নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

.....

সহজ পৃথিবী

দেশ ভাবনাঃ চলুন দেশটা'র পরিবর্তন করে ফেলি।

সহজ পৃথিবী › বিস্তারিত পোস্টঃ

মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ নির্বাচনে কেন একজনও বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া গেল না ?

২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:০৯

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ নির্ধারনের ইনটেনশন নিয়ে একটি প্রশ্ন। আসলে আমি সমস্ত সাধারন মুক্তিযোদ্ধা, খেতাব প্রাপ্ত সকল মুক্তিযোদ্ধা, এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে সামান্যতম অবদান রাখা প্রতিটি যোদ্ধার উপর অসীম শ্রদ্ধা রেখে একটি তথ্য জানতে চাই।



অনুরোধটি বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর আর্কাইভ, জেনারেল শফিউল্লাহ ও মরহুম জেনারেল ওসমানীর সহ সকল জেনারেল মেজর সকলের কাছে। আরও স্পেসেফিকেললী সামরিক বাহিনী প্রতিষ্ঠানের কাছে।



কি কি যোগ্যতা/ক্রাইটেরিয়ার উপর ভিত্তি কর করে মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের নির্বাচন করা হয়েছিল ? সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে কেন একজনও পাওয়া গেলনা সেনা বাহিনীর বাইরে (দুইজন যদিও তৎকালীন ইপিআর থেকে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ, ১৯৫৯-এর ১৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস-এ যোগদান করেন, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ, ১৯৬৩-র ৮ মে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস-এ ভর্তি হন )?



কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রজনতা, পুলিশ, সিভিল সার্ভেন্ট, রাজনীতিবিদ, সহ সাধারন মুক্তিযোদ্ধার মাঝে কি ভাবে একজনও এই যোগ্যতা পূরন করতে পারেনি ?



সেনা বাহিনী স্বাধীনতার পরবর্তী, ৭৫, ৭৮, ৮০, ৮১, ২০০৭ সহ সম্প্রতী ও অতীতের কর্মকান্ডে যেভাবে বারবার দেশটাকে গনিমতের মালের মত দখল ও ভাগাভাগি করার চেষ্টা করেছে ও করেছে তার শুরু কি হয়েছিল এরই মধ্যে দিয়ে ? প্রশ্নটি যদিও খুব সাদামাটা মনে হলেও এর গভীরতা এদেশে গত ৪০ বছরের ১৭ বছর সেনা শাসনের মতই গভীর/ব্যপক ও তাৎপর্যপূন।

মন্তব্য ১০৩ টি রেটিং +১০/-১৮

মন্তব্য (১০৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:১৮

বৃষ্টি ভেজা সকাল বলেছেন: ভাল বলেছেন

২| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:২০

কৌশিক বলেছেন: জানতে চাই। জানতে চাই। জানতে চাই।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:১৭

সহজ পৃথিবী বলেছেন: বিজয়ের প্রথম প্রহরেই এই অন্যায় কেন করা হলো ? এর পেছনে যে মটিভেশন ছিল তা কি ভাবে মহত হতে পারে ? এই মটিভেশনে যে প্রতিষ্ঠান চলে তার সাথে গনমানুষের কতটুকু সম্পর্ক আছে ?

৩| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:২৪

নিঃসঙ্গ বায়স বলেছেন: =p~ =p~ =p~ আপনার বক্তব্যের সাথে একমত। আসলেই বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া জরুরী।

৪| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:২৭

হুনার মন্দ বলেছেন: ;).... আস্তে কন....পরে দেশের সার্বভৌমত্বের ধ্বজাধারী সেনাবাহিনীর নামে কুৎসা রটানোর দায়ে অভিযুক্ত হৈবেন....


....অন্যরা যারা যুদ্ধ করছে তাদের সাহসিকতার নথি সেনাবাহিনীতে নাই...তাই তারা বিবেচনায়্ও নাই.... তবে তাই বলে যারা বীরশ্রেষ্ঠ তাদের ছোট করছি ভাবার কোন কারণ নাই....

আপ্রের প্রশ্নে একলগে গলা মিলাইলাম..

৫| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:২৯

অরাজনৈতিক বলেছেন: যারা মুক্তিযোদ্ধা বলে চেচাঁচ্চে তারা শুধু বিক্রম আর প্রতীক পেল!! ব্যপারটা চিন্তনীয়!

৬| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:৩২

রাজামশাই বলেছেন: এই ব্লগের কেউ জানে না ।

কোন নিদৃষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে দেওয়া হয় নাই, যদি দেওয়া হইয়া থাকে আমার জানা নাই ।

ভবিষ্যতে কোন বাংলাদেশী নাগরিক কে দেওয়া হইবে কিনা তাও নিদৃষ্ট নয় বলে মনে হয়।

৭| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:৪৪

লেখাজোকা শামীম বলেছেন: আপনার এই প্রশ্নটা আমারও। তথ্য অধিকার আইনের বলে এখন এটা আমাদের আইনী অধিকারও।

৮| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:৫৪

আশফাক সফল বলেছেন: প্রথমে আপনাকে মাইনাস ভূল তথ্য দেবার জন্য

বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী থেকে, মুহাম্মদ রুহুল আমিন (ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসিয়ার) এবং বিমান বাহিনী থেকে (যদিও তখনও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠিত হয়নি) মতিউর রহমান কে বীরশ্রেষ্ঠ পদকে ভূষিত করা হয়।

আমি আপনার সাথে একমত অনেক বেসামরিক ব্যাক্তিও বীরশ্রেষ্ঠ পদক পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:০২

সহজ পৃথিবী বলেছেন: আমি এখানে কোন তথ্য দেইনি। এই তথ্য নতুন বা ভুল দেয়ারও কোন সুজোগ নেই। আমি বরং এখানে তথ্য জানতে চেয়েছি। কেন স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই সেনা বাহিনী ইনজাস্টিস দিয়ে শুরু করলো ?

৯| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৫

গরম কফি বলেছেন: লেখাজোকা শামীম বলেছেন: আপনার এই প্রশ্নটা আমারও। তথ্য অধিকার আইনের বলে এখন এটা আমাদের আইনী অধিকারও।

১০| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:১৪

কর্ন বলেছেন: লাভ নাই ..দিমুর স্টিকি পোস্ট সেনাবাহিনীর ধমকে একদিনে সরাইয়া ফেলাইছে

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:১৯

সহজ পৃথিবী বলেছেন: ধমক ছাড়া সেনা বাহিনী আর কি দিয়েছে ?

১১| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:১৫

নিশাচর নাইম বলেছেন: আগে খেয়াল করি নাই তো :|| :||

১২| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:২২

সৌম্য বলেছেন: এটাকে এভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। গ্যালান্টারী এওয়ার্ডের একটা বড় সাবজেক্ট সমর কৌশল। দেশপ্রেমে হয়তো ৭জন বীরশ্রেষ্ঠের চেয়েও বড় অনেকেই ছিলেন, কিন্তু সমরকৌশল কয়েক সপ্তাহের গেরীলা ট্রেনিং এ আসে না। সামরিক ট্রেনিং একটা দির্ঘ সময়ের (বর্তমানে সম্ভবত সৈনিকদের ৬মাস, আর ক্যাডেটদের আড়াই বছর)। যুদ্ধে আত্মত্যাগ করতে তীব্র দেশপ্রেম দরকার, কিন্তু যুদ্ধে বড় ধরনের ভুমিকা রাখতে সমর কৌশল, সাহস, দেশপ্রেম এবং পেশাগত দক্ষতা দরকার যেটা বেসামরিক ব্যাক্তিদের মধ্যে বিরল না হলেও পেশাদার ব্যাক্তিদের মধ্যে সহজাত।
সমরবিদ্যা অনেক দিনের। আদি মানব পাথর ছুড়ে রণকৌশল আবিষ্কার করা, আর সাম্প্রতিক সময়ে ইথিওপিয়াতে সিরিজ বক্স এম্বুশ কৌশল (যেটাকে ভিত্তি করে ব্ল্যাক হক ডাউন), একদিনে আসে নি। শুধু সামরিক কলেজ থেকে ডিগ্রি থাকলেও হয়না, এটা প্রতিভার মতো। ব্যাপারটা এমন একজন দর্শনে পিএইচডি করেছে, কিন্তু প্রথাগত বিদ্যা ছাড়াও আরুজ আলী মাতুব্বরের মত দার্শনিক আসতে পারেন। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে যার ইন্সটিটিউশনের ডিগ্রি আছে, সমর কৌশলে সে এগিয়ে থাকবে।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৩৫

সহজ পৃথিবী বলেছেন: বাঙ্গালরে হাইকোর্ট দেখালেন চিরাচরিত নিয়মে। তবে আমার প্রশ্ন হলো কেন স্বাধীনতার প্রথম লগ্নেই বাংলাদেশ সেনা বাহিনী এদেশের মানুষকে ঠকানোর মানসিকতার যাত্রা শুরু করলো ?

কেননা তৎকালীন এ অঞ্চলের সেনা অফিসারেরা পাকিস্তানের সামরীক এ্যাকাডেমীতে কঠোর পাকিস্তান প্রেমের প্রশিক্ষন নিয়েছিল ? আইএসআই থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে এদের পরীক্ষিত পাকিস্তান প্রেম প্রশ্নাতীত ছিল ? হাতে গোনা কেউ সেই প্রশিক্ষন ও অভিজ্ঞতার প্রখর মোটিভেশনের প্রভাব মুক্ত হতে পারার দাবী করলেও কজন পাওয়া যাবে ?

১৩| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৩৩

বেনামী বলেছেন: অনেক আগে এই বিষয়টা নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলাম। আলোচনাও হয়েছিলো কিছুটা। দেখতে পারেন Click This Link

১৪| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৩৭

কর্ন বলেছেন: @ সৌম্য ..আমি বুজলাম না ..কমান্ডার নির্দেশ দেয়ার পরেও যখন গুলি চালিয়ে মিত্র বাহিনীর প্লেন ভুপাতিত করা হয় এবং ফাইটার প্লেন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তখন ঠিক কি ধারনের কৌশল করা হয়েছিলো ?


১৫| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৩৯

আতিকুল হক বলেছেন: এইটা নিয়া প্রশ্নের কিছু নাই। এইটা সামরিক পদক, সেইজন্য সামরিক বাহিনীর লোকজন পাইছে। এবং এই পদক মুক্তিযুদ্ধ স্পেসিফিক কিছু না, সরকার যে কোন উপলক্ষে বীরত্বপূর্ণ সামরিক অবদানের জন্য দিতে পারে। একজন লোক যখন ডিফেন্সে ঢুকে তখনই সে জানে যে সে যদি যুদ্ধে বীরত্ব দেখায় তাহইলে সে এমন পদক পাবে। সব দেশেই এমন সামরিক, বেসামরিক পদক আলাদা করা আছে। এইটা অবাক হওয়ার মত কিছু না।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৪৬

সহজ পৃথিবী বলেছেন: তাহলে স্বাধীনতা যুদ্ধে বলা হয় কেন ?
যুদ্ধটা কি এক সামরিক বাহিনীর ছিল ?
কতজন সাধারন মুক্তিযোদ্ধা আর কতজন সামরিক বাহিনীর ছিল ?
সিদ্ধান্তটা যদি সেনা বাহিনীর সাধারন সৈনিকেরা নিত তাহলে কি তারা তাদের নিজেদের ভাইদের ঠকানোর কথা চিন্তা করতো ?

১৬| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৫০

কর্ন বলেছেন: @ আতিকুল হক ...তাইলে বীর বিক্রম , বীর প্রতিক বেসামরিক পদক !!!

১৭| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৫৫

আতিকুল হক বলেছেন: এইখানে মিলিটারি অন্যদের ঠকাইছে এইটা ভাবতেছেন কেন? কেউ যদি ঠকায় থাকে সেইটা সরকার, সিভিল প্রশাসন।

ধরেন, দেশের বড় বিপদে তো আপনে বইসা থাকবেন না তাই না। এখন এমন একটা বিপদে আপনে আর আপনার সাথে একজন সামরিক বাহিনীর লোক মিলা দেশরে বাচাইলেন। এখন ঐ সামরিক বাহিনীর লোকরে পুরষ্কার দিবে সামরিক বাহিনী এবং সেইটা হবে একটা সামরিক পুরষ্কার। আপনেরে পুরষ্কার দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের এবং সেইটা হবে রাষ্ট্রপতির পদক বা স্বাধীনতা পুরষ্কার বা একুশে পদক এই টাইপের কিছু। আপনে পুরষ্কার না পাইলে মিলিটারির দোষ এইটা ভাবার তো কোন কারন নাই। আপনে এই কোশ্চেন টা তখনকার সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু বা তাজউদ্দিন আহমেদকে করেন। তারা কেন সিভিলিয়ানদের ভুইলা গেলেন?

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ৯:৪৫

সহজ পৃথিবী বলেছেন: তালিকাটা করেছিল সেনা বাহিনী ওসমানী সফিউল্লাহ জিয়া প্রমুখ

১৮| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:০১

সৌম্য বলেছেন: আমি শুরুতেই বলছি, দেশপ্রেমে হয়তো অনেকেই এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু কৌশলের কথা।
@ কর্নঃ ১। গুলি চালিয়ে মিত্র বাহিনীর প্লেন প্রসঙ্গেঃ মিত্র বাহিনীর প্লেন ভুপাতিত করে কেউ বীর শ্রেষ্ট হয়েছেন জানি না। সম্ভবত বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন প্রসঙ্গে বলছেন। বিএনএস পদ্মা এবং পলাশে ভুল করে ভারতীয় বিমান বোমা বর্ষন করে। ওগুলোর ইনচার্জ ছিলেন ভারতীয় নেভীর কমান্ডার। উনি এবান্ডান শীপ ডিক্লেয়ার করেন। কিন্তু বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন শীপ ত্যাগ করার নির্দেশ পালন করেননি। বরং নিজের জীবন বিপন্ন করে (উনি গানার ছিলেন না, ইঞ্জিনরুম আর্টিফিশার ছিলেন) শীপটাকে চরায় আটকানোর চেষ্টা করেন, যাতে শিপটা সম্পুর্ন ধ্বংস না হয়। নৌ যুদ্ধের পেশাগত দক্ষতা না থাকলে উনি হয়তো ভারতীয় বিমানের সাথে সম্মুখ লড়াইএ নামতেন, আর সম্পুর্ন শীপটাই ধ্বংস হতো।

ফাইটার প্লেন নিয়েঃ ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান, কিন্তু প্রথম থেকেই স্বাধীন বাংলা বিমান বাহিনী গঠনের চেষ্টায় ছিলেন। সে সময় উনি পাকিস্তান এয়ারফোর্স একাডেমীর শিক্ষক হিসাবে ক্যাডেট পাইলটদের ট্রেনিং দিচ্ছিলেন। ঐদিন তার ভুমিকাকে ছোট করতে পাকিস্তানীরা ঐ ক্যাডেট (সম্ভবত রশীদ মিনহাজ নাম) এর ভুমিকা বড় করে তাকে সীতারা ই হিলাল বা হাফিজ এধরনের পদক দেয়। কিন্তু জানা যায় হাইজ্যাক এর আগে থেকেই উনি বিমান ছিনতাই এর ব্যাপক পরিকল্পনা করেন। টি৩৩ জেট ইঞ্জিন চালিত প্রশিক্ষন বিমান। বিমান সম্পর্কে পড়ালেখা খুব কম, তবুও যতোটা জানি ওগুলো আমাদের পিটি৬ এর মতো, হয়তো ওতে মেশিন গানও ছিলনা। ওনার প্ল্যান ছিল মেন্টাল ওয়ার ফেয়ার। রেইড বা এম্বুশে এনিমি লাইনের ওপারে গিয়ে যেমন মানসিক ধাক্কা বা বিপক্ষের সৈনিকদের হতাশা বৃদ্ধি করা হয়। উনি পাকিস্তান এয়ারফোর্স একাডেমির ইন্সট্রাক্টর ছিলেন। ইন্সট্রাক্টর বা মিলিটারী একাডেমীর প্ল্যাটুন কমান্ডার হবার মুল শর্ত, ট্যাক্টিকাল বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞান।
ট্রি লেভেল হাইটে বিশাল দুরত্ব অতিক্রম করে (পাকিস্তানী মার্কিং ফাইটারকে অবশ্যই ভারতীয় আর্টিলারী আগে গুলি করে নামাতো পড়ে দেখতো ওখানে মুক্তিযোদ্ধা না হানাদার আছে) দুই দলের রাডারকে ফাঁকি দেবার দক্ষতা দেখাতে বুকের পাটা লাগে? সারা দুনিয়া খুজে এরকম দক্ষ বৈমানিক কয়টা পাবেন? এতে দক্ষতা আর চরমতম দেশ প্রেম দুটোই লাগে।

১৯| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:০৭

এক্স বলেছেন: প্রফেশনাল ও লংটাইম সার্ভিসে থাকা আর্মিদের স্কিলের সামনে সদ্য মিলিশিয়ারা কিভাবে দাঁড়াবেন? একমাত্র সাহস ও মানসিক দৃঢ়তা ছাড়া প্রায় সব জায়গাতেই মিলিশিয়ারা পিছিয়ে ছিলেন. তবে সিভিলিয়ান থেকে মিলিশিয়া হয়ে যাওয়া কম সাহসের না, এটাকেও গন্য করা উচিত ছিল...

