নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...............

শ্রাবণধারা

" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

শ্রাবণধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভেনেজুয়েলা

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৩


"আমেরিকা অসুস্থ, এবং এই অসুস্থতা পুরো বিশ্বকে বিপদের মধ্যে ফেলেছে। আমেরিকার অপরিসীম শক্তি ও সম্পদের কথা বিবেচনা করলে, এই গভীর অসুখের চিকিৎসা আমেরিকার ভেতর থেকেই খুঁজে নিতে হবে", লিখেছিলেন বার্ট্রান্ড রাসেল। তিনি আরও লিখেছিলেন, "প্রথমে যা প্রয়োজন, তা হলো এমন এক শিক্ষা, যা ঘৃণাকে এড়িয়ে চলতে শেখায় এবং বোঝায় যে হিংস্রতার মধ্যে কোনো মহত্ত্ব নেই। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সাধন একটি বিশাল কাজ, যা আমেরিকার অধিকার আন্দোলনের কর্মীদেরই হাতে নিতে হবে। সেই সাহস তাদের আদৌ হবে কি না, জানি না। আশা করা যায়, হয়তো তা সম্ভব হবে।"

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক আক্রমণ চালিয়ে রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করেছে। মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বোমা হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী নৃশংসতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, নৌবাহিনী ও সামরিক বাহিনী ক্যারিবীয় সামুদ্রিক অঞ্চলে মোতায়েন করেছে, এবং ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে "মাদকপথ" ও "সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান" বলে উল্লেখ করলেও, এটা আদতে তাদের পুরোনো ও শয়তানিপূর্ণ অজুহাত। অতীতেও বহুবার তারা সামরিক হামলা ও শাসন পরিবর্তনের জন্য "মাদকবিরোধী" বা "সন্ত্রাসবিরোধী" অজুহাত ব্যবহার করেছে।

১৯৮৯ সালে পানামায় সরকার অপসারণের সময় একইভাবে মাদকবিরোধী যুদ্ধ-এর অজুহাত দেওয়া হয়েছিল। ১৯৮৩ সালে গ্রেনাডায় সামরিক হামলার পেছনে দেখানো হয়েছিল, আমেরিকান শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার অজুহাত। ইরাক আগ্রাসনের অজুহাত ছিল সেখানে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে, যা পরে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল।

ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট। মাদুরোর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে অপসারণ, দেশের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী অলিগার্কিক শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দখল করা।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যা কার্যত একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ, এর ফলে ভেনেজুয়েলায় ইতোমধ্যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সীমাহীন ঘাটতি ও চরম মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। একই ধরনের অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিণতি আমরা বর্তমানে ইরানেও দেখতে পাচ্ছি, যার পেছনেও একই শক্তি সক্রিয়।

ভেনেজুয়েলার জনগণের পূর্ণ অধিকার আছে তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এবং বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের উন্নয়নের পথ নির্ধারণ করার। এই অধিকার জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সে দেশের জনগণ, বাইরের কোনো শক্তি নয়।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬

মাথা পাগলা বলেছেন: আগে লুকিয়ে চুপিসারে হতো, ট্রেড-ওয়ার/স্যাংশেন লাগাতো। এখন শক্তিশালী দেশগুলো আন্তর্জাতিক আইনকে মধ্যাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যেই নিজেদের হ্যাডম দেখাচ্ছে।

বাংলাদেশের উচিত আম্রিকার সাথে হাত মিলিয়ে মোদিকে কিডন্যাপ করে - হাসিনার বদলে মোদি এক্সচেঞ্জ।

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৫৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: আমেরিকা জন্ম থেকেই সাম্রাজ্যবাদী। তাদের অজুহাতগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হয় মাত্র।

ভারত শুরু থেকে সোভিয়েত ব্লকে ছিল, মোদী এসে আমেরিকাপন্থি হয়ে ওঠে।

২| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৫০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমেরিকা প্রমান করতে চায়
এই বিশ্বে তারাই গড ফাদার !

