করে, সাধারণ মানুষ জ্বালানি সংকটে পড়ে, তখন রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে সেই প্রশ্ন করাও কি অন্যায়?
জনগণের প্রয়োজন বিদ্যুৎ রাষ্ট্র যদি তখন বিলাসবহুল বা ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ও বিমান ক্রয়ে অগ্রাধিকার দেয়, জনগণ অবশ্যই জানতে চাইবে, এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা কী। জনগণের প্রয়োজন গ্যাস তখন যদি সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, জনগণ প্রশ্ন করবেই: আমাদের জীবন-জীবিকার চেয়ে কোন স্বার্থ বড়?
রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কথা হলো জনগণের কল্যাণ। সরকার কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের অর্থ এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তের জবাবদিহি জনগণের কাছেই থাকা উচিত।
আজ তাই প্রশ্ন উঠছে কাদের অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে? জনগণের, নাকি ক্ষমতার রাজনীতির?
আর সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্নটি হলো এই প্রশ্নগুলো করা কি নাগরিকের অধিকার, নাকি প্রশ্ন করাটাই অপরাধ?
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের সমালোচনা করা রাষ্ট্রবিরোধিতা নয়। বরং সরকারের কাছে হিসাব চাওয়া নাগরিকের অধিকার। জনগণের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, কেন ব্যয় হচ্ছে এবং সেই ব্যয়ের সুফল জনগণ কতটা পাচ্ছে এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তর সরকারকেই দিতে হবে।
দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশ জনগণের। ক্ষমতা জনগণের দেওয়া আমানত। তাই জনগণের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার জবাবদিহি চাইতেই হবে।
কারণ প্রশ্ন থামিয়ে দিয়ে সংকট থামানো যায় না।
ভয় দেখিয়ে জনগণের প্রয়োজন মুছে ফেলা যায় না।
আর জনগণের অধিকারকে চুপ করিয়ে কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। 
©somewhere in net ltd.