২০| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:১৪

কর্ন বলেছেন: কমান্ডার আদেশ দেয়ার পরেও তা না মানা বিদ্রোহের সামিল । এবং কমান্ডারের আদেশ না মানা ঠিক কি ধারনের সামরিক কৌশল সেটা বুঝিয়ে বলবেন কি ?


যেকোনো কাজের গুনাগুন নির্ভর করে সফলতার উপর । বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমান এই কাজে সাহস দেখালেও তিনি ব্যর্থ । কারণ এই কাজে সফলতার সম্ভাবনা ছিলো অল্প ।

দুই দলের রাডারকে ফাকি দিতে অবশ্যই বুকের পাটা লাগে । এরকম বিমানিক জানা নেই । কিন্তু একটা কথা হইলো এইখানে কৌশল তা কোথায় ? যেখানে নিচু দিয়ে উড়াই রাদার ফাকি দেয়ার উপায় ..সেখানে সাহস লাগে কৌশল লাগে না । এর জন্যেই তিনি বীরশ্রেষ্ট । কিন্তু নিশ্চই কুশলী নন ।

২১| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:২৮

সৌম্য বলেছেন: ভাই, কমেন্ট গুলো পড়ে মনে হচ্ছে, অন্যদের প্রশংসার জন্যে ৭জন শ্রেষ্ঠ সন্তানের ভুমিকা খাটো করা হচ্ছে।
৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধে আমাদের সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্ক ধারী ছিলেন একজন রিটায়ার্ড কর্নেল (যিনি সাপ্লাই কোরের), ব্রিগেড কমান্ডারেরা সবাই ছিলেন মেজর। জাস্ট বলি, এরশাদ সাহেব তখন সিনিয়র মেজর, তার প্রচুর সুযোগ থাকা স্বত্তেও উনি যুদ্ধে জয়েন করেন নাই। আবার ১৪ই ডিসেম্বরে যুদ্ধে জয়েন করা ফ্রাইডে ফাইটারদের সঙ্খ্যাও ব্যাপক। যুদ্ধ কিভাবে করে, না জেনেই যেই গ্রামের কৃষক যুদ্ধে নেমে পড়েন তাকে দেশ প্রেমের জন্যে সর্বোচ্চ পুরষ্কার দিতে কারো দ্বিধা থাকা উচিত না। কিন্তু জেনে শুনে বুঝে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের যেই জুনিয়র ক্যাপ্টেন কারাকোরাম উপত্যকা থেকে পালিয়ে ভারতের সীমান্ত পারি দিয়ে, সুইসাইড স্কোয়াডের নেতৃত্ব দিতে যেয়ে শাহাদাত বরন করেন, তাকে খাটো করা উচিত কোন যুক্তিতে।
বীর শ্রেষ্ঠ, বীর প্রতীক, বীর উত্তম, বীর প্রতিক। এগুলো গ্যালান্টারী এওয়ার্ড। স্বাধীনতা যুদ্ধের এওয়ার্ড না। দেশের স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যে স্বাধীনতার পরেও অনেকেই বীর প্রতীক পেয়েছেন। লেফটেন্যান্ট আহসান। একাডেমীতে পাস করার ২২ দিনের মধ্যে (সঙ্খ্যাটা ভুল হতে পারে, কিন্তু সময়টা ১ মাসের কম শিউর) শান্তি-বাহিনীর রেইড থেকে ক্যাম্পের সাধারন সৈনিকদের রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন, নিজে ক্যাম্পে থেকে গিয়ে বাকীদের রক্ষা করেন। তাকে বীর প্রতিক উপাধী দেয়া হয়েছে (স্বাধীনতার পরে গ্যালান্টারী এওয়ার্ড পাওয়া টোটাল সঙ্খ্যার হিসাব কোথাও পাই নি)। ভবিষ্যতে দেশের জন্যে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ কারী যে কেউ রণকুশলতা দিয়ে ৪টা গ্যালান্টারী এওয়ার্ডের কোনটা পেতে পারেন।

সেসময় সব মুক্তিযোদ্ধাই বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর সদস্য। পেশাদারেরা নিয়মিত আর অপেশাদারেরা গণবাহিনী বা অনিয়মিত বাহিনী। কোন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে দেশ প্রেম আর সাহসের ঘাটতি আছে, সেটা দয়া করে বলেন।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ৯:২৯

সহজ পৃথিবী বলেছেন: তারামন বিবি কি সামরিক বাহিনীতে ছিল। আরও অনেক সিভিল যে বীরপ্রতিক বীরবিক্রম পেল তা তাহলে কি ভাবে ?

২২| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:৩০

এক্স বলেছেন: মতিউর কে পাকিস্তান তো অলরেডি গাদ্দার উপাধী দিসেই, এইবার তাকে রাজাকার উপাধি দেয়া দরকার... কেন উনি একটা ধ্বজা মার্কা প্লেন বাছাই করসিলেন, তার উপর দেশে আসার আগেই তা বিধ্বস্ত হইসে... এই দোষে.

ভারতীয় গুলি আজন্ম আবাল. কিন্তু ভারতীয় কমান্ডারের আদেশ অমান্য করার অপরাধে তাকেও রাজাকার ঘোষনা করা হোউক....

@সৌম্য - আপনার কথায় যুক্তি আছে. আপনার সামরিক বিষয়ে টার্মিনোলজি গুলি ভাল লাগলো ... যারা লেফট রাইট থেকে মন কে মন ধান আশা করে তাদের কে বুঝানো কঠিন ... আপনার কাছে অনুরোধ থাকলো বীরশ্রেষ্ঠদের অপারেশনের উপর একটি সামরিক কায়দায় লেখা পোস্ট. হামিদুর রহমানরা থাকতে কেন আমাদেরকে জেমস রেইনরদের কাছ থেকে মোটিভেশন নিতে হবে?

২৩| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:৪২

কর্ন বলেছেন: @সৌম্য এ খানে কেও মুক্তিযুদ্ধাদের খাটো করছেনা । করছে যুদ্ধৌত্তর সেনাবাহিনীর ভুমিকা কে । আপনি নিজেই বললেন কৌশলের কারণে শুধু সেনাবাহিনীর লোক বীরশ্রেষ্ট পদক পাবে অন্য কেও পাবে না । তাই আমার প্রশ্ন কেও জেনে বুঝে সুইসাইড করা । কমান্ডারের আদেশ না সোনা কি ধারনের কৌশল ।


নাকি ব্লাডি সিভিলিয়ান যত কিছুই করুক সেটা কৌশল হবে না ।


বীরশ্রেষ্ট , বীর উত্তম .।এগুলো স্বধীনতা যুদ্ধের পরে সেনা বাহিনী কার্তিক দেয়া পদক । কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না তখন পুরা মুক্তিবাহিনী ছিলো সেনা বাহিনী । সেনাবাহিনী বলে আলাদা কিছু ছিলো না ।সবাই সেক্টর কমান্ডার দের অধীনে যুদ্ধ করতো ।

নাকি বলবেন ব্লাডি সিভিলিয়ান সেনাবাহিনী হয় কেমনে ?

২৪| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:৫২

কর্ন বলেছেন: @সৌম্যস্বধীনতার প্রথম প্রতিরোধর অন্যতম এসেছিলো রাজারবাগ পুলিশ লাইন. যতই সাহস তারা দেখাক তারা ব্যর্থ তাই তারা বীরশ্রেষ্ট হইলো না . আমি কমান্ডারের আদেশ মানলাম না আমি বীরশ্রেষ্ট হইলাম . আমি জানা বুইঝা সুইসাইড করলাম ব্যর্থ হইলাম প্লেন নিয়ে পালাতে আমি বীরশ্রেষ্ট .

ইহা সত্য তাদের সাহসিকতার তুলনা নেই . কিন্তি স্বীকার করবেন নিশ্চই তারা কুশলী নন

২৫| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ২:০৪

নাহিয়ান বিন হোসেন বলেছেন: সাবাশ! এবার বীর শ্রেষ্ঠ দের নিয়েও প্রশ্ন তোলা শুরু হইছে।কেন এনাদের বীর শ্রেষ্ঠ ঘোষনা করা হবে, এনারা কি এমন করছেন! হায়রে অভাগা দেশ, হায়রে সুশীলের দল। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানরাও আজ এদের আবালামি আর বিদ্বেষের শিকার। যারা বীর শ্রেষ্ঠ তাঁরা প্রত্যেকেই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য না, যেটা আতিকুর রহমান চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন। এত সশস্ত্র বাহিনী বিদ্বেষ আপনাদের যে, বীর শ্রেষ্ঠ দের নিয়েও ত্যানা পেঁচান ? তাঁদেরকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বলে, তাঁদের ভূমিকাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করেন? স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রত্যেকেই তাঁর অবস্থান থেকে অসম সাহসী ছিলেন। কিন্তু বীর শ্রেষ্ঠ উপাধি তাঁরাই পেয়েছেন যাদের অবদান ছিল অসামান্য। আর বীর শ্রেষ্ঠ নিয়ে আপনার নোংরা লেখার জবাব, এক্স, আতিকুর রহমান, সৌম্য দিয়েছেন।পুরষ্কারের ব্যাপারটাও তারা ব্যাখ্যা করেছেন।এত বড় আস্পর্ধা এই দেশের সুশীল গুলার হইছে যে, এরা এখন বীর শ্রেষ্ঠ দের নিয়েও প্রশ্ন তোলে আবালের মত। না জেনে চিল্লায়। আবালগুলারে যে কি করতে মনে চায়। X( X( X( X( X(( X(( X(( X((

২৬| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ২:১৯

রাষ্ট্রপ্রধান বলেছেন: নিঃসঙ্গ বায়স বলেছেন: = আপনার বক্তব্যের সাথে একমত। আসলেই বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া জরুরী।

সহমত


সৌম্য কথায় পয়েন্ট আছে ।






২৭| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ২:৪০

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: মুক্তিযোদ্ধা মেজর কামরুল হাসান ভুইয়ার কাছে ঠিক এ প্রশ্নটি করা হলে তিনি এভাবে উত্তর দিয়েছিলেনঃ

একথা সত্য যে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের খেতাবসমুহের অধিকাংশই গিয়েছে সামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের নামে। ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের ভেতরে একজনও বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা নন। মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীরদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই এ কথা বলা যায়- অসংখ্য গণযোদ্ধার কথা আড়ালেই রয়ে গিয়েছে। এ প্রসংগটি তুলতেই স্যার নিজেই বললেন যে কথাটি সত্য। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন যাঁদের বীরত্ব সর্বোচ্চ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের চাইতে কম নয় কোন অংশেই। তবে কেউ যদি মনে করে যে ইচ্ছাকৃতভাবেই এই বৈষম্য করা হয়েছে তবে সেটিও পুরোপুরি সঠিক নয়। তিনি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র-১১তম খণ্ড বইটির ৫৩৯ পৃষ্ঠা খুলে জেনারেল ওসমানী কর্তৃক বীরত্ব পদকের জন্যে “সাইটেশন” (citation) বা “উদ্ধৃতি” আহবান করে সব সেক্টর ও সাব-সেক্টর কমান্ডারদের পাঠানো চিঠির অনুলিপি (Appendix A) দেখালেন। সেখানে দেখতে পেলাম কি প্রক্রিয়ায় পদকপ্রাপ্তদের নির্বাচন করা হবে তার বর্ণনা দিয়ে Highest Order, Higher Order, High Order ও Bravery Certificate খেতাবের জন্যে নাম চাওয়া হয়েছে (পরবর্তীতে এই চারটি খেতাবের নাম হয় বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম এবং বীর প্রতীক)।

স্যার বললেন- এই বার্তা সেক্টর পেরিয়ে বড়জোর সাবসেক্টর হেডকোয়ার্টার পর্যন্ত পৌঁছেছে। অসংখ্য যোদ্ধা প্রবল বিক্রমে লড়াই করে শহীদ হয়েছেন যাঁদের নাম সেক্টর বা সাব-সেক্টর হেডকোয়ার্টার পর্যন্ত পৌঁছোয়নি। যুদ্ধের ডামাডোলে সেটি আসলে সম্ভবও ছিলোনা। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা নিঃসন্দেহে মহান বীর তবে শুধু খেতাবপ্রাপ্তদেরকেই বীর হিসেবে ধরে নিলে ভুল হবে। নাম-না-জানা অসংখ্য বীরদের মূল্যায়ন যথাযথভাবে না হওয়াটা অবশ্যই দুঃখজনক তবে এর পেছনে গূঢ় ষড়যন্ত্র ছিলো এমনটি ভাবা অযৌক্তিক।


ক্যাডেট কলেজ ব্লগে ঠিক এ বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট দেখলাম।দয়া করে নিম্নের লিঙ্কের ৭ নং অনুচ্ছেদ দেখুনঃ

http://www.cadetcollegeblog.com/mashroof/27416

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১০:১১

সহজ পৃথিবী বলেছেন: এর পেছনে গূঢ় ষড়যন্ত্র ছিলো ছিল । আর এর ভেতরদিয়েই ষড়যন্ত্রের শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার সেই প্রথম লগ্নেই।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৮

সহজ পৃথিবী বলেছেন: উপরের অংশটি পড়ুন।

২৮| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ ভোর ৫:১৩

সৌম্য বলেছেন: কিছু কিছু বিষয়ে তর্ক করাকে অশোভনীয় মনে হয়। একলব্য ভাইএর কমেন্টস এ ব্যাপারটা ভালো ব্যাখ্যা পেয়েছে। মজার ব্যাপার, রবীন্দ্রনাথের কাব্য প্রতিভা নিয়েও বিতর্ক দেখেছি। কিছু কিছু বিষয়ে তুলনা হয় না। যেমন বীরত্ব বা দেশপ্রেম। “৭১ সালে কমান্ড অস্বীকার করা কিরকম কৌশল” আপনার এই প্রশ্নের উত্তরে হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না। এটাই বিপ্লব।
সামরিক বাহিনীর দুর্নীতি বা পাপাচারের বিষয়ে বলি। বাংলাদেশে কোথায় দুর্নীতি নেই? একজন শিক্ষক ঘুষ খেয়ে স্কুলের বাচ্চাদের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেয় বলে কি পুরো শিক্ষক সমাজকে ধরতে হবে? যখন সেনাবাহিনীকে তাঁর নিয়ম মাফিক কাজের বাইরে পলিটিক্সে উতসাহিত করা হবে তখন পেশাদারিত্ব হারিয়ে যাবে। উদাহরন দেবার মতো যেসব সামরিক বাহিনীকে আমরা আনলে প্রশ্ন তাদের কাদেরকে ভালো পোষ্টিং, ভবিষ্যতের মন্ত্রিত্ব, দ্রুত প্রমোশান দেবার লোভ দেখানো হয়? একটা দেশের রাজনৈতিক সরকার শক্তিশালী হলে তাদের সেনাবাহিনী পেশাদার শৃঙ্খল হবে। আর সরকার দুর্বল হলে জেনারেলরা উচ্চাভিলাষী হবে। তখন রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা জেনারেলদের সমর্থন কিনতে মন্ত্রিত্ব, হাবিজাবী লোভ দেখাবে। আর একবার দেয়া সুযোগ প্রত্যাহার করলে সমর্থন হারানোর ভয় থেকেই যাবে। জেনারেল’রা সুযোগ পেলেই ক্ষমতা দখল করে ফেললাম জাতিয় হুমকি দেবে, বা করে ফেলবে। আমাদের পাশের কয়েকটা দেশ, পাকিস্তান, ভারত, মায়ানমার খুব সুন্দর উদাহরন।
ব্রিটিশ আমলে বাঙ্গালীদের সৈনিক পেশা বিরল ছিল। পাকিস্তান আমলেও। আমরা সারাজীবন সেনাবাহিনীকে দেখেছি বিদেশী শক্তি হিসাবে। শোষকদের হাতিয়ার। যারা ব্লাডি বাঙ্গালী বলতে দ্বিধা করতো না। কিন্তু যখন আমাদের নিজেদের সেনাবাহিনী হলো তখন কেন সেটাকে একই চোখে দেখতে হবে? সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি এল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে তাকে ব্যাবহার করায়। এই দুর্নীতি বাজ বাহিনী কিন্তু ভীন দেশ থেকে আসে নি। আপনাদেরই ভাই, বাবা, ছেলে, মেয়ে, বোন, পাড়া প্রতিবেশী, বন্ধু, আত্মীয় এরা। যেমন করে সিন্ডিকেট ব্যাবসায়ী আমাদেরই কারো আত্মীয়। অন্যান্য পেশার মতো এটাও একটা পেশাজীবি সংগঠন। কিন্তু প্রয়োজনের স্বার্থেই তারা একটা টিম হিসাবেই পরিচয় দেয়। আমাদের দেশে এই সময়ে আমলা’রা ঘুষ খায়, ব্যাবসায়ীরা কারন ছাড়াই দাম বাড়ায় এমনকি খেটে খাওয়া মানুষেরা সিএনজিওয়ালারা মিটার টেম্পার করে, কৃষকেরা জেনেশুনে বিষাক্ত কীটনাশক মেশায়, জেলেরা ফরমালিন দেয়। তাই বলে ধানচাষ করেনা এমন সেনাবাহিনীকে উঠিয়ে দিতে হবে?
যারা সেনাবাহিনীকে যুক্তি ছাড়াই শত্রু হিসাবে দেখতে চান। তাদের কাছে একটা সহজ ধাঁধাঁ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে জেনারেল মঈন ইউ পর্যন্ত (ইনি প্রথম আর্মি চিফ যিনি স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী থেকে পাসড আউট) জন আর্মি চিফ ছিলেন। এদের লিস্ট’টা এমন- জেনারেল শফিউল্লাহ বীর উত্তম, জেনারেল জিয়া বীর উত্তম,সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত; জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম, অভ্যুত্থানে নিহত; জেনারেল হুমু এরশাদ, জেনারেল আতিক, জেনারেল নুরুদ্দিন, জেনারেল নাসিম, বীর বিক্রম, প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস কর্তৃক সেনাপ্রধানের অজ্ঞাতসারে সেনাবাহিনীতে ব্যাপক রদবদলের প্রতিবাদের কারনে এবং ব্যার্থ ক্যু এর জন্যে চাকুরীচ্যুত; জেনারেল মাহবুব; জেনারেল মুস্তাফিজ বীর প্রতীক (অবসরের পরে, সকল গ্যারিসনে অবাহ্নিত ঘোষনা, দুর্নীতির মামলা দেয়া, পরে র‍্যাঙ্ক ডাউন), জেনারেল হারুনুর রশিদ, জেনারেল হাসান মশহুদ।

