| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."
ইসরায়েলের চাপ সত্ত্বেও আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাচ্ছে না, কারণটা বোধহয় এতে আমেরিকার বেশি লাভ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো যেমন সৌদি আরব, কাতার বা ওমান এ হামলার বিপক্ষে। শুধুমাত্র আকাশপথে আক্রমণ করে ইরানের মতো দেশকে দুর্বল করা কঠিন।
চীন ইরানকে জ্বালানি ও ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। ইরানের ওপর হামলা ব্যবসায়িক কারণেই চীনের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তুরস্ক মনে করে, ইরানে হামলা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করবে এবং বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। ইরানে আমেরিকার হামলা মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে। তাই সরাসরি হামলার চেয়ে আমেরিকা হয়তো ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার নীতির মধ্যেই আটকে থাকতে পারে। আমেরিকার রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, যা এই সমীকরণকে পাল্টে দিতে পারে।
ইরানের আন্দোলনের বড় কারণ অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতি, যার পেছনে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞা আসলে একটা অর্থনৈতিক যুদ্ধ, যা মাথায় নিয়ে কোনো দেশের পক্ষেই দীর্ঘ সময়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের তেল ও গ্যাস রপ্তানি সীমিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ইরানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও একঘরে করে ফেলা হয়েছে। এর অর্থ হল, ইরানের সঙ্গে যদি কেউ ব্যবসা করে, আমেরিকা তাকেই শাস্তি দেবে। পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে ইরানের যত বিনিয়োগ, সম্পদ ও অর্থ আছে, সব জব্দ করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের স্বল্পতা এবং প্রবল মূল্যস্ফীতি ইরানিদের জীবনকে দুর্বিষহ করে ফেলেছিল, যা তাদের আন্দোলনের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মনে রাখা প্রয়োজন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনে সম্পুর্ণ অবৈধ এবং মানবাধিকারবিরোধী।
পরিস্থিতি যখন এই, তখন এটা স্পষ্ট যে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমেরিকা ইরানের মোল্লাতন্ত্রের চেয়েও ইরানের জনগণের বড় শত্রু। তাই অবাস্তব শোনালেও, ইরানের সরকার পরিবর্তনের চেয়ে আমেরিকার সরকার পরিবর্তনের দাবিই আমার মতে মুখ্য হওয়া উচিত। অবশ্য শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তন করেই কাজ হবে না, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পুরো কাঠামোটাই পরিবর্তন করতে হবে।
আমেরিকা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আধিপত্যবাদী ও ধ্বংসাত্মক দেশ। কিছুদিন আগেই তারা হিন্দি সিনেমার গ্যাংস্টারের মতো করে হেলিকপ্টার পাঠিয়ে ভেনেজুয়েলায় রাষ্ট্রপতি ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করেছে। এখন সেই গ্যাংস্টারই নাকি আবার ভেনেজুয়েলা চালাচ্ছে।
আমেরিকা নিজেই যখন সারা পৃথিবীতে সন্ত্রাস, জবরদখল আর মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে দেশের পর দেশ ধ্বংস করেছে এবং পৃথিবীজুড়ে মাফিয়া-স্টাইলে আধিপত্য কায়েম করেছে, তখন সেই দেশের শত্রু হিসেবে বিবেচিত ইরানের বিরুদ্ধে সরকার পরিবর্তনকে আমি কেন সমর্থন করব?
তারা আগে নিজেদের সরকার পরিবর্তন করে আমেরিকা নিজে গণতান্ত্রিক হয়ে উঠুক। উগ্র পুঁজিবাদী এবং ০.০১% বিলিয়নিয়ারদের স্বার্থরক্ষাকারী তাবেদার হওয়ার পরিবর্তে জনগণের রাষ্ট্র হয়ে উঠুক। এরপর যদি তারা ইরানের মোল্লাতন্ত্র, যা দাঁড়িয়ে আছে ধর্মীয় স্বৈরতন্ত্র, দমননীতি ও নজরদারির ওপরে, সেগুলো নিয়ে কথা বলে, তখন সেটা মানা যাবে, তার আগে নয়।
২|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ইরানের আন্দোলনের বড় কারণ অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতি,
.....................................................................................
বোকা জনগন কখনোই বুঝতে চেষ্টা করেনা কেন দেশের এই
অবস্হা হলো ?
আর বিরোধী কিছু মানুষ থাকে কখন আলু পোড়া , ঘর পোড়া দেয়া যাবে ।
৩|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫
প্রামানিক বলেছেন: মোসাদের উসকানিতে এই আন্দোলন হয়েছে
৪|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
ইরানের মধ্যে প্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়ে চমৎকার বিশ্লেষণ। তবে ইরানের জীবনযাপনের মান উন্নয়ন অর্থনৈতিক সক্ষমতা পরিবর্তন না আসলে এই রিজিমের বেশিদিন টিকে থাকার সম্ভাবনা মনে হয় খুবই কম! একের পর এক পরাশক্তির থাবা আটকে দেওয়ার মতো সক্ষমতা ইরানের নেই।
ট্রাম্পকে আমার ব্যাক্তি বিশেষে পছন্দ করার অন্যতম কারন, সে আরব বসন্ত, আইসিস এইসব তাল-বাহানা, কোন নাটক মঞ্চস্থ না করে ঘাড় ধরে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে এসে আমেরিকার সত্যি কারের চরিত্র তুলে ধরেছে। আমার মতো, ইহা ভেনিজুয়েলাতে দীর্ঘমেয়াদি জঙ্গিবাদের কোন নাটক, অস্ত্র সহায়তা গৃহযুদ্ধ ঘটিয়ে আমেরিকানদের ঋণের বোঝা ভারী করার চেয়ে শ্রেয়।
৫|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৮
কামাল১৮ বলেছেন: আমিরিকার এই নিষাধাজ্ঞার গেড়াকল থেকে বিশ্বকে বেরহয়ে আসার উপায় খুঁজে বেরকরতে হবে।ব্রিকস বিকল্প হতে পারে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০৫
নতুন নকিব বলেছেন:
ইরানের অর্থনৈতিক ধস, মুদ্রাস্ফীতি, দুর্ভোগ ও আন্দোলনের প্রধান দোষ আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার। এই নিষেধাজ্ঞা এক নির্মম অর্থনৈতিক যুদ্ধ যা তেল রপ্তানি বন্ধ করে, ব্যাংকিং বিচ্ছিন্ন করে, সম্পদ জব্দ করে সাধারণ ইরানিদের জীবন নরকতুল্য করে তুলেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় আচরণ দমনমূলক হলেও এর মূলেও আমেরিকার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ইরানের জনগণের আসল শত্রু সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা। ভেনেজুয়েলায় ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ Operation Absolute Resolve চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে হেলিকপ্টারে অপহরণ, এটাই তাদের গ্যাংস্টারি মানসিকতার প্রমাণ।
আন্দোলন অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হয়ে সরকারবিরোধী হয়েছে কিন্তু মূল দায় আমেরিকার আধিপত্যবাদী নীতির। সরকারি দমন নৃশংস হলেও এর পেছনে আমেরিকার তৈরি চাপই আসল কারণ।
ইরানের সরকার বদলের চেয়ে আমেরিকার আধিপত্যবাদী কাঠামো বদলানোই আসল দরকার। ইরানের জনগণের জন্য শান্তি, ন্যায় ও মুক্তি কামনা করি।
সাহসী লেখার জন্য অভিনন্দন!