............................................................
গনতন্ত্রর মুখোশে কালো হাত বিস্তার করে রেখেছে সারা বিশ্বে ।
নাহলে ইসরাঈলের ক্ষমতা নেই এক মাসের বেশী টিকে থাকার
মাঝখান থেকে দু:খ থাকল
নোবেল প্রাইজটা হাতায়ে নিতে পারল না ।

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০১

শ্রাবণধারা বলেছেন: আমেরিকর নতুন করে প্রমান করার কিছু নেই। তারাই গড ফাদার। পৃথিবীর পক্ষে এই গড ফাদার থেকে রক্ষা পাওয়া খুবই কঠিন, যেটা বার্টাণ্ড রাসেল খুব ভালো করে বুঝেছিলেন বলেই উপরের কথাগুলো বলেছিলেন।

৩| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:১১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমেরিকা তার ব্যাকইয়ার্ডে কোনো চায়না রাশিয়া ফুটপ্রিন্ট রাখবে না। চায়নার ৬০/৭০ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট আছে ভেনেজুয়েলাতে।

তুলসী গাবার্ড বলেছিলেন আর কোনো রেজিম চেঞ্জ করবে না আমেরিকা কিন্তু কথা রাখেনি ট্রাম্প!

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৪

শ্রাবণধারা বলেছেন: সৈয়দ কুতুব বলেছেন: চায়নার ৬০/৭০ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট আছে ভেনেজুয়েলাতে
হ্যা, আমি চায়নার সাথে ভেনেজুয়েলার তেলের চুক্তিগুলো সম্পর্কে অবগত। এটা একটা বড় কারন। চায়না, ভারতের সাথে চুক্তিগুলোর কারণে টেক্সাসের রিফাইনারি গুলোর ব্যবসা বন্ধের জোগাড় হয়েছে, যেটা এই যুদ্ধের বড় কারণ।

৪| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার লেখায় আমেরিকা কে ভিলেন হিসাবে দেখানো সঠিক হয়নি । রাশিয়া-চায়না-ভারত-ইরান কে টাইট দিতে আমেরিকা এই কাজ করেছে। তাছাড়া আমেরিকা শেখ হাসিনার পতনে আমাদের হেলপ করেছে sanction দিয়ে ।

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

শ্রাবণধারা বলেছেন: আমেরিকাকে আমার ভিলেন হিসেবে দেখানোর কিছু নেই। আমেরিকা ভিলেনই। কত বড় ভিলেন এটা হয়ত আপনি কল্পনাও করতে পারছেন না।

একথা সত্যি যে, আমেরিকা যার বন্ধু তার শত্রুর প্রয়োজন পড়ে না। আমেরিকা আমাদের কোনরূপ সাহায্য করে থাকলে এটা আমাদের জন্য খুব বড় দুঃসংবাদ।

৫| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫২

নতুন নকিব বলেছেন:



মনে রাখবেন, এই আমেরিকার পতন অত্যাসন্ন। এই হিংস্ররা নিজেরাই নিজেদের পতন ঘটানোর যথেষ্ট হবে।

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০১

শ্রাবণধারা বলেছেন: এটাই মনেপ্রাণে আশা করি। সারা পৃথিবীর শান্তির জন্য এই বীভৎস হিংস্র পশুটির পতন একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু একে বধ করতে যে পরিমাণ সাহস ও শক্তির প্রয়োজন, সেটা এখনও সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। ভেবে দেখুন, বার্ট্রান্ড রাসেল এই পোস্টের শুরুর কথাগুলো কমপক্ষে ৭০-৮০ বছর আগে বলেছেন।

৬| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৫

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের জন্য মনে হয় কোনো নিয়ম-নীতি, আইন-কানুনের প্রয়োজন নেই। তারা যা মনে করবে তাই হবে। বিশ্বমোড়ল বলে কথা। তাদের সাথে বাঁধে এমন সাধ্য কার?

০৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: সঠিক। বিশ্বমোড়লেরা এর মধ্য দিয়ে এই বার্তা দিচ্ছে যে তারা যেকোন আন্তর্জাতিক আইনের উর্ধে।

ইসরায়েল, আমেরিকা যা খুশি তাই করতে পারে। এবং তাদের থামানোর মত কোন শক্তি পৃথিবীর কোথাও নেই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.