একটু খেয়াল করলেই দেখতে পারবেন যাদের নামের শেষে গ্যালাণ্টারী এওয়ার্ড আছে, তাদের কেউ মারা গেছেন, কেউ চাকুরীচ্যুত হয়েছেন, বা চাকুরীর পরে প্রচন্ড দুর্ভোগের স্বীকার হয়েছেন। একমাত্র জেনারেল শফিউল্লাহ বাদে। আর যাদের নামের শেষে কোন গ্যালান্টারি এওয়ার্ড নেই। তারা সবাই নির্বিঘ্নে চাকুরী শেষ করেছেন। রহস্যটা কোথায়? ১৯৭১ কি সব পেশা শ্রেনীর ব্যাপক সংগ্রাম, নাকি শুধুই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১০:০১

সহজ পৃথিবী বলেছেন: বাংলাদেশে কোথায় দুর্নীতি নেই? একজন শিক্ষক ঘুষ খেয়ে স্কুলের বাচ্চাদের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেয় বলে কি পুরো শিক্ষক সমাজকে ধরতে হবে?

কিন্তু সেনা বাহিনীর অপকর্ম সবই প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে হয়েছে। একক ব্যক্তি সেনা অফিসার হিসাবে কোন অপকর্মের নজির নেই। ব্যক্তিগত ভাবে সেনা বাহিনীর অফিসারেরা নম্র, ভদ্র ও দেশ প্রেমিকতো বটেই। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে সেনা বাহিনীর কয়েকবার বন্যায় সিভিল প্রশাসনকে ত্রান বিতরনে সাহয্য, রাস্তার ট্রাফিককে সহযোগিতা, বন্দরে সাহায্য করা ছারা যা অবদান তা হলোঃ

২. দুইজন রাষ্ট্রপতি হত্যা।
৭৫ থেকে ৮১ অসংখ্য সেনা অফিসার হত্যা।
৪০ বছরের মধ্যে ১৭ বছর সৈরাচারী কায়দায় দেশ পরিচালনা সহ অসংখ্য হত্যা, উচ্ছেদ, দখল, ব্যবসা, রাজনীতি, ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নেই।

২৯| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:১৫

নীলপদ্দ বলেছেন: বাহ! এখন নিজের দেশের বীরশ্রেষ্টদের নিয়েও প্রশ্ন শুরু হইছে। নিজদের কে কি আপনারা সত্যিকারের বাংলাদেশী মনে করে ? যদি করতেন তাহলে আর এই রকম প্রশ্ন করতেন না।

বীরশ্রেষ্ট একটা সামরিক পদক। এটার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্ক নাই। পৃথিবীর সব দেশের সামরিক ও বেসামরিক দের জন্য আলাদা পদক আছে।

এখানে পরে নিয়েনঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Bir_Sreshtho

আপনাকে মাইসান ছাগল হবার জন্য।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৪

সহজ পৃথিবী বলেছেন: বিদ্রঃ খেতাব প্রাপ্ত, সাধারন, জ্ঞত, অজ্ঞাত শহিদ জীবিত সকল মুক্তিযোদ্ধার প্রতি যথাযোগ্য সন্মান রেখেই প্রশ্নগুলির উত্তর জানতে চাচ্ছি।

৩০| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৪১

নিঃসঙ্গ বায়স বলেছেন: বীরশ্রেষ্ঠ নিয়ে অনেক আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক শুনলাম। এটা সঠিক যে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধে সিভিলিয়ান্দের অবদাঙ্কে খাটো করে দেখানো হয়েছে। যে ৭ জঙ্কে বীরশ্রেষ্ঠ পদক দেওয়া হলো, তাতে আপত্তি থাকার কথা না, সামগ্রিক ভাবেই তাদের বীরশ্রেষ্ঠ বলা যায়, এটা নিয়ে বিতর্ক অনাবশ্যক, কিন্তু যখন এদেশেরি সরকার অ সামরিক বাহিনীকে পদক প্রদানের ক্ষেত্রে সিভিলিয়ান্দের ছোতো করতে দেখি, কথা ভঙ্গ করতে দেখি, সেই ইতিহাস জানতে পারি, তখন আসলে ওই জলপাই রঙ এর বাহিনীর প্রতি ক্ষোভ আসা কী স্বাভাবিক নয়?!
নিচে অনেক আগের পোস্টক্রিত ২ টা লিঙ্ক দিলাম। অনেকেই হয়তো পড়েছেন। নতুন পুরানো সবাই পড়ে দেখতে পারেন-
১।জগৎজ্যোতি! যিনি ছিলেন বাংলার প্রথম বীরশ্রেষ্ঠ/............ভাস্কর চৌধুরী
২।সংশপ্তক মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি আমাদের ক্ষমা করুন! বীরশ্রেষ্ঠ নিয়েও চলেছে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের খেলা

সময় এসেছে এগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৯

সহজ পৃথিবী বলেছেন: হাতের তালু দিয়ে দিয়ে যেমন আকাশ ঢাকা যায় না তেমনি সত্যকেও কোনদিন চেপে/ঢেকে রাখা যায় না ! হোকনা সে কারো একন্ত গোপন কোন ভাবনা/ইনটেনশন/মোটিভেশন !
তাই যেখানে যা কিছু সত্য আমরা স্বযতনে গোপন করে রেখেছি তা আজ মুক্ত করার দিন এসেছে। এতেই বৃহত শুভ বিদ্যমান।

৩১| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৪৩

নিঃসঙ্গ বায়স বলেছেন: *** "সরকার ও সামরিক বাহিনীকে" হবে

৩২| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:০২

কর্ন বলেছেন: আর্মির বিরুদ্ধে কিছুই বলা যাবে না এইটা কেমন কথা ? এখন যদি যুদ্ধ শুরু হয় তবে অবশ্যাই বিডি আর্মি কে আমরা সাপোর্ট করবো । বীরশ্রেষ্ট দের অবদান নিয়ে প্রশ্ন নেই । প্রশ্ন হলো কেনো কোনো সিভিলিয়ান এই পদক পেলো না ? সৌম্য বলেছেন তারা বীরশ্রেষ্ট কেনোনা তাদের রণকৌশল সিভিলিয়ানদের থেকে উন্নত! এইখানেই আমার আপত্তি । কমান্ডারের আদেশ না মানাঁর জিয়ার মনোভাব আমাদের সেনবাহিনীর মধ্যে ব্যপক ভাবে দেখা যায় । কারণ তারা নিজেদের মনে করে তারাই হনু ।


যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ডাইরেক্ট ফিল্ড কমান্ডারের আদেশ না মানা বিপ্লব কেমনে হয় ?

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৮

সহজ পৃথিবী বলেছেন: গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একজন নাগরীক হিসেবে এদেশের প্রতি ইঞ্চি ভূক্ষন্ডের উপর আপনার আমার আর অন্য সকলের মত একই এবং সমান অধিকার আছে। আর গনতন্ত্রে দেশের যে কোন নাগরীকের রাষ্ট্রের ভালো মন্দ, নিরাপত্তা সেনাবাহিনী সব কিছু ভাবার, জানার, অংশ গ্রহন করার, মত প্রকাশ করার, আলোচনা করার অধিকার রয়েছে।

এই কাজে যদি দেশের প্রচলিত কোন আইন জনগনকে তার মত প্রকাশ করার, আলোচনা করার, দেশের ভালোমন্দ চিন্তা করার অধিকার গোপনীয়তা, নিরাপত্তার নামে কোন বাঁধা দেয় তবে সে সমস্ত আইন যতটুকু পরিমান অসাঞ্জস্য ততটুকু পরিমান সংগে সংগে খারিজ হয়ে যায় সংবিধানের বলেই।

ভয় পেয়ে আর লাভ নেই, কোন কারনও নেই। আমাদের দেশ আমাদেরই ঠিক করতে হবে। তাই অন্য আর দশটা অংশের মত আমাদের সেনাবাহিনী নিয়েও আমাদেরই ভাবতে হবে। সব সময় স্বভয়ে একে এরিয়ে চলে আমরা দেশেরই ক্ষতি করে চলেছি। অথচ এর ভিতরই রয়ে গেছে সবচেয়ে বড় ও ক্রনিক সমস্যাগুলির কার্যকারনগুলি।

৩৩| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:০৬

কর্ন বলেছেন: @ নিঃসঙ্গ বায়স সৌম্য এবং গং দের মতে জগৎজ্যোতি এর যুদ্ধ কৌশল ছিলো অনুন্নত এবং তার উপরে ব্লাডি সিভিলিয়ান তিনি কেমনে মহান জলপাই বাহিনীর পদক পাবেন ?

৩৪| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:১২

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: ১৯৭১ কি সব পেশা শ্রেনীর ব্যাপক সংগ্রাম, নাকি শুধুই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার।

সৌম্য ভাই,দয়া করে ছাগুদের মত কথাবার্তা বলা বন্ধ করুন।১৯৭১ যদি আপনার কাছে শুধুই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার হয় তাহলে সরাসরি আপনাকে রাজাকারের বাচ্চা বলতে একবিন্দু দ্বিধা করবনা-হয় আপনি রাজাকারের বাচ্চা নাহলে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে একবিন্দু আইডিয়া রাখেন না-বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দুটাই সমান দূষণীয়।পরবর্তীতে ১৯৭১ নিয়ে রাজনীতি হয়েছে এবং হচ্ছে এটা সত্য কিন্তু একাত্তরের সংগ্রাম যে সব পেশা শ্রেনীর ব্যাপক সংগ্রাম এইটা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলবে সে হচ্ছে রাজাকার ছাগুর বাচ্চা।

৩৫| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:২৯

নিঃসঙ্গ বায়স বলেছেন: "বীরশ্রেষ্ট একটা সামরিক পদক। এটার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্ক নাই। " যে রামছাগল এই কমেন্ট করতে পারে , তারে কী করা উচিৎ? এইটা যে ছাগলের ৩ নাম্বার বাচ্চা সহজেই বুঝা যায়। যেই সকল ছাগু সম্প্রদায় বীরশ্রেষ্ঠ পদক্টি সামরিক পদক বলে মনে করেন, তাদের জিগাই, মুক্তিযুদ্ধ কী সামরিক বাহিনীর দ্বারা পরিকল্পিত যুদ্ধ ছিলো? যদি নাই হয়ে থাকে, তাহলে যুদ্ধকৌশলের জন্য তৎকালীন সময়ে প্রতিরোধে অংশগ্রহঙ্কারী সামরিক বাহিনীর সদস্যদের তত্ত্বাবধানে হলেও, যুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শন সামরিক বাহিনীর থেকে বেসামরিক লোকজন অর্থাৎ গণযোদ্ধা ও গেরিলা বাহিনীর সদস্যরা বিন্দুমাত্র কম দেখায় নি।
আর যেহেতু পদক বিন্যাস মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে করা হয়েছিলো, তাই এটাই তো সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কেনো সেখানে স্বীকৃতি দানের ক্ষেত্রে সামরিক-বেসামরিক এই বিভাজন করা হবে? এর দায়বদ্ধতা কার উপর যাবে? আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ বীরশ্রেষ্ঠদের ক্ষেত্রে সামরিক/ বেসামরিক হিসেব করে না/ এই বিভাজন জানে না কিন্তু, তাই এই পদক শুধুমাত্র সামরিক বাহিনীর জন্য করাটাই এক ধরনের চরম মাত্রার ভূল ও ঘৃণ্য কাজ বলে মনে করি। আমার মনে হয়, আমাদের সরকারের ভূল সংশোধনের সময় পার হয়ে যায় নি!

৩৬| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:৩১

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: বীরশ্রেষ্ট একটা সামরিক পদক। এটার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্ক নাই।

নীলপদ্দ সাহেব,আপনার এই অমৃত বচনে বড়ই প্রীত হইলাম।আপনার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবটির জন্ম মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই এবং মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য এই পদকটি আর্মি-সিভিলিয়ান নির্বিশেষে যে কাউকে দেয়ার কথা। উইকিপিডিয়ার ৫ লাইনের ভুক্তি পড়ে ফট করে এর নামের আগে সামরিক দেখেই তা শুধুমাত্র সামরিক বাহিনীর জন্যে প্রযোজ্য- এইসব রামছাগলীয় মন্তব্য করা থেকে দয়া করে দূরে থাকুন।

বীরশ্রেষ্ঠ এবং বাকি তিনটি পদক প্রত্যেকটিই ছিলো যুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শনের খেতাব স্বরূপ-যে কেউই যুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শন করার মাধ্যমে এটি পেতে পারেন।শুধু সামরিক বাহিনীর জন্যে প্রযোজ্য হলে বাকি পদক গুলোর সবকটিও শুধুমাত্র সামরিক বাহিনীর সদস্য্রা পেতেন।

আর এখানে যাঁরা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পেয়েছেন তাঁদের অবদানকে ছোট করা হচ্ছেনা কোনভাবেই,তবে যাঁরা সমপরিমান বীরত্ব দেখিয়েও অবহেলিত রয়ে গিয়েছেন তাঁদের কথা তুলে ধরা হচ্ছে।

৩৭| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:৩৫

রিজেল বলেছেন: বাহ! বাহ! যাদের কারনে মুক্তিযুদ্ধ ঠিকমত পরিচালিত হলো, যাঁরা যুদ্ধে কমান্ডিং-এর দায়িত্ব পালন হলো আজ স্বাধীন বাংলাদেশে তাঁদের দিকে অভিযোগের তীর !!!!!!

শুধু অভিযোগ করে কি হবে, তাদেরকে যুদ্ধাপরাধীর মামলায় ফেলা হোক। তারা তো কোন এক সময় পাকিস্তান সামরিক বাহিনীরই সদস্য ছিলেন নাকি ??

যেসকল সামরিক কর্মকর্তা যুদ্ধে ছিলেন তাঁরা না থাকলে হয়ত শুধু বেসামরিক বাহিনী দিয়ে যুদ্ধে জয় অবশ্যই আসত, তবে তা কি এত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছিল ??? আজ তাঁদেরকেই আমরা বিতর্কিত করছি ??
আমরাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাঙালি !!!

৩৮| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:৫৪

নিঃসঙ্গ বায়স বলেছেন: জনাব রিজেল, আমার ধারনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানায় আপনার যথেষ্ট ঘাটতি আছে। আর আমাদের বক্তব্যও আপনার সার্কিটের উপর দিয়ে গেছে, তাই বুঝতে পারেন নি। আপনি যদি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সামরিক-বেসামরিক নির্বিশেষে বাংলাদেশের আপামর মানুষের চেতনার উন্মেষ ও স্বাধীন দেশের আকাঙ্ক্ষা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য লড়াই আর স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল ও গোষ্ঠীগত স্বার্থকেন্দ্রীক চিন্তার যে বীভৎস চিত্র সৃষ্টি হয়েছিলো - এই ২ টি বিষয়কে এক করে ফেলেন, তাহলে সবসময়ই ভুল করবেন বলে আশংকা প্রকাশ করছি।

৩৯| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:৫৬

কর্ন বলেছেন: @ রিজেল আপনার কি মনে হয় কি কারনে বাংলাদেশ তারাতারি স্বধীনতা লাভ করে ?

৪০| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:১৯

অগ্নির বলেছেন: @একলব্য১৯৭১,
সৌম্যর মন্তব্যটি পড়ে আমার মনে হয়েছে যে , সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকাকে খাটো করার কথা বলা হয়নি । ওই বাক্যটির অর্থই হলো , ১৯৭১ সব পেশা-শ্রেণীর মানুষেরই সংগ্রাম ছিলো । রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার নয় । আপনি বক্তব্যটিকে সম্পূর্ন উল্টো অর্থে গ্রহণ করেছেন ।
একটু খেয়াল করলেই দেখবেন সৌম্য যা বলতে চাইছেন তা হলো , মুক্তিযোদ্ধাদের যেন আমরা কোনোভাবেই খাটো না করি । সামরিক এবং বেসামরিক এবং এরকম আরো নানা বিভাজন করে , রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক এরকম নানা ফায়দা হাসিলের জন্য পরবর্তীতে যত বিতর্কই তৈরী হোক না কেন , যারা নিজের জীবনটাকে দেশের জন্য উৎসর্গ করে দিয়ে গেছেন তাদের যেন আমরা প্রাপ্য সম্মানটুকু অন্তত দেই । যারা কোনো খেতাব পায়নি তাদের সম্মান যে কিছুমাত্র কম , তা যেন না ভাবি ।

তবে আপনার ভাষা ব্যবহারের ধরণ দেখে আমি অবাক । যে মানুষটার পরিবারের একাধিকজন সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত , যার অবস্থান সবসময় ছিলো রাজাকার-মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিরুদ্ধে , তার সম্পর্কে আপনি যেমন ভাষা ব্যবহার করলেন তা দেখে আমি হতবাক । স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে তার পড়াশোনার গভীরতা সম্পর্কে আপনার ন্যূনতম ধারণাও নেই ।

তবে এই পোস্টের একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে আমার যেটা চোখে পড়লো তা হলো , উনি সম্বোধন করলেন "ভাই" বলে , আর আপনি সম্বোধন করলেন "রাজাকারের বাচ্চা" । আর আমি দেখলাম আপনাদের দুজনের ভদ্রতা এবং বিবেচনাবোধের সীমানা ।

৪১| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:২৯

কাউসার রুশো বলেছেন: হুমায়ুন আহমেদ তার জোছনা ও জননীর গল্প বইয়ে এ প্রশ্নটি তুলেছেলিন
ড. জাফর ইকবাল ও কোথায় যেনো এ কথা বলেছিলেন ।
এ বিষয়ে একমত অনেক বেসামরিক ব্যাক্তিও বীরশ্রেষ্ঠ পদক পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন।

আরেকটা বিষয় সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত এটা আসলে + বা - দেওয়ার মত কোন পোস্টনা। বেসামরিক ব্যাক্তিও বীরশ্রেষ্ঠ পদক পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন এ কথার মানে এই নয় যে যারা পেয়েছেন তাদের পাওয়ার কোন যোগ্যতা ছিলোনা। তাঁদের অবদান ভুলার নয়। তাঁদের অবদানকে যারা ছোট করবে তারাও রাজাকার গোত্রভুক্ত। সৌম্য ভাই খুব ভালো কিছু যুক্তি দিয়েছেন। কিন্তু সামরিক জ্ঞান ছাড়া স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণে যেসব মানুষ অসামান্য বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন তাঁদেরকে আলাদা করাটা বোধহয় সমীচীন হয়নি।

৪২| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:৩৭

কাউসার রুশো বলেছেন: কিন্তু সামরিক জ্ঞান ছাড়া স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণে যেসব মানুষ অসামান্য বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন তাঁদেরকে আলাদা করাটা বোধহয় সমীচীন হয়নি।
যারা তৎকালীন নীতিনির্ধারক ছিলেন কথাটা তাঁদেরকে বুঝিয়েছি।

৪৩| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:৫১

অগ্নির বলেছেন: আমার নিজের বক্তব্য হলো , মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখন ব্যবসা চলছে । রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক সব সুবিধা লাভেরই হাতিয়ার এখন মুক্তিযুদ্ধ । ১৯৭১ এ যে চেতনা থেকে মানুষ প্রাণ উৎসর্গ করেছিলো , এখন যারা সেই চেতনার কর্ণধার বলে নিজেদের দাবী করে, তাদেরকে বলে দেখেন প্রাণ নয় , সামান্য কিছু সুবিধা উৎসর্গ করতে । যেমন শুল্কমুক্ত গাড়ী কিংবা হাসপাতালকে বরাদ্দ দেয়া জমির দখল । সবার কান্না একটাই , আমি কেন কিছু পাইলামনা । ও কেন পাইলো ?

৪৪| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:৫৫

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: @অগ্নিরঃ

আপনি এইমাত্র "ভাষার ব্যবহার","সৌম্যের পরিবারে একাধিক মুক্তিযোদ্ধা আছে" , "তার পড়াশোনা সম্পর্কে আপনার নূন্যতম ধারনাও নেই" এসব বলে "এপিলিং টু অথরিটি" নামক লজিকাল ফ্যালাসির ক্লাসিকাল একটি উদাহরণ সৃষ্টি করলেন।এর অর্থ হচ্ছে- অমুকের এই বিষয়ে এই পরিমাণ পড়াশোনা/অভিজ্ঞ আত্মীয়স্বজন আছে সুতরাং তার বক্তব্য সঠিক/ভুল যা-ই হোক না কেনো মেনে নিতে হবে।

আরো খেয়াল করলে দেখবেন আমি বলেছিঃ

////১৯৭১ যদি আপনার কাছে শুধুই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার হয় তাহলে সরাসরি আপনাকে রাজাকারের বাচ্চা বলতে একবিন্দু দ্বিধা করবনা////

আমি তাঁকে সরাসরি রাজাকারের বাচ্চা বলিনি-বলেছি যে তিনি যদি একটি বিশেষ শর্ত পূরণ করেন(অর্থাৎ ১৯৭১ কে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার বলে মনে করেন) তাহলেই তিনি তা।বলিহারি আপনার পর্যবেক্ষণ!!!

সৌম্য এর আগে একবার ইনিয়ে বিনিয়ে বলেছেন(স্বীকার করছি ওখানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সরাসরি কটাক্ষ করা হয়নি) যে সমর কৌশল কয়েক সপ্তাহের গেরিলা ট্রেনিঙ করলে আসেনা তাই সহজাত পেশাদার যোদ্ধা যারা তাদের পদক দেওয়াটাই স্বাভাবিক ইত্যাদি ইত্যাদি---এধরণের ইয়ো টাইপ কথাবার্তার একটাই মানে যে সমর কৌশলে বেসামরিক গেরিলাদের কিছুই পারার কথা না তাই তাদের খেতাব পাওয়াটা অতি অস্বাভাবিক।

প্রথমতঃ তিনি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন যে এখানে যাঁরা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পেয়েছেন তাঁদের খাট করা নয় বরং যাঁরা যোগ্যতা সত্বেও পাননি তাঁদের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে ।

দ্বিতীয়তঃতিনি "কৌশল ইত্যাদির কারণে কেবলমাত্র সামরিক ব্যক্তিরাই পদক পাওয়ার যোগ্য" এরকম টিপিকাল মিলিটারি মেন্টালিটির পরিচায়ক একটা ধারণা তুলে ধরেছেন।শুধু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নয়,বিশ্বের বহু দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঘাঁটলে বেসামরিক গেরিলারা(যারা পেশাগতভাবে কোনকালেই সৈনিক ছিলোনা)কিরকম অভূতপূর্ব নৈপূন্য ও যুদ্ধকৌশল প্রদর্শন করেছেন তার পরিচয় পাওয়া যায়।উদাহরণঃ বিপ্লবী চে গুয়েভারা কখনও কোন মিলিটারি একাডেমিতে যাননি।ভিয়েতকং গেরিলাদের ক্ষেত্রেও এই কথা খাটে।এঁরা ওই অল্প দিনের "ইনফর্মাল" প্রশিক্ষণেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন,যেমনটি করেছেন ১৯৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

তাঁর যে কমেন্টে আমার আপত্তি সেটির শেষ লাইনে অস্পষ্টতা ছিলো বলেই আমি ওই "যদি" টুকু রেখেছি-নাহলে সরাসরিই রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দিতাম।রাজাকারি ব্লগে ছাগুদেরকে গালাগালি করতে(আমি বলছিনা সৌম্য ওই জিনিস) আমাকে অন্তত; কার্পণ্য করতে দেখবেননা।

আর আপনার ওই সুশীল ভদ্রতাজ্ঞান দয়া করে নিজের কাছেই রাখুন।ভদ্রতা-বিবেচনাবোধ ইত্যাদি আপনার কাছে না শিখলেও আমার চলবে।

৪৫| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:৫৯

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: /////বেসামরিক ব্যাক্তিও বীরশ্রেষ্ঠ পদক পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন এ কথার মানে এই নয় যে যারা পেয়েছেন তাদের পাওয়ার কোন যোগ্যতা ছিলোনা। তাঁদের অবদান ভুলার না/////

/////কিন্তু সামরিক জ্ঞান ছাড়া স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণে যেসব মানুষ অসামান্য বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন তাঁদেরকে আলাদা করাটা বোধহয় সমীচীন হয়নি////

মুক্তিযোদ্ধা মেজর কামরুল হাসান ভুইয়া তাঁর লেখায় ঠিক এ কথাগুলো বার বার বলেছেন।এটি কি গূঢ় ষড়যন্ত্র ছিলো নাকি অনিচ্ছাকৃত ভুল তার জবাব ইতিহাস দেবে(আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সেটি ইচ্ছাকৃত ছিলনা,উপরে দেয়া লেখাটি পড়ে আমার সেরকমই মনে হয়েছে)।কিন্তু সৌম্য যেভাবে এক কথায় বেসামরিক যোদ্ধাদের বীরত্বকে বাতিল করে দিলেন(তাঁদের "কৌশল" এর অভাবের(?!) কথা বলে) সেটি নিন্দনীয় এবং ইতিহাস বিকৃতির সামিল।

৪৬| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:১৪

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: সৌম্যের একটি কথার সাথে আমি একমত পোষণ করি- কিছু কিছু কমেন্টে বীরশ্রেষ্ঠদের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করা হচ্ছে যা তীব্র নিন্দনীয়।খেতাববঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলতে গিয়ে আমরা যেন কোনভাবেই বীরশ্রেষ্ঠদের অপমান না করি এটি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

৪৭| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:২৭

এক্স বলেছেন: অজ্ঞকে তর্কে হারানো যায় না ... এটা সাম্যের জন্য.

৪৮| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:২৬

অগ্নির বলেছেন: একলব্য১৯৭১ , আপনি বরং বাংলা ভাষা নিয়ে কিছু পড়াশোনা করুন । কারন আপনি বারবারই অন্যদের কথার ভুল অর্থ করছেন । প্রথমত, আপনি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন যে সৌম্য বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বকে খাটো করছেননা বরং যারা পদক পেয়েছেন তাদের যেন খাটো না করা হয় সে কথাই বোঝাতে চেয়েছেন । দ্বিতীয়ত, আপনি আমার বক্তব্যও বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন । আর যদি বলতে চান ভাষাবাবদে আপনার ব্যাপক জ্ঞান আছে তাহলে আমাকে বুঝতে হবে কাজটি ইচ্ছাকৃত । বুঝেও না বুঝতে চাওয়া । " অমুকের এই বিষয়ে এই পরিমাণ পড়াশোনা/অভিজ্ঞ আত্মীয়স্বজন আছে সুতরাং তার বক্তব্য সঠিক/ভুল যা-ই হোক না কেনো মেনে নিতে হবে।"---এরকম কিছুই আমি বোঝাইনি । আমি বলতে চেয়েছি এটা এমন একটা বিষয় যেখানে তার তীব্র আবেগ আছে , ভালবাসা আছে । সেখানে তার সাথে আপনি দ্বিমত পোষন করতেই পারেন কিন্তু জঘণ্য ভাষা ব্যবহার করা অথবা সে যেটাকে ঘৃণা করে সেই অপবাদই চাপিয়ে দেয়া ? এতে তার কিছুই এসে যায়না কিন্তু আপনার বোধশক্তির পরিচয় অন্যরা পেয়ে যায় । আপনি যেটা করছেন সেটা কুযুক্তির নিকৃষ্টতম উদাহরণ । গালাগালি করা । "যদি আপনার বিশ্বাস অমুক হয় তাহলে আমি আপনাকে গালি দিলাম " । জোর করে প্রতিষ্ঠিত করতে চাওয়া যে আপনার বিশ্বাস "অমুক" । এটাই যদি আপনার নীতি হয়ে থাকে তাহলে আমার কিছু বলার নেই । আর ভদ্রতাজ্ঞান এমন একটা ব্যাপার যা আমি চাইলেও আপনাকে শেখাতে পারবনা । আপনার পক্ষে সম্ভব না ।


৪৯| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:৩১

শয়তান বলেছেন: একলব্য১৯৭১ রে জাঝা

৫০| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:৩১

শয়তান বলেছেন: পোস্ট পর্যবেক্ষনে রাখলাম ।

৫১| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:৩৫

আকাশের তারাগুলি বলেছেন: আমারও পিপাসা, জানিবার

৫২| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:৩৮

অগ্নির বলেছেন: সৌম্যর বিশ্বাস কি আমি জানিনা । তবে আমি দেখতে পাই , মুক্তিযুদ্ধ এখন পুরোপুরিই সবরকমের ফায়দা লোটার হাতিয়ার হয়ে দাড়িয়েছে । সত্যিকারের যুদ্ধের সময় হয়তো যাদের টিকিটাও দেখা যেতনা , তারাও নামের শেষে একটা "১৯৭১" কিংবা "সোনার বাংলা" লাগিয়ে ভার্চুয়াল মুক্তিযোদ্ধা সাজে ।

৫৩| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৫:৩১

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: @অগ্নিরঃ যারা পদক পেয়েছেন তাদের যেন খাটো না করা হয় এই ব্যাপারে সৌম্যের মন্তব্য আমি খেয়াল করেছি এবং তাঁর সাথে একমত পোষণও করেছি।উপরের কমেন্ট দেখুনঃ

//// সৌম্যের একটি কথার সাথে আমি একমত পোষণ করি- কিছু কিছু কমেন্টে বীরশ্রেষ্ঠদের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করা হচ্ছে যা তীব্র নিন্দনীয়।খেতাববঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলতে গিয়ে আমরা যেন কোনভাবেই বীরশ্রেষ্ঠদের অপমান না করি এটি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।////



কিন্তু তিনি সামরিক কৌশলে গেরিলারা ইনফেরিয়র বা ওই অল্প কয়দিনের ট্রেনিঙ্গে এটা হয়না বলে যে জ্ঞানটা দিলেন সে প্রসঙ্গে যা বলেছি সেটা নিয়ে কিছু বললেননা কেন জনাব? সৌম্য বীরশ্রেষ্ঠদের খেতাবপ্রাপ্তিকে যেন খাটো না করা হয় সে কথা বলেছেন-তাঁর সাথে আমি একমত পোষণ করেছিও।কিন্তু সেটা করতে গিয়ে "সমরকৌশল কয়েক সপ্তাহের গেরীলা ট্রেনিং এ আসে না" টাইপ ডায়ালগ দেবার কি দরকার ছিলো? সৌম্য বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের দেশপ্রেমকে ছোট করেননি স্বীকার করি কিন্তু তাদের সমরকৌশলকে খাটো করেছেন এবং সেটা করার মাধ্যমে প্রকারান্তরে "সামরিক যোদ্ধারাই বীরশ্রেষ্ঠ হয়েছে-বেসামরিক যোদ্ধারা সামরিক কৌশলে পিছিয়ে থাকার কারণে পারেনি" এই টাইপ একটা মতবাদ দাঁড় করাতে চেয়েছেন।

স্বয়ং সামরিক মুক্তিযোদ্ধারা(মেজর কামরুল হাসান ভুইয়া্র জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা,জেনারেল যে এফ আর জ্যাকব এর সারেন্ডার এট ঢাকাঃবার্থ অফ এ ন্যাশন পড়ুন) যেখানে বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের রণকৌশলের অভুতপুর্ব প্রশংসা করেছেন,চে গুয়েভারা ,ভিয়েতকংদের উদাহরণ যেখানে সামনে রয়েছে,সেখানে এইরকম ফালতু মতবাদ দেয়াটা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর অজ্ঞানতাকেই প্রকাশ করে।

প্রথমে এরকম একটা কথা বলা এবং অতঃপর কমেন্টের শেষ লাইনে ওরকম একটা উক্তি কনফিউশন সৃষ্টি করতে বাধ্য।আপনি সৌম্যের কথাকে একভাবে ব্যাখ্যা করেছেন,আমি আরেকভাবে করেছি।ইনিয়ে বিনিয়ে শুধুমাত্র সামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের পদকপ্রাপ্তির সাফাই গাওয়াটা আমার পছন্দ হয়নি এবং সেটা নিয়ে প্রতিবাদ করার অধিকার আমার আছে।আমার কথা আপনার যেমন পছন্দ হয়নি তেমনি অনেকের আবার হয়েছে-অতএব আবার বলছি,ভদ্রতাবোধ ইত্যাদি সুশীলীয় বচন নিজের কাছেই রাখুন।ইফ য়ু আস্ক মি, আই নো হোয়াট আই এ্যাম ডুয়িং-তথাকথিত সুশিলদের ভদ্রতার সার্টিফিকেটের জন্যে আমি লালায়িত নই।

আর আমার নামের শেষেও ১৯৭১ আছে,একাত্তরে আমার টিকিটি দেখা যেত কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েই মাশা-আল্লাহ ভার্চুয়াল মুক্তিযোদ্ধা "সাজার" কথা বলে হিপোক্র্যা্সির দোষে অভিযুক্ত করে দিলেন।এই যদি আপনার ভদ্রতার স্ট্যান্ডার্ড হয় -দেন য়ু আর রাইট,আমি চাইলেও ওই "ভদ্রতাবোধ" আপনার কাছে শিখতে পারবোনা(থ্যাঙ্কস গড!)।

৫৪| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৫:৩৯

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: আরেকটা কথা- সৌম্যের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আবেগকে মেনে নিয়ে তাঁর কাছে এপলজাইজ করতে আমার আপত্তি নেই- যদি কোন ভুল করে থাকি সেটা স্বীকার করে নেবার মত সৎ সাহস আমার আছে।সৌম্যকে কখনো দেখিনি কোন রাজাকারের পক্ষে সাফাই গাইতে,কাজেই শুধু ওই এক লাইনের উপরে ভিত্তি করে ওরকম কর্কশ শব্দাবলী ব্যবহার করাটা আমার হয়তো উচিৎ হয়নি-এটা আমি স্বীকার করি।কিন্তু তার মানে এই না যে উনি সজ্ঞানে হোক অজ্ঞানে হোক বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদেরকে "সমরকৌশলে পিছিয়ে থাকা" বলে শুধুমাত্র সামরিক যোদ্ধাদের পদকপ্রাপ্তিকে জায়েজ করবেন আর সেটা আমি মেনে নেবো।আশা করি আমার বক্তব্য বোঝাতে পেরেছি।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৬

সহজ পৃথিবী বলেছেন: আরও তিনটি প্রশ্নঃ

১. মুক্তিযুদ্ধে সর্বমোট কয় শত সেনা বাহিনীর সদস্য অংশ গ্রহন করেছিল ?
২. আর কত লক্ষ বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা, বাংলার টগবগে তরুন সাধীনতা যুদ্ধে বীরদর্পে সক্রিয় ছিল ?
৩.যুদ্ধের পর কত হাজার সেনা বাহিনীর সদস্য পাকিস্তন থেকে এদেশে রিপেট্রিয়েট করেছিল ?

৫৫| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০১

নেটপোকা বলেছেন: সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবের সবগুলি সশস্ত্র বাহিনীর লোকদেরকে দেওয়ার জন্য তৎকালীন বেসামরিক, গণতান্ত্রিক সরকারপ্রধান শেখ মুজিবের মরনোত্তর বিচার চাই।

৫৬| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:১৯

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: @নেটপোকা-গন্ধমাদন টাইপের মন্তব্য করলেন একটা। কে খেতাব পাবে আর কে পাবেনা তা ওসমানীর নির্দেশে সম্পূর্ণ নির্বাচন করেছেন সেক্টর এবং সাবসেক্টর কমান্ডারেরা(আমার প্রথম মন্তব্য দেখুন)।আমি মনে করি যুদ্ধের ডামাডোলে বেসামরিক যোদ্ধাদের অনেকের বীরত্বগাঁথা চাপা পড়ে গিয়েছে যা কিনা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবের মর্যাদায় আসতে পারতো-তবে এটিকে পুরোপুরি ইচ্ছাকৃত এমনটি ভাবার মত প্রমাণ পাইনি।ঘটনাটি দুঃখজনক নিঃসন্দেহে কিন্তু সেনাবাহিনীর দিকে সরাসরি ষড়যন্ত্রের তীর তোলার সময় মনে হয় এখনো আসেনি।আপনার কমেন্টটা ফাজলেমি ছাড়া কিছু মনে হলনা।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:১১

সহজ পৃথিবী বলেছেন:

৫৭| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:২৪

অগ্নির বলেছেন: সামরিক কৌশলের ব্যাপারে আমি কিছু বলিনি কারণে এ ব্যাপারে আমার নিজের জ্ঞান খুবই কম । যা আমি ভালভাবে জানিনা তা নিয়ে কথাও বলিনা । তবে সৌম্যর কমেন্ট পড়ে আমার একবারও মনে হয়নি তিনি বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের সমরকৌশলকে খাটো করতে চান কিংবা কোনো বিশেষ মতবাদ প্রচার করতে চান । কিন্তু এ ব্যাপারে আপনার ধারণার সাথে আমার ধারণার পার্থক্য ঘটা খুবই সম্ভব এবং তা প্রকাশ করবার অধিকারও নিশ্চয়ই আপনার আছে ।

কিন্তু দ্বিমত প্রকাশ করতে গিয়ে যুক্তির বদলে গালি ! হ্যাঁ সেটাও আপনি করতে পারেন । তবে সেক্ষেত্রে আমারও নিজের মতামত প্রকাশ করার অধিকার আছে । নাকি ? আপনি বলতে পারেন না যে আমার নিজের মতামত আমি যেন নিজের কাছে রাখি । আমি অবশ্য আপনাকে ভদ্রতা শিখতে বলিনি । কারণ জানি যে সেটা সম্ভব না । আপনার ভদ্রতাজ্ঞানের বিষয়ে আমার মতামতটি প্রকাশ করলাম শুধু ।

আর কোনো ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়েই একটা অভিযোগ করা , সে তো আপনিও করলেন । স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে কার জ্ঞান কতটুকু , সেটা না জেনেই রাজাকার বলে ফেললেন । মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যার আবেগটা খাঁটি , এমন একজনকে রাজাকার বললে তার কেমন লাগবে বলে আপনার মনে হয় ?

আমরা মনে করি আমাদের দেশপ্রেমটাই সবচে' খাঁটি , আর অন্য সবাই হিপোক্রেট । অন্যকে আঘাত করবার আগে যে ভাবেনা এতে তার কেমন লাগবে , কি করে বিশ্বাস করি যে সে যুদ্ধের ওই সময়টাতে মানুষের কষ্ট বুঝত ? সব ন্যায়যুদ্ধই তো আসলে মানবিকতার পক্ষের যুদ্ধ । মানুষের কষ্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ । যে অন্যের কষ্ট বুঝতে পারেনা , সে কি করে মুক্তিযোদ্ধা হবে ?

৫৮| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:২৫

সৌম্য বলেছেন: একলব্য। বুঝতে পারছি, আমার কমেন্টের অর্থ জেনেশুনে বুঝে আপনি খামোখাই গালাগালি করছেন। গালাগালির জবাব দিতে চাচ্ছি না।
ভালো থাকবেন।
আমি মনে হয় যা বলতে চাচ্ছি তা সঠিকভাবে বলতে পারি নি। সম্ভবনা আছে। আমি এ প্রসঙ্গে জেনারেল খালেদ মোশারফ বীর উত্তমের একটা উদ্ধৃতি দিতে চাই। আপনি মেজর কামরুল হাসান ভুইয়ার উদাহরন দিয়েছেন। এই উদ্ধৃতির সুত্র তার লেখা 'খালেদের কথা' বই থেকে নেয়া।
খালেদ মোশারফের বিখ্যাত আরবান গেরীলারা যখন তাঁর ক্যাম্পে রিক্রুট হিসাবে জয়েন করেন, তখন স্বাগত ভাষনে উনি সবার হাতে এক মুঠো করে মাটি দিয়ে দিতেন। এর পরে বলতেন, "যুদ্ধ করতে প্রথমে দরকার দেশপ্রেম। আমি তোমাদের দেশপ্রেম সেখাবোনা। কারন সেটা আছে বলেই তোমরা আমার ক্যাম্পে এসেছ। আমি তোমাদের শেখাবো কিভাবে যুদ্ধ করতে হয়। যুদ্ধ করার প্রশিক্ষনের জন্যে দির্ঘ সময় লাগে, যেটা তোমাদের নেই। তোমরা যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ শিখবে। আমি তোমাদের হাতে এক মুঠো করে বাংলাদেশের মাটি তুলে দিলাম। এই একমুঠো মাটিতে আমাদের কিছু হবেনা। আমাদের প্রয়োজন সমস্ত বাংলাদেশ"।

কেউ যদি একাত্তর সালে আমাদের মিলিটারি ট্যাক্টিস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন আর্মি লাইব্রেরী'তে যাবার প্রয়োজন নেই। স্বাধীনতার দলিল পত্র ষোড়ষ খন্ডটা প্রতিবছর বইমেলাতেই দেখি। কাউকে কিনতে দেখি নাই।

৫৯| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:১৮

কাউসার রুশো বলেছেন: পোস্ট পর্যবেক্ষণে থাকলো।

৬০| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:২৮

নিঃসঙ্গ বায়স বলেছেন: আসলে আমরা মনে মূল আলোচনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। ব্যাপারটি মোটেও এরকম নয় যে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বীরশ্রেষ্ঠ পদক পাওয়া অনুচিত অথবা যাদের দেওয়া হয়েছে তারা অযোগ্য। অবশ্যই তারা যোগ্য হিসেবে বীরশ্রেষ্ঠ পদক পেয়েছেন। কিন্তু সমস্যটা হলো, তাদের যোগ্যতার যেই মাপকাঠিতে পদক দেওয়া হয়েছে, সেই মাপকাঠিতে কী কোনো বেসামরিক লোক এই বীরশ্রেষ্ঠ পদকের দাবীদার হয়ে ওঠেনি? অবশ্যই ছিলেন। লিঙ্ক ২ টি আগেই একবার দিয়েছি এই পোস্টে, আবার দিলাম-

১। জগৎজ্যোতি! যিনি ছিলেন বাংলার প্রথম বীরশ্রেষ্ঠ/............ভাস্কর চৌধুরী
২। সংশপ্তক মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি আমাদের ক্ষমা করুন! বীরশ্রেষ্ঠ নিয়েও চলেছে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের খেলা।

আসলে শুধুমাত্র জগতজ্যোতি নয়, এরকম আরো অনেক মুক্তিসগ্রামে অংশগ্রহঙ্কারী বেসামরিক ব্যক্তি এই তালিকায় আসবেন। আসা উচিৎ। কেনো আসলেন না তারা? জগতজ্যোতির ক্ষেত্রে এটা অনেক বেশি কষ্টদায়ক, কারণ প্রবাসী বাংলাদেশি সরকার তাকে সর্বোচ্চ পদক দেওয়া ঘোষণা সেই সময়ে বেতারে দিলেও, স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী সময়ে সেই কথা রাখে নি। তাহলে এখানে দায় টা কার? অনেকেই এক্ষেত্রে দাবী করেন যে, বেসামরিকদের নিয়ে তেমন প্রচার হয়নি বলে, বীরশ্রেষ্ঠদের তালিকা প্রস্তুতির সময়ে তারা বাদ পড়ে যেতে পারেন! কিন্তু জগতজ্যোতির ক্ষেত্রে এই প্রচারটাওতো গ্রহনযোগ্য নয়, কেননা তার বীরত্ব ও সাহসীকতার এতোই নজীর ছিলো যে, যুদ্ধকালীন সময়ে তার দাস পার্টি ও তিনি রীতিমত কিংবদন্তীতে পরিনত হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও শত্রুপক্ষের কাছে?
আমার মনে হয়, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যে সামগ্রিক মুক্তিচেতনা আমাদের সামরিক-বেস্মরিক নির্বিশেষে সমগ্র জাতীর মধ্যে ছিলো, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তা অনেকাংশেই ভুলুন্ঠিত হয়েছে কতিপয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থের কাছে। আর তারই অনিবার্য শিকার হয়েছিলেন জগতজ্যোতির মত আমাদের আরো অনেক নাম না জানা বীরশ্রেষ্ঠরা।

৬১| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৩১

কর্ন বলেছেন: কেউ যখন বলবে বেসামরিক যোদ্ধারা যতই যুদ্ধ করুক তারা কুশলী নয় ......এক সপ্তাহ ট্রেনিং নেয়া কাউকে বীরশ্রেষ্ট পদক দেয়া যায় না ...এটি সামরিক পদক ....তখন আমারও কিছু বলার আছে . উনি এখানে কৌশল শিখাতে এসেছেন . ইনিয়ে বিনিয়ে একটি নাজায়েজ কাজ কে জায়েজ করতে চাইছেন , এইটা কেমন কথা ,


৬২| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৫২

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: সৌম্য,আমার সর্বশেষ মন্তব্যটি দেখুনঃ

/////আরেকটা কথা- সৌম্যের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আবেগকে মেনে নিয়ে তাঁর কাছে এপলজাইজ করতে আমার আপত্তি নেই- যদি কোন ভুল করে থাকি সেটা স্বীকার করে নেবার মত সৎ সাহস আমার আছে।সৌম্যকে কখনো দেখিনি কোন রাজাকারের পক্ষে সাফাই গাইতে,কাজেই শুধু ওই এক লাইনের উপরে ভিত্তি করে ওরকম কর্কশ শব্দাবলী ব্যবহার করাটা আমার হয়তো উচিৎ হয়নি-এটা আমি স্বীকার করি।////

এবার আসি পরের অংশে।আরবান গেরিলারা(যাদের পূর্বে কোন সামরিক জ্ঞান ছিলোনা) নানাভাবে নানা দিক দিয়ে পেশাদার সেনাদের চাইতে পিছিয়ে ছিলো এবং সেটা থাকাই স্বাভাবিক।কিন্তু প্রশিক্ষণের এই স্বল্পতা তারা কাটিয়ে উঠেছে অকুতোভয় দেশপ্রেম এবং বিজয়ের উদগ্র বাসনা দিয়ে।"বীরশ্রেষ্ঠ" ইত্যাদি খেতাব দেয়া হয়েছিলো যুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শনের উপর ভিত্তি করে-যাতে বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধারা পিছিয়ে ছিলেন না কোনভাবেই।আপনি যে কথাটি বলেছেন থিয়োরিটিকালি সেটি সত্য(আরবান গেরিলারা সামরিক কৌশলে ট্রেনিংপ্রাপ্ত সৈন্যদের মত হবেনা)। ঠিক একইভাবে এটাও থিয়োরিটিকালি সত্য যে অস্ত্রশস্ত্র/ট্রেনিং/যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সব কিছুতে পিছিয়ে থাকা বাঙ্গালিদের পক্ষে একটি পেশাদার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পেরে ওঠার কথা না।কিন্তু ১৯৭১ সালে ঠিক তা-ই ঘটেছে,শুধুমাত্র উদগ্র দেশপ্রেম আর মনোবলের সাহায্যে সামরিক কৌশল ইত্যাদির যে ঘাটতিটুকু মুক্তিযোদ্ধাদের ছিল তা তাঁরা কাটিয়ে উঠেছিলেন।এ কারণেই ১৯৭১ এ ওই পেশাদার সেনাবাহিনী লুঙ্গিপরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পর্যুদস্ত হয়েছিলো।সীমিত অশ্ত্রশস্ত্র আর নামেমাত্র প্রশিক্ষণ সম্বল করে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যে লড়াই করেছেন তার তুলনা পৃথিবীর ইতিহাসে খুব বেশি খুঁজে পাওয়া যাবেনা(একেবারে যে নেই তা নয়,চে গুয়েভারা বা ভিয়েতকংরা রয়েছেন)-আর এ কারণেই তাঁরা অনন্য।সুতরাং কেনো সব বীরশ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনীর এটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আপনি সমর কৌশলে বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের পিছিয়ে থাকার যে যুক্তিটি দেখালেন তা মোটেও ধোপে টেকেনা। আপনার ব্যাখ্যাটির চাইতে মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হাসান ভুইয়ার ব্যাখ্যাটি আমার কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে।সরাসরি যুদ্ধ ,সেনাবাহিনীতে চাকুরি,সেন্টার ফর বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত পড়াশোনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মোটামুটি বিগত ৩৯ বছর গবেষণা করা মেজর কামরুল হাসান ভুইয়াকে আমি এ ব্যাপারে মতামত প্রদানের জন্য যোগ্যতর লোক বলে মনে করি।আপনি যদি অধিকতর যুক্তিযুক্ত কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেন সেক্ষেত্রে সেটি বিবেচনা করার অবকাশ তো রইলোই।

সামুতে ছাগুদের আস্ফালনে মন-মেজাজ মাঝে মাঝে প্রচন্ড খারাপ থাকে।আমি সামান্য মানুষমাত্র,ভুলত্রুটি হওয়াটাই স্বাভাবিক।আমার কর্কশ আচরণের জন্যে আবা্রো দুঃখপ্রকাশ করছি।

তবে এটুকু বলি,আপনার সাথে আমার পূর্বপরিচয় নেই এবং পূর্বশত্রুতা থাকারও প্রশ্নই ওঠেনা।কাজেই "খামোখা" গালিগালাজ করতে যাবার মত ধৈর্য বা সময় আমার থাকবে সেটি যদি ভেবে থাকেন তা আপনার নিজস্ব ব্যাপার-এর সাথে সত্যের যগ নেই।আগেও বলেছি এবং এখনো বলছি-আপনার কমেন্টের শেষ লাইন এবং তার আগের মন্তব্যে "সামরিক কৌশলজনিত" ব্যাখ্যা যথেষ্ট পরিমান ধোঁয়াশা সৃষ্টি করাতেই এই অনভিপ্রেত কর্কশতা(আমি এটা বলে নিজের ত্রুটি কমানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করছিনা)।


@অগ্নিরঃ

//কি করে বিশ্বাস করি যে সে যুদ্ধের ওই সময়টাতে মানুষের কষ্ট বুঝত ?//

বেশ তো,করুন না অবিশ্বাস!


৬৩| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:৪৯

সৌম্য বলেছেন: ঢাকার বিখ্যাত আরবান গেরীলা, কাদেরীয়া বাহিনী, মুজিব বাহিনী এমনকি হেডকোয়ার্টারের অগোচরে যুদ্ধে নেমে পড়া সব বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা। কিন্তু ৭জন বীরশ্রেষ্ঠকে কোন যুক্তিতে বীর শ্রেষ্ঠ ঘোষনা করা হলো সেটার ব্যাখ্যা দিলাম। পছন্দ না হলে আমার বাবা রাজাকার হয়ে যাবেন? অশুচি লাগছে এধরনের কমেন্ট পড়লে।

বীর শ্রেষ্ঠ ঘোষনা কে করেন? সেনাপ্রধান? আজকে যদি বাংলাদেশের কোন সামরিক সদস্য খেতাবের যোগ্য হন তাহলে সেটা কি আর্মি চিফ করবেন?? কমেন্ট গুলা আবার পড়েন, সেনাবাহিনী হীন চক্রান্ত করে বীরশ্রেষ্ঠ টাইটেল নিয়া গেছে, বা স্বাধীনতার প্রথম লগ্নেই তারা এমন করে, এধরনের ঠিক কয়টা কমেন্ট।

আমাদের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সবচেয়ে বড় উতসাহ ছিল। আপনি কি জানেন, যুদ্ধের সময় একবার পুরো একদিন ধর্মঘট করেছিল বেতার সেনা'রা। কারন বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবী (সুত্র- এমআরআখতার মুকুল, আমি বিজয় দেখেছি, সজল খালেদের-একাত্তুরের শব্দসেনা)। বেতন আসতো প্রবাসী সরকারের থেকে।

আর বার বার ভিয়েতকং বা চে-গুয়েভারা'র গেরীলাদের প্রসং টানলেন। ভিয়েতনামে মার্কিন বাহিনী পরাজিত হয়েছিল আমরা বলি, ঢাকায় যেমন টিক্কা খান সাইন করে স্বীকার করলেন, মার্কিনীরা কি এমন করেছিল? গেরীলা ওয়ারফেয়ার কি? গেরীলা যুদ্ধ মুল যুদ্ধের একটা অংশ। যার মুল লক্ষ্য সারপ্রাইজ এটাক। গেরীলারা সাধারনের বেশে শত্রু এলাকায় ঢুকবে, ক্ষুদ্রাস্ত্র লুকিয়ে বহন করবে। শত্রুকে আঘাত করে, বা পুনঃপুনঃ হ্যারেজিং এটাক করে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করবে। প্যালেস্টাইনিরা কত দশক থেকে গেরীলা ওয়ারফেয়ারে আছে? ক্ষতি করে দ্রুত এলাকা থেকে হারিয়ে গেলাম ম্যাজিকের মতো। কিন্তু ভুমী পূনর্দখল করছি না। কত বছর লাগবে স্বাধীন করতে।
১৯৭১ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধ আর আমাদের মুক্তিসংগ্রাম এর তুলনা করেন। ক্রমাগত সেনাক্ষয়ে মার্কিনীরা বিপর্যস্ত (এমনকি ইরাকেও)। দেশ থেকে চাপ আসছে। রাজনৈতিক সরকার বিব্রত তাদের অমানবিক কীর্তিকলাপ ফাঁস হওয়ায়। ফিরে আসা ছাড়া গতি ছিলনা। কিন্তু পাকিস্তানে রাজনৈতিক সরকারের বালাই নেই। রাষ্ট্রপতি নিজেই কষাইকর্মে উতসাহী। গেরীলা এটাক তীব্র হলে ঘোষনা করলেন, কোন ইউনিট কমান্ডার ৭০% সেনাক্ষয় না হলে উইথড্র করতে পারবেনা। আর ৭০% সৈন্য ক্ষয় হলে জিওসির (যে কিনা থাকে ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টারে) পারমিশান চাইবে। শুধু তবেই উইথড্র করা যাবে।
বর্ষার পরে পরে পাকিস্তান থেকে পুরো একটা ডিভিশান নতুন করে মোতায়েন করা হলো। ভারত থেকে প্রতিশ্রুত সাহায্য আসছে না। পাকিস্তান সরকার আইওয়াশের জন্যে পূর্ববঙ্গে একটা ইলেকশান পর্যন্ত করে ফেললো। যেটাতে জামাতী ইসলামী আর অন্যান্য মার্কামারা রাজাকার দল ছাড়া কেউ দাড়াতে পারবেনা, বাংলাদেশের ব্রিগেড কমান্ডারেরা নিজেদের মিটিং এ জেনারেল ওসমানীকে কনভিন্স করলেন, গেরীলা ওয়ারফেয়ারে বেশী মনোযোগী হতে। জন্ম হলো আরবান গেরীলা। অপারেশন জ্যাকপটে বন্দর অচল হয়ে গেল, ঢাকা এয়ারপোর্টে মর্টার হামলা, নেভী কলোনীতে কুখ্যাত দালাল হত্যা, সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে বোমা মারা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বোমা হামলা। এগুলো করার উদ্দেশ্য শত্রুর মনোবল নিঃশ্বেষ করা। পাকিস্তান আর্মি ভালো করেই জানতো কিভাবে যুদ্ধ করতে হয়। নাটক সিনেমাতে যাই দেখাক না কেন। গুলি করলে শুধু পাকিস্তানীরা মরতো আর পালাতো তা নয়।
পাকিস্তানীরা শেষ দিকে দুর্গ কৌশলে চলে যায়। নির্দিষ্ট ক্যান্টমেন্ট, গ্যারিসনে দির্ঘদিনের রসদ নিয়ে কঠিন ডিফেন্স নেয়া। যাতে দির্ঘদিনের জন্যে যুদ্ধ ঝুলে পড়ে আর জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতী পাস করতে পারে মার্কীনীরা। এধরনের ডিফেন্স ভাংতে দুর্গের খুব কাছ থেকে শক্তিশালী আর্টিলারী এটাক, ব্যাপক এয়ারস্ট্রাইক দরকার। যেটা আমাদের ছিলনা। ৩শরা ডিসেম্বর সর্বাত্মক যুদ্ধের আগে ভারত সরকারও এধরনের সাহায্য করতে পারেনা। দেখা যায়। ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতীয় বিমান হামলা শুরু হলে ডিফেন্সে চির ধরে। প্যারাট্রুপার নামালে ডিফেন্সের পিছে গিয়ে উলটো হামলা চালানো হয়। টিক্কা খানের প্ল্যান ছিল গ্যারিসন গুলো রক্ষা করে বাকী সব অংশ ধ্বংস হোক, যতোদিননা জাতিসংঘ নাক গলাতে পারে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ঢাকার পতন হলো। ১৬ই ডিসেম্বরের পরেও অনেকগুলো দুর্গ বিচ্ছিন্ন ভাবে লড়াই করে।

আর, একজনকে দেখলাম লিখেছেন মৃত্যু জেনেও বিমান ছিনতাই কেমন কৌশল। কিংবা কমান্ডার এবান্ডান শিপ কমান্ড করলেও জাহাজ রক্ষা কেমন কৌশল। ভাই, ট্রি লেভেলে প্লেন চালিয়ে রিসালপুর থেকে ভারতীয় সীমান্তে উড়ে যাওয়া, অনেক বড় দক্ষতার প্রশ্ন। ইঞ্জিনরুমে আগুন জ্বলছে, সব গোলা বারুদ ফুটছে, জাহাজের সবাই পানিতে নেমে গেছে। একা একটা ব্যাটেলশীপ নেভিগেটর, ইঞ্জিনরুম অপারেটর কারো সাহায্য ছাড়াই চালিয়ে নিয়ে যাওয়া... হলিউডি সিনেমা নয়। খুব দক্ষ যোদ্ধা ছাড়া কেউ পারবেনা।

৬৪| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৩

কর্ন বলেছেন: @সৌম্য .আপনি এত কথা বলে কিন্তু মূল আলোচনা থেকে সরে আসছেন । নিসঙ্গ বায়াস এরলিঙ্ক টা পরুন । এটি কি অস্বভাবিক নয় যে একজন সিভিলিয়ান বীরশ্রেষ্ট নেই । বর্তমান বীরশ্রেষ্ট নিয়ে আমি আর কাদা ছোরা ছুরি করতে চাই না । কারন এটি ধৃষ্টতার সামিল । এটি শুরু হয়েছে এই কারনে যে আপনি ইনিয়ে বিনিয়ে বলেছেন একমাত্র সেনাবাহিনী সর্বচ্চো পদক পাবে কারণ তারা কুশলী ।

৬৫| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৩

হুনার মন্দ বলেছেন: এত আলাপের সারমর্ম কি দাঁড়ালো? যেই প্রশ্নে শুরু...সেই প্রশ্নেই থেকে গেলাম। আমার কাছে এই পুরো আলোচনার সরলীকৃত প্রশ্ন হচ্ছে:

* বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব শুধুমাত্র সামরিক বাহিনীর যোদ্ধাদের দেয়া হয়েছে যে ক্যাটেগরিতে বা যোগ্যতা বিচারে...সেই যোগ্যতা বা ক্যাটেগরিপূরণে সমর্থ কি সামরিক বাহিনী'র বাইরে আর কোন যোদ্ধা ছিল না? (এটা প্রশ্নের প্রথম অংশ)

এর উত্তর যদি হ্যাঁ হয়...অর্থাৎ যদি মনে করি সামরিক বাহিনীর বাইরেও বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত হওয়ার যোগ্যতা আরো বীর যোদ্ধা (নারী-পুরুষ উভয়ার্থেই) ছিল, তাহলে তারা পেল না কেন অথবা তাদেরকে দেয়া হলো না কেন?



এই আলাপটা অপ্রয়োজনীয় অনেকদিকেই ছড়িয়ে গেছে..তবে আমি এটা বিশ্বাস করি, আলোচনায় যাই আসুক...বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত ৭ জন সহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অসম্মানজনক কোন বক্তব্য সহ্য করার কোন কারণ নেই। তেমনি সকলের সামর্থ্য ও ত্যাগের মাত্রা নিয়ে কোন ধরনের প্রশ্ন তোলা অবশ্যই স্পর্ধা'র পর্যায়ে পড়ে।

পোষ্ট পর্যবেক্ষণে রাখলাম। ধন্যবাদ।

৬৬| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:৫০

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: @ সৌম্য- ১) আপনার কোন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কমেন্ট এসেছে-কেনো এসেছে তা বারংবার ব্যাখ্যা করেছি।তাছাড়া আপনার "বীরশ্রেষ্ঠ শুধু সেনাবাহিনী থেকে এসেছে কারণ তাদের সমরকৌশল বেটার ছিলো" এজাতীয় অমৃতবচন(?!) আমার শুধু অপছন্দই হয়নি,এজাতীয় মন্তব্য স্পর্ধা ও ইতিহাস বিকৃতির পর্যায়েও পড়ে-এটাও বলেছি।পস্টের মূল বক্তব্য ওটা।আপনার ওই ব্যাখ্যা টিপিকাল মিলিটারি মেন্টালিটির পরিচায়ক এবং বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের ইনিয়ে বিনিয়ে খাটো করার সামিল বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে- যার কোনটাই খুব শুচিযুক্ত কাজ নয়। গেরিলাযুদ্ধ মূল যুদ্ধের অংশ ঠিক আছে,কিন্তু সম্মুখ সমরও যে বেসামরিক যোদ্ধারা করেননি তাও তো নয়।"কেন একটা বীরশ্রেষ্টও বেসামরিক ব্যক্তি নন"- এ প্রশ্নের উত্তরে যুদ্ধের ডামাডোলে যোগাযোগের অভাবের কথা যেখানে স্বয়ং একজন সামরিক মুক্তিযোদ্ধাই বলেছেন সেখানে বার বার আপনি ত্যানা পেঁচিয়ে যাচ্ছেন।যেখানে সুস্পষ্টভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল্পত্রের পৃষ্ঠানম্বর উল্লেখ সহ প্রকাশ করলাম যে কাদের মাধ্যমে কোন প্রক্রিয়ায় খেতাব নির্ধারণ করা হয়েছিলো এর পরেও আপনি দোষটা প্রবাসী সরকারের উপর চাপাতে চাইলেন।আপনার এ আচরণ কিন্তু সেনাবাহিনীকে খুব একটা ডিফেন্ড করছেনা।আর যুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনা,অন্যে কমেন্টে কি বলেছে এগুলো সম্পূর্ণ বাহুল্য এবং অপ্রয়োজনীয় ছিলো।

৬৭| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:২৭

সৌম্য বলেছেন: @একলব্যঃ আমি ইনিয়ে বিনিয়ে কাকে খাটো বললাম। আমার কমেন্টগুলা না পড়েই আপনি আমাকে রাজাকারের বাচ্চা বললেন। আবার বলছি। বীরশ্রেষ্ঠ ঘোষনাগুলো আসছে সিভিল প্রশাষন থেকে। সেখানে কোন ডিসক্রিমিশান থাকলে সেটার দায় দায়িত্ব সেনা কমান্ডের উপরে আসবে কিভাবে? জেনারেল ওসমানী কবে কোন চিঠিতে তাজউদ্দিন আহমেদ বা বঙ্গবন্ধু সরকারকে বলেছিলেন যে সেনাবাহিনীর বাইরে কাউকে দেয়া যাবেনা?

যখন শুনলাম, মতিউর রহমানের বিমান ছিনতাই কোন কৌশলগত পরিকল্পনা ছিলনা, নিছকই ঝোকের মাথায় করা দেশপ্রেমের উচ্ছাস, কিংবা রুহুল আমিনের আত্মত্যাগ শুধুই আবেগ থেকে, পলাশ রক্ষায় তাঁর কোন ভুমিকা ছিলনা, আমি তাদেরকে রাজাকার বলি নাই।

আমি কোথায় ত্যানা প্যাচালাম। ভিয়েতকং আর চে গুয়েভারার নাম নিয়ে গেরীলা যুদ্ধের ব্যাপারে অদ্ভুত সব কথা বললেন, তাই গেরীলা যুদ্ধ কি এবং কোন পরিস্থিতিতে গেরীলা যুদ্ধ ৭১ সালে হয়েছিল, সামগ্রিক ডিফেন্স প্ল্যানে তার উদ্দেশ্য কি ছিল সেটাই ব্যাখ্যার চেষ্টা করা ছাড়া আর কোন কিছু কি বলেছি?

@ হুনার মন্দঃ বীরত্বের তুলনা হয়? উত্তর যদি হ্যা হয়, সেটার দ্বায়ভার কার? বাংলাদেশে অনেকের কাছেই মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট আছে, এদের অনেকেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। এটার দ্বায়ভার কার? "স্বাধীনতার প্রথম লগ্নেই সেনা বাহিনী কেন এরকম করলো, এ ধরনের কথা বলে কথার জোরে দ্বায়ভার আরেকজনের পিঠে পাঠানো হলো কেন?
মতিউর রহমান, কিংবা রুহুল আমীনের সামরিক কৌশলকে অস্বীকার করা কোন ধরনের স্পর্ধা? এ ধরনের স্পর্ধা দেখালে মানুষ দেশপ্রেমিক হয়, আর মতের মিল না হলেই রাজাকারের বাচ্চা হয়?? ১৯৫২সালের ভাষা আন্দোলনে ভুমিকা রাখার জন্যে যেই পরিবারের একজন জেলখানায়, আরেকজন ফেরারী, সমস্ত স্থাবর, অস্থাবর সম্পদ ক্রোক (৭১ সালের কথা বাদ রাখলাম) তারা রাজাকার হয়ে যায়?

@ কর্নঃ যান, তালগাছটা আপনার। তবুও বলি। কিছু কথা শুনতে খারাপ লাগে। কোথাও বলা হয়নি যে তারা দেশপ্রেম কম ছিল, কিংবা তারা খারাপ যোদ্ধা, তাঁদের বীরশ্রেষ্ঠ দেয়া যাবেনা। বীরশ্রেষ্ঠ টাইটেল দেয় সরকার, সেটা তাঁদের সিদ্ধান্ত। আবার পড়লে হয়তো দেখবেন আমি লিখেছি, খালেদ মোশারফের মতো কিংবদন্তি যোদ্ধা বলছেন, 'যুদ্ধ করতে লাগে দেশপ্রেম আর সামরিক বিদ্যা। দেশপ্রেম সবারই আছে। সামরিক বিদ্যা কয়েক সপ্তাহে শেখানো যায়না। যদি কেউ নেপোলিয়ান বোনাপোর্ট কিংবা ঈশা খাঁনের মতো জন্মগত প্রতিভা নিয়ে না জন্মান।
সমর কৌশল একটা বিদ্যা। এরজন্যে স্কুল কলেজ আছে। সেটা'তে এর উপরে পড়াশুনা করা হয়, শিখতে হয় পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে হয়।

আমাকে রাজাকারের বাচ্চা বলায় প্রথমে হতবম্ভ হয়েছি। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসটাই অদ্ভুত। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পরে কি করেছিলেন সেই জন্যে উনার যুদ্ধে ভুমিকা'কে ভুলে গিয়ে বলবো যে উনি আসলে আইএসআই এর এজেন্ট ছিলেন। আর খালেদ মোশারফ'কে বলবো হিন্দুস্থানী জাসুস। জ্বী আমাদের বাংলাদেশে এগুলো সবই হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ কারো কাছে সম্পত্তির মতো। তালগাছটা আপনার না বললেই একজন মুক্তিযোদ্ধাকেও রাজাকার হয়ে যান। আমার বাবা কি করেছেন, কি ছিলেন আমি নিজে জানি। ভার্চুয়াল জগতে এই সব কথাকাটির কোন মুল্য দেয়াই বোকামী।

৬৮| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:৩৫

মা-নবি০৩ বলেছেন: মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের চাকরি নিয়ে বিষেধাগার ও কয়েকটি কথা !!

এর জবাবে লিখেছিলাম

মুক্তিযোদ্ধা কারা ? কিছু চিহ্নিত রাজাকার ছাড়া বাংলাদেশের সবাই এ লড়াইয়ে ত্যাগ বা ক্ষতির শিকার হয়েছিল । মুক্তিযোদ্ধা বলতে শুধু অস্ত্র হাতে লড়াই করাদের বলবেন (যদি বলেন তাহলে শেখ মুজিব মুক্তিযোদ্ধা বলে বিবেচিত হন না )। স্বাধীন রাষ্ট্রের শুরুই জনগনরে বাদ দিয়ে সার্টিফিকেট অলা মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে । জনগন আর মুক্তিযোদ্ধা আলাদা

১৯৭২ এর মেট্রিক পরীক্ষার কথা বাপ চাচাগো থেকে শুনেন পোলাপাইন যুদ্ধ করছে পড়তে পারে নাই । তাই পরীক্ষা দেলেই পাশ । রাস্ট্রীয় পৃস্ঠ পোষকতায় অনিয়ম শুরু আতুড় ঘর থেকে (পরীক্ষা এক বছর পরে হলে কি হতো , মুক্তিযুদ্ধর ব্যবহার করে অন্যায়ের চর্চা তো ঐ শুরু )


১৯৭১ এ সামরিক বাহিনীর সদস্য দের ভূমিকা নিয়ে আমার সন্দেহ বা প্রশ্ন নেই এখানে ও একই কথা বলতে হয় । বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা স্বাধীনতা যুদ্ধের পরই হাইজাক হয় । আমি শুধূ বলতে চাই রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের যে চরিত্র তা বদলায় নি । অথচ মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল এই চরিত্র পাল্টানোর স্বপ্ন নিয়ে । ক্ন্তিু দাউদ , আদমজীর জায়গায় নব্য ব্যবসায়ীরা না এসে এল ঋন খেলাপীর দল ,গনতন্ত্রের প্রাণ পুরুষ হলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী । সাধারন জনগনের বঞ্ছনার ইতিহাস ই বাংলার ইতিহাস

৬৯| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:৪০

কর্ন বলেছেন: তালগাছ প্রথমে নিজে রেখে দিয়ে এখন আমার কাছে কেনো গছাতে চাইছেন ।


আর সাধারণ মুক্তিযুদ্ধারা কুশলী নয় সর্বচ্চো সম্মান পাই নাই এইটা আপনের কথা আমার না । যেখানে গেলান্তারি কথার মানে হইলো সাহসিকতা বা কারেজ সেইখানে পানে ইনিয়ে বিনিয়ে কৈছেন কুশলী হইতে হবে ।

শুনেন শাক দিয়ে হয়তো পুটি মাছ ঢাকা যায় কিন্তু বোয়াল ঢাকা যায় না


আর ভার্টুয়াল জগতে কথাকাটাকাটির মূল্য দিতে না চাইলে কথা কইতে আইসেন কেন ?


নাকি আপনের পরিবারের অনেকে মুক্তিযোদ্ধা আসিলো দেইখা আপনের সকল কথা মাইনা নিতে হবে

৭০| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:৫২

মা-নবি০৩ বলেছেন: সৌম্য "লেফটেন্যান্ট আহসান। একাডেমীতে পাস করার ২২ দিনের মধ্যে (সঙ্খ্যাটা ভুল হতে পারে, কিন্তু সময়টা ১ মাসের কম শিউর) শান্তি-বাহিনীর রেইড থেকে ক্যাম্পের সাধারন সৈনিকদের রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন,"

লেফটেন্যান্ট আহসান না সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট আহসান । বি এম এ থেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে বের হয় ।

(আর সম্ভবত নামটা সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট মুশফিক ,যার নামে বি এম এ র একটি সড়ক ছাড়া আর কোন চিহ্ন কোথাও নেই )

৭১| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:৫৭

কর্ন বলেছেন: আরেকটা কথা কিংবদন্তির নেতা মাও সেতুং বলেছেন , " আমাকে তোমরা রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বধীনতা দেবো " ।


সাধারণ অকুশলী বীরশ্রেষ্ঠ পদকের অযোগ্য সিভিলিয়ান মুক্তিযুদ্ধারা তাই দিয়েছে ।

৭২| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:০৮

নিঃসঙ্গ বায়স বলেছেন: @একলব্য ১৯৭১- আমার মনে হয় এই দায়টা নির্দিষ্ট কারো দিকেই সরাসরি ছুঁড়ে দেওয়া যায় না। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকার (অস্থায়ী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সকলেই ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত কোনো না কোনো ভাবে সেখানে যুক্ত ছিলেন) ও সামরিকবাহিনী - উভয়েই এই পরিকল্পিত আথবা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দায়ী! কার দায় বেশি ছিলো সেটা বলা মুশকিল এই সময়ে দাঁড়িয়ে। কিন্তু যেহেতু তালিকা করার মূল দায়িত্বে সামরিক বাহিনীর সদস্যরাই ছিলেন, তাই অভিযোগের তীরটা তাদের দিকেই বেশি যায়। কিন্তু একই সাথে তৎকালীন সরকারের এই ব্যাপারে নীরব ভুমিকা ও সমর্থনও যথেষ্ট প্রশ্নের জন্ম দেয়।

৭৩| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:২৮

নুভান বলেছেন: আমার তো মনে হয় শহীদ রুমি বা আজাদের গেরিলা ওয়ারফেয়ার ট্যাক্ট একটা মাথা মোটা মিলিটারির ট্যাক্টের চেয়ে অনেক ভালো ছিলো। তাদের কেন পুরস্কৃত করা হল না?

৭৪| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ ভোর ৪:৫১

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: @সৌম্য- আপনি বলেছেনঃ

///বীরশ্রেষ্ঠ ঘোষনাগুলো আসছে সিভিল প্রশাষন থেকে। সেখানে কোন ডিসক্রিমিশান থাকলে সেটার দায় দায়িত্ব সেনা কমান্ডের উপরে আসবে কিভাবে? জেনারেল ওসমানী কবে কোন চিঠিতে তাজউদ্দিন আহমেদ বা বঙ্গবন্ধু সরকারকে বলেছিলেন যে সেনাবাহিনীর বাইরে কাউকে দেয়া যাবেনা?///

বীরশ্রেষ্ঠ ঘোষণা সিভিল প্রশাসন থেকে আসলেও কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় খেতাব দেয়া হবে তা জেনারেল ওসমানীর নির্দেশে সেক্টর এবং সাবসেক্টর কমান্ডারেরা নির্ধারণ করেছিলেন(স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র-১১তম খন্ড,পৃষ্ঠা ৫৩৯)।আমি মেজর কামরুল হাসান ভুইয়ার কথা ব্যক্তিগতভাবে মেনে মেনে নিয়ে এটা বিশ্বাস করি যে যুদ্ধের ডামাডোলে অনেক বীর যোদ্ধার নাম হয়তো সেক্টর এবং সাবসেক্টর হেডকোয়ার্টারে পৌঁছেনি।কিন্তু নির্বাচন প্রক্রিয়াটা ছিলো সেক্টর এবং সাবসেক্টর কমান্ডারের হাতে,যাঁরা মূলতঃ ডিফেন্সের লোক ছিলেন।এক্ষেত্রে সিভিল প্রশাসনের উপর দোষ চাপাচ্ছেন কেন?সিভিল প্রশাসন তো বরং খেতাব নির্বাচনের দায়িত্ব যাঁরা সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন সেই সেক্টর এবং সাবসেক্টর কমান্ডারদের হাতে ন্যস্ত করে সঠিক কাজটাই করেছিলো।সেক্টর এবং সাবসেক্টর কমান্ডারেরা যে কোন কারণেই হোক(ইচ্ছাকৃত কিনা তার জবাব ইতিহাস দেবে)বার বার উল্লেখ করা সত্বেও এভাবে সিভিল প্রশাসনের কাঁধে দোষ চাপানোর মানে কি?

আর বারংবার অন্যদের কমেন্ট নিয়ে আমাকে বলছেন কেনো?তাছাড়া "রাজাকারের বাচ্চা" কোন পরিস্থিতিতে বলেছি(এবং পরবর্তীতে সুস্পষ্টভাবে দুঃখপ্রকাশও করেছি,নিজের অবস্থান থেকে সরেও এসেছি) সেটাও আমার প্রশ্নের জবাবে প্রত্যেকবার টেনে আনার মানে কি?এটা ত্যানা প্যাঁচানো না তো কি? নাকি ওই অজুহাতে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যেতে চান?প্রথমে একবার বললেন বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধারা যথেষ্ট কুশলী ছিলেন না,এরপর বলছেন দোষটা আসলে সিভিল প্রশাসনের-এজাতীয় অমৃতবচন শুনলে আপনার অবস্থান নিয়ে দ্বিধা তো হতেই পারে,আশ্চর্য!

৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:০১

সহজ পৃথিবী বলেছেন: জেনারেল ওসমানী কবে কোন চিঠিতে তাজউদ্দিন আহমেদ বা বঙ্গবন্ধু সরকারকে বলেছিলেন যে সেনাবাহিনীর বাইরে কাউকে দেয়া যাবেনা?///

না সেনা বাহিনী এমন কোন চিঠি দেয়নি। তবে সেনা বাহিনীকে যখন খেতাব প্রদানের পদক্ষেপ নিতে দায়িত্ব দেয়া হলো তখন তারা স্বজ্ঞানে, সতর্কভাবে বীরশ্রেষ্ঠর তালিকায় একজনও বেসামরিক শহিদের নাম রাখেনি । বানরের রুটি ভাগের মত সমগ্র দেশটাই নিজেদের বাটোয়ারায় নেয়ার অপচেষ্টা এই বাহিনী সব সময়ই করে এসেছে। এমন কি গত ৪০ বছরে এই বাহিনীই ১৭ বছর দেশ শাসন করেছে। সে থেকে ব্যবসা বানিজ্য সহ সরকারের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ন সিভিল প্রতিষ্ঠানে এই বাহিনী স্থায়ী নিবাস করে নিয়েছে যেমনঃ ডিসিসি, ডেসকো, ডেসা, মেডিকেল কলেজ সহ অগনিত সিভিল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর প্রতিনিধিই গুরুত্বপূর্ন পদ নিয়ে বসে আছে।

৭৫| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ ভোর ৫:০৫

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: @ নিঃসংগ বায়স- আমি কিন্তু সেনাবাহিনীর দিকে তীর ছুঁড়ে দেবার বিপক্ষে।যুদ্ধের ডামাডোলে সবার বীরত্বগাথা সেক্টর এবং সাব-সেক্টর কমান্ডারদের কানে পৌঁছোয়নি বলেই বহু মানুষের বীরত্বগাথা খেতাবযোগ্য হবার পরেও পায়নি-এখনও পর্যন্ত এটাই আমার ধারণা।তবে এই ব্যর্থতার(ইচ্ছাকৃত নয় বলেই আমার ধারণা) দায় মূলতঃ ডিফেন্সের সেক্টর/সাব-সেক্টর কমান্ডারদের উপর বর্তায় কেননা তাঁদের পাঠানো নাম এবং উদ্ধৃতি অনুসারেই খেতাবগুলো দেয়া হয়েছিলো।কে খেতাব পাবে,কোন যোগ্যতায় পাবে- এটা নির্বাচনে সামরিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা বেসামরিক কর্তৃপক্ষের চাইতে নিঃসন্দেহে বেশি ছিল। সৌম্য প্রথমে বলছেন যে বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধারা যথেষ্ট কুশলী ছিলেন না বলে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পাননি,এরপর পুরো দায় বেসামরিক কর্তৃপক্ষের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন।আমার আপত্তিটা এখানেই।কিছুটা উত্তেজনাবশতঃ আমি তাঁকে রাজাকারের বাচ্চা বললেও নিজের ভুল স্বীকার করে ওই অবস্থান থেকে সরেও এসেছি এবং তাঁর কাছে সুস্পষ্টভাবে ক্ষমাও চেয়েছি(আমার কমেন্ট দেখুন)।কিন্তু এই দুটো প্রশ্ন যখনই রাখছি তখন তিনি হয় অন্যদের কমেন্ট নাহলে কেন তাঁকে অটা বলা হল সেই কাঁদুনি গাইছেন যা প্রচন্ড বিরক্তিকর।এককভাবে দায় আমি চাপাইনি,ওই কাজটি তাঁর।

@ কর্ণ- কথাটি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বলেই জানি,মাও সেতুংএর নয়।যাই হোক-এটা পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে খুব বড় কোন ভুল নয়।

@মা-নবি০৩- সৌম্য এক্ষেত্রে ঠিকই বলেছেন।র‌্যাঙ্ক "সেকেন্ড লেফটেনেন্ট" হলেও বলার ক্ষেত্রে/পরিচয় দেবার ক্ষেত্রে সাধারণতঃ "লেফটেনেন্ট" ই বলা হয়।লেফটেনেন্ট কর্নেলরাও পরিচয় দেবার ক্ষেত্রে "কর্নেল অমুক" ই বলে থাকেন।

ভালো থাকবেন সবাই।

৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ৮:৫৫

সহজ পৃথিবী বলেছেন: কি আজব কথা বলছেন ? দায়িত্বটা সাভাবিক ভাবেই সেনা বাহিনীর ছিল। সিভিল প্রশাসন/রাষ্ট্রপতি শুধু তালিকাটিতে দস্তক্ষত করেছে।

এই তালিকা করার মধ্যেই বাংলিদেশ সেনা বাহিনীর মনোভাব স্পষ্ট ফুটে উঠেছে যা যুদ্ধ পরবর্তী চল্লিশ বছরে জাতি বারবার প্রত্যক্ষ ও সাফার করেছে। যা সর্বশেষ রুপগ ঞ্জে দেখা যায়।

৭৬| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:০৫

কর্ন বলেছেন: @ একলব্য১৯৭১ .।ভুল সংশোধনের জন্যে ধন্যবাদ । কিন্তু কথা ঠিকই আছে শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন হবে

৭৭| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:১৯

নিঃসঙ্গ বায়স বলেছেন: প্রথমেই একটা সত্য স্বীকার করে নেই, আমি ব্যক্তিগতভাবে সামরিক বাহিনীর যে প্রক্রিয়া বাংলাদেশে অনুসরিত হয়, তার বিপক্ষের লোক; পিপল'স আর্মির পক্ষে। কিন্তু সত্যানুসন্ধানে নির্মোহ থাকা অনেক বেশি জরুরী। বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব থেকে বেসামরিক লোক বাদ পড়াটায় বেশি দায় তৎকালীন সামরিক বাহিনীর উপর বর্তালেও তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারও এই দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ পায় না। একা বঙ্গবন্ধুই যে পরিমান প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন, তিনি যদি ব্যাপারটি খেয়াল করতেন ব্যক্তিগতভাবে হলেও (নিশ্চয়ই প্রকাশের আগে তাকে সেই লিস্ট দেখানো হয়েছে, তিনি সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন), এবং নির্দেশ দিতেন যে এই তালিকা সামরিক-বেসামরিক নির্বিশেষে করতে হবে, এককভাবে কোনো বাহিনী বা তার সদস্যদের গুরুত্ব দেওয়া যাবে না, বা কাউকে অবহেলা করা যাবে না, তাহলে সামরিক বাহিনীর কারো কী ক্ষমতা ছিলো সেই সময়ে সেই নির্দেশ অমান্য করে!? এছাড়াও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন তৎকালীন সরকারে যাদের কেউই বিষয়টি সেইভাবে খেয়াল বা নজরদারি না করাটাও আমার মনে প্রশ্নের সৃষ্টি করে!

অর্থাৎ দায় দিতে চাইলে কাউকেই কিন্তু কম দায় দেওয়া যাচ্ছে না। না সামরিক বাহিনী, না তৎকালীন সরকার। কিন্তু তাতে কী ব্যাপারটার আদৌ কোনো পরিবর্তন হচ্ছে/ হবে? সেই ক্ষেত্রে আমরা যারা নতুন প্রজন্ম আছি, আমাদের আসলে এই যে সচেতনতা ও উপলব্ধি, এটার কোনোভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব কিনা তার চেষ্টা করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠকে তালিকায় রেখেই নতুনভাবে সামরিক-বেসামরিক নির্বিশেষে বীরত্বের বিবেচনায় সামরিক-বেসমরিক যোগ্য ব্যক্তিদের যৌথ তত্ত্বাবধানে এই তালিকা নবায়ন করার দাবী আমরা সম্মিলিতভাবে তুলতে পারি। আর সেটা যদি আমরা করতে পারি, এবং তার বাস্তব রূপ আমরা দিতে পারি, তাহলে মনে হয় জাতি হিসেবে আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের প্রতি যে দায়বদ্ধতা, তা পূরণে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারবো।

৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:৪৬

সহজ পৃথিবী বলেছেন: একা বঙ্গবন্ধুই যে পরিমান প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন, তিনি যদি ব্যাপারটি খেয়াল করতেন।

ঠিক বলেছেন যদি খেয়াল করতেন ? কেউ খেয়াল করেনি সেই সুযোগটাই তৎকালীন সেনা বাহিনীর কর্তারা নিয়েছেন। আর তাদের মত এত দক্ষ, বীর, প্রশিক্ষিত অফিসারেরা অচেতন ভাবে তালিকা করেছিলেন সে কথা অবশ্যই বলবেন না ?

ইনফ্যক্ট এই কাজটির মাধ্যমে প্রতিটি গনিমতের মালে সবচেয়ে বড় ভাগটা বসানোর সূত্রপাত করেছিল সেনা বাহিনী যা আজ পর্যন্ত বহাল আছে।

আর পিপল'স আর্মির কথা বলছেন ? এই ধারনার প্রবক্তা সেনা সদস্যদের প্রথম সুজোগেই এই বাংলাদেশ সেনা বাহিনীই হত্যা করেছে নিষ্ঠুর ভাবে।

৭৮| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৬

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: @নিঃসংগ বায়সঃ দায় দিতে চাইলে অবশ্যই দেয়া যায়,এবং বেসামরিক সরকারের দায়ের কথা অস্বীকারও করিনা।তবে এটাও ঠিক(মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রঃ১১ খন্ড অনুসারে) যে কোন প্রক্রিয়ায়,কিভাবে খেতাব দেয়া হবে তা পুরোটাই ওসমানীর নির্দেশে সেক্টর এবং সাব-সেক্টর কমান্ডাররা ঠিক করেছিলেন,বেসামরিক প্রশাসনের কাজ ছিলো ওই দস্তখত করা পর্যন্ত।এ কারণেই ডিফেন্সের দায়টা অনেক বেশি ঠেকে।তবে এতকিছুর পরেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এটিকে ইচ্ছাকৃত বলতে আমার বাঁধে।ওই যে বললাম,যুদ্ধের ডামাডোলে সব বীরদের কথা হয়তো হেডকোয়ার্টারে পৌঁছোয়নি তাই এই দুঃখজনক ঘটনা।তবে আপনার কমেন্টটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত-যদি আমরা আসলেই তা করতে পারি তবে ইতিহাসের দায় থেকে আমরা কিছুটা হলেও মুক্ত হবো।অনেক ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার মন্তব্যটির জন্যে।

৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:৩৩

সহজ পৃথিবী বলেছেন: যুদ্ধের ডামাডোলে সব বীরদের কথা হয়তো হেডকোয়ার্টারে পৌঁছোয়নি তাই এই দুঃখজনক ঘটনা।


কিন্তু অনেক বেসামরিক বীর শহিদের নাম যুদ্ধ ক্ষেত্রেও সবার মুখে মুখেও পৌছে গিয়েছিল। তাই এই যুক্তিটি খুবই বাজে যুক্তি। কোন কিছু না বুঝে না জেনে অথবা খারাপ ইনটেনশন ও অন্ধ সেনা ভক্তিই এরকম যুক্তি উপস্থাপন করতে পারে।

৭৯| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১০:৪৬

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: @লেখক- অন্ধ সেনাভক্তি থাকলে "বীরশ্রেষ্ঠরা শুধুমাত্র সামরিক বাহিনী থেকে আসবে কারণ তাদের সামরিক কৌশল অপেক্ষাকৃত ভাল"-এই মতবাদের বিরোধিতা করতামনা। যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত না থেকে সেখানকার পরিস্থিতি আমি কোনদিনও বুঝতে পারবোনা-এ কারণেই একজন মুক্তিযোদ্ধার কথাকে(মেজর কামরুল হাসান ভুইয়া) কিছুটা হলেও বেনিফিট অফ ডাউট দিচ্ছি মাত্র।তবে আপনার সাথে আমিও স্বীকার করি-যুক্তিটি খুব শক্তিশালী নয়।যাই হোক-অন্ধ সেনাপ্রীতি বা বিদ্বেষ কোনটাই কাজের জিনিস নয়,নিরপেক্ষতাই সবচেয়ে প্রয়োজন।ভালো থাকবেন।আপনার পোস্টটার কারণে (এবং পোস্টসংক্রান্ত আলোচনা থেকে)অনেক কিছু জানতে পারলাম এজন্যে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

৮০| ০১ লা নভেম্বর, ২০১০ রাত ১২:২৩

নিঃসঙ্গ বায়স বলেছেন: @সহজ পৃথিবী- আপনার সাথে এক জায়গায় আমার একটু দ্বিমত আছে। আপনি শুধুমাত্র সামরিকবাহিনীর প্রতি সব দোষ দিতে চাচ্ছেন, কিন্তু তৎকালীন সরকারের দুর্বলতাটাকে ওইভাবে স্বীকার করছেন না। আমি আবারো বলছি, ভুলটা দু'পক্ষেরি ছিলো। সামরিক বাহিনীকে একটু বেশি দায়ী করি কারণ তারা এই কাজে মুল ভূমিকা পালন করেছে এবং তাদের ওই সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠা ও চর্চা করা সামন্তবাদী সংস্কৃতির কারণে। তারা ক্রমশই নিজেদের তাদের এই সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু এর পেছনে আমাদের রাজনোইতিক নেতৃত্বের দায়কে অস্বীকার করা সম্ভব না। দেখুন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যখন বাংলাদেশ আর্মিকে পুনর্গঠন করা হলো পশ্চিম পাকিস্তান ফেরত অনেক অফিসারকে নিয়ে(তাদের অধিকাংশই বিতর্কিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবস্থানের জন্য), তখন স্বয়ং সামরিক বাহিণির একাংশ ও বন্ধুপ্রতিম অনেকেই তৎকালীন সরকারকে এই ব্যাপারে সাবধান করেছিলো এবং নতুন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহঙ্কারীদের নিয়ে সেনাবাহিনী গঠন করতে বলেছিলো। কিন্তু সরকার বিষয়টাকে সেভাবে গুরুত্বই দিলো না। বরং চলমান প্রক্রিয়াকেই সমর্থন দিলো রাজনৈতিকভাবে। বিষয়টাকে কীভাবে বিবেচনা করা উচিৎ বলুন? বলা যেতে পারে, এটা তখনকার সরকারের অদূরদর্শিতা ছিলো। ভূল ছিলো। মাত্র দেশ স্বাধীন হলো, তারা অন্যান্য অনেক বিষয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলো!? যাই বলি না কেনো আমরা এটা নিঃসন্দেহে জাতীয়ভাবে তখন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর করা সবচেয়ে বড় ভুল্গুলোর একটি। একটা সরকার অথবা জাতীয় রাজনৈতিক দলের যে কোনো বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত কিন্তু চরম ভয়াবহ হতে পারে, সেটা সে বুঝেই করুক, আর না বুঝেই করুক। এই কারণে আমরা যখন সমস্যাকে চিহ্নিত করি, তখন এর সবগুলো কারণকেই নির্মোহভাবে ও সঠিকভাবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন, তা না হলে সত্যিকারভাবে তার প্রকৃত সমাধান বের করে আনা সম্ভব হবে না।

@একলব্য১৯৭১- কেনো আমি সকলের দায়কেই হিসেব করার পক্ষপাতি আশা করি আমার উপরের বক্তব্য থেকে আপনি তা বুঝে নিতে সক্ষম। এর পরেও যদি আমার বক্তব্যের কোনো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন থাকে, জানাবেন, আমি চেষ্টা করবো তা সকলের কাছে আরো সরল করে উপস্থাপন করার।


সবশেষে একলব্য১৯৭১ এর মত আমিও এই পোস্টের লেখককে(সহজ পৃথিবী) ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন একটি বিষয় তার পোস্টের মাধ্যমে ব্লগে আলোচনার পরিবাশ সৃষ্টি করার জন্য।

৮১| ০১ লা নভেম্বর, ২০১০ রাত ১০:০৯

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: বেসামরিক যোদ্ধাদের রণকৌশলে দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সৌম্য,দেখুন মুক্তিযোদ্ধা মেজর কামরুল হাসান ভুইয়া তাঁর "পতাকার প্রতি প্রণোদনা" বইটিতে (পৃষ্ঠা-৩০-৩১) কি বলেছেনঃ

"আমাদের কিশোর-তরুণ গণযোদ্ধারা মাত্র ৬ সপ্তাহের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করেছে সংগঠিত,অভিজ্ঞ এবং প্রশিক্ষিত এক আধুনিক সেনাবাহিনীর বিপক্ষে।যুদ্ধের মাঠই ছিলো তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমী।শত্রুর সাথে যুদ্ধে তারা উদ্ভাবন করেছে নতুন নতুন রনকৌশল।সেসব রণকৌশল নিয়ে অপ্রচলিত যুদ্ধ বিষয়ক কোন গবেষণা হয়নি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে।অথচ কত সাফল্য এসেছে তাদের সেই রণকৌশল প্রয়োগের ফলে"

"মুক্তিযুদ্ধে আমাদের নিয়মিত বাহিনী;এস ফোর্স,কে ফোর্স এবং জেড ফোর্সের ৮টি ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়ন যুদ্ধ করেছে সীমান্ত এলাকায়।তারা বাংলাদেশের গভীর অভ্যন্তরে যুদ্ধ করেনি ৪ঠা ডিসেম্বর ১৯৭১ এর আগে।সেটা অবশ্য যুদ্ধের স্ট্র্যাটেজির কারণে।এই গণযোদ্ধারাই,এই কিশোর-তরুণ যোদ্ধারাই পাকিস্তানি বাহিনীর বিরূদ্ধে লড়েছে দেশের অভ্যন্তরে।"

আশা করি এ উক্তির পর গণযোদ্ধাদের সামরিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলার মত ধৃষ্টতা জেনে-বুঝে কেউ করবেনা।

৮২| ০২ রা নভেম্বর, ২০১০ রাত ১০:৪৮

নিঃসঙ্গ বায়স বলেছেন: একলব্য১৯৭১ সাথে সম্পূর্ণ একমত।

৮৩| ০৩ রা নভেম্বর, ২০১০ সকাল ১০:২৪

ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:

জগৎজ্যোতি! যিনি ছিলেন বাংলার প্রথম বীরশ্রেষ্ঠ

Click This Link

৮৪| ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:১৬

অদৃশ্য থেকে বলেছেন:

বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে কেন একজন বেসামরিক ব্যক্তি নেই এই প্রশ্নটি করার কোন প্রয়োজন ছিল কি?

বীরশ্রেষ্ঠদের সবাই যে নিয়মিত সামরিক বাহিনীর সদস্য এই পরিচয়টি কি মুখ্য নাকি তারা মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব দেখিয়েছেন সেটা মুখ্য? পদক গুলি দেয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের, সামরিক বা বেসামরিক ব্যক্তি পরিচয়ে নয়!

(যদিও আপনার পোস্টের বক্তব্যটি ভুল। সেনাবাহিনী নয় তারা সবাই সামরিক অথবা আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। দুইজনই আছেন বর্তমান বাংলাদেশ রাইফেলস এর! তাছাড়া বিমানবাহনীর তো আছেনই! যাই হোক ভুল বাদ দিয়ে মৌলিক অর্থেই ধরে নিচ্ছি!)

যে কয়টি পদক দেয়া হয়েছে তারমধ্যে কিছু ব্যক্তি আছেন যারা নিয়মিত সামরিক বাহিনীর সদস্য নন। তারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পদক পেয়েছেন। আর বীরশ্রেষ্ঠ পদক যারা পেয়েছেন তারা সকলেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, এই বিষয়গুলি খেয়াল করেছেন কি? ব্যপারগুলি কাকতলীয় ভেবে নিতে আপনার অসুবিধা কোথায়? মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ছিদ্রান্বেষন করছেন কেন?

যুদ্ধ যারা করেছেন তারা সবাই সামরিক ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচিত হবেন কারন তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। কেউ নিয়মিত বাহিনীর আর কেউ নিয়মিত বাহিনীর বাইরের। কারও দক্ষতা আর প্রশিক্ষন বেশি কারও কম। যেই লোকটি পাকিস্থান সেনাবাহিনীর চাকরির মায়া ছেড়ে নিজের জীবন বাজি রেখে সরাসরি বিদ্রোহ করেছে তাকে আমি বাহবা দেবই। আবার যেই লোকটি কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই জীবনের মায়া ত্যগ করে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে তাকেও সমান বাহবা দেব। পেশাগত দিক থেকে সেনাবাহিনীর লোক কিছুটা এগিয়ে থাকবেন এই অর্থে যে তিনি জানেন তিনি কি করছেন। কিন্তু তার অবদান অন্যদের সমানই।

ধরুন একটি গ্রামে একটি ব্রিজ বানানো হবে। কিন্তু পর্যাপ্ত পেশাদার লোকবল নেই। এখন একজন ইন্জিনিয়ার থাকবেন যিনি পুরো কৌশল শিখিয়ে দেবেন। গ্রামের অনেকেই এখানে স্বেচ্ছাশ্রম দিবেন। ব্রিজটি বানানো হলে বাহবা কে পাবেন? ইন্জিনিয়ার এবং গ্রামের সবাই। তাই নয় কি? এখন কোন পুরস্কার দেয়া হলে কাকে দেয়া হবে? নিশ্চয়ই ঐ ইন্জিনিয়ারকে! গ্রামের সকলের কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ গ্রাম বাসীর পক্ষ থেকেই ঐ একজন ইন্জিনিয়ার পুরস্কারটি গ্রহন করবেন। পুরো বিষয়টা সহজভাবে ভাবা যায় না কি?

মুক্তিযুদ্ধ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের সমর্থন দিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ (জনগন)। সব কয়টি পদক দেয়া হয়েছে তাদের সকলের (মুক্তিযোদ্ধা ও জনগন) কৃতিত্ব বিবেচনা করেই। কারন তাদের প্রত্যেকের অবদানই এখানে অসামান্য। সকলের পক্ষ থেকেই তাদের এই পদক দেয়া হয়েছে। জনগনের মধ্যে কাউকে আলাদাভাবে পদক দেয়া হয়েছে কি?!

আপনার বেশ কয়েকটি পোস্ট দেখলাম আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা থেকে লেখা। এই ধরনের ছিদ্রান্বেষী মনোভাবের কারন কি? কেন এই হীনমন্যতা? আর সব ছেড়ে শুধু মাত্র সেনাবাহিনী আর স্বাধীনতার ইতিহাস বা উদযাপন এর মাঝেই আপনি সমস্যা খুজে পাচ্ছেন কেন? নির্দিশ্ট ভাবে সেনাবাহিনীর প্রতি আপনার বিদ্বেষের কারন কি? শুধু ঈর্ষা থেকেই এমন করছেন না অন্য উদ্দেশ্য আছে? শুধু সেনাবিদ্বেষই কি আপনার রাজনৈতিক দর্শণ? বামপন্থীরা কি আপনাকে শুধু এইটুকুই শিখিয়েছে?

এই ধরনের কৌশলী অপচেষ্টা কেন?

আপনি কি স্বাধীনতা বিরোধী?


স্বাধীণ বাংলাদেশে এই ধরনের বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন কেন? বিভাজন তৈরি করাটাই কি আপনার সাফল্য!

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১০:৩১

সহজ পৃথিবী বলেছেন: ১. পদক গুলি দেয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের, সামরিক বা বেসামরিক ব্যক্তি পরিচয়ে নয়! উত্তরঃ কোথায় দৃশ্যমান বাস্তবতো তার বিপরীত বলছে।

২. ব্যপারগুলি কাকতলীয় ভেবে নিতে আপনার অসুবিধা কোথায় ? উত্তরঃ কাকতালীয় হতো যদি একটা পদকওসাধারন মুক্তিযোদ্ধার কাউকে দেয়া হতো। এটা ছিল বরং ডেলিবারেট কোন নোমিনেশন।

৩. আপনি কি স্বাধীনতা বিরোধী ? উত্তরঃ এই এক সংঙ্গায় আর কত চালাতে চান।

৪. স্বাধীণ বাংলাদেশে এই ধরনের বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন কেন? আমি বিভাজনের কথা কোথায় বললাম, আপনিইতো আমার দর্শনে সাম্যবাদ খুজে পাচ্ছেন। স্ববিরোধী আর্গুমেন্ট দুর্বলাতা থেকেই উদ্ভূত হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.